মঙ্গলবার, ২৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১০:৩২ এম
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে ভারতের স্থায়ী সদস্যপদের প্রতি আবারও জোরালো সমর্থন জানিয়েছে রাশিয়া। নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত ৮১তম জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে, এ বিষয়ে রাশিয়ার আনুষ্ঠানিক অবস্থান স্পষ্ট করেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ।
ল্যাভরভ উল্লেখ করেন যে, গ্লোবাল সাউথের প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধির পক্ষে তারা এবং এশিয়া, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার উপস্থিতি নিশ্চিত করতে ভারত ও ব্রাজিলের স্থায়ী সদস্যপদের দাবিকে সমর্থন করেন। তবে নিরাপত্তা পরিষদে জার্মানি বা জাপানের মতো পশ্চিমা দেশগুলোর জন্য অতিরিক্ত আসন না দেওয়ার বিষয়ে সতর্কবার্তা দেন তিনি। তিনি দাবি করেন যে, এই দেশগুলো বর্তমানে সামরিকবাদ ও প্রতিশোধপরায়ণতার পথে হাঁটছে। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেন যে, নিরাপত্তা পরিষদের যেকোনো সংস্কারে বিদ্যমান স্থায়ী সদস্যদের মূল ক্ষমতা বা ভেটো অধিকার অক্ষুণ্ন রাখতে হবে।
এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতের স্থায়ী সদস্যপদের দাবিতে কেবল রাশিয়াই নয়, মরিশাসও সমর্থন জানিয়েছে। মরিশাসের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ধনঞ্জয় রামফুল তার ভাষণে বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে ভারতের গঠনমূলক ভূমিকার প্রশংসা করে এই দাবির প্রতি পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করেন।
বর্তমানে ১৫ সদস্যের নিরাপত্তা পরিষদে পাঁচটি স্থায়ী সদস্য (চীন, ফ্রান্স, রাশিয়া, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র) ছাড়াও ১০টি অস্থায়ী সদস্য রয়েছে। নিরাপত্তা পরিষদের কাঠামো পরিবর্তনের জন্য সাধারণ পরিষদের দুই-তৃতীয়াংশ ভোট এবং পাঁচটি স্থায়ী সদস্যসহ দুই-তৃতীয়াংশ সদস্য রাষ্ট্রের অনুমোদন প্রয়োজন। রাশিয়ার সমর্থন থাকলেও এবং অন্যান্য স্থায়ী সদস্যদের মিশ্র প্রতিক্রিয়া সত্ত্বেও, রাশিয়ার ঘনিষ্ঠ মিত্র চীনের তীব্র বিরোধিতার কারণে এই সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে বর্তমানে অচলাবস্থা বিরাজ করছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ফুটবল মাঠে ট্যাকল, ফাউল কিংবা হাতাহাতির কারণে লাল কার্ড দেখা একটি সাধারণ ঘটনা। তবে, প্রতিপক্ষ ফুটবলারের চুল ধরে টান দেওয়ার অপরাধে পরপর দুই খেলোয়াড়ের লাল কার্ড দেখার ঘটনা সম্ভবত ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ঘটেছে। অদ্ভুত এই কাণ্ডটি কনকাকাফ নেশন্স লিগের ম্যাচে অ্যানগুইলা ও অ্যান্টিগুয়া অ্যান্ড বার্বুডার মধ্যে ঘটে।
ম্যাচের সময় অ্যানগুইলা ৫-০ ব্যবধানে পিছিয়ে ছিল। যখন হার নিশ্চিত হয়ে যাচ্ছিল, তখন ৬৯তম মিনিটে বদলি হিসেবে মাঠে প্রবেশ করেন অ্যানগুইলার মিডফিল্ডার এইডান সিপিও। মাঠে প্রবেশ করার সাথে সাথে তিনি নিজের লম্বা চুলের কারণে পুরো খেলার পরিস্থিতি বদলে দেন।
সিপিওর ড্রেডলক স্টাইলের চুল এতটাই দীর্ঘ যে তা প্রায় তার গোড়ালি পর্যন্ত পৌঁছে যায়। সাধারণত, তিনি মাঠে খেলার সুবিধার্থে চুলগুলো কোমর দিয়ে বেঁধে রাখেন। কিন্তু মাঠে নামার মাত্র ৩ মিনিটের মধ্যে বিপত্তি ঘটে। অ্যান্টিগুয়া অ্যান্ড বার্বুডার ফুটবলার কেওন গ্রিন পেছন থেকে সিমিওর ঝুলন্ত চুল ধরে টান মেরে বসেন। রেফারি বিষয়টি সরাসরি দেখার পর কোনো দ্বিধা ছাড়াই গ্রিনকে ডিরেক্ট লাল কার্ড দেখিয়ে মাঠ থেকে বের করে দেন।
এখনও বিস্ময়ের শেষ হয়নি! সতীর্থের এমন কাণ্ড থেকে শিক্ষা না নিয়ে অ্যান্টিগুয়া অ্যান্ড বার্বুডার আরেক খেলোয়াড়ও একইভাবে সিমিওর চুল ধরে টান দেন। এর ফলস্বরূপ, রেফারি তাকেও তাৎক্ষণিক লাল কার্ড দেখিয়ে ড্রেসিংরুমে পাঠান। ফলে, ৩ মিনিটের ব্যবধানে পরপর দুটি লাল কার্ড পেয়ে ৯ জনের দলে পরিণত হয় অ্যান্টিগুয়া অ্যান্ড বার্বুডা।
ম্যাচটি দলটি জিততে না পারলেও চলতি আন্তর্জাতিক বিরতিতে বদলি নেমে মাথার চুল দিয়ে প্রতিপক্ষকে এভাবে ব্যাকফুটে ঠেলে দেওয়ার ট্রল এখন বিশ্ব ফুটবলাঙ্গনে চলছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীতে ব্যাটারিচালিত রিকশার চলাচলকে শৃঙ্খলার মধ্যে আনতে সরকার নিবন্ধন, জোনভিত্তিক চলাচল এবং জিপিএস নজরদারির পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। যদি এই পরিকল্পনা কার্যকর হয়, তাহলে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনকে চারটি করে মোট আটটি জোনে ভাগ করা হবে। প্রতিটি জোনে নির্ধারিতসংখ্যক রিকশা চলাচল করবে এবং এক জোনের রিকশা অন্য জোনে প্রবেশ করতে পারবে না। প্রাথমিকভাবে দুই সিটির ফিডার সড়কে মোট আট লাখ ব্যাটারিচালিত রিকশা অনুমোদনের প্রস্তাব রয়েছে।
এক প্রতিবেদনে কালবেলা জানায়, স্থানীয় সরকার বিভাগের ‘ই-মোবিলিটি ও ব্যাটারি সোয়াপিং সিস্টেম রোল-আউট পরিকল্পনা (ঢাকা শহর)’ শীর্ষক নথিতে এসব প্রস্তাব রাখা হয়েছে। গত ১৩ ও ৩০ আগস্ট স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত দুটি সভায় নিবন্ধন, রুট, চালকের লাইসেন্স, উৎপাদন নিয়ন্ত্রণ ও চার্জিং ব্যবস্থাপনা নিয়ে একাধিক সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঢাকা মহানগরে বর্তমানে প্রায় ১৫ লাখ ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচল করছে, যেগুলোর নিবন্ধন নেই। ঢাকার বাইরেও রয়েছে প্রায় ৪০ লাখ। অনিয়ন্ত্রিত চলাচলের কারণে রাজধানীতে যানজট ও দুর্ঘটনা বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রস্তাবে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ২ হাজার ২৫০ কিলোমিটার এবং দক্ষিণ সিটির ১ হাজার ১৭০ কিলোমিটার ফিডার সড়কে চার লাখ করে মোট আট লাখ রিকশা চলাচলের অনুমোদনের কথা বলা হয়েছে। প্রধান সড়কে এসব রিকশার চলাচল নিষিদ্ধ থাকবে।
জোনভিত্তিক নিয়ন্ত্রণের জন্য অনলাইনে জিপিএস ও জিও-ফেন্সিং প্রযুক্তি ব্যবহারের পাশাপাশি অফলাইনে রিকশার গায়ে আলাদা রং ও নম্বরপ্লেটে জোনভিত্তিক কোড ব্যবহারের প্রস্তাব রয়েছে। এর মাধ্যমে নির্ধারিত এলাকার বাইরে রিকশার চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।
পরিকল্পনায় বুয়েট অনুমোদিত নতুন ব্যাটারিচালিত রিকশা নিবন্ধনের পর সড়কে নামানোর কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি এক্সচেঞ্জ কর্মসূচির মাধ্যমে পুরোনো রিকশা বদলে নতুন রিকশা দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। পুরনো গাড়ির মূল্য নতুন গাড়ির দামের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে। বাকি অর্থ মালিক নিজে বা ক্ষুদ্রঋণের মাধ্যমে পরিশোধ করতে পারবেন।
দেশীয় দুই সিটের রিকশার সম্ভাব্য দাম ১ লাখ ৮০ হাজার থেকে ২ লাখ ১০ হাজার টাকা ধরা হয়েছে। পুরনো গাড়ির মূল্য সমন্বয়ের পর নতুন রিকশা কিনতে প্রায় দেড় লাখ থেকে ৩ লাখ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ব্যয় হতে পারে।
খসড়া সিদ্ধান্তে একটি জাতীয় পরিচয়পত্রের বিপরীতে সর্বাধিক পাঁচটি রিকশার নিবন্ধনের সুযোগ রাখা হয়েছে। প্রতিটি রিকশার অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল সর্বোচ্চ ১০ বছর নির্ধারণের প্রস্তাব রয়েছে। মেয়াদ শেষ হলে নিবন্ধন বাতিল করা হবে।
সিটি করপোরেশন এলাকায় দুই সিটের রিকশার জন্য এককালীন ১০ হাজার টাকা নিবন্ধন ফি এবং বছরে ৩ হাজার টাকা নবায়ন ফি প্রস্তাব করা হয়েছে।
১৮ থেকে ৬৫ বছর বয়সী নাগরিকরা জাতীয় পরিচয়পত্রের ভিত্তিতে ৫০০ টাকা ফি দিয়ে পাঁচ বছরের জন্য চালকের লাইসেন্স পাবেন। লাইসেন্সধারীদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও রাখা হবে।
অবৈধ চার্জিং বন্ধে নির্দিষ্ট চার্জিং পয়েন্ট ও গ্যারেজে ব্যাটারি চার্জের ব্যবস্থা করা হবে। একই সঙ্গে সৌরবিদ্যুৎসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। প্রচলিত চার্জিংয়ের পরিবর্তে সাবস্ক্রিপশনভিত্তিক ব্যাটারি সোয়াপিং ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাবও রয়েছে। এতে এক থেকে দেড় মিনিটের মধ্যে ব্যবহৃত ব্যাটারির বদলে চার্জ করা ব্যাটারি বসিয়ে দেওয়া সম্ভব হবে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, চার লাখ রিকশার জন্য স্টেশনের সক্ষমতা অনুযায়ী এক হাজার থেকে ছয় হাজার ব্যাটারি সোয়াপিং স্টেশন প্রয়োজন হতে পারে। প্রতিটি স্টেশন স্থাপনে প্রাথমিক বিনিয়োগ ১ কোটি ২৯ লাখ টাকা ধরা হয়েছে। অর্থায়নে গ্রিন ফান্ড থেকে ৭০ শতাংশ, সরকারি প্রণোদনা ২০ শতাংশ এবং উদ্যোক্তার নিজস্ব বিনিয়োগ ১০ শতাংশ রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : সরকার প্রযুক্তিভিত্তিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে সহায়তা প্রদান করবে, যা দেশে দক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং প্রযুক্তিসেবা সহজীকরণের লক্ষ্যে। প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, কর নীতি, বিনিয়োগ পরিকল্পনা এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা পর্যালোচনা করা হবে।
গত রোববার যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সিডার হলে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশ-সিলিকন ভ্যালি প্রযুক্তি সংলাপ’-এর সমাপনী বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
ড. তিতুমীর বলেন, "প্রযুক্তিগত সহযোগিতা যেন নাগরিক সেবার মান বাড়ায় এবং দেশের মানুষের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করে, তা নিশ্চিত করতে হবে।" তিনি অংশগ্রহণকারীদের প্রতি আহ্বান জানান, বাস্তবায়নযোগ্য প্রকল্প, দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এবং পরবর্তী করণীয় দ্রুত নির্ধারণ করতে।
‘বাংলাদেশের ভবিষ্যতের জন্য প্রযুক্তি, মেধা ও অংশীদারিত্ব’ শীর্ষক এই সংলাপের আয়োজন করেছে লস অ্যাঞ্জেলেসে অবস্থিত বাংলাদেশের কনস্যুলেট জেনারেল। এতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিশেষ প্রতিনিধি দলের সদস্যরা সিলিকন ভ্যালির প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ, গবেষক, উদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারী ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে আলোচনা করেন।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন এবং সঞ্চালনা করেন কনসাল জেনারেল কাজী মুহাম্মদ জাবেদ ইকবাল। যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক মো. আরিফুল ইসলামও বক্তব্য দেন।
প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ প্রতিনিধিদলে ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
সংলাপে বাংলাদেশের প্রযুক্তি খাতের উন্নয়ন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহার, সেমিকন্ডাক্টর শিল্প, গবেষণা, দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান এবং বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।
বাংলাদেশে এআইয়ের ব্যবহার নিয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদ, ইলিনয় বিশ্ববিদ্যালয় আরবানা-শ্যাম্পেইনের সহকারী অধ্যাপক ড. শরিফা সুলতানা, উবারের বিশিষ্ট প্রকৌশলী ড. মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম এবং এনভিডিয়ার গবেষক ড. মোস্তফা পাটোয়ারী।
এ ছাড়া গ্লোবালফাউন্ড্রিজের ড. মাহবুব রাশেদ সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের সম্ভাবনা ও সার্বিক বিকাশ নিয়ে বক্তব্য দেন।
ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয় ডেভিসের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. সাইফ ইসলাম মেধা, প্রযুক্তি ও পুঁজি বিষয়ে প্যানেল আলোচনা সঞ্চালনা করেন।
প্যানেলে অংশ নেন উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, ক্রিডো সেমিকন্ডাক্টরের ড. শতিল হক, এক্সোর সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা ড. ইউসুফ হক, মেডট্রনিকের সাবেক প্রধান নির্বাহী ও ইন্টেলের পরিচালনা পর্ষদের সাবেক চেয়ারম্যান ড. ওমর ইশরাক, উল্কাসেমির সভাপতি ও প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ এনায়েতুর রহমান এবং ক্লাউডএআইয়ের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা বদরুল সারওয়ার।
আলোচকেরা গবেষণা, দক্ষতা উন্নয়ন, শিল্প খাতের অংশীদারত্ব এবং বিনিয়োগের সুযোগ নিয়ে মতবিনিময় করেন।
উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ বলেন, "গবেষণা, শিক্ষা, স্টার্টআপ ও শিল্প খাতের মধ্যে শক্তিশালী সংযোগ গড়ে তুলে প্রযুক্তি খাতের উন্নয়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ সরকার।" তিনি বিএইআর সামিটসহ সরকারের সাম্প্রতিক বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে বলেন, দেশের ক্রমবর্ধমান প্রযুক্তিগত মেধাকে উদ্ভাবন, বিনিয়োগ ও দক্ষ কর্মসংস্থানে রূপান্তর করতে হবে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বিশ্ব প্রযুক্তি শিল্পে বাংলাদেশি পেশাজীবীদের সাফল্যের প্রশংসা করেন। তিনি দীর্ঘমেয়াদি যোগাযোগ ও সহযোগিতা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কূটনীতিকে পররাষ্ট্রনীতির অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করে শামা ওবায়েদ বলেন, প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষতা উন্নয়ন এবং যুক্তরাষ্ট্রের গবেষণা ও উদ্ভাবন ব্যবস্থার সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক আরও জোরদার করতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, এ ধরনের সহযোগিতা কৃষি ও খাদ্যনিরাপত্তাসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন বাস্তব সমস্যা সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের এ সময়ে শিশুদের ডিজিটাল দক্ষতার পাশাপাশি মৌলিক শিক্ষায়ও দক্ষ করে তুলতে হবে।
তিনি শিক্ষকদের ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ, শ্রেণিকক্ষে প্রযুক্তি ও এআইয়ের সঠিক ব্যবহার এবং সুবিধাবঞ্চিত শিশুসহ সব শিক্ষার্থীর কাছে মানসম্মত শিক্ষাসামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন। নতুন শিক্ষাপদ্ধতিগুলো মূল শিক্ষাব্যবস্থায় প্রয়োগের আগে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তিনি তুলে ধরেন।
বাংলাদেশের কনস্যুলেট জেনারেল প্রতিনিধিদল ও আগ্রহী অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে নিয়ে এসব বিষয়ে ধারাবাহিকভাবে কাজ চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ