ঢাকা বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

গ্যাস সংকটের কারণ জানালেন জ্বালানিমন্ত্রী


গ্যাস সংকটের কারণ জানালেন জ্বালানিমন্ত্রী

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ জানিয়েছেন যে, কারিগরি ত্রুটির কারণে এলএনজি টার্মিনাল থেকে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় দেশে একটি গ্যাস সংকট তৈরি হয়েছে। তিনি একইসঙ্গে মন্তব্য করেন যে, ইরান যুদ্ধের প্রভাব এবং বিগত সরকারের ভুল নীতির কারণে জ্বালানি খাত এখন চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে।

বুধবার (২২ জুলাই) রাজধানীর একটি হোটেলে ‘বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও রূপান্তর’ শীর্ষক এক পলিসি কনক্লেভে এসব কথা বলেন তিনি।

মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ জ্বালানি আমদানির সংকট ও ব্যয়ের চিত্র তুলে ধরে বলেন, ইরান যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি আনতে গিয়ে পরিবহন ও অন্যান্য খরচ অনেক বেড়ে যাচ্ছে। সেজন্য সরকার বাধ্য হয়ে বেশি দামে এলএনজি ক্রয় করছে।

আরও পড়ুন: ফুটপাত পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রীকে অনুসরণ, ছাত্রলীগ নেতা তানভীর গ্রেফতার

তিনি আগের সরকারের সমালোচনা করে বলেন, ‘গত ১৭ বছরের ফ্যাসিস্ট রেজিম দেশের সব সিস্টেম ভেঙে দিয়েছিল। জ্বালানি খাতকে তারা পুরোটাই আমদানিনির্ভর করে ফেলে। এই দীর্ঘ ১৭ বছরে তারা একটি কূপও খনন করেনি।’

বর্তমান পরিস্থিতির সীমাবদ্ধতা প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, ‘আমি চারদিক দিয়ে বাঁধা। এর মধ্যদিয়েই আমাদের কাজ করতে হচ্ছে। তবে আপনারা ভয় পাবেন না, আমরা সংকট মোকাবিলায় নিরবচ্ছিন্ন চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’

কনক্লেভে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানিয়ে মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে দরপত্র আহ্বান করা সম্ভব হবে। তিনি আরও বলেন, সব পক্ষের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পেলে বর্তমান সরকারের মেয়াদের মধ্যেই সোলার (সৌরবিদ্যুৎ) থেকে ১০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হবে।

আরও পড়ুন: ডেঙ্গুতে মৃত্যু বেড়ে সাত, হাসপাতালে ভর্তি ১,৩৭৩ জন

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বহির্নোঙরে জলদস্যুতা বেড়েছে, নিরাপত্তা জোরদারের দাবি চট্টগ্রাম চেম্বারের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২২শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৮:৩৪ পি.এম


বহির্নোঙরে জলদস্যুতা বেড়েছে, নিরাপত্তা জোরদারের দাবি চট্টগ্রাম চেম্বারের

চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে সাম্প্রতিক সময়ে বাণিজ্যিক জাহাজে জলদস্যুতার ঘটনা বেড়েছে, এই বিষয়টি উল্লেখ করে নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছে চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি। সংগঠনটি নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের কাছে এ বিষয়ে জরুরি একটি চিঠি পাঠিয়েছে।

বুধবার পাঠানো ওই চিঠিতে চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক উল্লেখ করেন যে, গত এক মাসে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে তিনটি বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজে জলদস্যুতার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় কয়েক কোটি টাকার মালামাল, জাহাজের সরঞ্জাম ও মূল্যবান যন্ত্রাংশ চুরি হয়েছে। এর ফলে বিদেশি জাহাজের মালিক, শিপিং এজেন্ট ও নাবিকদের মাঝে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়েছে যে, বহির্নোঙরের নিরাপত্তাহীনতা শুধুমাত্র শিপিং শিল্পের জন্য নয়, তা জাতীয় অর্থনীতি, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বাংলাদেশের ভাবমূর্তির জন্যও বড় ধরনের ঝুঁকি সৃষ্টি করছে। এ ধরনের ঘটনার ফলে বিদেশি শিপিং অপারেটরদের মধ্যে উদ্বেগ বৃদ্ধি পেতে পারে, যা ভবিষ্যতে অতিরিক্ত বীমা ব্যয়, জাহাজ পরিচালনায় বিলম্ব এবং বাণিজ্য ব্যয় বৃদ্ধির কারণ হতে পারে।

চেম্বার সভাপতি আরও বলেন, যেখানে সরকার ব্যবসা পরিচালনার পরিবেশ উন্নত এবং ব্যয় কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে, সেখানে এ ধরনের ঘটনা সেই লক্ষ্য অর্জনে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

চিঠিতে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, সাম্প্রতিক দস্যুতা ও চুরির ঘটনাগুলো আন্তর্জাতিক ঝুঁকি মূল্যায়ন প্রতিবেদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এতে বৈশ্বিক অঙ্গনে বাংলাদেশের সুনাম ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা থাকবে।

এ পরিস্থিতিতে বিনিয়োগবান্ধব ও নিরাপদ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পরিবেশ নিশ্চিত করতে, বহির্নোঙরের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় কোস্টগার্ডের টহল জোরদার, গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি এবং অপরাধী চক্রের সদস্যদের পাশাপাশি চোরাই মালামাল কেনাবেচার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন চট্টগ্রাম চেম্বার।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মেসি-মার্তিনেজদের নিয়ে অপপ্রচার, আইনি ব্যবস্থা নিচ্ছে আর্জেন্টিনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

বুধবার, ২২শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৮:৩৪ পি.এম


মেসি-মার্তিনেজদের নিয়ে অপপ্রচার, আইনি ব্যবস্থা নিচ্ছে আর্জেন্টিনা

বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের কাছে হারের পর মেসি-মার্তিনেজদের ঘিরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভুয়া তথ্য ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের প্রস্তুতি নিচ্ছে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ)। এরই মধ্যে আর্জেন্টিনার প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম লা নাসিওনের প্রতিবেদন অনুসারে, এএফএর আইনজীবীরা কাজ শুরু করেছেন এবং সম্ভাব্য আইনি পদক্ষেপের বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করছেন।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বিশ্বকাপ চলাকালীন বিশেষ করে ফাইনালের পর আর্জেন্টিনা দলের খেলোয়াড়দের লক্ষ্য করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অসংখ্য ভিত্তিহীন অভিযোগ, বিকৃত ছবি এবং বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এএফএর দাবি, এসব প্রচারণার উদ্দেশ্য ছিল মেসির দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা এবং জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি করা। এই কারণে সংস্থাটির আইনজীবীরা ভুয়া তথ্য ছড়ানো পোস্ট, সম্পাদিত ছবি এবং মানহানিকর কনটেন্টের প্রমাণ সংগ্রহ করছেন।

প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ পর্যালোচনার পর দোষীদের বিরুদ্ধে মানহানিসহ সংশ্লিষ্ট আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। তবে, এখনো পর্যন্ত কারো বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়নি।

এদিকে, বিশ্বকাপ ফাইনালের পর মাঠে আর্জেন্টিনা ও স্পেনের খেলোয়াড়দের ধাক্কাধাক্কি এবং হাতাহাতির ঘটনায় আলাদাভাবে তদন্ত শুরু করেছে ফিফা। তবে, সেই শৃঙ্খলাজনিত তদন্তের সঙ্গে এএফএর আইনি পদক্ষেপের কোনো সম্পর্ক নেই।

এএফএ নেটিজেনদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিতে চললেও আর্জেন্টিনাকে নিয়ে ওঠা অভিযোগগুলো অমূলক নয়। এবারের বিশ্বকাপের শুরু থেকেই মাঠে বির্তকিত কর্মকাণ্ডের কারণে আলোচনায় ছিল আর্জেন্টিনা। মাত্রই বিশ্বচ্যাম্পিয়নের মুকুট হারানো দলটিকে ফিফা বিশেষ সুবিধা দিয়েছে—এমন অভিযোগ বারবার করা হয়েছে।

আলজেরিয়ার ডিফেন্ডার আইসা মান্দিকে বুটের তলা উঁচিয়ে পায়ের পেছনের অংশে মাড়িয়ে দেওয়ার পরও লিওনেল মেসি কোনো কার্ড না দেখানোর ঘটনায় বিশ্বকাপের শুরুতেই এমন অভিযোগ প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে। আর্জেন্টিনাকে নিয়ে সবচেয়ে বেশি বির্তক হয়েছে মিসরের বিপক্ষে ম্যাচে। ফাউলের কারণে মিসরের গোল বাতিল করা হলেও, একই কারণে আর্জেন্টিনার গোলকে ঠিকই বৈধতা দেওয়া হয়েছে।

এরপর ব্রিল এমবোলোকে লাল কার্ড দেখানোর নিয়েও অনেকের আপত্তি আছে। এমবোলোকে মাঠ ছাড়তে হওয়ায় সুইজারল্যান্ড ১০ জনের দলে পরিণত হয়েছিল বলেই আর্জেন্টিনা পরবর্তীতে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিতে পেরেছিল, এমন অভিযোগ উঠেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নারীকাণ্ডে এমপি নজরুলের বহিষ্কারের খবরে শ্যামনগরে মিষ্টি বিতরণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২২শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৮:৩৭ পি.এম


নারীকাণ্ডে এমপি নজরুলের বহিষ্কারের খবরে শ্যামনগরে মিষ্টি বিতরণ

নারী নিয়ে ভিডিও বিতর্কের কারণে সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর-কালীগঞ্জ আংশিক) আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে বহিষ্কৃত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেই ঘটনার প্রেক্ষাপটে, তার নির্বাচনি এলাকা শ্যামনগর উপজেলার বিভিন্ন স্থানগুলোতে সাধারণ মানুষের মধ্যে আনন্দ প্রকাশের জন্য মিষ্টি বিতরণের একটি ঘটনা ঘটেছে।

মঙ্গলবার (২২ জুলাই) কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তটি প্রকাশ হওয়ার পর শ্যামনগর সদরে স্থানীয় অনেক লোকজনকে আনন্দ প্রকাশ করতে দেখা যায়। এর পাশাপাশি অনেকের মধ্যে এই ধারণা তৈরি হয়েছে যে, এটি কেবল বহিষ্কার নয়, বরং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।

স্থানীয় সূত্রগুলি জানাচ্ছে, যখন বহিষ্কারের খবর ছড়িয়ে পড়ল, তখন উপজেলা জামায়াতের কার্যালয় ও দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে কিছুটা চাপা উদ্বেগ এবং অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে, শ্যামনগর উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক সোলায়মান কবির মন্তব্য করেন, নৈতিকতার প্রশ্নে গাজী নজরুল ইসলামকে বহিষ্কার করায় জামায়াতকে ধন্যবাদ জানাই। সোলায়মান কবির আরও উল্লেখ করেন যে, সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা হলো, বিষয়টির পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে আরও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা আজিজুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তকে আমরা স্বাগত জানাই। জামায়াতে ইসলামী একটি আদর্শিক ও নৈতিক সংগঠন, সেই অবস্থান থেকে দল যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা সঠিক বলেই আমাদের মনে হয়। এই ঘটনার ফলে দলের ভাবমূর্তি কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তবে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে সেই মর্যাদা পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হবে, আমরা এ বিষয়ে আশাবাদী।

উল্লেখ্য, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওর কারণে গাজী নজরুল ইসলামকে কেন্দ্র করে ব্যাপক আলোচনা এবং সমালোচনা শুরু হয়েছিল। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে তিনি দাবি করেছিলেন, ভিডিওতে থাকা তরুণী তার বৈধ দ্বিতীয় স্ত্রী এবং পুরো ঘটনাটি একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র ও ব্ল্যাকমেইলিংয়ের অংশ। কিন্তু বিষয়টি নিয়ে জনমনে বিতর্ক অব্যাহত থাকায় দলের পক্ষ থেকে তদন্ত শেষে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সাংবাদিক শফিকের মুক্তি না দিলে শাহবাগ থানা, ফায়ার সার্ভিস ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘেরাওয়ের হুঁশিয়ারি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্টাফ রিপোর্টার

বুধবার, ২২শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৮:৩৭ পি.এম


সাংবাদিক শফিকের মুক্তি না দিলে শাহবাগ থানা, ফায়ার সার্ভিস ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘেরাওয়ের হুঁশিয়ারি

অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের জের ধরে সাংবাদিক হাফিজুর রহমান শফিককে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে তাঁর নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেছেন সাংবাদিক নেতারা। যদি আগামীকালের মধ্যে তাঁকে মুক্তি না দেওয়া হয়, তাহলে শাহবাগ থানা, ফায়ার সার্ভিস ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘেরাওয়ের কর্মসূচির হুঁশিয়ারিও দেন তাঁরা।

বুধবার ২২ জুলাই রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সাধারণ সাংবাদিক সমাজের আয়োজিত এক মানববন্ধনে সাংবাদিক নেতারা এসব কথা বলেন।

মানববন্ধনে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক এরফানুল হক নাহিদ বলেন, শাহবাগ থানার ওসি যে মামলা নিয়েছেন, সেটি রক্ষা করতে পারবেন কি না, তা ভেবে দেখা উচিত ছিল। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, কোন আইনে মামলাটি নেওয়া হয়েছে এবং সেটি কোনো চাপে করা হয়েছে কি না, সেটিও জানতে চান।

পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে এরফানুল হক নাহিদ বলেন, অতি উৎসাহী আচরণ না করে আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা উচিত ছিল। তাঁর ভাষ্য, বিষয়টি আদালতের মাধ্যমে তদন্ত হয়ে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা এলে তখন গ্রেপ্তার করা যেত।

তিনি বলেন, তাঁরা কোনো অন্যায়ের প্রশ্রয় দিচ্ছেন না। হাফিজুর রহমান শফিক একজন অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের জন্য পরিচিত সাংবাদিক। তাঁর প্রতিবেদনের সঙ্গে কারও দ্বিমত থাকলে সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমে জবাব দেওয়া বা আদালতে মানহানির মামলার সুযোগ ছিল। থানায় মামলা করার সমালোচনা করে তিনি বলেন, ২০২৪ সালের আগের পরিস্থিতি ভেবে কেউ যেন অন্যায় না করেন।

শাহবাগ থানার ওসি ও গ্রেপ্তারে জড়িত কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করতে হবে। অন্যথায় তাঁদের প্রত্যাহারের দাবি তোলাও হবে। একই সাথে তিনি বলেন, সাংবাদিক নির্যাতনের আগে ২৪–এর আন্দোলনের আত্মত্যাগ স্মরণ রাখা উচিত।

এরফানুল হক নাহিদ আরও বলেন, ফায়ার সার্ভিসকে নিয়ে অতীতে নানা সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। বর্তমান প্রশাসনে যারা দায়িত্বে আছেন, তাঁদের মাথা ঠান্ডা রেখে সাংবাদিক সমাজকে উসকানি না দেওয়ার আহ্বান জানানো উচিত।

তিনি বলেন, আগামীকালের মধ্যে হাফিজুর রহমান শফিককে মুক্তি দিতে হবে। অন্যথায় শাহবাগ থানা, ফায়ার সার্ভিস ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘেরাও করা হবে।

ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দিদারুল আলম দিদার বলেন, অধিকার রক্ষা ও গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলনের পরীক্ষিত সংবাদকর্মী হাফিজুর রহমান শফিককে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের কারণে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের পক্ষ থেকে এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে দিদারুল আলম দিদার বলেন, অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে মামলা করার উপাদান আছে—এ কথা শাহবাগ থানার ওসিকে কে বলেছেন, সেটি জানতে চান তিনি।

তিনি বলেন, গত দেড় দশক ধরে তথ্যপ্রযুক্তি আইন, ডিজিটাল সিকিউরিটি আইন ও সাইবার নিরাপত্তা আইনের বিরুদ্ধে সাংবাদিক সংগঠনগুলো গণমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য আন্দোলন করেছে। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে আবারও সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা ও গ্রেপ্তারের ঘটনা তাঁরা কল্পনাও করেননি।

দিদারুল আলম দিদারের অভিযোগ, এই ঘটনা প্রমাণ করে সিভিল ডিফেন্স ও পুলিশের মধ্যে এখনো ফ্যাসিবাদের প্রেতাত্মারা রয়েছে। তিনি তথ্যমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে জানান, যারা মামলা করেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সাথে যে প্রতিবেদনের কারণে শফিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, সেই প্রতিবেদনে যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ এসেছে, তাঁদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

তিনি অবিলম্বে মামলা প্রত্যাহার করে হাফিজুর রহমান শফিকের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেন। অন্যথায় সাংবাদিকদের শীর্ষ সংগঠনগুলো আরও তীব্র কর্মসূচি দেবে বলেও জানান।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, সঠিক সংবাদ প্রকাশ করতে হলে মাঠপর্যায়ে গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে হয়। কিন্তু বর্তমানে এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যেখানে সামান্য ঘটনাতেই মানুষকে মারধর, নির্যাতন ও মিথ্যা মামলার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। অপরাধ করলে বিচার হবে, তবে নিরপরাধ কাউকে মব সৃষ্টি করে হয়রানি বা মিথ্যা মামলায় জড়ানো কাম্য নয় বলেও মন্তব্য করেন তাঁরা।

বক্তারা আরও বলেন, সাংবাদিকদের বাঁচাতে হলে গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলোকেও টিকিয়ে রাখতে হবে।

বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের কাউন্সিলর ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সদস্য মোহাম্মদ মাসুদ এর সভাপতিত্বে মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের নির্বাহী কমিটির সদস্য নিজামুদ্দিন দরবেশ, রাজু আহমেদ, তালুকদার রুমি, ফখরুল ইসলাম, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক নির্বাহী কমিটির সদস্য এইচএম আল-আমিন, জুলাই যোদ্ধা কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আমিনুল ইসলাম, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সদস্য তাপস, রাসেল, জিয়াউর রহমান, বিএফইউজের কাউন্সিলর নুরুল আবছার, ডিইউজের সদস্য আকাশ মনি সহ প্রমুখ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৯
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%