ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

দেশ মাফিয়া রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে: নাহিদ ইসলাম


দেশ মাফিয়া রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে: নাহিদ ইসলাম

জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম মন্তব্য করেছেন যে, "দেশ মাফিয়া রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে।" তিনি বলেছেন, বর্তমান সরকারের সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণরূপে ভেঙে পড়েছে এবং বিচারব্যবস্থা এখন ক্ষমতাসীনদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

বুধবার ঢাকা বিভাগের দক্ষিণ অঞ্চলের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে দলের মতবিনিময় সভার শুরুতে গণমাধ্যমকর্মীদের ব্রিফিংয়ে এনসিপির পক্ষ থেকে এসব কথা বলেন নাহিদ ইসলাম।

নাহিদ ইসলাম বলেন, "আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কতটা খারাপ হলে নিজের দলের লোককে নিজেরা হত্যা করছে?" এর বিচার হবে কি না, সেটাই তার কাছে বড় প্রশ্ন। তিনি উল্লেখ করেন যে, বিচারব্যবস্থার সংস্কার না হওয়ায় তা এখনো ক্ষমতাসীনদের হাতে কুক্ষিগত রয়েছে। সারা দেশে বিএনপির ছত্রছায়ায় তাদের ক্যাডার বাহিনী দলীয় লোকজনকে হত্যা করছে এবং সাধারণ মানুষের ওপর নির্যাতন-নিপীড়ন চালাচ্ছে।

আরও পড়ুন: যুবদল নেতাকে হত্যার হুমকির অভিযোগ বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে

সরকারকে সতর্ক করে তিনি বলেন, "যদি আমরা এই সরকারকে ছাড় দিয়ে দিই, তবে এমনও হতে পারে যে আমাদের আরেকটি ফ্যাসিবাদ মোকাবিলা করতে হবে।" তিনি আরও বলেন, "আমরা চাই না যে ১৪০০ মানুষের রক্ত ও জীবন দিয়ে আরেকটি ফ্যাসিবাদ উৎখাত করতে হোক।"

মাফিয়া রাষ্ট্র ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, "আমরা চেয়েছিলাম আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিরপেক্ষ ও শক্তিশালী অবস্থান।" কিন্তু তিনি দেখতে পান যে, আইজিপি ক্রসফায়ার নিয়ে কথা বলছেন এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সম্পূর্ণভাবে নেতৃত্ব দিতে ব্যর্থ হয়েছেন। দেশের যেসব মাদকের স্পট নির্ধারিত হয়েছে, সেগুলোর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। বাংলাদেশ আসলে একটি মাফিয়া রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। একদিকে সন্ত্রাসীদের হাতে অস্ত্র, অন্যদিকে মন্ত্রীদের হাতেও অস্ত্র।

মাদক নিয়ন্ত্রণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকার মাদকের গডফাদার বা সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করছে না। এমনকি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নিজের এলাকা কক্সবাজার থেকেই সবচেয়ে বেশি মাদক চোরাচালান হয়, অথচ তিনি তা বন্ধ করতে পারছেন না।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, "স্থানীয় সরকার নির্বাচন শান্তিপূর্ণ হবে—এখন পর্যন্ত আমাদের তা মনে হচ্ছে না।" সরকারি দলের কোন্দলে বহু মানুষ হতাহত হয়েছে। এছাড়া নির্বাচন কমিশন ও পুলিশ প্রশাসনও দলীয়করণ হচ্ছে। এই অবস্থায় স্থানীয় সরকার নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে করা সম্ভব নয়।

আরও পড়ুন: এমপি আব্দুল আজিজের আপত্তিকর ভিডিও ভাইরাল, ক্ষোভ বৃদ্ধি

মতবিনিময় সভায় এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব ও রাজনৈতিক পর্ষদ সদস্য সারজিস আলম, রাজনৈতিক পর্ষদ সদস্য আরিফুল ইসলাম আদীবসহ ফরিদপুর, মাদারীপুর, শরীয়তপুর, গোপালগঞ্জ ও রাজবাড়ী জেলার শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রেমিট্যান্স প্রবাহ বছরে ১৩.৩% বেড়ে ২৫৪ কোটি ৩০ লাখ ডলারে পৌঁছেছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:০৪ পি.এম


রেমিট্যান্স প্রবাহ বছরে ১৩.৩% বেড়ে ২৫৪ কোটি ৩০ লাখ ডলারে পৌঁছেছে

চলতি অক্টোবর মাসের প্রথম ২৭ দিনে দেশে রেমিট্যান্সের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৫৪ কোটি ৩০ লাখ মার্কিন ডলার। গত বছরের একই সময়ে রেমিট্যান্সের পরিমাণ ছিল ২২৪ কোটি ৪০ লাখ ডলার। এই হিসাবে দেখা যাচ্ছে, বছর ব্যবধানে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে ১৩ দশমিক ৩ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২৭ অক্টোবর একদিনেই দেশে ৯ কোটি ১০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে।

এদিকে, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জুলাই থেকে ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত দেশে মোট এক হাজার ১১৩ কোটি ৪০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ৯৮৩ কোটি ডলার।

ফলে অর্থবছরের প্রথম ৪ মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৩ দশমিক ৩ শতাংশ।

বিশ্লেষকদের মতে, রেমিট্যান্সের এই ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ ও রিজার্ভের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এনসিপির কমিটিতে ৩০ বছরের নিচে কাউকে রাখা হবে না

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:০৪ পি.এম


এনসিপির কমিটিতে ৩০ বছরের নিচে কাউকে রাখা হবে না

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে আহ্বায়ক কমিটি গঠন এবং ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থীদের তালিকা দেওয়ার জন্য তৃণমূল পর্যায়ে নির্দেশনা প্রদান করেছে। কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে আহ্বায়কের ন্যূনতম বয়স ৩৫ বছর এবং সদস্যসচিবের বয়স ৩০ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে। তাছাড়া, ৩০ বছরের কম বয়সী কাউকে দলের জেলা থেকে ওয়ার্ড পর্যায়ের কোনো কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা যাবে না বলে জানানো হয়েছে।

বুধবার এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব ও সাংগঠনিক উপকমিটির প্রধান সারজিস আলমের স্বাক্ষরিত একটি চিঠিতে এই নির্দেশনা প্রদান করা হয়।

নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে, জেলা কমিটির তত্ত্বাবধানে উপজেলা কমিটির নেতৃত্বে ইউনিয়ন আহ্বায়ক কমিটি গঠন করতে হবে। কমিটিতে প্রতিটি ওয়ার্ড থেকে সমতার ভিত্তিতে সদস্য নেওয়া হবে। পাশাপাশি, নারী, ভিন্ন ধর্মাবলম্বী, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব জনসংখ্যার অনুপাতে নিশ্চিত করার চেষ্টা করতে হবে।

৩১ থেকে ৫১ সদস্যের কমিটিকে পূর্ণাঙ্গ হিসেবে গণ্য করা হবে। ৩১ জনের কম সদস্য থাকলে তা আংশিক কমিটি হিসেবে প্রকাশ করতে হবে। তবে আংশিক কমিটিতে অন্তত ১১ জন সদস্য থাকতে হবে। এ ধরনের কমিটি ঘোষণার ১৫ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি প্রকাশ করার নির্দেশ রয়েছে।

এনসিপির নির্দেশনায় বলা হয়েছে, আহ্বায়ক হওয়ার ন্যূনতম বয়স ৩৫ বছর। তবে ৪০ বছর বা তার বেশি বয়সীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। অন্যদিকে, সদস্যসচিবের ন্যূনতম বয়স হতে হবে ৩০ বছর।

দলের জেলা থেকে ওয়ার্ড পর্যায়ের কোনো কমিটিতে নিয়মিত শিক্ষার্থীদের (রানিং স্টুডেন্ট) রাখা যাবে না; তারা ছাত্রশক্তিতে কাজ করবেন। তবে ৩০ বছরের কম বয়সী কিন্তু নিয়মিত শিক্ষার্থী নন—এমন ব্যক্তিদের যুবশক্তি, স্বেচ্ছাসেবক শক্তি বা দলের অন্য অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয়ভাবে পরিচিত, মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য, সৎ, দেশপ্রেমিক, সচ্ছল ও সুশিক্ষিত ব্যক্তিদের নেতৃত্বের অগ্রাধিকার দিতে বলা হয়েছে।

নির্দেশনায় দলের বিভিন্ন পর্যায়ের পূর্ণাঙ্গ কমিটির সদস্যসংখ্যাও নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। মহানগর ও জেলা কমিটি হবে ১০১ সদস্যের; উপজেলা, পৌরসভা ও থানা কমিটি হবে ৭১ সদস্যের; ইউনিয়ন কমিটি হবে ৫১ সদস্যের এবং ওয়ার্ড কমিটি হবে ৩১ সদস্যের।

চেয়ারম্যান প্রার্থীর তালিকা তিন ধাপে

এনসিপি আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থীর তালিকা পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে। জেলা কমিটির মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদকের কাছে এ তালিকা পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রার্থী তালিকা পাঠানোর জন্য তিনটি ধাপে সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রথম ধাপে ১০ নভেম্বর, দ্বিতীয় ধাপে ২০ নভেম্বর এবং তৃতীয় ও শেষ ধাপে ৩০ নভেম্বরের মধ্যে তালিকা পাঠাতে হবে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে তৃণমূল পর্যায়ে সাংগঠনিক কাঠামো গড়ে তোলা এবং প্রার্থী বাছাইয়ের কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করতেই এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জাপানি কোম্পানিগুলোকে ৫ খাতে বিনিয়োগের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:০৫ পি.এম


জাপানি কোম্পানিগুলোকে ৫ খাতে বিনিয়োগের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

বাংলাদেশে মোটরযান উৎপাদন, জ্বালানি, প্রযুক্তি-মহাকাশ সহযোগিতা, রেলপথ ও সরবরাহ ব্যবস্থা এবং কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও উৎপাদনশিল্প এই ৫ অগ্রাধিকার খাতে বিনিয়োগের জন্য জাপানি কোম্পানিগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) স্থানীয় সময় বিকেলে টোকিওর জেট্রো হলে বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক ফোরাম সংলাপে প্রধান বক্তব্যে তিনি এই আহ্বান জানান।

তিনি উল্লেখ করেন, ‘পারস্পরিক স্বার্থ ও সুবিধার ভিত্তিতে ভবিষ্যৎ সহযোগিতা এবং ব্যবসায়িক সুযোগ সৃষ্টির জন্য আমি জাপানি কোম্পানিগুলোকে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ খাত বিবেচনা করার অনুরোধ জানাচ্ছি।’

প্রধানমন্ত্রী ২ দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের অপার সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ৩৫০টি জাপানি কোম্পানির কার্যক্রম চলছে। তবে বাংলাদেশে জাপানের প্রত্যক্ষ বিনিয়োগের পরিমাণ এখনো ৫০ কোটি মার্কিন ডলারের কম।’

তিনি আরও জানান, ‘সর্বশেষ অর্থবছরে জাপানে বাংলাদেশের রফতানি আয় ছিল ১৩৬ কোটি মার্কিন ডলার। একই সময়ে জাপান থেকে বাংলাদেশ ২১৬ কোটি মার্কিন ডলারের পণ্য আমদানি করেছে।’

উন্নয়ন সহযোগিতার গণ্ডি পেরিয়ে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২ দেশের সম্পর্ককে আরও উচ্চতর পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এসেছে।

তিনি ২ দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের কথা স্মরণ করে বলেন, ১৯৭২ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেওয়া প্রথম দেশগুলোর একটি ছিল জাপান। পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশটি বাংলাদেশের বৃহত্তম উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে ভূমিকা পালন করছে।

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদানের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারা একাধিকবার জাপান সফর করেছেন এবং দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও গভীর করতে ভূমিকা রেখেছেন।

তারেক রহমান চলতি বছর বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা উল্লেখ করেন। তিনি জানান, বাংলাদেশের সঙ্গে কোনো দেশের এটিই প্রথম এ ধরনের চুক্তি।

এই চুক্তির আওতায় বাংলাদেশের ৭ হাজার ৩৭৯টি পণ্য জাপানের বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাবে। অন্যদিকে, ইস্পাত, মোটরযানের যন্ত্রাংশ ও ইলেকট্রনিক উপাদানসহ জাপানি পণ্য বাংলাদেশে অগ্রাধিকারমূলক বাজার সুবিধা পাবে।

বিনিয়োগের সম্ভাবনা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৮ কোটিরও বেশি মানুষের বাজার, ২৭ বছরের মধ্যম বয়সের উদ্যমী তরুণ শ্রমশক্তি এবং ক্রমবর্ধমান মধ্যবিত্ত শ্রেণি বাংলাদেশের বড় সম্পদ। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ বিশ্বের শীর্ষ ১০টি ভোক্তা অর্থনীতির একটি হয়ে উঠবে।

মোটরযান উৎপাদনকে প্রথম অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, চলতি মাসের শুরুর দিকে টয়োটা বাংলাদেশে একটি যানবাহন উৎপাদন কারখানা স্থাপনের কাজ শুরুর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে।

তিনি জানান, ২০২৯ সালের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ উৎপাদন শুরুর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে টয়োটাকে সরকারের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

জ্বালানি খাতে তিনি জাপানি কোম্পানিগুলোকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) অবকাঠামো, দক্ষ গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগের আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও সামগ্রিক জ্বালানি খাতের উন্নয়নে বাংলাদেশের স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা রয়েছে। জাপানি কোম্পানিগুলো এসব পরিকল্পনার আওতায় বিনিয়োগের সুযোগ অনুসন্ধান করতে পারে।

প্রযুক্তি ও মহাকাশ সহযোগিতার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ বাংলাদেশ-জাপান প্রযুক্তি পার্ক প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা করছে। এতে জাপানি কোম্পানি, বিশ্ববিদ্যালয় ও বিনিয়োগকারীদের সম্পৃক্ততায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ক্লাউড কম্পিউটিং, রোবোটিকস ও ইলেকট্রনিকস উৎপাদনকেন্দ্রিক একটি উদ্ভাবনমুখী তথ্যপ্রযুক্তি পার্ক গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, মহাকাশ প্রযুক্তির ক্ষেত্রেও দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনা রয়েছে। বাংলাদেশ তার মহাকাশবিষয়ক সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করতে চায়। এ ক্ষেত্রে মহাকাশবিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও স্যাটেলাইট প্রকৌশলে জাপানের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে দেশটির বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পারস্পরিক লাভজনক সহযোগিতার সুযোগ অনুসন্ধানে বাংলাদেশ আগ্রহী।

রেলপথ ও সরবরাহব্যবস্থাকে আরেকটি অগ্রাধিকার খাত হিসেবে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, রাজশাহী, খুলনা ও বরিশালসহ দেশের প্রধান শহরগুলোকে সংযুক্ত করে দেশব্যাপী উড়ালপথে উচ্চগতির রেল নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে বাংলাদেশ।

এ উদ্যোগের জন্য জাতীয় রেল নেটওয়ার্কের মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন, যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের চাহিদা বিশ্লেষণ, রুটের অগ্রাধিকার নির্ধারণ এবং সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালনাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলোর কারিগরি ও বিনিয়োগ সহায়তাকে স্বাগত জানান তিনি।

কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও উৎপাদনশিল্পের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে বিভিন্ন ধরনের ফসল, ফলমূল ও শাকসবজি উৎপাদিত হয়। জাপানি কোম্পানিগুলো দেশে খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পে বিনিয়োগের সুযোগ অনুসন্ধান করতে পারে।

এছাড়া, আড়াইহাজারে অবস্থিত বাংলাদেশ বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগের জন্য জাপানি কোম্পানিগুলোর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

সুমিতোমো করপোরেশন জাপানি মানদণ্ড অনুসরণ করে এ অর্থনৈতিক অঞ্চলটি গড়ে তুলছে।

জাপানি কোম্পানিগুলোর উত্থাপিত উদ্বেগের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্ভরযোগ্য জ্বালানি সরবরাহ, দক্ষ অবকাঠামো এবং শুল্ক ছাড় ও করব্যবস্থায় পূর্বানুমানযোগ্যতা নিশ্চিত করার বিষয়গুলো সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা তাদের উদ্বেগের কথা শুনেছি। এসব সমস্যার সমাধান এবং আরও ভালো ফলাফল নিশ্চিত করতে কাজ করছি।’

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমি পুরোপুরি বুঝতে পারি, ব্যবসা পরিচালনার জন্য নিশ্চয়তা প্রয়োজন। বিনিয়োগকারীদের প্রয়োজন আস্থা। এই দুটো নিশ্চিত করার উপযোগী পরিবেশ তৈরি করাই আমাদের দায়িত্ব।’

দুই দেশের জনগণের মধ্যে সম্পর্ক ও দক্ষতা উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে তারেক রহমান বলেন, প্রতিবছর বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষা গ্রহণ এবং মূল্যবান দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য জাপানে আসেন। পরে দেশে ফিরে তাঁরা অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগান।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জাপানি ভাষা শেখানোকে সরকার অগ্রাধিকার দিচ্ছে। কারিগরি দক্ষতার পাশাপাশি লাখ লাখ তরুণকে জাপানি ভাষায় দক্ষ করে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাপানি ভাষায় দক্ষ বাংলাদেশি পেশাজীবীরা বাংলাদেশ ও জাপান—উভয় দেশের কর্মসংস্থানের চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবেন।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের উন্নয়নের ভিত্তি গড়ে তোলার সময় জাপান আমাদের পাশে ছিল। এখন আমরা আপনাদের আমাদের শিল্পকারখানা গড়ে তোলা, নতুন সুযোগ সৃষ্টি এবং একসঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।’

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আসুন, দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বকে আরও শক্তিশালী অংশীদারত্বে রূপান্তর করি। আমাদের জনগণের জন্য পারস্পরিক সুযোগ সৃষ্টি ও উভয় দেশের সমৃদ্ধি নিশ্চিত করি।’

বাংলাদেশ দূতাবাসের সহযোগিতায় জাপান বৈদেশিক বাণিজ্য সংস্থা (জেট্রো) ও জাপান-বাংলাদেশ বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা কমিটির (জেবিসিসিইসি) যৌথ আয়োজনে এ সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়।

এতে বাংলাদেশ ও জাপানের ব্যবসায়ী নেতারা অংশ নেন এবং বিনিয়োগের সম্ভাবনা ও ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করেন।

অনুষ্ঠানে জেট্রোর প্রেসিডেন্ট সুসুমু কাতাওকা উদ্বোধনী বক্তব্য দেন। অতিথি বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন জাপানের অর্থনীতি, বাণিজ্য ও শিল্পবিষয়ক সংসদীয় উপমন্ত্রী শিনজি ওয়াকায়ামা।

এ সময় সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) বিনিময় এবং বিনিয়োগ ও সহযোগিতামূলক প্রকল্পের ঘোষণা দেওয়া হয়।

বাংলাদেশে বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তোলার বিষয়ে বক্তব্য দেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

অন্যদিকে, বাংলাদেশে বিনিয়োগ সহজতর করতে গৃহীত সংস্কার ও নতুন উদ্যোগগুলো তুলে ধরেন ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন।

মিৎসুই অ্যান্ড কোম্পানি (এশিয়া প্যাসিফিক) প্রাইভেট লিমিটেডের ঢাকা শাখার শাখা মহাব্যবস্থাপক ও কান্ট্রি চেয়ারপারসন কেনিচিরো কাওয়ামোতো ‘টুগেদার ফর আ ব্রাইটার বাংলাদেশ’ শীর্ষক উপস্থাপনা দেন।

এছাড়া, ওয়াইকেকে কপোরেশনের গ্লোবাল সেলস হেডকোয়ার্টার্সের ভাইস প্রেসিডেন্ট রেইসুকে আরাতানি বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসায়িক কার্যক্রমের অগ্রযাত্রা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের উচ্চ প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনাময় ব্যবসায়িক খাত নিয়ে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

স্কুল ও মাদরাসার বোর্ড পরীক্ষা একই প্রশ্নপত্রে : শিক্ষামন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:১৩ পি.এম


স্কুল ও মাদরাসার বোর্ড পরীক্ষা একই প্রশ্নপত্রে : শিক্ষামন্ত্রী

শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন আগামীতে স্কুল ও মাদরাসার বোর্ড পরীক্ষাগুলো একই প্রশ্নপত্রে নেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন।

তিনি বুধবার (২৮ অক্টোবর) বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাউবি) ৩৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, "মাদরাসায় সবচেয়ে বেশি জিপিএ-৫ পাওয়া যায়। সবাই আমাকে বলল, এটার কী ব্যবস্থা করা যায়?" তিনি আরও বলেন, "আমি বললাম, আগামী দিন থেকে মাদরাসা ও স্কুলের পরীক্ষা একই প্রশ্নে হবে, নাকি আলাদা হবে? আলাদা হওয়ার তো কোনো কারণ নেই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ সব জায়গায় একই বিষয়ে ভর্তি হয়, একই প্রশ্নে পরীক্ষা দেয়। তাই আগামীতে স্কুল-মাদরাসায় একই প্রশ্নে পরীক্ষা নেওয়া হবে। এরপর দেখব, মাদরাসায় কেন বেশি জিপিএ পায়। তারপর পরীক্ষা করে দেখব।"

পরীক্ষার খাতা পুনর্নিরীক্ষণের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী জানান, বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর ফল পরিবর্তনের ঘটনা সামনে এসেছে। তার দাবি, প্রায় ১২ লাখ শিক্ষার্থীর খাতা পুনর্নিরীক্ষণের পর ৪৫ হাজার শিক্ষার্থীর জিপিএ পরিবর্তন হয়েছে। এছাড়া, প্রায় পাঁচ হাজার শিক্ষার্থী ফেল থেকে পাস করেছে এবং ৩ হাজার ৭৯ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে।

পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে অনিয়মের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, "এসব অনিয়মের সঙ্গে জড়িত পরীক্ষকদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।" শিক্ষামন্ত্রী পরীক্ষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার কথাও জানান।

তিনি বলেন, "যেসব পরীক্ষক এই দুষ্টুমি করেছেন, তাদের আইনের আওতায় আনব।"

এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, "এই বিষয়টি আমার মাথায় প্রচণ্ড বোঝা! আমি এনটিআরসিএ করেছিলাম বেগম খালেদা জিয়ার সময়ে। সেই এনটিআরসিএতে আমরা সার্টিফিকেট দেব, শিক্ষকরা গিয়ে এলাকার ম্যানেজমেন্ট কমিটির কাছে যাবেন, সেখানে তারা নিয়োগ দেবেন। সর্বশেষ সরকার তাদের ঢালাও সার্টিফিকেট দিয়েছে, ঢালাও নিয়োগ দিয়েছে, বিভিন্ন জায়গায় ঢালাও পোস্টিং দিয়েছে!"

তিনি আরও বলেন, "এখন কচুয়ার পোস্টিং নিয়েছে রংপুরেরটা, রংপুরেরটা নিয়েছে বরিশালে, বরিশালেরটা নিয়েছে খাগড়াছড়িতে। এখন আমি আসার পরে সব আমার মাথায় ঢুকল যে আমাদের বদলি করতে হবে। আমি দেখলাম, কচুয়ার যদি রংপুরের ছেলে থাকে, তাকে রংপুর পাঠিয়ে দিই। আমি বদলির জন্য একটি অ্যাপ তৈরি করেছি।"

শিক্ষকদের বদলির আবেদনের বিষয়ে তিনি বলেন, "এখন সবাই বদলি চায়। কচুয়া থেকে চায় ভিকারুননিসা! কচুয়া থেকে চায় আইডিয়াল স্কুল! কচুয়া থেকে চায় মণিপুর, শাহীনের স্কুল! বুঝলেন তো?"

শিক্ষকদের চাপের প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, "এমপিওভুক্ত শিক্ষক, শিক্ষক প্রতিনিধি হয়ে আমাকে ধমক দেন—৩১ অক্টোবরের মধ্যে যদি বদলি না হয়, তাহলে দেখে নেবে! কাকে? আমাকে! বুঝলেন তো? আপনি এমপিওভুক্ত শিক্ষক, আপনি স্কুলে গিয়ে পড়ান, মাদরাসায় গিয়ে পড়ান। আপনার দায়িত্ব এটা না, এটা আমার দায়িত্ব! লেট মি ডু ইট (আমাকে করতে দিন)!"

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%