ঢাকা শুক্রবার, ০৬ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২১শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৫শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ০৬ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২১শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

জুমাবারে ১৫টি আমল গুনাহ মাফ করে


জুমাবারে ১৫টি আমল গুনাহ মাফ করে

জুমার দিন সপ্তাহের শ্রেষ্ঠ দিন হিসেবে বিবেচিত। আল্লাহ তাআলা এই দিনকে অন্যান্য দিনের তুলনায় শ্রেষ্ঠত্ব প্রদান করেছেন। ফলে, জুমার দিনে মুমিনদের হৃদয়ে এক অপার্থিব সুখের অনুভূতি সৃষ্টি হয়। পারস্পরিক সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি এবং ভালোবাসার আলো ছড়িয়ে পড়ে। এই দিন বিশেষ কিছু ইবাদত ও আমল রয়েছে, যা মহানবী (সা.)-এর জীবনে দেখা যায়। নিচে সেগুলোর আলোচনা করা হলো—

১. জুমাবারের ফজরের তিলাওয়াত করা : আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (সা.) শুক্রবার ফজরের নামাজে সুরা আস-সিজদা এবং সুরা আল-ইনসান তিলাওয়াত করতেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ১০৬৮)

জুমার দিনে এই সুরা তিলাওয়াত করার কারণ হলো, এই সুরাতে আদম (আ.)-এর সৃষ্টির কথা, পুনরুত্থানের বিষয় এবং কিয়ামতের দিন সমবেত হওয়ার আলোচনা রয়েছে। তাই এই সুরা পাঠ করে উম্মতকে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন: বিপথগামী যুবসমাজকে আলোর পথে ফেরাতে ইসলামি অনুশাসন জরুরি: ড. খন্দকার মারুফ

২. বেশি পরিমাণে দরুদ শরিফ পড়া : রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "তোমরা জুমার দিন আমার ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ করো। কেননা তোমাদের পাঠকৃত দরুদ আমার সামনে পেশ করা হয়।" (আবু দাউদ, হাদিস : ১০৪৭)

৩. জুমার নামাজ আদায় করা : ইসলামের ফরজ বিধানগুলোর মধ্যে জুমার নামাজ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আরাফার দিবসের পর এদিন সবচেয়ে বেশি মানুষ একত্রিত হয়। যারা জুমার নামাজকে অলসতা বা তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে ছেড়ে দেয়, তাদের হৃদয়ে আল্লাহ তাআলা মোহর মেরে দেন।

৪. গোসল করা : এই দিনে বিশেষভাবে গোসল করার তাগিদ এসেছে। সালিম (রহ.) তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণনা করেন, তিনি নবী (সা.)-কে বলতে শুনেছেন, "যে ব্যক্তি জুমার নামাজে আসে সে যেন গোসল করে আসে।" (তিরমিজি, হাদিস : ৪৯২)

৫. সুগন্ধি ব্যবহার করা : অন্য দিনের তুলনায় এদিন বেশি সুগন্ধি ব্যবহার করা উত্তম। আবু সাইদ খুদরি (রা.) বলেন, "আমি এ মর্মে সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন, জুমার দিন সুগন্ধি পাওয়া গেলে তা ব্যবহার করবে।" (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৮৮০)

আরও পড়ুন: ৪১ দিনের নামাজ আদায় করে পুরস্কার পেলেন ১৩ শিশু কিশোর

৬. দ্রুত মসজিদে যাওয়া : জুমার দিনের ফজিলত লাভের জন্য এই আমল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই এদিকে বিশেষভাবে মনোযোগী হওয়া উচিত।

৭. ইবাদতে মশগুল থাকা : ইমাম জুমার নামাজে আসার পূর্ব পর্যন্ত নামাজ, জিকির ও তিলাওয়াতে রত থাকা।

৮. খুতবার সময় সম্পূর্ণ নিশ্চুপ থাকা : আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেন, "যে ব্যক্তি জুমার দিন ইমামের খুতবা দেওয়ার সময় তার সঙ্গীকে বলল, ‘চুপ থাকো’ সে একটি অনর্থক কাজ করল।" (সুনানে নাসায়ি, হাদিস : ১৪০১)

৯. সুরা কাহফ পড়া : আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেন, "যে ব্যক্তি জুমার দিন সুরা কাহফ পাঠ করবে তার জন্য দুই জুমার মধ্যবর্তীকাল জ্যোতির্ময় হবে।" (আত-তারগিব, হাদিস : ৭৩৫)

আরও পড়ুন: ফ্রিতে ওমরাহ করার বিশাল সুযোগ, আবেদন করবেন যেভাবে

১০. জুমার নামাজের নির্ধারিত সুরা পাঠ করা : নুমান ইবনে বশির (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) দুই ঈদের নামাজে ও জুমার নামাজে ‘সাব্বিহিসমা রব্বিকাল আলা’ ও ‘হাল আতা-কা হাদিসুল গা-শিয়াহ’ সুরা দুটি পাঠ করতেন। (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১৯১৩)

কিছু বর্ণনায় এসেছে, রাসুল (সা.) সুরা জুমুআ ও সুরা আলা তিলাওয়াত করতেন।

১১. পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর কাপড় পরিধান করা : আবু জার (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেন, "যে ব্যক্তি জুমার দিন উত্তমরূপে গোসল করে, উত্তমরূপে পবিত্রতা অর্জন করে, তার উৎকৃষ্ট পোশাক পরিধান করে এবং আল্লাহ তার পরিবারের জন্য যে সুগন্ধির ব্যবস্থা করেছেন, তা শরীরে লাগায়, এরপর জুমার সালাতে এসে অনর্থক আচরণ না করে এবং দুজনের মাঝে ফাঁক করে অগ্রসর না হয়, তার এক জুমা থেকে পরবর্তী জুমার মধ্যবর্তী সময়ের গুনাহ ক্ষমা করা হয়।" (সুনানে ইবনে মাজা, হাদিস : ১০৯৭)

১২. মসজিদে সুগন্ধি লাগানো : ওমর (রা.) জুমার দিন দ্বিপ্রহরে মসজিদে সুগন্ধি লাগানোর জন্য আদেশ করেছেন।

আরও পড়ুন: নারীর নিরাপত্তায় পুরুষ বডিগার্ড: ইসলাম কী নির্দেশ করে?

১৩. ক্ষমা প্রার্থনা করা : এদিন মহান রবের পক্ষ থেকে গুনাহ মাফের বারি বর্ষিত হয়। মহানবী (সা.) বলেছেন, "যদি কোনো মুসলিম পবিত্র হয়ে জামে মসজিদের দিকে হাঁটতে থাকে, এরপর ইমাম নামাজ শেষ করা পর্যন্ত নীরব থাকে, তাহলে এ নামাজ এই জুমা থেকে পরবর্তী জুমা পর্যন্ত তার গুনাহের কাফফারা (মোচনকারী) হয়ে যাবে, যদি ধ্বংসকারী তথা কবীরা গুনাহ থেকে বেঁচে থাকে।" (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস ২৩৭২৯)

১৪. মৃতদের জন্য দোয়া করা : জুমার দিন কবরের আজাব মাফ হয়ে যায়। আবু কাতাদাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, মহানবী (সা.) জুমার দিন ছাড়া (অন্য দিন) ঠিক দুপুরে নামাজ আদায় করা অপছন্দ করতেন। তিনি বলেছেন, "জুমার দিন ছাড়া (অন্যান্য দিনে) জাহান্নামের আগুনকে উত্তপ্ত করা হয়।" (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস : ১০৮৩)

জুমার দিনে বা রাতে যে মারা যাবে, তার জন্য কবরের আজাব উঠিয়ে নেওয়া হবে, এটি এই হাদিস থেকে প্রমাণিত। তবে কিয়ামত পর্যন্ত আজাব দেওয়া হবে না, এটি নিশ্চিত নয়।

১৫. বেশি বেশি দোয়া করা : বিশেষ সময়ে দোয়া কবুল হয়। আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেন, "জুমার দিনের মধ্যে অবশ্যই এমন একটি মুহূর্ত আছে, যখন কোনো মুসলিম আল্লাহর কাছে কল্যাণ প্রার্থনা করে নিশ্চয়ই তিনি তাকে তা দান করেন।" তিনি বলেন, "সে মুহূর্তটি অতি স্বল্প।" (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১৮৫৮)

আরও পড়ুন: দেওবন্দের ফতোয়া: এনএফটি ট্রেজার প্ল্যাটফর্মে বিনিয়োগ ও কমিশন আয়ের পদ্ধতি শরিয়াহসম্মত নয়

বেশির ভাগের মতে, সে সময়টি আসরের পর থেকে মাগরিবের আগ মুহূর্ত। (জাদুল মাআদ থেকে সংক্ষেপিত)

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

৬ নভেম্বর: ইতিহাসের এই দিনে ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য ঘটনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৬ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:৪৮ এম


৬ নভেম্বর: ইতিহাসের এই দিনে ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য ঘটনা

প্রতিদিনের উল্লেখযোগ্য ঘটনাগুলো কালক্রমে ইতিহাসের অংশ হয়ে ওঠে। ইতিহাস সাক্ষী হয় ভালো-মন্দ, সাফল্য-ব্যর্থতা, প্রথম অর্জন কিংবা মানবসভ্যতার অভিশাপ ও আশীর্বাদ—সবকিছুর। ইতিহাস আমাদের নতুন নতুন দিগন্তের দিকে পথ দেখায়।

আজ শুক্রবার (৬ নভেম্বর), ২০২৬। ইতিহাসের দৃষ্টিকোণ থেকে এই দিনটি বিভিন্ন উল্লেখযোগ্য ঘটনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ও স্মরণীয়। চলুন, একনজরে দেখে নেওয়া যাক ইতিহাসের এই দিনে ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য ঘটনা, বিশিষ্টজনদের জন্ম-মৃত্যুদিনসহ গুরুত্বপূর্ণ আরও কিছু বিষয়।

ঘটনাবলি

৪৪৭ - একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প কনস্টান্টিনোপলের প্রাচীরের বড় অংশসহ ৫৭টি টাওয়ার ধ্বংস করে।

৯৬৩ - রোমে রোমের সিনড অনুষ্ঠিত হয়; সম্রাট প্রথম অটো সেন্ট পিটার্স ব্যাসিলিকায় কাউন্সিল আহ্বান করেন এবং পোপ দ্বাদশ জনকে ক্ষমতাচ্যুত করেন।

১২১৭ - ইংল্যান্ডের রাজা তৃতীয় হেনরির পক্ষে সেন্ট পল’স ক্যাথেড্রালে চার্টার অফ দ্য ফরেস্ট সিলমোহর করা হয়।

১৭৬৩ - নবাব মীর কাশিমের কাছ থেকে ব্রিটিশরা পাটনা দখল করে।

১৭৯২ - ফরাসি বিপ্লবী যুদ্ধে জেমাপের যুদ্ধ সংঘটিত হয়।

১৮১৩ - মেক্সিকোর স্বাধীনতা ঘোষণা করা হয়।

১৮৬০ - আব্রাহাম লিংকন মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হন।

১৮৬৯ - নিউ ব্রান্সউইকে রাটগার্স কলেজ প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়কে ৬-৪ ব্যবধানে পরাজিত করে; এটি প্রথম আনুষ্ঠানিক আন্তঃকলেজ আমেরিকান ফুটবল খেলা।

১৮৮৪ - ডমিনিকান রিপাবলিকের সংবিধান প্রতিষ্ঠিত হয়।

১৯০০ - প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম ম্যাককিনলি উপরাষ্ট্রপতি প্রার্থী থিওডোর রুজভেল্টকে নিয়ে পুনরায় নির্বাচিত হন।

১৯১৭ - লেলিনের নেতৃত্বে রাশিয়ার সশস্ত্র সংগ্রাম শুরু হয়।

১৯৩৬ - স্পেনের গৃহযুদ্ধে প্রজাতন্ত্রী সরকার মাদ্রিদ থেকে ভ্যালেন্সিয়ায় পালিয়ে যায় এবং মাদ্রিদ প্রতিরক্ষা কাউন্সিল গঠিত হয়।

১৯৪৩ - দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ১ম ইউক্রেনীয় ফ্রন্ট জার্মান দখল থেকে কিয়েভ মুক্ত করে।

১৯৪৭ - ইতিহাসের দীর্ঘতম টেলিভিশন অনুষ্ঠান মিট দ্য প্রেস এনবিসি টেলিভিশনে আত্মপ্রকাশ করে।

১৯৫২ - প্রশান্ত মহাসাগরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম হাইড্রোজেন বোমার বিস্ফোরণ ঘটে।

১৯৬২ - দক্ষিণ আফ্রিকাকে জাতিসংঘ থেকে বহিষ্কার করা হয়।

১৯৬৩ - দক্ষিণ ভিয়েতনামে জেনারেল ডুয়ং ভান মিনের জান্তা গুয়েন গোক থোকে সরকার প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেয়।

১৯৭১ - মার্কিন পারমাণবিক শক্তি কমিশন আমচিৎকা দ্বীপে কোডনাম ক্যানিকিন বৃহত্তম ভূগর্ভস্থ হাইড্রোজেন বোমার পরীক্ষা চালায়।

১৯৭৫ - আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম, বাংলাদেশের প্রথম প্রধান বিচারপতি, দেশটির ষষ্ঠ রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

১৯৭৬ - ভারতের জরুরি অবস্থার সময় হরিয়ানার পালওয়াল জেলার উত্তাওয়ার গ্রামে প্রায় ৮০০ পুরুষের জোরপূর্বক বন্ধ্যাকরণ করা হয়।

১৯৭৭ - জর্জিয়ার টোকোয়া ফলস কলেজের কাছে কেলি বার্নস বাঁধ ধসে ৩৯ জন নিহত হন।

১৯৮৫ - আলী হাসান মুইনি তানজানিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।

১৯৮৫ - কলম্বিয়ায় ১৯শে এপ্রিল আন্দোলনের বামপন্থী গেরিলারা বোগোটার বিচার প্রাসাদ দখল করে।

১৯৮৬ - সামবার্গ বিপর্যয়ে ব্রিটিশ ইন্টারন্যাশনাল হেলিকপ্টারের বোয়িং চিনুক হেলিকপ্টার সামবার্গ বিমানবন্দরের কাছে বিধ্বস্ত হয়ে ৪৫ জন নিহত হন।

১৯৮৮ - চীনের জুনান প্রদেশে ভূমিকম্পে প্রায় ১ হাজার লোকের প্রাণহানি ঘটে।

১৯৯০ - পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নওয়াজ শরিফ শপথ গ্রহণ করেন।

১৯৯১ - ফিলিপাইনে টাইফুনে ৭ সহস্রাধিক লোকের মৃত্যু ঘটে।

১৯৯২ - তাতারস্তান এর সংবিধান প্রতিষ্ঠিত হয়।

১৯৯৪ - তাজিকিস্তান এর সংবিধান প্রতিষ্ঠিত হয়।

১৯৯৫ - ক্লিভল্যান্ড ব্রাউনস দলকে বাল্টিমোরে স্থানান্তরের চুক্তি ঘোষণা করা হয়।

১৯৯৬ - বিল ক্লিনটন পুনরায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।

২০০২ - চীনা পুলিশ জিয়াং লিজুনকে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির ১৬তম জাতীয় কংগ্রেসে খোলা চিঠিতে স্বাক্ষরের জন্য আটক করে।

২০০২ - লুক্সএয়ার ফ্লাইট ৯৬৪২ লুক্সেমবার্গ বিমানবন্দরের কাছে বিধ্বস্ত হয়ে ২০ জন নিহত হন।

২০০৪ - ইংল্যান্ডের আফটন নারভেট গ্রামের কাছে একটি এক্সপ্রেস ট্রেন স্থির গাড়ির সঙ্গে সংঘর্ষে ৭ জন নিহত ও ১২০ জন আহত হন।

২০১২ - ট্যামি বাল্ডউইন প্রথম প্রকাশ্যে সমকামী রাজনীতিবিদ হিসেবে মার্কিন সিনেটে নির্বাচিত হন।

২০১৬ - সিরীয় গৃহযুদ্ধে সিরীয় গণতান্ত্রিক বাহিনী রাক্কা দখলে আইএসআইএল এর বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করে।

২০২৫ - কানাডা সরকার ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার এজউডে একটি খামারে এইচ৫এন৮ শনাক্ত হওয়ায় ৩১৪টি উটপাখি হত্যা করে।

জন্ম

১৪৯৪ - প্রথম সুলাইমান, উসমানীয় সাম্রাজ্যের দশম এবং সবচেয়ে দীর্ঘকালব্যাপী শাসনকারী সুলতান।

১৮১৪ - অ্যাডলফ স্যাক্স, বেলজীয় বংশোদ্ভূত ফরাসি যন্ত্রপ্রকৌশলী ও স্যাক্সোফোনের উদ্ভাবক।

১৮৪১ - আরমান্ড ফালিয়েরেস, ফরাসি রাজনীতিবিদ ও ৯ম রাষ্ট্রপতি।

১৮৫১ - চার্লস ডও, মার্কিন সাংবাদিক ও অর্থনীতিবিদ।

১৮৭০ - বলেন্দ্রনাথ ঠাকুর, ঠাকুর পরিবারের সদস্য কবি ও প্রাবন্ধিক।

১৯২১ - জেমস জোনস, মার্কিন সৈনিক, সাংবাদিক ও লেখক।

১৯২৫ - মাইকেল বউকুয়েট, ফরাসি অভিনেতা।

১৯২৬ - হারাধন বন্দ্যোপাধ্যায়, ভারতীয় বাংলা চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন অভিনেতা।

১৯৩১ - আনোয়ার হোসেন, বাংলাদেশি অভিনেতা।

১৯৩২ - ফ্রাঁসোয়া অ্যাংলার্ট, নোবেল পুরস্কার বিজয়ী বেলজীয় পদার্থবিদ ও শিক্ষাবিদ।

১৯৩৪ - অতীন বন্দ্যোপাধ্যায়, সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত ভারতীয় বাঙালি লেখক।

১৯৪৪ - আলী যাকের, বাংলাদেশি টেলিভিশন ও মঞ্চ অভিনেতা।

১৯৪৭ - ক্যারোলিন সেয়মউর, ইংরেজ অভিনেত্রী।

১৯৫৫ - মারিয়া শ্রিভার, মার্কিন সাংবাদিক ও লেখক।

১৯৭২ - থান্ডি নিউটন, ইংরেজ অভিনেত্রী ও গায়িকা।

১৯৮৭ - আনা ইভানোভিচ, সার্বীয় টেনিস খেলোয়াড়।

১৯৮৮ - এমা স্টোন, মার্কিন অভিনেত্রী।

১৯৯০ - আন্দ্রে হোর্স্ট শুর্লে, জার্মান ফুটবল খেলোয়াড়।

২০০৪ - মোঃ মেহেদুল হাসান, বাংলাদেশি লেখক, জন্মস্থান: মহিমাগঞ্জ গোবিন্দগঞ্জ গাইবান্ধা।

মৃত্যু

৬৪৪ - উমর ইবনুল খাত্তাব, খলিফা।

১৪৯২ - আন্টইনে বুস্নইস, ফরাসি সুরকার ও কবি।

১৯৪১ - মরিস লি ব্লাঞ্চ, ফরাসি লেখক।

১৮৩৬ - দশম চার্লস, ফ্রান্সের রাজা।

১৯৬৪ - হান্স ভন ইউলার-ছেলপিন, নোবেল পুরস্কার বিজয়ী জার্মান সুইস প্রাণরসায়নবিজ্ঞানী ও শিক্ষাবিদ।

১৯৭০ - নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়, ভারতীয় বাঙালি লেখক।

১৯৮৫ - সঞ্জীব কুমার, একজন ভারতীয় অভিনেতা যিনি বলিউড চলচ্চিত্রে অভিনয় করতেন।

১৯৯১ - জিন টিয়েরনেয়, আমেরিকান অভিনেত্রী ও গায়িকা।

২০০৭ - হিলডা ব্রাইড, ইংরেজ অভিনেত্রী।

২০১০ - সিদ্ধার্থশঙ্কর রায়, প্রখ্যাত ব্যারিস্টার, ভারতের জাতীয় কংগ্রেসের সদস্য, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী, পাঞ্জাবের রাজ্যপাল ও পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী।

২০২১ - বিশিষ্ট ভারতীয় বাঙালি সংগীতশিল্পী অরুণ দত্ত।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জুমার খুতবা দাঁড়িয়ে দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৬ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:৪৯ এম


জুমার খুতবা দাঁড়িয়ে দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন

জুমার খুতবা ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ আমল হিসেবে বিবেচিত। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নত হলো দাঁড়িয়ে খুতবা দেওয়া। তিনি নিয়মিতভাবে দাঁড়িয়ে খুতবা দিতেন এবং দুই খুতবার মাঝে কিছু সময় বসতেন। বিশেষ কোনো কারণে বসে খুতবা দেওয়ার বিধান সম্পর্কে জানা প্রয়োজন। এ বিষয়ে হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে একটি বর্ণনা রয়েছে—

كَانَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ يَخْطُبُ يَوْمَ الْجُمُعَةِ قَائِمًا ثُمَّ يَجْلِسُ ثُمَّ يَقُومُ

‘জুমার দিন রাসুলুল্লাহ (সা.) দাঁড়িয়ে খুতবা দিতেন। এরপর বসতেন, তারপর আবার দাঁড়িয়ে খুতবা দিতেন।’ (মুসলিম ৮৬১)

এই হাদিস থেকে প্রতীয়মান হয় যে, দাঁড়িয়ে খুতবা দেওয়া রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নিয়মিত আমল ছিল। তাই সক্ষম ইমামের জন্য দাঁড়িয়ে খুতবা দেওয়া সুন্নত হিসেবে গণ্য হয়।

তবে যদি কোনো ইমাম অসুস্থতা, শারীরিক দুর্বলতা অথবা অন্য কোনো গ্রহণযোগ্য ওজরের কারণে দাঁড়িয়ে খুতবা দিতে না পারেন, তাহলে বসে খুতবা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। হজরত ওসমান (রা.) এবং হজরত মুআবিয়া (রা.)-এর শেষ বয়সে বসে খুতবা দেওয়ার বিষয়টি বিভিন্ন বর্ণনায় উল্লেখ করা হয়েছে।

অতএব, ওজরের কারণে ইমাম বসে খুতবা দিলেও জুমার নামাজ শুদ্ধ হবে। কিন্তু বিনা ওজরে বসে খুতবা দেওয়া রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নিয়মিত সুন্নতের পরিপন্থি। ফকিহদের মধ্যে অনেকেই একে মাকরুহ বলেছেন।

খুতবা শোনার বিধান

জুমার খুতবা শুধুমাত্র আনুষ্ঠানিক বক্তব্য নয়; এটি মুসলমানদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দ্বীনি নসিহত ও উপদেশ। তাই খুতবা চলাকালে মনোযোগ দিয়ে তা শোনা এবং অপ্রয়োজনীয় কথা ও কাজ থেকে বিরত থাকা অত্যন্ত জরুরি।

রাসুলুল্লাহ (সা.) খুতবা চলাকালে কথা বলার ব্যাপারে কঠোর সতর্কবাণী উচ্চারণ করেছেন। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

إِذَا قُلْتَ لِصَاحِبِكَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ أَنْصِتْ وَالْإِمَامُ يَخْطُبُ فَقَدْ لَغَوْتَ

‘জুমার দিন ইমাম যখন খুতবা দিচ্ছেন, তখন তুমি যদি তোমার সঙ্গীকে বলো, ‘চুপ করো’, তাহলেও তুমি অনর্থক কাজ করলে।’ (বুখারি ৯৩৪, মুসলিম ৮৫১)

এই হাদিস থেকে বোঝা যায়, খুতবা চলাকালে অপ্রয়োজনীয় কথাবার্তা বলা থেকে বিরত থাকা কতটা জরুরি। এমনকি অন্যকে চুপ থাকতে বলার মতো কথাও অনর্থক কাজ হিসেবে গণ্য হয়েছে। তাই মুসল্লিদের উচিত খুতবা শুরু হওয়ার আগেই মসজিদে উপস্থিত হওয়া, নীরব থাকা এবং ইমামের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনা।

জুমার খুতবা ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। এ সময় ইমামের উচিত রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নত অনুসরণ করে দাঁড়িয়ে খুতবা দেওয়া। সুতরাং সক্ষম ইমামের জন্য দাঁড়িয়ে খুতবা দেওয়া সুন্নত। তবে অসুস্থতা বা গ্রহণযোগ্য ওজর থাকলে বসে খুতবা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। তাই শরিয়তের বিধান অনুযায়ী সুন্নতের অনুসরণ করা প্রত্যেক ইমামের কর্তব্য।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন মার্কেট ও জাদুঘর বন্ধ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৬ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:৪৯ এম


শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন মার্কেট ও জাদুঘর বন্ধ

মানুষ বিভিন্ন প্রয়োজনে দোকানপাট ও মার্কেটে যায়। কিন্তু যদি তারা তীব্র যানজট পেরিয়ে গিয়ে দেখে সব দোকানপাট বন্ধ, তাহলে তাদের সব প্রচেষ্টা বিফলে যাবে। তাই শুক্রবার রাজধানীর কোন কোন এলাকায় দোকানপাট ও মার্কেট বন্ধ থাকবে, তা জানা জরুরি।

বন্ধ থাকবে যেসব শপিং সেন্টার

আজিমপুর সুপার মার্কেট, গুলিস্তান হকার্স মার্কেট, ফরাশগঞ্জ টিম্বার মার্কেট, শ্যামবাজার পাইকারি দোকান, সামাদ সুপার মার্কেট, রহমানিয়া সুপার মার্কেট, ইদ্রিস সুপার মার্কেট, দয়াগঞ্জ বাজার, ধূপখোলা মাঠ বাজার, চক বাজার, বাবু বাজার, নয়া বাজার, কাপ্তান বাজার, রাজধানী সুপার মার্কেট, দয়াগঞ্জ সিটি করপোরেশন মার্কেট, ইসলামপুর কাপড়ের দোকান, ছোট কাটরা, বড় কাটরা হোলসেল মার্কেট, শারিফ ম্যানসন, ফুলবাড়িয়া মার্কেট, সান্দ্রা সুপার মার্কেট।

যেসব দর্শনীয় স্থান বন্ধ

সামরিক জাদুঘর: বিজয় সরণিতে অবস্থিত। এটি প্রতিদিন সকাল ১০টা ৩০ মিনিট থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত খোলা থাকে। বৃহস্পতি ও শুক্রবার এটি সাপ্তাহিক বন্ধ থাকে।

জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘর, আগারগাঁও: এটি বৃহস্পতি ও শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির কারণে বন্ধ থাকে। শনি থেকে বুধবার প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত খোলা থাকে। প্রবেশমূল্য জনপ্রতি ৫ টাকা। এছাড়া শনি ও রবিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে ১০ টাকার টিকিটের বিনিময়ে টেলিস্কোপে আকাশ পর্যবেক্ষণ করা যায়।

শিশু একাডেমি জাদুঘর: শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি। রবিবার থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত এটি খোলা থাকে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাংলাদেশের পোশাকশিল্প: সংকট ও উত্তরণের জন্য জাতীয় কর্মপরিকল্পনার প্রয়োজন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৬ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:৫০ এম


বাংলাদেশের পোশাকশিল্প: সংকট ও উত্তরণের জন্য জাতীয় কর্মপরিকল্পনার প্রয়োজন

১৯৯৭ সালে তৈরি পোশাকশিল্পে উদ্যোক্তা হিসেবে আমার যাত্রা শুরু হয়। গত ২৯ বছরে এই শিল্পের উত্থান, সাফল্য, সংকট ও পরিবর্তিত বাস্তবতা দেখার সুযোগ হয়েছে। বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্প কীভাবে দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তিতে পরিণত হয়েছে, তা প্রত্যক্ষ করেছি। লক্ষ লক্ষ মানুষের কর্মসংস্থান, নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন এবং শিল্পায়নে এই খাতের অবদান অনস্বীকার্য। তবে আজ প্রশ্ন উঠছে- যে শিল্প আমাদের অর্থনীতিকে এতদূর এগিয়ে নিয়ে গেছে, আমরা কি তার ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় যথেষ্ট প্রস্তুত আছি?

এক সময় বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের প্রধান প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা ছিল তুলনামূলক কম মজুরি, সহজ উৎপাদনব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে শুল্কসুবিধা। কিন্তু বর্তমানে বিশ্ববাজারের বাস্তবতা দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। এখন প্রতিযোগিতা শুধুমাত্র কম দামে পোশাক সরবরাহের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; প্রযুক্তি, উৎপাদনশীলতা, গুণগত মান, পরিবেশবান্ধব উৎপাদন, শ্রমিকের অধিকার এবং দ্রুত সরবরাহের সক্ষমতা ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

তবে আমাদের অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান এখনও প্রচলিত উৎপাদনব্যবস্থা ও কম মূল্যের পণ্যের ওপর নির্ভরশীল। গ্যাস-বিদ্যুতের অনিশ্চয়তা, ব্যাংকঋণের উচ্চ সুদ, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের মূল্য কমানোর চাপ এবং প্রশাসনিক জটিলতা শিল্পের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতাকে দুর্বল করছে।

বর্তমানে অনেক কারখানায় অর্ডার রয়েছে, উৎপাদন চলছে, রপ্তানিও হচ্ছে; কিন্তু সব ব্যয় পরিশোধের পর প্রত্যাশিত মুনাফা থাকছে না। ফলে উদ্যোক্তাদের একটি অংশ ব্যবসা সম্প্রসারণ তো দূরের কথা, বিদ্যমান প্রতিষ্ঠান টিকিয়ে রাখতেই হিমশিম খাচ্ছেন।

এখানেই আমাদের উপলব্ধি করা প্রয়োজন- রপ্তানি বাড়লেই শিল্পের প্রকৃত উন্নতি হয় না; সেই রপ্তানি কতটা লাভজনক, কর্মসংস্থান কতটা নিরাপদ এবং বিনিয়োগ কতটা টেকসই, সেটিই মূল বিবেচ্য।

বর্তমান সংকটের জন্য শুধু সরকার, ব্যাংক কিংবা আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের দায়ী করা উচিত নয়। আমাদের উদ্যোক্তাদেরও আত্মসমালোচনা করা জরুরি। অনেক ক্ষেত্রে যথাযথ বাজার বিশ্লেষণ ছাড়া অতিরিক্ত বিনিয়োগ, ব্যাংকঋণের ওপর অতিনির্ভরতা, অর্ডার পাওয়ার প্রতিযোগিতায় অযৌক্তিকভাবে কম মূল্য গ্রহণ এবং দুর্বল আর্থিক ব্যবস্থাপনা শিল্পকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।

দীর্ঘ সময় ধরে আমরা উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর দিকে যতটা মনোযোগ দিয়েছি, নিজস্ব ডিজাইন, গবেষণা, প্রযুক্তি, দক্ষ মানবসম্পদ এবং উচ্চমূল্যের পণ্য উৎপাদনে ততটা গুরুত্ব দিতে পারিনি। তবে শুধু কারখানার সংখ্যা বৃদ্ধি শিল্পায়নের সাফল্য নয়; লাভজনক, দক্ষ ও প্রতিযোগিতামূলক শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলাই প্রকৃত শিল্পায়ন।

অন্যদিকে সরকারের নীতিগত ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একটি পোশাক কারখানা প্রতিষ্ঠা, আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের আস্থা অর্জন এবং দক্ষ শ্রমিক গড়ে তুলতে দীর্ঘ সময় ও বিপুল বিনিয়োগ প্রয়োজন। কিন্তু ঘন ঘন নীতিমালা পরিবর্তন, কর ও শুল্কসংক্রান্ত জটিলতা, জ্বালানির অনিশ্চয়তা এবং ব্যাংকিং ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা সেই বিনিয়োগকে ঝুঁকির মুখে ফেলে।

শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে শুধু রাজস্ব আদায়ের উৎস হিসেবে দেখলে চলবে না। একটি কারখানার সঙ্গে জড়িয়ে থাকে অসংখ্য শ্রমিকের জীবিকা, তাঁদের পরিবারের ভবিষ্যৎ, ব্যাংকের বিনিয়োগ এবং দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা।

সুতরাং পোশাকশিল্পের জন্য অন্তত দশ বছরের একটি স্থিতিশীল, বাস্তবসম্মত ও বিনিয়োগবান্ধব নীতিকাঠামো প্রয়োজন। বিশেষ করে সাময়িক আর্থিক সংকটে থাকা কিন্তু পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনাসম্পন্ন প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থায় ঋণ পুনর্গঠন এবং কার্যকরী মূলধনের সুযোগ নিশ্চিত করা জরুরি।

পোশাকশিল্পের সাফল্যের পেছনে শ্রমিকদের অবদানও অনস্বীকার্য। তাঁদের ন্যায্য মজুরি, নিরাপদ কর্মপরিবেশ, স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক নিরাপত্তা ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করা আমাদের নৈতিক ও অর্থনৈতিক দায়িত্ব। একই সঙ্গে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের আর্থিক সক্ষমতা এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার বাস্তবতাও বিবেচনায় রাখতে হবে।

শ্রমিক ও মালিককে পরস্পরের প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখার পরিবর্তে সহযোগী হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। শ্রমিকের অধিকার উপেক্ষা করে যেমন টেকসই শিল্প গড়ে তোলা সম্ভব নয়, তেমনি শিল্পের আর্থিক সক্ষমতা ধ্বংস করে দীর্ঘমেয়াদে কর্মসংস্থান রক্ষা করাও সম্ভব নয়।

বিশ্ববাজারের পরিবর্তিত পরিস্থিতিও আমাদের জন্য বড় সতর্কবার্তা। ভিয়েতনাম, ভারত, চীনসহ বিভিন্ন প্রতিযোগী দেশ প্রযুক্তি, দক্ষতা, উৎপাদনশীলতা ও পণ্যের বৈচিত্র্যে বিনিয়োগ করছে। আন্তর্জাতিক ক্রেতারাও এখন শুধু কম দাম নয়; পরিবেশগত মান, শ্রমিকের অধিকার, সরবরাহব্যবস্থার স্বচ্ছতা এবং সময়মতো পণ্য সরবরাহের সক্ষমতাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন।

এছাড়াও স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণ-পরবর্তী বাণিজ্যসুবিধা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ফলে প্রচলিত শুল্কসুবিধা ও তুলনামূলক কম উৎপাদন ব্যয়ের ওপর নির্ভর করে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা করা যথেষ্ট নয়।

আমাদের উচ্চমূল্যের পোশাক, ম্যান-মেড ফাইবার, টেকনিক্যাল টেক্সটাইল, নিজস্ব ডিজাইন, পরিবেশবান্ধব উৎপাদন এবং বাংলাদেশি ব্র্যান্ড গড়ে তোলার দিকে এগোতে হবে। পাশাপাশি প্রযুক্তি ও অটোমেশনের প্রসারে শ্রমিকদের পুনঃপ্রশিক্ষণ এবং নতুন দক্ষতা অর্জনের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে।

আমার মতে, বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে সরকার, উদ্যোক্তা, শ্রমিক প্রতিনিধি, ব্যাংক এবং সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা জরুরি। সেখানে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ, প্রতিযোগিতামূলক অর্থায়ন, দক্ষ বন্দর ও কাস্টমস ব্যবস্থাপনা, নতুন রপ্তানিবাজার সৃষ্টি, প্রযুক্তিগত আধুনিকায়ন এবং শ্রমিকদের দক্ষতা উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

এছাড়া আন্তর্জাতিক ক্রেতাদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। উৎপাদন ব্যয় ও শ্রমিক কল্যাণের মানদণ্ড বাড়ানোর দাবি জানিয়ে পণ্যের ন্যায্য মূল্য দিতে অনীহা প্রকাশ করা দীর্ঘমেয়াদে টেকসই ব্যবসায়িক সম্পর্কের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ক্রেতা ও উৎপাদক উভয়ের স্বার্থেই ন্যায্য মূল্য, বাস্তবসম্মত সরবরাহ সময় এবং দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসায়িক সম্পর্ক নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

এখানে একটি বিষয় বিশেষভাবে উল্লেখ করা প্রয়োজন। বাংলাদেশের পোশাকশিল্পকে শুধু রপ্তানিনির্ভর একটি ব্যবসায়িক খাত হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়। এটি দেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। একটি কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়া মানে শুধু একজন উদ্যোক্তার বিনিয়োগ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া নয়; এর সঙ্গে অসংখ্য শ্রমিকের জীবিকা, তাঁদের পরিবারের ভবিষ্যৎ, ব্যাংকের ঋণ এবং স্থানীয় অর্থনীতিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

সুতরাং শিল্পের সংকট মোকাবিলাকে কোনো বিশেষ ব্যবসায়ীগোষ্ঠীর দাবি হিসেবে নয়, বরং জাতীয় অর্থনৈতিক অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। তবে শিল্প রক্ষার নামে অনিয়ম, অদক্ষতা কিংবা ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিকে প্রশ্রয় দেওয়াও গ্রহণযোগ্য নয়। প্রয়োজন স্বচ্ছতা, জবাবদিহি, সুশাসন এবং প্রকৃত সমস্যাগ্রস্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জন্য কার্যকর সহায়তা।

১৯৯৭ সাল থেকে এই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিজ্ঞতায় আমার উপলব্ধি হলো- বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের সবচেয়ে বড় শক্তি শুধু তুলনামূলক কম উৎপাদন ব্যয় নয়; বরং আমাদের উদ্যোক্তাদের সাহস, শ্রমিকদের পরিশ্রম এবং প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলার সক্ষমতা।

এই শক্তিকে সঠিক নীতি, আধুনিক প্রযুক্তি, দক্ষ ব্যবস্থাপনা ও আন্তর্জাতিক বাজারের পরিবর্তিত চাহিদার সঙ্গে সমন্বয় করতে পারলে ভবিষ্যতেও বাংলাদেশ বিশ্ববাজারে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হবে।

কিন্তু অতীতের সাফল্য নিয়ে আত্মতুষ্টিতে ভোগার সুযোগ নেই। সময় এসেছে অর্জনের পাশাপাশি নিজেদের ভুলগুলো স্বীকার করার, পুরোনো ব্যবসায়িক ধারণা পরিবর্তন করার এবং সরকার, উদ্যোক্তা ও শ্রমিকদের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতার ভিত্তিতে নতুন পথচলা শুরু করার।

আমরা শুধু রপ্তানির পরিমাণ বাড়াতে চাই না; চাই এমন একটি শক্তিশালী ও টেকসই পোশাকশিল্প, যেখানে উদ্যোক্তার বিনিয়োগ নিরাপদ থাকবে, শ্রমিক মর্যাদার সঙ্গে বাঁচবেন এবং দেশের অর্থনীতি আরও সমৃদ্ধ হবে।

কারণ একটি শিল্পের প্রকৃত সাফল্য শুধু কত বিলিয়ন ডলার রপ্তানি হলো, তা দিয়ে বিচার করা যায় না; সেই শিল্প কত মানুষের জীবন বদলাতে পেরেছে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য কতটা স্থায়ী অর্থনৈতিক ভিত্তি তৈরি করেছে, সেটিই সাফল্যের প্রকৃত মাপকাঠি।

উদ্যোক্তা | সমাজকর্মী | নীতি বিশ্লেষক

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৫শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫০
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪১
মাগরিব ০৫:১৭
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৭ সূর্যাস্ত : ০৫:১৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%