বৃহস্পতিবার, ১৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০১:১৮ পি.এম
বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক মন্তব্য করেছেন যে, চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালসহ বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় সম্পদ বিদেশি কোম্পানির কাছে লিজ দেয়ার বিষয়টি উদ্বেগজনক।
তিনি বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত বিক্ষোভ কর্মসূচিতে এ মন্তব্য করেন, যেখানে চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার বিদেশী কোম্পানিকে লিজ দেয়ার সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে প্রতিবাদ জানানো হয়।
সাইফুল হক বলেন, ‘চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার, পতেঙ্গা, লালদিয়া, পানগাঁও বন্দর এবং হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল বিদেশি কোম্পানির হাতে বা লিজ দেয়ার বিষয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দর একটি লাভজনক জায়গা, যা প্রতিবছর রাষ্ট্রীয় কোষাগারে মুনাফা দিচ্ছে। এটিকে লিজ দেয়ার সিদ্ধান্ত অযৌক্তিক।’
তিনি আরও বলেন, ‘দেশের ৫৪-৫৫ বছরের ইতিহাসে নিজস্ব ব্যবস্থাপনা গড়ে না তুলে একের পর এক রাষ্ট্রীয় অবকাঠামো লিজ দেয়া জাতীয় সক্ষমতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকিস্বরূপ।’
বন্দর ও প্রধান প্রধান পরিকাঠামো লিজ দেয়ার সিদ্ধান্ত ও চুক্তি অবিলম্বে বাতিলের দাবি জানিয়ে সাইফুল হক বলেন, ‘এসব বিষয়ে বিদেশি প্রযুক্তি ও বিশেষজ্ঞের পরামর্শ গ্রহণ করা যেতে পারে, তবে ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনা নিজেদের হাতেই রাখতে হবে। জনকল্যাণ, জাতীয় নিরাপত্তা এবং জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সরকারের প্রধান দায়িত্ব হওয়া উচিত।’
সৌদি আরবে হুথি বিদ্রোহীদের সামরিক হামলার কারণে ফ্লাইট বন্ধ থাকায় ১৫ থেকে ২০ হাজার প্রবাসী কর্মী অনিশ্চয়তায় পড়েছেন উল্লেখ করে সাইফুল হক বলেন, ‘সরকারের উচিত সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে কর্মীদের দ্রুত গমনের ব্যবস্থা করা। সেখানে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসকে কর্মীদের স্বার্থরক্ষায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।’
এ সময় ভারতের নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে কোটি কোটি ভোটারকে তালিকার বাইরে রাখার অভিযোগে ‘ইন্ডিয়া জোট’ ও তরুণদের চলমান আন্দোলনে বাংলাদেশের সংহতি ও একাত্মতা প্রকাশ করেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি সাধারণ সম্পাদক।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬ : পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী সাচিং প্রু সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত প্রকল্পসমূহে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন।
আজ বাংলাদেশ সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত ‘ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্ট লাইভলিহুডস ইমপ্রুভমেন্ট অ্যান্ড ওয়াটারশেড ম্যানেজমেন্ট ইন দ্য চিটাগাং হিল ট্র্যাক্টস সেক্টর প্রজেক্ট’-এর ষষ্ঠ প্রকল্প স্টিয়ারিং কমিটির (পিএসসি) সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী উল্লেখ করেন, সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত প্রকল্পসমূহে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।
তিনি আরও বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের জন্য অন্যতম প্রধান সমস্যা হচ্ছে সুপেয় পানির সংকট। পাহাড়ি এলাকার জনগণের জন্য সুপেয় পানি সরবরাহে কার্যকর প্রকল্প গ্রহণ ও তা দ্রুত বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন।
পার্বত্য চট্টগ্রামের অপার সৌন্দর্য ও পাহাড়ি জনগণের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে সকলের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন। তিনি বলেন, প্রকল্পের কাজ ৩০ জুন বা ৩১ ডিসেম্বরের সময়সীমা সামনে রেখে শেষ করার পরিবর্তে গুণগত মান নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় ভৌগোলিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক বিবেচনায় অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের সুবিধাবঞ্চিত ও অনগ্রসর জনগণের সঙ্গে নিয়ে একটি বৈষম্যহীন ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য।
এ সময় প্রশাসনে গতিশীলতা ও সুশাসন নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তাকে সর্বোচ্চ সততা, নিষ্ঠা ও দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি।
হেলাল উদ্দীন আরও বলেন, একটি দুর্নীতিমুক্ত ও আধুনিক বাংলাদেশ গড়তে বর্তমান সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে। সৎ, দক্ষ ও প্রতিশ্রুতিশীল কর্মকর্তাদের সক্রিয় ভূমিকা এই উন্নয়নযাত্রাকে আরও বেগবান করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সভায় পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, অতিরিক্ত সচিব মো. মনিরুল ইসলাম, যুগ্মসচিব অতুল সরকার, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) যুগ্মসচিব খাদিজা পারভীন, অর্থ বিভাগের যুগ্মসচিব মুহাম্মদ আবুল কাসেম, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মোসাম্মৎ জোহরা খাতুন, পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য গৌতম কুমার চাকমা, বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য জসিম উদ্দীন এবং প্রকল্প পরিচালক পবন কুমার চাকমাসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কিশোরগঞ্জ জেলা শাখা আসন্ন দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপন এবং ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখার উদ্দেশ্যে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা আয়োজন করেছে। বুধবার রাতে জেলা শহরের নগুয়া এলাকায় জেলা জামায়াতের কার্যালয়ে এই সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক রমজান আলী। উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির অধ্যক্ষ মাওলানা আজিজুল হক, সেক্রেটারি মাওলানা নাজমুল ইসলাম এবং জেলা হিন্দু বিভাগের সেক্রেটারি কৃষ্ণ চন্দ্র বসাক।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে সভায় অংশগ্রহণ করেন সিদ্ধেশ্বরী কালীবাড়ি মন্দিরের সভাপতি রতন কুমার দাস, হিন্দু যুব মহাজোটের সাধারণ সম্পাদক কাজল দাস, গৌর নিতাই আখড়ার সাধারণ সম্পাদক সুনীল মুদক, মৃদুল কান্তি চৌধুরী, নারায়ণ চন্দ্র সরকার, বিশু কুমার গুপ্ত, রিপন চন্দ্র সূত্রধর, পলাশ চন্দ্র দাসসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।
সভায় আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষে ধর্মীয় সম্প্রীতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং সামাজিক সৌহার্দ্য বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। অংশগ্রহণকারীরা সব ধর্মের মানুষের মধ্যে সুসম্পর্ক ও পারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার বিষয়ে আলোচনা করেন।
নেতারা ধর্মীয় পরিচয় নির্বিশেষে সবার শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করার পাশাপাশি আনন্দঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
এমএইচ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় নির্মিত কালভার্টের কাজ প্রায় ৫৩ লাখ ৭১ হাজার টাকায় সম্পন্ন হলেও সংযোগ সড়ক বা অ্যাপ্রোচ তৈরি হয়নি। দুই মাস পেরিয়ে গেলেও স্থানীয় বাসিন্দারা কালভার্টটি ব্যবহার করতে পারছেন না। সংযোগ সড়ক না থাকার কারণে পূর্ব ছাতনাই ও পশ্চিম ছাতনাই ইউনিয়নের মানুষ সরকারের উন্নয়নকাজের সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, কৃষক এবং জরুরি প্রয়োজনে যাতায়াতকারীদের জন্য এটি চরম দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণের জন্য মাটি ফেলা নিয়ে বিরোধের কারণে কাজ আটকে আছে। বৃষ্টির দিনে বিকল্প সড়ক পানিতে ডুবে যাওয়ায় দুর্ভোগ আরও বৃদ্ধি পায়। গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ অবকাঠামো নির্মাণে বিপুল অর্থ ব্যয় হলেও সংযোগ সড়ক না থাকায় এটি কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। ভুক্তভোগীরা দ্রুত বিরোধ নিষ্পত্তি করে অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার পূর্ব ছাতনাই ইউনিয়নের কলোনির হাটমুখী টুনিরহাট আর অ্যান্ড এইচ–কলোনির হাট জিসি সড়কে কালভার্টটি নির্মাণ করা হয়েছে। এই সড়কটি পূর্ব ছাতনাই ও পশ্চিম ছাতনাই ইউনিয়নের বাসিন্দাদের যাতায়াতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে কালভার্টের দুই পাশে অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণ না হওয়ায় এটি দিয়ে স্বাভাবিকভাবে চলাচল করা সম্ভব হচ্ছে না।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, কালভার্ট নির্মাণের কাজ শেষ হওয়ার পর তাঁরা যোগাযোগব্যবস্থার উন্নতি এবং দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ থেকে মুক্তির প্রত্যাশা করেছিলেন। কিন্তু সংযোগ সড়ক না থাকায় সেই আশা পূরণ হয়নি। ফলে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত, কৃষকদের উৎপাদিত ফসল বাজারে নিয়ে যাওয়া এবং জরুরি প্রয়োজনে রোগী পরিবহনসহ দৈনন্দিন কাজে বাধার সম্মুখীন হতে হচ্ছে।
পূর্ব ছাতনাইয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী হাবিব ইসলাম বলেন, "কালভার্ট নির্মাণ হলেও অ্যাপ্রোচ সড়ক না থাকায় এটি দিয়ে চলাচল করতে পারছি না। বৃষ্টির দিনে বেশি কষ্ট হয়। বাইপাস সড়ক পানিতে ডুবে যায়, আর কালভার্টের দুই পাশে গর্ত থাকায় হামাগুড়ি দিয়ে পার হতে হয়।" তিনি আরও বলেন, "দুই পাশে অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণ করা হলে যানবাহন নিয়েও চলাচল করা সম্ভব হবে।"
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল খালেক এবং কৃষক সফর আলী জানান, বিপুল অর্থ খরচে নির্মিত এই কালভার্টটি এখন জনগণের কোনো কাজে আসছে না। তারা দ্রুত সড়কটি চলাচলের উপযোগী করার দাবি জানান।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি রবিউল ইসলাম বলেন, "কালভার্ট নির্মাণের কাজ শেষ হয়েছে। তবে অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণের জন্য মাটি ফেলা নিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কিছুটা জটিলতা তৈরি হয়েছে। এ কারণে কাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি। সমস্যা সমাধানের চেষ্টা চলছে।"
ডিমলা উপজেলা প্রকৌশলী মফিজুর রহমান জানান, "কালভার্টটি নির্মাণ করা হয়েছে, তবে প্রকল্প এখনো অনুমোদন হয়নি। এ কারণে ঠিকাদার এখনো বিল করতে পারেননি। বাইপাস সড়ক নির্মাণের জন্য ঠিকাদার যে মাটি ফেলেছেন, স্থানীয় লোকজন তা কাটতে দিচ্ছেন না। এ সড়কের মাটি অ্যাপ্রোচ সড়কে ফেলা হবে। আশা করি, বিষয়টি দ্রুত সমাধান হয়ে যাবে।"
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইমরানুজ্জামান বলেন, "অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণের মাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে কিছুটা সমস্যা হয়েছে। উপজেলা প্রকৌশলীকে পাঠিয়ে দ্রুত সময়ের মধ্যে বিষয়টি সমাধানের ব্যবস্থা করা হবে।"
এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে গ্রামীণ সড়ক মেরামত ও সংরক্ষণের আওতায় টুনিরহাট আর অ্যান্ড এইচ–কলোনির হাট জিসি সড়কে বক্স কালভার্টটির প্রাক্কলিত ব্যয় ছিল ৫৬ লাখ ৫২ হাজার ৭১৩ টাকা। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান 'এন অ্যান্ড সন্স' ৫৩ লাখ ৭০ হাজার ৭৭৭ টাকায় কাজ সম্পন্ন করে। স্থানীয়দের দাবি, "আর প্রতিশ্রুতি নয়, দ্রুত মাটি কাটার বিরোধ নিষ্পত্তি করে সড়কটি চলাচলের উপযোগী করা হোক।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মানিকগঞ্জে বিশ্ব সাদাছড়ি নিরাপত্তা দিবস উদযাপন করা হয়েছে, যেখানে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নিরাপদ চলাচল, অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানানো হয়েছে। এই অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা এবং দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের মাঝে সাদাছড়ি বিতরণ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়। শোভাযাত্রার পর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। ‘দৃষ্টি যেখানে সীমিত, সম্ভাবনা সেখানে সীমাহীন’ এই প্রতিপাদ্যে জেলা প্রশাসন, জেলা সমাজসেবা কার্যালয় এবং মানিকগঞ্জ প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্র যৌথভাবে এই কর্মসূচির আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা। জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক মোহাম্মদ আব্দুল বাতেনের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য প্রদান করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ আলী, পুলিশ সুপারের প্রতিনিধি মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, মানিকগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম বিশ্বাস, জেলা পরিসংখ্যান কার্যালয়ের উপপরিচালক মিনার উদ্দিন, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা রুশিয়া আক্তার, সমন্বিত দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষা কার্যক্রমের রিসোর্স শিক্ষক নিয়াজ মোর্শেদ, প্রতিবন্ধীবিষয়ক কর্মকর্তা জোবায়দা গুলশান আরা, মানিকগঞ্জ সিআরপির অধ্যক্ষ মাহবুবুল ইসলাম, বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান খান এবং প্রতিবন্ধী সংগঠন এমডিপিওডির পরিচালক এন্তাজ আলীসহ অন্যান্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
সভায় বক্তারা উল্লেখ করেন, সাদাছড়ি দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের স্বাধীন ও নিরাপদে চলাচলের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক উপকরণ। তাঁদের আত্মনির্ভরশীলতা বৃদ্ধি এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করতে সাদাছড়ির ব্যবহার সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে।
তারা আরও বলেন, দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা কেবল সরকারের দায়িত্ব নয়, বরং সমাজের প্রতিটি মানুষের নৈতিক দায়িত্ব। সড়ক পারাপারে তাঁদের সহযোগিতা করা, সাদাছড়ি ব্যবহারকারীদের নির্বিঘ্নে চলাচলের সুযোগ দেওয়া এবং ফুটপাত ও গণপরিবহনে প্রতিবন্ধীবান্ধব পরিবেশ তৈরি করা অত্যন্ত জরুরি।
বক্তারা ফুটপাত ও প্রয়োজনীয় স্থানে ট্যাকটাইল টাইলস স্থাপনের পাশাপাশি দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের চলাচল উপযোগী অবকাঠামো গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে তাঁদের অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন ও সাধারণ মানুষকে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
সভায় প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্রের মাধ্যমে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের বিনামূল্যে থেরাপি, কাউন্সেলিং এবং চলাচলের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়ার বিষয়টিও আলোচনা করা হয়। আলোচনা সভার শেষে নিবন্ধিত দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মাঝে বিনামূল্যে সাদাছড়ি বিতরণ করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ