ঢাকা শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ৩১শে আশ্বিন, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ০৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ৩১শে আশ্বিন, ১৪৩২বাং

হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে ৩৯৭ গ্রাম স্বর্ণালংকারসহ আটক ৩


হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে ৩৯৭ গ্রাম স্বর্ণালংকারসহ আটক ৩

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) তিনজনকে আটক করেছে, যাদের কাছে প্রায় ৩৯৭.৭ গ্রাম স্বর্ণালংকার, আটটি মোবাইল ফোন এবং তিনটি ল্যাপটপ ছিল।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিমানবন্দরের বহুতল কার পার্কিংয়ের নিচতলা থেকে তাদের আটক করা হয়। আটককৃতদের মধ্যে রয়েছেন রাবিয়া বেগম (৪৮), আকাশ আহমেদ (৩৫) এবং মো. জলিল (৪৬)।

এয়ারপোর্ট এপিবিএন জানায়, দুপুর আনুমানিক ২টা ৫০ মিনিটে ওই তিনজনকে কার পার্কিংয়ের নিচতলায় সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা পালানোর চেষ্টা করলে এপিবিএনের সদস্যরা তাদের আটক করেন।

আরও পড়ুন: নেত্রকোনায় সাংবাদিক আলিফ ফকিরকে গুলি করে হত্যা..

পরে তাদের দেহ তল্লাশি করে ৩৯৭.৭ গ্রাম স্বর্ণালংকার, আটটি মোবাইল ফোন এবং তিনটি ল্যাপটপ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা স্বর্ণালংকারগুলো ২২ ক্যারেটের বলে পুলিশ জানিয়েছে।

এপিবিএনের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, বিভিন্ন দেশ থেকে অজ্ঞাতনামা যাত্রীর মাধ্যমে এসব স্বর্ণালংকার, মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপ বাংলাদেশে আনা হয়েছে। তারা জানান, চোরাচালানের উদ্দেশ্যে এসব পণ্য আনা হয়েছে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, আটক ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে বিমানবন্দরকেন্দ্রিক স্বর্ণ চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার বিমানবন্দর থানায় মামলা করা হয়েছে। মামলায় বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪-এর ২৫বি(১)(বি)/২৫-ডি ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

এয়ারপোর্ট (১৩) এপিবিএনের পুলিশ সুপার (অপারেশন্স) মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খান বলেন, বিমানবন্দর এলাকায় অপরাধ দমন ও চোরাচালান প্রতিরোধে এয়ারপোর্ট এপিবিএন সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। মাদক ও স্বর্ণ চোরাচালান প্রতিরোধে তাদের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

আরও পড়ুন: বিয়ের পিঁড়িতে বসা হলো না সৌমিকের, দুই বাড়িতে শোকের মাতম

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হাসিনার মতো করলে তোমাদেরও জনগণ বিদায় করে দেবে: ফজলুর রহমান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১০:০৯ পি.এম


হাসিনার মতো করলে তোমাদেরও জনগণ বিদায় করে দেবে: ফজলুর রহমান

ক্ষমতাসীন বিএনপিদলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম) আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট মো. ফজলুর রহমান মন্তব্য করেছেন, নিজেদের মধ্যে ক্ষমতা ও সুযোগ পাওয়ার জন্য প্রতিযোগিতা শুরু হলে এর নেতিবাচক প্রভাব দেখা দেবে।

ফজলুর রহমান বলেন, "আমরা যদি নিজেদের মধ্যে প্রতিযোগিতা করি, ‘এটা আমি চাই’, ‘ওটা তুমি চাও’—এভাবে, তাহলে আমরা কেউই টিকতে পারব না। জনগণ আমাদের বিদায় করে দেবে। হাসিনার মতো যদি তোমরা একই কাজ করো, তাহলে জনগণ তোমাদেরও বিদায় করে দেবে।"

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিকালে কিশোরগঞ্জের হাওড় উপজেলা অষ্টগ্রামের কাস্তুল ইউনিয়ন বিএনপি আয়োজিত এক গণসমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, "এই দেশ তখনই উন্নত হবে, তখনই ভালো হবে, যখন আমরা নেতারা ভালো হবো। নেতারা যদি সবকিছু নিজেদের জন্য চান, তাহলে জনগণ কিছুই পাবে না। আমি আশা করি, আমার নেতারা ভালো। এখনও পর্যন্ত আমার নেতারা ভালো আছেন। তবে আরও ভালো হতে হবে। আমাকে আরও ভালো হওয়ার সুযোগ দিন।"

নিজের বয়স এবং ভবিষ্যৎ প্রসঙ্গে সংসদ সদস্য বলেন, "খুব পরিষ্কার কথা, আমার জীবনে আর কতদিন আছে, আমি জানি না। নয় দিন পর আমার বয়স ৭৯ বছর হবে। আল্লাহ আমাকে আর কতদিন রাখবেন, সেটাও জানি না। তবে আমার বাকি জীবনটা আমি মানুষের জন্য দিয়ে যেতে চাই।"

প্রবীণ রাজনীতিবিদ অ্যাডভোকেট মো. ফজলুর রহমান বলেন, "আমি আল্লাহকে সাক্ষী রেখে বলছি, আমার কাছে টাকা-পয়সা, সাদা কাগজ- এসব কোনো বিষয় নয়। আমি চাই, কিছু নেতা এমন হোক। সবাইকে হতে হবে, তা বলছি না। শুধু টাকা-পয়সা দিয়ে দেশ চালানো যায় না। প্রশাসনও একা আমাদের সব কাজ করে দিতে পারবে না।"

বিএনপির নেতাকর্মীদের দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামের অবর্ণনীয় দুর্ভোগ-ভোগান্তি এবং জেল-জুলুমের কথা তুলে ধরে ফজলুর রহমান বলেন, "তোমরা ১৬ বছর অত্যাচার-নির্যাতন সহ্য করেছ, জেলে জেলে জীবন কাটিয়েছ। শেখ হাসিনার ১৬ বছরের শাসনেও তোমরা মিছিল করেছ। তোমাদের সেই মিছিলে এসে, তোমাদের দাওয়াতে আমার মতো একজন মানুষকেও মার খেতে হয়েছে। এত কষ্ট যখন করেছ, আরও কিছুদিন কষ্ট করো। আগে দেশটাকে আমরা সবাই মিলে উন্নত করি।"

নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, "ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের চেয়ে আমরা ভালো কাজ করি, ভালো নেতৃত্ব দিই এবং দেশের উন্নয়ন আরও বেশি করি—এটা যদি আমরা মানুষকে দেখাতে পারি, তাহলেই মানুষ আমাদের মাথার উপরে রাখবে।"

এ গণসমাবেশে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট উম্মে কুলসুম রেখা, কাস্তুল ইউনিয়ন এবং অষ্টগ্রাম উপজেলার স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মী ও সমর্থকরা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জামালপুরে প্রতারণার অভিযোগে কথিত কবিরাজ আটক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মো: নিয়াজ মোরশেদ জামালপুর (বকশীগঞ্জ) প্রতিনিধি

বৃহস্পতিবার, ২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১০:১৯ পি.এম


জামালপুরে প্রতারণার অভিযোগে কথিত কবিরাজ আটক

 

জামালপুরের মেলান্দহে প্রতারণার অভিযোগে মোহাম্মদ রাজিব উদ্দিন শেখ (২৬) নামে এক কথিত কবিরাজকে আটক করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি-২)। এ সময় তার কাছ থেকে কথিত ‘কুফরি কালামের নকশা’ ও কুফরি কাজে ব্যবহারের অভিযোগে একটি সামগ্রী উদ্ধার করে জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।ডিবি-২-এর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় জামালপুর জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। এর অংশ হিসেবে মেলান্দহ উপজেলার সরুলিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে রাজিব উদ্দিন শেখকে আটক করা হয়।ডিবি পুলিশের দাবি, রাজিব উদ্দিন শেখ নিজেকে কবিরাজ হিসেবে পরিচয় দিয়ে বিভিন্নভাবে প্রচার-প্রচারণা চালাতেন। মানুষের কঠিন ও জটিল সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।আটক রাজিব উদ্দিন শেখ মেলান্দহ উপজেলার সরুলিয়া গ্রামের বাসিন্দা। তার বাবার নাম হরমুজ আলী এবং মায়ের নাম রাজিয়া বেগম।এ ঘটনায় উদ্ধার করা সামগ্রী জব্দ করা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে ডিবি।
ডিবি-২ অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সজীব রহমান জানান, আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

তেলের দাম বাড়িয়ে থামেনি ধাক্কা, পরিবহণ ভাড়া পেরিয়ে চাপ এখন পণ্যের বাজারে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১০:২৮ পি.এম


তেলের দাম বাড়িয়ে থামেনি ধাক্কা, পরিবহণ ভাড়া পেরিয়ে চাপ এখন পণ্যের বাজারে

জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির ফলে মানুষের যাতায়াত ব্যয় নতুন করে বাড়ছে। দূরপাল্লা ও মহানগরের বাসভাড়া বৃদ্ধি করা হয়েছে। রাজধানীতে কিলোমিটারপ্রতি ভাড়া বেড়েছে। তবে মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক। সরকারি নতুন ভাড়া কার্যকর হওয়ার আগেই দেশের বিভিন্ন স্থানে যাত্রীদের কাছ থেকে বাড়তি টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। কোথাও ৩০-৪০ টাকার ভাড়া ৫০-৬০ টাকা নেওয়া হচ্ছে, আবার কোথাও দূরপাল্লার বাসে একেক যাত্রীর কাছ থেকে ৫০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত বেশি নেওয়া হচ্ছে।

এটি শুধু যাত্রী পরিবহণের ক্ষেত্রে নয়, পণ্য পরিবহণেও খরচ বেড়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থলবন্দর ও আঞ্চলিক বাজারে ট্রাকভাড়া ৩ থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত বেড়ে গেছে। কোথাও ৫ হাজার টাকার ট্রাকভাড়া ৭ হাজার টাকা হয়েছে। আবার ১৮-২০ হাজার টাকার ভাড়া বেড়ে ২৪-২৫ হাজার টাকা হয়েছে। ব্যবসায়ীরা আশঙ্কা করছেন, পরিবহণ খরচের এই বাড়তি টাকা পণ্যের দামের সঙ্গে যুক্ত হবে। ইতিমধ্যে বিভিন্ন এলাকায় আলু, পেঁয়াজসহ নিত্যপণ্যের দাম বাড়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে।

অর্থাৎ, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব এখন শুধু পাম্পে গিয়ে অতিরিক্ত টাকা গোনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। তেলের দাম থেকে শুরু করে বাসভাড়া, ট্রাকভাড়া, পণ্য পরিবহণ এবং শেষ পর্যন্ত খুচরা বাজারে পণ্যের দামের ওপর এর প্রভাব পড়ছে। সবচেয়ে বেশি চাপে পড়ছেন নির্দিষ্ট আয়ের মানুষ।

নতুন ভাড়া নির্ধারণের পরেও বাড়তি আদায় থামেনি। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির পর মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) পরিবহণ মালিকদের সঙ্গে সড়ক পরিবহণ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের পর দূরপাল্লা ও মহানগরের বাসভাড়া পুনর্নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই দিন বিআরটিএর ওয়েবসাইটে বিভিন্ন রুটের নতুন ভাড়ার তালিকা প্রকাশ করা হয়। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরে বাস ও মিনিবাসের ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ২ টাকা ৫৩ পয়সা থেকে বেড়ে ২ টাকা ৭০ পয়সা হয়েছে। অর্থাৎ প্রতি কিলোমিটারে ১৭ পয়সা বেড়েছে। দূরপাল্লার পথে বাসভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ২ টাকা ২৩ পয়সা থেকে বেড়ে ২ টাকা ৪০ পয়সা হয়েছে। তবে স্থানভেদে বাস ও মিনিবাসের সর্বনিম্ন ভাড়া ৮ ও ১০ টাকা বহাল রাখা হয়েছে।

কাগজে-কলমে ভাড়া পুনর্নির্ধারণ হলেও বাস্তব চিত্র ভিন্ন। বিভিন্ন জেলা থেকে পাওয়া তথ্যে দেখা যায়, নতুন ভাড়া নির্ধারণের আগেই অনেক রুটে পরিবহণ মালিক ও শ্রমিকেরা বাড়তি ভাড়া নেওয়া শুরু করেছেন। ময়মনসিংহে ৩০-৪০ টাকার স্থানীয় বাসভাড়া ৫০-৬০ টাকা নেওয়ার অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা। জামালপুর থেকে ঢাকাগামী বাসে জনপ্রতি ৪০-৫০ টাকা বেশি নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দিতে ঢাকাগামী বাসের ভাড়া বেড়েছে ১০০ টাকা। উপজেলা সদর থেকে জেলা শহরের মাত্র ২০ কিলোমিটার পথেও যাত্রীদের ১০-২০ টাকা বেশি দিতে হচ্ছে।

বরিশালের বিভিন্ন রুটেও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। এক রাতের ব্যবধানে কোনো কোনো রুটে ৩০ টাকার বাসভাড়া ৪০ টাকা হয়ে গেছে। কুমিল্লা থেকে ঢাকাসহ বিভিন্ন রুটে বাড়তি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। চুয়াডাঙ্গা থেকে ঢাকার নন-এসি বাসের ভাড়া ৭৫০ টাকা থেকে বেড়ে ৮০০ টাকা এবং চট্টগ্রামের ভাড়া ১১০০ থেকে ১২০০ টাকা হয়েছে।

বন্দরসংশ্লিষ্ট পরিবহণ ব্যবসায়ীদের দেওয়া তথ্যমতে, ঢাকার ট্রাকভাড়া আগে ছিল ১৮ থেকে ২০ হাজার টাকা। জ্বালানির দাম বাড়ার পর সেই ভাড়া বেড়ে ২৪ থেকে ২৫ হাজার টাকা হয়েছে। অর্থাৎ একেকটি ট্রাকে বাড়তি খরচ হচ্ছে প্রায় ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা। চট্টগ্রামের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও ব্যয়বহুল। আগে যেখানে ট্রাকভাড়া ছিল ২৮ থেকে ২৯ হাজার টাকা, এখন দিতে হচ্ছে ৩২ থেকে ৩৪ হাজার টাকা। অর্থাৎ প্রতি ট্রাকে বাড়তি খরচ প্রায় ৩ থেকে ৫ হাজার টাকা।

খুলনা থেকে বাগেরহাটে আলু পরিবহণেও ভাড়া ৫ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ৭ হাজার টাকা হয়েছে। ময়মনসিংহে রংপুর থেকে ১৫ টন আলু আনতে পরিবহণ খরচ ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকা বেড়েছে। ব্যবসায়ীরা প্রশ্ন তুলছেন, এই বাড়তি ব্যয় তারা কীভাবে সামলাবেন? তাদের স্বাভাবিক হিসাব বলছে, পরিবহণ খরচ বাড়লে পণ্যের ক্রয়মূল্য ও বিক্রয়মূল্যের মধ্যে সেই খরচ যুক্ত হয়। ফলে তেলের দাম বাড়ানোর কয়েক ধাপ পর তার প্রভাব গিয়ে পড়ে ভোক্তার বাজারে।

বাজারে চাপের চক্র

জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে বাস ও ট্রাকের পরিচালন ব্যয় বেড়ে যায়। ট্রাকভাড়া বাড়লে পণ্য পরিবহণ ব্যয়ও বাড়ে। পরিবহণ ব্যয় বাড়লে পাইকারি বাজারে পণ্যের দাম বাড়ানোর চাপ তৈরি হয়। পাইকারি দাম বাড়লে খুচরাবিক্রেতারাও দাম সমন্বয় করেন। শেষ পর্যন্ত বাড়তি খরচ ভোক্তাদের বহন করতে হয়। এই চক্রের সবচেয়ে দুর্বল অবস্থানে রয়েছেন নির্দিষ্ট আয়ের মানুষ। কারণ তাদের আয় তাৎক্ষণিকভাবে বাড়ছে না। কিন্তু বাসভাড়া, বাজার খরচ এবং কর্মস্থলে যাতায়াতের ব্যয় একসঙ্গে বাড়ছে।

বাগেরহাটের এক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী প্রতিদিন মোটরসাইকেলে খুলনা-বাগেরহাট যাতায়াত করতেন। চার লিটার তেলের জন্য প্রায় ৬০০ টাকা খরচ হওয়ায় তিনি মোটরসাইকেল বাদ দিয়ে লোকাল বাসে যাতায়াত শুরু করেছেন। ফেনীর একটি বেসরকারি হাসপাতালের মার্কেটিং প্রতিনিধি জানিয়েছেন, অকটেনের দাম ১২৫ টাকা থেকে ১৬৫ টাকা হলেও তার দৈনিক যাতায়াত ভাতা ৩০০ টাকাই রয়েছে। ফলে অতিরিক্ত জ্বালানি খরচ তাকে নিজের আয় থেকেই বহন করতে হচ্ছে।

এ ধরনের কর্মীদের ক্ষেত্রে হিসাবটি সরল। জ্বালানির দাম বাড়ানোর অর্থ হলো কাজ করতে যাওয়ার খরচ বাড়া। আর আয় একই থাকলে বাড়তি ব্যয় মেটাতে কমাতে হবে অন্য কোনো খরচ।

নিত্যপণ্যের বাজারে দ্বিতীয় ধাক্কা

জ্বালানির দাম বৃদ্ধির প্রাথমিক ধাক্কা পরিবহণে পড়ে। দ্বিতীয় ধাক্কা আসে বাজারে। দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে আলু, পেঁয়াজ, মরিচ, চাল, ডাল ও অন্যান্য কৃষিপণ্য পরিবহণের সঙ্গে সরাসরি জড়িত ট্রাক ও পণ্যবাহী যান। ব্যবসায়ীরা বলছেন, পরিবহণ ব্যয় বাড়লে শুধু ট্রাক মালিকের খরচ বাড়ে না, পুরো সরবরাহ ব্যবস্থার খরচও বাড়ে। পণ্য আড়তে পৌঁছানো, সেখান থেকে পাইকারি বাজার এবং পরে খুচরা বাজারে পৌঁছানো পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে পরিবহণের প্রয়োজন হয়।

বাগেরহাটে এক ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, খুলনা থেকে ট্রাকে আলু আনতে আগে ৫ হাজার টাকা লাগলেও এখন ৭ হাজার টাকা দিতে হচ্ছে। এই বাড়তি দুই হাজার টাকা ব্যবসায়ীকে কোনো না কোনোভাবে সমন্বয় করতে হবে। এর একটি অংশ শেষ পর্যন্ত পণ্যের দামের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

মাগুরায় পরিবহণ ভাড়া বেড়ে যাওয়ায় অনেক ব্যবসায়ী পণ্য ঢাকায় পাঠাচ্ছেন না বলেও স্থানীয়ভাবে জানা গেছে। এমন পরিস্থিতি দীর্ঘ হলে একদিকে সরবরাহ কমার ঝুঁকি তৈরি হবে, অন্যদিকে বাজারে পণ্যের দাম বাড়ার চাপ তৈরি হতে পারে।

কৃষকের ঘাড়েও বাড়ছে খরচ

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব কৃষকের ক্ষেতেও সরাসরি পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। সেচ, কৃষিযন্ত্র, জমি প্রস্তুত, ফসল পরিবহণসহ কৃষির বিভিন্ন ধাপে জ্বালানি ব্যবহৃত হয়। গোপালগঞ্জের এক কৃষক জানিয়েছেন, আকস্মিকভাবে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় চাষাবাদ কঠিন হয়ে পড়বে। উৎপাদন ব্যয় বাড়লে কৃষককে হয় পণ্যের দাম বাড়াতে হবে, নয়তো বাড়তি ব্যয়ের একটি অংশ নিজের লাভ থেকে বহন করতে হবে। দুই ক্ষেত্রেই এর প্রভাব বাজারে পড়তে পারে। কৃষক বেশি দাম চাইলে ভোক্তার খরচ বাড়বে। আবার দাম বাড়াতে না পারলে কৃষকের লাভ কমবে।

যাত্রী-মালিক উভয়েই চাপে

পরিবহণ মালিকদের বক্তব্যও পুরোপুরি উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। জ্বালানির দাম বাড়লে বাস পরিচালনার দৈনিক ব্যয় সত্যিই বাড়ে। গাইবান্ধার পরিবহণ শ্রমিক নেতারাও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিতে বাস মালিকদের সমস্যার কথা জানিয়েছেন। কিন্তু এর সঙ্গে আরেকটি প্রশ্ন জড়িত। জ্বালানির বাড়তি খরচের কতটা ভাড়ার মাধ্যমে সমন্বয় করা হবে এবং কতটা যাত্রীদের ওপর চাপানো হবে, সেটি নির্ধারণের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। নতুন ভাড়া নির্ধারণের উদ্দেশ্যই হলো এই সমন্বয়কে একটি নির্দিষ্ট কাঠামোর মধ্যে রাখা। কিন্তু মাঠপর্যায়ে যদি নির্ধারিত ভাড়ার বাইরে অতিরিক্ত আদায় চলতে থাকে, তাহলে নতুন ভাড়া নির্ধারণ করেও যাত্রী হয়রানি বন্ধ করা যাবে না।

নজরদারিই এখন বড় পরীক্ষা

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির পর বাসভাড়া পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু পরিবহণ খাতে শৃঙ্খলা ফিরবে কি না, তা নির্ভর করবে নতুন ভাড়া বাস্তবায়ন ও নজরদারির ওপর। বিশেষ করে ঢাকার বাইরে স্থানীয় রুটে ভাড়ার তালিকা যাত্রীদের কাছে কতটা সহজলভ্য, পরিবহণ মালিকেরা তা মানছেন কি না এবং অভিযোগ পেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে কি না, এসব প্রশ্ন সামনে এসেছে।

একইভাবে পণ্য পরিবহণে ট্রাকভাড়া বাড়ার বিষয়টিও নজরদারির আওতায় আনা প্রয়োজন। কারণ জ্বালানির দাম বৃদ্ধির অজুহাতে যদি পরিবহণ ব্যয় অস্বাভাবিক হারে বাড়ে, তার সরাসরি প্রভাব পড়বে নিত্যপণ্যের বাজারে।

সব মিলিয়ে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির ধাক্কা এখন একটি বহুমাত্রিক অর্থনৈতিক চাপে রূপ নিচ্ছে। পাম্পে বাড়তি দাম দেওয়ার পর দ্বিতীয় ধাক্কা আসছে বাসভাড়ায়, তৃতীয় ধাক্কা পণ্য পরিবহণে এবং শেষ ধাক্কাটি গিয়ে পড়ছে সাধারণ মানুষের বাজারের ব্যাগে।

তাহলে শুধু নতুন ভাড়া নির্ধারণ করাই যথেষ্ট নয়। নির্ধারিত ভাড়া কার্যকর হচ্ছে কি না, পরিবহণ মালিকেরা অতিরিক্ত আদায় করছেন কি না, পণ্য পরিবহণের খরচ কতটা যৌক্তিকভাবে বাড়ছে এবং সেই অজুহাতে বাজারে পণ্যের দাম বাড়ানো হচ্ছে কি না, এসব বিষয় একই সঙ্গে নজরদারির আওতায় আনতে হবে।

কারণ তেলের দাম বাড়ার প্রভাব কতদূর যাবে, সেটি শুধু জ্বালানি খাতের হিসাব নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে মানুষের যাতায়াত, কৃষকের উৎপাদন, ব্যবসায়ীর পরিবহণ ব্যয় এবং শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের সংসারের হিসাব।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নীলফামারীতে ঝরে পড়া শিশুদের বিদ্যালয়মুখী করতে বাইসাইকেল শোভাযাত্রা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১০:২৯ পি.এম


নীলফামারীতে ঝরে পড়া শিশুদের বিদ্যালয়মুখী করতে বাইসাইকেল শোভাযাত্রা

নীলফামারী, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : শিশু শ্রম ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধের উদ্দেশ্যে এবং ঝরে পড়া শিশুদের বিদ্যালয়মুখী করার লক্ষ্যে একটি সচেতনতামূলক বাইসাইকেল শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার, বেলা ১১টার দিকে জেলা প্রশাসকের কার্যলয় চত্বরে শোভাযাত্রার উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান। শোভাযাত্রাটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে গিয়ে শেষ হয়।

বেসরকারি সংস্থা অ্যাসোসিয়েশন ফর অল্টারনেটিভ ডেভেলপমেন্টের (এএফডি) উদ্যোগে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তৃতা প্রদান করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ফারুক আহমেদ, এএফডির নির্বাহী প্রধান সাইদা ইয়াসমিন, প্রকল্প সমন্বয়কারী কাজল রায় প্রমুখ।

প্রধান অতিথির বক্তৃতায় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান উল্লেখ করেন, এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে শিশু শ্রম ও বাল্যবিবাহের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে। তিনি আরও বলেন, এটি শিশুদের বিদ্যালয়মুখী করার ক্ষেত্রেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

এএফডির নির্বাহী প্রধান সাইদা ইয়াসমিন জানান, যে বয়সে শিশুদের বিদ্যালয়ে থাকার কথা, সেই বয়সে অনেকেই শ্রমে যুক্ত হচ্ছে অথবা বাল্যবিবাহের শিকার হচ্ছে। তিনি বলেন, শিশু শ্রম ও বাল্যবিবাহ বন্ধের পাশাপাশি ঝরে পড়া শিশুদের বিদ্যালয়ে ফিরিয়ে আনতে জনসচেতনতা বাড়াতে এই বাইসাইকেল শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়েছে।

সেভ দ্য চিলড্রেন ও নেদারল্যান্ডস সরকারের আর্থিক সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত শোভাযাত্রায় পাঁচটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৫০ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৪
মাগরিব ০৫:৩২
ইশা ০৬:৪৩
সূর্যোদয় : ০৫:৫৬ সূর্যাস্ত : ০৫:৩২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%