১১:৩৯ এম
গত ১৭ জুনের সমঝোতা চুক্তি সই করার মাধ্যমে যুদ্ধ শেষ করতে এবং জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একত্রিত হয়েছিল। তিন সপ্তাহেরও বেশি সময় অতিবাহিত হয়ে যাওয়ার পর, গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে জাহাজ চলাচলের ভবিষ্যৎ আবারও অন্ধকারের মুখে পড়েছে। এই তথ্যটি আল জাজিরার মারিয়াম আলির এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
চুক্তির পর থেকে এখন পর্যন্ত ৫০০টিরও বেশি জাহাজ হরমুজ প্রণালি পার হয়ে গেছে। তথাপি, পরিস্থিতি এখনও স্বাভাবিক হয়নি। ইরান অনুমতি ছাড়া যাওয়ার জন্য তিনটি জাহাজে হামলা করেছে সম্প্রতি। এর পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের ভূখণ্ডে তীব্র হামলা চালিয়েছে, এমনকি রাজধানী তেহরানেও আঘাত হেনেছে। এই ঘটনাবলীর পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মন্তব্য করেছেন যে শান্তি চুক্তিটি এখন 'শেষ'। পাশাপাশি, ইরানও হরমুজ প্রণালি আবার বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে।
বিশ্বের মোট তেলের প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ তেল এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন হয়। যুদ্ধের শুরুতে প্রতিদিন প্রায় ১০০টি জাহাজ চলাচল করতো। তবে গত বছর ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হলে ইরান এই পথ বন্ধ করে দেয়। ১৭ জুনের চুক্তির পর প্রথমে পথটি আবার খুললেও জাহাজ চলাচলের সংখ্যা আগের তুলনায় অনেক কমে গেছে। ১৮ জুন থেকে ৫ জুলাই পর্যন্ত মাত্র ৫১৩টি জাহাজ এই প্রণালি পার হতে পেরেছে, অর্থাৎ দিনে গড়ে মাত্র ২৮টি জাহাজ চলেছে।
আরও পড়ুন: কের বাংলাদেশ ২ লাখ ৪৫ হাজার যুবকের দক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণ শুরু
চুক্তির পর উপসাগরে ৫টি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসবের মধ্যে ২৫ জুন সিঙ্গাপুরের 'এভার লাভলি', ২৭ জুন পানামার তেলের ট্যাঙ্কার 'কিকু' এবং জুলাইয়ের ৬ ও ৭ তারিখে কাতারের 'আল রেকায়াত', সৌদির 'উইদয়ান' ও লাইবেরিয়ার একটি জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটেছে।
আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত ও হামলার ফলে প্রায় ৬,০০০ নাবিক এখনও পারস্য উপসাগরে আটকা পড়ে আছেন। বর্তমানে জাহাজ চলাচলের রুট বা পথ নিয়ে নতুন বিরোধ দেখা দিয়েছে। নাবিকরা সমুদ্রের নিচে মাইন বা বোমার আতঙ্কের জন্য আগের পথ ব্যবহার করছেন না। তারা এখন ওমান ও ইরানের জলসীমা ব্যবহার করছেন। কিন্তু ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী ক্লিয়ারভাবে জানিয়েছে, জাহাজগুলোকে তেহরানের নির্ধারিত পথেই চলতে হবে, অন্যথায়, ওমানের রুট ব্যবহার করলে হামলার শিকার হতে পারে। তাছাড়া, ইরান এই পথ ব্যবহারের জন্য ফি বা কর আদায়ের পরিকল্পনা করছে, যা ট্রাম্প করতে রাজি নন।
আরও পড়ুন: ৩ নভেম্বর ঢাকায় আসছেন সিপিসি আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইশিং
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন