ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

সুমি-মঈনুলের শিট খালাসের সিন্ডিকেট


সুমি-মঈনুলের শিট খালাসের সিন্ডিকেট

কাস্টম হাউস আইসিডি কমলাপুরের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট মঈনুল হোসেন। তিনি কাস্টমস কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে মিথ্যা ঘোষণায় আনা পণ্য খালাস করেন। ১০ বছর ধরে গড়া সিন্ডিকেটের মাধ্যমে তিনি মিথ্যা ঘোষণায় আনা পণ্য কৌশলে বের করে নিয়ে আসেন।

আইসিডিতে কোনো ক্যাডার কর্মকর্তার পদায়ন হলে তার আস্থাভাজন বনে যান মঈনুল। আর কোনো কর্মকর্তা তার মিথ্যা ঘোষণায় আনা পণ্য আটকে দিলে সেই কর্মকর্তাকে বিদায় নিতে হয় অফিস থেকে।

অভিযোগ আছে, একসময়কার আনস্টাফিং কর্মকর্তা খাদিজা পারভীন সুমি মঈনুলের সিন্ডিকেটের অংশ। খাদিজা পারভীন সুমি যতদিন আনস্টাফিংয়ের দায়িত্বে ছিলেন, মঈনুলের আমদানি করা পণ্যকে চ্যালেঞ্জ করা হয়নি। মঈনুল যা ঘোষণা দিয়েছেন, সেভাবেই পণ্য খালাস হয়েছে। সম্প্রতি সুমিকে অন্য একটি দপ্তরে বদলি করা হলেও তার দৌরাত্ম্য কমেনি একটুও। এখনো মঈনুল-সুমি সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি কাস্টম হাউস আইসিডি কমলাপুর।সম্প্রতি মিথ্যা ঘোষণায় আমদানি করা পণ্য আটকে মামলা দিয়েছিলেন এক সহকারী কমিশনার। সপ্তাহ পার না হতেই চেয়ার হারান আনস্টাফিংয়ের দায়িত্ব পাওয়া ওই কর্মকর্তা। অভিযোগ আছে, মঈনুলের হয়ে এ চাপ তৈরি করেন একসময় আনস্টাফিং কর্মকর্তা খাদিজা পারভীন সুমি।

আরও পড়ুন: শেরপুরে বাস-সিএনজির সংঘর্ষে জুয়েল মিয়া নিহত, আহত ৪

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) থেকে শিটের মিথ্যা ঘোষণায় শুল্ক ফাঁকি-সংক্রান্ত একটি চিঠি পাঠানোর পর সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য কমে। পরে এনবিআর চেয়ারম্যানের নির্দেশনায় সঠিকভাবে শিটের চালান খালাস শুরু হয়। তবে সপ্তাহ না পেরোতেই আবার মঈনুল সব ম্যানেজ করে ফেলেন।সূত্র জানায়, চট্টগ্রামের সন্দ্বীপের বাসিন্দা মঈনুল প্রথমে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে কাস্টম সরকার (এজেন্টের প্রতিনিধি বা কর্মী, যিনি কাগজপত্রের কাজ করেন) হিসেবে কাজ শুরু করেন। একসময় অন্যের লাইসেন্স ভাড়া নিয়ে পণ্য খালাস শুরু করলেও দ্রুত মালিক বনে যান। তার উত্থান হয় ২০১৮ সালে কাস্টম হাউস আইসিডি কমলাপুরে শিট খালাসের কাজ দিয়ে। তখন থেকে একচেটিয়া শিটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে কাজ করেন তিনি।

গত এক বছর তাকে সহযোগিতা করে গেছেন কাস্টম হাউসের উপকমিশনার খাদিজা পারভীন সুমি। এ জন্য নানা সুবিধা পেয়েছেন। পাশাপাশি পেয়েছেন কাস্টম হাউসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পোস্টিং আনস্টাফিংয়ে (কনটেইনার থেকে পণ্য বা কার্গো খালাস দেখার দায়িত্ব)। ওখানে ছিলেন প্রায় ১১ মাস। এ সময়ে মঈনুল শিটের চালান যেমন ঘোষণা দিতেন, তেমনই খালাস হতো। খাদিজা পারভীন সুমিকে সাহায্য করতেন সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা কামরুল ও শাহ আলম।মঈনুল দুটি সিঅ্যান্ডএফ লাইসেন্সে কাজ করেন। একটি লাইসেন্স পারভীন ট্রেডার্সের নামে, অন্যটি মা অ্যাসোসিয়েটের নামে। সবচেয়ে বেশি শিটের কাজ করেন পারভীন ট্রেডার্সের নামে। খাদিজা পারভীন সুমি ১১ মাস আনস্টাফিংয়ে থাকাকালীন পারভীন ট্রেডার্সের প্রায় ৫১ হাজার টন শিটের চালান খালাস করেন। যার মধ্যে ৪৭ হাজার টন পণ্য ছিল কম শুল্কের। অর্থাৎ অল্প কিছু সিআর শিট বাদে প্রায় সবই ছিল এইচআর শিট। প্রতি টন সিআর শিটের শুল্ক হচ্ছে ২৮ হাজার টাকা। আর এইচআর শিটের টনপ্রতি শুল্ক হচ্ছে প্রায় ৩৮ হাজার টাকা। জিপি শিটের টনপ্রতি শুল্ক কর হচ্ছে ৫৫ হাজার টাকা। এ দীর্ঘ সময়ে অর্থাৎ প্রায় ১১ মাসে উপকমিশনার সুমি এবং তার তদারককারী কর্মকর্তা মামলা তো দূরের কথা, মঈনুলের কনসাইনমেন্ট খুলেও দেখেননি। মঈনুলে ঘোষণা অনুযায়ী খালাস হয়েছে।

 

সুমিকে সরানোর আগে কমলাপুরে শিটের চালান খালাসে শুল্ক ফাঁকি হচ্ছে এবং কর্মকর্তাদের আর্থিক সুবিধার অভিযোগ ওঠে। এ সময়ে শিটের প্রতি কনটেইনারে শুল্ক ফাঁকি হচ্ছে বলে এনবিআরের গোয়েন্দা সংস্থা সিআইসি থেকে কাস্টম হাউসকে চিঠিও দেয়। এরপর আরও প্রায় এক মাস আনস্টাফিংয়ে থাকেন খাদিজা পারভীন সুমি।

আরও পড়ুন: কেন্দুয়ায় পাচারের সময় ৩২ বস্তা সার জব্দ, চালক পালিয়েছে

দুই মাস আগে আনস্টাফিং থেকে সুমিকে সরিয়ে ৪০ ব্যাচের সহকারী কমিশনার আসিফ আহমেদ অনিককে পদায়ন করা হয়। এতে শিট আমদানির ভেতরের কিছু রহস্য বের হতে থাকে। নতুন সহকারী কমিশনার সঠিক ঘোষণার ওপর জোর দেন। তিনি মঈনুলের পারভীন ট্রেডার্সের উচ্চ শুল্কের পণ্য বেশি দেখতে পান। এ সময়ে পারভীন ট্রেডার্স কম শুল্কের এইচআর এবং সিআর শিট খালাস করেছে ২ হাজার ২৩৩ টন। আর এ সময়ে উচ্চ শুল্কের জিপি শিটের চালান খালাস করেছে ১০ হাজার ১৬২ টন। এরই মধ্যে মিথ্যা ঘোষণা দেওয়ায় মঈনুলের ৭টি চালান আটকে দেন। মিথ্যা ঘোষণার প্রমাণও মিলে। এ বিল অব এন্ট্রি নাম্বারগুলো হলো সি-১১৫৫৫, সি-১১৫৪৮, সি-১১৫৫২, সি-১১৫৫৭, সি-১১৫৪৭, সি-১১৫৫৩, সি-১১৫৫৪। আর এ সাতটি বিল অব এন্ট্রিতে মিথ্যা ঘোষণার দায়ে প্রায় ৭৫ লাখ টাকা জরিমানা করেন কমিশনার।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মঈনুল বিষয়টি অস্বীকার করেন। তিনি দাবি করেন, কাজ করতে করতে কর্মকর্তাদের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। তবে শুল্ক ফাঁকি দেননি। সম্প্রতি হওয়া মামলার বিষয়ে তিনি বলেন, মামলা সবার নামেই হয়। তবে উপকমিশনার খাদিজা পারভীন সুমির সময়ে এক বছরে শুধু কম শুল্কের শিট খালাস করেছেন, পণ্য দেখা পর্যন্ত হয়নি, এখন কেন মামলা হচ্ছে? জানতে চাইলে তিনি বলেন, তখন শুধু সিআর ও এইচআর শিট আমদানি করেছি।

একই সঙ্গে উপকমিশনার খাদিজা পারভীন সুমিকে সরিয়ে আনস্টাফিংয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয় সহকারী কমিশনার আসিফ আহমেদ অনিককে। এতে সঠিক ঘোষণায় শিটের চালান খালাস প্রক্রিয়া শুরু হয় কাস্টম হাউসে।

জানা গেছে, অতীতে খাদিজা পারভীন সুমি দায়িত্বে থাকাকালীন খালাস হওয়া চালানের প্রায় ৯০ শতাংশই যেত কম শুল্কের (ডিউটি) শিট হিসেবে। তবে পরে সেই চিত্র সম্পূর্ণ উল্টো হয়ে যায়; এখন ৮০ শতাংশই বেশি শুল্কের শিট হিসেবে খালাস হচ্ছে। এর ফলে শুল্ক ফাঁকির প্রবণতা যেমন উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে, তেমনি সরকারের রাজস্ব আদায়ও বহুলাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে।

আরও পড়ুন: উখিয়ায় ১৫ ঘণ্টা পরও জ্বলছে গ্যাসের আগুন, ১৫ কিলোমিটার এলাকায় বিদ্যুৎ বন্ধ

হওয়ার পরদিন সরকারি ছুটির দিনে দুই ঘণ্টায় ৮২০ টন শিট মিথ্যা ঘোষণায় খালাসের অভিযোগও রয়েছে। এ নিয়ে পরবর্তী সময়ে দুদক সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং মঈনুলের বিরুদ্ধে তদন্তও শুরু করে। বিষয়টিও ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন মঈনুল। এ ছাড়া তার শুল্ক ফাঁকি নির্বিঘ্ন করতে কাস্টমসের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাকে কাজে লাগান। কাস্টম হাউস সূত্র জানায়, কাস্টম হাউস আইসিডি কমলাপুর বছরের পর বছর ধরে আধিপত্য বিস্তার করছেন মঈনুল। কর্মকর্তাদের গাড়ি ভাড়ার খরচ মেটানো থেকে শুরু করে কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে বছরের পর পর শুল্ক ফাঁকি দিয়ে যাচ্ছেন।

কাস্টম হাউসের আনস্টাফিংয়ের সাবেক উপকমিশনার সুমি দায়িত্বে থাকাকালীন সন্ধ্যার আগেই বাসায় চলে যেতেন। আর মঈনুলের বেশিরভাগ পণ্য চালান তার নির্দেশনায় সন্ধ্যার পর কাস্টম হাউস দিয়ে বের হতো। যাতে পরে কোনো বিতর্ক উঠলেও বলতে পারেন তিনি ছিলেন না। আর ওই সময়টায় তার হয়ে কাজ করতেন সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা কামরুল ও শাহ আলম। এভাবে মাসের পর মাস নিজের ঘোষণামতো পণ্য চালান খালাস করে নেন সিঅ্যান্ডএফ মইনুল।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কাস্টম হাউস আইসিডি কমলাপুরের কমিশনার কাজী মুহম্মদ জিয়াউদ্দীন কালবেলাকে বলেন, আমি কাস্টম হাউসে যোগ দেওয়ার পর থেকে রাজস্ব ফাঁকির বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছি। যেসব প্রতিষ্ঠান অনিয়মের চেষ্টা করেছে, তাদের বিষয়ে ব্যবস্থা নিয়েছি। এ ছাড়া আমাদের নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। পরিবেশ ঠিক রেখে কাস্টম হাউস পরিচালনার চেষ্টা করছি বলেও জানান এই কর্মকর্তা।

এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, মঈনুল জোরে ও স্বামী অ্যাডমিন ক্যাডার কর্মকর্তার প্রভাবে সুমি আনস্টাফিং বিভাগ ছাড়লেও শিটের অ্যাসেসমেন্ট গ্রুপ দেখভালের দায়িত্ব এখনো তার হাতেই। জানা গেছে সুমির স্বামী ৩০ ব্যাচের অ্যাডমিন কর্মকর্তা।

আরও পড়ুন: তাহিরপুরে প্রবাসীর স্ত্রী ও পাঁচ লাখ টাকা নিয়ে উধাও নাজমুল, পরিবার উদ্বিগ্ন

কাস্টম হাউস থেকে শুরু করে ভ্যাট কমিশনারেট সব জায়গায় গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে পদায়ন নিতে পটু খাদিজা পারভীন সুমি। এর আগে ঢাকা দক্ষিণ ভ্যাট কমিশনারেটে যোগ দিয়েই বাগিয়ে নেন লালবাগের মতো গুরুত্বপূর্ণ ডিভিশন। এখনো লালবাগ ডিভিশনে তার দেওয়া সিদ্ধান্ত নিয়ে নানা ধরনের সমালোচনা রয়েছে। নিজেকে অনেকের চেয়ে আলাদা দাবি করা এই কর্মকর্তার দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে সুবিধা নেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া কমলাপুর কাস্টম হাউসে তার হয়ে আনস্টাফিংয়ের দুই সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা কাজ করতেন বলে নিশ্চিত করেছে কাস্টম হাউস সূত্র।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কাস্টম হাউস আইসিডি কমলাপুরের উপকমিশনার খাদিজা পারভীন সুমি বিষয়টি অস্বীকার করেন। তিনি কালবেলার কাছে দাবি করে বলেন, আমি আনস্টাফিংয়ে থাকাকালীন সময়ে কোনো ধরনের শুল্ক ফাঁকি হয়নি। সবসময় নিরিবিলি কাজ করার চেষ্টা করেছি। এ ছাড়া সবসময় কম গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে কাজ করার চেষ্টা করেছি। আমি সাধারণত ৫টার মধ্যে অফিস ত্যাগ করেছি বলেও জানান তিনি। সন্ধ্যার পর তার টিমের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা কামরুল ও শাহ আলমের যোগসাজশে শুল্ক ফাঁকির বিষয়টি জানতে চাইলে সুমি বলেন, উপকমিশনার তো আর সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তাদের দায় নিতে পারেন না বলেও জানান তিনি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিদ্যালয়ে যেতে শিশুদের জীবনের ঝুঁকি, পাকা সেতুর দাবি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৬:২৪ পি.এম


বিদ্যালয়ে যেতে শিশুদের জীবনের ঝুঁকি, পাকা সেতুর দাবি

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে একটি গভীর খাল রয়েছে। খালের ওপর একটি ভাঙা কাঠের সাঁকো অবস্থিত। সাঁকোটির নিচে ঘন কচুরিপানা জমে রয়েছে। বিদ্যালয়ের শিশুরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই সাঁকো পারাপার করে।

কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার খিলা ইউনিয়নের পূর্ব বাতাবাড়ীয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন এভাবে শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত থাকতে হয়। শুধু শিক্ষার্থীদের জন্য নয়, সাঁকোটি ওই এলাকার বাসিন্দাদের জন্যও একমাত্র ভরসা।

অভিভাবক ও স্থানীয়দের দাবি, শিশুদের নিরাপদ যাতায়াতের জন্য জীর্ণ সাঁকোর পরিবর্তে একটি পাকা সেতু নির্মাণ করা উচিত। পাশাপাশি বিদ্যালয়ের চারপাশে নিরাপত্তাবেষ্টনী, চলাচলের উপযোগী সড়ক এবং শিশুদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করারও দাবি তাদের।

সম্প্রতি সংশ্লিষ্ট এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, বিদ্যালয়ের চারপাশে কোনো পাকা সড়ক নেই। পূর্ব ও দক্ষিণ পাশে খাল রয়েছে। উত্তর পাশে বড় পুকুর এবং পশ্চিম পাশে মাটির সড়ক অবস্থিত।

স্থানীয়রা জানান, বর্ষা মৌসুমে মাটির সড়ক কাদাপানিতে একাকার হয়ে যায়। ফলে দুর্ভোগ বেড়ে যায় কয়েকগুণ। তখন খালের ওপর থাকা বাঁশ-কাঠের জীর্ণ সাঁকোটি শিশুদের জন্য আরো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে।

স্থানীয় বাসিন্দা বেলাল হোসেন জানিয়েছেন, খালের দক্ষিণ পাশে শতাধিক পরিবারের বসবাস। এসব পরিবারের শিশুদের বিদ্যালয়ে যেতে হলে প্রতিদিন সাঁকোটি ব্যবহার করতে হয়। সাঁকোর নিচে কচুরিপানা জমে থাকায় পানির গভীরতা সহজে বোঝা যায় না। অসাবধানতাবশত কেউ সাঁকো থেকে পড়ে গেলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।

পূর্ব বাতাবাড়ীয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আহছানউল্লা বলেন, ‘পূর্ব বাতাবাড়ীয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি দীর্ঘদিন ধরে নানা সমস্যায় রয়েছে। বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার পর থেকেই শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বিশেষ করে খালের ওপরের সাঁকোটি দিয়ে চলাচল করা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। প্রাক-প্রাথমিক ও প্রথম শ্রেণির ছোট শিশুরা সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ে। অনেকে ভয়ে স্কুলে আসতে চায় না।’

বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক ওমর ফারুক বলেন, ‘আমার স্কুলের পাশেই একটি বাঁশের সাঁকো। এই সাঁকো দিয়ে স্কুলে আসতে গিয়ে পা পিছলে অনেক শিশু আহত হয়েছে। অনেক সময় তাদের জামাকাপড় ও বই-খাতা পানিতে পড়ে ভিজে যায়। এখানে একটি সেতু নির্মাণ করা হলে শিক্ষার্থীদের যাতায়াত অনেক নিরাপদ হবে।’

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০০৬ সালে পূর্ব বাতাবাড়ীয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে ১৪৫ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। শিক্ষক-কর্মচারী সংখ্যা ছয়জন। বিদ্যালয়ের জন্য নির্ধারিত জায়গার একাংশ পুকুর ও খালের পাশে হওয়ায় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সমস্যা রয়েছে।

সূত্র জানায়, ২০১৮ সালের শেষদিকে পুকুরের পাড় ঘেঁষে বিদ্যালয়ের দ্বিতল ভবন নির্মাণ করা হয়। বর্তমানে ওই ভবনের নিচে মাটির কিছু অংশ পুকুরে ধসে ফাঁকা হয়ে গেছে।

এ ব্যাপারে মনোহরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলী কামাল হোসেন বলেন, সেতুর জন্য প্রথমে সড়কটি আইডিভুক্ত হতে হবে অর্থাৎ সড়কের কোন সড়কের কোন জায়গায়, দৈর্ঘ্য কত ইত্যাদি তথ্যের ভিত্তিতে নম্বর বা কোড নির্ধারণ করতে হবে যা কেন্দ্রীয় ডাটাবেজে জমা থাকবে। সেজন্য আমরা দ্রুত খালটি পরিদর্শন করে সেতু নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেব।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কুবির ভর্তি পরীক্ষা শুরু ৫ ফেব্রুয়ারি, কেন্দ্র চবি ও রাবিতেও

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৬:৩৮ পি.এম


কুবির ভর্তি পরীক্ষা শুরু ৫ ফেব্রুয়ারি, কেন্দ্র চবি ও রাবিতেও

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা আগামী ৫ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হতে যাচ্ছে। ভর্তির আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে ১৫ নভেম্বর থেকে। ভর্তি পরীক্ষার কেন্দ্র হিসেবে কুমিল্লার সঙ্গে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) থাকবে।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টায় উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম. এম. শরীফুল করীমের সভাপতিত্বে কেন্দ্রীয় ভর্তি কমিটির সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ২০২৭ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি সকাল ১১টায় ‘এ’ ইউনিটের (বিজ্ঞান ও প্রকৌশল অনুষদ) ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর ৬ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৩টায় ‘বি’ ইউনিটের (কলা ও মানবিক, সামাজিক বিজ্ঞান এবং আইন অনুষদ) ভর্তি পরীক্ষা এবং ৭ ফেব্রুয়ারি সকাল ১১টায় ‘সি’ ইউনিটের (ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদ) ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

এছাড়া, ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা ১৫ নভেম্বর থেকে ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন করার সুযোগ পাবেন। ভর্তি পরীক্ষা ও আবেদন সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট এবং অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে প্রকাশিত হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রস্তুতি না নেওয়াটা হবে দায়িত্বজ্ঞানহীনতা-মার্ক কার্নি মার্কিন আগ্রাসনের ঝুঁকি সম্পর্কে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৬:৩৮ পি.এম


প্রস্তুতি না নেওয়াটা হবে দায়িত্বজ্ঞানহীনতা-মার্ক কার্নি মার্কিন আগ্রাসনের ঝুঁকি সম্পর্কে

মার্কিন সামরিক অভিযানের ঝুঁকির ব্যাপারে কানাডার বিরুদ্ধে মার্কিন আগ্রাসনকে তিনি গুরুত্ব সহকারে নিয়েছেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি জানিয়েছেন যে, তিনি চরম আকস্মিক ঝুঁকি খতিয়ে দেখেছেন।

কার্নি নিউ ইয়র্ক টাইমসকে বলেন, "আমি মনে করি এই ধরনের দায়িত্বে থাকলে চরম আকস্মিক ঝুঁকিগুলো খতিয়ে দেখার একটি দায়বদ্ধতা থাকে। এটি কেবলই ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা। মার্কিন আগ্রাসনের বিষয়টি কোনো স্বাভাবিক পরিস্থিতি নয়। তবে এর জন্য প্রস্তুতি না নেওয়াটা হবে দায়িত্বজ্ঞানহীনতা।"

কানাডায় মার্কিন আগ্রাসন এবং কানাডাকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্য বানানোর ব্যাপারে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বারবার বলা বক্তব্যের প্রেক্ষিতে মার্ক কার্নি এই মন্তব্য করেন।

নিউ ইয়র্ক টাইমসে দেওয়া সাক্ষাৎকারে, কার্নি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওপর কানাডার অর্থনৈতিক ও কৌশলগত নির্ভরতা কমাতে অন্যান্য দেশের সঙ্গে সম্পর্ক বহুমুখীকরণের বেশ কয়েকটি উপায় তুলে ধরেন। শুল্ক আরোপ এবং অন্যান্য বাণিজ্য পদক্ষেপের পরিপ্রেক্ষিতে, প্রধানমন্ত্রী ও কানাডার অন্যান্য রাজনীতিবিদরা বর্তমানে মার্কিন নির্ভরতাকে একটি ঝুঁকি হিসেবে দেখছেন।

একটি উদাহরণ হিসেবে, কার্নি বলেন, কানাডা ইলন মাস্কের স্পেসএক্স-এর দেওয়া স্যাটেলাইট ব্রডব্যান্ড সেবার ওপর নির্ভরতা কমানোর চেষ্টা করবে। তিনি উল্লেখ করেন, "স্টারলিংক থেকে আমরা আমাদের নির্ভরতা সরিয়ে অন্য বিকল্পের দিকে যাব, এতে কোনো সন্দেহ নেই।"

এছাড়া, এই সম্ভাব্য সম্পর্কচ্ছেদের কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। কার্নি বলেন, একে অপরের সাথে সংযুক্ত অটোমোবাইল খাতকে ভেঙে ফেলার কোনো যৌক্তিকতা নেই। সাক্ষাৎকারে তিনি আরও বলেন যে, তিনি আশা করছেন বিশ্বজুড়ে মার্কিন ডলারের বিকল্পের চাহিদা বাড়বে। এর পেছনে আংশিক কারণ হলো বাণিজ্যিক অংশীদারদের বিরুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের চাপ সৃষ্টির কৌশল।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, কার্নি বলেন, "পুরোপুরি মার্কিন ডলারের ওপর নির্ভরশীল একটি বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থা টেকসই নয় এবং একাধিক রিজার্ভ কারেন্সি বা মুদ্রা সংবলিত একটি বহুমুখী ব্যবস্থা আরও বেশি নমনীয়তা দেবে।"

দুই মেয়াদে সাবেক কেন্দ্রীয় ব্যাংকারের দায়িত্ব পালন করা কার্নি সাক্ষাৎকারে বলেন, "এটি মূলত- একবার বোকা বানালে দোষ তোমার, দ্বিতীয়বার বোকা বানালে দোষ আমার"; এমন একটি বিষয়। তিনি বলেন, "আপনি যখন একবার এটি দেখে ফেলবেন, তখন থেকেই আপনি ভাবতে শুরু করবেন যে কীভাবে এই নির্ভরতা থেকে সরে আসা যায়?"

উত্তেজনাপূর্ণ সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও, কার্নি জানান যে, তিনি ট্রাম্পের সাথে ঘন ঘন কথা বলছেন। গত আগস্টে নাটকীয়ভাবে বাণিজ্য আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর এবং উভয় পক্ষ নতুন করে শুল্ক আরোপ করার পর থেকে তাদের মধ্যে বেশ কয়েকবার কথা হয়েছে বলেও জানান কার্নি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঝালকাঠির কাঁঠালিয়ায় ২৯৪ কেজি বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পোনা অবমুক্ত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৬:৪৫ পি.এম


ঝালকাঠির কাঁঠালিয়ায় ২৯৪ কেজি বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পোনা অবমুক্ত

ঝালকাঠি, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : কাঁঠালিয়া উপজেলার বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার, বেলা ১১টায় উপজেলা পরিষদ পুকুরে মাছের পোনা অবমুক্ত করার মাধ্যমে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়।

উপজেলা মৎস্য অধিদপ্তরের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মকবুল হোসেন, যিনি মাছের পোনা অবমুক্ত করেন।

উপজেলা মৎস্য অধিদপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, কাঁঠালিয়া উপজেলার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ১২টি পুকুরে মোট ২৯৪ কেজি মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়েছে।

অবমুক্ত করা মাছের পোনার মধ্যে রুই, কাতলা, মৃগেল ও কালিবাউস অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এসব পোনা উপজেলার সরকারি ও প্রাতিষ্ঠানিক জলাশয়ে অবমুক্ত করা হয়েছে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা নাহিদা আক্তার, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফাতিমা ইসলাম, সমাজসেবক মো. ওয়াসিম আহমেদ, উপজেলা বিএনপির সভাপতি জালালুর রহমান আকন এবং সাধারণ সম্পাদক আক্তার হোসেন নিজাম মিরবহর, যুবদল সভাপতি জয়নাল আবেদীন, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক রাকিবুল ইসলাম তুষার, স্থানীয় সাংবাদিক, মৎস্যজীবী ও সরকারি কর্মকর্তারা।

এই কর্মসূচির মাধ্যমে উপজেলার বিভিন্ন জলাশয়ে দেশীয় মাছের উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মাছের পোনা অবমুক্তের ফলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এসব জলাশয়ে মাছের প্রাপ্যতা ও উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%