শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
১২:৫১ পি.এম
অ্যামাজন নতুন দুটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ডিভাইস উন্মোচন করেছে, যা সারা দিনের কথোপকথন থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মনে রাখতে, করণীয় কাজের কথা মনে করিয়ে দিতে এবং দৈনন্দিন তথ্যের ভিত্তিতে পরামর্শ দিতে সক্ষম। ‘বি’ (Bee) ব্র্যান্ডের অধীনে আনা ডিভাইস দুটি হলো ‘ফ্রন্টিয়ার’ নামের একটি ব্রেসলেট এবং ‘ইক্লিপস’ নামের একটি স্মার্টফোন আনুষঙ্গিক যন্ত্র।
বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকোতে টেকক্রাঞ্চ ডিসরাপ্ট সম্মেলনে অ্যামাজনের ডিভাইস বিভাগের প্রধান পানোস পানাই ডিভাইস দুটি উন্মোচন করেন। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে জানা যায়, ফ্রন্টিয়ারের মূল্য ৭৫ ডলার এবং ইক্লিপসের মূল্য ১০০ ডলার।
সারা দিনের তথ্য থেকে দেবে অনুস্মারক
ফ্রন্টিয়ার দেখতে একটি ব্রেসলেটের মতো। অন্যদিকে, ইক্লিপসের ডিজাইন ছোট এবং বহনযোগ্য ম্যাগনেটিক চার্জারের মতো। এটি স্মার্টফোনের সঙ্গে যুক্ত করে ব্যবহার করা যাবে।
অ্যামাজনের দাবি, ডিভাইস দুটি ব্যবহারকারীর ক্যালেন্ডার, বিভিন্ন অ্যাপ এবং দৈনন্দিন অন্যান্য তথ্য একত্র করে প্রয়োজনীয় অনুস্মারক ও এআই-ভিত্তিক পরামর্শ দিতে সক্ষম। ব্যবহারকারীকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, করণীয় কাজ এবং অন্যদের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতির কথাও মনে করিয়ে দিতে পারবে এগুলো।
পানাই মন্তব্য করেন, ডিভাইসগুলো চালু থাকলে সারা দিনের কথোপকথন শুনতে পারে। ফলে ব্যবহারকারীকে প্রতিটি কাজের জন্য আলাদা করে অনুস্মারক তৈরি করতে হবে না। এটি দৈনন্দিন কাজে মনোযোগ ধরে রাখতে সহায়ক হতে পারে।
গোপনীয়তা নিয়ন্ত্রণের সুবিধা
ডিভাইস দুটি চালু থাকলে কথোপকথন শুনতে পারে, যা ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে। অ্যামাজন জানিয়েছে, ব্যবহারকারী নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন কখন ডিভাইস চালু বা বন্ধ থাকবে। এছাড়া, সংরক্ষিত তথ্য থেকে তৈরি পরামর্শ এবং আগের কথোপকথন মুছে ফেলার সুযোগও থাকবে। কোম্পানির দাবি, তারা অডিও সংরক্ষণ করে না।
বি ডিভাইসে তথ্য ১৪ দিন পর্যন্ত সংরক্ষিত থাকবে। তবে মাসে ১২ ডলারের সাবস্ক্রিপশন নিলে এই সময়সীমা বাড়ানো সম্ভব। ডিভাইসগুলো অ্যামাজনের সাবস্ক্রিপশনভিত্তিক জেনারেটিভ এআই ভয়েস সেবা অ্যালেক্সা প্লাসের সঙ্গেও যুক্ত করা যাবে।
অ্যামাজনের অ্যালেক্সা ভয়েস অ্যাসিস্ট্যান্টের মাধ্যমে ধারণ করা কথোপকথন কর্মীরা শুনেছেন—২০১৯ সালে এমন প্রতিবেদন প্রকাশের পর গোপনীয়তা নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়ে প্রতিষ্ঠানটি। এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে একটি শ্রেণিগত মামলা চলছে। তবে কোনো অন্যায় করার অভিযোগ অস্বীকার করেছে অ্যামাজন।
প্রতিযোগিতায় মেটাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানও রয়েছে।
এআই-চালিত পরিধানযোগ্য প্রযুক্তির বাজারে অ্যামাজনের নতুন ডিভাইসগুলোকে প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে পড়তে হবে। এ ক্ষেত্রে মেটার এআই-চালিত পেনড্যান্ট এবং ক্যামেরা ও বিভিন্ন সেন্সরযুক্ত স্মার্ট চশমা উল্লেখযোগ্য প্রতিদ্বন্দ্বী। এছাড়া, বিভিন্ন স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠানও কথোপকথন ধারণ এবং ব্যবহারকারীর হয়ে কাজ করতে সক্ষম এমন ডিভাইস তৈরি করছে।
সাম্প্রতিক সময়ে অ্যামাজন একের পর এক নতুন গ্যাজেট বাজারে আনার ঘোষণা দিয়েছে। উন্নত মান ও স্থায়িত্বের পণ্যের জন্য বেশি অর্থ খরচ করতে আগ্রহী ক্রেতাদের আকৃষ্ট করাই এসব উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।
গত সপ্তাহে প্রতিষ্ঠানটি নতুন ট্যাবলেট আনার ঘোষণা দেয়, যেগুলোর দাম আগের সংস্করণের তুলনায় সর্বোচ্চ তিন গুণ। এদিকে, চলতি বছরের শুরুতে রয়টার্স জানিয়েছিল, ব্যর্থ ফায়ার ফোন বাজারে আনার প্রায় এক দশক পর আবার স্মার্টফোনের বাজারে ফেরার বিষয়টি বিবেচনা করছে অ্যামাজন।
নতুন এআই ডিভাইসগুলোর মাধ্যমে দৈনন্দিন কাজ সহজ করার পাশাপাশি ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে কি না, সেটিই হবে অ্যামাজনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের মাদক উদ্ধারের অভিযানে প্রবেশের পর ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক আটক হয়েছেন ব্রাহ্মণপাড়া থানার দুই পুলিশ সদস্য। আটকের প্রায় ১৪ ঘণ্টা পরও তাদের মুক্তির বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সুরাহা হয়নি।
শুক্রবার বেলা সাড়ে ১২টা পর্যন্ত আটক দুই পুলিশ সদস্য বিএসএফের হেফাজতে ছিলেন। তাদের দেশে ফিরিয়ে আনতে দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে আলোচনা চলছিল।
আটক দুই পুলিশ সদস্য হলেন ব্রাহ্মণপাড়া থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) ইমরান হোসেন এবং কনস্টেবল রোহিত দেওয়ান।
থানা সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে রাত্রিকালীন দায়িত্ব পালনকালে শশীদল ইউনিয়নের আশাবাড়ি এলাকার ২০৫৯ নম্বর সীমান্ত পিলারসংলগ্ন স্থানে মাদক উদ্ধারের অভিযানে যায় পুলিশের একটি দল। এ সময় সিএনজিচালিত অটোরিকশায় থাকা পুলিশ সদস্যরা এক মাদক কারবারির উপস্থিতি টের পান।
পুলিশের উপস্থিতি বুঝতে পেরে ওই ব্যক্তি দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। তাকে ধাওয়া করতে গিয়ে কনস্টেবল রোহিত দেওয়ান সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের ভূখণ্ডে প্রবেশ করেন। পরে ভারতের স্থানীয় বাসিন্দারা তাকে আটক করে বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করেন। সহকর্মীকে ছাড়িয়ে আনতে গেলে ডিউটি পার্টির ইনচার্জ এএসআই ইমরান হোসেনকেও আটক করা হয়। এরপর থেকে দুই পুলিশ সদস্য বিএসএফের হেফাজতে রয়েছেন।
শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ব্রাহ্মণপাড়া থানার ওসি মো. ফারুক হোসেন জানান, আটক দুই পুলিশ সদস্যকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে আলোচনা চলছে। পুলিশ ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ভারতের সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন।
ওসি মো. ফারুক হোসেন বলেন, “আলোচনা এখনো চলমান রয়েছে। দুপুর ১টার দিকে তাদের ফিরিয়ে আনার বিষয়ে অগ্রগতি হতে পারে। আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ওই দেশের প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইরাকে প্রধানমন্ত্রী আলি আল-জাইদির সরকারের মন্ত্রিসভা গঠনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। বৃহস্পতিবার পার্লামেন্টে ১১টি মন্ত্রীর পদ এবং তিনজন উপপ্রধানমন্ত্রীর নিয়োগ অনুমোদন করা হয়েছে, যা আগে শূন্য ছিল। তবে নতুন সরকারের সামনে অর্থনৈতিক সংকট একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যুদ্ধের প্রভাবে দেশটির রাজস্ব আয় কমে গেছে, ফলে নগদ অর্থের সংকট দেখা দিয়েছে।
অনুমোদন পাওয়া মন্ত্রীদের মধ্যে প্রতিরক্ষামন্ত্রী নায়েফ আল-শাম্মারি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়াসির আল-মালিকি, পরিকল্পনামন্ত্রী, সংস্কৃতিমন্ত্রী এবং উচ্চশিক্ষা ও বৈজ্ঞানিক গবেষণামন্ত্রী অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। তবে অভিবাসন ও বাস্তুচ্যুতি মন্ত্রণালয়ের জন্য মনোনীত প্রার্থী নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতবিরোধ থাকায় এ পদে নিয়োগের বিষয়ে ভোট স্থগিত করা হয়েছে।
পার্লামেন্ট তিন উপপ্রধানমন্ত্রীর নিয়োগও অনুমোদন করেছে। তাদের মধ্যে একজন লাইথ আল-খাজালি, যিনি ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী আসাইব আহল আল-হকের জ্যেষ্ঠ নেতা এবং সংগঠনটির প্রধান কায়েস আল-খাজালির ভাই। ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্র আসাইব আহল আল-হককে বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করে। সংগঠনটির দুই ভাইকেও ‘বিশেষভাবে চিহ্নিত বৈশ্বিক সন্ত্রাসী’ ঘোষণা করেছে ওয়াশিংটন। ২০০৭ সালে পাঁচ মার্কিন সেনাকে হত্যার ঘটনায় সংগঠনটির হামলাসহ বিভিন্ন অভিযোগের কথা উল্লেখ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এর আগে ২০১৯ সালে ইরাকে বিক্ষোভকারীদের হত্যার অভিযোগে দুই ভাইয়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়।
মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর প্রধানমন্ত্রী আল-জাইদি একটি বিবৃতিতে পার্লামেন্টকে ধন্যবাদ জানান। তিনি উপপ্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীদের উদ্দেশে বলেন, সর্বোচ্চ নিষ্ঠা, দক্ষতা ও সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। আল-জাইদি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ইরানবিরোধী যুদ্ধের কারণে তৈরি হওয়া ব্যতিক্রমী অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তার সরকার দ্রুত ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ শুরু করছে। উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি এ যুদ্ধ শুরু হয়।
চলমান সংঘাতের কারণে ইরাকে নগদ অর্থের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। যুদ্ধ শুরুর আগে দেশটি হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৩৫ লাখ ব্যারেল তেল রপ্তানি করত। এ তেল রপ্তানি থেকে সরকারের মোট রাজস্বের প্রায় ৯০ শতাংশ আসত। যুদ্ধের কারণে সেই আয়ের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। আল-জাইদি বলেছেন, ‘এই যুদ্ধ ইরাকের ওপর অসাধারণ অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ চাপিয়ে দিয়েছে এবং এখনো দিচ্ছে।’
সরকারি কর্মচারীদের বেতন ও জরুরি ব্যয় মেটাতে ইরাকি দিনারের অবমূল্যায়ন করেছেন সাবেক ব্যাংকার আল-জাইদি। মার্কিন ডলারের বিপরীতে দিনারের মূল্য প্রায় ১৫ শতাংশ কমানো হয়েছে। গত মে মাসে দায়িত্ব নেওয়ার সময় তার সরকার ২০৮ ট্রিলিয়ন ইরাকি দিনারের বেশি সরকারি ঋণ উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছে বলে জানিয়েছেন আল-জাইদি। নতুন বিনিময় হার অনুযায়ী, এ ঋণের পরিমাণ প্রায় ১৩ হাজার ৯০০ কোটি ডলার। এ তথ্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ শিয়া আল-সুদানির সরকারের আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে।
আল-জাইদির ভাষ্য, সরকারি কর্মচারীদের বেতনসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যয় মেটাতে প্রতি মাসে প্রায় ১০ ট্রিলিয়ন দিনার বা ৬৭০ কোটি ডলার প্রয়োজন। অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলার পাশাপাশি দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই, রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর নিরস্ত্রীকরণ এবং জাতীয় সার্বভৌমত্ব জোরদারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন আল-জাইদি। তিনি দেশটি থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার কথাও বলেছেন। নতুন সরকারের সামনে অর্থনৈতিক সংকট সামাল দেওয়ার পাশাপাশি নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার চ্যালেঞ্জও রয়েছে।
তীব্র অর্থসংকটে ইরাক
এএম
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের ফোর্ট হুড সামরিক ঘাঁটিতে গুলি চালিয়ে ১৩ জনকে হত্যা করার দায়ে দণ্ডিত সাবেক সেনা কর্মকর্তা নিদাল মালিক হাসানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দৃশ্য সরাসরি সম্প্রচারের পরিকল্পনা বাতিল করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
হাসানের মৃত্যুদণ্ড ৩ ডিসেম্বর ফায়ারিং স্কোয়াডের মাধ্যমে কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে নিহতদের পরিবারের সদস্যরা চাইলে সরাসরি উপস্থিত থেকে তা পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন। প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের সম্প্রচারের প্রস্তাব নিয়ে দুই দলের আইনপ্রণেতা ও বিভিন্ন মহলের সমালোচনার পর ট্রাম্প এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে একটি পোস্টে ট্রাম্প উল্লেখ করেন, নির্ধারিত সময়েই হাসানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হবে, কিন্তু তা সরাসরি সম্প্রচার করা হবে না।
ট্রাম্প বলেন, "মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দৃশ্য সবার সামনে সম্প্রচার করা হলে তা বিশ্ববাসীর জন্য শক্তিশালী সতর্কবার্তা হতে পারত। এতে সন্ত্রাসী ও গুরুতর অপরাধীদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র কীভাবে ব্যবস্থা নেয়, তা মানুষ দেখতে পেত। তবে অনেক ভালো ও সদিচ্ছাসম্পন্ন মানুষ এমন দৃশ্য সরাসরি কিংবা অন্য কোনো মাধ্যমে দেখতে চান না।"
এর আগে, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ হাসানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দৃশ্য জনসাধারণকে দেখানোর ঘোষণা দিয়েছিলেন। তাঁর প্রস্তাব অনুযায়ী, ফোর্ট হুড ঘাঁটিতে ফায়ারিং স্কোয়াডের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার এবং সেই দৃশ্য সম্প্রচারের পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু এ উদ্যোগের বিরুদ্ধে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট—উভয় দলের আইনপ্রণেতা, ধর্মীয় নেতা এবং সাধারণ মানুষের একাংশ আপত্তি জানান।
যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও এ ধরনের সম্প্রচার নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দৃশ্য সরাসরি সম্প্রচার করা হবে কি না, তা তিনি নিশ্চিত নন। প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার মাইক জনসনসহ কয়েকজন আইনপ্রণেতার আশঙ্কা, এমন ভিডিও উগ্রপন্থীরা প্রচার-প্রচারণার কাজে ব্যবহার করতে পারে। এ ছাড়া ধর্মীয় নেতারাও এ উদ্যোগের সমালোচনা করেন।
হাসানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পরিকল্পনা বহাল থাকলেও আইনি চ্যালেঞ্জের কারণে নির্ধারিত তারিখ পরিবর্তন হবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। মার্কিন সামরিক বাহিনীতে ১৯৬১ সালের পর আর কোনো মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়নি। ফলে হাসানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হলে তা হবে ৬৫ বছরের বেশি সময় পর দেশটির সামরিক বাহিনীতে প্রথম মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা।
উল্লেখ্য, ২০০৯ সালের ৫ নভেম্বর ফোর্ট হুড সামরিক ঘাঁটিতে একটি চিকিৎসাকেন্দ্রে গুলি চালিয়ে ১৩ জনকে হত্যা এবং আরও ৩২ জনকে আহত করেন তৎকালীন মার্কিন সেনাবাহিনীর মেজর ও মনোরোগ চিকিৎসক নিদাল মালিক হাসান। সামরিক আদালতে বিচারের পর ২০১৩ সালে তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিশ্বব্যাংকের নতুন কর্মসংস্থান কৌশলে তিনটি বিষয়কে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এই বিষয়গুলো হলো ভৌত ও মানব অবকাঠামো উন্নয়ন, বিনিয়োগের জন্য স্থিতিশীল ও পূর্বানুমানযোগ্য নীতি নিশ্চিত করা এবং বিনিয়োগের পরিমাণ ও পরিসর বাড়ানো।
এ কৌশলের আওতায় ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগের অর্থায়ন সহজতর করা, উদ্যোক্তাদের ডিজিটাল আর্থিক ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করা এবং উৎপাদনশীল খাতে বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশ্বের ১১০টি দেশের বিনিয়োগকারীরা বিশ্বব্যাংক-সংশ্লিষ্ট অর্থায়নে অংশগ্রহণ করেছেন। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ভারতের পাশাপাশি রোমানিয়া, চিলি, পোল্যান্ড ও ব্রাজিলের বিনিয়োগকারীরাও এতে যুক্ত হয়েছেন।
বিশ্বব্যাংক মনে করে, শুধুমাত্র ঋণ দিয়ে উন্নয়নশীল দেশগুলোর কর্মসংস্থান সংকট সমাধান করা সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন এমন একটি অর্থনৈতিক পরিবেশ, যেখানে দেশীয় ও বিদেশি বিনিয়োগকারীরা দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী হবেন এবং নতুন শিল্প ও ব্যবসা সম্প্রসারণের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।
বড় এআই নয়, কার্যকর প্রযুক্তিতে গুরুত্ব
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার নিয়ে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন অজয় বাঙ্গা। তিনি বড় ও ব্যয়বহুল এআই মডেলের পাশাপাশি ‘স্মল এআই’ বা ছোট, সহজলভ্য ও ব্যবহারিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির ওপর গুরুত্ব দেন।
তার মতে, উন্নয়নশীল দেশের জন্য সব সময় বিশাল কম্পিউটিং সক্ষমতাসম্পন্ন প্রযুক্তি প্রয়োজন নেই। বরং সহজে ব্যবহারযোগ্য এআই টুলস কৃষকের উৎপাদন বাড়াতে, শিক্ষকের পাঠদান উন্নত করতে এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করতে পারে।
এ জন্য বিদ্যুৎ, ইন্টারনেট সংযোগ ও প্রয়োজনীয় ডিজিটাল অবকাঠামো গড়ে তোলার ওপর জোর দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক। প্রযুক্তির সুবিধা যেন শুধু উন্নত দেশ বা বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বিদ্যুৎ, পানি ও স্বাস্থ্যসেবায় ২০৩০ সালের লক্ষ্য
উন্নয়নশীল দেশগুলোর জীবনযাত্রার মান বাড়াতে কয়েকটি বড় কর্মসূচির অগ্রগতিও তুলে ধরেন বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্ট।
আফ্রিকান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের সঙ্গে যৌথভাবে পরিচালিত ‘মিশন ৩০০’ কর্মসূচির আওতায় ২০৩০ সালের মধ্যে আফ্রিকার ৩০ কোটি মানুষকে বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় আনার লক্ষ্য রয়েছে। এরই মধ্যে ৫ কোটি ৯০ লাখ মানুষ বিদ্যুৎ সুবিধা পেয়েছেন। গত এক বছরেই নতুন করে ২ কোটি ৮০ লাখ মানুষের বিদ্যুৎ সংযোগ নিশ্চিত হয়েছে।
পানি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী ১০০ কোটি মানুষের জন্য নিরাপদ পানি ও পানি ব্যবস্থাপনা উন্নয়নের লক্ষ্যের অংশ হিসেবে বিশ্বব্যাংক ৪০ কোটি মানুষের কাছে পৌঁছানোর পরিকল্পনা নিয়েছে। এর মধ্যে ১৫ কোটি মানুষের জন্য কার্যক্রম চলমান।
কৃষি খাতে ‘অ্যাগ্রিকানেক্ট’ কর্মসূচির আওতায় ২০ কোটি ক্ষুদ্র কৃষককে সহায়তার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রথম বছরেই ৮ কোটি ২০ লাখ কৃষককে সহায়তার জন্য প্রকল্পের পাইপলাইন তৈরি হয়েছে। স্বাস্থ্যসেবায় ‘হেলথওয়ার্কস’ কর্মসূচির আওতায় ২০৩০ সালের মধ্যে ১৫০ কোটি মানুষের কাছে উন্নত ও সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। এরই মধ্যে ৬০ কোটি মানুষের কাছে মানসম্মত সেবা পৌঁছেছে বলে ভাষণে উল্লেখ করা হয়।
এ ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ খনিজসম্পদ, উৎপাদনশিল্প ও অর্থনৈতিক করিডোর উন্নয়নের মাধ্যমে নতুন বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। লোভিতো করিডোরের মতো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো প্রকল্প সম্প্রসারণের মাধ্যমে আঞ্চলিক বাণিজ্য ও সরবরাহব্যবস্থা শক্তিশালী করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
উন্নয়ন অর্থায়নে নতুন সম্পদশ্রেণি গঠনের উদ্যোগ
দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন প্রকল্পে অর্থের জোগান বাড়াতে বিশ্বব্যাংক গ্রুপ আরো পাঁচটি শীর্ষ বহুপাক্ষিক উন্নয়ন ব্যাংকের সঙ্গে নতুন অর্থায়নব্যবস্থা গড়ে তোলার কাজ করছে। এর লক্ষ্য হলো উন্নয়ন প্রকল্পগুলোকে নির্দিষ্ট মানদণ্ডের আওতায় এনে পেনশন তহবিল ও সার্বভৌম সম্পদ তহবিলের মতো বড় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের জন্য আকর্ষণীয় করে তোলা।
এ উদ্যোগের মাধ্যমে উদীয়মান বাজারের উন্নয়ন প্রকল্পকে একটি স্বতন্ত্র বিনিয়োগ সম্পদশ্রেণি হিসেবে প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে বিশ্বব্যাংক ও অন্যান্য উন্নয়ন সংস্থার নিজস্ব ব্যালান্স শিটের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দীর্ঘমেয়াদি বেসরকারি মূলধন কাজে লাগানোর সুযোগ বাড়বে।
উন্নয়নের সুফল সবার কাছে পৌঁছানোর আহ্বান
১৯৪৪ সালের ব্রেটন উডস সম্মেলনের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন অজয় বাঙ্গা। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও পুনর্গঠনের উদ্দেশ্যে ওই সম্মেলন থেকে বিশ্বব্যাংকসহ আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠার পথ তৈরি হয়েছিল।
তিনি বলেন, বৈশ্বিক সমৃদ্ধি কোনো একটি দেশের একক অর্জন নয়। এর সুফল সবার কাছে পৌঁছানো প্রয়োজন। আগামী ১০ থেকে ১৫ বছরে বিপুলসংখ্যক তরুণের কর্মবাজারে প্রবেশের বিষয়টি একটি বড় চ্যালেঞ্জ হলেও এটি অনিবার্য ভবিষ্যৎ নয়।
বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্টের মতে, সরকারি অর্থায়ন, বেসরকারি মূলধন, প্রযুক্তি ও উন্নয়ন সহযোগিতাকে সমন্বিতভাবে কাজে লাগাতে পারলে কর্মসংস্থানের ঘাটতি কমানো সম্ভব। এখন প্রয়োজন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সম্মিলিত উদ্যোগ, যেন অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি মানুষের জন্য মর্যাদাপূর্ণ কাজ ও স্থায়ী আয়ের সুযোগ তৈরি হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ