আঃ হামিদ মধুপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি
০৩:০৭ পি.এম
টাঙ্গাইলের মধুপুরে আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা-২০২৬ সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপনের লক্ষ্যে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং নির্বিঘ্নে পূজা উদযাপনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়ে সভায় বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
রোববার (১১ অক্টোবর) দুপুরে মধুপুর উপজেলা পরিষদের হলরুমে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইফুল ইসলাম।
সভায় উপস্থিত ছিলেন মধুপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম ফজলুল হক, উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাকির হোসেন সরকার, পৌর বিএনপির সভাপতি খুররম খান ইউসুফজাই প্রিন্স,মধুপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ লুৎফর রহমান, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা আব্দুল কাদির, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার মোতালিব হোসেন, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি এম. এ. রতন হায়দার, মধুপুর পূজা উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক বিকাশ চন্দ্র ঘোষ এবং মধুপুর কেন্দ্রীয় মদন গোপাল আঙিনা পূজামণ্ডপের সভাপতি শ্রী সুবল চন্দ্র সাহা।
এ ছাড়া উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, পূজামণ্ডপ পরিচালনা কমিটির সদস্য এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা সভায় উপস্থিত ছিলেন।
সভায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম আসন্ন দুর্গাপূজা নির্বিঘ্নে উদযাপনে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং উৎসব চলাকালে সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণের বিষয়ে আলোচনা করেন।
সভায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও আনন্দঘন পরিবেশে উদযাপনে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় দুর্গম পাহাড়ি এলাকার অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ বিতরণ করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর দীঘিনালা জোন। এ কর্মসূচির আওতায় দুই শতাধিক পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর মানুষ চিকিৎসাসেবা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ পেয়েছেন।
রবিবার (১১ অক্টোবর) দীঘিনালা জোনের উদ্যোগে কবাখালী ইউনিয়নের দুর্গম পাহাড়ি এলাকা জোড়া ব্রিজে এ চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোঃ আল আমিন পিএসসি এর নির্দেশনায় এবং জোনের রেজিমেন্টাল মেডিকেল অফিসার ক্যাপ্টেন মুহাম্মদ শায়খউদ্দীন সাকলাইন (আরএমও) এর তত্ত্বাবধানে এ কর্মসূচি বাস্তবায়িত হয়।
দুর্গম এলাকায় বসবাসকারী দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কাছে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়াই ছিল এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ পেয়ে উপকারভোগীরা বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এবং দীঘিনালা জোনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। পাশাপাশি এ ধরনের মানবিক উদ্যোগের প্রশংসা করেন তাঁরা।
দীঘিনালা জোনের জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল আল আমিন পিএসসি মহোদয় বলেন, এলাকায় শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখার পাশাপাশি দুর্গম পাহাড়ি জনপদের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনী প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সহায়তা দিয়ে আসছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের উন্নয়নমূলক ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলের মানুষের দোরগোড়ায় চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়ার এ উদ্যোগ স্থানীয় জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবাপ্রাপ্তির সুযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি সেনাবাহিনী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও সম্প্রীতি জোরদারে ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর কদমতলী থানার জুরাইন বরইতলা এলাকার ছিনতাইকারী জনি হত্যার ঘটনায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) দুইজনকে গ্রেফতার করেছে, যার মধ্যে একজন বাপ্পি। সংস্থাটি জানায়, নিহত জনি, বাপ্পি এবং বারেক অটোরিকশা চালানোর আড়ালে ছিনতাইয়ে জড়িত ছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে।
জুরাইনের বরইতলা এলাকায় গত ২৯ আগস্ট মধ্যরাতে গলিতে প্রবেশ করতে দেখা যায় তিনজনকে, যাদের মধ্যে ছিলেন বাপ্পি, জনি এবং বারেক। কিছুক্ষণ পরই বাপ্পি ও বারেক দৌড়ে পালিয়ে যায়। জনি ছুরিকাঘাতের শিকার হন। পরে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার দেড় মাস পর, রোববার (১১ অক্টোবর) পিবিআই সংবাদ সম্মেলন করে। সংস্থাটির ঢাকা মহানগর দক্ষিণের পুলিশ সুপার এস এম মোস্তাইন হোসেন জানান, ওই রাতে জনি, বাপ্পি এবং বারেক ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে গলিতে প্রবেশ করে। ছিনতাইয়ের সময় দুই পথচারীর সঙ্গে তাদের ধস্তাধস্তি হয়। এসময় বাপ্পি ছুরি দিয়ে এক পথচারীকে আঘাত করলে, তা জনির বুকে লাগে। এরপর তারা দ্রুত পালিয়ে যায়। জনির মৃত্যু ঘটে পরবর্তীতে।
তিনি আরও জানান, তারা রাতের বেলায় অটোরিকশা চালানোর আড়ালে ছিনতাই করতেন। এ চক্রের মূল হোতা বাপ্পির বিরুদ্ধে হত্যা মামলাসহ প্রায় ৫টি মামলা রয়েছে।
পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন জানায়, এ চক্রের আরও সদস্য আছে কি না, সে বিষয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন মন্তব্য করেছেন যে, দলের দুঃসময়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন ত্যাগী নেতারা।
শনিবার (১০ অক্টোবর) বেলা ১১টায় চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের জুলাই বিপ্লব স্মৃতি হলে বিএনপির সাবেক নেতা বাবু টিংকু দাশের সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণসভায় তিনি এই কথা বলেন।
ডা. শাহাদাত উল্লেখ করেন, টিংকু দাশ ছিলেন রাজপথের নির্ভীক ও ত্যাগী সংগঠক। তিনি দলের সংকটকালে নিষ্ঠা ও বিশ্বস্ততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। তার আদর্শ আগামী প্রজন্মের নেতাকর্মীদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।
স্মরণসভায় প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর। তিনি বলেন, টিংকু দাশের মতো নিবেদিতপ্রাণ রাজনৈতিক কর্মীর শূন্যতা সহজে পূরণ হওয়ার নয়। সংগঠনকে সুসংগঠিত করতে তার অবদান দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
সভায় সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি গাজী মুহাম্মাদ সিরাজ উল্লাহ। প্রয়াত টিংকু দাশের পরিবারের সদস্যসহ বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা তার রাজনৈতিক জীবন ও সাংগঠনিক অবদান স্মরণ করেন এবং তার আত্মার শান্তি কামনা করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চিকিৎসা পেশায় সাফল্যের আরও একটি ধাপে উন্নীত হয়েছেন মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার খাসমহল বালুচর ইউনিয়নের কৃষ্ণনগর গ্রামের কৃতী সন্তান, অর্থোপেডিক, ট্রমা ও স্পাইন বিশেষজ্ঞ সার্জন ডা. মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান খান। তিনি সহযোগী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি পেয়েছেন। বর্তমানে তিনি ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে কর্মরত আছেন। পাশাপাশি তিনি ঝিকুট ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
তাঁর এই অর্জনের খবরে পরিবার-পরিজন, শুভানুধ্যায়ী ও এলাকাবাসীর মধ্যে আনন্দের আবহ তৈরি হয়েছে।
ডা. মাহবুবুর রহমান খানের পিতা মো. সিরাজুল ইসলাম খান ছিলেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। শিক্ষা, সততা ও মূল্যবোধের চর্চা ছিল তাঁদের পরিবারের বৈশিষ্ট্য। পিতার শিক্ষাদর্শন ও নিজের অধ্যবসায়কে পাথেয় করে তিনি শিক্ষাজীবনের প্রতিটি ধাপে সাফল্যের পথে এগিয়েছেন।
তাঁর শিক্ষাজীবনের সূচনা কৃষ্ণনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। পরে তিনি খাসমহল বালুচর উচ্চ বিদ্যালয়, ঢাকার কবি নজরুল সরকারি কলেজ এবং রাজশাহী মেডিকেল কলেজে অধ্যয়ন করেন। এরপর দেশে ও বিদেশে অর্থোপেডিক, ট্রমা ও স্পাইন বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রি, প্রশিক্ষণ ও পেশাগত অভিজ্ঞতা অর্জন করেন।
পেশাগত ব্যস্ততার মধ্যেও নিজ এলাকার মানুষের প্রতি তাঁর আন্তরিকতা প্রশংসিত হচ্ছে। প্রতি সপ্তাহে তিনি নিজ এলাকায় এসে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার অসুস্থ মানুষকে চিকিৎসাসেবা দিয়ে থাকেন। শিকড়ের সঙ্গে এই সম্পর্ক ও মানুষের পাশে থাকার মানসিকতা তাঁকে স্বজন ও শুভানুধ্যায়ীদের কাছে আরও প্রিয় করে তুলেছে।
এলাকাবাসীর মতে, জাতীয় পর্যায়ে চিকিৎসাসেবায় তাঁর এই সাফল্য শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং পুরো এলাকার জন্য গর্বের বিষয় এবং নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস। শুভানুধ্যায়ীরা প্রত্যাশা করছেন, নতুন এই পদে তিনি চিকিৎসাসেবায় আরও বৃহত্তর অবদান রাখতে পারবেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ