ঢাকা শুক্রবার, ০৬ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২১শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৫শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ০৬ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২১শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

জাতীয় নাগরিক পার্টি থেকে সামান্তা শারমিনের পদত্যাগ


জাতীয় নাগরিক পার্টি থেকে সামান্তা শারমিনের পদত্যাগ

জাতীয় নাগরিক পার্টি থেকে পদত্যাগ করেছেন সামান্ত শারমিন। তিনি গতকাল বৃহস্পতিবার এক ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে এই তথ্য প্রকাশ করেন। ফেসবুক পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, "কিছুক্ষণ আগে জাতীয় নাগরিক পার্টি থেকে আমি পদত্যাগ করেছি।" প্রায় এক বছর আগে তিনি জাতীয় নাগরিক পার্টির জোট গঠনের বিষয়ে একটি ভিন্ন অবস্থান গ্রহণ করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, জামায়াত ইসলামী নীতিগত বা কৌশলগতভাবে মিত্র হওয়ার যোগ্য নয় এবং তাদের সঙ্গে জোট করার জন্য এনসিপিকে কঠিন মূল্য চুকাতে হবে। গত শুক্রবার এনসিপি ঘোষিত নতুন কমিটিতে তাকে শুধুমাত্র যুগ্ম আহ্বায়ক পদে রাখা হয়। এই কারণে সামান্তার পদাবনতি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়। এ বিষয়ে তিনি একটি দীর্ঘ স্ট্যাটাস দেন। তিনি লেখেন, "গত ১১ মাস ধরে আমার রাজনৈতিক বোঝাপড়া অনুযায়ী এনসিপির অতীত কর্মকাণ্ড বিশ্লেষণ ও ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নিয়ে যখনই সুযোগ পেয়েছি, তখনই দলের বিভিন্ন পর্যায়ে লিখিত অভিযোগ ও প্রস্তাব প্রদান এবং তর্ক-বিতর্ক বা আলাপ-আলোচনা করেছি।" তিনি আরও জানান, সংগঠনে নানা চড়াই-উৎরাই থাকলেও, দল যদি ভুল পথে যায়, সেই পথ থেকে রক্ষা করার চেষ্টা করা তার রাজনৈতিক কর্তব্য ছিল।

সামান্তা জানান, এনসিপির অভ্যন্তরে মতাদর্শিক সংগ্রামকেই তিনি বেছে নিয়েছিলেন। কারণ দলের গৃহীত নীতিগুলোকে স্বীকৃত ফোরামগুলোতে যুক্তিসঙ্গত উপায়ে চ্যালেঞ্জ করা ছাড়া দলকে ভুল পথ থেকে ফিরিয়ে আনার অন্য কোনো গণতান্ত্রিক পন্থা ছিল না। তিনি এই সংগ্রামের ইতি ঘোষণা করেছেন, কারণ তিনি মনে করেন, এনসিপির পক্ষে তার দলের প্রারম্ভের মূল্যবোধের প্রতি আর আন্তরিক হওয়া সম্ভব নয়। সামান্তা লেখেন, "পদত্যাগ করার জন্য আমি হয়তো আরও উপযোগী সময়ের জন্য অপেক্ষা করতে পারতাম, যখন দলের কোনও একটি সিদ্ধান্ত বা কর্মকাণ্ডের প্রতিক্রিয়া হিসেবে আমার পদত্যাগকে মূল্যায়ন করা সহজ হতো, কিন্তু আমি মনে করি এই অপেক্ষা অর্থহীন।" এনসিপি কখনও কখনও নানান ধরনের রাজনৈতিক ভূমিকা নিতে পারে, কিন্তু পুরোনো রাজনৈতিক ধাঁচের বাইরে নিজস্ব পরিচয়, চিন্তা ও কর্মসূচি তৈরি করতে পারবে বলে তিনি মনে করেন না। তিনি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলেন, "পুরোনো ব্যবস্থার রাজনৈতিক দল কখনই রাষ্ট্রের নতুন ব্যবস্থা আনার জন্য সহায়ক হবে না। বরং বাধা হয়ে দাঁড়াবে।"

এখন তিনি মনে করেন, দলের সঙ্গে যেসব মতপার্থক্য হয়েছে এবং আলাপ আলোচনা হয়েছে, সেসব বিষয় দলের সকল সদস্য এবং দলীয় কাঠামোর বাইরের শুভানুধ্যায়ীদের জানানো প্রয়োজন। তিনি লেখেন, "গণতান্ত্রিক সংস্কারের মূল জায়গা একটি উদার গণতান্ত্রিক সামাজিক মূল্যবোধ থেকে উৎসারিত।" অন্যদিকে, জামায়াত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার পরিপন্থী এবং গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের সব সুবিধা কাজে লাগিয়ে একটি ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে কাজ করছে। এ কারণে জামায়াতের রাজনৈতিক অভিপ্রায় পরিবর্তন হয়নি। ৭১’এ জামায়াতের ভূমিকাকে অপরাধ মনে না করা এবং এর জন্য জাতির কাছে ক্ষমা না চাওয়া- এই সাংগঠনিক ও দার্শনিক ভিত্তির ওপরই তাদের অবস্থান। এনসিপি যখন জামায়াতকে সংস্কারের পথে বন্ধু মনে করেছে, তখন বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ, যারা স্বভাবজাতভাবে উদার, গণতান্ত্রিক এবং সংস্কারের প্রকৃত শক্তি, তারা সংস্কারের রাজনীতি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে। এনসিপির নিজস্ব ও রাজনৈতিক লাইন স্পষ্ট না থাকায় জামায়াতের মধ্যে এনসিপিকে হারিয়ে যেতে হচ্ছে এবং জামায়াতের জন্য নানান ইস্যুতে প্রতিক্রিয়ামূলক ও সহায়ক ভূমিকা নিতে হচ্ছে। যেহেতু জনগণের আকাঙ্ক্ষা থেকে জন্ম নেওয়া দল এনসিপি, তাই তিনি বারবার দলকে এই সমস্যাগুলো সম্পর্কে সাবধান করে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেছেন।

আরও পড়ুন: কুলাউড়ায় বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে বসুন্ধরা শুভসংঘের সচেতনতামূলক আলোচনা সভা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অধ্যক্ষ মেহেরুন্নেছার পদত্যাগের দাবিতে ছাত্রীদের মধ্যরাতের বিক্ষোভ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৬ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:২৮ এম


অধ্যক্ষ মেহেরুন্নেছার পদত্যাগের দাবিতে ছাত্রীদের মধ্যরাতের বিক্ষোভ

রাজধানীর গভর্নমেন্ট কলেজ অব অ্যাপ্লায়েড হিউম্যান সায়েন্সের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মেহেরুন্নেছার পদত্যাগের দাবি নিয়ে শিক্ষার্থীরা মধ্যরাতে বিক্ষোভে অংশগ্রহণ করেছেন।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দিনভর অধ্যক্ষকে তার কার্যালয়ে অবরুদ্ধ রাখার পর, তারা রাতে সড়কে অবস্থান নেন।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, আবাসিক হলের দুই শিক্ষার্থীর আসন বাতিল ও জরিমানার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এ আন্দোলন শুরু হয়। তাদের দাবি, নির্ধারিত সময়ের পর অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠান চলায় দুই শিক্ষার্থীর আসন বাতিল করা হয়। পরে আসন ফিরিয়ে দেয়ার শর্তে এক রাতের বিদ্যুৎ ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার বিল বাবদ ১২ হাজার ৬০০ টাকা জরিমানা চাওয়া হয়। এ কারণে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ তুলে তারা তার পদত্যাগ দাবি করছেন।

এদিন সকাল সাড়ে ১০টা থেকে শিক্ষার্থীরা অধ্যক্ষকে তার নিজ কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরে রাত সাড়ে ১১টার দিকে পুলিশ এসে অধ্যক্ষকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়। এ সময় পুলিশের লাঠিচার্জে দুই ছাত্রী আহত হন বলে আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করেন।

এই ঘটনার পর শতাধিক ছাত্রী সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরে রাত আড়াইটা পর্যন্ত বিক্ষোভ চলার পর শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে ফিরে যান। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সকাল ৮টা থেকে আবার আন্দোলন শুরুর ঘোষণা দিয়েছেন তারা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঢাকায় আজকের নামাজের সময়সূচি: ০৬ নভেম্বর ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৬ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:২৮ এম


ঢাকায় আজকের নামাজের সময়সূচি: ০৬ নভেম্বর ২০২৬

নামাজ ইসলামের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হিসেবে বিবেচিত হয়। ইমানের পর নামাজই হলো সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ আমল। পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজের পাশাপাশি ইসলামের নফল সালাতেরও বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।

হাদিসে উল্লেখ রয়েছে, নামাজ মুমিন এবং অমুসলিমের মধ্যে প্রধান পার্থক্য নির্দেশ করে। এটি মানুষের সকল প্রকার পাপ ও অন্যায় থেকে বিরত রাখার পাশাপাশি আত্মিকভাবে পরিশুদ্ধ করে। তাই প্রতিদিনের কর্মব্যস্ততার মধ্যেও সময়মতো নামাজ আদায় করা প্রতিটি মুসলিমের জন্য অপরিহার্য দায়িত্ব।

জীবনকে সুশৃঙ্খল করার জন্য এবং মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি ও সান্নিধ্য অর্জনের জন্য পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের বিকল্প নেই। একজন মুমিনের জন্য নামাজ হলো আধ্যাত্মিক প্রশান্তি ও জীবনের বরকত লাভের সর্বোত্তম মাধ্যম। প্রতিদিন নির্ধারিত সময়ে নামাজ আদায় করা প্রতিটি মুসলমানের জন্য ফরজ। নিচে ঢাকা এবং এর পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য আজকের নামাজের সময়সূচি প্রদান করা হলো।

নামাজ ওয়াক্ত

তাহাজ্জুদ ও সেহরির শেষ সময় ০৪: ৪৯

ফজর ০৪: ৫০

জোহর ১১: ৪৩

আসর ০৩: ৪০

মাগরিব ০৫: ১৮

এশা ০৬: ৩৪

বিভাগীয় শহর অনুযায়ী সময় পরিবর্তন

ঢাকার সময়ের সঙ্গে দেশের বিভিন্ন জেলার সময়ের মধ্যে কিছুটা পার্থক্য বিদ্যমান। ঢাকার সময়ের সঙ্গে নিচের সময়গুলো যোগ বা বিয়োগ করে আপনার এলাকার সঠিক সময় নির্ধারণ করুন:

বিয়োগ করতে হবে

চট্টগ্রাম: ০৫ মিনিট

সিলেট: ০৬ মিনিট

যোগ করতে হবে

খুলনা: ০৩ মিনিট

রাজশাহী: ০৭ মিনিট

রংপুর: ০৮ মিনিট

বরিশাল: ০১ মিনিট

নামাজ আমাদের জীবনের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। এটি আমাদের দৈহিক পবিত্রতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি আত্মাকে পরিশুদ্ধ করে। আজকের নামাজের সময়সূচি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, জীবনের ব্যস্ততা যতই থাকুক না কেন, আল্লাহর জন্য সময় বের করা আমাদের প্রধান দায়িত্ব।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হারমিত ধিলন বিচার বিভাগের পদত্যাগ করেছেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ৬ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:৩৭ এম


ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হারমিত ধিলন বিচার বিভাগের পদত্যাগ করেছেন

যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের নাগরিক অধিকার বিভাগের প্রধান হারমিত ধিলন পদত্যাগ করেছেন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত ধিলন তার দায়িত্ব পালনকালে বিভাগটির কার্যক্রমে ব্যাপক পরিবর্তন আনেন। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দেশটির অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্লাঞ্চ তার পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার পর ট্রাম্প প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে ধিলন প্রথম পদত্যাগকারীদের একজন। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

পদত্যাগপত্রে ধিলন উল্লেখ করেন, গত অক্টোবরেই তিনি হোয়াইট হাউসকে পদ ছাড়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন। পদত্যাগের পর তিনি নিজের আইন প্রতিষ্ঠান ‘দ্য ধিলন ল গ্রুপে’ ফিরে যাবেন বলে তাঁর মুখপাত্র জানিয়েছেন।

ধিলনের নেতৃত্বে বিচার বিভাগের নাগরিক অধিকার বিভাগে বড় ধরনের পুনর্গঠন করা হয়। ঐতিহাসিকভাবে বিভাগটি ভোটাধিকার সুরক্ষা এবং বর্ণবৈষম্যবিরোধী আইন বাস্তবায়নে কাজ করত। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের অগ্রাধিকার অনুযায়ী এর কার্যক্রমে পরিবর্তন আনা হয়। বিশেষ করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বৈচিত্র্য, সমতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উদ্যোগ (ডিইআই) চ্যালেঞ্জ করা, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ইহুদিবিদ্বেষের অভিযোগ তদন্ত এবং অস্ত্র বহনের অধিকারসংক্রান্ত মামলা গুরুত্ব পায়।

এসব পরিবর্তনের ফলে বিভাগটির দীর্ঘদিনের কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়। একপর্যায়ে অনেক অভিজ্ঞ কর্মকর্তা চাকরি ছেড়ে দেন। ধিলনের অভিযোগ ছিল, বিভাগের আইনজীবীরা আগে উদারপন্থীদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দিতেন এবং ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি বাস্তবায়নে অনাগ্রহী ছিলেন।

পদত্যাগের ঘোষণায় নিজের দায়িত্বকালকে সফল হিসেবে তুলে ধরেছেন ধিলন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি লেখেন, অবৈধ ডিইআই কার্যক্রমের পতন ঘটানো এবং নারীদের ও মেয়েদের খেলাধুলার অধিকার সুরক্ষায় তারা লড়াই করেছেন। এ জন্য ট্রাম্পের প্রতি কৃতজ্ঞতাও জানান তিনি।

তবে সংশ্লিষ্ট দুটি সূত্রের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, বিচার বিভাগে পদোন্নতি না পাওয়ায় ধিলন হতাশ ছিলেন। এ কারণে নিজের আইন প্রতিষ্ঠানকে নতুন করে শক্তিশালী করতে তিনি সেখানে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে চাপ ও বিতর্কিত তদন্ত

ধিলনের নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েক ডজন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে বিচার বিভাগের নাগরিক অধিকার বিভাগ। এসব তদন্তের মূল বিষয় ছিল ইহুদিবিদ্বেষ, বৈচিত্র্য ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নীতি এবং হিজড়া ব্যক্তিদের অধিকারসংক্রান্ত অভিযোগ।

এসব তদন্তের ফলে দেশটির কয়েকটি নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছ থেকে শত শত মিলিয়ন ডলারের সমঝোতা আদায় করে ট্রাম্প প্রশাসন। ভার্জিনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্টকেও পদত্যাগ করতে হয়। তবে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় বড় অঙ্কের অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে প্রশাসনের বিরুদ্ধে আদালতে একাধিক মামলা করে।

মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে অ-নাগরিকদের ভোট দেওয়া ঠেকানোর প্রচেষ্টায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বিভাগটি। যদিও স্বাধীন পর্যালোচনায় দেখা গেছে, দেশটিতে অ-নাগরিকদের ভোট দেওয়ার ঘটনা অত্যন্ত বিরল। ভোটারদের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহের জন্য বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের বিরুদ্ধে বিচার বিভাগ একাধিক মামলা করলেও সেগুলোতে হেরে যায়। মঙ্গলবারের নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র পর্যবেক্ষণের জন্য প্রায় এক হাজার কর্মীও মোতায়েন করা হয়েছিল।

এ ছাড়া ট্রাম্পের সমালোচক হিসেবে পরিচিত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও বিভিন্ন মামলায় যুক্ত ছিল বিভাগটি। গত জানুয়ারিতে মিনেসোটায় ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসনবিরোধী অভিযানের প্রতিবাদে একটি গির্জার উপাসনাকর্মে বাধা দেওয়ার অভিযোগে সাবেক সিএনএন উপস্থাপক ডন লেমনসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করে বিভাগটি।

এ ছাড়া ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি মার্কিন ক্যাপিটলে হামলার দিন ট্রাম্পের ভূমিকা নিয়ে কংগ্রেসে সাক্ষ্য দেওয়া সাবেক হোয়াইট হাউস সহযোগী ক্যাসিডি হাচিনসনের বিরুদ্ধেও ফৌজদারি অভিযোগ আনার চেষ্টা করেছিল বিভাগটি। তবে সেই চেষ্টা সফল হয়নি।

অন্যদিকে, নাগরিক অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন জাস্টিস কানেকশনের প্রধান স্টেসি ইয়ং ধিলনের কর্মকাণ্ডের কঠোর সমালোচনা করেছেন। তার ভাষায়, প্রায় ৭০ বছর ধরে নাগরিক অধিকার বিভাগ মার্কিন নাগরিকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে অধিকার সুরক্ষার আইন বাস্তবায়নে কাজ করেছে। কিন্তু ধিলন সেই প্রতিষ্ঠানকে কার্যত ধ্বংস করে দিয়েছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে অভ্যুত্থান চেষ্টার অভিযোগ, তদন্ত চলছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ৬ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:৩৮ এম


নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে অভ্যুত্থান চেষ্টার অভিযোগ, তদন্ত চলছে

ক্ষমতা ছাড়তে রাজি নন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, নির্বাচনে পরাজয়ের পরও। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে, ভোটের ফল পাল্টাতে দেশটির অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা শিন বেতকে ব্যবহার করা হচ্ছে। বিরোধী রাজনীতিক এবং বিশ্লেষকেরা এই ঘটনার প্রেক্ষিতে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে অভ্যুত্থানচেষ্টার অভিযোগ তুলেছেন।

মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আইয়ের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ফিলিস্তিনি ভোটারদের ভোট নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে শিন বেত। এই তদন্তের নেতৃত্ব দিচ্ছেন সংস্থাটির প্রধান ডেভিড জিনি। নির্বাচনে জালিয়াতি, ঘুস এবং বিদেশি হস্তক্ষেপের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে, এসব অভিযোগের পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো প্রমাণ প্রকাশ করা হয়নি।

সমালোচকদের মতে, ফিলিস্তিনিপন্থী রাজনৈতিক দল রা'আম ও জয়েন্ট লিস্টের নির্বাচনী সাফল্যকে প্রশ্নবিদ্ধ করতেই এই তদন্ত শুরু হয়েছে। উল্লেখ্য, উক্ত দল দুটি ইসরাইলের পার্লামেন্ট নেসেটে সম্মিলিতভাবে রেকর্ড ১৯টি আসন লাভ করেছে। নেতানিয়াহুর ক্ষমতায় টিকে থাকার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই এসব পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হচ্ছে।

মঙ্গলবার, শিন বেত মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আইয়ের প্রতিবেদক আবদ আবু শাহাদেহকে গ্রেপ্তার করে। তাঁর বিরুদ্ধে নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট তদন্তের কথা জানানো হয়েছে। এছাড়াও, ফিলিস্তিনি রাজনৈতিক নেতা আহমাদ তিবি, সামি আবু শাহাদেহ, মানসুর আব্বাস ও আয়মান ওদেহকে জিজ্ঞাসাবাদের পরিকল্পনা করছে গোয়েন্দা সংস্থাটি, এমন খবর প্রকাশ করেছে ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম।

ইসরাইল বিরোধী দল ডেমোক্র্যাটস পার্টির নেতা ইয়ার গোলান সতর্ক করে বলেছেন, দেশের গণতন্ত্র বর্তমানে হুমকির মুখে রয়েছে। বুধবার তিনি অভিযোগ করেন যে, পুলিশ বিনা পরোয়ানায় রাজনৈতিক কর্মীদের আটক করছে। শিন বেত নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের জিজ্ঞাসাবাদের চেষ্টা করছে, কোনো প্রমাণ ছাড়াই। একই সঙ্গে বিদায়ী সরকার নির্বাচনের ফল মেনে নিতে অস্বীকার করছে।

পরে, গোলান নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে অভ্যুত্থানের চেষ্টা এবং জোর করে ক্ষমতা দখলের অভিযোগ তোলেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধী নেতা ইয়ার লাপিদও একই ধরনের অভিযোগ করেছেন। তিনি মঙ্গলবার বলেন, নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানের ভেতরে থাকা সরকারের অনুগত ব্যক্তিদের সহযোগিতায় নেতানিয়াহু গণতন্ত্রকে ধ্বংস এবং নির্বাচনের ফল চুরি করার চেষ্টা করছেন।

বিরোধী জোটের নেতা গাদি আইজেনকোটও নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে ইসরাইলের গণতন্ত্রকে পরিকল্পিতভাবে দুর্বল করার অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর মতে, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে সহিংসতায় উসকানি, রাজপথে উত্তেজনা সৃষ্টি এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে দুর্বল করার মাধ্যমে এই প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে।

ইসরাইলের সংবাদমাধ্যম হারেৎজের সাংবাদিক আমোস হেরেলও নেতানিয়াহুর কর্মকাণ্ডকে অভ্যুত্থানের চেষ্টা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাঁর মতে, প্রধানমন্ত্রী, তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং নিরাপত্তা ও সংবাদমাধ্যমের কিছু অংশ মিলে দেশটিকে ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুতর সাংবিধানিক সংকটের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

এদিকে, বুধবার ইসরায়েলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনের ফল প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের কাছে হস্তান্তর করেছে। পাশাপাশি, ব্যাপক নির্বাচনী জালিয়াতির অভিযোগও কমিশন নাকচ করেছে।

তবে, শিন বেতের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। সংস্থাটির তদন্ত সম্পর্কে অবগত একটি সূত্র ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম ওয়াইনেটকে জানিয়েছে, এসব তদন্তের পক্ষে প্রাথমিক পর্যায়ের প্রমাণও নেই। কোনো আইনপ্রণেতাকে তদন্তের আওতায় আনতে হলে অনুমানের চেয়ে অনেক বেশি তথ্য-প্রমাণ প্রয়োজন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, নির্বাচনী জালিয়াতির অভিযোগে এক হাজারের বেশি অভিযোগ পর্যালোচনা করেছে শিন বেত। কিন্তু একটিকেও বিশ্বাসযোগ্য বলে বিবেচনা করা হয়নি।

হারেৎজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্বাচনের আগে এ-সংক্রান্ত মাত্র একটি তদন্ত শুরু হয়েছিল। নেতানিয়াহুর জোট নির্বাচনে হেরে যাচ্ছে, তা স্পষ্ট হওয়ার পর বাকি তদন্তগুলো শুরু হয়।

শিন বেতের প্রধান ডেভিড জিনি গত বছর নেতানিয়াহুর নিয়োগ পেয়েছিলেন। তাঁর কট্টর ডানপন্থী অবস্থান এবং ইসরাইলের বসতি স্থাপনকারী আন্দোলনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নিয়ে শুরু থেকেই সমালোচনা রয়েছে।

ইসরাইলের সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১৩-এর এক সূত্র অভিযোগ করেছে, জিনি কোনো প্রমাণ ছাড়াই বিভিন্ন ব্যক্তির নাম সামনে আনছেন এবং ক্ষমতাসীন লিকুদ পার্টির বক্তব্যের প্রতিধ্বনি করছেন। এতে কয়েক দশকের মধ্যে শিন বেতের প্রতি সবচেয়ে বড় আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে।

এদিকে, চ্যানেল ১২-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্বাচনের পর শিন বেতের তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছেন সংস্থাটির উপপ্রধান। তিনি নেতানিয়াহুর ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত। তদন্তকারীদের বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত প্রমাণ না থাকা সত্ত্বেও সন্দেহভাজনদের জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।

সূত্র: মিডল ইস্ট আই

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৫শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫০
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪১
মাগরিব ০৫:১৭
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৭ সূর্যাস্ত : ০৫:১৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%