ঢাকা শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

মার্কিন নাগরিক পরিচয়ে ভোটার নিবন্ধন, আইসিইবিরোধী আন্দোলনকারী গ্রেপ্তার


মার্কিন নাগরিক পরিচয়ে ভোটার নিবন্ধন, আইসিইবিরোধী আন্দোলনকারী গ্রেপ্তার

ক্যালিফোর্নিয়ায় সম্ভাব্য নির্বাচন জালিয়াতি প্রতিরোধে শুরু হওয়া অভিযানের অংশ হিসেবে ডারউইন জোনাথন রিভেরা ফ্লোরেস (৩০) নামের হন্ডুরাসের এক নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে হোমল্যান্ড সিকিউরিটির এজেন্টরা। আইসিই (ICE)-বিরোধী এক বিক্ষোভে অংশ নিয়ে আগেই পরিচিতি পাওয়া এই ব্যক্তির বিরুদ্ধে মার্কিন নাগরিক হিসেবে মিথ্যা দাবি করে ভোটার নিবন্ধন ফরম পূরণের অভিযোগ আনা হয়েছে।

লস অ্যাঞ্জেলেসের শীর্ষ ফেডারেল প্রসিকিউটর বিল এসাইলি জানান, শুক্রবার সকালে ভেনচুরার একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের বাইরে থেকে রিভেরা ফ্লোরেসকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তিনি আরও বলেন, ক্যালিফোর্নিয়ার মতো অঙ্গরাজ্যগুলোতে অনাগরিকদের পক্ষে সহজেই ভোটার হওয়া এবং ডাকযোগে ব্যালট পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। বর্তমানে ঠিক কতজন অনাগরিক ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত আছেন, তা বলা কঠিন।

আরও পড়ুন: ঘুমিয়ে পড়ায় চালকের কারণে বাস খাদে, নিহত ৮

যুক্তরাষ্ট্রে আইনত স্থায়ী বাসিন্দা হলেও নাগরিকত্ব না থাকা রিভেরা ফ্লোরেসকে গ্রেপ্তারের এই ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটল, যখন লস অ্যাঞ্জেলেসে সম্ভাব্য নির্বাচন জালিয়াতির একাধিক মামলা তদন্ত করছে ফেডারেল এজেন্টরা।

এর আগে ফেব্রুয়ারি মাসে ক্যামারিলোতে আইসিই-বিরোধী এক বিক্ষোভে অংশ নিয়ে ফেডারেল ভবনে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাজে বাধা দেওয়ার অপরাধে রিভেরাকে এক বছরের প্রবেশনে রাখা হয়েছিল।

পরবর্তীতে এপ্রিলে এক ফেডারেল এজেন্টকে অপমানজনক টেক্সট মেসেজ পাঠানোর পাশাপাশি আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোট দেওয়ার ইচ্ছার কথাও জানিয়েছিলেন তিনি।

তদন্তে নেমে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা উইসকনসিনের ঠিকানায় "ডারউইন রিভেরা" নামে একটি অনলাইন ভোটার নিবন্ধনের রেকর্ড এবং তার স্বাক্ষরযুক্ত একটি আবেদনপত্র উদ্ধার করে।

আরও পড়ুন: ড. ইউনূসকে হেনস্তায় রিটায়ার্ড বিসিএস অফিসার্স প্ল্যাটফর্মের ক্ষোভ ও নিন্দা

ওই ফর্মে তিনি মার্কিন নাগরিক হিসেবে নিজেকে দাবি করেন এবং পরিচয়পত্র হিসেবে ড্রাইভিং লাইসেন্স ব্যবহার করেন। তবে তার নাগরিকত্ব চাওয়া বা পাওয়ার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি, এমনকি তিনি কোনো নির্বাচনে ভোটও দেননি।

ফেডারেল প্রসিকিউটর বিল এসাইলির মতে, ক্যালিফোর্নিয়ার শিথিল ভোটার নিবন্ধন আইন এ ধরনের জালিয়াতিকে উৎসাহিত করে। অঙ্গরাজ্যটি ফেডারেল সরকারের সাথে ভোটার তালিকা শেয়ার না করায় নিবন্ধিত ব্যক্তিরা সত্যিই মার্কিন নাগরিক কি না, তা যাচাই করা কর্তৃপক্ষের পক্ষে সম্ভব হয় না। তবে ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট ডিপার্টমেন্টের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত হতে হলে প্রত্যেককে শপথের অধীনে নিশ্চিত করতে হয় যে তিনি মার্কিন নাগরিক।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চাঁপাইনবাবগঞ্জে জানাজা শেষে পাশাপাশি কবরে শায়িত হলো পাঁচ শিশু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ২৮শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

১১:৪১ পি.এম


চাঁপাইনবাবগঞ্জে জানাজা শেষে পাশাপাশি কবরে শায়িত হলো পাঁচ শিশু

চাঁপাইনবাবগঞ্জে পদ্মা নদীর শাখা ‘মরা নদী’তে একসঙ্গে ডুবে মারা যাওয়া পাঁচ শিশুর জানাজা শেষে পাশাপাশি কবরে দাফন করা হয়েছে। 

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সন্ধ্যা ৭টার দিকে সদর উপজেলার দেবীনগর ইউনিয়নের চর চাকলা গোরস্থানে তাদের দাফন করা হয়। 

জানা যায়, শুক্রবার দুপুর পৌনে ১টার দিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের সদর উপজেলার দেবিনগর ইউনিয়নের চর চাকলা গ্রামের পাশ দিয়ে প্রবাহিত পদ্মার শাখা ‘মরা নদী’তে গোসল করতে নামে পাঁচ শিশু। পানিতে নামার কিছুক্ষণ পরই তারা ডুবে যায়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, শিশুদের কেউ সাঁতার জানত না। এ সময় স্থানীয় এক নারী শিশুদের পানিতে হাবুডুবু খেতে দেখে চিৎকার করে আশপাশের লোকজনকে ডাকেন। 

পরে স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন। একপর্যায়ে পানির নিচ থেকে পাঁচ শিশুকেই উদ্ধার করা হয়। তবে ততক্ষণে তাদের মৃত্যু হয়। পরবর্তীতে ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে পরে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। নিহত পাঁচ শিশু একই এলাকার বাসিন্দা এবং পরস্পরের আত্মীয় হওয়ায় এ ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

দেবীনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. হাফিজুর রহমান বলেন, শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে পানিতে ডুবে মারা যাওয়া পাঁচ শিশুকে পাশাপাশি কবরে দাফন করা হয়েছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একরামুল হোসেন বলেন, ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ জানতে পারে পদ্মার শাখা মরা নদীতে পাঁচ শিশু ডুবে মারা গেছে। আনুমানিক দুপুর ১টার দিকে তারা গোসল করতে নদীতে নামে। পরে একে একে পাঁচজন পানিতে ডুবে যায়।

তিনি বলেন, ডুবে যাওয়ার সময় স্থানীয় এক নারী শিশুদের হাবুডুবু খেতে দেখে আশপাশের লোকজনকে ডাকেন। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করেন। নিহত শিশুদের বয়স ৮ থেকে ১২ বছরের মধ্যে। তারা একই পাড়ায় বসবাস করত এবং পরস্পরের আত্মীয়। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অতিরিক্ত পিপি থেকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি আক্কাস সিকদার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মো. রাজিব তালুকদার

শুক্রবার, ২৮শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

১১:৫৬ পি.এম


অতিরিক্ত পিপি থেকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি আক্কাস সিকদার

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শকে ভালোবেসে ছাত্রজীবন থেকেই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন অ্যাডভোকেট মো. আক্কাস সিকদার। এরপর নানা ঘাত-প্রতিঘাত এলেও দলের আদর্শ থেকে একচুল পরিমাণও বিচ্যুত হননি তিনি। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় মামলা, হুমকি ও নানা প্রতিকূলতার মুখেও তিনি তাঁর অবস্থান থেকে পিছিয়ে যাননি।

র‌্যাব বিলুপ্তির দাবির পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকতে হয়েছিল তাঁকে। তাঁকে দমিয়ে রাখতে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করা হলেও তাতেও থেমে যাননি তিনি। তিনি আর কেউ নন, ঝালকাঠির জনপ্রিয় সাংবাদিক নেতা ও আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. আক্কাস সিকদার।

বর্তমান সরকার তাঁকে যোগ্য মূল্যায়ন করেছে। দুই বছর অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর এবার তাঁকে ঝালকাঠি জেলা ও দায়রা জজ আদালতের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ জন্য সরকারকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই।

আক্কাস সিকদার বর্তমানে জেলা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সদস্য। তিনি জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য। ১৯৯৭ সাল থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

বিএনপির প্রতি অগাধ ভালোবাসার কারণে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে তাঁকে বারবার বিপদের মুখে পড়তে হয়েছে বলে তাঁর সহকর্মীরা জানান। রাজাপুরের কলেজছাত্র লিমন হোসেনের পায়ে গুলি করার ঘটনা নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করায় তিনি র‌্যাবের রোষানলে পড়েন। পরবর্তীতে লিমন হোসেনের পক্ষে আইনজীবী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি। এতে তৎকালীন ক্ষমতাসীন মহল ও র‌্যাবের ক্ষোভের মুখে পড়তে হয় তাঁকে বলে অভিযোগ রয়েছে।

তবুও র‌্যাব বিলুপ্তির দাবির পক্ষে নিজের অবস্থান থেকে একচুলও সরে আসেননি আক্কাস সিকদার। এ কারণে তৎকালীন সরকারের প্রধানমন্ত্রীর সামরিক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিকী সাংবাদিক আক্কাস সিকদারের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে, নিজের পরিবার, স্ত্রী ও সন্তানদের ঝুঁকির মধ্যে রেখে ঝালকাঠি থেকে রাতের পর রাত, দিনের পর দিন আত্মগোপনে থাকতে হয়েছে তাঁকে। এরপরও অসহায় লিমন হোসেনের পক্ষে সুবিচারের আশায় তিনি আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানা যায়।

এ ছাড়া তৎকালীন আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা ও ঝালকাঠি-২ আসনের সংসদ সদস্য আমির হোসেন আমুর বিরুদ্ধে সোনার নৌকা উপঢৌকন গ্রহণসহ বিভিন্ন স্থানে জমি দখলের অভিযোগ নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করায় তাঁকে ভয়ভীতি দেখানো হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। পুলিশ ও র‌্যাব দিয়ে তাঁকে একাধিকবার গ্রেপ্তারের চেষ্টা করা হয়েছিল বলেও তাঁর ঘনিষ্ঠজনেরা দাবি করেন।

তবে নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে আজও নিজের অবস্থানে অটল রয়েছেন অ্যাডভোকেট মো. আক্কাস সিকদার। সাংবাদিকতা ও আইন পেশার পাশাপাশি সহকর্মীদের বিপদে পাশে দাঁড়ানোর জন্যও তিনি পরিচিত। তাঁর সহকর্মীদের ভালোবাসা ও সমর্থনে তিনি ঝালকাঠি প্রেসক্লাবের সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছেন।

দীর্ঘ সংগ্রামী পথচলার পর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর হিসেবে নতুন দায়িত্ব পেয়েছেন অ্যাডভোকেট মো. আক্কাস সিকদার। তাঁর এই নতুন দায়িত্ব ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে—এমন প্রত্যাশা তাঁর সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের।

আমরা তাঁর সফলতা কামনা করি। সত্য ও ন্যায়ের পথে অবিচল থেকে তিনি আরও এগিয়ে যাবেন—এটাই প্রত্যাশা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাশিয়ায় বিস্ফোরণে মেহেরপুরের আলাল নিহত, গ্রামে শোকের মাতম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ২৮শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

১১:৫৭ পি.এম


রাশিয়ায় বিস্ফোরণে মেহেরপুরের আলাল নিহত, গ্রামে শোকের মাতম

রাশিয়ায় বিস্ফোরণে নিহত হয়েছেন মেহেরপুরের আলাল। তাঁর মৃত্যুতে গ্রামে শোকের মাতম চলছে।

 

আলাল হোসেন রাজু রাশিয়ায় গিয়েছিলেন তাঁর অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে রেখে। সেখানে পৌঁছানোর ১৫ দিন পর তাঁর স্ত্রী একটি পুত্রসন্তানের জন্ম দেন।

 

সন্তানের বয়স এখন প্রায় এক বছর। আলালের পরিকল্পনা ছিল আগামী মাসে দেশে ফিরে সন্তানকে দেখা। কিন্তু রাশিয়ায় ঘটে যাওয়া ভয়াবহ বিস্ফোরণে তিনি প্রাণ হারান।

গত মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) রাশিয়ার আমুর অঞ্চলের আমুর গ্যাস কেমিক্যাল কমপ্লেক্সে ঘটে যাওয়া বিস্ফোরণে আলাল নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছে তাঁর পরিবার।

 

দুর্ঘটনার পর তিন দিন তিনি নিখোঁজ ছিলেন। পরে ঢাকায় বাংলাদেশ দূতাবাসে যোগাযোগ করে পরিবার তাঁর মৃত্যুর খবর জানতে পারে।

নিহত আলাল হোসেন রাজু মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার মটমুড়া ইউনিয়নের হোগলবাড়িয়া মাঠপাড়া গ্রামের খেড়ু মণ্ডলের ছেলে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাঁর মরদেহ বাংলাদেশে পাঠানো হবে।

 

স্বজনদের দাবি, প্রায় ১৩ মাস আগে রাশিয়ার সিনোপেক্স ফোর গ্যাস ফিল্ডে কাজ করতে যান আলাল। বিদেশে যাওয়ার সময় তাঁর স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। রাশিয়ায় যাওয়ার ১৫ দিন পর তাঁদের পুত্রসন্তানের জন্ম হয়। আলালের দেশে ফেরার পরিকল্পনা ছিল আগামী মাসে।

গত মঙ্গলবার আমুর গ্যাস কেমিক্যাল কমপ্লেক্সে গ্যাস বিস্ফোরণে অন্তত ১৫ জন নিহত হন।

 

নিহতদের মধ্যে আলাল ও জাকির নামের দুই বাংলাদেশি শ্রমিক রয়েছেন। এ ঘটনায় আরো সাত বাংলাদেশি শ্রমিক আহত হয়েছেন।

মস্কোয় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের সূত্র জানায়, আমুর গ্যাস কেমিক্যাল কমপ্লেক্সটি চীনের সিনোপ্যাক ইঞ্জিনিয়ারিং গ্রুপের অধীনে পরিচালিত হয়। বিস্ফোরণে কয়েকজনের মরদেহ এতটাই পুড়ে গেছে যে তাঁদের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। নিখোঁজ আলালও এসব মরদেহের মধ্যে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হয়েছিল।

দূতাবাস সূত্র জানায়, দুর্ঘটনায় আহত সাত বাংলাদেশি শ্রমিককে উন্নত চিকিৎসার জন্য আমুর থেকে মস্কোর একটি বিশেষায়িত হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে। তাঁদের মধ্যে ছয়জন বর্তমানে নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন। মস্কোয় নেওয়ার পর আহতদের চিকিৎসার বিষয়টি বাংলাদেশ দূতাবাস দেখভাল করবে।

আলালের ভাই জালাল উদ্দিন বলেন, ‘আমরা ঢাকায় গিয়ে দূতাবাসে যোগাযোগ করে জানতে পারি, আমার ভাই আর বেঁচে নেই। আলালের এক চীনা বস আমাদের জানিয়েছেন, দুর্ঘটনায় তাঁর মৃত্যু হয়েছে এবং মরদেহ সেনাবাহিনী নিয়ে গেছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে দূতাবাসের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে আমাদের জানানো হবে।’

আলালের চাচাতো ভাই মহির উদ্দিন বলেন, ‘বিস্ফোরণের ঘটনায় আমার ভাইয়ের মৃত্যু হয়েছে বলে তারা নিশ্চিত করেছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষ হলে তাঁর মরদেহ বাংলাদেশে এনে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘সবচেয়ে বড় কষ্ট হলো, রাজু বিদেশে যাওয়ার সময় তাঁর স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। রাশিয়া যাওয়ার ১৫ দিন পর তাঁদের একটি পুত্রসন্তান জন্ম নেয়। সেই সন্তানকে দেখতে আগামী মাসে তাঁর দেশে ফেরার কথা ছিল।’

এদিকে আলালের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর হোগলবাড়িয়া মাঠপাড়া গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে গ্রামের পরিবেশ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বরিশাল সিটি করপোরেশন: সাড়ে ৭ কোটি টাকা হাওয়া, দুদকে প্রধান প্রকৌশলীর আমলনামা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বরিশাল প্রতিনিধি

শনিবার, ২৯শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

১২:০০ এম


বরিশাল সিটি করপোরেশন: সাড়ে ৭ কোটি টাকা হাওয়া, দুদকে প্রধান প্রকৌশলীর আমলনামা

কাগজে-কলমে কোটি কোটি টাকার উন্নয়ন ও সংস্কার, কিন্তু সরেজমিনে মাঠপর্যায়ে দৃশ্যমান কোনো কাজ নেই! এর পাশাপাশি ঠিকাদারদের কাছ থেকে ৪.৫ থেকে ৫ শতাংশ কমিশন দাবি, ফাইল আটকে রাখা, ঢাকায় বিলাসবহুল ফ্ল্যাটসহ অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং নিয়মিত কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে বরিশাল সিটি করপোরেশনের (বিসিসি) প্রধান প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) মো. হুমায়ুন কবিরের বিরুদ্ধে।

এসব অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) একটি লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে।

৭.৫ কোটি টাকা ব্যয়ের হিসাব ঘিরে ধোঁয়াশা

দুদকে দেওয়া অভিযোগপত্র অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বিসিসির অ্যানেক্স ভবন, নগর ভবন, যান্ত্রিক ও পানি শাখা এবং কয়েকটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র সংস্কারের নামে প্রায় সাড় ৭ কোটি টাকা ব্যয়ের হিসাব দেখানো হয়েছে। তবে অভিযোগকারীর দাবি, সরেজমিনে এসব স্থাপনা পরিদর্শনের পর এত বড় অঙ্কের সংস্কারকাজের কোনো দৃশ্যমান অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।

কাগজে থাকা এই অর্থ বাস্তবে কোন খাতে ব্যয় হয়েছে—তার সুনির্দিষ্ট কোনো ব্যাখ্যা মিলছে না। বিসিসির হিসাব শাখা জানিয়েছে, প্রকৌশল বিভাগ থেকে দেওয়া ব্যয়ের হিসাবের ভিত্তিতেই বাজেটে এই অর্থ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অন্যদিকে, প্রধান প্রকৌশলী মো. হুমায়ুন কবিরের বরাত দিয়ে অভিযোগে বলা হয়, সংস্কারের জন্য বরাদ্দ করা অর্থ অন্য কোনো খাতেও ব্যয় হয়ে থাকতে পারে। একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের কোটি কোটি টাকার ব্যয় নিয়ে এমন অস্পষ্টতা জালিয়াতির সন্দেহ আরও বাড়াচ্ছে।

৫% কমিশন বাণিজ্য ও ফাইল আটকানোর অভিযোগ

দুদকে জমা দেওয়া অভিযোগে দাবি করা হয়, প্রকৌশল বিভাগের ফাইল অনুমোদন ও বিল ছাড়ের ক্ষেত্রে ঠিকাদারদের কাছ থেকে ৪.৫ থেকে ৫ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন দাবি করেন প্রধান প্রকৌশলী। এমনকি পূর্বের বকেয়া থাকা ১ থেকে ১.৫ কোটি টাকা বিল পরিশোধের ক্ষেত্রেও অর্থ দাবি করা হয়। কমিশন দিতে অস্বীকৃতি জানালে ফাইল আটকে রেখে বিল ছাড়ে বিলম্ব ঘটানো হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে।

ঢাকায় ফ্ল্যাট ও বিপুল অবৈধ সম্পদ!

সরকারি অর্থ অপব্যবহারের পাশাপাশি প্রধান প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে। দুদকে পেশ করা তথ্যে জানানো হয়, বরিশালে একটি ৬ তলা ভবন, ঢাকায় একাধিক বিলাসবহুল ফ্ল্যাট এবং বিভিন্ন ব্যবসায় তাঁর বিপুল অর্থ বিনিয়োগ রয়েছে। সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে তাঁর ঘোষিত আয় ও সম্পদের মধ্যে সঙ্গতি রয়েছে কি না—তা খতিয়ে দেখার দাবি জানানো হয়েছে।

কর্মস্থলে অনুপস্থিতি ও বিতর্কিত পুনর্বহাল

অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, নিজের ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক কাজে সময় দিতে তিনি সপ্তাহে অন্তত দুই দিন ঢাকায় অবস্থান করেন। হাজিরা খাতা, মুভমেন্ট রেজিস্টার এবং দাপ্তরিক নথি পর্যালোচনা করলেই অফিসে তাঁর নিয়মিত অনুপস্থিতির প্রমাণ পাওয়া যাবে।

এ ছাড়া তাঁর চাকরি জীবনের অতীত ইতিহাস নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। জানা যায়, ২০২০ সালে তাঁকে চাকরি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। পরবর্তীতে ২০২৪ সালে সেই বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে তাঁকে পদে পুনর্বহাল করা হয়। কিন্তু কী প্রক্রিয়ায় তাঁকে প্রধান প্রকৌশলীর মতো গুরুত্বপূর্ণ চলতি দায়িত্বে আনা হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্টরা।

তদন্তের দিকে নজর

সংস্কারের কার্যাদেশ, কাজের পরিমাপ বই (এমবি), বিল-ভাউচার এবং কাজ শেষে ছাড়পত্র নথিভিত্তিক ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করার দাবি উঠেছে। দুদকের তদন্তেই বেরিয়ে আসবে সাড়ে ৭ কোটি টাকার প্রকৃত গন্তব্য।

(উল্লেখ্য, দুদকে জমা দেওয়া এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো কোনো স্বাধীন আদালত বা তদন্তকারী সংস্থার মাধ্যমে চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়নি। তদন্ত সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে আইনিভাবে দোষী সাব্যস্ত করার সুযোগ নেই। এই বিষয়ে প্রধান প্রকৌশলী মো. হুমায়ুন কবিরের বক্তব্য ও দাপ্তরিক নথি পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হবে।)

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩১
ইশা ০৬:৪২
সূর্যোদয় : ০৫:৫৬ সূর্যাস্ত : ০৫:৩১
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%