০৮:২৫ এম
জাতীয় নাগরিক পার্টি থেকে পদত্যাগ করেছেন সামান্ত শারমিন। তিনি গতকাল বৃহস্পতিবার এক ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে এই তথ্য প্রকাশ করেন। ফেসবুক পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, "কিছুক্ষণ আগে জাতীয় নাগরিক পার্টি থেকে আমি পদত্যাগ করেছি।" প্রায় এক বছর আগে তিনি জাতীয় নাগরিক পার্টির জোট গঠনের বিষয়ে একটি ভিন্ন অবস্থান গ্রহণ করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, জামায়াত ইসলামী নীতিগত বা কৌশলগতভাবে মিত্র হওয়ার যোগ্য নয় এবং তাদের সঙ্গে জোট করার জন্য এনসিপিকে কঠিন মূল্য চুকাতে হবে। গত শুক্রবার এনসিপি ঘোষিত নতুন কমিটিতে তাকে শুধুমাত্র যুগ্ম আহ্বায়ক পদে রাখা হয়। এই কারণে সামান্তার পদাবনতি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়। এ বিষয়ে তিনি একটি দীর্ঘ স্ট্যাটাস দেন। তিনি লেখেন, "গত ১১ মাস ধরে আমার রাজনৈতিক বোঝাপড়া অনুযায়ী এনসিপির অতীত কর্মকাণ্ড বিশ্লেষণ ও ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নিয়ে যখনই সুযোগ পেয়েছি, তখনই দলের বিভিন্ন পর্যায়ে লিখিত অভিযোগ ও প্রস্তাব প্রদান এবং তর্ক-বিতর্ক বা আলাপ-আলোচনা করেছি।" তিনি আরও জানান, সংগঠনে নানা চড়াই-উৎরাই থাকলেও, দল যদি ভুল পথে যায়, সেই পথ থেকে রক্ষা করার চেষ্টা করা তার রাজনৈতিক কর্তব্য ছিল।
সামান্তা জানান, এনসিপির অভ্যন্তরে মতাদর্শিক সংগ্রামকেই তিনি বেছে নিয়েছিলেন। কারণ দলের গৃহীত নীতিগুলোকে স্বীকৃত ফোরামগুলোতে যুক্তিসঙ্গত উপায়ে চ্যালেঞ্জ করা ছাড়া দলকে ভুল পথ থেকে ফিরিয়ে আনার অন্য কোনো গণতান্ত্রিক পন্থা ছিল না। তিনি এই সংগ্রামের ইতি ঘোষণা করেছেন, কারণ তিনি মনে করেন, এনসিপির পক্ষে তার দলের প্রারম্ভের মূল্যবোধের প্রতি আর আন্তরিক হওয়া সম্ভব নয়। সামান্তা লেখেন, "পদত্যাগ করার জন্য আমি হয়তো আরও উপযোগী সময়ের জন্য অপেক্ষা করতে পারতাম, যখন দলের কোনও একটি সিদ্ধান্ত বা কর্মকাণ্ডের প্রতিক্রিয়া হিসেবে আমার পদত্যাগকে মূল্যায়ন করা সহজ হতো, কিন্তু আমি মনে করি এই অপেক্ষা অর্থহীন।" এনসিপি কখনও কখনও নানান ধরনের রাজনৈতিক ভূমিকা নিতে পারে, কিন্তু পুরোনো রাজনৈতিক ধাঁচের বাইরে নিজস্ব পরিচয়, চিন্তা ও কর্মসূচি তৈরি করতে পারবে বলে তিনি মনে করেন না। তিনি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলেন, "পুরোনো ব্যবস্থার রাজনৈতিক দল কখনই রাষ্ট্রের নতুন ব্যবস্থা আনার জন্য সহায়ক হবে না। বরং বাধা হয়ে দাঁড়াবে।"
এখন তিনি মনে করেন, দলের সঙ্গে যেসব মতপার্থক্য হয়েছে এবং আলাপ আলোচনা হয়েছে, সেসব বিষয় দলের সকল সদস্য এবং দলীয় কাঠামোর বাইরের শুভানুধ্যায়ীদের জানানো প্রয়োজন। তিনি লেখেন, "গণতান্ত্রিক সংস্কারের মূল জায়গা একটি উদার গণতান্ত্রিক সামাজিক মূল্যবোধ থেকে উৎসারিত।" অন্যদিকে, জামায়াত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার পরিপন্থী এবং গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের সব সুবিধা কাজে লাগিয়ে একটি ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে কাজ করছে। এ কারণে জামায়াতের রাজনৈতিক অভিপ্রায় পরিবর্তন হয়নি। ৭১’এ জামায়াতের ভূমিকাকে অপরাধ মনে না করা এবং এর জন্য জাতির কাছে ক্ষমা না চাওয়া- এই সাংগঠনিক ও দার্শনিক ভিত্তির ওপরই তাদের অবস্থান। এনসিপি যখন জামায়াতকে সংস্কারের পথে বন্ধু মনে করেছে, তখন বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ, যারা স্বভাবজাতভাবে উদার, গণতান্ত্রিক এবং সংস্কারের প্রকৃত শক্তি, তারা সংস্কারের রাজনীতি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে। এনসিপির নিজস্ব ও রাজনৈতিক লাইন স্পষ্ট না থাকায় জামায়াতের মধ্যে এনসিপিকে হারিয়ে যেতে হচ্ছে এবং জামায়াতের জন্য নানান ইস্যুতে প্রতিক্রিয়ামূলক ও সহায়ক ভূমিকা নিতে হচ্ছে। যেহেতু জনগণের আকাঙ্ক্ষা থেকে জন্ম নেওয়া দল এনসিপি, তাই তিনি বারবার দলকে এই সমস্যাগুলো সম্পর্কে সাবধান করে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেছেন।
আরও পড়ুন: কুলাউড়ায় বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে বসুন্ধরা শুভসংঘের সচেতনতামূলক আলোচনা সভা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন