বৃহস্পতিবার, ২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১০:৫৮ পি.এম
চট্টগ্রামের পাহাড়তলী সাবরেজিস্ট্রি কার্যালয়ে নিবন্ধনের সরকারি ফি ছিল ১৫ হাজার টাকা দুটি অংশীদারি চুক্তিপত্রের জন্য। যদিও দলিল দুটিতে কোনো ত্রুটি ছিল না, অভিযোগ উঠেছে যে নিবন্ধন আটকে রেখে দুই লাখ টাকা ঘুষ নেওয়া হয়েছে। উমেদার রূপণ দাশ আদালতে জানিয়েছেন যে পরে আরও ২০ হাজার টাকা ‘কমিশন’ নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অভিযানের সময় সাবরেজিস্ট্রার আবদুস সোবহান, হেড ক্লার্ক ফারুক ইসলাম এবং উমেদার রূপণ দাশকে গ্রেপ্তার করা হয়। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলমগীর হোসেনের আদালতে হেড ক্লার্ক ফারুক ইসলাম ও উমেদার রূপণ দাশ দাবি করেন যে সাবরেজিস্ট্রার আবদুস সোবহানের নির্দেশে তারা দুই লাখ টাকা নিয়েছিলেন।
জবানবন্দি গ্রহণের পর তিন আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর রেজাউল করিম রনি গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। অভিযানের নেতৃত্বে থাকা দুদকের চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. আল আমিন জানান, ২২ সেপ্টেম্বর পাহাড়তলী সাব-রেজিস্ট্রি কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে দুই লাখ টাকা ঘুষ গ্রহণের সময় সাব-রেজিস্ট্রারসহ তিনজনকে হাতেনাতে আটক করা হয়।
তিনি আরও বলেন, পাহাড়তলী সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে অংশীদারি চুক্তিপত্র নিবন্ধনের জন্য তারা দুই লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেছিলেন। এক ভুক্তভোগী আইনজীবী প্রথমে হটলাইন ১০৬ এবং পরে দুদক চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়-১-এ লিখিত অভিযোগ করেন। এই অভিযোগের ভিত্তিতে কৌশলে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়।
দুদকের পিপি রেজাউল করিম রনি জানান, আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে হেড ক্লার্ক ফারুক ইসলাম বলেছেন, সাবরেজিস্ট্রার আবদুস সোবহানের নির্দেশে তিনি দুই লাখ টাকা ঘুষ নিয়েছিলেন। ওই টাকা উমেদার রূপণ দাশের মাধ্যমে তার কাছে পাঠানো হয়েছিল। সেই অর্থ গ্রহণের সময়ই দুদকের দল কার্যালয়ে অভিযান চালায়।
এদিকে, উমেদার রূপণ দাশ তার জবানবন্দিতে বলেন, তিনি প্রায় ১৫ বছর ধরে ওই কার্যালয়ে কর্মরত। যে দলিল নিবন্ধনের ঘটনায় তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে, সেটির সরকারি ফি ছিল ১৫ হাজার টাকা। এর বাইরে দুই লাখ টাকা ঘুষ নেওয়া হয়।
জবানবন্দিতে রূপণ দাশ আরও বলেন, প্রথমে এক লাখ ৮০ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছিল। পরে আরও ২০ হাজার টাকা কমিশন হিসেবে নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। দলিলদাতাদের একজন উপস্থিত হতে না পারায় ওই টাকা তার বাসায় গিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। তার দাবি, দলিলটিতে কোনো ত্রুটি না থাকলেও সাবরেজিস্ট্রারের নির্দেশে বাড়তি দুই লাখ টাকা নেওয়া হয়।
আদালত সূত্র জানায়, এ ঘটনায় দুদকের পক্ষ থেকে পরে মামলা করা হয়। বুধবার গ্রেফতার তিনজনকে আদালতে হাজির করা হলে সাবরেজিস্ট্রার আবদুস সোবহান জবানবন্দি দেননি। অপর দুই আসামি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভিসা-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে বাংলাদেশ দল ইন্দোনেশিয়ায় পৌঁছাতে কিছুটা দেরি করেছে। তবে এই ধকল পেছনে ফেলে জামাল ভূঁইয়াদের এখন মাঠের লড়াইয়ে মনোযোগ দিতে হবে। শুক্রবার ফিফা আসিয়ান কাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশ মালয়েশিয়ার বিরুদ্ধে মাঠে নামবে।
ম্যাচের পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া জানিয়েছেন, প্রস্তুতির জন্য তারা ইন্দোনেশিয়ায় আরও আগে আসতে চেয়েছিলেন। কিন্তু ভিসা-সংক্রান্ত সমস্যা তাদের জন্য তা সম্ভব করে তুলতে পারেনি।
“আমরা একটু আগেই আসতে চেয়েছিলাম, কিন্তু ভিসা-সংক্রান্ত সমস্যার কারণে তা সম্ভব হয়নি। কোচ যেমন বলেছেন, আমরা জানি এটা কঠিন হবে। তবে আমরা নিজেদের ওপর বিশ্বাস রাখছি এবং আমাদের আত্মবিশ্বাসও ভালো,” জামাল মন্তব্য করেন।
বাংলাদেশের জন্য এই টুর্নামেন্টের প্রধান লক্ষ্য শুধুমাত্র জয় বা পরাজয় নয়। আগামী মাসে ঘরের মাঠে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করার একটি সুযোগ হিসেবেই ফিফা আসিয়ান কাপকে দেখছেন জামালরা।
“আপনি সফল হতে চাইলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হবে এবং ভালো ম্যাচ খেলতে হবে। কোচ যেমন বলেছেন, এটা আমাদের জন্য প্রস্তুতির টুর্নামেন্ট। কারণ এক মাসের মধ্যেই সাফ টুর্নামেন্ট আছে, সেটিই আমাদের মূল লক্ষ্য,” জামাল আরও বলেন।
অন্যদিকে, মালয়েশিয়ার বিপক্ষে বাস্তবসম্মত লক্ষ্য সম্পর্কে কোচ থমাস ডুলি জানান। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে প্রায় ৫০ ধাপ এগিয়ে থাকা মালয়েশিয়ার বিরুদ্ধে বাংলাদেশ আন্ডারডগ হিসেবে মাঠে নামবে। ডুলির মতে, ১-০ ব্যবধানে হার কিংবা ড্র করলেও সেটি বাংলাদেশের জন্য একটি দারুণ ফল হবে।
“আমরা যদি ভালো ফল করতে পারি—শুধু ১-০ গোলে হারি কিংবা ড্র করি, সেটিও দারুণ হবে,” ডুলি বলেন।
তবে জামালরা শুধুমাত্র প্রতিপক্ষের শক্তি মেপে পিছিয়ে থাকতে চান না। অধিনায়ক জানিয়েছেন, কয়েকটি পয়েন্ট বা এক-দুটি জয় পেলে তারা এই সফরকে সফল মনে করবেন।
মালয়েশিয়ার পর বাংলাদেশ সিঙ্গাপুর ও স্বাগতিক ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামবে। তিন প্রতিপক্ষই ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের ওপরে—মালয়েশিয়া ১৩৬, সিঙ্গাপুর ১৪৬ ও ইন্দোনেশিয়া ১১৮; বাংলাদেশের অবস্থান ১৮১।
এভাবে আসিয়ান কাপকে বড় পরীক্ষার পাশাপাশি আগামী নভেম্বরে ঘরের মাঠের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের প্রস্তুতি হিসেবেই দেখছে বাংলাদেশ। কঠিন প্রতিপক্ষের বিপক্ষে নিজেদের বর্তমান অবস্থান যাচাই করে আত্মবিশ্বাস নিয়ে দেশে ফেরার লক্ষ্য জামালদের।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দিনাজপুর, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ : মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন উল্লেখ করেছেন, দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি হলো কৃষক।
তিনি আরও বলেন, অসচ্ছল কৃষকদের সরকারি সহায়তা প্রদান করে কৃষি উৎপাদন সচল রাখা সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয় কর্তৃক আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে এডিপির অর্থায়নে ২০ জন নারীকে সেলাই মেশিন প্রদান করা হয়, এছাড়া ২৫টি গৃহহীন দরিদ্র পরিবারকে দুই বান্ডিল করে ঢেউটিন বিতরণ করা হয় এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন কর্মসূচির আওতায় অসহায়, দুস্থ, প্রতিবন্ধী ও গৃহহীন ৯২ জনকে আর্থিক সহায়তার চেক প্রদান করা হয়।
এছাড়া, ১২৬ জন দুস্থ ও মেধাবী শিক্ষার্থীকে শিক্ষা সহায়তার চেক এবং ২৩টি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে বার্ষিক অনুদান দেওয়া হয়।
একই অনুষ্ঠানে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহযোগিতায় উপজেলার ৮৪০ জন কৃষকের মধ্যে সবজি বীজ ও প্রত্যেককে ১০ কেজি করে রাসায়নিক সার বিতরণ করা হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, সরকার সমাজের কোনো মানুষকে অবহেলিত রেখে নয়, বরং একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে কাজ করছে। অসহায়, দুস্থ, প্রতিবন্ধী ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানো সরকারের সাংবিধানিক অঙ্গীকার। এ লক্ষ্যে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির পরিধি আরও বিস্তৃত করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, নারীদের আত্মকর্মসংস্থান, দরিদ্র শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় উৎসাহ দেওয়া এবং গৃহহীনদের আবাসনের সুযোগ তৈরির পাশাপাশি সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রমকে শক্তিশালী করতে এসব সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। এ ধরনের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি জানান।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. তানজিনা খাতুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিরামপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. হারেজ উদ্দিন, উপজেলা বিএনপির সভাপতি মিয়া মো. শফিকুল ইসলাম মামুন, সাধারণ সম্পাদক মো. মনজুরুল ইসলাম রুবেলসহ সরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও উপকারভোগীরা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুমিল্লার ১৮টি থানায় একযোগে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ ৬২৪ জনকে আটক করেছে। এই অভিযান বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা থেকে শুরু হয়ে রাত দেড়টা পর্যন্ত চলে। আটকদের মধ্যে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, তাদের পূর্বের অপরাধে জড়িত থাকার বিষয়টি যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কুমিল্লা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও মিডিয়া কর্মকর্তা লুৎফর রহমান জানান, সাম্প্রতিক সময়ে কিশোরদের বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। এ কারণে পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামানের নির্দেশে জেলার ১৮টি থানায় একযোগে অভিযান পরিচালনা করা হয়।
নগরীর বিভিন্ন স্থানে এবং যেসব এলাকায় বখাটেদের উৎপাত ও কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা রয়েছে, সেসব এলাকায় অভিযান চালানো হয়েছে। আটকদের বিষয়ে যাচাই-বাছাই শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান। কিশোরদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়াতে না পারে, সেজন্য এ ধরনের অভিযান নিয়মিত চালানোর পরিকল্পনা করেছে জেলা পুলিশ।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় ৭৫ জন, সদর দক্ষিণ মডেল থানায় ৪৬, বুড়িচং থানায় ৫০, মনোহরগঞ্জ থানায় ৪১, দাউদকান্দি থানায় ৫৯ এবং লাকসাম থানায় ৩৫ জনকে আটক করা হয়েছে। অন্য থানাগুলোতে আটক ব্যক্তিদের তথ্যও যাচাই করা হচ্ছে।
কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার জানান, আটকদের মধ্যে শিক্ষার্থীদের সনাক্তকরণও করা হচ্ছে। যদি তাদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে তাদের আদালতে পাঠানো হবে। অন্যদের সতর্ক করে পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হতে পারে।
থানার সামনে অভিভাবকদের ভিড়
অভিযান শুরুর পর রাত আটটা থেকে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানা, সদর দক্ষিণ মডেল থানাসহ বিভিন্ন থানার সামনে আটকদের স্বজনদের ভিড় দেখা যায়। কিশোরদের আটকের খবর পেয়ে অনেক অভিভাবক থানায় ছুটে আসেন। তাদের মধ্যে অনেকে গভীর রাত পর্যন্ত থানার বাইরে অপেক্ষা করেন।
কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় আটক কয়েকজনকে নগরের ঈদগাহ মাঠ থেকে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে একটি পরিচিত বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীও ছিল। ওই শিক্ষার্থীর বাবা প্রবাসে থাকেন। ছেলেকে আটকের খবর পেয়ে তার মা থানায় ছুটে আসেন।
ওই নারী জানান, সন্ধ্যার পর তার ছেলে প্রাইভেট পড়তে গিয়েছিল। রাত সাড়ে নয়টার দিকে তিনি জানতে পারেন, তাকে থানায় আটক করা হয়েছে। পরে ছেলের স্কুলের পরিচয়পত্র নিয়ে থানায় যান। পুলিশ তাকে জানিয়েছে, কোনো অপরাধে জড়িত না থাকলে যাচাই করে ছেড়ে দেওয়া হবে। কয়েকজন সেখানে আড্ডা দিচ্ছিল বলেও তিনি জানতে পারেন।
সদর দক্ষিণ মডেল থানা এলাকায় আটক কিশোরদের বেশির ভাগকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশ ও কোটবাড়ির বিভিন্ন স্থান থেকে আটক করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরও রয়েছে। তার বাবা কোটবাড়ির একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। ছেলেকে আটকের খবর পেয়ে তিনি মধ্যরাত পর্যন্ত থানার সামনে অপেক্ষা করেন।
ওই অভিভাবকের ভাষ্য, সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের সামনে কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গে কথা বলার সময় তার ছেলেকে আটক করা হয়। এ বছর সে এসএসসি পাস করেছে। কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে তার ছেলের কোনো সম্পৃক্ততা নেই দাবি করে তিনি বলেন, কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে অভিযান ইতিবাচক। তবে অভিযানের নামে শিক্ষার্থীসহ ভালো ছেলেদেরও একসঙ্গে আটক করলে সমস্যার সমাধান হবে না।
দাউদকান্দিতে থানার দরজা ভেঙে ২২ কিশোরের বেরিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানের মধ্যে দাউদকান্দি মডেল থানায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। সেখানে সন্দেহভাজন হিসেবে ২৮ কিশোরকে আটক করা হয়েছিল। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টার দিকে তাদের মধ্যে ২২ জন থানার একটি কক্ষে চেয়ার-টেবিল ও দরজা ভেঙে বেরিয়ে যায়।
পরে থানার সামনে জড়ো হয়ে ওই কিশোরদের একটি অংশ ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিতে থাকে। এ সময় আটক কিশোরদের স্বজন ও স্থানীয় লোকজনও থানার সামনে জড়ো হন। বিকেল থেকেই সেখানে অভিভাবকদের ভিড় বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে হট্টগোল ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, থানার একটি কক্ষে আটক রাখা কিশোরদের কয়েকজন চেয়ার-টেবিল ও দরজা ভেঙে বেরিয়ে আসে। পরে তাদের একটি অংশ থানার সামনে অবস্থান নেয়।
পুলিশি অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া সদস্যদের ভাষ্য, আটক সবাই কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য। তবে দাউদকান্দি মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম বলেন, অপ্রয়োজনে ঘোরাফেরার কারণে সন্দেহভাজন হিসেবে ২৮ জনকে আটক করা হয়েছিল। তাদের স্বজনরা একসঙ্গে থানায় আসায় ভিড় তৈরি হয়।
রাত সাড়ে ১০টার দিকে ২২ জনকে অভিভাবকের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে জানিয়ে ওসি বলেন, যাচাই-বাছাই শেষে বাকি ছয়জনের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি হ্যান্ডমাইকে বক্তব্য দিয়ে থানার সামনে জড়ো হওয়া লোকজনকে শান্ত করার চেষ্টা করেন।
অপ্রতিম হত্যার পর নতুন করে আলোচনায় কিশোর গ্যাং
কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা নতুন নয়। তবে ১৩ বছর বয়সী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যার পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে।
১৮ সেপ্টেম্বর দুপুরে কোটবাড়ির গন্ধমতী এলাকার ভাড়া বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় অপ্রতিম। পরদিন শনিবার দুপুরে সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর ইউনিয়নের সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়ের নির্জন জঙ্গল থেকে তার রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
অপ্রতিম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান এবং কুমিল্লা বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের মধ্যে দুজন কিশোর। পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা ১৯ বছর বয়সী সাইফুল ইসলাম তুহিনসহ তিনজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। অপর ১৯ বছর বয়সী তরুণকে হত্যাকাণ্ডের সহযোগী হিসেবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
অপ্রতিম হত্যার পর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন কর্মসূচিতে কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি ওঠে। এর পর কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তার, বিভিন্ন দলের তৎপরতা ও অপরাধে জড়িয়ে পড়ার তথ্য নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
নগরে সক্রিয় একাধিক দল
স্থানীয় সূত্র ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন নথির তথ্য অনুযায়ী, কুমিল্লা নগরে কিং স্কোয়াড, স্কোয়াড বা রতন গ্রুপ, ইগল, সিবিকে ও ক্রাইম সেটআপসহ কয়েকটি কিশোর গ্যাং বা দল সক্রিয় রয়েছে। অপু ও সাব্বিরের নামে আরও দুটি দলের কথাও বিভিন্ন নথি ও স্থানীয় সূত্রে এসেছে।
তবে কুমিল্লা জেলায় কিশোর গ্যাংয়ের কোনো হালনাগাদ তালিকা পুলিশের কাছে নেই।
কুমিল্লা নগরে ২০১৫ সালের দিকে কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা ব্যাপকভাবে আলোচনায় আসে। তখন তিন থেকে চারটি দল সক্রিয় ছিল। ২০২২ সালের দিকে আলোচিত দলের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ২০টিতে দাঁড়ায়। ২০১৭ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত অন্তত ১২টি হত্যাকাণ্ডে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের নাম এসেছে।
কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান জানিয়েছেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ২৫০ জনের বেশি কিশোর গ্যাং সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে কিশোর হওয়ায় অনেকে গ্রেপ্তারের পর দ্রুত মুক্তি পেয়ে আবার একই ধরনের অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। অনেকের মা-বাবাকে ডেকে মুচলেকাও নেওয়া হয়েছে।
নতুন করে ১৮ থানায় একযোগে অভিযান চালানোর বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফর রহমান বলেন, কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা যাতে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়াতে না পারে, সে জন্য জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে এ ধরনের অভিযান নিয়মিত পরিচালনা করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার ১নং পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে এক সুধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পটুয়াখালী-১ আসনের সংসদ সদস্য, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বাণিজ্যমন্ত্রী এবং সাবেক বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলহাজ্ব আলতাফ হোসেন চৌধুরী।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অ্যাডভোকেট অহিদ সরোয়ার কালাম, সাবেক জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এবং মোহাম্মদ মজিবুর রহমান, সহ-সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় কমিটি।
সুধী সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় সংসদ নির্বাচন পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নের প্রধান সমন্বয়ক জনাব মোহাম্মদ ফেরদৌস আলম।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন পাংগাশিয়ার কৃতী সন্তান, জেলা বিএনপির সদস্য, কালিকাপুর প্রি-ক্যাডেট স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা এবং কবি-সাহিত্যিক জনাব আনোয়ার হোসেন বাদল।
বক্তব্যে আনোয়ার হোসেন বাদল বলেন, পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়ন দীর্ঘদিন ধরে একটি অবহেলিত ইউনিয়ন হিসেবে পরিচিত। গত ১৫ বছরে ইউ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ