ঢাকা সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

মানুষের পরিবর্তন ও অর্থনৈতিক সচ্ছলতা মুখ্য: ডিএসসিসি প্রশাসক


মানুষের পরিবর্তন ও অর্থনৈতিক সচ্ছলতা মুখ্য: ডিএসসিসি প্রশাসক

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম মন্তব্য করেছেন যে, "ক্ষমতার চেয়ে মানুষের জীবনমানের পরিবর্তন এবং অর্থনৈতিক সচ্ছলতা নিশ্চিত করাই এখন প্রধান লক্ষ্য।" তিনি বলেন, দেশের চলমান অর্থনৈতিক সংকট মোকাবেলা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও মানুষের জীবনযাত্রার উন্নয়নে সরকারের পাশে দাঁড়িয়ে সহযোগিতা করা প্রয়োজন।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাজধানীর রমনা কালী মন্দিরে বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত স্বল্পমূল্যে ‘পাঁচ টাকায় পূজার বাজার’ উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন।

ডিএসসিসি প্রশাসক বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, "প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে গরিব, অসহায় ও ছিন্নমূল মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছে। এক টাকায় এক ডজন ডিম এবং পাঁচ টাকায় শাড়িসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য দেওয়ার এই উদ্যোগ মানুষের আত্মমর্যাদা বজায় রেখে সহায়তা পাওয়ার সুযোগ তৈরি করেছে।"

আরও পড়ুন: রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক সমাজের কার্যকর ভূমিকা চাইলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

এই কর্মসূচিতে দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মী, হিন্দু ধর্মাবলম্বী ভাই-বোনসহ নিম্ন আয়ের মানুষ উপকৃত হওয়ায় তিনি আয়োজকদের ধন্যবাদ জানান এবং প্রতিষ্ঠানের উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি কামনা করেন।

দেশের বর্তমান অর্থনীতি ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে আবদুস সালাম বলেন, "প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একটি ভঙ্গুর অর্থনীতির দায়িত্ব নিয়েছেন। দীর্ঘদিনের সংকট কাটিয়ে এটি পুনর্গঠনে সময়ের প্রয়োজন। এর ওপর মধ্যপ্রাচ্যের বিদ্যমান পরিস্থিতির কারণে দেশীয় অর্থনীতি আরো চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। এমন নাজুক পরিস্থিতির সুযোগ না নিয়ে সবাইকে ধৈর্য, সহনশীলতা ও বিচক্ষণতার সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হবে।"

তিনি স্পষ্ট করে বলেন, "কোনো ধরনের রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন নিম্ন আয়ের ও মধ্যবিত্ত মানুষ। তাই দেশ ও মানুষের অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়—এমন কর্মসূচি এড়িয়ে সামাজিক ও রাজনৈতিক দলগুলোকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।"

তিনি বলেন, "পাঁচ বছরের জন্য নির্বাচিত সরকারকে কাজ করার সুযোগ দিতে হবে। পাঁচ বছর পর জনগণ ভোটের মাধ্যমে তাদের সিদ্ধান্ত জানাবেন।"

আরও পড়ুন: ঢাকা-সৌদি রুটে ১২৬ ফ্লাইট বাতিল, ১৯৩৭৭ যাত্রী ভোগান্তিতে

ধর্মীয় সম্প্রীতি ও অধিকারের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, "ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দেশের প্রতিটি নাগরিকের সমান অধিকার রয়েছে। যেমনটি প্রধানমন্ত্রী বলেছেন—‘ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার।’ তাই দরিদ্র মানুষ কিংবা ধর্মীয় সম্প্রদায়কে নিয়ে অহেতুক রাজনীতি না করে দেশের সার্বিক উন্নয়নে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।"

তিনি আরো স্মরণ করিয়ে দেন যে, ১৭ বছরের দীর্ঘ রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মধ্য দিয়ে অর্জিত সাফল্য যেন কোনোভাবেই ব্যর্থ না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন ও সংযমী হতে হবে।

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে আবদুস সালাম জানান, দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এলাকার ১৬৮টি মণ্ডপে উদযাপিত হতে যাওয়া এ উৎসব যাতে শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্ন হয়, সে জন্য ডিএসসিসির পক্ষ থেকে সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং দলীয় নেতাকর্মীদেরও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রত্যেকে নিজ নিজ ধর্ম পালন ও উৎসবের মধ্য দিয়ে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়ার শপথ নেবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

আরও পড়ুন: সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় গুজব ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকার আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাংলাদেশের অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে সহায়তা দেবে আইএমএফসহ উন্নয়ন সহযোগীরা: রাশেদ আল মাহমুদ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৫৪ পি.এম


বাংলাদেশের অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে সহায়তা দেবে আইএমএফসহ উন্নয়ন সহযোগীরা: রাশেদ আল মাহমুদ

বাংলাদেশের নিজস্ব অগ্রাধিকার ও সংস্কার কৌশলের ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ), বিশ্বব্যাংকসহ অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা সহায়তা দেবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।

তিনি উল্লেখ করেছেন, এবারই প্রথম বাংলাদেশের অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে সংস্কার কার্যক্রমে সহযোগিতা দেওয়ার বিষয়টি আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীরা স্পষ্টভাবে তুলে ধরছে। ফলে দেশের নিজস্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী সংস্কার এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সভার ফাঁকে বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) ব্যাংককে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

ড. তিতুমীর জানান, শুধু আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংক নয়, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি), ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংকসহ বিভিন্ন বহুপাক্ষিক প্রতিষ্ঠান এবং চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোও বাংলাদেশের অগ্রাধিকার অনুযায়ী সংস্কার কার্যক্রমে সহযোগিতা দিচ্ছে। উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে আলোচনায় বাংলাদেশের নিজস্ব কৌশল ও অগ্রাধিকার গুরুত্ব পাচ্ছে।

আইএমএফের ঋণসহায়তা পেতে শর্ত কোনো বাধা হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিষয়গুলো নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই এগিয়ে যাবে। সরকার প্রতিটি পদক্ষেপ দ্রুত ও কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে। এ ক্ষেত্রেও দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে সরকার আশাবাদী।

আইএমএফের প্রবৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতির পূর্বাভাস প্রসঙ্গে তিতুমীর বলেন, সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়িত না হলে অর্থনীতিতে কী ধরনের প্রভাব পড়তে পারে, আইএমএফের পূর্বাভাসকে সে দৃষ্টিকোণ থেকেও বিবেচনা করা প্রয়োজন। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার পূর্বাভাসে পার্থক্য থাকা স্বাভাবিক। অতীতের তথ্য পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, আইএমএফের প্রবৃদ্ধির প্রক্ষেপণ সাধারণত কিছুটা সংরক্ষণশীল হয়ে থাকে।

তিনি উল্লেখ করেন, আইএমএফের আর্টিকেল ফোর মিশনের প্রতিবেদনে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ৪ দশমিক ৭ শতাংশ উল্লেখ করা হয়েছে। তবে সরকার বাজেটে যে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে, তা অর্জনের ব্যাপারে আশাবাদী।

ড. তিতুমীর বলেন, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারেই সংস্কারের বিষয়গুলো উল্লেখ করা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে পঞ্চবার্ষিক অর্থনৈতিক কৌশলেও এসব অগ্রাধিকার প্রতিফলিত হবে। পরিকল্পিত সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে অর্থনীতির সক্ষমতা বাড়ানো সম্ভব হবে বলে সরকার মনে করে।

মূল্যস্ফীতির বিষয়ে উপদেষ্টা বলেন, এর পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির প্রভাবের পাশাপাশি অতীতের উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া দীর্ঘস্থায়ী মূল্যস্ফীতিও বর্তমান পরিস্থিতিকে জটিল করেছে। এ অবস্থায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো এবং ঝুঁকিতে থাকা পরিবারগুলোর সুরক্ষা নিশ্চিত করা সরকারের গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার।

তিনি জানান, অতীতে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির আওতায় উপকারভোগী নির্বাচনে নানা সমস্যা ছিল। যাঁদের তালিকাভুক্ত হওয়ার কথা ছিল, তাঁদের অনেকে তালিকার বাইরে ছিলেন। আবার যাঁদের তালিকাভুক্ত হওয়ার কথা ছিল না, তাঁদের অনেকে সুবিধা পেয়েছেন। কর্মসূচিগুলো বিচ্ছিন্নভাবে পরিচালিত হওয়ায় প্রত্যাশিত সুফল পাওয়া যায়নি।

ড. তিতুমীর বলেন, বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে গত কয়েক বছরে কার্যকর সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থার ঘাটতির কারণে দারিদ্র্য বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি উঠে এসেছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার ফ্যামিলি কার্ড ও ফার্মার্স কার্ডের মতো উদ্যোগ নিচ্ছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে উপকারভোগী নির্বাচন এবং প্রকৃত সুবিধাভোগীদের কাছে সহায়তা পৌঁছানো সম্ভব হবে।

তিনি আরও বলেন, সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি কার্যকর করতে ডিজিটাল পাবলিক অবকাঠামো গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সামাজিক খাতে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দের লক্ষ্য এবং স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর পরিকল্পনাকেও উন্নয়ন সহযোগীরা ইতিবাচকভাবে দেখছে। বাংলাদেশের অগ্রাধিকার অনুযায়ী এসব খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে।

তিতুমীর বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে জিডিপির অনুপাতে কর আহরণ ১০ শতাংশে উন্নীত করতে চায় সরকার। একই সঙ্গে ব্যাংক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষা এবং আর্থিক খাতে জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

তিনি জানান, আমানতকারীদের অর্থের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের আমানত ফেরত দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ব্যাংকগুলোর আর্থিক বিবরণী ও ব্যালান্স শিটের স্বচ্ছতা বাড়ানো এবং প্রয়োজনীয় আইনি কাঠামো সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

অতীতের আর্থিক অনিয়মের প্রসঙ্গ তুলে ধরে উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশের সাধারণ মানুষকে ব্যাংকসহ বিভিন্ন খাতের অর্থ লুটপাটের বড় ধরনের মূল্য দিতে হচ্ছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ব্যাংক খাত থেকে প্রায় ৪০ বিলিয়ন ডলার লুট করা হয়েছে। এ অর্থ জনগণের, তাই আর্থিক খাতে অনিয়ম ও লুটপাটের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।

তিনি বলেন, যারা অর্থ লুট করেছে এবং যারা এ ধরনের কর্মকাণ্ডে সহায়তা করেছে, তারা দেশে বা বিদেশে যেখানেই থাকুক, তাদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি। সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে খেলাপি ঋণ ও আর্থিক অনিয়মের সমস্যা মোকাবিলা করতে হবে। যারা লুটপাটকারীদের সহায়তা করে, তাদেরও জবাবদিহির আওতায় আনা গেলে ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধের প্রবণতা কমবে বলে তিনি মনে করেন।

উল্লেখ্য, আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংক গ্রুপের বার্ষিক সভা ১২ থেকে ১৮ অক্টোবর থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সভায় বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, আর্থিক স্থিতিশীলতা, দারিদ্র্য বিমোচন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বরিশালের চর কাউয়া খেয়াঘাটে বিসিসির উচ্ছেদ অভিযানে নেতৃত্বে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রায়হান উজ জামান,সড়ক দখলমুক্ত করতে মাঠে সিটি করপোরেশন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল

বৃহস্পতিবার, ১৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৫৭ পি.এম


বরিশালের চর কাউয়া খেয়াঘাটে বিসিসির উচ্ছেদ অভিযানে নেতৃত্বে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রায়হান উজ জামান,সড়ক দখলমুক্ত করতে মাঠে সিটি করপোরেশন

বরিশাল নগরীর চর কাউয়া খেয়াঘাট এলাকায় সড়কের ওপর অবৈধভাবে গড়ে ওঠা ক্ষুদ্র ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও হকারদের উচ্ছেদে অভিযান চালিয়েছে বরিশাল সিটি করপোরেশন (বিসিসি)। সড়ক দখলমুক্ত করা, জনসাধারণের চলাচল স্বাভাবিক রাখা এবং নগরীর শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

রোববার (১৫ অক্টোবর) দুপুর ১২টায় চর কাউয়া খেয়াঘাট এলাকায় এ অভিযান শুরু হয়। বরিশাল সিটি করপোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. রায়হান উজ জামানের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং থানা পুলিশের একটি দল অংশ নেয়।

অভিযানে উপস্থিত ছিলেন বিসিসির উচ্ছেদ শাখার প্রধান মো. লকিতুল্লাহ শিকদার এবং ট্রেড লাইসেন্স বিভাগের সুপারিনটেনডেন্ট আজিজ শাহীন। এ ছাড়া উচ্ছেদ শাখার সদস্যরাও অভিযানে দায়িত্ব পালন করেন।


চর কাউয়া খেয়াঘাট বরিশাল নগরীর একটি গুরুত্বপূর্ণ যাতায়াত এলাকা। এ ধরনের এলাকায় সড়কের ওপর দোকানপাট ও অস্থায়ী ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠলে পথচারী ও যানবাহনের চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। বিশেষ করে খেয়াঘাটকেন্দ্রিক যাতায়াতের সময় সড়কের ওপর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও পণ্যসামগ্রী ছড়িয়ে থাকলে সাধারণ মানুষের চলাচলে ভোগান্তি তৈরি হতে পারে।

এ পরিস্থিতিতে সড়কের ওপর গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান অপসারণের লক্ষ্যে বিসিসি এ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে নেতৃত্ব দেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. রায়হান উজ জামান। উচ্ছেদ শাখার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি পুলিশের উপস্থিতিতে অভিযান পরিচালিত হয়।


নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, ফুটপাত ও জনসাধারণের চলাচলের জায়গা দখলমুক্ত রাখা সিটি করপোরেশনের নগর ব্যবস্থাপনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। সড়ক ও ফুটপাতের ওপর অবৈধভাবে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠলে পথচারীদের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হতে পারে। পাশাপাশি যানজট ও জনদুর্ভোগ বাড়ার আশঙ্কাও থাকে।

চর কাউয়া খেয়াঘাট এলাকায় বিসিসির এ অভিযানকে সড়ক দখলমুক্ত রাখার উদ্যোগের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে উচ্ছেদ অভিযানের পর সংশ্লিষ্ট এলাকা কতটা দখলমুক্ত রাখা সম্ভব হবে, তা নির্ভর করবে নিয়মিত তদারকি ও পরবর্তী প্রশাসনিক পদক্ষেপের ওপর।

নগরীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে শুধু এককালীন অভিযান নয়, নিয়মিত তদারকিও প্রয়োজন। একই সঙ্গে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও হকারদের ক্ষেত্রে প্রচলিত আইন ও বিধিমালা অনুসরণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।

চর কাউয়া খেয়াঘাট এলাকায় পরিচালিত এ অভিযানের মাধ্যমে সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সাধারণ মানুষের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিয়েছে বরিশাল সিটি করপোরেশন।

অভিযানে কতটি স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে, কাউকে জরিমানা করা হয়েছে কি না কিংবা অভিযানের পরবর্তী কর্মসূচি কী—এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনে তা যুক্ত করা যাবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা, মেলেনি সাক্ষাৎ: বরিশাল সদরে এমপি সরোয়ারের ওপর ক্ষোভে ফুঁসছে তৃণমূল বিএনপি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিশেষ প্রতিনিধি, বরিশাল

বৃহস্পতিবার, ১৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:০৯ পি.এম


ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা, মেলেনি সাক্ষাৎ: বরিশাল সদরে এমপি সরোয়ারের ওপর ক্ষোভে ফুঁসছে তৃণমূল বিএনপি

প্রকাশিত: ১৫ অক্টোবর, ২০২৪ (বা প্রয়োজনাভিমুখী তারিখ)

সংসদ সদস্য মানেই জনগণের সেবক এবং তৃণমূলের শেষ আশ্রয়স্থল। কিন্তু বরিশাল-৫ (সদর) আসনের দীর্ঘদিনের রাজনীতিতে ঘটে চলেছে ঠিক তার উল্টো ঘটনা। দীর্ঘ সময় ধরে অপেক্ষা করেও সংসদ সদস্য ও বর্ষীয়ান বিএনপি নেতা মজিবর রহমান সরোয়ারের সাক্ষাৎ পাচ্ছেন না সাধারণ মানুষ ও দলের তৃণমূল নেতাকর্মীরা। শুধু তা-ই নয়, এমপির বাসায় গিয়ে অপমান ও লাঞ্ছনার শিকার হয়ে ফিরতে হচ্ছে নেতাকর্মী থেকে শুরু করে সরকারি কর্মকর্তাদেরও। এতে স্থানীয় রাজনীতিতে তৈরি হয়েছে তীব্র অসন্তোষ ও ক্ষোভ।

সর্বশেষ গত বুধবার সন্ধ্যায় বরিশাল সদর উপজেলার প্রায় ৪ থেকে ৫ শতাধিক নেতাকর্মী তাদের নানাবিধ দাবি ও দলীয় বিষয় নিয়ে কথা বলতে সাধুর বটতলায় অবস্থিত এমপি সরোয়ারের বাসভবনে যান। প্রতিনিধিদলে ছিলেন সদর উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সালাম রাঢ়ী, সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক জিয়াউল ইসলাম সাবু, ইউনিয়ন বিএনপির সম্পাদক আজাদী হাসানাত ফিরোজসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ স্থানীয় নেতা।

উপস্থিত নেতাকর্মীরা জানান, বিভিন্ন মাধ্যমে এমপিকে খবর পাঠানো হলেও ঘণ্টার পর ঘণ্টা তাদের বাসার সামনে বসিয়ে রাখা হয়। গভীর রাত পর্যন্ত অপেক্ষা করার পর, রাত সোয়া ১০টার দিকে কোনো সাক্ষাৎ না দিয়েই তাদের ফিরিয়ে দেওয়া হয়। নবনির্বাচিত এমপির এমন বিমুখ আচরণে ক্ষোভের আগুনে ফুঁসছেন তৃণমূলের সমর্থকেরা।

দলীয় সূত্রগুলো জানাচ্ছে, বেশ কিছুদিন ধরে বরিশাল সদর উপজেলা বিএনপির কমিটি নিয়ে চরম দ্বন্দ্ব চলছে। অভিযোগ উঠেছে, গত জুলাই মাসে সাবেক জামায়াত নেতা নুরুল আমিনকে আহ্বায়ক এবং সাইফুল ইসলাম আব্বাসকে সদস্যসচিব করে ১৬১ সদস্যের যে কমিটি গঠন করা হয়, তার পেছনে এমপি সরোয়ারের প্রত্যক্ষ প্রভাব ছিল। পদবঞ্চিত নেতাকর্মীরা এই 'বিতর্কিত' কমিটি বাতিলের দাবিতে কর্মসূচি পালন করলেও সরোয়ারের হস্তক্ষেপে হাইকমান্ড কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

রায়পাশা-কড়াপুর ইউনিয়ন বিএনপির সম্পাদক আজাদী হাসানাত ফিরোজ অভিযোগ করে বলেন, "ত্রয়োদশ নির্বাচনে ধানের শীষকে জয়ী করতে দিনরাত পরিশ্রম করেছি। অথচ এমপি হওয়ার পর তিনি স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগ ও জামায়াতঘেঁষা বিতর্কিতদের পদে বসাচ্ছেন। আর ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন না করে অপমান করছেন।"

 

এমপির বাসভবন ঘিরে একটি বিশেষ বলয় বা 'সিন্ডিকেট' গড়ে উঠেছে বলে অভিযোগ করেছেন নেতাকর্মীরা। তাদের দাবি, "ডিম রিয়াজ" ও সাব্বির নামে কতিপয় ব্যক্তির দাপটে সাধারণ নেতাকর্মী বা সাধারণ মানুষ এমপির সাথে সহজে কথা বলতে পারেন না।

কেবল দলীয় নেতাকর্মীই নন, এমপির বাসভবনে গিয়ে সরকারি কর্মকর্তাদের অপদস্থ হওয়ারও ঘটনা ঘটেছে। মাস দুয়েক আগে বরিশাল জেলার এক শীর্ষ কর্মকর্তা কথা বলতে গেলে এমপির উপস্থিতিতেই 'ডিম রিয়াজ' তাকে গালাগাল ও হেনস্থা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে তোলপাড় সৃষ্টি হলে বিএনপির শীর্ষ নেতারা এক সাংবাদিকের কাছে ক্ষমা চেয়ে পরিস্থিতি সামাল দেন।

স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একজন নির্বাচিত প্রতিনিধির এমন আচরণ কেবল রাজনৈতিক সংস্কৃতিকেই প্রশ্নবিদ্ধ করছে না, বরং আগামীতে তার নিজস্ব ভোটব্যাংকেও চরম নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। বরিশাল বিএনপির একাধিক শীর্ষ নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্বীকার করেছেন, এমপির বাসভবনে গিয়ে লাঞ্ছিত হওয়ার বিষয়টি ইতোমধ্যে কেন্দ্রীয় হাইকমান্ডের নজরে আনা হয়েছে।

উদ্বেগজনক এই পরিস্থতি ও তৃণমূলের অসন্তোষের বিষয়ে জানতে এমপি মজিবুর রহমান সরোয়ারকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। তবে তার ঘনিষ্ঠদের দাবি, বুধবার যারা এমপির বাসভবনে এসেছিলেন, তারা সিটি প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিনের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। তারা পূর্বে বর্তমান কমিটির বিরুদ্ধে প্রতিবাদী কর্মসূচি পালন করায় এমপি হয়তো ক্ষুব্ধ হয়ে সাক্ষাৎ দেননি।

সংসদীয় আসনে দলের মূল চালিকাশক্তি তৃণমূল নেতাকর্মীদের এভাবে অবমূল্যায়ন করা অব্যাহত থাকলে বরিশাল বিএনপির অভ্যন্তরীণ ফাটল আরও চওড়া হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বরিশালবাসী।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মধুপুরে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৬-২৭ উপলক্ষে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আঃ হামিদ মধুপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি

বৃহস্পতিবার, ১৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:১৬ পি.এম


মধুপুরে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৬-২৭ উপলক্ষে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

টাঙ্গাইলের মধুপুরে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৬-২৭ আয়োজন সফল করতে ইউনিয়ন ও পৌরসভা পর্যায়ে দল গঠন এবং তৃণমূল পর্যায়ে ক্রীড়া কার্যক্রম গতিশীল করার লক্ষ্যে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুরে মধুপুর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা পরিষদের হলরুমে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন মধুপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইফুল ইসলাম।

সভায় বক্তব্য দেন মধুপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাকির হোসেন সরকার, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার মোতালিব হোসেন এবং উপজেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি এম. রতন হায়দার প্রমুখ।

এ সময় উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান, সুধীজন ও সাংবাদিকেরা উপস্থিত ছিলেন।

সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায় থেকে প্রতিভাবান খেলোয়াড় খুঁজে বের করতে হবে। শিশু-কিশোরদের খেলাধুলায় আগ্রহী করে তোলা এবং তাদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশের সুযোগ সৃষ্টি করা জরুরি। এ লক্ষ্যে ইউনিয়ন ও পৌরসভা পর্যায়ে সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে দল গঠন করে ক্রীড়া কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, নিয়মিত খেলাধুলার চর্চা শিশু-কিশোরদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি তাদের মধ্যে শৃঙ্খলা, নেতৃত্বের গুণাবলি ও দলগত মনোভাব গড়ে তুলতে সহায়তা করে।

মতবিনিময় সভায় নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৬-২৭ আয়োজনকে সফল করতে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা এবং সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%