বৃহস্পতিবার, ২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৬:১০ পি.এম
রাজধানীর মোহাম্মদপুরে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় জননী কুরিয়ার সার্ভিসের কর্মচারী রাজু আহমেদ (২৪) হত্যার মামলায় তদন্তের অংশ হিসেবে নেত্রকোনা-১ এর সাবেক এমপি মোশতাক আহমেদ ওরফে রুহিকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তিনি বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগে নেতা।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ঢাকা মেট্রোপলিটন মাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীন তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই আদেশ প্রদান করেন। রাষ্ট্র পক্ষের আইনজীবী হারুন অর রশিদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদপুর থানার উপ-পরিদর্শক মো. জাহিদুল ইসলাম কবির আসামিকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। এর আগে, গতকাল বিকেলে পুলিশ তাকে রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানার একটি বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে।
এদিন আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন অর রশিদ আসামির জামিন বাতিল চেয়ে আটক রাখার পক্ষে শুনানি করেন। অপরদিকে, আসামিপক্ষে মোস্তাফিজুর রহমান তালুকদার দিপুসহ অন্যান্য আইনজীবীরা জামিনের আবেদন করেন। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
মামলার অভিযোগ ও আটক রাখার আবেদন অনুযায়ী, ২৪ জুলাই আন্দোলনের সময় মোহাম্মদপুরে জননী কুরিয়ার সার্ভিসের সামনে আন্দোলন দেখারত অবস্থায় রাজু আহমেদ গুলিবিদ্ধ হন। পরে ঢাকা মেডিক্যালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু ঘটে। রাজুর পিতা মোহাম্মদপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় তদন্তে প্রাপ্ত আসামি হিসেবে সাবেক এমপিকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়। মামলার সুষ্ঠু তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তদন্ত কর্মকর্তা এ আসামিকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন জানান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড একটি বিশাল মেগা অফার তৈরি করছে বার্সেলোনার ব্রাজিলিয়ান উইঙ্গার রাফিনহাকে দলে ভেড়ানোর জন্য। জানুয়ারির দলবদলের বাজারে এই ব্রাজিলিয়ান তারকাকে দলে টানার জন্য ক্লাবটি প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে।
স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম ফিচাহেসের রিপোর্ট অনুযায়ী, মাইকেল ক্যারিকের অধীনে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড রাফিনহাকে তাদের আক্রমণভাগের প্রধান অস্ত্র হিসেবে দেখতে চায়। তাকে রাজি করানোর জন্য ইউনাইটেড একটি অবিশ্বাস্য রেকর্ড-ব্রেকিং প্রস্তাবের পরিকল্পনা করছে।
রাফিনহার জন্য প্রায় ১২০ মিলিয়ন ইউরোর বিশাল বিড প্রস্তুত করছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, যা হতে পারে তাদের ইতিহাসের অন্যতম রেকর্ড দলবদল।
ওল্ড ট্রাফোর্ডের ক্লাবটি রাফিনহাকে প্রিমিয়ার লিগের সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক পাওয়া খেলোয়াড় বানানোর লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে। এমনকি ম্যানচেস্টার সিটির আর্লিং হালান্ডের চেয়েও তাকে বেশি সাপ্তাহিক বেতন দেওয়ার প্রস্তাবের কথাও ভাবা হচ্ছে।
আলভারেজকে পেতে বড় বাধা সরে গেল আর্সেনালের। বার্সা কোচ হান্সি ফ্লিকের অধীনে রাফিনহা অসাধারণ ফর্মে রয়েছেন, যেখানে তাকে স্ট্রাইকার ও উইঙ্গার উভয় ভূমিকায় খেলাতে দেখা গেছে। টানা হ্যাটট্রিকসহ গোল বন্যা করার জন্য তিনি পরিচিত। এই ঐতিহাসিক মেগা চুক্তিটি সম্পন্ন হওয়া অনেকটাই নির্ভর করছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের আগামী মৌসুমের চ্যাম্পিয়ন্স লিগে কোয়ালিফাই করার ওপর।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভোলায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জেলা কমিটি ঘোষণার এক ঘণ্টার মধ্যেই সাংগঠনিক সম্পাদক রশিদ আহমেদ পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
আজ বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন এবং দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহর যৌথ স্বাক্ষরিত দলীয় প্যাডে ১০ সদস্যের আংশিক কমিটি অনুমোদন করা হয়। পরে এই কমিটি এনসিপির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশ করা হয়। ঘোষণার এক ঘণ্টার মধ্যে রশিদ আহমেদ ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে নবগঠিত কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন।
নবগঠিত ১০ সদস্যবিশিষ্ট আংশিক কমিটিতে অ্যাডভোকেট জিয়াউর রহমানকে আহ্বায়ক, মো. মাকসুদুর রহমানকে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক, শরীফ হাওলাদার সাগরকে সদস্যসচিব এবং রশিদ আহমেদকে ২ নম্বর সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে নিযুক্ত করা হয়। এ ছাড়া আগামী ৩ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করে দপ্তরে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কমিটি থেকে পদত্যাগ করা রশিদ আহমেদ বলেন, "জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ভোলা জেলা আহ্বায়ক কমিটিতে সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ দেওয়ার জন্য আমি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।" তিনি আরও বলেন, "বিগত দিনে দলের প্রতি ভালোবাসা ও আস্থা থেকেই অর্পিত দায়িত্ব সর্বদা সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করার চেষ্টা করেছি। তবে সদ্যঘোষিত কমিটিতে থেকে ব্যক্তিগত ও সাংগঠনিক কারণে বর্তমানে এই পদটির দায়িত্ব পালন করা আমার পক্ষে সম্ভব হবে না। তাই আমি স্বেচ্ছায় ও সজ্ঞানে এনসিপির ভোলা জেলার আহ্বায়ক কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক পদ থেকে পদত্যাগ করেছি।"
তিনি উল্লেখ করেন, "ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্তদের নিকট আমার পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছি। আমি কেবল জেলা কমিটির পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছি, দল থেকে নয়।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কাস্টম হাউস আইসিডি কমলাপুরের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট মঈনুল হোসেন। তিনি কাস্টমস কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে মিথ্যা ঘোষণায় আনা পণ্য খালাস করেন। ১০ বছর ধরে গড়া সিন্ডিকেটের মাধ্যমে তিনি মিথ্যা ঘোষণায় আনা পণ্য কৌশলে বের করে নিয়ে আসেন।
আইসিডিতে কোনো ক্যাডার কর্মকর্তার পদায়ন হলে তার আস্থাভাজন বনে যান মঈনুল। আর কোনো কর্মকর্তা তার মিথ্যা ঘোষণায় আনা পণ্য আটকে দিলে সেই কর্মকর্তাকে বিদায় নিতে হয় অফিস থেকে।
অভিযোগ আছে, একসময়কার আনস্টাফিং কর্মকর্তা খাদিজা পারভীন সুমি মঈনুলের সিন্ডিকেটের অংশ। খাদিজা পারভীন সুমি যতদিন আনস্টাফিংয়ের দায়িত্বে ছিলেন, মঈনুলের আমদানি করা পণ্যকে চ্যালেঞ্জ করা হয়নি। মঈনুল যা ঘোষণা দিয়েছেন, সেভাবেই পণ্য খালাস হয়েছে। সম্প্রতি সুমিকে অন্য একটি দপ্তরে বদলি করা হলেও তার দৌরাত্ম্য কমেনি একটুও। এখনো মঈনুল-সুমি সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি কাস্টম হাউস আইসিডি কমলাপুর।সম্প্রতি মিথ্যা ঘোষণায় আমদানি করা পণ্য আটকে মামলা দিয়েছিলেন এক সহকারী কমিশনার। সপ্তাহ পার না হতেই চেয়ার হারান আনস্টাফিংয়ের দায়িত্ব পাওয়া ওই কর্মকর্তা। অভিযোগ আছে, মঈনুলের হয়ে এ চাপ তৈরি করেন একসময় আনস্টাফিং কর্মকর্তা খাদিজা পারভীন সুমি।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) থেকে শিটের মিথ্যা ঘোষণায় শুল্ক ফাঁকি-সংক্রান্ত একটি চিঠি পাঠানোর পর সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য কমে। পরে এনবিআর চেয়ারম্যানের নির্দেশনায় সঠিকভাবে শিটের চালান খালাস শুরু হয়। তবে সপ্তাহ না পেরোতেই আবার মঈনুল সব ম্যানেজ করে ফেলেন।সূত্র জানায়, চট্টগ্রামের সন্দ্বীপের বাসিন্দা মঈনুল প্রথমে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে কাস্টম সরকার (এজেন্টের প্রতিনিধি বা কর্মী, যিনি কাগজপত্রের কাজ করেন) হিসেবে কাজ শুরু করেন। একসময় অন্যের লাইসেন্স ভাড়া নিয়ে পণ্য খালাস শুরু করলেও দ্রুত মালিক বনে যান। তার উত্থান হয় ২০১৮ সালে কাস্টম হাউস আইসিডি কমলাপুরে শিট খালাসের কাজ দিয়ে। তখন থেকে একচেটিয়া শিটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে কাজ করেন তিনি।
গত এক বছর তাকে সহযোগিতা করে গেছেন কাস্টম হাউসের উপকমিশনার খাদিজা পারভীন সুমি। এ জন্য নানা সুবিধা পেয়েছেন। পাশাপাশি পেয়েছেন কাস্টম হাউসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পোস্টিং আনস্টাফিংয়ে (কনটেইনার থেকে পণ্য বা কার্গো খালাস দেখার দায়িত্ব)। ওখানে ছিলেন প্রায় ১১ মাস। এ সময়ে মঈনুল শিটের চালান যেমন ঘোষণা দিতেন, তেমনই খালাস হতো। খাদিজা পারভীন সুমিকে সাহায্য করতেন সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা কামরুল ও শাহ আলম।মঈনুল দুটি সিঅ্যান্ডএফ লাইসেন্সে কাজ করেন। একটি লাইসেন্স পারভীন ট্রেডার্সের নামে, অন্যটি মা অ্যাসোসিয়েটের নামে। সবচেয়ে বেশি শিটের কাজ করেন পারভীন ট্রেডার্সের নামে। খাদিজা পারভীন সুমি ১১ মাস আনস্টাফিংয়ে থাকাকালীন পারভীন ট্রেডার্সের প্রায় ৫১ হাজার টন শিটের চালান খালাস করেন। যার মধ্যে ৪৭ হাজার টন পণ্য ছিল কম শুল্কের। অর্থাৎ অল্প কিছু সিআর শিট বাদে প্রায় সবই ছিল এইচআর শিট। প্রতি টন সিআর শিটের শুল্ক হচ্ছে ২৮ হাজার টাকা। আর এইচআর শিটের টনপ্রতি শুল্ক হচ্ছে প্রায় ৩৮ হাজার টাকা। জিপি শিটের টনপ্রতি শুল্ক কর হচ্ছে ৫৫ হাজার টাকা। এ দীর্ঘ সময়ে অর্থাৎ প্রায় ১১ মাসে উপকমিশনার সুমি এবং তার তদারককারী কর্মকর্তা মামলা তো দূরের কথা, মঈনুলের কনসাইনমেন্ট খুলেও দেখেননি। মঈনুলে ঘোষণা অনুযায়ী খালাস হয়েছে।
সুমিকে সরানোর আগে কমলাপুরে শিটের চালান খালাসে শুল্ক ফাঁকি হচ্ছে এবং কর্মকর্তাদের আর্থিক সুবিধার অভিযোগ ওঠে। এ সময়ে শিটের প্রতি কনটেইনারে শুল্ক ফাঁকি হচ্ছে বলে এনবিআরের গোয়েন্দা সংস্থা সিআইসি থেকে কাস্টম হাউসকে চিঠিও দেয়। এরপর আরও প্রায় এক মাস আনস্টাফিংয়ে থাকেন খাদিজা পারভীন সুমি।
দুই মাস আগে আনস্টাফিং থেকে সুমিকে সরিয়ে ৪০ ব্যাচের সহকারী কমিশনার আসিফ আহমেদ অনিককে পদায়ন করা হয়। এতে শিট আমদানির ভেতরের কিছু রহস্য বের হতে থাকে। নতুন সহকারী কমিশনার সঠিক ঘোষণার ওপর জোর দেন। তিনি মঈনুলের পারভীন ট্রেডার্সের উচ্চ শুল্কের পণ্য বেশি দেখতে পান। এ সময়ে পারভীন ট্রেডার্স কম শুল্কের এইচআর এবং সিআর শিট খালাস করেছে ২ হাজার ২৩৩ টন। আর এ সময়ে উচ্চ শুল্কের জিপি শিটের চালান খালাস করেছে ১০ হাজার ১৬২ টন। এরই মধ্যে মিথ্যা ঘোষণা দেওয়ায় মঈনুলের ৭টি চালান আটকে দেন। মিথ্যা ঘোষণার প্রমাণও মিলে। এ বিল অব এন্ট্রি নাম্বারগুলো হলো সি-১১৫৫৫, সি-১১৫৪৮, সি-১১৫৫২, সি-১১৫৫৭, সি-১১৫৪৭, সি-১১৫৫৩, সি-১১৫৫৪। আর এ সাতটি বিল অব এন্ট্রিতে মিথ্যা ঘোষণার দায়ে প্রায় ৭৫ লাখ টাকা জরিমানা করেন কমিশনার।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মঈনুল বিষয়টি অস্বীকার করেন। তিনি দাবি করেন, কাজ করতে করতে কর্মকর্তাদের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। তবে শুল্ক ফাঁকি দেননি। সম্প্রতি হওয়া মামলার বিষয়ে তিনি বলেন, মামলা সবার নামেই হয়। তবে উপকমিশনার খাদিজা পারভীন সুমির সময়ে এক বছরে শুধু কম শুল্কের শিট খালাস করেছেন, পণ্য দেখা পর্যন্ত হয়নি, এখন কেন মামলা হচ্ছে? জানতে চাইলে তিনি বলেন, তখন শুধু সিআর ও এইচআর শিট আমদানি করেছি।
একই সঙ্গে উপকমিশনার খাদিজা পারভীন সুমিকে সরিয়ে আনস্টাফিংয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয় সহকারী কমিশনার আসিফ আহমেদ অনিককে। এতে সঠিক ঘোষণায় শিটের চালান খালাস প্রক্রিয়া শুরু হয় কাস্টম হাউসে।
জানা গেছে, অতীতে খাদিজা পারভীন সুমি দায়িত্বে থাকাকালীন খালাস হওয়া চালানের প্রায় ৯০ শতাংশই যেত কম শুল্কের (ডিউটি) শিট হিসেবে। তবে পরে সেই চিত্র সম্পূর্ণ উল্টো হয়ে যায়; এখন ৮০ শতাংশই বেশি শুল্কের শিট হিসেবে খালাস হচ্ছে। এর ফলে শুল্ক ফাঁকির প্রবণতা যেমন উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে, তেমনি সরকারের রাজস্ব আদায়ও বহুলাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে।
হওয়ার পরদিন সরকারি ছুটির দিনে দুই ঘণ্টায় ৮২০ টন শিট মিথ্যা ঘোষণায় খালাসের অভিযোগও রয়েছে। এ নিয়ে পরবর্তী সময়ে দুদক সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং মঈনুলের বিরুদ্ধে তদন্তও শুরু করে। বিষয়টিও ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন মঈনুল। এ ছাড়া তার শুল্ক ফাঁকি নির্বিঘ্ন করতে কাস্টমসের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাকে কাজে লাগান। কাস্টম হাউস সূত্র জানায়, কাস্টম হাউস আইসিডি কমলাপুর বছরের পর বছর ধরে আধিপত্য বিস্তার করছেন মঈনুল। কর্মকর্তাদের গাড়ি ভাড়ার খরচ মেটানো থেকে শুরু করে কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে বছরের পর পর শুল্ক ফাঁকি দিয়ে যাচ্ছেন।
কাস্টম হাউসের আনস্টাফিংয়ের সাবেক উপকমিশনার সুমি দায়িত্বে থাকাকালীন সন্ধ্যার আগেই বাসায় চলে যেতেন। আর মঈনুলের বেশিরভাগ পণ্য চালান তার নির্দেশনায় সন্ধ্যার পর কাস্টম হাউস দিয়ে বের হতো। যাতে পরে কোনো বিতর্ক উঠলেও বলতে পারেন তিনি ছিলেন না। আর ওই সময়টায় তার হয়ে কাজ করতেন সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা কামরুল ও শাহ আলম। এভাবে মাসের পর মাস নিজের ঘোষণামতো পণ্য চালান খালাস করে নেন সিঅ্যান্ডএফ মইনুল।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কাস্টম হাউস আইসিডি কমলাপুরের কমিশনার কাজী মুহম্মদ জিয়াউদ্দীন কালবেলাকে বলেন, আমি কাস্টম হাউসে যোগ দেওয়ার পর থেকে রাজস্ব ফাঁকির বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছি। যেসব প্রতিষ্ঠান অনিয়মের চেষ্টা করেছে, তাদের বিষয়ে ব্যবস্থা নিয়েছি। এ ছাড়া আমাদের নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। পরিবেশ ঠিক রেখে কাস্টম হাউস পরিচালনার চেষ্টা করছি বলেও জানান এই কর্মকর্তা।
এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, মঈনুল জোরে ও স্বামী অ্যাডমিন ক্যাডার কর্মকর্তার প্রভাবে সুমি আনস্টাফিং বিভাগ ছাড়লেও শিটের অ্যাসেসমেন্ট গ্রুপ দেখভালের দায়িত্ব এখনো তার হাতেই। জানা গেছে সুমির স্বামী ৩০ ব্যাচের অ্যাডমিন কর্মকর্তা।
কাস্টম হাউস থেকে শুরু করে ভ্যাট কমিশনারেট সব জায়গায় গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে পদায়ন নিতে পটু খাদিজা পারভীন সুমি। এর আগে ঢাকা দক্ষিণ ভ্যাট কমিশনারেটে যোগ দিয়েই বাগিয়ে নেন লালবাগের মতো গুরুত্বপূর্ণ ডিভিশন। এখনো লালবাগ ডিভিশনে তার দেওয়া সিদ্ধান্ত নিয়ে নানা ধরনের সমালোচনা রয়েছে। নিজেকে অনেকের চেয়ে আলাদা দাবি করা এই কর্মকর্তার দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে সুবিধা নেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া কমলাপুর কাস্টম হাউসে তার হয়ে আনস্টাফিংয়ের দুই সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা কাজ করতেন বলে নিশ্চিত করেছে কাস্টম হাউস সূত্র।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কাস্টম হাউস আইসিডি কমলাপুরের উপকমিশনার খাদিজা পারভীন সুমি বিষয়টি অস্বীকার করেন। তিনি কালবেলার কাছে দাবি করে বলেন, আমি আনস্টাফিংয়ে থাকাকালীন সময়ে কোনো ধরনের শুল্ক ফাঁকি হয়নি। সবসময় নিরিবিলি কাজ করার চেষ্টা করেছি। এ ছাড়া সবসময় কম গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে কাজ করার চেষ্টা করেছি। আমি সাধারণত ৫টার মধ্যে অফিস ত্যাগ করেছি বলেও জানান তিনি। সন্ধ্যার পর তার টিমের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা কামরুল ও শাহ আলমের যোগসাজশে শুল্ক ফাঁকির বিষয়টি জানতে চাইলে সুমি বলেন, উপকমিশনার তো আর সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তাদের দায় নিতে পারেন না বলেও জানান তিনি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে একটি গভীর খাল রয়েছে। খালের ওপর একটি ভাঙা কাঠের সাঁকো অবস্থিত। সাঁকোটির নিচে ঘন কচুরিপানা জমে রয়েছে। বিদ্যালয়ের শিশুরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই সাঁকো পারাপার করে।
কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার খিলা ইউনিয়নের পূর্ব বাতাবাড়ীয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন এভাবে শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত থাকতে হয়। শুধু শিক্ষার্থীদের জন্য নয়, সাঁকোটি ওই এলাকার বাসিন্দাদের জন্যও একমাত্র ভরসা।
অভিভাবক ও স্থানীয়দের দাবি, শিশুদের নিরাপদ যাতায়াতের জন্য জীর্ণ সাঁকোর পরিবর্তে একটি পাকা সেতু নির্মাণ করা উচিত। পাশাপাশি বিদ্যালয়ের চারপাশে নিরাপত্তাবেষ্টনী, চলাচলের উপযোগী সড়ক এবং শিশুদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করারও দাবি তাদের।
সম্প্রতি সংশ্লিষ্ট এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, বিদ্যালয়ের চারপাশে কোনো পাকা সড়ক নেই। পূর্ব ও দক্ষিণ পাশে খাল রয়েছে। উত্তর পাশে বড় পুকুর এবং পশ্চিম পাশে মাটির সড়ক অবস্থিত।
স্থানীয়রা জানান, বর্ষা মৌসুমে মাটির সড়ক কাদাপানিতে একাকার হয়ে যায়। ফলে দুর্ভোগ বেড়ে যায় কয়েকগুণ। তখন খালের ওপর থাকা বাঁশ-কাঠের জীর্ণ সাঁকোটি শিশুদের জন্য আরো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে।
স্থানীয় বাসিন্দা বেলাল হোসেন জানিয়েছেন, খালের দক্ষিণ পাশে শতাধিক পরিবারের বসবাস। এসব পরিবারের শিশুদের বিদ্যালয়ে যেতে হলে প্রতিদিন সাঁকোটি ব্যবহার করতে হয়। সাঁকোর নিচে কচুরিপানা জমে থাকায় পানির গভীরতা সহজে বোঝা যায় না। অসাবধানতাবশত কেউ সাঁকো থেকে পড়ে গেলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।
পূর্ব বাতাবাড়ীয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আহছানউল্লা বলেন, ‘পূর্ব বাতাবাড়ীয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি দীর্ঘদিন ধরে নানা সমস্যায় রয়েছে। বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার পর থেকেই শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বিশেষ করে খালের ওপরের সাঁকোটি দিয়ে চলাচল করা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। প্রাক-প্রাথমিক ও প্রথম শ্রেণির ছোট শিশুরা সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ে। অনেকে ভয়ে স্কুলে আসতে চায় না।’
বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক ওমর ফারুক বলেন, ‘আমার স্কুলের পাশেই একটি বাঁশের সাঁকো। এই সাঁকো দিয়ে স্কুলে আসতে গিয়ে পা পিছলে অনেক শিশু আহত হয়েছে। অনেক সময় তাদের জামাকাপড় ও বই-খাতা পানিতে পড়ে ভিজে যায়। এখানে একটি সেতু নির্মাণ করা হলে শিক্ষার্থীদের যাতায়াত অনেক নিরাপদ হবে।’
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০০৬ সালে পূর্ব বাতাবাড়ীয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে ১৪৫ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। শিক্ষক-কর্মচারী সংখ্যা ছয়জন। বিদ্যালয়ের জন্য নির্ধারিত জায়গার একাংশ পুকুর ও খালের পাশে হওয়ায় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সমস্যা রয়েছে।
সূত্র জানায়, ২০১৮ সালের শেষদিকে পুকুরের পাড় ঘেঁষে বিদ্যালয়ের দ্বিতল ভবন নির্মাণ করা হয়। বর্তমানে ওই ভবনের নিচে মাটির কিছু অংশ পুকুরে ধসে ফাঁকা হয়ে গেছে।
এ ব্যাপারে মনোহরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলী কামাল হোসেন বলেন, সেতুর জন্য প্রথমে সড়কটি আইডিভুক্ত হতে হবে অর্থাৎ সড়কের কোন সড়কের কোন জায়গায়, দৈর্ঘ্য কত ইত্যাদি তথ্যের ভিত্তিতে নম্বর বা কোড নির্ধারণ করতে হবে যা কেন্দ্রীয় ডাটাবেজে জমা থাকবে। সেজন্য আমরা দ্রুত খালটি পরিদর্শন করে সেতু নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেব।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ