ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

রাজশাহী নগরীর সাধুর মোড়ে পুকুর ভরাট করে ছয়তলা ভবন নির্মাণের অভিযোগ


রাজশাহী নগরীর সাধুর মোড়ে পুকুর ভরাট করে ছয়তলা ভবন নির্মাণের অভিযোগ
 রাজশাহী মহানগরীর টিকাপাড়া থেকে সাধুর মোড় হাজির বাড়ির এক ব্যাক্তি পুকুর ভরাট করে নকশা অনুমোদন ছাড়াই ছয়তলা ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ভবন নির্মাণকারীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (আরডিএ) অনুমোদিত কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন করেছেন মোঃ রায়হানুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি।
আবেদনে উল্লেখ করা হয়, রাজশাহী মহানগরীর বোয়ালিয়া থানার রামচন্দ্রপুর মৌজার আরএস ৯৭৭ নম্বর দাগে মোঃ বরকত আলী, পিতা মোঃ আব্দুর রউফ মণ্ডল, ঠিকানা—সাবুর মোড়, হাজী বাড়ি, জোড়ামারা, বোয়ালিয়া, রাজশাহী, একটি বহুতল ভবন নির্মাণ করেছেন।
আবেদনকারীর অভিযোগ, টিকাপাড়া থেকে সাবুর মোড় যাওয়ার সড়কের পাশে অবস্থিত পুকুরের জমি দখল করে ভবনটি নির্মাণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে অনুমোদিত নকশা ও ইমারত নির্মাণ বিধিমালা অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। তাঁর দাবি, পর্যাপ্ত সড়ক সুবিধা না থাকা সত্ত্বেও ছয়তলা ভবন নির্মাণের ফলে পরিবেশের ভারসাম্য ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
লিখিত আবেদনে আরও বলা হয়, অভিযোগ করা ভবনের পাশে আবেদনকারীর ভবন রয়েছে। পুকুরের জমি দখল, ভবন নির্মাণের নিয়মকানুন এবং পরিবেশগত প্রভাবের বিষয়গুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, ভবন মালিক মোঃ বরকত আলী একজন প্রবাসি। তিনি দেশের বাইরে অবস্থান করছে। তার মা-এর সাথে মুঠো ফোনে ফোন দিলে তিনি ফোন রিসিভ করেন নি। ফলে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, নির্মিত ভবনটির জমির অর্ধেকের বেশি পুকুর ভরাট করা। আর ওই ভবনটিতে যাওয়ার রাস্তা ড্রেন সহ ৮ফিট। যাহা বহুতল ভবনের রাস্তার জন্য যথেষ্ট কম। আরডিএর আইন আনুযায়ী  বহুতল ভবনের রাস্তা ১৫ফিট থাকতে হবে বলে জানা গেছে।  
এ বিষয়ে রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অথরাইজড অফিসার আব্দুল্লাল আল তারেক জানান, অভিযোগটি তদন্ত করে ভবন নির্মাণে কোনো অনিয়ম হয়ে থাকলে প্রচলিত আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।#
 

--

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় আনসার-ভিডিপির তৎপরতা, মহাপরিচালকের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:৫৪ পি.এম


দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় আনসার-ভিডিপির তৎপরতা, মহাপরিচালকের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন

হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের দুর্গাপূজার নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করার উদ্দেশ্যে এবং দায়িত্ব পালনরত সদস্যদের কার্যক্রম তদারক করতে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ রাজধানীর ফার্মগেটের কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন।

তিনি সোমবার বিকেলে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন। এ সময় উপস্থিত সবাইকে শুভেচ্ছা জানান এবং শুভেচ্ছা উপহার দেন। পূজা উদযাপন কমিটির পক্ষ থেকে তাঁকে উত্তরীয় পরিয়ে স্বাগত জানানো হয়।

পরিদর্শনের সময় মহাপরিচালক পূজামণ্ডপের সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি, দায়িত্ব পালনরত আনসার-ভিডিপি সদস্যদের কার্যক্রম এবং পূজা উদযাপন কমিটির সঙ্গে সমন্বিত নিরাপত্তাব্যবস্থা পর্যালোচনা করেন।

মহাপরিচালক বলেন, দুর্গাপূজার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আনসার-ভিডিপি সদস্যরা সরাসরি ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করছেন। পূজা উদযাপন কমিটি ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে পূজামণ্ডপকেন্দ্রিক যেকোনো বিশৃঙ্খলা ও সমস্যা তাৎক্ষণিকভাবে সমাধান করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, এবারের পূজায় পূজামণ্ডপগুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরার ব্যবহার বৃদ্ধি এবং ‘শারদীয় সুরক্ষা অ্যাপস’-এর মাধ্যমে সমন্বিত ও তাৎক্ষণিক সাড়াদান কার্যক্রম সার্বিক নিরাপত্তাব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করেছে।

মহাপরিচালক আরও উল্লেখ করেন, ব্যক্তিগত উদ্যোগে নিজস্ব প্রাঙ্গণে আয়োজিত পূজামণ্ডপগুলোও আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর নিজস্ব মনিটরিং টিমের নিবিড় তদারকির আওতায় রয়েছে। এর মাধ্যমে সব পর্যায়ের পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর ভূমিকা রাখা হচ্ছে।

দায়িত্ব পালনরত সদস্যদের পেশাদারিত্ব, শৃঙ্খলা ও সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ বজায় রাখার নির্দেশনা দেন মহাপরিচালক। তিনি উল্লেখ করেন, কোনো ধরনের উসকানি, গুজব বা অপপ্রচারের মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির সুযোগ দেওয়া হবে না। অনাকাঙ্ক্ষিত যেকোনো ঘটনায় দ্রুত ও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

নিরাপত্তার পাশাপাশি মানবিক সেবায়ও আনসার-ভিডিপি সদস্যরা ভূমিকা রাখছেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। পূজামণ্ডপে হারিয়ে যাওয়া শিশুদের উদ্ধার করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া, বয়স্ক দর্শনার্থীদের সহযোগিতা, শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং বিভিন্ন ধরনের বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধে তাঁরা সক্রিয় রয়েছেন।

এছাড়া কিশোর গ্যাংয়ের অপতৎপরতা, নারী উত্ত্যক্তকারীদের প্রতিহত করা এবং সন্দেহজনক ব্যক্তিদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণসহ সম্ভাব্য নিরাপত্তাঝুঁকি মোকাবিলায় দায়িত্ব পালন করছেন বাহিনীর সদস্যরা।

ধর্মীয় সম্প্রীতি, জননিরাপত্তা ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ইস্পাতনগরীতে সাধারণ মানুষ জীবন চালাতে হিমশিম খাচ্ছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:৫৫ পি.এম


যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ইস্পাতনগরীতে সাধারণ মানুষ জীবন চালাতে হিমশিম খাচ্ছে

ঢাকা, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬ : যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত ইস্পাতশিল্প শহর বেথলেহেমে বর্তমানে শ্রমিকেরা অবসরপ্রাপ্ত অবস্থায় বিশাল মরিচাধরা চুল্লির পাশে পরিবার নিয়ে সময় কাটাচ্ছেন।

পেনসিলভানিয়ার এই শহরের বিশাল ইস্পাত কারখানাটি ১৯৯০-এর দশকে বন্ধ হয়ে যায়। তবে সম্প্রতি শিল্পাঞ্চলের একটি অংশ পুনর্গঠনের পর সেখানে অনুষ্ঠিত অক্টোবরফেস্টে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। বাভারীয় পোশাকে সজ্জিত মানুষ, বড় বড় বিয়ারের মগ এবং আমেরিকান ফুটবল দেখানোর বিশাল পর্দায় উৎসবমুখর হয়ে ওঠে এলাকা।

উৎসবে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থকেরাও ছিলেন। নানা হতাশার মধ্যেও তারা এখনও তার রিপাবলিকান পার্টির প্রতি সমর্থন বজায় রেখেছেন।

নেভ হ্যাম নামের একজন ব্যক্তি বাণিজ্যিক ভবনের ছাদ নির্মাণের কাজে নিয়োজিত আছেন। ৬২ বছর বয়সী এই ব্যক্তি স্মরণ করেন, ১৯৮০-এর দশকে যখন ইস্পাত কারখানাটি চালু ছিল, তখন তিনি এর ‘ঠিক পেছনেই’ বসবাস করতেন।

তিনি এএফপিকে বলেন, ‘সময়টা ভালো ছিল, কিন্তু এখানে সবকিছু গণ্ডগোল করে ফেলা হয়েছে। তারা সবকিছু দিয়ে দিয়েছে।’

তবে ট্রাম্পের সংরক্ষণবাদী বাণিজ্যনীতির কারণে যুক্তরাষ্ট্রে শিল্প আবারও ‘ফিরে আসছে’ বলে বিশ্বাস করেন হ্যাম।

তিনি বলেন, ‘ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ হলেই পরিস্থিতি আরও ভালো হবে।’ ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে শুরু হওয়া ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল যুদ্ধের কথা উল্লেখ করে তিনি এই মন্তব্য করেন।

বেথলেহেম যুক্তরাষ্ট্রের ভারী শিল্পের শক্তিশালী ঘাঁটি লেহাই ভ্যালির কেন্দ্রে অবস্থিত। বর্তমানে এই অঞ্চলে শ্রমিকেরা সরবরাহ ও পণ্য পরিবহন, খাদ্য উৎপাদন, বিশেষ করে পোষা প্রাণীর খাবার তৈরি, এবং ক্রমবর্ধমান ওষুধশিল্পে কাজের সুযোগ পাচ্ছেন। শিগগিরই এখানে ওজন কমানোর ওষুধ তৈরির একটি কারখানা চালু হওয়ার কথা রয়েছে।

৪০ বছর বয়সী বেথ পিনিয়েলা মনে করেন, তার পরিবারের অবস্থা মোটামুটি ভালো।

তিনি প্যাকেজিং ও ব্যবসায়িক সরঞ্জাম সরবরাহকারী একটি প্রতিষ্ঠানের গুদাম পরিষ্কারের কাজ করেন। এএফপিকে তিনি জানান, ‘আমি মোটামুটি ভালো আয় করি।’

ট্রাম্পকে ভোট দেওয়া পিনিয়েলা তার বিষয়ে বলেন, ‘কিছু বিষয়ে আমার মনে হয়, ফলাফল কখনো ভালো, কখনো খারাপ।’

কাছেই থাকা তার স্বামী ব্রায়ান জানান, তিনি ‘কিছুটা হতাশ’।

তিনি বলেন, ‘আমি ভেবেছিলাম, জিনিসপত্রের দাম কমবে।’

‘আটকে আছি’

তারা যে নির্বাচনী এলাকায় বসবাস করেন, সেখানে আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

২০২৪ সালের নির্বাচনে রিপাবলিকান দলের বর্তমান প্রতিনিধি রায়ান ম্যাকেঞ্জি অল্প ব্যবধানে জয়ী হয়েছিলেন। এবার তার ডেমোক্র্যাট প্রতিদ্বন্দ্বী সাবেক অগ্নিনির্বাপণকর্মী ও রাজনীতিতে নতুন মুখ বব ব্রুকস। তিনি নিজেকে শ্রমজীবী মানুষের কণ্ঠস্বর হিসেবে তুলে ধরছেন।

তবে হেনরি মার্টিনের মতো কিছু ভোটার এবার পুরোপুরি ভোট এড়িয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের প্রতি তারা হতাশ।

৩২ বছর বয়সী গুদাম ব্যবস্থাপক মার্টিন বলেন, ‘তারা বিলাসী জীবন কাটাচ্ছে। আমার মতো সাধারণ মানুষের অবস্থা একেবারেই ভালো নয়।’

বাড়িভাড়া ও বাড়ির দামের মধ্যে পড়ে নিজেকে ‘আটকে থাকা’ অবস্থায় অনুভব করেন তিনি। তার ভাষায়, বাড়িভাড়া ‘অসহনীয়’ এবং বাড়ি কেনার দাম ‘কল্পনারও বাইরে’।

কাছের অ্যালেনটাউন শহরে একটি বিজ্ঞাপনফলকে চালকদের ব্রুকসকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

ফলকটির ঠিক নিচে একটি টায়ারের দোকানে কাজ করেন রামোনা চেরি। তিনি জানান, শহরটির বৃহৎ লাতিনো জনগোষ্ঠী ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসননীতি ও মূল্যস্ফীতির কারণে চাপে পড়েছে।

২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লাতিনো ভোটারদের সমর্থন বৃদ্ধি ট্রাম্পকে আবার হোয়াইট হাউসে ফিরতে সহায়তা করেছিল।

তবে চেরি বলেন, ‘আগের চেয়ে দারিদ্র্য বেড়েছে।’

‘এবার যথেষ্ট হয়েছে’

স্থানীয় ইউনাইটেড অটো ওয়ার্কার্স শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মাইক শাপ জানান, ‘আমি চাইতাম, উৎপাদনশিল্পে বড় ধরনের উত্থান ঘটুক। কিন্তু বাস্তবে তেমন কিছু দেখছি না।’

অ্যালেনটাউনে নিজের কার্যালয়ে এই শ্রমিকনেতা স্মরণ করেন, একসময় এ অঞ্চলজুড়ে অসংখ্য উৎপাদন কারখানা ছিল।

তিনি আশঙ্কা করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাক নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ম্যাক দেশটিতে উৎপাদন কমিয়ে আরও বেশি কর্মসংস্থান মেক্সিকোয় সরিয়ে নিতে পারে।

প্রায় ২০ মিনিটের গাড়িপথ দূরত্বে অবস্থিত অঞ্চলটির সর্বশেষ চালু ম্যাক কারখানায় প্রায় ২ হাজার ৮০০ কর্মী কাজ করেন।

২০২৫ সালের এপ্রিলে প্রতিষ্ঠানটি ওই কারখানায় সর্বোচ্চ ৩৫০ জন কর্মী ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছিল। ট্রাম্পের শুল্কনীতিও এর অন্যতম কারণ ছিল। শেষ পর্যন্ত প্রায় ১৭০ জন কর্মীকে ছাঁটাই করা হয়। পরে ব্যবসায়িক পরিস্থিতির উন্নতি হলে তাঁদের আবার কাজে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। জুনে ট্রাম্প নিজেও কারখানাটি পরিদর্শন করে তাঁর নীতির সাফল্যের কথা তুলে ধরেন।

ভারী ট্রাকের চূড়ান্ত নির্মাণ ও ফিনিশিংয়ের কাজ করেন ৫২ বছর বয়সী শন স্মিথ। তিনি জানান, ‘ওই বিষয়টির সঙ্গে জড়িত হওয়ার কোনো আগ্রহ আমার ছিল না।’

শ্রমিক ইউনিয়নের প্রতিনিধি স্মিথ ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ব্রুকসকে সমর্থন করেন। তবে তিনি বলেন, কারখানায় শ্রমিকেরা ‘রাজনীতি নিয়ে কথা বলেন না’, কারণ এতে ‘শুধু তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়’।

তবে স্মিথ মনে করেন, পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা বাড়ছে।

তিনি বলেন, ‘দূরত্বটা যথেষ্ট বেড়েছে। যথেষ্টসংখ্যক স্বতন্ত্র ও রিপাবলিকান ভোটার আছেন, যাঁরা বলবেন, এবার যথেষ্ট হয়েছে, তারা কিছুটা পরিবর্তন চান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সহিংসতা ও নিরাপত্তা শঙ্কায় পাকিস্তানের ইরানের সঙ্গে সীমান্ত বাণিজ্য স্থগিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:৫৫ পি.এম


সহিংসতা ও নিরাপত্তা শঙ্কায় পাকিস্তানের ইরানের সঙ্গে সীমান্ত বাণিজ্য স্থগিত

পাকিস্তান, সীমান্তের উভয় পাশে চলমান সহিংসতা, নিরাপত্তা শঙ্কা এবং চোরাচালান রোধের উদ্দেশ্যে ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে। বিশেষ করে বেলুচিস্তান প্রদেশের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ তাফতান (Taftan) এবং গাব্দ-রিমদান (Gabd-Rimdan) সীমান্ত ক্রসিংয়ে এই স্থগিতাদেশ কার্যকর করা হয়েছে।

আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই আকস্মিক পদক্ষেপের ফলে দুই দেশের সীমান্তজুড়ে শত শত পণ্যবাহী ট্রাক আটকা পড়েছে। কোয়েটা চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (QCCI)-এর তথ্য অনুসারে, সীমান্ত দুটির দুই প্রান্তে প্রায় ২ হাজার ট্রাক আটকা পড়ে আছে, যার মধ্যে এলপিজি, চাল এবং তাজা ফলমূলের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় ও রফতানি পণ্যবাহী কনটেইনার রয়েছে। এই পরিস্থিতির কারণে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও আমদানিকারকরা চরম আর্থিক লোকসানের সম্মুখীন হয়েছেন।

ইসলামাবাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, সীমান্ত এলাকার সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি উন্নত করা এবং প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতেই এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, তেহরানের পক্ষ থেকে এটিকে ‘প্রযুক্তিগত সমস্যা’ হিসেবে উল্লেখ করা হলেও উভয় দেশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে এবং দ্রুত সীমান্ত পুনরায় চালুর বিষয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন।

যদিও সাধারণ যাত্রী পারাপার সীমিত পরিসরে চালু রয়েছে, তবে বাণিজ্যিক পণ্য পরিবহন পুরোপুরি বন্ধ থাকায় আঞ্চলিক অর্থনীতিতে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। সূত্র: আল জাজিরা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভারতে রাজনৈতিক পরিবারের উত্তরসূরি এবার সুদিনের অপেক্ষায়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:৫৬ পি.এম


ভারতে রাজনৈতিক পরিবারের উত্তরসূরি এবার সুদিনের অপেক্ষায়

ভারতের রাজনীতিতে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী দীর্ঘদিন ধরে নিজের রাজনৈতিক অবস্থানকে সুসংহত করার জন্য চেষ্টা করে যাচ্ছেন। তবে তরুণ প্রজন্মের আন্দোলন, শিক্ষাব্যবস্থায় অনিয়ম এবং ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার ঘটনার প্রেক্ষিতে সাম্প্রতিক অসন্তোষ তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন সরকারের বিরুদ্ধে রাজপথের আন্দোলনে সমর্থন জানিয়ে তিনি তরুণদের কাছে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরছেন।

রাহুল গান্ধী ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর প্রপৌত্র এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর নাতি। তার বাবা রাজীব গান্ধীও ভারতের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। পারিবারিক রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরে নিজের স্বতন্ত্র অবস্থান প্রতিষ্ঠা করতে রাহুলকে দীর্ঘদিন নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়েছে। তবে ৫৬ বছর বয়সে এসে মোদির কঠোর নেতৃত্বকেন্দ্রিক রাজনীতির বিপরীতে দাঁড়িয়ে নতুন করে নিজের রাজনৈতিক পরিসর তৈরির চেষ্টা করছেন তিনি।

রাহুলের বক্তব্য, "ভারতের নাগরিকদের অধিকার ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে।" কলেজে ভর্তির পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় পরীক্ষা বাতিল এবং পরবর্তী ছাত্র আন্দোলনের সময় তার এই বক্তব্য গুরুত্ব পায়। ওই পরিস্থিতিতে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের ঘটনাও সামনে আসে। এর কিছু সপ্তাহ পর ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়াকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে ক্ষোভ তৈরি হলে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে তার সমালোচনা নতুন করে আলোচনায় আসে।

লেখক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক নীরজা চৌধুরী মন্তব্য করেন, সরকারের প্রতি মানুষের অসন্তোষ এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন উদ্দীপনার অভাব রাহুলের বক্তব্যকে আরও গ্রহণযোগ্য করে তুলছে। তার ভাষায়, এসব কারণে রাহুল এখন আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়েছেন।

তবে প্রশ্ন উঠছে, এই পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে তিনি কংগ্রেসকে ২০২৯ সালের সাধারণ নির্বাচনে জয়ের পথে নিতে পারবেন কি না। এর মধ্য দিয়ে বিজেপির দীর্ঘদিনের ক্ষমতাও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।

রাহুল গান্ধীর রাজনৈতিক পথচলা সহজ ছিল না। এক দশকের বেশি সময় ধরে তার দল কংগ্রেস নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন হিন্দু জাতীয়তাবাদী বিজেপির কাছে একের পর এক নির্বাচনে পরাজিত হয়েছে। একসময় তার বাবা রাজীব গান্ধীর দখলে থাকা আসনেও হেরে যান রাহুল। তার মা সোনিয়া গান্ধীও দীর্ঘদিন কংগ্রেসের নেতৃত্ব দিয়েছেন।

২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে রাজনৈতিক ভাবমূর্তি বদলাতে দেশজুড়ে দীর্ঘ পদযাত্রা শুরু করেন রাহুল। ‘ভারত জোড়ো যাত্রা’ নামের ওই কর্মসূচিতে তিনি প্রায় ২ হাজার ৫০০ মাইল পথ পাড়ি দেন। ১৩৬ দিন ধরে চলা এই যাত্রার অন্যতম লক্ষ্য ছিল তাকে অভিজাত ও সাধারণ মানুষের জীবন থেকে বিচ্ছিন্ন নেতা হিসেবে দেখার ধারণা বদলে দেওয়া।

২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে কংগ্রেসের আসনসংখ্যা বাড়ে এবং বিজেপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারায়। ফলে জোটের ওপর নির্ভর করে সরকার গঠন করতে হয় দলটিকে। ওই নির্বাচনের পর বিরোধীদলীয় নেতার দায়িত্ব পান রাহুল।

এরপরও নির্বাচনি প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে তিনি বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনের সমালোচনা অব্যাহত রাখেন। মহারাষ্ট্রের বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকায় কারসাজি করা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি। বিহারের নির্বাচন নিয়েও একই ধরনের অভিযোগ তোলেন।

এক বছর আগে শুরু হওয়া ভোটার তালিকা সংশোধন কার্যক্রমে প্রায় ১৩ কোটি নাম বাদ পড়ার বিষয়টিও সামনে আনেন রাহুল। তার অভিযোগ, এই প্রক্রিয়া ক্ষমতাসীনদের রাজনৈতিক সুবিধা দিয়েছে। তবে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, নাম বাদ দেওয়ার পেছনে কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল না। সমালোচকদের দাবি, এই প্রক্রিয়ায় মুসলিমসহ বিজেপিবিরোধী বলে বিবেচিত বিভিন্ন গোষ্ঠীর ভোটাররা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

গত সপ্তাহে চেন্নাইয়ের এক জনসভায় রাহুল বলেন, "প্রধানমন্ত্রী মোদি বুঝতে পারছেন না যে তার রাজনৈতিক খেলার সময় শেষ হয়ে আসছে।" তবে ক্ষমতাসীন বিজেপির নেতারা তার বক্তব্যকে অতিরঞ্জিত বলে দাবি করেছেন। তাদের মতে, তরুণদের একাংশের মধ্যে জনপ্রিয়তা পেলেও এ ধরনের অবস্থান অন্য ভোটারদের দূরে সরিয়ে দিতে পারে।

ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেছেন, কংগ্রেস বড় ধরনের পরাজয়ের দিকে এগোচ্ছে। তার দাবি, নেতিবাচক রাজনীতি দলটির কোনো উপকারে আসবে না।

তরুণদের অভিজ্ঞতা সামনে আনছেন রাহুল

চেন্নাইয়ের জনসভায় তরুণদের মঞ্চে ডেকে তাদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরার সুযোগ দেন রাহুল। ‘ছাত্রোঁ কি গুঞ্জ’ বা ‘তরুণদের কণ্ঠস্বর’ নামের একটি প্রচারণার অংশ ছিল এই আয়োজন। রাজনৈতিক জবাবদিহি, শিক্ষাব্যবস্থার সংকট ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে তরুণদের অসন্তোষ সামনে আনতেই গত জুনে কর্মসূচিটি শুরু করেন তিনি।

সভায় এক তরুণী তার বোনের আত্মহত্যার কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, তার বোন মেডিকেল কলেজে ভর্তির কঠিন পরীক্ষার চাপের মধ্যে আত্মহত্যা করেছিলেন। আরেক বক্তা মুসলিম ও নারী হিসেবে বৈষম্যের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।

রাহুলের ‘পিতৃতন্ত্র ধ্বংস করো’ স্লোগানটি সভায় উপস্থিত ১৮ বছর বয়সী রাষ্ট্রবিজ্ঞানের শিক্ষার্থী ঋতিকা র‍্যাচেল প্রবীণের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। তার মতে, ভারতের মতো দেশে পিতৃতন্ত্র ভেঙে দেওয়ার কথা কোনো রাজনৈতিক নেতার মুখে শোনা ছিল নতুন ও উৎসাহব্যঞ্জক অভিজ্ঞতা।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক যোগেন্দ্র যাদব, যিনি ২০০৭ সাল থেকে রাহুলকে চেনেন এবং তার সঙ্গে বিভিন্ন প্রচারণায় কাজ করেছেন, তাকে বই ও নতুন ধারণার প্রতি আগ্রহী একজন মানুষ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তবে তার মতে, রাহুল কিছুটা লাজুক এবং সহজাত বক্তা নন। ফলে জনসমক্ষে বক্তব্য দেওয়ার সময় তাকে অনেক ক্ষেত্রে অস্বস্তিতে পড়তে দেখা যায়।

এই সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সক্রিয় হয়েছেন কংগ্রেস নেতা। সংক্ষিপ্ত ভিডিওতে হাস্যরসের পাশাপাশি রাজনৈতিক বক্তব্য তুলে ধরছেন তিনি। সাধারণ পোশাকের পাশাপাশি ফিটনেস ও ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে বিভিন্ন পোস্টের মাধ্যমে নিজের আরেকটি দিকও সামনে আনছেন।

আগস্টে ইনস্টাগ্রামের ‘আস্ক মি এনিথিং’ পর্বে নিজের শরীরচর্চার রুটিন সম্পর্কে জানান রাহুল। মার্শাল আর্ট, সাঁতার, দৌড়, শক্তিবর্ধক ব্যায়াম ও যোগব্যায়ামের পাশাপাশি উচ্চ প্রোটিন ও কম শর্করাযুক্ত খাবার গ্রহণের কথা উল্লেখ করেন তিনি।

রাজপথের প্রতিবাদে তার অংশগ্রহণের ছবিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। জুলাইয়ে বোন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্রাকে সঙ্গে নিয়ে মোদির সরকারি বাসভবনের বাইরে অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেন তিনি। সে সময় পুলিশ তাকে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যাচ্ছে—এমন ছবি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। চলতি মাসেও পুলিশের বাধার মুখে তার প্রতিরোধ এবং ব্যারিকেডের ওপর উঠে পড়ার দৃশ্য আলোচনায় আসে।

ব্রাউন ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ও দক্ষিণ এশীয় রাজনীতির বিশ্লেষক আশুতোষ ভার্শনির মতে, এসব দৃশ্য রাহুলকে মোদি ও বিজেপির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরতে সহায়তা করেছে। তবে এর মাধ্যমে মোদিকে ক্ষমতা থেকে সরানো সম্ভব হবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয় বলে মনে করেন তিনি।

ধর্মনিরপেক্ষ রাজনীতির বার্তা নিয়ে এগোচ্ছেন রাহুল।

তরুণদের সমর্থন বাড়ানোর পাশাপাশি বিজেপির হিন্দু জাতীয়তাবাদী রাজনীতির বিপরীতে নিজেকে ধর্মনিরপেক্ষ আদর্শের প্রতিনিধি হিসেবে তুলে ধরছেন রাহুল। প্রতিবাদ কর্মসূচিতে ভারতের সংবিধানের একটি কপি হাতে নিয়ে হাজির হওয়ার ঘটনাও তার রাজনৈতিক অবস্থানের অংশ হয়ে উঠেছে।

তিনি কংগ্রেসের স্বাধীনতাসংগ্রামের ঐতিহ্য সামনে এনে ভারতের সংবিধানে থাকা গণতান্ত্রিক ও ধর্মনিরপেক্ষ মূল্যবোধ রক্ষার কথা বলছেন। একই সঙ্গে বিরোধী জোটের দলগুলোকে নিজেদের মতপার্থক্য পাশে রেখে বিজেপির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন।

নীরজা চৌধুরীর মতে, রাহুল এখন শুধু বিরোধী দলের নেতা নন; মোদির রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবেও তাকে দেখা হচ্ছে। তার ভাষায়, ভারতের রাজনীতিতে লড়াইটি ক্রমেই ‘মোদি বনাম রাহুল’ রূপ নিচ্ছে।

বিরোধী জোটের শরিক একটি দলের নেতা দীপঙ্কর ভট্টাচার্যও মনে করেন, বিজেপিকে চ্যালেঞ্জ জানানোর ক্ষেত্রে কংগ্রেসের জাতীয় পর্যায়ের উপস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ। তার মতে, বিজেপি এমনভাবে রাজনৈতিক পরিসর বিস্তৃত করেছে যে পুরো ব্যবস্থার ওপরই দলটির প্রভাব তৈরি হয়েছে।

রাহুলের বক্তব্য, ভারতের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও পরিচয়ের ওপর হুমকি তৈরি হয়েছে। গত সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, "জনমত, মনস্তাত্ত্বিক লড়াই, আইনি প্রক্রিয়া ও রাজনৈতিক অঙ্গন—বিভিন্ন ক্ষেত্রে এই সংঘাত চলছে।" তার দাবি, কংগ্রেস এসব ক্ষেত্রেই লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে এবং অগ্রগতি অর্জন করছে।

তরুণদের অসন্তোষকে রাজনৈতিক কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত করে রাহুল কতটা সাংগঠনিক শক্তি গড়ে তুলতে পারবেন, তা সময়ই বলে দেবে। তবে তার সাম্প্রতিক তৎপরতায় স্পষ্ট, মোদিবিরোধী রাজনীতিতে নতুন প্রজন্মকে যুক্ত করাকে তিনি এখন বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫১
মাগরিব ০৫:২৮
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%