০৪:৪৫ পি.এম
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ এবং নির্বাচন ব্যবস্থার মৌলিক সংস্কারের দাবিতে ‘তেলাপোকা জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র ডাকা ‘যন্তরমন্তর-২’ সমাবেশকে কেন্দ্র করে রাজধানী নয়াদিল্লিতে চরম উত্তেজনা ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পুরো দিল্লি নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ঢেকে ফেলা হয়েছে আন্দোলনকারীদের ঠেকাতে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পশ্চিমবঙ্গ, কাশ্মীর ও ছত্তিশগড় থেকে প্রায় ২৩ হাজার (২৩১ কোম্পানি) আধাসামরিক বাহিনীর জওয়ানকে জরুরি ভিত্তিতে উড়িয়ে আনা হয়েছে।
ভারতীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, মোতায়েন করা বাহিনীর মধ্যে সিআরপিএফ (CRPF), আইটিবিপি (ITBP), এসএসবি (SSB) এবং সিআইএসএফ (CISF)-এর জওয়ানরা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর পাশাপাশি, দিল্লি পুলিশের অন্তত ১৫ হাজার সদস্য মাঠে দায়িত্ব পালন করবেন। জি-২০ সম্মেলনের পর রাজধানীতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় এত বিপুল পরিমাণ বাহিনী মোতায়েনের ঘটনা এটিই প্রথম। নিরাপত্তা পরিস্থিতি সরাসরি তদারকি করতে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ তাঁর বেশ কিছু নির্ধারিত রাজ্য সফর বাতিল করে দিল্লিতেই অবস্থান করছেন।
পুলিশের পক্ষ থেকে নির্ধারিত সময়ে আবেদন না করার অজুহাতে সিজেপি-কে যন্তরমন্তরে সমাবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি। তবে অনুমতি না মিললেও সিজেপি নেতারা ১০ অক্টোবরের পূর্বঘোষিত কর্মসূচি পালনে অনড় রয়েছেন। সিজেপির সহ-আহ্বায়ক সৌরভ দাস এক্স (টুইটার) বার্তায় জানিয়েছেন, "বিক্ষোভ করা সংবিধানে স্বীকৃত মৌলিক অধিকার। কর্তৃপক্ষকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে—তারা আমাদের যন্তরমন্তরে সমাবেশ করতে দেবে, নাকি পুরো দিল্লিকেই যন্তরমন্তরে পরিণত হতে দেখবে।"
আরও পড়ুন: ইরান যুদ্ধের প্রভাবে মধ্যপ্রাচ্যের পুরোনো রাজনৈতিক কাঠামো বদলাচ্ছে: বিশ্লেষক
জনস্রোত রুখতে কেন্দ্র ও দিল্লি পুলিশ কঠোর অবস্থান নিয়েছে। প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে মধ্য দিল্লির সংযোগকারী অন্তত ৫৭টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, দিল্লিতে প্রবেশকারী বাস, শিক্ষার্থীদের হোস্টেল ও পিজি (PG) আবাসনগুলোর ওপর কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে। আন্দোলনকারীদের আটক রাখতে শহরের কয়েকটি স্টেডিয়ামকে অস্থায়ী আটক কেন্দ্রে পরিণত করার প্রস্তুতিও নিয়েছে পুলিশ।
এদিকে, দিল্লি আম আদমি পার্টির (আপ) সভাপতি সৌরভ ভরদ্বাজ অভিযোগ করেছেন, তাঁদের দলীয় ও ছাত্র সংগঠনের বহু সদস্যকে পুলিশ আটক করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে গেছে এবং তাঁদের মোবাইল ফোন বন্ধ করে রাখা হয়েছে। উল্লেখ্য, সিজেপির পাশাপাশি অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন (AISA), বামপন্থী দলসমূহ, নাগরিক সমাজ এবং বিরোধী দল কংগ্রেসের সংসদ সদস্যরাও প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে এই আন্দোলনে সংহতি জানিয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন