ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

সাইবার ক্রাইমের জিজ্ঞাসাবাদে ইমাম ও রিজওয়ান


সাইবার ক্রাইমের জিজ্ঞাসাবাদে ইমাম ও রিজওয়ান

ইংল্যান্ড সফরের সময় পাকিস্তান দলের অভ্যন্তরীণ তথ্য ফাঁস এবং খেলোয়াড়দের যোগাযোগ সংক্রান্ত তদন্তের অংশ হিসেবে মোহাম্মদ রিজওয়ান ও ইমাম উল হককে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দেশটির ন্যাশনাল সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এনসিসিআইএ)। পাকিস্তানের এই দুই ক্রিকেটার বিস্তারিত জবাব দেওয়ার জন্য সময় চেয়েছেন।

পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম জিও নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার লাহোরের জোহর টাউনে এনসিসিআইএর কার্যালয়ে পৌঁছান রিজওয়ান ও ইমাম। বিকেল ৩টার দিকে সেখানে পৌঁছানোর পর প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

ইংল্যান্ড সফরের সময় পাকিস্তান দলের নিরাপত্তা কর্মকর্তা কয়েক ঘণ্টার জন্য রিজওয়ান ও ইমামের মোবাইল ফোন নিজেদের হেফাজতে নিয়েছিলেন। পরে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) খেলোয়াড়দের ফোন ও বিভিন্ন যোগাযোগ খতিয়ে দেখার উদ্যোগ নেয়। এরই ধারাবাহিকতায় দেশে ফেরার পর দুই ক্রিকেটারকে সাইবার ক্রাইম সংস্থার কাছে তলব করা হয়।

আরও পড়ুন: দেশবাসী তাকিয়ে আছে কবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পদত্যাগ করবেন: নাহিদ ইসলাম

জিও নিউজ জানিয়েছে, তদন্তের মূল উদ্দেশ্য হল ড্রেসিংরুমের তথ্য বাইরে চলে যাচ্ছে কি না, ইংল্যান্ডে অনুশীলন ও ম্যাচের সময় খেলোয়াড়দের যোগাযোগ এবং বিভিন্ন বৈঠক সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম দুই টেস্টে হারের পর পাকিস্তান দল থেকে সাত ক্রিকেটারকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়। রিজওয়ান ও ইমামের সঙ্গে সেই তালিকায় ছিলেন অধিনায়ক সালমান আলী আঘাও। সফরের সময় দলের কর্মকাণ্ড এবং কয়েকজন ব্যক্তির সঙ্গে খেলোয়াড়দের কথিত যোগাযোগ নিয়েও তদন্ত চলছে বলে পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এনসিসিআইএর কার্যালয়ে যাওয়ার আগে পিসিবির সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন রিজওয়ান ও ইমাম। জিজ্ঞাসাবাদের সময় তারা তদন্তকারী কর্মকর্তাদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিলেও বিস্তারিত জবাব দেওয়ার জন্য আরও সময় চেয়েছেন।

এদিকে, তৃতীয় একজন ক্রিকেটারকেও এনসিসিআইএ তলব করেছে বলে জানা গেছে, তবে তার নাম প্রকাশ করা হয়নি।

আরও পড়ুন: মঙ্গলবার অস্টিওপোরোসিস প্রতিরোধবিষয়ক সেমিনারে যোগ দেবেন ডা. জুবাইদা রহমান

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পাবনার দাশপাড়া গ্রামে জমিতে জমে থাকা পানিতে গোসলে নেমে ভাইবোনসহ তিন শিশুর মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ১১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:০৬ পি.এম


পাবনার দাশপাড়া গ্রামে জমিতে জমে থাকা পানিতে গোসলে নেমে ভাইবোনসহ তিন শিশুর মৃত্যু

পাবনার সদর উপজেলার চর তারাপুর ইউনিয়নের নবীন বাজার দাশপাড়া গ্রামে জমিতে জমে থাকা পানিতে গোসল করতে গিয়ে ভাইবোনসহ তিন শিশুর মৃত্যু ঘটেছে। শুক্রবার দুপুর ২ টার দিকে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। তিনটি শিশুর একসঙ্গে মৃত্যুর ঘটনায় গ্রামটিতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

নিহত শিশুদের মধ্যে রয়েছে দাশপাড়া গ্রামের শিমুল মল্লিকের মেয়ে সুমি খাতুন (৭), মো. আশরাফুল ইসলামের ছেলে খালিদ হোসেন (৮) এবং আফিয়া খাতুন (৬), যারা একই গ্রামের বাসিন্দা। তারা স্থানীয় একটি কিন্ডারগার্টেনের শিক্ষার্থী ছিল।

স্থানীয়দের মতে, শুক্রবার দুপুরে শিশুরা বাড়ির পাশের জমিতে জমে থাকা বর্ষার পানিতে গোসল করতে নেমেছিল। একপর্যায়ে একজন শিশু পানিতে তলিয়ে গেলে, তাকে উদ্ধারের জন্য অন্য দুজনও পানিতে ঝাঁপ দেয়। এ সময় তারা তিনজনই পানিতে ডুবে যায়। পরে স্থানীয়রা তিন শিশুকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু সুজানগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পৌঁছানোর পথে তাদের মৃত্যু হয়।

এদিকে, তিন শিশুর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর দাশপাড়া গ্রামে শোকের আবহ বিরাজ করছে। স্বজনদের আহাজারিতে এলাকা ভারী হয়ে উঠেছে।

পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। শিশুদের মরদেহ বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকলে আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পরিবেশ-প্রতিবেশ: নদী যদি মরে যায়, আমরাও বাঁচব কতদিন?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ১১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:০৭ পি.এম


পরিবেশ-প্রতিবেশ: নদী যদি মরে যায়, আমরাও বাঁচব কতদিন?

ঢাকার চারপাশে একসময় চারটি নদী ছিল, যেগুলো মালার মতো জড়িয়ে ছিল– বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, বালু এবং শীতলক্ষ্যা। নৌকা চলাফেরা করত, মাছ ধরা হত, এবং শিশুরা সাঁতার কাটত। কিন্তু আজ সেই নদীগুলোর পাশ দিয়ে হাঁটলে নাক চেপে ধরতে হয়। পানির রং কালচে হয়ে গেছে, প্লাস্টিক এবং রাসায়নিক ফেনা ভাসছে। সাভার-আমিনবাজার-হেমায়েতপুর, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী কিংবা হবিগঞ্জ– শিল্পকারখানা গড়ে উঠার ফলে নদীগুলোর ভাগ্য প্রায় একই রকম। এই লেখার উদ্দেশ্য ভয় দেখানো নয়; বরং প্রতিষ্ঠিত গবেষণা এবং সরকারি-আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনের আলোকে বোঝা, নদীকে অবহেলা করলে আমরা ঠিক কী কী হারাচ্ছি।

দূষণের চিত্র

বুড়িগঙ্গা নিয়ে সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, নদীর দ্রবীভূত অক্সিজেনের মাত্রা লিটারপ্রতি ১.৭০ থেকে ২.৬৮ মিলিগ্রামে নেমে এসেছে, অথচ সুস্থ নদীর জন্য প্রয়োজন অন্তত ৫ মিলিগ্রাম। ওই জরিপে বুড়িগঙ্গা ও তুরাগ মিলিয়ে ২২৪টি দূষণ-উৎস চিহ্নিত হয়েছে; যার প্রধান উৎস ট্যানারি বর্জ্য, পয়ঃবর্জ্য এবং কলকারখানার রাসায়নিক নির্গমন। গবেষকদের হিসাব অনুযায়ী, দেশের টেক্সটাইল শিল্প বছরে প্রায় ৫ কোটি ৬০ লাখ টন বর্জ্য এবং ৫ লাখ টন স্লাজ উৎপন্ন করে; যার বড় অংশ সরাসরি নদীতে গিয়ে পড়ে।

সাভার-আমিনবাজার-হেমায়েতপুরের চিত্রও ভিন্ন নয়। হাজারীবাগ থেকে পরিবেশদূষণ কমাতে ট্যানারিগুলো হেমায়েতপুরে স্থানান্তরিত করা হয়েছিল, কিন্তু সেখানকার কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার (সিইটিপি) এখনও পূর্ণ সক্ষমতায় কাজ করছে না। দৈনিক শোধন ক্ষমতা মাত্র ২৫ হাজার ঘনমিটার, অথচ ট্যানারিগুলো উৎপন্ন করে ৪০ থেকে ৪৫ হাজার ঘনমিটার বর্জ্য। ফলে প্রতিদিন হাজার হাজার ঘনমিটার আধা-শোধিত বা অশোধিত বর্জ্য ধলেশ্বরী নদীতে গিয়ে পড়ছে; যে নদী একসময় স্বচ্ছ ছিল বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান।

গাজীপুর থেকে নারায়ণগঞ্জ পর্যন্ত প্রবাহিত শীতলক্ষ্যার অবস্থাও উদ্বেগজনক। পরিবেশবাদীদের হিসাব অনুযায়ী নারায়ণগঞ্জে প্রায় সাড়ে ৪০০ ডাইং কারখানা রয়েছে, যাদের বেশির ভাগের বর্জ্য শোধনাগার থাকলেও তা নিয়মিতভাবে চালানো হয় না; রাতের অন্ধকারে সরাসরি রাসায়নিক বর্জ্য নদীতে ছেড়ে দেওয়া হয়। এই নদী গাজীপুর ও নরসিংদী জেলা হয়ে প্রবাহিত হয়ে নারায়ণগঞ্জে ধলেশ্বরীর সঙ্গে মিশেছে। ফলে একটি জেলার দূষণ ছড়িয়ে পড়ছে পুরো অববাহিকায়।

হবিগঞ্জে চিত্র আরও করুণ। সম্প্রতি জলকেলি ও পরিবেশবাদী সংগঠনের পরিদর্শনে দেখা গেছে, শিল্পকারখানার বর্জ্যে রাজখাল এতটাই দূষিত হয়েছে যে চারটি গ্রামে গবাদিপশু মারা গেছে এবং ফসল নষ্ট হয়ে গেছে। খোয়াই ও সুতাং নদীও একই সংকটে রয়েছে– কারখানার রাসায়নিক বর্জ্যে পানি বিষাক্ত হয়ে পড়ায় স্থানীয় কৃষক ও জেলেরা জীবিকা হারাচ্ছেন।

প্রতিবেশগত গুরুত্ব: শুধু পানি নয়, একটি জীবন্ত ব্যবস্থা

নদী শুধুমাত্র জলধারা নয়, এটি একটি সম্পূর্ণ প্রতিবেশতন্ত্র। বাংলাদেশের মিঠাপানিতে একসময় প্রায় ২৬০-এর বেশি প্রজাতির দেশি মাছ ছিল। আন্তর্জাতিক প্রকৃতি সংরক্ষণ সংস্থা আইইউসিএনের লাল তালিকা অনুযায়ী, এর মধ্যে ৬৪টি প্রজাতি বিপন্ন থেকে মহাবিপন্ন পর্যায়ে চলে গেছে। গত তিন-চার দশকে বেশ কিছু প্রজাতি বন্য পরিবেশ থেকে একেবারে হারিয়ে গেছে। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, দেশের অন্তর্দেশীয় ধরা– মাছের উৎপাদন ১৯৮৩-৮৪ সালের মোট মাছ উৎপাদনের প্রায় ৬৩ শতাংশ থেকে নেমে ২০২২-২৩ সালে দাঁড়িয়েছে মাত্র ২৮ শতাংশে। আরও উদ্বেগের বিষয়, ওই গবেষণায় ঢাকার নদীর জীববৈচিত্র্য-সূচক (শ্যানন-ওয়াইনার ইনডেক্স) পাওয়া গেছে প্রায় শূন্য অর্থাৎ কার্যত জীববৈচিত্র্য বলতে কিছু অবশিষ্ট নেই।

বুড়িগঙ্গার মতো নদীতে একসময় দেখা মিলত বিপন্ন গাঙ্গেয় ডলফিনের। পানি দূষণ এবং জলযান চলাচলের চাপে এই স্তন্যপায়ী প্রাণীর সংখ্যা ক্রমেই কমছে। মাছ, জলজ উদ্ভিদ এবং অণুজীবের এই জটিল শৃঙ্খল ভেঙে পড়লে তার প্রভাব শুধুমাত্র জেলে পরিবারে সীমাবদ্ধ থাকে না– খাদ্যশৃঙ্খলের ওপরের স্তরে থাকা মানুষও এর মূল্য দেয়, দূষিত মাছ খেয়ে বা মাছের আকাল দেখে।

নদী কীভাবে শহরকে শীতল রাখে

আমরা প্রায়ই ভুলে যাই, নদী শুধুমাত্র পরিবহন বা মাছের উৎস নয়– এটি শহরের প্রাকৃতিক শীতাতপ ব্যবস্থাও। বিশ্বজুড়ে পরিচালিত একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, শহুরে নদী আশপাশের বাতাসের তাপমাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনে এবং আর্দ্রতা বাড়ায়। জাপানের হিরোশিমার ওতা নদীর ওপর পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, নদীর ঠিক ওপরে তাপমাত্রা প্রায় ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত কমে যায় এবং এই শীতলকরণ প্রভাব নদীর তীর থেকে শত মিটার পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। চীনের বিভিন্ন শহরে চালানো গবেষণাতেও একই প্রবণতা দেখা গেছে– জলাশয়ের আশপাশের এলাকা কয়েকশ মিটার পর্যন্ত তুলনামূলক ঠান্ডা থাকে।

ঢাকার মতো ক্রমবর্ধমান তাপ-দ্বীপে পরিণত হওয়া শহরের জন্য এই প্রাকৃতিক শীতলকরণ ব্যবস্থা অমূল্য। বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক এক পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, তীব্র তাপের কারণে ২০২৪ সালে বাংলাদেশে প্রায় ২৫ কোটি কর্মদিবস নষ্ট হয়েছে, যার অর্থনৈতিক ক্ষতি ১৩০ থেকে ১৮০ কোটি মার্কিন ডলার। নদী যখন সরু হয়ে যায়, দখল-ভরাটে হারিয়ে যায় অথবা কালচে বিষাক্ত জলে পরিণত হয়, তখন এই স্বাভাবিক শীতলকরণ ক্ষমতাও কমে যায় এবং শহরের তাপ আরও অসহনীয় হয়ে ওঠে।

পর্যটন ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনা, যা আমরা হারাচ্ছি

একটি জীবন্ত নদী মানে সম্ভাবনাময় পর্যটন-নদীতীরের রেস্তোরাঁ, নৌ-ভ্রমণ, স্থানীয় হস্তশিল্প এবং মৎস্যভিত্তিক অর্থনীতি। বিশ্বের অনেক নদীতীরবর্তী শহর যেমন ব্যাংকক, আমস্টারডাম, সিউলের চংগেচন খাল– নদী পুনরুদ্ধার করে পর্যটন এবং নাগরিক জীবনযাত্রার মান বাড়িয়েছে। কিন্তু বুড়িগঙ্গা বা শীতলক্ষ্যার দুর্গন্ধ ও কালো পানি দেখে কোনো পর্যটক নৌ-ভ্রমণে আগ্রহী হবেন না, স্থানীয় বাসিন্দারাও নদীমুখী হতে চান না।

অর্থনৈতিক হিসাবটাও ভয়াবহ। বিশ্বব্যাংকের ২০২৩ সালের বাংলাদেশ কান্ট্রি এনভায়রনমেন্টাল অ্যানালাইসিস অনুযায়ী, ২০১৯ সালে পরিবেশগত অবক্ষয়ের কারণে বাংলাদেশের প্রায় ৬ হাজার ২০০ কোটি ডলার ক্ষতি হয়েছে; যা মোট জিডিপির ১৭ দশমিক ৬ শতাংশের সমান। এর আগে ২০১৮ সালের এক প্রতিবেদনে বিশ্বব্যাংক জানিয়েছিল, শুধুমাত্র নগর এলাকার দূষণজনিত ক্ষতির পরিমাণ বছরে প্রায় ৬৫০ কোটি ডলার। সম্প্রতি অনুমোদিত মেট্রো ঢাকা ওয়াটার সিকিউরিটি অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স কর্মসূচির আওতায় বিশ্বব্যাংক ৩৭ কোটি ডলার ঋণ দিচ্ছে শুধু গ্রেটার ঢাকার পানিদূষণ কমাতে এবং নদী-খাল পুনরুদ্ধারে। কারণ এই অঞ্চল দেশের মোট আনুষ্ঠানিক কর্মসংস্থানের প্রায় অর্ধেক এবং জিডিপির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ জোগান দেয়। নদী বাঁচিয়ে রাখা তাই নিছক পরিবেশবাদী আবেগ নয়, এটি সরাসরি অর্থনৈতিক নিরাপত্তার প্রশ্ন।

জীবিকা ও মানুষের গল্প

পরিসংখ্যানের আড়ালে মানুষের গল্প রয়েছে। শীতলক্ষ্যা পারের এক জেলে পরিবার তিন প্রজন্ম ধরে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করত; এখন মাছের আকালে তাদের পেশা বদলাতে হয়েছে। হবিগঞ্জের রাজখাল-তীরবর্তী কৃষকরা দূষিত পানিতে গবাদিপশু হারিয়ে মানবিক সংকটে পড়েছেন। এক সাম্প্রতিক গবেষণায় বুড়িগঙ্গার শ্যামপুর অংশে সত্তরের বেশি বিষাক্ত রাসায়নিকের উপস্থিতি মিলেছে; যা শুধু নদীর নয়, আশপাশের মানুষের স্বাস্থ্যের জন্যও গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করছে।

শীতলক্ষ্যার পাড়ে এক পড়ন্ত বিকেলে দেখা হয়েছিল ষাটোর্ধ্ব মতিন মাঝির সঙ্গে। জিজ্ঞেস করেছিলাম, ‘চাচা, এখনও মাছ ধরেন এই নদীতে?’ তিনি একটু হাসলেন, তারপর নদীর দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘বাবা, এই নদী আমার মায়ের মতো। ছোটবেলায় এই পানিতে গোসল করে বড় হয়েছি, এই পানি খেয়েছি, এই নদীর মাছ বিক্রি করেই ছেলেমেয়ে মানুষ করেছি। এখন এই পানি গায়ে লাগলে চুলকানি হয়, ঘা হয়ে যায়। মা অসুস্থ হলে সন্তান কি তাঁকে ফেলে দেয়? আমিও পারি না। তাই রোজ সকালে আসি, নদীটাকে একবার দেখি, তারপর খালি হাতে ফিরে যাই।’

মতিন মাঝির কথাগুলো বলার পর তিনি চুপ হয়ে গেলেন। তাঁর সামনে দিয়ে ধীরে ধীরে ভেসে যাচ্ছিল কালচে পানি, আর দূরে একটি কারখানার চিমনি থেকে ধোঁয়া উঠছিল আকাশের দিকে। সেদিন মনে হয়েছিল– নদীর দূষণ আসলে শুধু পরিবেশের সংকট নয়, এটি যেন এক ধরনের নীরব সন্তানহীনতা, মা হারানোর বেদনার মতোই কিছু, যা আমরা প্রতিদিন চোখের সামনে দেখেও সয়ে যাচ্ছি। মতিন মাঝির মতো লাখো মানুষের এই নীরব কষ্টটাই বোধহয় আমাদের সবচেয়ে বড় সতর্কবার্তা।

এখন করণীয়

সমাধান জটিল নয়, প্রয়োজন কেবল বাস্তবায়নের সদিচ্ছা। প্রথমত, বিদ্যমান বর্জ্য শোধনাগারগুলো (ইটিপি-সিইটিপি) পূর্ণ সক্ষমতায় নিয়মিত চালানো নিশ্চিত করতে হবে, কেবল কাগজে-কলমে নয়। দ্বিতীয়ত, পরিবেশ অধিদপ্তরের তদারকি এবং জরিমানা কার্যক্রমকে আরও কার্যকর এবং নিয়মিত করতে হবে। তৃতীয়ত, ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) মতো স্থানীয় নাগরিক উদ্যোগগুলোকে আরও শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক সমর্থন দিতে হবে। চতুর্থত, বিশ্বব্যাংকের মতো উন্নয়ন সহযোগীদের অর্থায়নে চলমান প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন দ্রুত এবং স্বচ্ছভাবে করতে হবে।

নদী আমাদের কাছে ঋণী নয়, বরং আমরাই নদীর কাছে ঋণী-পানীয় জল, মাছ, পরিবহন, শীতল বাতাস এবং সাংস্কৃতিক পরিচয়ের জন্য। বুড়িগঙ্গা, ধলেশ্বরী, শীতলক্ষ্যা, তুরাগ কিংবা খোয়াই-সুতাং-এই নদীগুলো যদি আজ আমরা বাঁচাতে না পারি, আগামী প্রজন্মের কাছে রেখে যাব শুধু মানচিত্রে আঁকা কিছু রেখা, যেখানে একদিন প্রাণ ছিল। সিদ্ধান্ত এখনই নিতে হবে। কারণ নদী মরে গেলে তার সঙ্গে মরে যায় একটি জনপদের ভবিষ্যৎও।

ড. জিয়া আহমেদ: শিক্ষক ও গবেষক, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট

[email protected]

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাজশাহীতে পদ্মার পানি বিপদসীমার কাছাকাছি, চরাঞ্চল ডুবেছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ১১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:০৭ পি.এম


রাজশাহীতে পদ্মার পানি বিপদসীমার কাছাকাছি, চরাঞ্চল ডুবেছে

রাজশাহীতে পদ্মার পানি বিপদসীমার শূন্য দশমিক ৭৯ মিটার (১৭ দশমিক ২৬ উচ্চতা) নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বিপদসীমার উচ্চতা ১৮ দশমিক ০৫ মিটার নির্ধারিত হয়েছে।

পদ্মার দক্ষিণে মিডিলচর, চরক্ষিদিরপুর, খানপুর সহ বিভিন্ন চরাঞ্চলে বন্যার পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে হাজার হাজার মানুষ গবাদিপশু নিয়ে বিপদে পড়েছেন।

রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের মিটারগেজ রিডার এনামুল হক জানিয়েছেন, পানির স্তর দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে, বর্তমানে পানি এখনও বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে পদ্মার দক্ষিণের চরাঞ্চলে পানি উঠতে শুরু করেছে।

তিনি আরও জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টায় পানির উচ্চতা ছিল ১৭ দশমিক ১৫ মিটার। শুক্রবার সকাল ৯টায় পানির উচ্চতা ১৭ দশমিক ২০ মিটার এবং সন্ধ্যা ৬টায় ১৭ দশমিক ২৬ মিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছে।

এদিকে, রাজশাহীর চরাঞ্চলে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। পদ্মার দক্ষিণে মিডিলচর, ক্ষিদিরপুর, খানপুর, চারঘাট ও বাঘা উপজেলার বিভিন্ন চরে বাড়িঘরে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে চরবাসীরা রাজশাহী শহরের রক্ষা বাঁধের উপরে গবাদিপশু নিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন। কেউ কেউ তাদের স্বজনদের বাড়িতে গেছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পদ্মার পানি হু হু করে বাড়ছে, বিপৎসীমা ছুঁই ছুঁই

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ১১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:০৮ পি.এম


পদ্মার পানি হু হু করে বাড়ছে, বিপৎসীমা ছুঁই ছুঁই

উজান থেকে আসা পানির চাপ এবং ফারাক্কা ব্যারেজের সব গেট খুলে দেওয়ার ফলে রাজশাহীতে পদ্মা নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। স্থানীয় পর্যবেক্ষণের তথ্য অনুযায়ী, গত তিন দিনে রাজশাহী পয়েন্টে পদ্মার পানি প্রায় দুই মিটার বেড়ে গেছে। এ কারণে নদীর চর ও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

আজ শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টায় রাজশাহীতে পদ্মার পানি ১৭ দশমিক ২৬ সেন্টিমিটারের নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বিপৎসীমা অতিক্রম করতে হলে পানি ১৮ দশমিক ৫ মিটার পৌঁছাতে হবে।

রাজশাহীতে পদ্মার পানি বৃদ্ধির ফলে মাঝচর, আষাড়িয়াদহ, খিদিপুরসহ চরাঞ্চলের বিভিন্ন নিচু স্থান পানিতে তলিয়ে গেছে। নদীর তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। পানি আরও বাড়লে চরাঞ্চলের বসতি, কৃষিজমি এবং নদীনির্ভর মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় প্রভাব পড়তে পারে।

নগরীর খরবোনা এলাকার বাসিন্দা নাজমুল হোসেন জানান, "কয়েক দিনের ব্যবধানে নদীর পানির উচ্চতা চোখে পড়ার মতো বেড়েছে। বিশেষ করে গত তিন দিনে দ্রুত পানি বাড়ায় নদীর পড়ের খরবোনা, পঞ্চবটি, শ্রীরামপুর এলাকা সহ চরাঞ্চলের অনেক জায়গা পানিতে ডুবে গেছে।"

পদ্মার পানি এভাবে বৃদ্ধি পেতে থাকলে রাজশাহী শহর ও জেলার নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে বন্যার আশঙ্কা বৃদ্ধি পাবে।

এদিকে, পদ্মার পানি দ্রুত বাড়তে থাকায় রাজশাহীর নদীতীরবর্তী মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পানি আরও বাড়লে চরাঞ্চলের মানুষ ও গবাদিপশু নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। একই সঙ্গে নদীভাঙনের ঝুঁকিও বাড়তে পারে।

রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুর রহমান অঙ্কুর বলেন, "নদী পর্যবেক্ষণ ও পূর্বাভাসের তথ্য অনুযায়ী পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পদ্মার পানি বিপদসীমা অতিক্রম করলে রাজশাহীর নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির আশঙ্কা আরও বাড়বে।"

এদিকে, ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা যায়, ভারতের ফারাক্কা ব্যারেজের ১০৯টি গেট খুলে দেওয়া হয়েছে। গত ৭ সেপ্টেম্বর ফারাক্কার সব গেট খোলার খবর প্রকাশিত হয়। উজানে বন্যা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং অতিরিক্ত পানি দ্রুত সরিয়ে দেওয়ার লক্ষ্যেই গেটগুলো খোলা হয়েছে।

ফারাক্কা ব্যারেজ গঙ্গা নদীর ওপর নির্মিত। এর ১০৯টি গেটের মধ্যে ১০৮টি নদীর প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ এবং একটি নিচু ভূমির পানি ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত। ফারাক্কা থেকে বাংলাদেশে প্রবেশের পর গঙ্গার এই প্রবাহই পদ্মা নামে পরিচিত।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫১
মাগরিব ০৫:২৮
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%