০৯:১৫ এম
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে একটি মাদকবিরোধী র্যালি আয়োজন করায় স্থানীয় মাদক কারবারি ও মাদকসেবীদের বিরুদ্ধে এক যুবককে মারাত্মকভাবে কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে। আহত যুবককে উদ্ধার করে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এই ঘটনার সূতিকাগার রাতের বেলা ঘটেছে, বুধবার (১৫ জুলাই) গভীর রাতে উপজেলার মোগরাপাড়া ইউনিয়নের কাবিলগঞ্জ এলাকায়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সন্ধ্যায়, আহত যুবক ইমাম হাসানের বড় ভাই নাজিমউদ্দিন অভিযোগ দায়ের করেন সোনারগাঁ থানায়।
অভিযোগ অনুযায়ী, কাবিলগঞ্জ এলাকায় ইমাম হাসানের নেতৃত্বে একটি মাদকবিরোধী র্যালি বের করা হয়েছিল বুধবার (১৫ জুলাই) বিকেলে। এই র্যালিতে এলাকার যুব সমাজ এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অংশগ্রহণ করেন। র্যালির পূর্বে চিহ্নিত মাদক কারবারি মিন্টু মিয়া ইমাম হাসানকে ভয় ও হুমকি প্রদান করে। কিন্তু, সেই হুমকি সত্ত্বেও র্যালিটি অনুষ্ঠিত হয়।
আরও পড়ুন: বর্ষপূর্তিতে ম্যাগাজিন বর্ষবার্তা বের হচ্ছে
এরপর ক্ষিপ্ত হয়ে বৃহস্পতিবার রাত দেড়টার দিকে মিন্টুর নেতৃত্বে তিশা মিয়া, জাহাঙ্গীর হোসেন, সজিব মিয়া, নেয়াব হোসেনসহ ৭-৮ জনের একটি সশস্ত্র দল এসে হামলা চালায়। ওই সময় ইমাম হাসান ওই এলাকার রফিকুল ইসলামের ছাদে ফুটবল বিশ্বকাপ খেলা দেখছিলেন। হামলাকারীরা তাকে লক্ষ্য করে ৩ থেকে ৪ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুঁড়ে। এতে ছাদে থাকা লোকজন ভয়ে দ্রুত সেখান থেকে পালিয়ে যায়।
পরে হামলাকারীরা একা পেয়ে ইমাম হাসানকে রামদা ও চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে এবং লোহার রড ও হকিস্টিক দিয়ে পিটিয়ে মারাত্মকভাবে জখম করে। একপর্যায়ে হামলাকারীরা তার কাছ থেকে নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয় এবং তাকে ছাদ থেকে ফেলে দেয়। আহত ইমামের চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এসে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। পরে রাতেই তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
আহত ইমাম হাসানের বড় ভাই নাজিমউদ্দিন বলেন, কাবিলগঞ্জ এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মিন্টুর নেতৃত্বে অবাধে মাদক বিক্রি ও সেবন চলছে। তিনি অভিযোগ করেন, 'সম্প্রতি আমার ভাই ইমাম হাসান এলাকার লোকজনকে নিয়ে মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে ওঠে। এতে মিন্টু ক্ষিপ্ত হয়ে তার লোকজন নিয়ে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে কুপিয়েছে ও পিটিয়েছে এবং ছাদের ওপর থেকে ফেলে দিয়েছে।' তিনি এ ঘটনার সাথে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতারের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন।
এ বিষয়ে সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. গোলাম সারোয়ার জানান, 'যুবককে কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত করার ঘটনায় লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'
আরও পড়ুন: মদনে শিশু ধর্ষণ ও গর্ভধারণ মামলা, রায় ১১ নভেম্বর
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন