০৬:৪৩ পি.এম
শ্রমিক অসন্তোষের বিষয়টি নিয়ে করণীয় নির্ধারণের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজের কার্যালয়ে কিছু মন্ত্রী ও উপদেষ্টাকে ডেকেছেন।
এই বৈঠকটি রোববার (১ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা গেছে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একটি সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রী ছয় থেকে সাতজন মন্ত্রী ও উপদেষ্টাকে বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করার জন্য ডেকেছেন। অর্থ, স্বরাষ্ট্র ও শ্রম মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীসহ অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এবং উপদেষ্টা মাহদী আমিন বৈঠকে উপস্থিত থাকতে পারেন। মাগরিবের নামাজের পর বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশের পোশাকশিল্প: সংকট ও উত্তরণের জন্য জাতীয় কর্মপরিকল্পনার প্রয়োজন
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও শ্রম মন্ত্রণালয়ের সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, শ্রমমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী দুপুর ১টার দিকে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।
এর আগে সকাল সাড়ে ১১টার দিকে পোশাকশ্রমিকদের মজুরি পর্যালোচনার জন্য সরকার একটি মজুরি বোর্ড গঠন করেছে।
সূত্র জানায়, শ্রমিক অসন্তোষ মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী দুই দিন আগে নির্দেশনা দিয়েছিলেন। তবে শ্রম মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে শ্রমিক প্রতিনিধির মনোনীত ব্যক্তির নাম পেতে কিছু সময় লেগেছে, যার কারণে মজুরি বোর্ড গঠনে দেরি হয়েছে।
সচিবালয়ে মজুরি বোর্ড গঠনের ঘোষণা দিয়ে আরিফুল সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা আশা করি, দ্রুততম সময়ে বোর্ড বসবে এবং এটিকে একটি পর্যায়ে নিয়ে যাবে।’
আরও পড়ুন: আজ ৬ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়
তিনি আরও বলেন, ‘শ্রমিকদের দাবি ছিল মজুরি বোর্ড। আজকে মজুরি বোর্ড গঠন করা হলো। আশা করি, এখন তারা রাস্তা ছেড়ে কলকারখানায় যোগ দেবে।’
‘শ্রমিক নেতারা আমাদের সঙ্গে বসে আহ্বান জানালো, সরকার রোববার মজুরি বোর্ড গঠন করবে, শ্রমিক ভাই-বোনরা তোমরা কলকারখানায় থাকো। কিন্তু আজ কয়েকটি কারখানায় অহেতুক ছুটি ঘোষণা করে দেওয়া হলো। তাদের বলা হলো, এখনো (মজুরি বোর্ড) ঘোষণা হয়নি। অথচ তাদের নেতাদের সঙ্গে নিয়েই ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, আমরা আজ (বোর্ড) ঘোষণা দেবো,’ তিনি যোগ করেন।
তিনি আরও বলেন, ‘আমার মনে হয় এটা খুবই পরিষ্কার, পরিকল্পিতভাবে কয়েকটি রাজনৈতিক সংগঠন এই কাজগুলো করছে, যাতে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি হয়। আমার মনে হয়, জনগণ ও শ্রমিকরা এ ব্যাপারে পরিষ্কার হয়ে যাবে।’
ডিসেম্বরকে টার্গেট করে শ্রমিক অসন্তোষ হচ্ছে বলে মনে করছেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে শ্রমমন্ত্রী গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, ‘অবশ্যই! এটা তো পরিষ্কার। একটি ছাত্র সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদককে দেখা গেছে শ্রমিক সেজে সেখানে (ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে চলা আন্দোলনে) গেছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় তাদের ছবিও প্রকাশিত হয়েছে।’
আরও পড়ুন: জাতীয় নাগরিক পার্টি থেকে সামান্তা শারমিনের পদত্যাগ
কোন ছাত্র সংগঠন জানতে চাইলে তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, ‘নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্র সংগঠন!’
এদিকে, মজুরি বোর্ডের চেয়ারম্যানকে মালিক ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের পাশাপাশি স্বাধীন সদস্যদের সঙ্গে পরামর্শ করে পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের প্রক্রিয়া শুরু করতে বলা হয়েছে। তবে বোর্ডের প্রথম বৈঠকের কোনো তারিখ নির্ধারণ করা হয়নি। নতুন মজুরি কাঠামো ঘোষণার সময়সীমাও জানানো হয়নি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন