বৃহস্পতিবার, ১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
১০:৫৭ এম
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের জিএস সালাউদ্দিন আম্মার সম্পর্কে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক মুখপাত্র উমামা ফাতেমা দাবি করেছেন যে, তিনি উড়ে এসে নেতা হয়েছেন।
উমামা লিখেছেন, ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মাধ্যমে ১৭ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামের সঙ্গে ন্যূনতম সম্পর্ক না থাকা যেসব মানুষ উড়ে এসে নেতা হয়েছে, সালাউদ্দিন আম্মার তাদের অন্যতম। জুলাই আন্দোলনের সময় সব ছাত্রসংগঠনকে মাইনাস করে শিবির ও ছাত্রশক্তি কোরামের (গুপ্তশিবির) লোকজনকে সমন্বয়ক কমিটির অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তার কারণে ৫ আগস্টের পরে যদু-মধু-কদু এসে সর্বেসর্বা হয়ে গেছে।’
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাতে উমামা তার ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাসে এই দাবি করেন।
স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন, ‘যারা জুলাইয়ের স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলনকে ভাই-ব্রাদার কোরাম আর শিবিরের হাতে বন্দি করছে, তোদের ওপর আল্লাহর গজব পড়ুক। মোনাফেকের দল। বিএনপি খারাপ, ওর খারাপ চোখে দেখা যায়। দেশকে নিয়ে আন্দোলনের পর যারা ছেলেখেলা করছে তারা সব দখল করতে চাইছিল। সোশ্যাল মিডিয়ার কন্টেন্টগুলোকে আমি মোটেও নিরীহভাবে দেখি না। বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য ফেসবুক ম্যানিপুলেশন যথেষ্ট, তাই পর্দার আড়ালের ইন্টারেস্ট গ্রুপগুলা সময়ে সময়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় জুলাইয়ের নামে ম্যানুফ্যাকচারড কনসেন্ট জেনারেট করে।’
তিনি আরও বলেন, ‘তরুণদের মধ্যে হিরো হিসেবে ম্যানুফ্যাচারড ফিগার আছে অনেক, যারা তরুণদের বর্তমান ও ভবিষ্যতের রাজনৈতিক সম্ভাবনাকে নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর হাতে বন্দি করতে কাজ করছে। আমি মিয়ানমারের দিকে তাকালে ভয় পাই। রোহিঙ্গা গণহত্যার জন্য ফেসবুক অত্যন্ত এফিশিয়েন্ট টুল ছিল। এগুলা সম্ভব হইছে আমাদের মধ্যবিত্তের- আমি রাজনীতি ঘৃণা করি থেকে জুলাইয়ে হঠাৎ চোখ ফোটার কারণে, আর সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানিপুলেট করে আজকে একে তো কালকে ওকে হিরো বানানোর কারণে।’
তিনি আরো বলেন, ‘বাংলাদেশের জার্নি এত দিন ছিল ৫০ বছরের। এখন তো জামায়াতের কারণে হিস্ট্রি ব্রিটিশ পিরিয়ড থেকে শুরু করতে হয়। একদল মোনাফেকের হাতে পড়ছে দেশের রাজনীতি। জামায়াত আর আওয়ামী লীগে কোনো পার্থক্য নেই। জামায়াত তাদের গণহত্যার কালিমা ঢাকতে দেশকে যেকোনো পর্যায়ে নিয়ে যেতে রাজি আছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান মন্তব্য করেছেন যে, হাদির মৃত্যুর পর জামায়াত-শিবির ইনকিলাব মঞ্চ দখল করেছিল আম্মারদের মাধ্যমে। তিনি বলেন, ‘জামায়াত শিবির আম্মার-নাসিরদের মতো নরকের কীট পালে, আবার প্রয়োজন শেষে পিষেও মারে!’
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে তিনি নিজের ফেসবুকে একটি পোস্টে এই মন্তব্য করেন।
পোস্টে রাশেদ খান দাবি করেন, ইনকিলাব মঞ্চসহ যতগুলো অরাজনৈতিক নামধারী সংগঠন গঠন করা হয়েছে, তাদের অধিকাংশই গুপ্তদের দখলে রয়েছে। শহীদ ওসমান হাদি সম্ভবত মহৎ উদ্দেশ্যে ইনকিলাব মঞ্চ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, কিন্তু তার মৃত্যুর পর জামায়াত-শিবির আম্মারদের দিয়ে তা দখল হয়ে যায়।
তিনি আরো বলেন, ‘যেহেতু গুপ্তদের চরিত্র ও পরিচয় উন্মোচন হচ্ছে, শিবিরও আর এদের দায়দায়িত্ব নিয়ে নিচ্ছে না, সুতরাং এর পর থেকে সাধারণ চরিত্র ধারণ করে যারা অস্বাভাবিক আচরণ ও বাক্য বিনিময় করবে, তাদের জবাবটা রাজনৈতিকভাবেই দিতে হবে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দেশের বাজারে সোনার দাম সর্বশেষ সমন্বয়ের মাধ্যমে বৃদ্ধি করা হয়েছে। তিন দফা কমার পর, প্রতি ভরি সোনার দাম ২ হাজার ২১৬ টাকায় বাড়ানো হয়েছে। এর ফলে, ভ্যাটসহ ভালো মানের এক ভরি সোনা বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ৩০ হাজার ৭৭২ টাকায়।
বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) গতকাল বুধবার সকাল ১০টা থেকে নতুন দাম কার্যকর করেছে। বৃহস্পতিবারও একই দামে সোনা বিক্রি হচ্ছে।
নতুন দাম অনুযায়ী, ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ২ হাজার ২১৬ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ২ লাখ ৩০ হাজার ৭৭২ টাকা হয়েছে। ২১ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ২ লাখ ২০ হাজার ৩৯১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ১ হাজার ৮০৮ টাকা বাড়িয়ে ১ লাখ ৮৯ হাজার ২৪৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম ১ হাজার ১০৮ টাকা বাড়িয়ে ১ লাখ ৫৪ হাজার ২৫৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এর আগে ২৬ সেপ্টেম্বর ভালো মানের এক ভরি সোনার গহনার দাম ১ হাজার ৬৯১ টাকা কমানো হয়েছিল। এরপর ২৮ সেপ্টেম্বর কমানো হয় ২ হাজার ১৫৮ টাকা। ফলে, তিন দফায় ভালো মানের এক ভরি সোনার গহনার দাম কমেছে ৬ হাজার ৬৫ টাকা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে ইরানের সামরিক বাহিনী ‘পুরোপুরি ধ্বংস’ হয়ে গেছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের ‘প্রায় পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’ রয়েছে হরমুজ প্রণালিতে।
ট্রাম্প আরও উল্লেখ করেছেন, গত তিন দিনে হরমুজ দিয়ে ইতিহাসের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি পরিমাণ তেল পরিবহন হয়েছে। তবে, আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, হরমুজ দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ এখনও যুদ্ধপূর্ব স্বাভাবিক অবস্থায় পুরোপুরি ফিরে আসেনি।
হিস্পানিক হেরিটেজ মাস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেন, ‘হরমুজ প্রণালির ওপর আমাদের প্রায় পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে।’ তিনি দাবি করেন, গত তিন দিনে ওই জলপথ দিয়ে ইতিহাসের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি তেল সরবরাহ হয়েছে। একই অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র খুব শিগগিরই বিজয় অর্জন করবে।
ট্রাম্পের এই বক্তব্য এমন একটি সময় এসেছে যখন হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল ও তেল পরিবহন নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে তীব্র বিরোধ চলছে। সাম্প্রতিক সময়ে কাতারের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ অবসান ও হরমুজ পুনরায় স্বাভাবিকভাবে খুলে দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। গত ২৬ সেপ্টেম্বর ইরানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিলেন ট্রাম্প। তবে ৩০ সেপ্টেম্বর ইরান জানিয়েছে, যুদ্ধ অবসানের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক জবাব তারা পেয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে তেহরানে আলোচনা চলছে।
এদিকে, হরমুজ প্রণালিকে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নিরাপত্তা এবং অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। বিশ্ব নৌ দিবস উপলক্ষে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, পারস্য উপসাগর ও এর জলপথে টেকসই নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা ও দায়িত্বশীলতা প্রয়োজন।
পেজেশকিয়ান বলেন, ইরানের জন্য সমুদ্র শুধু বিশাল জলরাশি নয়; এটি দেশটির ইতিহাস, পরিচয় ও জীবনের অংশ এবং বর্তমান ও ভবিষ্যতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। তার মতে, নিরাপত্তা ও উন্নয়ন পরস্পর সম্পর্কযুক্ত। সমুদ্র নিরাপত্তা, বন্দর ও পরিবহনপথ বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের পরিবেশ তৈরি করে, আর অর্থনৈতিক উন্নয়ন জাতীয় সক্ষমতা বাড়ায়।
ইরানের প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, আঞ্চলিক জলপথে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং সামুদ্রিক পরিবহন ও বাণিজ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব তেহরান গুরুত্বের সঙ্গে পালন করছে। এ ক্ষেত্রে ইরানের নৌবাহিনী এবং সামুদ্রিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত সংশ্লিষ্টদের সক্ষমতা ও অভিজ্ঞতার ওপর দেশটি নির্ভর করছে। ইরানের সেনাবাহিনীর সমন্বয়বিষয়ক উপপ্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল হাবিবুল্লাহ সায়্যারিও সমুদ্রকে জাতীয় শক্তি, বাণিজ্য, অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
অন্যদিকে, ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জেনারেল তালাই-নিক বলেছেন, নিজেদের বৈধ অধিকার, নিরাপত্তা ও স্বার্থ রক্ষার পাশাপাশি তেহরান শান্তি চায়। তার ভাষ্য, ইরানের বৈধ অধিকার স্বীকার করা হলে চলমান সংঘাত অবসানের পথ তৈরি হতে পারে।
হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিয়ে উত্তেজনার মধ্যে গত মঙ্গলবার একটি তেলবাহী জাহাজ অজ্ঞাত কোনো বস্তুর আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর দিয়েছে যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা ইউকেএমটিও। সংস্থাটি জাহাজগুলোকে সতর্কতার সঙ্গে চলাচলের পরামর্শ দিয়েছে। একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের তেল রপ্তানি সেপ্টেম্বর মাসে যুদ্ধ শুরুর পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠলেও পরিবহনব্যবস্থা এখনো নানা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
রয়টার্সের সাম্প্রতিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, হরমুজ দিয়ে তেল সরবরাহ কিছুটা বাড়লেও উপসাগরীয় অঞ্চলের রপ্তানি এখনো যুদ্ধের আগের স্বাভাবিক কাঠামোয় পুরোপুরি ফেরেনি। বিকল্প পরিবহনব্যবস্থা, জাহাজ সংকট ও বাড়তি পরিবহন ব্যয় তেল সরবরাহকে প্রভাবিত করছে। এ কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দামও চাপের মধ্যে রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন মন্তব্য করেছেন যে, ভিন্নমত ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার প্রতি সম্মান প্রদর্শনই গণতন্ত্রের আসল শক্তি।
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে আটক হওয়া এক স্কুলশিক্ষককে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সসম্মানে মুক্তি দেওয়ার প্রেক্ষাপটে তিনি এই মন্তব্য করেন।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরে মাহদী আমিন জানান, ‘কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে শ্রেণিকক্ষে এক স্কুলশিক্ষকের কটূক্তি ও আপত্তিকর মন্তব্যের কারণে স্থানীয় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও অধিবাসীদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে তাদের বিক্ষোভের পর পুলিশ ওই শিক্ষককে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।’
তিনি বলেন, বিষয়টি জানার পর প্রধানমন্ত্রী সংক্ষুব্ধ হন এবং তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট থানাকে নির্দেশ দেন, শিক্ষককে সসম্মানে মুক্তি দিয়ে নিরাপদে তার বাসায় পৌঁছে দিতে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে পুলিশ পরে তাকে নিরাপদে বাসায় পৌঁছে দেয়।
প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে তার কার্যালয়ের মুখপাত্র আরও জানান, ‘প্রধানমন্ত্রী মনে করেন, মতের ভিন্নতা থাকতেই পারে; প্রত্যেক মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি ও মতামত তার নিজস্ব। কারও মতের সঙ্গে একমত না হলেও তার মতপ্রকাশের অধিকারকে সম্মান করা উচিত। ভিন্নমত ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার প্রতি এই সম্মানই গণতন্ত্রের শক্তি।’
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী বিশ্বাস করেন যে, ইতিবাচক আচরণ, পারস্পরিক সম্মান ও সহাবস্থানের সংস্কৃতি সমাজকে শক্তিশালী করবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ