শুক্রবার, ১১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৭:৫৭ পি.এম
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবং জাতীয় নাগরিক পাটির (এনসিপি) ১১ দলীয় ঐক্য জোট ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত লংমার্চ এবং পথসভা আয়োজন করেছে। তারা আগামী দুই মাসের মধ্যে আরও তিনটি বিভাগে একই ধরনের কর্মসূচি পরিচালনা করার পরিকল্পনা করেছে। কর্মসূচির শেষে নভেম্বরে ঢাকায় একটি মহাসমাবেশ আয়োজনের কথাও রয়েছে। খবরটি বিবিসির মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
৫ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে লংমার্চের পথে বিভিন্ন স্থানে পথসভা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে জোটের নেতারা ছয় দফা বাস্তবায়নের দাবি তুলে ধরেন।
প্রথম দিনের কর্মসূচিতে এমন মন্তব্য উঠে আসে যে, লংমার্চে যদি বাধা দেওয়া হয় বা দাবিগুলো পূরণ না করা হয়, তাহলে সরকার পতনের একদফা ঘোষণা করা হবে।
ঢাকায় কর্মসূচির শুরুতে অনুষ্ঠিত সমাবেশে, জোটের অন্যতম শরিক দল এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, "যদি সরকার লংমার্চে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে, তাহলে ‘ছয় দফা এক দফায় পরিণত হবে’।"
অন্যদিকে, লালদিঘীর সমাবেশে এগার দলীয় জোটের প্রধান দল জামায়াতে ইসলামী প্রধান শফিকুর রহমান সরকারকে সতর্ক করেন, বিরোধী দলের আন্দোলন "ঈদের পরের আন্দোলন হবে না।"
সরকারের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া প্রকাশিত হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পূর্বে এই কর্মসূচিকে ইঙ্গিত করে বলেন, জনগণকে বিভ্রান্ত করে অরাজকতা তৈরির চেষ্টা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে তিনি মন্তব্য করেন, "আমরা দেখলাম, একটি বিশাল গাড়ির লংমার্চ আয়োজন করা হয়েছিল। বাইরে বিভিন্ন মানুষ একটি কথা বলে যে জনগণকে অযথা উত্তেজিত করে অন্য কিছু করার অপচেষ্টা করা হয়েছিল কিনা? যদি গ্যাস বা বিদ্যুতের সমস্যার সমাধান করতে গাড়ির লংমার্চ করা যেত, তাহলে আমরাই সবচেয়ে আগে লংমার্চের আয়োজন করতাম।"
এ ধরনের বক্তব্যের পর প্রশ্ন উঠছে, এ লংমার্চ কর্মসূচির মাধ্যমে বিরোধী দল কি সরকারকে বড় আন্দোলনের চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিতে চায়?
সরকার কেন সন্দেহ করছে?
জামায়াত-এনসিপির কর্মসূচির দিনেই ঢাকায় বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেখানে তিনি অভিযোগ করেন, দেশে অরাজকতার চেষ্টা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, "আমরা খেয়াল করছি কিছু রাজনৈতিক দল, কিছু ব্যক্তি, বিভিন্নভাবে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে এবং বিভ্রান্তি তৈরির মাধ্যমে দেশে একটি অরাজকতা তৈরির চেষ্টা করছে। কেউ যদি অরাজকতা সৃষ্টি করতে চায়, অবশ্যই দেশের আইনে বলা আছে কীভাবে অরাজকতাকে কন্ট্রোল করতে হবে।"
পরদিন দলের পক্ষ থেকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বিরোধী দলের কর্মসূচির সমালোচনা করেন।
কিন্তু সরকারের এমন সমালোচনা বা সন্দেহের কারণ কী? কিংবা বিরোধী দলের কর্মসূচি নিয়েই বা কেন উদ্বিগ্ন? এ বিষয়ে দুটি বিষয় উঠে আসছে।
প্রথমত, সরকার মাত্র ছয় মাস পার করেছে। এর মধ্যেই বিএনপি এই আন্দোলনের যৌক্তিকতা দেখছে না।
দ্বিতীয়ত, কর্মসূচি ঘিরে সম্ভাব্য ‘অস্থিরতা সৃষ্টির তথ্য’ রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী মো. রাশেদ খাঁন বলেন, জামায়াতের এ লংমার্চকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ এক ধরনের সুযোগ নিতে চেয়েছিল। এ লংমার্চের মধ্যে ঢুকে তারা এক ধরনের অঘটন ঘটাবে। এখানে সরকারের কাছে তথ্য ছিল। তাই সরকারের পক্ষ থেকে, প্রশাসনের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছিল যাতে করে সরকার পতন কিংবা সরকারকে দায় চাপানোর রাজনীতি কেউ করতে না পারে।
তার মতে, গণভোটসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রতারণা করে গেছে এবং এর বাইরে আওয়ামী লীগ সরকারের ষোল বছরের যে ‘অব্যবস্থাপনা’ সেটার দায় বিএনপির নয়।
তবে জামায়াত এসবের দায় ‘বিএনপির উপর চাপিয়ে চাপিয়ে লংমার্চ কর্মসূচি করছে’ বলেও তিনি মনে করেন।
‘বড় আন্দোলনের’ পথ তৈরি করছে জামায়াত?
লংমার্চে জামায়াত নেতৃত্বাধীন এগার দলীয় জোট থেকে মূলত ছয়টি দাবি তুলে ধরা হয়েছে।
এগুলো হলো গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ-তেল-গ্যাসের সংকট, দুর্নীতি-দলীয়করণ বন্ধ করা এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন।
কিন্তু সরকারের ছয় মাস পার হতে না হতেই এসব দাবি সামনে রেখে বড় ধরনের কর্মসূচিকে সন্দেহ করছে বিএনপি।
আবার জামায়াতের কর্মসূচি থেকেও স্পষ্ট যে, এসব কর্মসূচির মাধ্যমে তারা সরকারকে রাজপথেও চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেওয়ার পথ তৈরি করতে চায়।
জোটের ঘোষণা অনুযায়ী, পরবর্তী লংমার্চ হবে ঢাকা থেকে রংপুর অভিমুখে ১৯ সেপ্টেম্বর। এরপর খুলনায় ১০ অক্টোবর। আর ২৪ অক্টোবর লংমার্চ হবে সিলেটে।
বিভাগীয় শহরে চারটি লংমার্চ শেষে নভেম্বরে ঢাকায় হবে মহাসমাবেশ। সেখান থেকে আসবে পরবর্তী কর্মসূচি বা ঘোষণা।
কিন্তু বিএনপি সরকার ক্ষমতা নেওয়ার মাত্র ছয় মাস হতেই কেন এরকম ধারাবাহিক কর্মসূচিতে যাচ্ছে এগার দলীয় জোট?
জাতীয় নাগরিক পার্টির সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেন, সরকার একেবারে প্রথম দিনেই গণভোটের রায়কে অস্বীকার করেছে। যেকোনো সরকারের কিছু সময় যাওয়ার পরে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের বিষয়গুলো আসে। কিন্তু এই সরকারের ক্ষেত্রে বিষয়টা এমন নয়। তারা একেবারে শুরুর দিনেই যে রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি ছিল যে, গণভোটের গণরায়কে তারা বাস্তবায়ন করবে- এটাকে তারা অস্বীকার করেছে।
তার মতে, পরিস্থিতিই তাদের আন্দোলনের দিকে ঠেলে দিয়েছে।
অন্যদিকে একইরকম মত দেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
তিনি বলেন, প্রেসিডেন্সিয়াল অর্ডারে দুটো ম্যান্ডেটরি টাইম ছিল। সংসদের প্রথম অধিবেশন যেদিন শুরু হবে, তার ৩০ দিনের মধ্যে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন ডাকতে হবে। আপনি ডাকেননি। ছয় মাসের মধ্যে জুলাই চার্টার বাস্তবায়ন করে সংবিধানে তফশিল অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। এই সেপ্টেম্বরে সেই ছয় মাসও শেষ হয়ে যাচ্ছে।
মিয়া গোলাম পরওয়ার মনে করেন, সরকার গণভোটের রায় কিংবা জুলাই সনদের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন তো করছেই না বরং ‘ইচ্ছেমতো চলার’ প্রবণতা তৈরি হয়েছে। যেকোনো আইন পাশ থেকে শুরু করে সবখানেই এটা দেখা যাচ্ছে। সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে আপনি যা ইচ্ছা, তা-ই করে যাবেন, এজন্য তো লোকেরা আপনাদের ভোট দেয়নি। আর আপনি যদি ৫০ শতাংশ ভোট পেয়ে মেজরিটি হন, তাহলে গণভোটে তো প্রায় ৭০ শতাংশ হ্যাঁ ভোটের পক্ষে পড়েছে। সেটা মানবেন না?
আন্দোলনের যৌক্তিকতা নিয়ে তিনি বলেন, "এখন এই যে, বলা হচ্ছে মাত্র ছয় মাস হলো, এখন এমন কী হয়েছে! ...কিন্তু এতোগুলো প্রাণের বিনিময়ে যে গণআকাঙ্ক্ষা, আপনি তাকে অস্বীকার করে যাচ্ছেন! এর চেয়ে বড় আর কী হতে পারে?
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এমপির গাড়ি সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হওয়ার খবর সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে জানানো হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী আজ শুক্রবার নির্ধারিত কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের পর সন্ধ্যা ৭টায় ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। তার গাড়ি কোনো ধরনের সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হয়নি।
কোনো মহল কী উদ্দেশ্যে এ ধরনের গুজব ও মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে, তা আমাদের বোধগম্য নয়। এ ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার থেকে সবাইকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হচ্ছে।
সম্মানিত সাংবাদিকদের প্রতি অনুরোধ, যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো গুজব বা অসত্য তথ্য প্রচার না করার অনুরোধ রইল।
এদিকে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে যে, বগুড়ার শিবগঞ্জে মীর শাহে আলমের গাড়িতে সিমেন্টবোঝাই ট্রাকের ধাক্কা লেগেছে। এতে প্রতিমন্ত্রীর গাড়ির একটি দরজা আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে দুর্ঘটনার সময় গাড়িতে ছিলেন না প্রতিমন্ত্রী। শুক্রবার বিকাল ৩টার দিকে উপজেলা হাসপাতালের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। পরে ট্রাকের চালকের সহকারী (হেলপার) শাকিলকে আটক করে পুলিশ। ট্রাকটিও হেফাজতে নেওয়া হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সিঙ্গাপুরের একজন ব্যবসায়ী প্রেমিকার পেছনে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করেছিলেন। দামি উপহার, বিদেশ ভ্রমণ, ফেংশুই বিশেষজ্ঞের পারিশ্রমিক এবং জীবনবিমার প্রিমিয়ামসহ মোট খরচ দাঁড়িয়েছে ৪ লাখ ৬৮ হাজার সিঙ্গাপুর ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ৪ কোটি ৫৫ লাখ ৯৯ হাজার ৫৯৭ টাকা (১ সিঙ্গাপুর ডলার ৯৭.৪৪ টাকা) হিসেবে গণনা করা হয়েছে।
সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর ওই ব্যক্তি আদালতের শরণাপন্ন হন এবং তিনি সেই অর্থ ফেরত চাওয়ার চেষ্টা করেন। তবে তার এই প্রচেষ্টা সফল হয়নি। সিঙ্গাপুরের হাইকোর্টের রায়ে বলা হয়েছে, তিনি স্বেচ্ছায় ওই অর্থ খরচ করেছেন এবং ঋণ হিসেবে দেখানোর জন্য যথেষ্ট প্রমাণ তিনি উপস্থাপন করতে পারেননি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মামলার বাদী চন্দর আগরওয়াল একটি লজিস্টিকস প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। ২০১৯ সালে একটি ফ্লাইটে সাবেক ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট ফেলিসিয়া লির সঙ্গে তার পরিচয় ঘটে। পরে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৩ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
সম্পর্কের সময় আগরওয়াল নিয়মিতভাবে লিকে দামি উপহার দিতেন। আদালতে তিনি দাবি করেন, লি বিভিন্ন সময় তার কাছে সুদমুক্ত ঋণ চেয়েছিলেন। এসব অর্থের মধ্যে ক্রেডিট কার্ডের খরচ বাবদ ২ লাখ ৬ হাজার সিঙ্গাপুর ডলার, বিদেশ ভ্রমণে ১ লাখ ২৯ হাজার ডলার, ফেংশুই বিশেষজ্ঞ নিয়োগে ১৭ হাজার ডলার এবং জীবনবিমার প্রিমিয়াম বাবদ ২০ হাজার ডলার অন্তর্ভুক্ত ছিল।
তবে লি আদালতে বলেন, এসব অর্থ তিনি ঋণ হিসেবে নেননি। এগুলো ছিল সম্পর্কের কারণে দেওয়া উপহার। ২০২৪ সালের মার্চে আগরওয়াল মামলাটি দায়ের করেন। তার দাবি ছিল, সম্পর্ক চলাকালে দেওয়া অর্থ তাকে ফেরত দিতে হবে।
সিঙ্গাপুরের হাইকোর্টের প্রধান বিচারক লি সিউ কিন আগরওয়ালের দাবি নাকচ করে দেন। বিচারক বলেন, কথিত ঋণের পক্ষে প্রয়োজনীয় নথিপত্র বা প্রমাণ আগরওয়াল উপস্থাপন করতে পারেননি। এমনকি লি যে তার কাছ থেকে ঋণ নিয়েছেন, তার স্বীকৃতিও তিনি দেখাতে পারেননি।
বিচারকের পর্যবেক্ষণ ছিল, সম্পর্কের সময় আগরওয়াল লিকে দামি উপহার দেওয়ার একটি ধারাবাহিক প্রবণতা দেখিয়েছেন। এমনকি তাদের প্রেমের সম্পর্ক শুরুর আগেও তিনি তাকে উপহার দিতেন এবং এসব অর্থ ফেরত চান না বলে আশ্বস্ত করেছিলেন।
বিচারক আরও বলেন, প্রমাণে স্পষ্ট যে- আগরওয়াল লির প্রতি আকৃষ্ট হয়ে সম্পর্কের সময় তাকে দামি উপহার দিয়েছেন। কিন্তু সম্পর্কটি তিক্তভাবে শেষ হওয়ার পর তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন এবং তার কাছ থেকে এর মূল্য আদায় করতে চেয়েছিলেন।
রায়ে আরও উল্লেখ করা হয়, আগরওয়াল আর্থিকভাবে স্বচ্ছল এবং তার জীবনযাপনে ব্যয়ের প্রবণতা ছিল। অন্যদিকে লি তার মতো আর্থিক সামর্থ্যের অবস্থানে ছিলেন না। আদালত আরও উল্লেখ করে যে, বিভিন্ন খুদে বার্তায় লি আগরওয়ালের দামি উপহারের প্রস্তাবে বিস্ময় প্রকাশ করেছিলেন। কখনো কখনো তিনি স্বতঃস্ফূর্তভাবে এসব উপহার নিতে অনীহাও দেখিয়েছিলেন।
রায়ের শেষাংশে বিচারক ইংরেজ নাট্যকার উইলিয়াম কংগ্রিভের একটি বিখ্যাত পঙ্ক্তি উদ্ধৃত করেন। ‘প্রেম ঘৃণায় পরিণত হলে স্বর্গেও তার মতো তীব্র কোনো রোষ নেই; আর অবহেলিত নারীর ক্ষোভের মতো ভয়ংকর কোনো ক্রোধ নরকেও নেই।’ ওই পঙ্ক্তির পর বিচারক মন্তব্য করেন, এমন আবেগ শুধু কোনো একটি লিঙ্গের মানুষের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়।
সিঙ্গাপুরে প্রেম ও প্রত্যাখ্যানকে কেন্দ্র করে আদালতে এমন মামলা অবশ্য নতুন নয়। ২০২৩ সালের শুরুর দিকে আরেক সিঙ্গাপুরের নাগরিক এক নারীর বিরুদ্ধে দুটি মামলা করেছিলেন। তার দাবির পরিমাণ ছিল ৩০ লাখ সিঙ্গাপুর ডলারের বেশি। ওই নারী তার প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।
কে কাওশিগান নামের ওই ব্যক্তি দাবি করেছিলেন, ওই নারীর প্রত্যাখ্যানের কারণে তিনি মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং তার সুনামও ক্ষুণ্ন হয়েছে। তবে সিঙ্গাপুরের আদালত তার মামলা খারিজ করে দেন। পরে ওই নারীও কাওশিগানের বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা করেন। নিজেকে কথিত হয়রানি থেকে রক্ষায় আইনি লড়াই চালাতে যে অর্থ খরচ হয়েছে, তা ফেরত চেয়েছিলেন তিনি।
সূত্র: বিবিসি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইংল্যান্ড সফরের সময় পাকিস্তান দলের অভ্যন্তরীণ তথ্য ফাঁস এবং খেলোয়াড়দের যোগাযোগ সংক্রান্ত তদন্তের অংশ হিসেবে মোহাম্মদ রিজওয়ান ও ইমাম উল হককে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দেশটির ন্যাশনাল সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এনসিসিআইএ)। পাকিস্তানের এই দুই ক্রিকেটার বিস্তারিত জবাব দেওয়ার জন্য সময় চেয়েছেন।
পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম জিও নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার লাহোরের জোহর টাউনে এনসিসিআইএর কার্যালয়ে পৌঁছান রিজওয়ান ও ইমাম। বিকেল ৩টার দিকে সেখানে পৌঁছানোর পর প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
ইংল্যান্ড সফরের সময় পাকিস্তান দলের নিরাপত্তা কর্মকর্তা কয়েক ঘণ্টার জন্য রিজওয়ান ও ইমামের মোবাইল ফোন নিজেদের হেফাজতে নিয়েছিলেন। পরে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) খেলোয়াড়দের ফোন ও বিভিন্ন যোগাযোগ খতিয়ে দেখার উদ্যোগ নেয়। এরই ধারাবাহিকতায় দেশে ফেরার পর দুই ক্রিকেটারকে সাইবার ক্রাইম সংস্থার কাছে তলব করা হয়।
জিও নিউজ জানিয়েছে, তদন্তের মূল উদ্দেশ্য হল ড্রেসিংরুমের তথ্য বাইরে চলে যাচ্ছে কি না, ইংল্যান্ডে অনুশীলন ও ম্যাচের সময় খেলোয়াড়দের যোগাযোগ এবং বিভিন্ন বৈঠক সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম দুই টেস্টে হারের পর পাকিস্তান দল থেকে সাত ক্রিকেটারকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়। রিজওয়ান ও ইমামের সঙ্গে সেই তালিকায় ছিলেন অধিনায়ক সালমান আলী আঘাও। সফরের সময় দলের কর্মকাণ্ড এবং কয়েকজন ব্যক্তির সঙ্গে খেলোয়াড়দের কথিত যোগাযোগ নিয়েও তদন্ত চলছে বলে পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এনসিসিআইএর কার্যালয়ে যাওয়ার আগে পিসিবির সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন রিজওয়ান ও ইমাম। জিজ্ঞাসাবাদের সময় তারা তদন্তকারী কর্মকর্তাদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিলেও বিস্তারিত জবাব দেওয়ার জন্য আরও সময় চেয়েছেন।
এদিকে, তৃতীয় একজন ক্রিকেটারকেও এনসিসিআইএ তলব করেছে বলে জানা গেছে, তবে তার নাম প্রকাশ করা হয়নি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পাবনার সদর উপজেলার চর তারাপুর ইউনিয়নের নবীন বাজার দাশপাড়া গ্রামে জমিতে জমে থাকা পানিতে গোসল করতে গিয়ে ভাইবোনসহ তিন শিশুর মৃত্যু ঘটেছে। শুক্রবার দুপুর ২ টার দিকে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। তিনটি শিশুর একসঙ্গে মৃত্যুর ঘটনায় গ্রামটিতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিহত শিশুদের মধ্যে রয়েছে দাশপাড়া গ্রামের শিমুল মল্লিকের মেয়ে সুমি খাতুন (৭), মো. আশরাফুল ইসলামের ছেলে খালিদ হোসেন (৮) এবং আফিয়া খাতুন (৬), যারা একই গ্রামের বাসিন্দা। তারা স্থানীয় একটি কিন্ডারগার্টেনের শিক্ষার্থী ছিল।
স্থানীয়দের মতে, শুক্রবার দুপুরে শিশুরা বাড়ির পাশের জমিতে জমে থাকা বর্ষার পানিতে গোসল করতে নেমেছিল। একপর্যায়ে একজন শিশু পানিতে তলিয়ে গেলে, তাকে উদ্ধারের জন্য অন্য দুজনও পানিতে ঝাঁপ দেয়। এ সময় তারা তিনজনই পানিতে ডুবে যায়। পরে স্থানীয়রা তিন শিশুকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু সুজানগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পৌঁছানোর পথে তাদের মৃত্যু হয়।
এদিকে, তিন শিশুর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর দাশপাড়া গ্রামে শোকের আবহ বিরাজ করছে। স্বজনদের আহাজারিতে এলাকা ভারী হয়ে উঠেছে।
পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। শিশুদের মরদেহ বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকলে আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ