শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
১২:৫৭ পি.এম
বিশ্বব্যাংকের নতুন কর্মসংস্থান কৌশলে তিনটি বিষয়কে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এই বিষয়গুলো হলো ভৌত ও মানব অবকাঠামো উন্নয়ন, বিনিয়োগের জন্য স্থিতিশীল ও পূর্বানুমানযোগ্য নীতি নিশ্চিত করা এবং বিনিয়োগের পরিমাণ ও পরিসর বাড়ানো।
এ কৌশলের আওতায় ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগের অর্থায়ন সহজতর করা, উদ্যোক্তাদের ডিজিটাল আর্থিক ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করা এবং উৎপাদনশীল খাতে বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশ্বের ১১০টি দেশের বিনিয়োগকারীরা বিশ্বব্যাংক-সংশ্লিষ্ট অর্থায়নে অংশগ্রহণ করেছেন। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ভারতের পাশাপাশি রোমানিয়া, চিলি, পোল্যান্ড ও ব্রাজিলের বিনিয়োগকারীরাও এতে যুক্ত হয়েছেন।
বিশ্বব্যাংক মনে করে, শুধুমাত্র ঋণ দিয়ে উন্নয়নশীল দেশগুলোর কর্মসংস্থান সংকট সমাধান করা সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন এমন একটি অর্থনৈতিক পরিবেশ, যেখানে দেশীয় ও বিদেশি বিনিয়োগকারীরা দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী হবেন এবং নতুন শিল্প ও ব্যবসা সম্প্রসারণের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।
বড় এআই নয়, কার্যকর প্রযুক্তিতে গুরুত্ব
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার নিয়ে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন অজয় বাঙ্গা। তিনি বড় ও ব্যয়বহুল এআই মডেলের পাশাপাশি ‘স্মল এআই’ বা ছোট, সহজলভ্য ও ব্যবহারিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির ওপর গুরুত্ব দেন।
তার মতে, উন্নয়নশীল দেশের জন্য সব সময় বিশাল কম্পিউটিং সক্ষমতাসম্পন্ন প্রযুক্তি প্রয়োজন নেই। বরং সহজে ব্যবহারযোগ্য এআই টুলস কৃষকের উৎপাদন বাড়াতে, শিক্ষকের পাঠদান উন্নত করতে এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করতে পারে।
এ জন্য বিদ্যুৎ, ইন্টারনেট সংযোগ ও প্রয়োজনীয় ডিজিটাল অবকাঠামো গড়ে তোলার ওপর জোর দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক। প্রযুক্তির সুবিধা যেন শুধু উন্নত দেশ বা বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বিদ্যুৎ, পানি ও স্বাস্থ্যসেবায় ২০৩০ সালের লক্ষ্য
উন্নয়নশীল দেশগুলোর জীবনযাত্রার মান বাড়াতে কয়েকটি বড় কর্মসূচির অগ্রগতিও তুলে ধরেন বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্ট।
আফ্রিকান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের সঙ্গে যৌথভাবে পরিচালিত ‘মিশন ৩০০’ কর্মসূচির আওতায় ২০৩০ সালের মধ্যে আফ্রিকার ৩০ কোটি মানুষকে বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় আনার লক্ষ্য রয়েছে। এরই মধ্যে ৫ কোটি ৯০ লাখ মানুষ বিদ্যুৎ সুবিধা পেয়েছেন। গত এক বছরেই নতুন করে ২ কোটি ৮০ লাখ মানুষের বিদ্যুৎ সংযোগ নিশ্চিত হয়েছে।
পানি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী ১০০ কোটি মানুষের জন্য নিরাপদ পানি ও পানি ব্যবস্থাপনা উন্নয়নের লক্ষ্যের অংশ হিসেবে বিশ্বব্যাংক ৪০ কোটি মানুষের কাছে পৌঁছানোর পরিকল্পনা নিয়েছে। এর মধ্যে ১৫ কোটি মানুষের জন্য কার্যক্রম চলমান।
কৃষি খাতে ‘অ্যাগ্রিকানেক্ট’ কর্মসূচির আওতায় ২০ কোটি ক্ষুদ্র কৃষককে সহায়তার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রথম বছরেই ৮ কোটি ২০ লাখ কৃষককে সহায়তার জন্য প্রকল্পের পাইপলাইন তৈরি হয়েছে। স্বাস্থ্যসেবায় ‘হেলথওয়ার্কস’ কর্মসূচির আওতায় ২০৩০ সালের মধ্যে ১৫০ কোটি মানুষের কাছে উন্নত ও সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। এরই মধ্যে ৬০ কোটি মানুষের কাছে মানসম্মত সেবা পৌঁছেছে বলে ভাষণে উল্লেখ করা হয়।
এ ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ খনিজসম্পদ, উৎপাদনশিল্প ও অর্থনৈতিক করিডোর উন্নয়নের মাধ্যমে নতুন বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। লোভিতো করিডোরের মতো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো প্রকল্প সম্প্রসারণের মাধ্যমে আঞ্চলিক বাণিজ্য ও সরবরাহব্যবস্থা শক্তিশালী করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
উন্নয়ন অর্থায়নে নতুন সম্পদশ্রেণি গঠনের উদ্যোগ
দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন প্রকল্পে অর্থের জোগান বাড়াতে বিশ্বব্যাংক গ্রুপ আরো পাঁচটি শীর্ষ বহুপাক্ষিক উন্নয়ন ব্যাংকের সঙ্গে নতুন অর্থায়নব্যবস্থা গড়ে তোলার কাজ করছে। এর লক্ষ্য হলো উন্নয়ন প্রকল্পগুলোকে নির্দিষ্ট মানদণ্ডের আওতায় এনে পেনশন তহবিল ও সার্বভৌম সম্পদ তহবিলের মতো বড় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের জন্য আকর্ষণীয় করে তোলা।
এ উদ্যোগের মাধ্যমে উদীয়মান বাজারের উন্নয়ন প্রকল্পকে একটি স্বতন্ত্র বিনিয়োগ সম্পদশ্রেণি হিসেবে প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে বিশ্বব্যাংক ও অন্যান্য উন্নয়ন সংস্থার নিজস্ব ব্যালান্স শিটের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দীর্ঘমেয়াদি বেসরকারি মূলধন কাজে লাগানোর সুযোগ বাড়বে।
উন্নয়নের সুফল সবার কাছে পৌঁছানোর আহ্বান
১৯৪৪ সালের ব্রেটন উডস সম্মেলনের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন অজয় বাঙ্গা। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও পুনর্গঠনের উদ্দেশ্যে ওই সম্মেলন থেকে বিশ্বব্যাংকসহ আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠার পথ তৈরি হয়েছিল।
তিনি বলেন, বৈশ্বিক সমৃদ্ধি কোনো একটি দেশের একক অর্জন নয়। এর সুফল সবার কাছে পৌঁছানো প্রয়োজন। আগামী ১০ থেকে ১৫ বছরে বিপুলসংখ্যক তরুণের কর্মবাজারে প্রবেশের বিষয়টি একটি বড় চ্যালেঞ্জ হলেও এটি অনিবার্য ভবিষ্যৎ নয়।
বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্টের মতে, সরকারি অর্থায়ন, বেসরকারি মূলধন, প্রযুক্তি ও উন্নয়ন সহযোগিতাকে সমন্বিতভাবে কাজে লাগাতে পারলে কর্মসংস্থানের ঘাটতি কমানো সম্ভব। এখন প্রয়োজন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সম্মিলিত উদ্যোগ, যেন অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি মানুষের জন্য মর্যাদাপূর্ণ কাজ ও স্থায়ী আয়ের সুযোগ তৈরি হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬ : যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউক্রেনের নতুন করে রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলোতে হামলাকে ‘লজ্জাজনক’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, এই হামলাগুলোর ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
বৃহস্পতিবার নিউজম্যাক্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইউক্রেনের রুশ তেল শোধনাগারে হামলার বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি মনে করি, এটি একটি লজ্জাজনক ঘটনা।’
৮০ বছর বয়সী মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনের তুলনায় যুদ্ধের সমাপ্তিতে সমঝোতায় পৌঁছাতে জেলেনস্কির আগ্রহ কম।
ট্রাম্প বলেন, ‘যুদ্ধের দ্রুত অবসান হওয়া উচিত। আমার মনে হয়, তাদের দুজনই আসলে যুদ্ধের সমাপ্তি দেখতে চান। তবে পুতিনের তুলনায় জেলেনস্কির সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছানোকে আমি বেশি কঠিন বলে মনে করি।’
ট্রাম্পের সঙ্গে ইউক্রেনের সম্পর্কের টানাপোড়েনের মধ্যে জেলেনস্কি বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। তিনি ইউরোপের বিভিন্ন দেশের নেতাদের সঙ্গে একাধিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকও করেন। শুক্রবার ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তার।
এর আগে ফিন্যান্সিয়াল টাইমসে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জেলেনস্কি জানান, রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলোতে হামলা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত আর কার্যকর থাকবে না। তিনি অভিযোগ করেন, ট্রাম্পের ঘোষিত যুদ্ধবিরতি রাশিয়া মেনে চলছে না।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬ : জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ সৌদি আরবের বিরুদ্ধে ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের চলমান এবং ক্রমবর্ধমান হামলার তীব্র নিন্দা প্রকাশ করেছে। এই হামলার মধ্যে সৌদি রাজধানী রিয়াদের বিমানবন্দরে পরিচালিত ‘বেপরোয়া হামলাও’ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
নিরাপত্তা পরিষদ বৃহস্পতিবার এক যৌথ বিবৃতির মাধ্যমে এই নিন্দা জানায়। বার্তা সংস্থা এএফপি’র খবর অনুযায়ী, সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চলতি মাসের শুরু থেকে এ পর্যন্ত ২০ বার হামলা হয়েছে। গত সপ্তাহের শেষের দিকে একটি হামলায় ১৩ জন নিহত এবং ৩০০ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন।
নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতি ও গ্রিসের প্রতিনিধি ইভাঞ্জেলোস সেকেরিসের দ্বারা প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে পরিষদ জানায়, সৌদি আরবের ওপর হুতিদের অব্যাহত ও ক্রমবর্ধমান হামলার তীব্র নিন্দা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দাব প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর হুতিদের ধারাবাহিক হামলা ও হুমকিরও তীব্র নিন্দা করা হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী আত্মরক্ষার ক্ষেত্রে সৌদি আরবের অধিকার রয়েছে বলে নিরাপত্তা পরিষদ নিশ্চিত করেছে। বিমানবন্দরে হামলার পর বৃহস্পতিবার সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানায়, তারা মদিনা অঞ্চলে একটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে। ইসলামের অন্যতম পবিত্র শহর মদিনায় হামলার খবর এলেও হুতিরা এর দায় অস্বীকার করেছে। গোষ্ঠীটি পূর্বে একাধিকবার বলেছে, তারা ইসলামের পবিত্র স্থানগুলোতে হামলা চালাবে না।
এদিকে, বৃহস্পতিবার ইয়েমেনের অন্তর্বর্তী রাজধানী এডেনে দেশটির প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে হুতিরা একটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এই হামলায় প্রাসাদ চত্বরে অবস্থিত কমান্ড সেন্টারগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব কেন্দ্র ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী এবং তাদের সমর্থনকারী সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ব্যবহার করত।
ইয়েমেনের স্বাস্থ্যমন্ত্রী কাসিম বুহাইবেহ জানিয়েছেন, এই হামলায় পাঁচজন নিহত এবং ১৬ জন আহত হয়েছেন। নিহত ও আহত ব্যক্তিদের মধ্যে ওই স্থানের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মী এবং বেসামরিক কর্মচারীরা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।
২০১৫ সাল থেকে ইয়েমেনের সরকারকে সমর্থন দিয়ে আসছে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে চলা যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর গত সেপ্টেম্বরে দেশটিতে গৃহযুদ্ধ নতুন করে তীব্র হয়ে ওঠে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬ : যুক্তরাষ্ট্র বৃহস্পতিবার কিউবার ব্যাংকো ইন্টারন্যাশনাল দে কোমেরসিও এসএ (বিআইসিএসএ)’র ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে, যা ইরানের একটি ব্যাংকের সঙ্গে সম্পর্ক থাকার অভিযোগে করা হয়েছে।
এই নিষেধাজ্ঞা কিউবার ব্যাংকের বিরুদ্ধে নেওয়া হয়েছে, কারণ এটি কারাফারিন ব্যাংকের সঙ্গে সম্পর্কিত। উল্লেখ্য, কারাফারিন ব্যাংক ২০২০ সাল থেকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে। বার্তা সংস্থা এএফপি’র খবর অনুযায়ী, এই পদক্ষেপ ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়ানোর মার্কিন প্রচেষ্টার অংশ।
ওয়াশিংটনের অভিযোগ, কিউবার বিআইসিএসএ ব্যাংক এবং কারাফারিন ব্যাংকের মধ্যে যোগাযোগ গত ২০২২ সাল থেকে রয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এক বিবৃতিতে জানান, ‘দীর্ঘদিন ধরে কমিউনিস্ট শাসিত কিউবাকে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য বিভিন্ন ক্ষতিকর শক্তি ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এসব গোষ্ঠীর মধ্যে রয়েছে ইরানের ইসলামী প্রজাতন্ত্র, যাকে বিশ্বে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় সন্ত্রাসবাদের সবচেয়ে বড় সমর্থক বলে মনে করে যুক্তরাষ্ট্র।’
এদিকে, মার্কিন নিষেধাজ্ঞার প্রতিক্রিয়ায় কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রুনো রদ্রিগেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি পোস্টে এই পদক্ষেপকে ‘আগ্রাসী’ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, বিআইসিএসএ একটি সম্পূর্ণ বৈধ ব্যাংক এবং কিউবা ও বিশ্বের অন্যান্য দেশে ব্যাংকটির লেনদেনও সম্পূর্ণ বৈধ।
রদ্রিগেজ আরও বলেন, ‘এ পদক্ষেপের মাধ্যমে কিউবার জনগণের ওপর সর্বোচ্চ মাত্রার সম্মিলিত শাস্তি চাপিয়ে দেওয়ার এবং দেশটির অর্থনীতির সব ধরনের কার্যক্রমের পথ বন্ধ করে দেওয়ার অপরাধমূলক সংকল্পের প্রতিফলন ঘটেছে।’
গত ২৯ জানুয়ারি ট্রাম্প প্রশাসন কিউবাকে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ‘হুমকি’ হিসেবে ঘোষণা করে। এরপর থেকে ওয়াশিংটন নিষেধাজ্ঞা ও তেল অবরোধের মাধ্যমে কিউবার ওপর কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ ক্রমাগত বাড়িয়ে চলেছে।
এদিকে, বৃহস্পতিবার ইরানের সঙ্গে আর্থিক সম্পর্কের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্র ইরাকভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক ফর ইনভেস্টমেন্ট অ্যান্ড ফাইন্যান্সের ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের দাবি, ব্যাংকটি ইরান এবং দেশটির কয়েকটি ব্যাংককে আর্থিক সেবা ও মার্কিন ডলারে লেনদেনের সুযোগ দিয়ে থাকে।
এ ছাড়া কয়েকটি ইরানি ব্যাংক, কোম্পানি ও ব্যক্তির বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। ফ্লাইট বাতিলের ঘটনা বেড়ে গেছে, যাত্রার সময়ও বৃদ্ধি পেয়েছে এবং টিকিটের দামও চড়া হয়ে উঠেছে। সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে তেহরান থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে সরাসরি যেতে তিন ঘণ্টারও কম সময় লাগত। তবে, এখন একই যাত্রায় সময় লাগছে ১৮ ঘণ্টা পর্যন্ত। খরচ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ডলারের বেশি।
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন দফার নিষেধাজ্ঞার ফলে ইরানের বিমান সংস্থাগুলো এবং তাদের সেবা প্রদানকারী বিদেশি কোম্পানিগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি হয়েছে। ২৩ সেপ্টেম্বর ইরানি বিমান সংস্থাগুলোকে সেবা দেওয়া বন্ধ করার সময়সীমা শেষ হওয়ার পর বিধিনিষেধ আরও কঠোর হয়ে ওঠে। এর ফলে ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে সরাসরি ফ্লাইট বন্ধ হয়ে যায় এবং অন্যান্য কয়েকটি দেশের সঙ্গে বিমান চলাচলও বিঘ্নিত হয়।
যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে বিশ্বের যোগাযোগ সীমিত করতে দেশটির আকাশপথে যাতায়াতের সুযোগ সংকুচিত করার চেষ্টা করছে। আগস্ট মাসে ইরানের ওপর চাপ বাড়াতে ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ ঘোষণা করে ওয়াশিংটন। এর উদ্দেশ্য ছিল বৈশ্বিক অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকা ইরানের অবশিষ্ট খাতগুলোকে চাপের মধ্যে রাখা।
এই অভিযানের অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ২৭টি বিমান সংস্থার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। একই সঙ্গে, ইরানি বিমান সংস্থাগুলোর সঙ্গে কাজ করা বিমানবন্দর, জ্বালানি সরবরাহকারী এবং উড়োজাহাজের ভূমিতে প্রয়োজনীয় সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানসহ বিদেশি কোম্পানিগুলোকে দ্বিতীয় পর্যায়ের নিষেধাজ্ঞার হুমকি দেওয়া হয়েছে। এসব নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক ব্যবস্থায় প্রবেশের সুযোগ হারাতে পারে।
নতুন নিষেধাজ্ঞার প্রভাব প্রথম স্পষ্ট হয় ২৪ সেপ্টেম্বর। সেদিন তেহরান থেকে তাজিকিস্তানের রাজধানী দুশানবের উদ্দেশে যাওয়া একটি ইরানি ফ্লাইটকে মাঝপথ থেকে ফিরে আসতে হয়। তুর্কমেনিস্তানের আকাশসীমায় প্রবেশের অনুমতি না পাওয়ায় উড়োজাহাজটি তেহরানে ফিরে আসে।
এরপর সংযুক্ত আরব আমিরাত, আজারবাইজান এবং জর্জিয়া ইরানি ফ্লাইট চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করে। ইরান থেকে ওমানের রাজধানী মাসকাট এবং ইরাকের রাজধানী বাগদাদের ফ্লাইট বন্ধ হয়ে যায়। প্রতিবেশী তুরস্কগামী বেশ কয়েকটি ফ্লাইটও বাতিল করা হয়। শিয়া ধর্মাবলম্বীদের জনপ্রিয় তীর্থস্থান ইরাকের নাজাফগামী ফ্লাইট চলাচলও সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে সাময়িকভাবে বিঘ্নিত হয়।
এসব ঘটনার সময় ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যুদ্ধের কারণে দেশটির আন্তর্জাতিক বিমান যোগাযোগ আগে থেকেই ব্যাপকভাবে বিঘ্নিত ছিল। অধিকাংশ আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থা এখনো ইরানে তাদের ফ্লাইট চালু করেনি।
নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞার পরও চীন ও রাশিয়াসহ কয়েকটি দেশের সঙ্গে ইরানের ফ্লাইট চলাচল অব্যাহত রয়েছে। তবে বন্ধ হয়ে যাওয়া রুটগুলো পুনরায় চালু করতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সরকারের সঙ্গে আলোচনা প্রয়োজন।
আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের ২০ শতাংশ বন্ধ
নতুন নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার তিন সপ্তাহের বেশি সময় পরও মস্কো, নাজাফ, ইস্তাম্বুল, ইয়েরেভান এবং চীনের গুয়াংজুসহ কয়েকটি গন্তব্যে ফ্লাইট চলাচল করছে। তবে ইরানের আন্তর্জাতিক বিমান যোগাযোগব্যবস্থা এখনো মারাত্মকভাবে সীমিত।
এর ফলে ইরানে যাওয়া এবং দেশটি থেকে বাইরে আসা—উভয় ধরনের যাত্রীর ওপর প্রভাব পড়েছে। দীর্ঘ বিলম্ব, শেষ মুহূর্তে ফ্লাইট বাতিল এবং কখনো কখনো উড়োজাহাজকে যাত্রার স্থানেই ফিরিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় অঙ্গরাজ্যে বসবাসকারী ৪৩ বছর বয়সী আমির তাঁর অসুস্থ মায়ের চিকিৎসার জন্য ইরান যাওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে ভোগান্তির কথা জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, তাঁর মা যুক্তরাষ্ট্রে থাকেন, কিন্তু তাঁর চিকিৎসাসংক্রান্ত নথিপত্র ইরানে রয়েছে। যুদ্ধ এবং এর কারণে তৈরি হওয়া পরিস্থিতিতে কয়েক মাস ধরে তাঁর চিকিৎসকের সঙ্গে নির্ধারিত সাক্ষাৎ পিছিয়ে গেছে।
আমির বলেন, ‘কয়েক সপ্তাহ আগে আমরা পরিস্থিতির আপেক্ষিক শান্তিকে কাজে লাগিয়ে ইরানে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিই, যাতে মা চিকিৎসা নিতে পারেন। কিন্তু এরপরই নতুন নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা আসে। এতে কার্যত ইরানে ফ্লাইট চলাচল ব্যাহত হয়।’
এখন ইরানে যেতে হলে প্রথমে ইস্তাম্বুলে যেতে হচ্ছে। সেখানে ইরানগামী ফ্লাইটের জন্য কয়েক ঘণ্টা, এমনকি কয়েক দিনও অপেক্ষা করতে হচ্ছে বলে জানান তিনি। আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে দেশের বাইরে থেকে ইরানি বিমান সংস্থার টিকিট কেনাও কঠিন হয়ে পড়েছে।
আমিরের ভাষায়, ‘অসুস্থ একজন নারীর একা এভাবে ভ্রমণ করা অত্যন্ত চাপের। এটা সম্পূর্ণ অন্যায্য।’
নিষেধাজ্ঞার প্রভাব পড়েছে ইরানের অভ্যন্তরীণ ভ্রমণ খাতেও।
দেশটির অন্যতম বড় অনলাইন টিকিট ও আবাসন বুকিং প্ল্যাটফর্ম আলিবাবা ট্রাভেল গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা মাজিদ হোসেইনি-নেজাদ আল-জাজিরাকে বলেন, নতুন নিষেধাজ্ঞার কারণে টিকিট বিক্রিতে প্রভাব পড়েছে।
তিনি বলেন, ‘সাম্প্রতিক নিষেধাজ্ঞার ফলে ইরান থেকে আন্তর্জাতিক গন্তব্যে চলাচলকারী প্রায় ২০ শতাংশ ফ্লাইট বন্ধ হয়ে গেছে। এতে বিমান টিকিট বুকিং সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর আয় কমেছে। নিষেধাজ্ঞার কারণে বিমান সংস্থাগুলোর আয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।’
গত ১১ অক্টোবর ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, অন্য দেশের গন্তব্যে ইরানি ফ্লাইট চলাচল সহজ করতে তাদের অর্থনৈতিক বিষয়ক বিভাগ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
যাত্রার সময় ও খরচ নিয়ে অনিশ্চয়তা
ইরান থেকে যাওয়া-আসার ফ্লাইটে দীর্ঘ বিলম্ব ও শেষ মুহূর্তে বাতিলের ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে উড়োজাহাজকে যাত্রার স্থানেই ফিরিয়ে নিতে হচ্ছে। পরিস্থিতি কবে স্বাভাবিক হবে, তা নিয়ে যাত্রীদের স্পষ্ট কোনো ধারণা নেই।
কাজের প্রয়োজনে নিয়মিত ইরান ও ওমানের মধ্যে যাতায়াত করেন আরেক ইরানি নাগরিক আমির। তিনি বলেন, নিষেধাজ্ঞার কারণে অন্যান্য আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি ফ্লাইট বাতিল তাঁদের জীবনে নতুন ভোগান্তি তৈরি করেছে।
তিনি বলেন, ‘এখন মাসকাট ও তেহরানের মধ্যে প্রতিটি যাত্রায় আগের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি সময় লাগছে এবং খরচও কয়েক গুণ বেড়েছে।’
পরিস্থিতি কবে বদলাবে, কিংবা আদৌ উন্নতি হবে কি না, তা স্পষ্ট নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এএম
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ