ঢাকা রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

সৌদি আরবের নাজরান ও জিজানে জরুরি সতর্কতা জারি


সৌদি আরবের নাজরান ও জিজানে জরুরি সতর্কতা জারি

সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর নাজরান ও জিজানে বৃহস্পতিবার সাময়িকভাবে জরুরি সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বাসিন্দাদের সম্ভাব্য বিপদের বিষয়ে সতর্ক করার কিছুক্ষণ পর, দেশটির বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগ উভয় শহরকেই বিপদমুক্ত ঘোষণা করে।

তুর্কি সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এজেন্সির একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, জাতীয় জরুরি আগাম সতর্কতা প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে নাজরান ও জিজানে সতর্কবার্তা পাঠানো হয়েছিল। এ সময় বাসিন্দাদের নিরাপত্তাসংক্রান্ত নির্দেশনা মেনে চলার জন্য আহ্বান জানানো হয়। পরে উভয় শহরেই বিপদ কেটে গেছে বলে জানানো হয়।

তবে কর্তৃপক্ষ কী ধরনের হুমকি তৈরি হয়েছিল সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি। ঘটনার একদিন আগে ইয়েমেনে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছিল যে, হুতি বিদ্রোহীদের রিয়াদ লক্ষ্য করে ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত ও ধ্বংস করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে প্রাণ হারালেন চান্দিনার সাগর

এর আগে সৌদি রাজধানী রিয়াদ এবং এর কাছের আল-খারজ গভর্নরেটেও সতর্কতা জারি করা হয়েছিল। পরে ওই দুই এলাকাকেও বিপদমুক্ত ঘোষণা করে বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগ।

প্রসঙ্গত, ২০১৪ সাল থেকে ইয়েমেনের রাজধানী সানা ও কয়েকটি প্রদেশ নিয়ন্ত্রণ করছে হুতি বিদ্রোহী গোষ্ঠী। তাদের বিরুদ্ধে এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারকে সমর্থন দিতে ২০১৫ সাল থেকে সামরিক জোটের নেতৃত্ব দিচ্ছে সৌদি আরব।

জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় ২০২২ সালের এপ্রিলে যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পর ইয়েমেনে কিছু সময় তুলনামূলক শান্ত পরিস্থিতি ছিল। তবে সেই বিরতির পর জুলাইয়ে সংঘাত নতুন করে তীব্র হতে শুরু করে।

আরও পড়ুন: সৌদি-হুথি সংঘাত সমাধানে সহযোগিতার জন্য প্রস্তুত ইরান

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আইএমএফের সঙ্গে নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে অর্থমন্ত্রীর ফলপ্রসূ আলোচনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৫৩ পি.এম


আইএমএফের সঙ্গে নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে অর্থমন্ত্রীর ফলপ্রসূ আলোচনা

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন যে, আইএমএফের সঙ্গে নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকালে ব্যাংককের কুইন সিরিকিত ন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে সংস্থাটির উপব্যবস্থাপনা পরিচালক নাইজেল ক্লার্কের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

অর্থমন্ত্রী উল্লেখ করেন, নতুন কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে। তবে, এ কর্মসূচির আওতায় কী ধরনের শর্ত থাকবে এবং সেগুলো কীভাবে পূরণ করা হবে, সে বিষয়ে আরও আলোচনা প্রয়োজন। কিছু বিষয়ে দুই পক্ষের সমঝোতার মাধ্যমে সমাধানে পৌঁছানো হবে।

তিনি আরও বলেন, ব্যাংকিং খাত, ট্যাক্স-জিডিপি অনুপাত, ব্যাংকের পুনঃমূলধনীকরণ এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা সহ বিভিন্ন বিষয়ে আইএমএফের পর্যবেক্ষণ রয়েছে। এসব বিষয়ে বাংলাদেশেরও সম্মতি রয়েছে। ইতিমধ্যে অনেক সমস্যার সমাধান হয়েছে, বাকি বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা চলবে।

মন্ত্রী জানান, নীতি-কৌশল বিশ্বাসযোগ্য বলেই উন্নয়ন সহযোগীরা বাংলাদেশের পাশে রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মানুষের পরিবর্তন ও অর্থনৈতিক সচ্ছলতা মুখ্য: ডিএসসিসি প্রশাসক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৫৩ পি.এম


মানুষের পরিবর্তন ও অর্থনৈতিক সচ্ছলতা মুখ্য: ডিএসসিসি প্রশাসক

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম মন্তব্য করেছেন যে, "ক্ষমতার চেয়ে মানুষের জীবনমানের পরিবর্তন এবং অর্থনৈতিক সচ্ছলতা নিশ্চিত করাই এখন প্রধান লক্ষ্য।" তিনি বলেন, দেশের চলমান অর্থনৈতিক সংকট মোকাবেলা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও মানুষের জীবনযাত্রার উন্নয়নে সরকারের পাশে দাঁড়িয়ে সহযোগিতা করা প্রয়োজন।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাজধানীর রমনা কালী মন্দিরে বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত স্বল্পমূল্যে ‘পাঁচ টাকায় পূজার বাজার’ উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন।

ডিএসসিসি প্রশাসক বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, "প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে গরিব, অসহায় ও ছিন্নমূল মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছে। এক টাকায় এক ডজন ডিম এবং পাঁচ টাকায় শাড়িসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য দেওয়ার এই উদ্যোগ মানুষের আত্মমর্যাদা বজায় রেখে সহায়তা পাওয়ার সুযোগ তৈরি করেছে।"

এই কর্মসূচিতে দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মী, হিন্দু ধর্মাবলম্বী ভাই-বোনসহ নিম্ন আয়ের মানুষ উপকৃত হওয়ায় তিনি আয়োজকদের ধন্যবাদ জানান এবং প্রতিষ্ঠানের উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি কামনা করেন।

দেশের বর্তমান অর্থনীতি ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে আবদুস সালাম বলেন, "প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একটি ভঙ্গুর অর্থনীতির দায়িত্ব নিয়েছেন। দীর্ঘদিনের সংকট কাটিয়ে এটি পুনর্গঠনে সময়ের প্রয়োজন। এর ওপর মধ্যপ্রাচ্যের বিদ্যমান পরিস্থিতির কারণে দেশীয় অর্থনীতি আরো চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। এমন নাজুক পরিস্থিতির সুযোগ না নিয়ে সবাইকে ধৈর্য, সহনশীলতা ও বিচক্ষণতার সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হবে।"

তিনি স্পষ্ট করে বলেন, "কোনো ধরনের রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন নিম্ন আয়ের ও মধ্যবিত্ত মানুষ। তাই দেশ ও মানুষের অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়—এমন কর্মসূচি এড়িয়ে সামাজিক ও রাজনৈতিক দলগুলোকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।"

তিনি বলেন, "পাঁচ বছরের জন্য নির্বাচিত সরকারকে কাজ করার সুযোগ দিতে হবে। পাঁচ বছর পর জনগণ ভোটের মাধ্যমে তাদের সিদ্ধান্ত জানাবেন।"

ধর্মীয় সম্প্রীতি ও অধিকারের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, "ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দেশের প্রতিটি নাগরিকের সমান অধিকার রয়েছে। যেমনটি প্রধানমন্ত্রী বলেছেন—‘ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার।’ তাই দরিদ্র মানুষ কিংবা ধর্মীয় সম্প্রদায়কে নিয়ে অহেতুক রাজনীতি না করে দেশের সার্বিক উন্নয়নে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।"

তিনি আরো স্মরণ করিয়ে দেন যে, ১৭ বছরের দীর্ঘ রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মধ্য দিয়ে অর্জিত সাফল্য যেন কোনোভাবেই ব্যর্থ না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন ও সংযমী হতে হবে।

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে আবদুস সালাম জানান, দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এলাকার ১৬৮টি মণ্ডপে উদযাপিত হতে যাওয়া এ উৎসব যাতে শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্ন হয়, সে জন্য ডিএসসিসির পক্ষ থেকে সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং দলীয় নেতাকর্মীদেরও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রত্যেকে নিজ নিজ ধর্ম পালন ও উৎসবের মধ্য দিয়ে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়ার শপথ নেবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাংলাদেশের অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে সহায়তা দেবে আইএমএফসহ উন্নয়ন সহযোগীরা: রাশেদ আল মাহমুদ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৫৪ পি.এম


বাংলাদেশের অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে সহায়তা দেবে আইএমএফসহ উন্নয়ন সহযোগীরা: রাশেদ আল মাহমুদ

বাংলাদেশের নিজস্ব অগ্রাধিকার ও সংস্কার কৌশলের ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ), বিশ্বব্যাংকসহ অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা সহায়তা দেবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।

তিনি উল্লেখ করেছেন, এবারই প্রথম বাংলাদেশের অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে সংস্কার কার্যক্রমে সহযোগিতা দেওয়ার বিষয়টি আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীরা স্পষ্টভাবে তুলে ধরছে। ফলে দেশের নিজস্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী সংস্কার এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সভার ফাঁকে বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) ব্যাংককে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

ড. তিতুমীর জানান, শুধু আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংক নয়, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি), ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংকসহ বিভিন্ন বহুপাক্ষিক প্রতিষ্ঠান এবং চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোও বাংলাদেশের অগ্রাধিকার অনুযায়ী সংস্কার কার্যক্রমে সহযোগিতা দিচ্ছে। উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে আলোচনায় বাংলাদেশের নিজস্ব কৌশল ও অগ্রাধিকার গুরুত্ব পাচ্ছে।

আইএমএফের ঋণসহায়তা পেতে শর্ত কোনো বাধা হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিষয়গুলো নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই এগিয়ে যাবে। সরকার প্রতিটি পদক্ষেপ দ্রুত ও কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে। এ ক্ষেত্রেও দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে সরকার আশাবাদী।

আইএমএফের প্রবৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতির পূর্বাভাস প্রসঙ্গে তিতুমীর বলেন, সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়িত না হলে অর্থনীতিতে কী ধরনের প্রভাব পড়তে পারে, আইএমএফের পূর্বাভাসকে সে দৃষ্টিকোণ থেকেও বিবেচনা করা প্রয়োজন। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার পূর্বাভাসে পার্থক্য থাকা স্বাভাবিক। অতীতের তথ্য পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, আইএমএফের প্রবৃদ্ধির প্রক্ষেপণ সাধারণত কিছুটা সংরক্ষণশীল হয়ে থাকে।

তিনি উল্লেখ করেন, আইএমএফের আর্টিকেল ফোর মিশনের প্রতিবেদনে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ৪ দশমিক ৭ শতাংশ উল্লেখ করা হয়েছে। তবে সরকার বাজেটে যে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে, তা অর্জনের ব্যাপারে আশাবাদী।

ড. তিতুমীর বলেন, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারেই সংস্কারের বিষয়গুলো উল্লেখ করা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে পঞ্চবার্ষিক অর্থনৈতিক কৌশলেও এসব অগ্রাধিকার প্রতিফলিত হবে। পরিকল্পিত সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে অর্থনীতির সক্ষমতা বাড়ানো সম্ভব হবে বলে সরকার মনে করে।

মূল্যস্ফীতির বিষয়ে উপদেষ্টা বলেন, এর পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির প্রভাবের পাশাপাশি অতীতের উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া দীর্ঘস্থায়ী মূল্যস্ফীতিও বর্তমান পরিস্থিতিকে জটিল করেছে। এ অবস্থায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো এবং ঝুঁকিতে থাকা পরিবারগুলোর সুরক্ষা নিশ্চিত করা সরকারের গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার।

তিনি জানান, অতীতে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির আওতায় উপকারভোগী নির্বাচনে নানা সমস্যা ছিল। যাঁদের তালিকাভুক্ত হওয়ার কথা ছিল, তাঁদের অনেকে তালিকার বাইরে ছিলেন। আবার যাঁদের তালিকাভুক্ত হওয়ার কথা ছিল না, তাঁদের অনেকে সুবিধা পেয়েছেন। কর্মসূচিগুলো বিচ্ছিন্নভাবে পরিচালিত হওয়ায় প্রত্যাশিত সুফল পাওয়া যায়নি।

ড. তিতুমীর বলেন, বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে গত কয়েক বছরে কার্যকর সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থার ঘাটতির কারণে দারিদ্র্য বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি উঠে এসেছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার ফ্যামিলি কার্ড ও ফার্মার্স কার্ডের মতো উদ্যোগ নিচ্ছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে উপকারভোগী নির্বাচন এবং প্রকৃত সুবিধাভোগীদের কাছে সহায়তা পৌঁছানো সম্ভব হবে।

তিনি আরও বলেন, সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি কার্যকর করতে ডিজিটাল পাবলিক অবকাঠামো গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সামাজিক খাতে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দের লক্ষ্য এবং স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর পরিকল্পনাকেও উন্নয়ন সহযোগীরা ইতিবাচকভাবে দেখছে। বাংলাদেশের অগ্রাধিকার অনুযায়ী এসব খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে।

তিতুমীর বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে জিডিপির অনুপাতে কর আহরণ ১০ শতাংশে উন্নীত করতে চায় সরকার। একই সঙ্গে ব্যাংক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষা এবং আর্থিক খাতে জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

তিনি জানান, আমানতকারীদের অর্থের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের আমানত ফেরত দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ব্যাংকগুলোর আর্থিক বিবরণী ও ব্যালান্স শিটের স্বচ্ছতা বাড়ানো এবং প্রয়োজনীয় আইনি কাঠামো সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

অতীতের আর্থিক অনিয়মের প্রসঙ্গ তুলে ধরে উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশের সাধারণ মানুষকে ব্যাংকসহ বিভিন্ন খাতের অর্থ লুটপাটের বড় ধরনের মূল্য দিতে হচ্ছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ব্যাংক খাত থেকে প্রায় ৪০ বিলিয়ন ডলার লুট করা হয়েছে। এ অর্থ জনগণের, তাই আর্থিক খাতে অনিয়ম ও লুটপাটের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।

তিনি বলেন, যারা অর্থ লুট করেছে এবং যারা এ ধরনের কর্মকাণ্ডে সহায়তা করেছে, তারা দেশে বা বিদেশে যেখানেই থাকুক, তাদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি। সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে খেলাপি ঋণ ও আর্থিক অনিয়মের সমস্যা মোকাবিলা করতে হবে। যারা লুটপাটকারীদের সহায়তা করে, তাদেরও জবাবদিহির আওতায় আনা গেলে ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধের প্রবণতা কমবে বলে তিনি মনে করেন।

উল্লেখ্য, আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংক গ্রুপের বার্ষিক সভা ১২ থেকে ১৮ অক্টোবর থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সভায় বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, আর্থিক স্থিতিশীলতা, দারিদ্র্য বিমোচন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বরিশালের চর কাউয়া খেয়াঘাটে বিসিসির উচ্ছেদ অভিযানে নেতৃত্বে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রায়হান উজ জামান,সড়ক দখলমুক্ত করতে মাঠে সিটি করপোরেশন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল

বৃহস্পতিবার, ১৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৫৭ পি.এম


বরিশালের চর কাউয়া খেয়াঘাটে বিসিসির উচ্ছেদ অভিযানে নেতৃত্বে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রায়হান উজ জামান,সড়ক দখলমুক্ত করতে মাঠে সিটি করপোরেশন

বরিশাল নগরীর চর কাউয়া খেয়াঘাট এলাকায় সড়কের ওপর অবৈধভাবে গড়ে ওঠা ক্ষুদ্র ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও হকারদের উচ্ছেদে অভিযান চালিয়েছে বরিশাল সিটি করপোরেশন (বিসিসি)। সড়ক দখলমুক্ত করা, জনসাধারণের চলাচল স্বাভাবিক রাখা এবং নগরীর শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

রোববার (১৫ অক্টোবর) দুপুর ১২টায় চর কাউয়া খেয়াঘাট এলাকায় এ অভিযান শুরু হয়। বরিশাল সিটি করপোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. রায়হান উজ জামানের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং থানা পুলিশের একটি দল অংশ নেয়।

অভিযানে উপস্থিত ছিলেন বিসিসির উচ্ছেদ শাখার প্রধান মো. লকিতুল্লাহ শিকদার এবং ট্রেড লাইসেন্স বিভাগের সুপারিনটেনডেন্ট আজিজ শাহীন। এ ছাড়া উচ্ছেদ শাখার সদস্যরাও অভিযানে দায়িত্ব পালন করেন।


চর কাউয়া খেয়াঘাট বরিশাল নগরীর একটি গুরুত্বপূর্ণ যাতায়াত এলাকা। এ ধরনের এলাকায় সড়কের ওপর দোকানপাট ও অস্থায়ী ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠলে পথচারী ও যানবাহনের চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। বিশেষ করে খেয়াঘাটকেন্দ্রিক যাতায়াতের সময় সড়কের ওপর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও পণ্যসামগ্রী ছড়িয়ে থাকলে সাধারণ মানুষের চলাচলে ভোগান্তি তৈরি হতে পারে।

এ পরিস্থিতিতে সড়কের ওপর গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান অপসারণের লক্ষ্যে বিসিসি এ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে নেতৃত্ব দেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. রায়হান উজ জামান। উচ্ছেদ শাখার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি পুলিশের উপস্থিতিতে অভিযান পরিচালিত হয়।


নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, ফুটপাত ও জনসাধারণের চলাচলের জায়গা দখলমুক্ত রাখা সিটি করপোরেশনের নগর ব্যবস্থাপনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। সড়ক ও ফুটপাতের ওপর অবৈধভাবে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠলে পথচারীদের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হতে পারে। পাশাপাশি যানজট ও জনদুর্ভোগ বাড়ার আশঙ্কাও থাকে।

চর কাউয়া খেয়াঘাট এলাকায় বিসিসির এ অভিযানকে সড়ক দখলমুক্ত রাখার উদ্যোগের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে উচ্ছেদ অভিযানের পর সংশ্লিষ্ট এলাকা কতটা দখলমুক্ত রাখা সম্ভব হবে, তা নির্ভর করবে নিয়মিত তদারকি ও পরবর্তী প্রশাসনিক পদক্ষেপের ওপর।

নগরীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে শুধু এককালীন অভিযান নয়, নিয়মিত তদারকিও প্রয়োজন। একই সঙ্গে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও হকারদের ক্ষেত্রে প্রচলিত আইন ও বিধিমালা অনুসরণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।

চর কাউয়া খেয়াঘাট এলাকায় পরিচালিত এ অভিযানের মাধ্যমে সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সাধারণ মানুষের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিয়েছে বরিশাল সিটি করপোরেশন।

অভিযানে কতটি স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে, কাউকে জরিমানা করা হয়েছে কি না কিংবা অভিযানের পরবর্তী কর্মসূচি কী—এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনে তা যুক্ত করা যাবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩০
ইশা ০৬:৪১
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:৩০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%