০১:১৪ পি.এম
মাদারীপুরে পুলিশ হত্যা মামলার এক আসামিকে শ্বশুরবাড়ির ধানের গোলায় লুকিয়ে থাকা অবস্থায় গ্রেপ্তার করেছে।
রোববার (২৬ জুলাই) রাজৈর উপজেলা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তি মুন্টু হোসেন (৫০) কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার তারাগুনিয়া থানা মোড় এলাকার বাসিন্দা।
আরও পড়ুন: ৯৬ লাখ টাকা চুরির ঘটনায় ভাগ নেওয়ার অভিযোগে ইউপি চেয়ারম্যান শাহ আলম গ্রেপ্তার
গত ২৩ জুলাই রাত ৯টার দিকে উপজেলার তেকালা গ্রামের একটি মাঠে সামিরুল শাহ (৬০) নামের এক চা বিক্রেতা মুন্টুর ছুরিকাঘাতে নিহত হন। সামিরুল, তেকালা পশ্চিমপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। তার আদি বাড়ি মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায়, তবে দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে তিনি এই গ্রামে বসবাস করছেন।
এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনার পর, শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাতে সামিরুলের বড় ছেলে আবু সাঈদ বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে ছিলেন মুন্টু হোসেন।
মামলার পর থেকেই মুন্টু পালিয়ে যান। তবে পুলিশ তৎপরতা থেমে থাকেনি। প্রযুক্তির সহায়তায় রোববার দুপুরে তাকে তার শ্বশুরবাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর পর সোমবার (২৭ জুলাই) বিকালে কুষ্টিয়া আদালতে জবানবন্দিতে তিনি হত্যার কথা স্বীকার করেন। পরে আদালত তাকে কারাগারে পাঠায়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, জবানবন্দিতে মুন্টু দাবি করেছেন যে সামিরুলের কাছে তিনি কয়েক লাখ টাকা পেতেন। সেই টাকা ফেরত দিতে অস্বীকার করায় তিনি কৌশলে বাড়ি থেকে ডেকে তাকে (মুন্টু) একা হত্যা করেছেন।
আরও পড়ুন: সাঈদীর মামলার বাদী মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর গার্ড অব অনার দিতে বাধার অভিযোগ
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, হত্যাকাণ্ডের সময়, মুন্টু ওই রাতেই ফোন বন্ধ করে পার্শ্ববর্তী মেহেরপুরের গাংনীতে তার এক আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নেন। সেখান থেকে फिर তিনি কুষ্টিয়া সদর উপজেলায় আরেক আত্মীয়ের কাছে চলে যান। এর মধ্যেও, মুন্টু নতুন আরেকটি সিম কিনে মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলায় তার শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে আশ্রয় নেন। সেখানে থেকে নতুন সিম দিয়ে তিনি পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
প্রযুক্তির সহায়তায় কুষ্টিয়া পুলিশ রাজৈর থানার পুলিশের সহযোগিতায় মুন্টুর শ্বশুরবাড়িতে যায়। এ সময় পুলিশ জানতে পারে, মুন্টু ওই বাড়ির উঠানে রাখা ধানের গোলার ভেতর শুয়ে ছিলেন। তল্লাশি চালিয়ে গোলার ভেতর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে দৌলতপুর থানায় নেয়া হয়। পরে সেখান থেকে মুন্টুকে কুষ্টিয়া আদালতে প্রেরণ করা হয়।
দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মুন্টু তার এক আত্মীয়ের বাড়িতে বৈঠক করার কথা বলে সামিরুলকে ডেকে নেন। এরপর রাতের বেলায় তাকে নিয়ে তেকালা মাঠের মধ্যে একটি সড়কের পাশে মাচায় সামান্য বিশ্রাম নিতে বসে ছিলেন। জায়গাটি নির্জন ছিল এবং আশপাশে কোনো বসতবাড়ি নেই।
তিনি আরও বলেন, গল্প করতে করতে একসময় সামিরুলের ঘুম ঘুম ভাব আসলে, তিনি মাচায় শুয়ে পড়লে সুযোগ বুঝে ছুরি দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে তাকে হত্যা করেন মুন্টু। হত্যার পর ছুরিটি ঘটনাস্থলের পাশের একটি ঝোপে ফেলে দেন। মুন্টুর দেখানো জায়গা থেকেই রোববার রাতে সেই ছুরিটি উদ্ধার করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: বেগমগঞ্জে তরুণ কামরুল হাসানকে গুলি করে মোটরসাইকেল ছিনতাই
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন