বৃহস্পতিবার, ১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
১০:৩৫ এম
ফেনী যাচ্ছেন তারেক রহমান, যা প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর তার প্রথম সফর। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে প্রধানমন্ত্রীকে একনজর দেখার জন্য নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন।
স্থানীয় কয়েকজন নেতাকর্মী, যারা তারেক রহমানকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত, জানিয়েছেন যে, সকাল ৮টার পর থেকেই দলীয় নেতাকর্মীরা মহাসড়কের সাইনবোর্ড থেকে সোনারগাঁয়ের মেঘনা টোলপ্লাজার বিভিন্ন পয়েন্টে জড়ো হতে শুরু করেছেন। তাদের মূল লক্ষ্য প্রিয় নেতাকে একঝলক দেখা।
সফরসূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী প্রথমে পরশুরাম যাবেন। সেখানে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন কাজের উদ্বোধন করবেন। এসময় তিনি স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে মতবিনিময়ও করবেন।
পরে, প্রধানমন্ত্রী ফুলগাজীতে বেগম খালেদা জিয়া মহিলা কলেজে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করবেন। এছাড়া ফুলগাজী জেলা পরিষদের ডাকবাংলোয় রুফটপ সোলার থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ কার্যক্রমের উদ্বোধন করার পরিকল্পনা রয়েছে।
বিকেলে ফুলগাজী পাইলট হাই স্কুল মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড বিতরণের পাশাপাশি মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম, মন্দিরের পুরোহিতসহ বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সম্মানী প্রদান করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঝিনাইদহ জেলা কারাগারে বন্দিদের সংখ্যা ধারণক্ষমতার তুলনায় প্রায় চারগুণ বেড়ে যাওয়ায় অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়েছে। বন্দিদের রাখা হচ্ছে কারাগারের মালামাল রাখার স্থানসহ ঘরগুলোর বাইরের বারান্দায়। এই পরিস্থিতি সমস্যার সমাধান করতে পারছে না।
ঝিনাইদহ জেলা কারাগারে ৩৮২ জন বন্দি রাখার সক্ষমতা রয়েছে, কিন্তু বর্তমানে সেখানে প্রায় সাড়ে ১২০০ বন্দি অবস্থান করছেন। ফলে নির্ধারিত ধারণক্ষমতার তুলনায় প্রায় ৮৫০ জন বেশি বন্দি সেখানে রয়েছেন। কারাগারে জায়গার সংকটের কারণে বন্দিদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় নানা ধরনের সমস্যা দেখা দিচ্ছে।
এদিকে, জেলার ৬টি উপজেলার মাদক মামলায় ভ্রাম্যমাণ আদালতে ছামারি পাওয়ার কারণে ৩, ৬ ও ১২ মাসের কারাদণ্ড দেওয়ার আপিল ও জামিন না হওয়ার কারণে বন্দিদের চাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
এছাড়া, বিশেষ অভিযানে জেলার ৬টি উপজেলায় নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারের ফলে জেলা কারাগারে বন্দিদের সংখ্যা ব্যাপকভাবে বেড়ে গেছে।
অতিরিক্ত বন্দির কারণে আবাসন, খাবার, চিকিৎসা, স্যানিটেশন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। একই সঙ্গে বাড়তি দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে বিপাকে পড়ছেন কারারক্ষীরাও।
আবাসিক কক্ষগুলোতে অতিরিক্ত বন্দি থাকার কারণে পর্যাপ্ত জায়গা, ঘুমানোর ব্যবস্থা ও ব্যক্তিগত পরিসর সংকুচিত হয়ে পড়েছে। এছাড়া, টয়লেট, গোসল, পানি সরবরাহ ও অন্যান্য স্যানিটেশন ব্যবস্থার ওপরও চাপ তৈরি হচ্ছে।
বন্দিদের পাশাপাশি কারা ব্যবস্থাপনার সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও বাড়তি চাপের মুখে রয়েছেন। নির্ধারিত জনবলের তুলনায় বন্দির সংখ্যা বেশি হওয়ায় নিরাপত্তা ও দৈনন্দিন ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম পরিচালনা করতে তাদের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে।
কারাগারে বন্দির চাপ বাড়ার অন্যতম কারণ হিসেবে মামলা নিষ্পত্তিতে দীর্ঘসূত্রতা এবং বিচারাধীন বন্দির সংখ্যা বেশি থাকাকে সংশ্লিষ্টরা উল্লেখ করছেন। বিশেষ করে বিচারাধীন বন্দিদের মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি হলে কারাগারের ওপর চাপ কিছুটা কমতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।
এদিকে, অতিরিক্ত বন্দির কারণে কারাগারের চিকিৎসা ব্যবস্থাতেও বাড়তি চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিপুলসংখ্যক বন্দির স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা, অসুস্থদের চিকিৎসা দেওয়া এবং সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে কারা কর্তৃপক্ষকে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হচ্ছে।
এ বিষয়ে ঝিনাইদহ জেলা কারাগারের জেল সুপার মো. হাবিবুর রহমান ও জেলার স্বপন কুমার ঘোষ জানান, কারাগারের ধারণক্ষমতা ৩৮২ জন। বর্তমানে বন্দির সংখ্যা প্রায় সাড়ে ১২০০। ধারণক্ষমতার তুলনায় বন্দি বেশি থাকায় ব্যবস্থাপনায় চাপ রয়েছে। তবে কারা কর্তৃপক্ষ নিয়ম অনুযায়ী বন্দিদের খাবার, চিকিৎসা, নিরাপত্তা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে।
তিনি আরও বলেন, বন্দির সংখ্যা বেশি হলেও কারাগারের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কারাগারে অতিরিক্ত বন্দির চাপ কমাতে অবকাঠামোগত সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রয়োজনীয় জনবল বাড়ানো এবং বিচারাধীন মামলাগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তির দিকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
একই সঙ্গে বন্দিদের মানবিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে কারা ব্যবস্থাপনার সার্বিক সক্ষমতা বাড়ানোর ওপরও জোর দিচ্ছেন তারা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাজ্যের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা ‘এমআই৫’ সম্প্রতি একটি জনসতর্কবার্তা জারি করে জানিয়েছে, দেশটির শতাধিক শিক্ষাবিদ ও গবেষক অজান্তেই চীনের গোয়েন্দা সংস্থাকে সহযোগিতা করে ফেলেছেন। চীনা গোয়েন্দা সংস্থা তাদের গবেষণায় অর্থায়ন করার জন্য ‘চায়না জেনারেল টেকনোলজি রিসার্চ ইনস্টিটিউট’ নামের একটি ভুয়া বা ‘ফ্রন্ট’ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কাজ করেছে। এমআই৫ জানায়, এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চীনের পররাষ্ট্র ও জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রণালয়ের গভীর সম্পর্ক বিদ্যমান রয়েছে।
এই ভুয়া প্রতিষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য ছিল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, গোপন যোগাযোগ এবং স্টেগানোগ্রাফির মতো সংবেদনশীল প্রযুক্তিভিত্তিক গবেষণায় অর্থায়ন করা। এসব গবেষণা পরবর্তীতে চীনের সামরিক ও প্রযুক্তিগত গুপ্তচরবৃত্তির কাজে ব্যবহৃত হতে পারে। বিবিসি জানাচ্ছে, অধিকাংশ ব্রিটিশ গবেষক সৎ উদ্দেশ্যে যুক্ত ছিলেন, কারণ চীনা সরকারের সরাসরি যোগসূত্রটি অস্পষ্ট রাখা হয়েছিল।
যুক্তরাজ্যের নিরাপত্তামন্ত্রী ড্যান জার্ভিস জানিয়েছেন, জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের চিঠি দেওয়া হয়েছে, যাতে তারা অবিলম্বে এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সব ধরনের সম্পর্ক ছিন্ন করেন। এমআই৫ স্পষ্ট সতর্ক করে দিয়ে জানায়, ২০২৩ সালের নতুন ‘জাতীয় নিরাপত্তা আইন’ অনুযায়ী, এই বার্তার পরও যদি কোনো শিক্ষাবিদ বা প্রতিষ্ঠান চীনের এই সংস্থার সঙ্গে কাজ চালিয়ে যায়, তবে তাদের বিরুদ্ধে বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থাকে সহায়তার অভিযোগে ফৌজদারি মামলা করা হতে পারে।
যুক্তরাজ্যের ১৪০টিরও বেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিত্বকারী সংস্থা ‘ইউনিভার্সিটিজ ইউকে’ জানিয়েছে, তারা সতর্কতাটি খতিয়ে দেখছে এবং গবেষণার ঝুঁকি এড়াতে কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে। অন্যদিকে, লন্ডনে অবস্থিত চীনা দূতাবাস এই সমস্ত অভিযোগকে ‘কাল্পনিক ও সম্পূর্ণ বানোয়াট’ বলে দাবি করেছে। তাদের মতে, শিক্ষাগত বিনিময় সব সময় দুই দেশের মধ্যে আইনি নিয়ম মেনেই হয়ে আসছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের জিএস সালাউদ্দিন আম্মার সম্পর্কে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক মুখপাত্র উমামা ফাতেমা দাবি করেছেন যে, তিনি উড়ে এসে নেতা হয়েছেন।
উমামা লিখেছেন, ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মাধ্যমে ১৭ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামের সঙ্গে ন্যূনতম সম্পর্ক না থাকা যেসব মানুষ উড়ে এসে নেতা হয়েছে, সালাউদ্দিন আম্মার তাদের অন্যতম। জুলাই আন্দোলনের সময় সব ছাত্রসংগঠনকে মাইনাস করে শিবির ও ছাত্রশক্তি কোরামের (গুপ্তশিবির) লোকজনকে সমন্বয়ক কমিটির অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তার কারণে ৫ আগস্টের পরে যদু-মধু-কদু এসে সর্বেসর্বা হয়ে গেছে।’
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাতে উমামা তার ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাসে এই দাবি করেন।
স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন, ‘যারা জুলাইয়ের স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলনকে ভাই-ব্রাদার কোরাম আর শিবিরের হাতে বন্দি করছে, তোদের ওপর আল্লাহর গজব পড়ুক। মোনাফেকের দল। বিএনপি খারাপ, ওর খারাপ চোখে দেখা যায়। দেশকে নিয়ে আন্দোলনের পর যারা ছেলেখেলা করছে তারা সব দখল করতে চাইছিল। সোশ্যাল মিডিয়ার কন্টেন্টগুলোকে আমি মোটেও নিরীহভাবে দেখি না। বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য ফেসবুক ম্যানিপুলেশন যথেষ্ট, তাই পর্দার আড়ালের ইন্টারেস্ট গ্রুপগুলা সময়ে সময়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় জুলাইয়ের নামে ম্যানুফ্যাকচারড কনসেন্ট জেনারেট করে।’
তিনি আরও বলেন, ‘তরুণদের মধ্যে হিরো হিসেবে ম্যানুফ্যাচারড ফিগার আছে অনেক, যারা তরুণদের বর্তমান ও ভবিষ্যতের রাজনৈতিক সম্ভাবনাকে নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর হাতে বন্দি করতে কাজ করছে। আমি মিয়ানমারের দিকে তাকালে ভয় পাই। রোহিঙ্গা গণহত্যার জন্য ফেসবুক অত্যন্ত এফিশিয়েন্ট টুল ছিল। এগুলা সম্ভব হইছে আমাদের মধ্যবিত্তের- আমি রাজনীতি ঘৃণা করি থেকে জুলাইয়ে হঠাৎ চোখ ফোটার কারণে, আর সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানিপুলেট করে আজকে একে তো কালকে ওকে হিরো বানানোর কারণে।’
তিনি আরো বলেন, ‘বাংলাদেশের জার্নি এত দিন ছিল ৫০ বছরের। এখন তো জামায়াতের কারণে হিস্ট্রি ব্রিটিশ পিরিয়ড থেকে শুরু করতে হয়। একদল মোনাফেকের হাতে পড়ছে দেশের রাজনীতি। জামায়াত আর আওয়ামী লীগে কোনো পার্থক্য নেই। জামায়াত তাদের গণহত্যার কালিমা ঢাকতে দেশকে যেকোনো পর্যায়ে নিয়ে যেতে রাজি আছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান মন্তব্য করেছেন যে, হাদির মৃত্যুর পর জামায়াত-শিবির ইনকিলাব মঞ্চ দখল করেছিল আম্মারদের মাধ্যমে। তিনি বলেন, ‘জামায়াত শিবির আম্মার-নাসিরদের মতো নরকের কীট পালে, আবার প্রয়োজন শেষে পিষেও মারে!’
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে তিনি নিজের ফেসবুকে একটি পোস্টে এই মন্তব্য করেন।
পোস্টে রাশেদ খান দাবি করেন, ইনকিলাব মঞ্চসহ যতগুলো অরাজনৈতিক নামধারী সংগঠন গঠন করা হয়েছে, তাদের অধিকাংশই গুপ্তদের দখলে রয়েছে। শহীদ ওসমান হাদি সম্ভবত মহৎ উদ্দেশ্যে ইনকিলাব মঞ্চ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, কিন্তু তার মৃত্যুর পর জামায়াত-শিবির আম্মারদের দিয়ে তা দখল হয়ে যায়।
তিনি আরো বলেন, ‘যেহেতু গুপ্তদের চরিত্র ও পরিচয় উন্মোচন হচ্ছে, শিবিরও আর এদের দায়দায়িত্ব নিয়ে নিচ্ছে না, সুতরাং এর পর থেকে সাধারণ চরিত্র ধারণ করে যারা অস্বাভাবিক আচরণ ও বাক্য বিনিময় করবে, তাদের জবাবটা রাজনৈতিকভাবেই দিতে হবে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ