বুধবার, ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১১:২২ পি.এম
নওগাঁর ধামইরহাটে উপজেলা প্রশাসন সরকারি ইজারাভুক্ত হাট-বাজারের জায়গা দখলের চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছে। প্রশাসন সতর্ক করেছে যে, সরকারি খাস জমি দখল করে স্থাপনা নির্মাণের চেষ্টা করলে তা গুড়িয়ে দেওয়া হবে এবং অভিযুক্তদের আইন মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ধামইরহাট উপজেলার আড়ানগর ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত পলাশবাড়ী হাট-বাজারের পেরিফেরিভুক্ত খাস জমির গলি দিয়ে ক্রেতা ও স্থানীয় জনগণ চলাচল করতেন। সেখানে আইন লঙ্ঘন করে হাটের ক্রেতা ও সাধারণ মানুষের চলাচলের জায়গা দখল করে দোকান ঘর নির্মাণের চেষ্টা করে আতাউর রহমান ও তার ছেলে রিফাত হোসেন। ২৩ সেপ্টেম্বর (বুধবার) সকালে অভিযোগটি উপজেলা প্রশাসনের নজরে আসলে, উপজেলা প্রশাসনের নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী তাহমিনা সারমিনের নির্দেশে সহকারি কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিষ্ট্রেট মো. সাজ্জাদ পারভেজ স্থানীয়দের সহযোগিতায় অবৈধভাবে ঘর নির্মাণ বন্ধ করে দেন।
এ সময় তিনি সকলকে আইন মেনে চলার জন্য অনুরোধ জানিয়ে বলেন, "হাট-বাজার (স্থাপন ও ব্যবস্থাপনা) আইন ২০২৩ এর ১০ ধারা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি ছাড়া খাস জমির উপর হাট-বাজারের সম্পত্তিতে কোনভাবে দোকান-পাট বা স্থাপনা নির্মাণ করা যাবে না।" নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটের এই আইনসিদ্ধ পরামর্শ ও নির্দেশনার ফলে অভিযুক্ত আতাউর রহমান ও তার ছেলে রিফাত তাদের ভুল বুঝতে পেরে আইন মেনে চলার প্রতিশ্রুতি দেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নওগাঁর সাপাহার উপজেলা পরিষদের সামনে নির্মিত ‘জ্ঞান চত্বর’ এর শুভ উদ্বোধন সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই জ্ঞান চত্বরের উদ্বোধন করেন নওগাঁ-১ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান।
উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রোমানা রিয়াজ, সাপাহার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহীন রেজা, এলজিইডি অফিসার তাহাজ্জুদ হোসেন, উপজেলা কৃষি অফিসার মনিরুজ্জামান টকি, উপজেলা মৎস্য অফিসার শামিম রেজা, উপজেলা বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলাম চৌধুরী (বেনু), সাধারণ সম্পাদক সারোয়ার জাহান চৌধুরী (লাবু) এবং সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম। উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নওগাঁর সাপাহার মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২০২৫ সালের বৃত্তিপ্রাপ্ত কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা প্রদান, দ্বিতীয় প্রান্তিক মূল্যায়নের ফলাফল প্রকাশ এবং পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। একই সাথে মা ও অভিভাবক সমাবেশ এবং মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সাপাহার মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আয়োজনে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নওগাঁ-১ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান এমপি। সভাপতিত্ব করেন সাপাহার উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রোমানা রিয়াজ।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহীন রেজা, এমপি পত্নী ফরিদা বেগম, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি অধ্যক্ষ আব্দুন নুর, সভাপতি রফিকুল ইসলাম চৌধুরী (বেনু), সাধারণ সম্পাদক সরোয়ার জাহান চৌধুরী (লাবু), দপ্তর সম্পাদক মো. রবিউল হক চৌধুরী (রবি)।
এ সময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীবৃন্দ, বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। অনুষ্ঠানে ২০২৫ সালের বৃত্তিপ্রাপ্ত কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ও পুরস্কার প্রদান করা হয়।
পাশাপাশি দ্বিতীয় প্রান্তিক মূল্যায়নের ফলাফল প্রকাশ করা হয়। শিক্ষার্থীদের সাফল্য উদযাপন করার পাশাপাশি তাদের অভিভাবকদের অংশগ্রহণে আয়োজিত সমাবেশে শিশুদের পড়াশোনা, নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিতি এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে অভিভাবকদের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করা হয়।
পরে শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। আয়োজকরা জানান, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় উৎসাহিত করা, তাদের মেধা ও সাফল্যের স্বীকৃতিদেওয়া এবং বিদ্যালয়-অভিভাবকদের মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠ সমন্বয় গড়ে তোলাই এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।
অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পাবনার সাঁথিয়ায় বাংলাদেশ এনজিও ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে সৃজনী সমাজ কল্যাণ সংস্থার উদ্যোগে বিনামূল্যে মা ছাগল বিতরণের বিশেষ প্রকল্পের দ্বিতীয় কিস্তির শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টার দিকে সাঁথিয়া পৌর সদরের সৃজনী সমাজ কল্যাণ সংস্থার প্রধান কার্যালয়ে সমাজের পিছিয়ে পড়া দুস্থ অসহায় নারী ও পুরুষদের মধ্যে ১০ জোড়া (২০টি) মা ছাগল বিতরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সৃজনী সমাজ কল্যাণ সংস্থার সভাপতি আকলিমা পারভীন। সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক আমিরুল ইসলাম। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাঁথিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং সাঁথিয়া পৌর প্রশাসক আসিফ রায়হান।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সাঁথিয়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ খালেদ সাইফুল্লাহ, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা এস.এম সাইদ হোসেন, পৌর জামায়াতের আমীর হাফেজ মাওঃ আব্দুল গফুর, এবং সাঁথিয়া প্রেস ক্লাবের সভাপতি আব্দুল হাই। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সাঁথিয়া সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক সাব্বির হোসেন, ধোপাদহ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফজলুল হক প্রমুখ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দোকান ছিল এবং ব্যবসা ভালো চলছিল। এর মধ্যে বাজার আধুনিকায়নের উদ্দেশ্যে সেই দোকানঘর ভেঙে দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছিল, নতুন মার্কেট নির্মাণ হলে আগের ব্যবসায়ীদেরই দোকান বরাদ্দ দেওয়া হবে। কিন্তু মার্কেট নির্মাণের পর বছর পেরিয়ে গেছে। কেউ আট বছর, কেউ সাত বছর, আবার কেউ দুই বছর ধরে নতুন দোকানের জন্য অপেক্ষা করছেন। এর মধ্যে অনেকে ব্যবসা গুটিয়ে অন্যত্র চলে গেছেন, কেউ ঋণের বোঝা টানছেন। রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার তিনটি বড় হাট-বাজার নন্দনগাছী, চৌমুহনী ও বাঁকড়ার চিত্র এমনই। এসব বাজারের উন্নয়নে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অর্থায়নে কোটি কোটি টাকার মার্কেট নির্মাণ করা হয়েছে। কোথাও নির্মাণ শেষে দীর্ঘদিন ধরে মার্কেট পড়ে আছে, কোথাও উপজেলা প্রশাসনের কাছে হস্তান্তরের পরও দোকান বরাদ্দ হয়নি।
নন্দনগাছীতে মার্কেটটি এখনো উপজেলা প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর হয়নি। এর মধ্যে দোকান বরাদ্দের নামে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বাজার কমিটির বিরুদ্ধে। ফলে একদিকে দোকান হারিয়ে ব্যবসায়ীরা বিপাকে পড়েছেন, অন্যদিকে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সরকারি স্থাপনা পড়ে থাকায় কাঙ্ক্ষিত সুফল মিলছে না। একই সঙ্গে বাজার থেকে সরকারের সম্ভাব্য রাজস্বও কমছে।
সাত বছরেও দোকান ফেরত পাননি ৮২ ব্যবসায়ী
চারঘাট উপজেলার সবচেয়ে বড় হাট নন্দনগাছী। এটি উপজেলার একমাত্র পশুর হাটও। গত বছর প্রায় ৮০ লাখ টাকায় হাটটি ইজারা দেওয়া হয়। প্রতিবছর বিপুল রাজস্ব আদায় হলেও দীর্ঘদিন এই হাটে সরকারি উদ্যোগে কোনো মার্কেট নির্মাণ করা হয়নি। উপজেলা প্রকৌশল অফিস সূত্রে জানা যায়, নন্দনগাছী হাট আধুনিকায়নের জন্য প্রায় ২ কোটি ৬৮ লাখ টাকা ব্যয়ে দোতলা মার্কেট নির্মাণের প্রকল্প নেওয়া হয়। ২০১৯ সালের ১১ নভেম্বর নির্মাণকাজ শুরুর কথা ছিল এবং ২০২১ সালের ১০ মার্চের মধ্যে কাজ শেষ করার সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়। ২০২০ সালের শুরুতে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্মাণকাজের উদ্বোধন করা হয়। তবে মার্কেট নির্মাণের আগেই ২০১৯ সালের শুরুর দিকে পুরোনো দোকানঘরগুলো ভেঙে জায়গা খালি করা হয়। এতে ৮২ জন ব্যবসায়ী তাঁদের দোকান হারান। এক বছরের মধ্যে নতুন দোকান বুঝিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল বলে জানান ব্যবসায়ীরা। কিন্তু সাত বছর পেরিয়ে গেলেও তাঁরা দোকান বুঝে পাননি।
দোকান বরাদ্দে লাখ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, এলজিইডির পক্ষ থেকে উপজেলা প্রশাসনের কাছে এটি হস্তান্তর করা হয়নি। কিন্তু ২০১৯ সালে মার্কেট নির্মাণ শুরুর সময় দোকান বরাদ্দের কথা বলে তৎকালীন বাজার কমিটির সভাপতি রেজাউল করিম ও ইউনিয়ন আ'লীগের সাধারণ সম্পাদক জুলহাস ইসলাম লিটন অর্ধশতাধিক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ৫০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা পর্যন্ত নেন।
সম্প্রতি বর্তমান বাজার কমিটির সভাপতি আব্দুল খালেক ও সাধারণ সম্পাদক মফিজুল ইসলাম মজনু ৩০ থেকে ৩৫ জন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে দোকান বরাদ্দের নামে তিন থেকে সাড়ে তিন লাখ টাকা করে নিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেছেন ব্যবসায়ীরা। নন্দনগাছী হাটের লবণ ব্যবসায়ী জামিরুল ইসলাম বলেন, ‘মার্কেট নির্মাণের শুরুতে আওয়ামী লীগের নেতাদের টাকা দিয়েছি। মাস দুয়েক আগে আবার বর্তমান সভাপতি আব্দুল খালেক ও সাধারণ সম্পাদক মজনুকে তিন লাখ টাকা দিয়েছি। এখনো দোকান বরাদ্দ পাইনি।’ সিট-কাপড় ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘সাত বছর ধরে দোকান বন্ধ থাকায় অনেকে ব্যবসা বন্ধ করে ঢাকায় কাজ করছেন। আমি দুই দফায় ঋণ করে টাকা দিয়েও এখনো দোকান বুঝে পাইনি।’
তবে অভিযোগের বিষয়ে বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক মফিজুল ইসলাম মজনু তা অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘সব জায়গায় পক্ষে-বিপক্ষে লোক থাকে। এখানে একটি পক্ষ আমাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। কারও কাছ থেকে টাকা নিইনি।’ ব্যবসায়ীদের আরো অভিযোগ, বর্তমান বাজার কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক কোনো নির্বাচন ছাড়াই দায়িত্বে রয়েছেন। সভাপতি আব্দুল খালেক একটি কলেজের অফিস সহকারী এবং সাধারণ সম্পাদক মফিজুল ইসলাম মজনু একজন স্কুলশিক্ষক।
আট বছরেও চালু হয়নি চৌমুহনী মার্কেট
নন্দনগাছীর মতো চৌমুহনী বাজারেও দীর্ঘদিন ধরে পড়ে আছে সরকারি মার্কেট। উপজেলার ইউসুফপুর ইউনিয়নের এই বাজারের উন্নয়নে প্রায় ২ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০১৬ সালের নভেম্বরে মার্কেট নির্মাণের কাজ শুরু হয়। ২০১৮ সালে নির্মাণকাজ শেষ হলে মার্কেটটি উপজেলা প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এরপর কেটে গেছে প্রায় আট বছর। কিন্তু এখনো দোকান বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। মার্কেট নির্মাণের সময় বাজারের ১৫ ব্যবসায়ীর দোকান ভেঙে ফেলা হয়েছিল। নতুন মার্কেটে তাঁদের দোকান দেওয়ার কথা থাকলেও দীর্ঘ অপেক্ষার পরও তাঁরা তা পাননি। চৌমুহনী বাজারের ব্যবসায়ী মোক্তার হোসেন বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দোকান বরাদ্দের উদ্যোগ নিয়ে তৎকালীন আওয়ামী লীগ নেতারা অনেকের কাছ থেকে টাকাও নিয়েছিল। কিন্তু দোকান বরাদ্দ হয়নি। এখনো হচ্ছে না। সরকারি সম্পদ পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে, আর আমরা ব্যবসা করতে না পেরে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরছি।’ চৌমুহনী বাজার কমিটির সভাপতি জাহিদুল করিম বলেন, ‘দোকান বরাদ্দের নামে কেউ টাকা নিয়েছে কিনা আমার জানা নেই। নানা কারণে বারবার উদ্যোগ নিয়েও মার্কেট চালু হয়নি। চেষ্টা চলমান আছে।’
দুই বছরেও বরাদ্দ হয়নি বাঁকড়ায়
উপজেলার ভায়ালক্ষ্ণীপুর ইউনিয়নের বাঁকড়া বাজারেও একই চিত্র। প্রায় ১ কোটি ৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ২০২৩ সালে মার্কেট নির্মাণ করা হয়। ২০২৪ সালের মে মাসে এলজিইডি মার্কেটটি উপজেলা প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করে। এরপর প্রায় দুই বছর পেরিয়ে গেলেও দোকান বরাদ্দ হয়নি। বাজারের পুরোনো ব্যবসায়ীদের অনেকের দোকান ভেঙেই নতুন মার্কেট নির্মাণ করা হয়েছে। কিন্তু নতুন মার্কেটে তাঁদের জায়গা না পাওয়ায় তাঁরা অনিশ্চয়তায় রয়েছেন। বাঁকড়া বাজারের ব্যবসায়ী বাচ্চু আলী বলেন, ‘আমার দুটি দোকান সেখানে ছিল। আমার মতো আরও অনেকের দোকান ভেঙে মার্কেট করা হয়েছে। কিন্তু এখন আর দোকান বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে না। দোকানের জন্য আবেদন করে রেখেছি। দিনের পর দিন ঘুরেও দোকান পাচ্ছি না।’ বাঁকড়া বাজার কমিটির সভাপতি শামীম রানা সুমন বলেন, ‘আমিও গত এক বছর ধরে দোকান বরাদ্দ করানোর জন্য ঘুরছি। ব্যবসায়ীরা বারবার আমার কাছে আসছেন। উপজেলা প্রশাসনকে বিষয়টি জানিয়েছি।’
দায়িত্ব প্রশাসনের, অপেক্ষায় ব্যবসায়ীরা
তিন বাজারের ব্যবসায়ীদের অভিযোগ ও দীর্ঘসূত্রতার বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী ফারুক হোসেন বলেন, ‘বাঁকড়া বাজারের মার্কেট বছরখানেক আগে এবং চৌমুহনী বাজারের মার্কেট পাঁচ বছরের বেশি সময় আগে উপজেলা প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। নন্দনগাছী মার্কেটও অল্প সময়ের মধ্যে হস্তান্তর করা হবে। দোকান বরাদ্দ দেওয়ার বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন তদারকি করে।’ চারঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, ‘নন্দনগাছী বাজারের মার্কেট বুঝে পেলে নিয়ম অনুযায়ী ঘর বরাদ্দ করা হবে। কারও অনিয়ম করার সুযোগ নেই। বাঁকড়া ও চৌমুহনী বাজারের মার্কেটও বরাদ্দ দেওয়ার কার্যক্রম শুরু করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ