মঙ্গলবার, ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৭:০৬ পি.এম
সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা তদন্তের জন্য ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার, ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগের অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, গাজী নজরুল ইসলাম এবং তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামকে এখন ডিবি পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করবে।
গতকাল সোমবার, এই মামলায় গাজী নজরুলকে চার দিনের রিমান্ড এবং তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদাকে এক দিনের রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দিয়েছেন সিএমএম আদালত। বর্তমানে তাদের ডিবির হেফাজতে রাখা হয়েছে।
গত ২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায়, রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের ন্যাম ভবনের ফ্ল্যাট থেকে এমপি গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর রাতেই গাজী নজরুল এবং তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেয়।
মরিয়মের বাবা মাসুম বিল্লাহ রবিবার গাজী নজরুলসহ তিনজনের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা দায়ের করেন।
সোমবার দিবাগত রাত ১টার দিকে, সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নের চৌদ্দরশি গ্রামে বাবার বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে মরিয়ম খাতুনকে দাফন করা হয়েছে।
এর আগে, গত ২২ জুলাই ‘নৈতিক অসদাচরণের’ অভিযোগে গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করে জামায়াতে ইসলামী।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পটুয়াখালী জেলার দুমকি উপজেলার ১নং পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সদস্য বারেক মেম্বার বর্তমানে পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের (সেক্রেটারি) পদে রয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, বারেক মেম্বারের আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট ও প্রমাণ রয়েছে। এরপরও তিনি কীভাবে ইউনিয়ন বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ পদে বহাল রয়েছেন, তা নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
এদিকে, কিছুদিন আগে সরকারি চাল ও ইউনিয়ন পরিষদের সুযোগ-সুবিধার প্রলোভন দেখিয়ে এক নারীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কে জড়ানোর অভিযোগে বারেক মেম্বারকে আপত্তিকর অবস্থায় স্থানীয় জনতা আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে বলে জানা গেছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, ওই ঘটনায় বারেক মেম্বার বর্তমানে পটুয়াখালী জেলা কারাগারে রয়েছেন। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অভিযোগকারীরা আরও বলেন, আওয়ামী লীগের সদস্যপদ এবং সাম্প্রতিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে নানা অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও বারেক মেম্বার কীভাবে পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের পদে বহাল রয়েছেন, তা তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন।
তারা বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে বড় ভাই মো. ওসমান মোল্যাকে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে হাত ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ছোট ভাই মো. নুরুল হকের পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় ওসমান মোল্যার স্ত্রী মোসা. রূপবান বেগম বাদী হয়ে নুরুল হকসহ চারজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২-৩ জনের বিরুদ্ধে আলফাডাঙ্গা থানায় এজাহার দিয়েছেন।
সরেজমিনে মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ঘটনাস্থলে গিয়ে এসব তথ্য জানা যায়।
জানা যায়, গত শনিবার দুপুরে আলফাডাঙ্গা পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইছাপাশা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। জমিজমা নিয়ে পূর্ববিরোধের জেরে ঘটনার দিন দুপুর ১টার দিকে নুরুল হকের নেতৃত্বে তার পরিবারের সদস্যসহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজন রূপবান বেগমের বসতবাড়িতে প্রবেশ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ সময় তারা ওসমান মোল্যাকে গালিগালাজ করেন। একপর্যায়ে ঘরের টিন কেটে ভেতরে প্রবেশ করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
পরে তারা লোহার রড দিয়ে ওসমান মোল্যার মাথা লক্ষ্য করে আঘাত করলে তিনি বাম হাত দিয়ে তা ঠেকানোর চেষ্টা করেন। এতে তার বাম হাত গুরুতর জখম ও হাড় ভেঙে যায় বলে অভিযোগ করেন আহত ওসমান মোল্যার স্ত্রী ও বাদী মোসা. রূপবান বেগম।
আহত নাইম মোল্যা বলেন, বাবাকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে তাকেও লাঠি দিয়ে মারধর করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করা হয়। এ সময় ডলি বেগম ধারালো বটি দিয়ে তার মাথায় আঘাতের চেষ্টা করলে তিনি হাত দিয়ে তা ঠেকাতে গিয়ে বাম হাতের তর্জনীতে কাটা জখম হন। পরে তিনি প্রাথমিক চিকিৎসা নেন।
চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল থেকে চলে যান। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় আহত ওসমান মোল্যা ও তার ছেলে নাইম মোল্যাকে আলফাডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ওসমান মোল্যার অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। তিনি বর্তমানে সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
অভিযুক্তদের বাড়িতে পাওয়া না যাওয়ায় এ বিষয়ে তাদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল সরোয়ার বলেন, অভিযোগটি আমলে নিয়ে এজাহারভুক্ত করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ তৎপর রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আইপিএলের সর্বশেষ আসরের নিলামে কলকাতা নাইট রাইডার্স মোস্তাফিজুর রহমানকে রেকর্ড ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে দলে নিয়েছিল। তবে ভারতের উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের হুমকির কারণে নিরাপত্তা শঙ্কার কথা উল্লেখ করে মোস্তাফিজকে আইপিএলের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়।
ভারত মোস্তাফিজকে নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হওয়ায়, পুরো দল, টিম ম্যানেজমেন্ট, সাংবাদিক এবং দর্শকদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে গত মার্চে বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে দল পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়নি অন্তবর্তীকালীন সরকার।
বাংলাদেশ চেয়েছিল পাকিস্তানের মতো শ্রীলংকায় গিয়ে বিশ্বকাপ খেলতে। কিন্তু আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) সেই প্রস্তাবে রাজি হয়নি। ফলস্বরূপ, বাংলাদেশের পরিবর্তে স্কটল্যান্ডকে বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ দেওয়া হয় আইসিসি দ্বারা।
সেই সময় অন্তবর্তীকালীন সরকারের ক্রীড়া উপদেষ্টা ছিলেন আসিফ নজরুল। বিশ্বকাপে দল না পাঠানোর সিদ্ধান্তের জন্য এখন তাকেই দায়ী করা হচ্ছে। তার বিরুদ্ধে কী ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে, এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এ বিষয়ে বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, "বাংলাদেশ টিম যে ইন্ডিয়ায় গেল না, সেটার তদন্তে এসেছে তৎকালীন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল এটার জন্য রেসপন্সিবল।" পরে তিনি আরও বলেন, "উনি আসলে কখনো এটা নিয়ে কোনো লুকোছাপা করেননি। উনি আগেও জানিয়েছিলেন—এটা আসলে উনি উনার সিদ্ধান্তে করেছেন।"
মঙ্গলবার তিনি বলেন, "এখন প্রশ্ন হচ্ছে—এই সিদ্ধান্তটা কি এমন কোনো সিদ্ধান্ত, যেটা আসলে আমরা কোনো না কোনোভাবে অপরাধ হিসেবে গণ্য করতে পারি? একটা জিনিস খেয়াল করব, আমি একটু আগেই এ কথাটা বলেছি যে—ওই প্রেক্ষাপটে ইন্ডিয়াতে যাওয়া উচিত হবে কি হবে না, এটা কিন্তু খুবই সাবজেক্টিভ ডিসিশন। এখন উনি যেহেতু দায়িত্বপ্রাপ্ত ছিলেন, উনার কাছে মনে হয়েছে।"
এটা কারও কাছে ভিন্ন মনে হতে পারে উল্লেখ করে জাহেদ উর রহমান বলেন, "উনার কাছে যেহেতু মনে হয়েছে, উনি ওই প্রেক্ষাপটে সিদ্ধান্তটা নিয়েছেন। এটার পক্ষেও মানুষ আছে, বিপক্ষেও মানুষ আছে।"
তিনি বলেন, "উনি ওই কাজটা করার মাধ্যমে উনার ওপরে যে অর্পিত দায়িত্ব ছিল, উনার সিদ্ধান্তের ব্যাপারে সেখানে কোনো আইনি ব্যত্যয় উনি ঘটিয়েছেন—এমনভাবে যেহেতু বলা যাবে না। তাই উনার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে, সেরকম কিছু না। বরং এটা আমাদের সোশ্যাল স্ফিয়ারে থাকুক, মানুষ কথা বলুক পক্ষে-বিপক্ষে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন জানিয়েছেন, রাজউক থেকে যেকোনো প্ল্যান অনুমোদনের জন্য ২৪ দিনের মধ্যে ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তিনি এ কথাগুলি নারায়ণগঞ্জের উন্নয়ন প্রসঙ্গে বলেন, যেখানে রাজউকের বিদ্যমান মাস্টারপ্ল্যানের পাশাপাশি একটি আলাদা বিশেষ মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের পরিকল্পনা রয়েছে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কার্যালয় উদ্বোধনের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব তথ্য তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, "রাজউক এই সরকারেরই একটি অংশ, নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষও সরকারেরই অংশ। জনগণের জন্য যেটা ভালো হবে, সেটাই করা হবে।"
মন্ত্রী নারায়ণগঞ্জের জন্য বিশেষ মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে বলেন, রাজউকের বিদ্যমান মাস্টারপ্ল্যানের পাশাপাশি নারায়ণগঞ্জের জন্য আলাদা মাস্টারপ্ল্যান তৈরি করা হবে। তিনি জানান, প্রয়োজন অনুযায়ী নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সীমানা বাড়ানোর বিষয়টিও যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। ফতুল্লাসহ আশপাশের এলাকার অন্তর্ভুক্তির সম্ভাবনাও বিবেচনায় রয়েছে।
রাজউকের দুর্নীতি ও সেবায় হয়রানির অভিযোগের প্রেক্ষিতে মন্ত্রী বলেন, রাজউকের আওতাধীন এলাকা বড় হওয়ায় প্রয়োজনের তুলনায় জনবল কম ছিল। এই কারণে গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠন করা হয়েছে, যাতে মানুষের কাছে সেবা আরো সহজে পৌঁছানো যায়।
আরো পড়ুন
সীমান্ত নিরাপত্তা ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ বিবেচনায় সীমান্ত সড়ক হবে : পানিসম্পদমন্ত্রী
মন্ত্রী রাজউকের সেবায় ইতোমধ্যে বেশ কিছু পরিবর্তন আনার কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘আগের রাজউকের চেয়ে আগামী দিনের রাজউক অনেক ডিফারেন্ট হবে।’
তিনি আরো বলেন, নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠনের মূল লক্ষ্য হলো নারায়ণগঞ্জবাসীকে আরো ভালো সেবা দেওয়া এবং একটি পরিকল্পিত নগর গড়ে তোলা।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন নবগঠিত এনডিএর চেয়ারম্যান মাসুকুল ইসলাম রাজীব, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান, নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেনসহ স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ