বুধবার, ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১১:০৮ পি.এম
গ্রাহকের হিসাব থেকে অর্থ আত্মসাৎ করার অভিযোগে সিটি ব্যাংকের সাবেক এক্সিকিউটিভ অফিসার ও এসোসিয়েট কাস্টমার সার্ভিস ম্যানেজার শাহ মোহাম্মদ ছগীরকে দুই বছরের কারাদণ্ড প্রদান করেছে আদালত। জালিয়াতি ও প্রতারণার মাধ্যমে এ অর্থ আত্মসাৎ করার অভিযোগে তাকে দণ্ডিত করা হয়েছে।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫-এর বিচারক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন এ রায় ঘোষণা করেন। মামলার নথি থেকে জানা যায়, গ্রাহকের অজান্তে চেক চুরি করে এবং জালিয়াতি করে ডেবিট কার্ড ইস্যুর মাধ্যমে ২ লাখ ৭২ হাজার ৩৩৫ টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তাকে এ দণ্ড দিয়েছেন। আত্মসাৎ করা অর্থ জরিমানা করে ওই গ্রাহককে ফেরত দিতে বলা হয়েছে রায়ে।
এছাড়া, দণ্ডবিধির ৪৬৭ ধারায় তাকে আরো ২ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে তাকে আরো ২ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী উভয় দণ্ড একত্রে কার্যকর হবে।
মামলার এজাহার ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চার্জশিট থেকে জানা যায়, শাহানা বেগম নামের এক গ্রাহকের হিসাব থেকে অভিযুক্ত কর্মকর্তা প্রথমে একটি চেক পাতা (নম্বর- ৩২৫৩২৬) চুরি করেন। এরপর ওই চেকের মাধ্যমে গ্রাহকের জাল স্বাক্ষর দিয়ে ২০১৫ সালের ৩১ আগস্ট ব্যাংক থেকে ৪০ হাজার টাকা উত্তোলন করেন।
প্রতারণা শুধু চেকের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। গ্রাহকের অজান্তে তার নামে একটি ডেবিট কার্ড ইস্যু করার জন্য যাবতীয় কাগজপত্র ও ফরমে গ্রাহকের জাল স্বাক্ষর দেন তিনি। পরে ওই কার্ড ও পিন নম্বর নিজের হস্তগত করে এটিএম থেকে ১ লাখ ২০ হাজার ৪৫ টাকা এবং পয়েন্ট অব সেলস মেশিনে ট্রানজেকশনের মাধ্যমে ১ লাখ ১২ হাজার ২৯০ টাকা তুলে নেন। সব মিলিয়ে তিনি ২ লাখ ৭২ হাজার ৩৩৫ টাকা আত্মসাৎ করেন।
গ্রাহক বিষয়টি বুঝতে পেরে ব্যাংকে অভিযোগ করলে অভ্যন্তরীণ তদন্তে জালিয়াতির প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া যায়। এর পর সিটি ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তাকে চাকরিচ্যুত করে।
পরবর্তীতে ২০১৭ সালের ৯ জানুয়ারি সিটি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের লিগ্যাল ডিভিশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট এ.কে.এম আইয়ুব উল্যা বাদী হয়ে চকবাজার মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটি তদন্ত করে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সহকারী পরিচালক নূরুল হুদা আদালতে চার্জশিট জমা দেন। ২০২৫ সালের ১৮ মার্চ চার্জগঠন করা হয়। এরপর মামলার বিচার চলাকালে ১২ জনের মধ্যে সাক্ষ্য দিয়েছেন ৯ জন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দিনাজপুর হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের ২১তম ব্যাচের এক শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে কোতয়ালি থানা পুলিশ।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় হাবিপ্রবিসংলগ্ন বিসিএস গলির শেষ মাথায় ফজিলা নামের এক মেস থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় তার লাশ উদ্ধার করা হয়।
ওই শিক্ষার্থীর নাম সিনথিয়া। তার বাড়ি ঢাকার গাজীপুরে। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা তিনি আত্মহত্যা করেছেন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আব্দুল হালিম বলেন, "আমরা খবর পাই যে হাবিপ্রবিসংলগ্ন বিসিএস গলির শেষ মাথায় মেয়ের একটি মেসে একজন শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ পাওয়া গেছে। সংবাদ পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে গিয়ে ফজিলা নামের একটি মেসে সিনথিয়ার লাশ ঝুলন্ত অবস্থায় পাই। প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যা বলে ধারণা করছি। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য দিনাজপুর মেডিক্যাল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়েছে। কী কারণে এ ঘটনা ঘটেছে এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণ রিপোর্ট পেলে জানা যাবে।"
তিনি আরো বলেন, "তার অভিভাবকদের খবর দেওয়া হয়েছে। তারা রওয়ানা হয়েছেন। ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হবে।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে রাজনৈতিক নিষ্ক্রিয়তা ভেঙে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন রোহিঙ্গা সংকটের দীর্ঘমেয়াদী সমাধানে। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, বাংলাদেশ একা এই বিশাল মানবিক দায়িত্ব বহন করতে পারে না।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে স্থানীয় সময় বুধবার অনুষ্ঠিত রোহিঙ্গা সংকট বিষয়ক উচ্চপর্যায়ের সাইড ইভেন্টে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন তিনি। এই অনুষ্ঠানে গাম্বিয়ার সঙ্গে যৌথভাবে আয়োজন করা হয়, যেখানে আন্তর্জাতিক অংশীদার ও বিশ্বনেতারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, মিয়ানমারে রোহিঙ্গারা দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে বৈষম্য, নিপীড়ন ও বঞ্চনার শিকার হয়ে আসছে। ১৯৭৮ সালে এবং পরবর্তী সময়ে ১৯৮০-এর দশকজুড়ে বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের কয়েকটি বড় দফার আগমন প্রত্যক্ষ করেছে। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং মরহুমা প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন সরকারের সময়ে রোহিঙ্গাদের সফলভাবে প্রত্যাবাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। তবে ২০১৭ সালে মিয়ানমারে সহিংসতার পর সংকট পরিস্থিতি আরও অবনতি ঘটে।
তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশ নয় বছরেরও বেশি সময় ধরে একটি বিশাল মানবিক দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছে। বর্তমানে ১২ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়া হচ্ছে। দুঃখজনকভাবে, মিয়ানমারে চলমান সহিংসতার কারণে মানুষ এখনও পালিয়ে আসছে। প্রতিবছর শিবিরগুলোতে হাজার হাজার শিশুর জন্ম হচ্ছে, যা একটি নতুন প্রজন্মের সৃষ্টি করছে। মায়েরা নিরাপদ ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখছেন, তরুণরা অনিশ্চয়তার মধ্যে বেড়ে উঠছে এবং প্রবীণরা তাদের ঘরবাড়ি ও গ্রাম ছেড়ে আসার স্মৃতি নিয়ে ফিরে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষা পোষণ করছেন।
তিনি আরও বলেন, মানবিকতার তাগিদেই বাংলাদেশ তার সীমান্ত খুলে দিয়েছিল। বাংলাদেশের শিবিরগুলোতে রোহিঙ্গাদের খাদ্য ও স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করা হচ্ছে। প্রায় ৬ হাজার লার্নিং সেন্টারের মাধ্যমে তাদের শিশুরা মিয়ানমারের পাঠ্যক্রমভিত্তিক শিক্ষা পাচ্ছে। রোহিঙ্গা তরুণদের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও দক্ষতা উন্নয়নের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে, যাতে তারা ভবিষ্যতে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে পুনঃএকীভূত হওয়ার জন্য প্রস্তুত হতে পারে। শিবিরগুলোর পরিস্থিতি উন্নত করতে বাংলাদেশ সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, তবে দীর্ঘ সময় বসবাসের জন্য এগুলো আদর্শ স্থান নয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘস্থায়ী বাস্তুচ্যুতির ব্যয় প্রতিদিনই বাড়ছে, যা কক্সবাজারের আশ্রয়দাতা স্থানীয় জনগণের জন্যও চাপ সৃষ্টি করছে। বাংলাদেশের ওপর সামাজিক, অর্থনৈতিক, পরিবেশগত ও নিরাপত্তাজনিত চাপ এখন বিপুল। দীর্ঘস্থায়ী অনিশ্চয়তা ও হতাশা নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ ও নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করছে, যার মধ্যে রয়েছে মানবপাচার, অবৈধ অভিবাসী পাচার, মাদকপাচার এবং অন্যান্য আন্তঃদেশীয় অপরাধ। কেউ কেউ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নৌকায় করে মালয়েশিয়ার উদ্দেশে পাড়ি দিচ্ছেন। একটি দেশে অমীমাংসিত সংকট পুরো অঞ্চলের জন্য নিরাপত্তাজনিত চ্যালেঞ্জে পরিণত হতে পারে।
অথচ প্রয়োজন যত বাড়ছে, মানবিক সহায়তার সেই জীবনরেখা ততই সংকুচিত হচ্ছে। ২০২৫ সালের যৌথ সাড়াদান পরিকল্পনায় ৯৩৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি সহায়তার আবেদন জানানো হয়েছিল, যা ২০২৬ সালের জন্য কমিয়ে প্রায় ৭১০ মিলিয়ন ডলারে নামিয়ে আনা হয়েছে। এই প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে না। বাংলাদেশের পাশে অব্যাহতভাবে দাঁড়িয়ে থাকা আন্তর্জাতিক অংশীদারদের প্রতি প্রধানমন্ত্রী গভীরভাবে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে তাদের সহায়তা বেশি প্রয়োজন।
তবে মানবিক সহায়তার উদারতা রাজনৈতিক নিষ্ক্রিয়তার অজুহাত হতে পারে না। অনির্দিষ্টকাল ধরে এই দায়িত্ব কেবল বাংলাদেশই বহন করবে-এমন প্রত্যাশাও করা যায় না।
তিনি বলেন, এই সংকটের উৎপত্তি মিয়ানমারে এবং এর সমাধানও মিয়ানমারেই নিহিত। দুঃখজনকভাবে, রাখাইন রাজ্যের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি এখনো গভীর উদ্বেগজনক। রোহিঙ্গারা এখনো জোরপূর্বক নিয়োগ, নির্বিচারে আটক, চলাচলে বিধিনিষেধ, জোরপূর্বক শ্রম এবং অন্যান্য নিরাপত্তাহীনতার শিকার হচ্ছে। মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী এবং আরাকান আর্মির বিরুদ্ধে গুরুতর লঙ্ঘনের অভিযোগের তথ্য পাওয়া গেছে। ফলে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের উপযোগী পরিস্থিতি এখনো নিশ্চিত হয়নি।
তারেক রহমান বলেন, এখন সহমর্মিতা থেকে সংকটের মূল কারণ ও তার সমাধান খোঁজার পথে এগিয়ে যাওয়ার সময় এসেছে; প্রতিশ্রুতি থেকে কার্যকর পদক্ষেপে যাওয়ার সময় এসেছে; এবং বাস্তুচ্যুতি ব্যবস্থাপনা থেকে এই বাস্তুচ্যুতি অবসানের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সময় এসেছে।
সংকট সমাধানে ৫ দফা প্রস্তাব :
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের উপযোগী পরিবেশ এখনো তৈরি হয়নি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী সংকট উত্তরণে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে ৫টি সুনির্দিষ্ট জরুরি প্রস্তাব তুলে ধরেন:
প্রথমত, আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক অংশীজনদের রোহিঙ্গাদের দ্রুত, নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসইভাবে মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের জন্য একটি সুস্পষ্ট ও বিশ্বাসযোগ্য রোডম্যাপ প্রণয়ন করতে হবে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও অন্যান্য রাষ্ট্রকে স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টায় সহায়তা করতে হবে এবং তাদের প্রভাব কাজে লাগিয়ে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে হবে, যা প্রত্যাবাসনের অনুকূল।
দ্বিতীয়ত, রোহিঙ্গাসহ মিয়ানমারের বেসামরিক জনগণের ওপর সহিংসতা বন্ধ করতে হবে। রোহিঙ্গাদের নিজভূমিতে তাদের মৌলিক অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে তারা ফিরে যাওয়ার বিষয়ে আস্থা ফিরে পান।
তৃতীয়ত, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে রোহিঙ্গাদের জন্য পর্যাপ্ত ও পূর্বানুমেয় মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। একইভাবে, আশ্রয়দাতা স্থানীয় জনগণকেও সহায়তা করতে হবে, যাতে তাদের উদার আতিথেয়তার কারণে তাদের উন্নয়নের আকাঙ্ক্ষা বাধাগ্রস্ত না হয়।
চতুর্থত, টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য ন্যায়বিচার ও জবাবদিহি অপরিহার্য। আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে জবাবদিহি নিশ্চিতের প্রচেষ্টায় গাম্বিয়ার নেতৃত্বের জন্য প্রধানমন্ত্রী গভীরভাবে কৃতজ্ঞ। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকাও স্বীকার করেন, যেখানে ব্যক্তিগত অপরাধের দায় নির্ধারণের পাশাপাশি অন্যান্য আন্তর্জাতিক বিচার ও তদন্তব্যবস্থাও কাজ করছে। আন্তর্জাতিক বিচারিক ও তদন্তব্যবস্থাগুলোকে অব্যাহত সহায়তা দিতে হবে। গুরুতর অপরাধের জন্য দায়ীদের অবশ্যই জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।
পঞ্চমত, এই অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা উসকে দেওয়া মাদকভিত্তিক অর্থনীতি, মানবপাচার, ডিজিটাল প্রতারণা, অবৈধ অস্ত্র এবং অন্যান্য আন্তঃসীমান্ত অপরাধ মোকাবিলায় আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও জোরদার করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশ চায় না রোহিঙ্গারা চিরকাল বাস্তুচ্যুত অবস্থায় থাকুক। আমরা চাই, তারা নিরাপদে, স্বেচ্ছায়, মর্যাদার সঙ্গে এবং তাদের অধিকার সুরক্ষিত রেখে মিয়ানমারে নিজ ঘরে ফিরে যাক। বাংলাদেশ মানবিকতার সঙ্গে তার দায়িত্ব পালন করেছে। এখন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কেও দৃঢ় প্রত্যয়ের সঙ্গে তার দায়িত্ব পালন করতে হবে। প্রয়োজনীয় পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হলে বাংলাদেশ তাদের প্রত্যাবাসনে সহায়তা করতে প্রস্তুত থাকবে।
তারেক রহমান বিশ্ব নেতৃবৃন্দের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন আসুন, আমরা একসঙ্গে নিশ্চিত করি-রোহিঙ্গাদের ভাগ্য যেন নিপীড়ন, বিতাড়ন ও বাস্তুচ্যুতির আরেকটি গল্প হয়ে না থাকে। বরং তা হয়ে উঠুক ন্যায়বিচার, মর্যাদা ও আশার গল্প। আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো-এই গল্পের সূচনা হোক এখনই।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নওগাঁর ধামইরহাটে উপজেলা প্রশাসন সরকারি ইজারাভুক্ত হাট-বাজারের জায়গা দখলের চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছে। প্রশাসন সতর্ক করেছে যে, সরকারি খাস জমি দখল করে স্থাপনা নির্মাণের চেষ্টা করলে তা গুড়িয়ে দেওয়া হবে এবং অভিযুক্তদের আইন মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ধামইরহাট উপজেলার আড়ানগর ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত পলাশবাড়ী হাট-বাজারের পেরিফেরিভুক্ত খাস জমির গলি দিয়ে ক্রেতা ও স্থানীয় জনগণ চলাচল করতেন। সেখানে আইন লঙ্ঘন করে হাটের ক্রেতা ও সাধারণ মানুষের চলাচলের জায়গা দখল করে দোকান ঘর নির্মাণের চেষ্টা করে আতাউর রহমান ও তার ছেলে রিফাত হোসেন। ২৩ সেপ্টেম্বর (বুধবার) সকালে অভিযোগটি উপজেলা প্রশাসনের নজরে আসলে, উপজেলা প্রশাসনের নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী তাহমিনা সারমিনের নির্দেশে সহকারি কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিষ্ট্রেট মো. সাজ্জাদ পারভেজ স্থানীয়দের সহযোগিতায় অবৈধভাবে ঘর নির্মাণ বন্ধ করে দেন।
এ সময় তিনি সকলকে আইন মেনে চলার জন্য অনুরোধ জানিয়ে বলেন, "হাট-বাজার (স্থাপন ও ব্যবস্থাপনা) আইন ২০২৩ এর ১০ ধারা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি ছাড়া খাস জমির উপর হাট-বাজারের সম্পত্তিতে কোনভাবে দোকান-পাট বা স্থাপনা নির্মাণ করা যাবে না।" নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটের এই আইনসিদ্ধ পরামর্শ ও নির্দেশনার ফলে অভিযুক্ত আতাউর রহমান ও তার ছেলে রিফাত তাদের ভুল বুঝতে পেরে আইন মেনে চলার প্রতিশ্রুতি দেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নওগাঁর সাপাহার উপজেলা পরিষদের সামনে নির্মিত ‘জ্ঞান চত্বর’ এর শুভ উদ্বোধন সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই জ্ঞান চত্বরের উদ্বোধন করেন নওগাঁ-১ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান।
উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রোমানা রিয়াজ, সাপাহার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহীন রেজা, এলজিইডি অফিসার তাহাজ্জুদ হোসেন, উপজেলা কৃষি অফিসার মনিরুজ্জামান টকি, উপজেলা মৎস্য অফিসার শামিম রেজা, উপজেলা বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলাম চৌধুরী (বেনু), সাধারণ সম্পাদক সারোয়ার জাহান চৌধুরী (লাবু) এবং সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম। উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ