বুধবার, ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৪:৪৮ পি.এম
দেশে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির পর বাস ও লঞ্চের ভাড়া বেড়ে গেছে। তবে ট্রেনের ভাড়া বাড়ানোর বিষয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পর তিনি লঞ্চের ভাড়া বৃদ্ধির বিষয়টি উল্লেখ করেন।
মন্ত্রী জানান, রেল মন্ত্রণালয় থেকে রেলের ভাড়া বাড়ানোর জন্য চাপ রয়েছে, অন্যথায় লোকসান আরও বৃদ্ধি পাবে। তিনি উল্লেখ করেন, "আমরা ১০ বছর ধরে রেলের ভাড়া বাড়াইনি। জনগণের প্রতি আমাদের মনোযোগ, দায়বদ্ধতা আছে।"
তিনি আরও বলেন, "এবার ভাড়া বাড়ানোর জন্য চাপ রয়েছে। নাহলে আরও লোকসান হবে। তবুও এখনও রেলের ভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেইনি। আমি বলেছি, ভাড়া না বাড়িয়ে যা আছে তা যাতে রাখা যায়।" ফলে আপাতত আগের ভাড়া বহাল থাকবে। মন্ত্রী বলেন, "সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি রেলের ভাড়া না বাড়ানোর। একান্তই যদি ভাড়া বাড়ে, সেটি যৌক্তিক হবে। তবে এখন পর্যন্ত ভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেইনি।"
লঞ্চের ভাড়া বৃদ্ধির প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি, ব্যবস্থাপনার ব্যয় বৃদ্ধি এবং অন্যান্য বিষয়গুলি বিবেচনায় নৌযান মালিকরা ১৫ শতাংশ ভাড়া বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছিলেন। কিন্তু যাত্রীদের কথা চিন্তা করে ৭ দশমিক ৫৪ শতাংশ ভাড়া বৃদ্ধি করা হয়েছে। এর পাশাপাশি, সর্বনিম্ন ভাড়া আগে ৩২ টাকা ছিল, যা বর্তমানে বাড়িয়ে ৩৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
তবে সিএনজির ভাড়া বৃদ্ধির বিষয়ে তিনি বলেন, সিএনজির দাম বাড়েনি। কাজেই সিএনজিচালিত যানবাহনের ভাড়া বৃদ্ধির কোনো সুযোগ নেই। যদি কারও বাড়তি ভাড়া নেওয়ার তথ্য পাওয়া যায়, তবে অবশ্যই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দিল্লির ক্যালকাজি মন্দিরের নিকটবর্তী আস্থা কুঞ্জ পার্কে গত সোমবার সন্ধ্যায় ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরী গণধর্ষণের শিকার হওয়ার পর লেডি শ্রী রাম (এলএসআর) কলেজ আগামী বুধবার পর্যন্ত অনলাইনে ক্লাস পরিচালনার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।
এই কলেজটি ঘটনাস্থল থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এবং কর্তৃপক্ষ গত মঙ্গলবার দুপুর থেকেই নিয়মিত পাঠদান বন্ধ করে দেয়। একইসাথে শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং কর্মীদের ক্যাম্পাসের পেছনের গেট সংলগ্ন এলাকায় ঘোরাফেরা না করার জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ গত মঙ্গলবার এই নৃশংস ঘটনায় অভিযুক্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সাঁড়াশি অভিযানের সময় বন্দুকযুদ্ধের ফলে এক অভিযুক্ত আহত হয়। এলএসআর-এর অধ্যক্ষ কণিকা কে. আহুজা জানিয়েছেন, বিষয়টি জানার পর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কলেজ অনলাইন ক্লাসের সিদ্ধান্ত নেয়।
অধ্যক্ষ আরও বলেন, "এমন হৃদয়বিদারক ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই আমরা সরাসরি ক্লাস স্থগিত করি। আমাদের শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও সার্বিক কল্যাণই আমাদের কাছে সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার পায়।" তিনি জানান, কলেজ কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যেই দিল্লি পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে এবং পুরো ক্যাম্পাস সংলগ্ন এলাকায় টহল বাড়ানোর জন্য বিশেষ অনুরোধ করেছে।
বিশেষ করে অমর কলোনি থানা পুলিশকে ক্যাম্পাসের পেছনের গেট, পাশের গলি এবং পার্কগুলোতে টহল জোরদার করার জন্য আবেদন জানিয়েছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। শিক্ষার্থী ও কর্মীদের মানসিকভাবে সহায়তা করার জন্য শিক্ষক ও পরামর্শকেরা সার্বক্ষণিক পাশে থাকবেন বলেও আশ্বস্ত করা হয়েছে।
ক্যাম্পাস সংলগ্ন এলাকায় এই ঘটনার পর নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এলএসআর স্টুডেন্টস ইউনিয়নের সভাপতি অনুশা গর্গ বলেন, শিক্ষার্থীদের চলাচলের প্রতিটি ঝুঁকিপূর্ণ স্থান শনাক্ত করা জরুরি, শুধুমাত্র ধরাবাঁধা সতর্কবার্তা জারি করে বসে না থেকে। তিনি উল্লেখ করেন, "নারীদের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বাঁধাধরা নীতি থেকে বেরিয়ে এলাকাভিত্তিক নিবিড় নিরাপত্তা নিরীক্ষা (সেফটি অডিট) চালানো প্রয়োজন।"
শিক্ষার্থীরা মেট্রো স্টেশন, বাস স্টপ, পিজি (মেস) এবং বাজার এলাকা থেকে ক্যাম্পাসে যাতায়াতের জন্য যেসব পথ ব্যবহার করেন, সেগুলোতে দ্রুত নিরাপত্তা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন। এছাড়া সড়কবাতি, স্পষ্ট দৃশ্যমানতা, গণপরিবহন সুবিধা, জরুরি সহায়তা সেবা এবং পুলিশের নজরদারি নিশ্চিত করার ওপরও জোর দেন তিনি।
সার্বিক পরিস্থিতিতে দিল্লি পুলিশের সাথে যোগাযোগ রেখে ক্যাম্পাসের নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও জোরদার করতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়ার ব্যাপারে কলেজ প্রশাসন নিশ্চিত করেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির (ডিসিইউ) অধীনে বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের অনার্স প্রথম বর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের জন্য ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টায় সমাজবিজ্ঞান বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে নবীন শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে বরণ করা হয়, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের পরিচয়পর্ব অনুষ্ঠিত হয় এবং দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানটির সূচনা করেন সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ফাইজা তাসনিম আনিকা, যিনি পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন। পরে একই শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী অন্নপর্ণা আচার্য্য অহনা পবিত্র গীতা পাঠ করেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী লামিয়া জামান ইমা।
এ অনুষ্ঠানে কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ফরিদা ইয়াছমিন, উপাধ্যক্ষ প্রফেসর তছমিনা বেগম চৌধুরী, হিসাববিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর মো. শফিউল আযম, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ড. মো. আমিরুল ইসলাম, প্রফেসর ফারহানা হক, সহযোগী প্রফেসর খালেদা খানম, সহযোগী প্রফেসর জাকেরা খাতুন, সহকারী প্রফেসর সাবিনা ইয়াসমিন, সহকারী প্রফেসর কানিজ ফাতেমা, সহকারী প্রফেসর দিল আফরোজ, লেকচারার মো. ফরহাদ হোসেন এবং লেকচারার ফাতেমাতুজ জহুরা ঝিলাম উপস্থিত ছিলেন।
স্বাগত বক্তব্যে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী প্রফেসর খালেদা খানম নবীন শিক্ষার্থীদের শুভেচ্ছা জানান। তিনি বলেন, "উচ্চশিক্ষার নতুন যাত্রায় আজকের দিনটি শিক্ষার্থীদের জীবনের একটি স্মরণীয় দিন।" শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে পাশে থাকবেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সমাজবিজ্ঞানের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, "বাংলাদেশসহ বিশ্বজুড়েই সমাজবিজ্ঞানের গুরুত্ব রয়েছে।" এ বিষয়ে পড়াশোনার মাধ্যমে সমাজ, রাষ্ট্র, মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ক ও বিভিন্ন সামাজিক বিষয় বিশ্লেষণের সুযোগ রয়েছে। তিনি শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পড়াশোনার পাশাপাশি নিজেদের দক্ষতা বিকাশে মনোযোগী হওয়ার পরামর্শ দেন।
নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দেন সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মেহেনিকা জমাদার। তিনি নবীনদের আন্তরিকভাবে স্বাগত জানিয়ে নিয়মিত ক্লাস করার, শিক্ষকদের সম্মান করার এবং বিভাগের নিয়ম-কানুন মেনে চলার পরামর্শ দেন। পাশাপাশি সচেতন, দায়িত্বশীল ও মানবিক মানুষ হিসেবে নিজেদের গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
মাস্টার্স ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তাসকিরা মাহমুদ তমা নবীনদের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, "নতুন শিক্ষার্থীদের আগমনে সমাজবিজ্ঞান বিভাগ আরও প্রাণবন্ত হয়ে উঠবে।" তিনি নিয়মিত ক্লাস ও পড়াশোনার পাশাপাশি শিক্ষকদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার পরামর্শ দেন।
পরে সিনিয়র শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে নবীনদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। এরপর নবাগত শিক্ষার্থীদের পরিচয়পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় শিক্ষার্থীরা নিজেদের পরিচয় ও প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন।
সমাজবিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ড. মো. আমিরুল ইসলাম নবীন শিক্ষার্থীদের শুভেচ্ছা জানিয়ে নিয়মিত ক্লাস করা, ভালো কাজে যুক্ত থাকা এবং সময়ের সঠিক ব্যবহার করার ওপর গুরুত্ব দেন।
তিনি বলেন, "চার বছর পর যেন শিক্ষার্থীরা সফলভাবে অনার্স শেষ করে বের হতে পারে, সে লক্ষ্য নিয়ে এখন থেকেই পড়াশোনায় মনোযোগী হতে হবে।" কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত কাজে না জড়িয়ে নিজেদের ভালো কাজে সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানান তিনি।
সময়কে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, "Time and tide wait for none"—সময় কারও জন্য অপেক্ষা করে না। তাই অযথা সময় ব্যয় না করে নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ার কাজে মনোযোগী হতে হবে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের বিষয়ে তিনি বলেন, "ফেসবুকে সময় না দিয়ে বুকে সময় দাও।" অর্থাৎ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অতিরিক্ত সময় ব্যয় না করে নিজেদের ভবিষ্যৎ গঠনে সময় দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, সমাজবিজ্ঞান পড়ার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা সমাজ, রাষ্ট্র, জাতি ও পরিবেশ সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করতে পারবে। শিক্ষার্থীদের যেকোনো প্রয়োজনে শিক্ষকরা পাশে থাকবেন বলেও জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে প্রফেসর ফারহানা হক নবীন শিক্ষার্থীদের শুভেচ্ছা জানিয়ে তাদের সুন্দরভাবে পড়াশোনা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বিষয়ে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দেন।
সহকারী প্রফেসর কানিজ ফাতেমা শিক্ষার্থীদের অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্য দেন এবং শিক্ষাজীবনে যেকোনো প্রয়োজনে শিক্ষকরা তাদের পাশে থাকবেন বলে জানান। এ ছাড়া বক্তব্য দেন সহকারী প্রফেসর সাবিনা ইয়াসমিন ও সহকারী প্রফেসর দিল আফরোজ।
লেকচারার ফাতেমাতুজ জহুরা ঝিলাম নবীনদের শুভেচ্ছা জানিয়ে তাদের ভবিষ্যৎ শিক্ষাজীবন নিয়ে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দেন। লেকচারার মো. ফরহাদ হোসেনও নবীন শিক্ষার্থীদের শুভেচ্ছা জানিয়ে সমাজবিজ্ঞান বিভাগে তাদের স্বাগত জানান।
কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ফরিদা ইয়াছমিন ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে সমাজবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের শুভেচ্ছা জানান। তিনি কলেজ ও বিভাগের নিয়ম-কানুন মেনে মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করার আহ্বান জানান এবং যেকোনো প্রয়োজনে শিক্ষকদের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন।
উপাধ্যক্ষ প্রফেসর তছমিনা বেগম চৌধুরী নবীন শিক্ষার্থীদের শুভকামনা জানান এবং মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করার পরামর্শ দেন। হিসাববিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর মো. শফিউল আযমও নবীনদের শুভেচ্ছা জানিয়ে তাদের সফল শিক্ষাজীবন কামনা করেন।
শিক্ষকদের দিকনির্দেশনা, সিনিয়রদের শুভেচ্ছা, ফুল দিয়ে বরণ ও পরিচয়পর্বের মাধ্যমে নবীন শিক্ষার্থীদের জন্য সমাজবিজ্ঞান বিভাগে উচ্চশিক্ষার নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর উত্তরায় মীর মুগ্ধসহ ১১ জনকে হত্যা সংক্রান্ত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ২৬ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের আদেশের তারিখ পিছিয়ে গেছে। নতুন চার্জ গঠনের তারিখ আগামী ১১ অক্টোবর নির্ধারণ করা হয়েছে।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ তারিখ নির্ধারণ করেন। প্যানেলের অপর সদস্য বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
এ দিন মামলাটিতে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের আদেশ দেওয়ার জন্য দিন ধার্য ছিল। তবে ট্রাইব্যুনালের সদস্য বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ অসুস্থ থাকায় তারিখটি পিছিয়ে ১১ অক্টোবর নির্ধারণ করা হয়েছে।
এর আগে, গত ২০ আগস্ট আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন নিয়ে আদেশ দেওয়ার কথা ছিল ট্রাইব্যুনাল-১ এর। কিন্তু মামলাটি পরে ট্রাইব্যুনাল-২ এ হস্তান্তর করা হয়। এরপর প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের শুনানি শেষে আজকের দিনটি এ বিষয়ে আদেশের জন্য নির্ধারণ করা হয়।
এই মামলায় আটজন গ্রেফতার রয়েছেন। তারা হলেন— ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) উত্তরা বিভাগের সাবেক অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মির্জা সালাহউদ্দিন, উত্তরা পূর্ব থানার সাবেক ওসি মো. মজিবুর রহমান, আজমপুর পুলিশ ফাঁড়ির সাবেক কনস্টেবল মো. হোসেন আলী, উত্তরা পশ্চিম থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি মনোয়ার ইসলাম চৌধুরী রবিন, যুবলীগ সভাপতি মো. দেলোয়ার হোসেন রুবেল, আওয়ামী লীগ নেতা মো. সোহেল রানা, ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি মো. শাহ আলম এবং তুরাগ থানা এলাকার আওয়ামী লীগ কর্মী মো. ইরফানুল হক গাজী।
পলাতক আসামিদের মধ্যে রয়েছেন— ঢাকা-১৮ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ হাবিব হাসান, সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান, ডিএমপির উত্তরা বিভাগের সাবেক উপ-পুলিশ কমিশনার কাজী আশরাফুল আজীম, উত্তরা বিভাগের সাবেক অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মো. তোহিদুল ইসলাম, উত্তরা বিভাগের সাবেক সহকারী পুলিশ কমিশনার সুমন কর, উত্তরা পশ্চিম থানার সাবেক ওসি বিএম ফরমান আলী, উত্তরা পূর্ব থানার সাবেক পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশনস) মাহমুদুল হাসান, উত্তরা পূর্ব থানার সাবেক কনস্টেবল মো. আবু ছায়েম, আওয়ামী লীগ নেতা মো. আলাউদ্দিন আল সোহেল, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর জাহাঙ্গীর হোসেন, সাবেক কাউন্সিলর মো. ফরিদ আহমেদ, সাবেক কাউন্সিলর ডিএম. শামীম, সাবেক কাউন্সিলর মো. আনিছুর রহমান নাঈম, সাবেক কাউন্সিলর মো. আফছার উদ্দিন খান, উত্তরা পূর্ব থানার সাবেক এসআই খালেদ আনোয়ার, উত্তরা পূর্ব থানার সাবেক এএসআই মো. রোকনুজ্জামান, উত্তরা পশ্চিম থানা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মুরতাফা বিন ওমর এবং তুরাগ থানা আওয়ামী লীগের যুবলীগ নেতা জাকির হোসেন।
প্রসিকিউশনের প্রথম অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই ঢাকা মহানগরের উত্তরা এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক ও আশপাশে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে নির্বিচারে গুলি চালিয়ে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) এমবিএ শিক্ষার্থী মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধসহ সাতজনকে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় উবারচালক মোখলেছুর রহমান ওরফে দুর্জয়কে পুলিশের এপিসির চাকায় পিষ্ট করে হত্যা করা হয় এবং মরদেহ গুমের উদ্দেশ্যে তুরাগ নদীতে ফেলে দেওয়া হয়। একই ঘটনায় মেহেদী হাসানসহ পাঁচজনকে হত্যাচেষ্টার উদ্দেশ্যে গুলি করে গুরুতর জখম করার অভিযোগ রয়েছে।
দ্বিতীয় অভিযোগ অনুযায়ী ১৯ জুলাই একই এলাকায় আন্দোলনকারীদের ওপর পুনরায় নির্বিচারে গুলি চালিয়ে রিদোয়ান শরীফ রিয়াদ জয়সহ চারজনকে হত্যা করা হয়। এছাড়া রাইসুল রহমান রাতুলকে হত্যাচেষ্টার উদ্দেশ্যে গুলি করে গুরুতর আহত করা হয়। উভয় অভিযোগে এসব ঘটনাকে পরিকল্পিত, ব্যাপক ও পদ্ধতিগতভাবে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করেছে প্রসিকিউশন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ আজারবাইজানের সঙ্গে একটি চুক্তি সম্পাদন করেছে, যা কূটনৈতিক ও সরকারি (অফিশিয়াল) পাসপোর্টধারীদের জন্য ভিসা অব্যাহতি প্রদান করবে। নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে এই চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়েছে।
চুক্তিতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান এবং আজারবাইজানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেহুন বায়রামভ নিজ নিজ দেশের পক্ষে স্বাক্ষর করেন।
এই চুক্তির আওতায়, দুই দেশের কূটনৈতিক ও সরকারি (অফিশিয়াল) পাসপোর্টধারীরা ভিসা ছাড়াই অপর দেশে ভ্রমণের সুযোগ পাবেন।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সময় দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের মধ্যে এই চুক্তিটি সম্পন্ন হয়। উল্লেখ্য, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান এই অধিবেশনের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।
এটি দুই দেশের সরকারি পর্যায়ের যোগাযোগ এবং সফরকে সহজ করার পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ