সোমবার, ২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১০:৫৫ পি.এম
দেশের পরিবেশ ও নদীপ্রেমী ২৩টি সংগঠন বুড়িগঙ্গা ও ধলেশ্বরী নদীর দখল-দূষণ বন্ধ, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং নদী রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছে। সংগঠনগুলো নদী দুটির বর্তমান পরিস্থিতি সরেজমিনে পরিদর্শন শেষে ১০ দফা দাবি উত্থাপন করেছে।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা), বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা), গ্রিন ভয়েসসহ অন্যান্য পরিবেশ ও নদীপ্রেমী সংগঠন নদী দখল ও দূষণকারীদের তালিকা প্রকাশ করে তাদের আইনের আওতায় এনে শাস্তির দাবি জানিয়েছে।
বিশ্ব নদী দিবস ২০২৬ উপলক্ষে শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টায় রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বসিলা লঞ্চঘাট থেকে লঞ্চযোগে ‘বুড়িগঙ্গা ও ধলেশ্বরী নদীর দখল-দূষণের বর্তমান অবস্থা সরেজমিনে পরিদর্শন’ কর্মসূচিতে এ দাবি জানানো হয়।
বাপা, বেলা, গ্রিন ভয়েসের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ, সরকারি তিতুমীর কলেজ, সরকারি বাঙলা কলেজ, কবি নজরুল সরকারি কলেজ, সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, সরকারি হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ ও সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজ শাখার প্রতিনিধিরা কর্মসূচিতে অংশ নেন।
এছাড়া এএলআরডি, নাগরিক উদ্যোগ, বারসিক, বাদাবন সংঘ, ক্যাপস, ডব্লিউবিবি ট্রাস্ট, অনুসন্ধানী ক্রিডস, সিডিপি, ইকিউএমএস, আরডিআরসি, সিডাব্লিউএফ, শিসউক, বাংলাদেশ সেন্টার ফর কোস্টাল অ্যান্ড মেরিন স্টাডিজ, ঢাকা ইউনিভার্সিটি ফ্রেন্ডস অ্যালায়েন্স (ডুফা), নিরাপদ নৌপথ বাস্তবায়ন আন্দোলন, লিডার্স, বুড়িগঙ্গা বাঁচাও আন্দোলন, কোস্ট ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ ঘুড়ি ফাউন্ডেশন ও শীতলক্ষ্যা বাঁচাও আন্দোলনসহ বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন।
কর্মসূচির সভাপতিত্ব করেন বাপার সহ-সভাপতি মহিদুল হক খান এবং সাধারণ সম্পাদক মো. আলমগীর কবির সঞ্চালনা করেন। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন এমপি।
কর্মসূচিতে বাপার কোষাধ্যক্ষ মো. আমিনূর রসুল, সাংগঠনিক সম্পাদক মিহির বিশ্বাস, যুগ্ম সম্পাদক শাহজাহান মৃধা বেনু, হুমায়ুন কবির সুমন, ড. হালিমদাদ খান, নির্বাহী সদস্য ফরিদুল ইসলাম ফরিদ, বিআইডব্লিউটিএর পরিচালক মো. আলমগীর কবির, ডব্লিউবিবি ট্রাস্টের পরিচালক গাউস পিয়ারী, সিডাব্লিউএফের চেয়ারম্যান শাহ ইশরাত আজমেরী, এএলআরডির সানজিদা খাতুন রিপা, বারসিকের জাহাঙ্গীর হোসেনসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন এমপি বলেন, "বাংলাদেশের প্রাণ হচ্ছে নদী। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নসহ মানুষের জীবন-জীবিকার সঙ্গে নদী ওতপ্রোতভাবে জড়িত। কিন্তু সেই নদী আজ হুমকির মুখে।"
তিনি আরও বলেন, "যারা নদীকে গলা টিপে হত্যা করার চেষ্টা করছে, তাদের প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনা উচিত। নদী দখলদার ও দূষণকারীদের তালিকা প্রকাশ করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।"
এছাড়া তিনি বলেন, "যারা খাল ভরাট করে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করছে এবং পরিবেশের ক্ষতি করছে, তাদের চিহ্নিত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।"
সভাপতির বক্তব্যে মহিদুল হক খান বলেন, "বাপা দুই দশকের বেশি সময় ধরে দেশের নদ-নদী রক্ষায় কাজ করে যাচ্ছে। দেশের নদীগুলো আজ দখল ও দূষণে জর্জরিত। দ্রুত সব দখলদারের তালিকা করে দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।"
বিআইডব্লিউটিএর পরিচালক মো. আলমগীর কবির বলেন, "নদী রক্ষার বিষয়ে পরিবেশবাদী সংগঠন, গণমাধ্যম ও সাংবাদিকদের আন্দোলন ও লেখালেখি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তাদের চাপের ফলে একপর্যায়ে হাইকোর্ট নদী উদ্ধারে হস্তক্ষেপ করে।"
তিনি উল্লেখ করেন, "২০০৯, ২০১৪, ২০১৬, ২০১৯ ও ২০২১ সালে হাইকোর্টের বিভিন্ন আদেশ নদী রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।"
তিনি আরও বলেন, "ঢাকার চারপাশের নদীসহ শহরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত নদীগুলো রক্ষায় সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। বর্তমান সরকারের আগ্রহ ও উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে নদী রক্ষায় কার্যকর অগ্রগতি সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।"
‘নদীর বুকেও শিল্পকারখানার স্থাপনা’
নদী পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে মো. আলমগীর কবির বলেন, "দেশের নদ-নদীর অবস্থা ভালো নয়। নদীর দখল ও দূষণের চিত্র সরেজমিনে দেখা গেছে।"
তিনি অভিযোগ করেন, "নদীর জায়গায় বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে এবং নদীর বুকে পণ্য পরিবহনের জন্য জেটি নির্মাণ করা হয়েছে। এসব অবৈধ দখল উচ্ছেদ করে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ ও আইন অনুযায়ী শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।"
তিনি জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনকে স্বাধীন ও কার্যকর প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার পাশাপাশি নদীর একক অভিভাবকত্বের বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান
বাপার সাংগঠনিক সম্পাদক মিহির বিশ্বাস বলেন, "সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে নদী রক্ষা করতে হবে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে যে সমন্বয়ের ঘাটতি রয়েছে, তা দূর করতে হবে। আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় কার্যকরভাবে হলে নদী রক্ষা আরও সহজ হবে।"
সিডাব্লিউএফের চেয়ারম্যান শাহ ইশরাত আজমেরী বলেন, "নদীকে দূষণমুক্ত করতে হবে। জীববৈচিত্র্য রক্ষায় জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি নদী দখলকারীদের বিরুদ্ধে কার্যকর আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।"
হুমায়ুন কবির সুমন বলেন, "নদীর সঙ্গে মৎস্য, প্রাণবৈচিত্র্য ও জীববৈচিত্র্য জড়িত। সুন্দর বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।"
ডব্লিউবিবি ট্রাস্টের পরিচালক গাউস পিয়ারী বলেন, "শুধু দিবসভিত্তিক কর্মসূচি নয়, প্রতিদিনই নিজ নিজ জায়গা থেকে নদী রক্ষায় কাজ করতে হবে।"
এএলআরডির সানজিদা খাতুন রিপা বলেন, "দূষণের জন্য দায়ী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে শাস্তি নিশ্চিত না হলে দখল-দূষণ কমবে না। শিল্পকারখানায় ইটিপি ব্যবহারের বিষয়টি নিশ্চিত করতে পরিবেশ অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মনিটরিং জোরদার করা প্রয়োজন।"
১০ দফা দাবি
নদী পরিদর্শন কর্মসূচি থেকে সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে ১০ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবিগুলো হলো—
১. বুড়িগঙ্গা ও ধলেশ্বরীর পুনরায় সীমানা জরিপ করে নদীভূমি দ্রুত দখলমুক্ত করতে হবে।
২. নদীতে সরাসরি শিল্পবর্জ্য ও পয়ঃবর্জ্য ফেলার সব অবৈধ সংযোগ বন্ধ করতে হবে।
৩. সব শিল্পকারখানার ইটিপি সার্বক্ষণিক চালু রাখা এবং অনলাইন মনিটরিং নিশ্চিত করতে হবে।
৪. দূষণকারী শিল্পপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান ও কার্যকর আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।
৫. নদীর তীরের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে নদীর মূল প্রবাহ ও জায়গা ফিরিয়ে দিতে হবে।
৬. বুড়িগঙ্গা ও ধলেশ্বরীর পানি, তলানি ও জীববৈচিত্র্যের নিয়মিত বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা করতে হবে।
৭. নদীতে প্লাস্টিক, পলিথিন, বাজারের বর্জ্য ও জাহাজের তেল-বর্জ্য ফেলা সম্পূর্ণ বন্ধ করতে হবে।
৮. বুড়িগঙ্গা ও ধলেশ্বরী রক্ষায় সংশ্লিষ্ট সব সরকারি সংস্থাকে নিয়ে সময়বদ্ধ সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হবে।
৯. রাষ্ট্রকে দেশের নদী, সমুদ্র, পাহাড়, বন, হ্রদ, পুকুরসহ প্রাকৃতিক সম্পদের ট্রাস্টি বা অভিভাবকসুলভ রক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
১০. জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনকে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দিতে হবে।
কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, বুড়িগঙ্গা ও ধলেশ্বরীসহ দেশের নদ-নদী রক্ষায় শুধু দিবসভিত্তিক কর্মসূচি নয় বরং নিয়মিত নজরদারি, সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ এবং দখল ও দূষণের বিরুদ্ধে কার্যকর আইনগত ব্যবস্থা প্রয়োজন। নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ও পরিবেশ রক্ষায় ১০ দফা দাবি বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ প্রত্যাশা করেন তারা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিদেশে বাংলাদেশি মিশনে সংসদ সদস্যদের সফর, সভা অথবা অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য নতুন নির্দেশনা প্রদান করেছে।
এই নতুন নির্দেশনার আওতায়, যদি কোনো সংসদ সদস্য বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশন বা চ্যান্সেরি ব্যবহারের জন্য অনুরোধ করেন, তাহলে তা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে অনুমোদন নিতে হবে।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বিদেশস্থ বাংলাদেশের মিশন প্রধানদের উদ্দেশ্যে পাঠানো এক বার্তায় এই নির্দেশনা জানানো হয়। চিঠিটির স্বাক্ষর করেছেন মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন অনুবিভাগের মহাপরিচালক মো. নুরুল ইসলাম।
বার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে, সংসদ সদস্যরা বিভিন্ন সময় বিদেশে বাংলাদেশের মিশনগুলোতে যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে থাকেন। এই সময় তারা মিশনের চ্যান্সেরিতে বৈঠক করার পাশাপাশি স্বাগতিক সরকারের কর্মকর্তাদের অথবা বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সভা ও বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য মিশন ব্যবহারের অনুরোধ করেন।
এখন থেকে এ ধরনের সব অনুরোধ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে করতে হবে। যদি কোনো সংসদ সদস্য সরাসরি বিদেশি মিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন, তাহলে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যদের জানাতে বলা হয়েছে।
চিঠিতে বিদেশে বাংলাদেশের সকল মিশনের প্রধানকে এই সিদ্ধান্ত অনুসরণ করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। সংসদ সদস্যদের সফরকালে তাদের জন্য কোনো কর্মসূচি আয়োজনের পূর্বে মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বিষয়টি সম্পন্ন করার নির্দেশনাও প্রদান করা হয়েছে।
২৭ সেপ্টেম্বর জারি করা এই বার্তায় বিদেশে বাংলাদেশের সকল মিশনকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
২৮ সেপ্টেম্বর রোজ সোমবার, ২০২৬, খ্রিস্টাব্দে,
নারায়ণগঞ্জ জেলার বিএনপির ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি, মোহাম্মদ জাকির খানের জন্মদিন পালিত হলো, নাগবাড়ি দেওভোগ ফতুল্লা নারায়ণগঞ্জ, কেক কেটে তার জন্মদিন পালন করেন নারায়ণগঞ্জ বিএনপি বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, এবং বিভিন্ন দলের পক্ষ থেকে আন্তরিক শুভেচ্ছা অভিনন্দন জানান ফুল দিয়ে,
কেক কাটার পর, ফুল দিয়ে বরণ করে নেতৃবৃন্দ, পরবর্তী বিভিন্ন গান দিয়ে পরিবেশন করেন জন্মদিনের সকল কার্যক্রম।
এসময় পুরা মাঠটি ভরে যায় তাকে সম্মান দেওয়ার জন্য, শিশু গুড়া মহিলা নারীসহ বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ এসে তার এই জন্মদিনে অনুষ্ঠানের অংশগ্রহণ করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীতে গর্তে হাত দেওয়ার পর অজ্ঞাত প্রাণীর কামড়ে আড়াই বছরের একটি শিশুর মৃত্যু ঘটেছে। শিশুটির নাম রাইসা মনি।
ঘটনাটি সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার চরহেয়ারে ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চরহেয়ারে পরিবারের অস্থায়ী বসতঘরের পাশে খেলাধুলা করছিল রাইসা। খেলাধুলার একপর্যায়ে সে একটি গর্তে হাত দিলে গর্তের ভেতরে থাকা কোনো প্রাণী তার হাতে কামড় দেয়। কামড় খেয়ে শিশুটি চিৎকার করতে করতে তার মায়ের কাছে যায়। পরে তার মা শিশুটির হাতে কামড়ের স্থান দেখে সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা করেন। তবে বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত চিকিৎসার জন্য রাঙ্গাবালী উপজেলা সদরের দিকে রওনা হন। কিন্তু চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়ার পথে শিশুটির মৃত্যু ঘটে।
নিহত রাইসা মনি রাকিব মল্লিকের কন্যা। তাদের মূল বাড়ি রাঙ্গাবালীর সেনের হাওলা গ্রামে অবস্থিত। রাকিব মল্লিক মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন এবং বর্তমানে চরহেয়ারে পরিবারের অস্থায়ী বসতিতে বসবাস করছেন তারা।
স্থানীয়দের ধারণা, শিশুটিকে সাপ কিংবা কোনো বিষাক্ত পোকামাকড় কামড় দিয়েছে। তবে কী প্রাণী তাকে কামড় দিয়েছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাগেরহাটের উপকূলীয় অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত জনগণের কণ্ঠস্বর, চাহিদা এবং অগ্রাধিকার স্থানীয় নীতি, পরিকল্পনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় তুলে ধরার উদ্দেশ্যে বাগেরহাটে ১৭ সদস্য বিশিষ্ট জেলা ক্লাইমেট অ্যাকশন ফোরাম গঠন করা হয়েছে।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকালে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা লিডার্স-এর সহযোগিতায় বাগেরহাটের বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা উদায়ন বাংলাদেশের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এই কমিটি গঠন করা হয়।
জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট মেহেরুন্নেছাকে সভাপতি এবং এ আর ডিগ্রি কলেজের লেকচারার মোঃ কামরুল ইসলামকে সম্পাদক হিসেবে নির্বাচন করে ১৭ সদস্য বিশিষ্ট জেলা ক্লাইমেট অ্যাকশন ফোরাম গঠন করা হয়েছে।
এই কমিটির উপদেষ্টা হিসেবে গোপীনাথ সাহা, মোঃ আসাদ শেখ ও তামান্না আক্তার নির্বাচিত হয়েছেন। অন্যান্য পদে নির্বাচিত সদস্যরা হলেন সহ-সভাপতি সাংবাদিক ইসরাত জাহান, সহ-সম্পাদক মো: নাইম হোসেন, কোষাধ্যক্ষ সামিয়া আহসানী। জেলা ক্লাইমেট অ্যাকশন ফোরামের সদস্যরা জেলার ৯টি উপজেলার প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত হয়েছে।
নবগঠিত জেলা ক্লাইমেট অ্যাকশন ফোরাম জন-সংগঠনের পক্ষে জননীতি প্রণয়ন, সংস্কার, সমন্বয় ও বাস্তবায়নে স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে প্রতিনিধিত্ব ও নেতৃত্ব দেওয়ার লক্ষ্যে কাজ করবে। পাশাপাশি এটি জনগণের অধিকার সুরক্ষা, সরকারি সেবা নিশ্চিতকরণ এবং সরকারি নীতি বাস্তবায়নে কার্যকর অধিপরামর্শ ও প্রেসার গ্রুপ হিসেবে ভূমিকা রাখবে।
এছাড়া, অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, নাগরিক, প্রতিবেশগত ও মানবাধিকার বিষয়ে কর্মসূচি গ্রহণ ও বাস্তবায়ন; জনস্বার্থে অধিপরামর্শের সক্ষমতা ও প্রভাব বলয় বৃদ্ধির লক্ষ্যে সমমনা সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা; এবং জনকেন্দ্রিক জলবায়ু নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে জন-সংগঠনের পক্ষে প্রতিনিধিত্ব ও নেতৃত্ব প্রদান করবে জেলা ক্লাইমেট অ্যাকশন ফোরাম।
সভায় বক্তারা আশা প্রকাশ করেন যে, নবগঠিত এই ফোরাম জলবায়ু পরিবর্তনে ক্ষতিগ্রস্ত উপকূলীয় জনগণের বাস্তব চাহিদা ও অগ্রাধিকার নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। একই সঙ্গে, স্থানীয় জনগণের অধিকার, জলবায়ু ন্যায়বিচার এবং জনকেন্দ্রিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে ফোরামটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে। সভাটি পরিচালনা করেন লিডার্স-এর প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর শারমিন আরা লিনা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ