০৫:৪২ পি.এম
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) বর্তমানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল এবং বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘাত, ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও উত্তেজনা সত্ত্বেও সরাসরি সংঘাতের কোনো ছবি দেখা যাচ্ছে না। বরং, উভয় সংগঠন ক্যাম্পাসে নিজেদের সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছিলেও সংঘাত এড়িয়ে অপেক্ষাকৃত কৌশলী অবস্থানে রয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে দেশের অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে, যেমন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা কলেজ, সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা প্রভৃতির মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটলেও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতি অনেকটাই ভিন্ন। যদিও ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্য রাজনৈতিক মতপার্থক্য রয়েছে, কিন্তু তা সরাসরি সংঘর্ষে রূপ নেয়নি। ক্যাম্পাস সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, উভয় সংগঠন নিজেদের সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে ক্যাম্পাসে নিজেদের অবস্থান জানানোর দিকে মনোযোগী।
এর আগে উভয় সংগঠন হল দখলের অভিযোগে একে অপরকে দোষারোপ করেছিল এবং এ নিয়ে মানববন্ধনও সম্পন্ন করেছে শাখা ছাত্রশিবির। যাইহোক, ছাত্রদল সরাসরি অভিযোগ অস্বীকার করেছে এবং বলেছে যে ছাত্রশিবির উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যাচার করছে।
আরও পড়ুন: সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে দূতাবাসকে অবহিত করেনি
কিছুদিন আগে প্রেমঘটিত একটি ঘটনা প্রক্টর অফিসে ঘটে, যেখানে রাকসু জিএস কর্তৃক এক শিক্ষার্থীকে প্রকাশ্যে মারধর করা হয়, এরপর রাকসু ভবনে হামলা এবং অভিযুক্তদের লাইব্রেরিতে ডুকে মারধরের ঘটনা ঘটে। এই সংঘর্ষের জন্য ছাত্রদল শিবিরকে দায়ী করে ক্যাম্পাসে বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করেছে।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্ররাজনীতির সাম্প্রতিক বাস্তবতায় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সাংগঠনিক যোগাযোগ, আবাসিক হল, বিভিন্ন ইস্যুতে কর্মসূচি এবং কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদকে ঘিরে রাজনৈতিক কার্যক্রম গুরুত্ব পাচ্ছে। উভয় সংগঠনই নিজেদের প্রভাব বজায় রাখতে চাইছে। তবে সরাসরি সংঘাত সংঘটিত হলে সাংগঠনিক ও রাজনৈতিকভাবে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে—এমন হিসাব থেকেই উভয় পক্ষ সতর্ক রয়েছে।
জানা গেছে, দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রদল-শিবির সংঘাতের ঘটনার পর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে বিষয়টি নিয়ে বাড়তি সতর্কতা তৈরি হয়েছে। রাবি ছাত্রদল এর আগে ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষের প্রতিবাদে কর্মসূচি পালন করেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, বাইরে সংঘাত ঘটলেও রাবিতে সেটির সরাসরি প্রতিফলন না ঘটানোর পার্থক্যে উভয় পক্ষ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের সংঘাতবিরোধী মনোভাব ও ক্যাম্পাসের স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখার চাপও সংগঠনগুলোর অবস্থানে প্রভাব ফেলছে।
শাখা ছাত্রদল সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলছেন, "ছাত্রদল একটি বিশাল ও ঐতিহ্যবাহী ছাত্রসংগঠন। এই সংগঠনের হাজার হাজার নেতাকর্মী বিভিন্ন সময়ে গুম, খুন, নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। ছাত্রদলকে অত্যন্ত দায়িত্বশীল আচরণ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হয়। আমরা চাই, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক।"
আরও পড়ুন: প্রাইম ইউনিভার্সিটির স্থায়ী ক্যাম্পাস সম্প্রসারণের জন্য জমি পরিদর্শন
অন্যদিকে, ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি মেহেদী হাসান জানিয়েছেন, "ক্যাম্পাসের গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখার জন্য বাংলাদেশ ইসলামি ছাত্রশিবির সবসময় কাজ করে যাচ্ছে। আমরা সংঘাতে জড়াতে চাইনা, তবে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে যা করা দরকার তাই করব।"
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, "ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে। আমরা উভয়পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি এবং আমাদের পুলিশ প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করবে।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন