(মো আব্দুল বারেক উপজেলা প্রতিনিধি)
১০:০০ পি.এম
লালমনিরহাটে জুমার নামাজ আদায় করতে এসে মোঃ রনি (১৪) নামের এক মাদরাসাছাত্র নিখোঁজ হয়েছে। শুক্রবার (৯ অক্টোবর ২০২৬) লালমনিরহাট মডেল মসজিদে জুমার নামাজ পড়তে আসার পর থেকে তার আর কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান না মেলায় উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠায় রয়েছে তার পরিবার ও স্বজনেরা।
নিখোঁজ মোঃ রনি লালমনিরহাট জেলার দারুল হুদা মাদরাসার ছাত্র। তার পিতার নাম মোঃ রফিকুল ইসলাম। তার গ্রামের বাড়ি হাজিগঞ্জ সংকরটারী এলাকায়।
পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার জুমার নামাজ আদায়ের উদ্দেশ্যে সে লালমনিরহাট মডেল মসজিদে আসে। এরপর থেকে তার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। আত্মীয়স্বজন ও পরিচিতজনদের মাধ্যমে সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করা হলেও এখন পর্যন্ত তার অবস্থান নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। এ ঘটনায় স্থানীয় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।
নিখোঁজ ছাত্রের পরিচয় - নাম: মোঃ রনি
- বয়স: ১৪ বছর
- পিতার নাম: মোঃ রফিকুল ইসলাম
-- গ্রাম/বাড়ি: হাজিগঞ্জ সংকরটারী, লালমনিরহাট
-শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান: দারুল হুদা মাদরাসা, লালমনিরহাট
-উচ্চতা: আনুমানিক ৪ ফুট
-নিখোঁজের সময় পরনে ছিল-সাদা পাঞ্জাবি ও পায়জামা
-নিখোঁজের তারিখ: ৯ অক্টোবর ২০২৬, শুক্রবার
সন্ধান চেয়ে পরিবারের আকুল আবেদন
১৪ বছর বয়সী এই শিক্ষার্থীর নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় পরিবার গভীর উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে। কোনো হৃদয়বান ব্যক্তি মোঃ রনিকে কোথাও দেখতে পেলে অথবা তার সম্পর্কে কোনো তথ্য জানতে পারলে নিচের মোবাইল নম্বরগুলোতে দ্রুত যোগাযোগ করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
যোগাযোগের নম্বর:
01793670940
একটি শিশুকে তার পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে সবার সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই পোস্টটি নিজ নিজ ফেসবুক আইডি, বিভিন্ন স্থানীয় গ্রুপ ও পরিচিতজনদের মধ্যে শেয়ার করে শিশুটির সন্ধান পেতে সহযোগিতা করার জন্য সবার প্রতি অনুরোধ জানানো হচ্ছে।
আপনার একটি শেয়ার, একটি ফোনকল কিংবা সামান্য তথ্যও ফিরিয়ে দিতে পারে একটি শিশুকে তার পরিবারের কাছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পাবনা সদর থানা এলাকায় সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে আগ্নেয়াস্ত্র, তাজা গুলি, অবৈধ অস্ত্র তৈরির সরঞ্জামাদি ও মাদকদ্রব্যসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পাবনা জেলা পুলিশ।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর ২০২৬) রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মোঃ আশিক সাঈদ, পিপিএমের নির্দেশনায় এবং পাবনা জেলা পুলিশ সুপার আবু আশ্রাফের প্রত্যক্ষ দিকনির্দেশনায় এ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মোঃ সাখাওয়াত হোসেন সরাসরি তত্ত্বাবধান করেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পাবনা সদর থানাধীন চরতারাপুর ইউনিয়নের ভাদুরি ডাঙ্গি গ্রামে অভিযান চালানো হয়। এ সময় একটি একনলা বন্দুক, একটি শুটার গান, ২২ বোরের আট রাউন্ড তাজা গুলি এবং অবৈধ অস্ত্র তৈরির সরঞ্জামাদি উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় মোঃ তমসের মোল্লাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
অন্যদিকে, একই দিনে পাবনা সদর থানাধীন চক ছাতিয়ানী এলাকায় পৃথক অভিযান পরিচালনা করে ৩৬ বোতল অবৈধ মাদকদ্রব্য ‘ইস্কাফ’ (Eskuf) উদ্ধার করা হয়। এ সময় মোঃ বাপ্পি (২৬) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) মোঃ সাখাওয়াত হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোঃ শরিফুল ইসলাম, পাবনা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ তারিকুল ইসলাম এবং ইন্সপেক্টর (তদন্ত) সঞ্জয় কুমার সাহার সমন্বিত তত্ত্বাবধানে অভিযানটি পরিচালিত হয়।
এতে পাবনা সদর থানার পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি সিআরটি টিম, জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ এবং পুলিশ লাইন্স থেকে নিয়োজিত অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যরা অংশ নেন।
গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী পৃথক মামলা দায়েরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ও মাদকদ্রব্য উদ্ধার এবং অপরাধ দমনে এ ধরনের বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
হাওরের প্রকৃতি, পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও খনিজ সম্পদ সুরক্ষা, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ এবং নদ-নদী রক্ষায় সোচ্চার সংগঠন ‘হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলন’-এর বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা শাখার দ্বি-বার্ষিক প্রথম সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সর্বসম্মতিক্রমে মো. জিয়াউর রহমানকে সভাপতি ও মো. ছফির উদ্দিন টিটুকে সাধারণ সম্পাদক করে ৩৫ সদস্যবিশিষ্ট নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর ২০২৬) বিকেল ৩টায় বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা অডিটোরিয়ামে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা কমিটির আহ্বায়ক নুরুল আলম সাগরের সভাপতিত্বে এবং সার্জেন্ট জিয়াউর রহমানের সঞ্চালনায় সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সুনামগঞ্জ জেলা কমিটির সভাপতি মো. রাজু আহমেদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা সহ-সভাপতি মো. ওবায়দুল মুন্সী ও সাধারণ সম্পাদক মো. ওবায়দুল হক মিলন।
সম্মেলনে বক্তারা হাওরাঞ্চলের সার্বিক উন্নয়ন নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম, ধীরগতি, দুর্নীতি ও ঠিকাদারি সিন্ডিকেট কঠোরভাবে প্রতিরোধ করতে হবে। পাশাপাশি নদ-নদী ও খাল-বিল দখলমুক্ত করা, নদীভাঙন রোধে স্থায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ, পর্যটন ব্যবস্থাপনায় সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন, গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, প্রকৃত কৃষকদের প্রণোদনা প্রদান এবং দুর্গম হাওর এলাকায় স্বাস্থ্য ও শিক্ষার মানোন্নয়নের জোর দাবি জানানো হয়। বক্তারা প্রকৃত জেলেদের মৎস্য আহরণের অধিকার নিশ্চিত করা এবং জলাশয় ইজারা প্রক্রিয়ায় অনিয়ম বন্ধের জন্য স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে উপজেলার সকল ইউনিয়ন কমিটির প্রতিনিধি এবং সমাজের বিভিন্ন স্তরের সচেতন ও পরিবেশপ্রেমী ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
নবগঠিত ৩৫ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি:
সভাপতি: মো. জিয়াউর রহমান
সহ-সভাপতি: বাহা উদ্দিন আহমেদ, হোসাইন আহমেদ, জিয়াউর রাহমান, মোবারক হোসেন, মিজানুর রহমান ও সুমন বিশ্বাস
সাধারণ সম্পাদক: মো. ছফির উদ্দিন টিটু
যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক: নাদিরুজ্জামান
সাংগঠনিক সম্পাদক: খালেদ হোসেন ও নবেন্দু পুরকায়স্থ
অর্থ সম্পাদক: তারেক তালুকদার
বাঁধ বিষয়ক সম্পাদক: আবু সুফিয়ান ও ফয়সল আহমদ
দপ্তর সম্পাদক: শামীম আহমেদ
প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক: মিসবাউল হাসান রকি
শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক: আশরাফুল জাকেরীন
তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক: বদরুল ইসলাম
আইন, নারী ও শিশু বিষয়ক সম্পাদক: অ্যাডভোকেট জোবায়ের রহমান
দুর্যোগ ও ত্রাণ সম্পাদক: জিয়াউর হক
পরিবেশ ও জলবায়ু সম্পাদক: লুৎফুর রহমান টিটু
নদী ও খনিজ সম্পদ সম্পাদক: সবুজ মিয়া
হাওর ও কৃষি সম্পাদক: তাম্মিম আরিফ
মিডিয়া ও যোগাযোগ সম্পাদক: তৌহিদুল ইসলাম
নির্বাহী সদস্য: আলমগীর হোসেন, শাকিল আহমেদ, এমদাদুল হক, হৃদয় তালুকদার, মকবুল হোসেন, ইমদাদুল হক ইয়াহিয়া, নাজমুন নুর শ্রেষ্ট, আজমান আহমেদ, ইসলাম উদ্দিন, ফয়জুন্নুর ও মাহবুবুর রহমান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
"শ্রমজীবী মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় ইসলামী শ্রমনীতির বাস্তবায়ন অনিবার্য"—এই স্লোগানকে সামনে রেখে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন শেরপুর জেলা শাখার উদ্যোগে এক 'শ্রমিক সমাবেশ ২০২৬' অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (০৯ অক্টোবর) সকাল ৯:৩০ মিনিটে শেরপুর সদরের বাজিতখিলা আমির আলী উচ্চ বিদ্যালয়ে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি এডভোকেট আতিকুর রহমান।
সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন, শেরপুর জেলা শাখার উপদেষ্টা ও শেরপুর সদর ১ আসনের সংসদ সদস্য হাফেজ রাশেদুল ইসলাম এমপি
বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারশেনের সাধারণ সম্পাদক লষ্কর মোঃ তসলিম , ও
বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন, শেরপুর জেলা শাখার প্রধান উপদেষ্টা,মাওলানা মোঃ হাফিজুর রহমান।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন শেরপুর জেলা শাখার সভাপতি মোঃ আব্দুল মতিন, বাংলাদেশ কৃষিও মৎসজীবি শ্রমিক ইউনিয়নের জেলা শাখার সভাপতি মো. রেজাউল করিম জাহাঙ্গীর, সেক্রেটারি রেদুয়ান ইসলাম সহ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
সমাবেশে বক্তারা শ্রমজীবী মানুষের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় ইসলামী শ্রমনীতি বাস্তবায়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন। এছাড়া এসময় সংগঠনের জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঝিনাইদহ জেলা ও উপজেলা সার-বীজ মনিটরিং কমিটির বিরুদ্ধে সরকারি নীতিমালা স্পষ্টভাবে লঙ্ঘন, জালিয়াতি এবং আওয়ামী লীগ সমর্থিতদের পুনর্বাসনের মাধ্যমে সার ডিলারের তালিকা প্রস্তুত করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর ২০২৬) দুপুরে কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে নতুন ডিলারদের তালিকা প্রকাশের পরপরই পুরো জেলাজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মনোনীতদের রাজনৈতিক পরিচিতি ও কর্মকাণ্ডের ছবি ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
প্রকাশিত তালিকা ও নীতিমালার বৈপরীত্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সার ডিলার নিয়োগের সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী কোনো এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের কর্মরত শিক্ষক/কর্মচারী কিংবা সরকারি কর্মকর্তাদের নিকটাত্মীয় ডিলারশিপের অযোগ্য বলে গণ্য হবেন। কিন্তু হরিণাকুণ্ডু উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নে সালেহা বেগম মহিলা কলেজের এমপিওভুক্ত শিক্ষক আনিচুরের স্ত্রী আনোয়ারা নাসরিনকে (যার মেয়ে একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট) ডিলারশিপ প্রদান করা হয়েছে, যা নীতিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
এছাড়া মনোনীত অধিকাংশ ডিলারের নিজস্ব কোনো উপযুক্ত সারের গুদাম বা ব্যাংকিং স্বচ্ছলতা নেই। ভুয়া ব্যাংক সলভেন্সি সার্টিফিকেট ও ভুয়া তথ্য দিয়ে এ তালিকা প্রস্তুতের অভিযোগ উঠেছে। উদাহরণস্বরূপ, সদর উপজেলার হলিধানী ইউনিয়নের আমির হোসেনের নিজস্ব কোনো গুদাম ও আর্থিক সক্ষমতা না থাকা সত্ত্বেও জালিয়াতির আশ্রয়ে তাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে পাগলাকানাই ইউনিয়নে ডিলারশিপ পাওয়া রাকিব হাসান বন্ধন সক্রিয় ছাত্রলীগ কর্মী হিসেবে পরিচিত। এ বিষয়ে ইবি ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক শাহেদ আহমেদ মন্তব্য করেছেন। আবার হরিণাকুণ্ডুর চাঁদপুর ইউনিয়নে ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের জন্য বিজ্ঞপ্তি জারি করা হলেও অলৌকিকভাবে ৮ নম্বর ওয়ার্ড থেকে ডিলার নিয়োগের অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বিএনপি পরিবারের সদস্য সাকিব হোসেন।
মনোনীতদের রাজনৈতিক পরিচিতি বিশ্লেষণ করে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে চরম অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। হরিণাকুণ্ডু উপজেলার চাঁদপুর ইউনিয়নে জেলা বিএনপির সভাপতি এম এ মজিদের ভাই আব্দুল লতিফ এবং জোড়াদহ ইউনিয়নে ওএমএস ডিলার লাল্টু মিয়া ডিলারশিপ পেয়েছেন।
মহেশপুর উপজেলা যুবলীগের সভাপতি হাসানের ভাই ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনার শ্যালক এহসান রেজা, পৌর এলাকায় স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতার বাড়ির কেয়ারটেকার হাবিবুর রহমান বুল্লা, যাদবপুর ইউনিয়নে আওয়ামী পরিবারের সদস্য সবুর খান এবং বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নে শাকিল রিয়াজ শুভর নাম রয়েছে তালিকায়।
কালীগঞ্জ উপজেলার ত্রিলোচনপুর ইউনিয়নে জেলা বিএনপি সভাপতির শ্যালকের স্ত্রী সুরমা হাসান এবং শিমলা-রোকনপুর ইউনিয়নে জেলা বিএনপির সভাপতির চাচাতো শ্যালক নাজমুল হক মিশুর নাম অন্তর্ভুক্ত থাকায় এলাকায় সমালোচনার ঝড় উঠেছে। ঝিনাইদহ সদর উপজেলার সাধুহাটী ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামে জেলা বিএনপি সভাপতির কর্মচারী আনোয়ার হোসেনকে (যিনি আওয়ামী পরিবারের সদস্য হিসেবে পরিচিত) ডিলার করা হয়েছে।
নিয়োগপ্রক্রিয়ায় বড় ধরনের অনিয়মের অভিযোগ তুলে মহেশপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দবির হোসেন উদ্দীন বিশ্বাস আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, “মহেশপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আমার কাছে ৫ জন প্রার্থীর রাজনৈতিক পরিচয় জানতে চেয়েছিলেন। আমি সুনির্দিষ্ট নিরপেক্ষ তথ্য দিয়েছিলাম। কিন্তু এখন দেখছি আমরা যেন আবার সেই ‘নৌকার তলে’ চাপা পড়েছি! এভাবে চললে বিএনপি রাজনীতি করার কোনো মানে হয় না। জেলা পর্যায় থেকে সব নিয়ন্ত্রণ করার কারণে ত্যাগী নেতাকর্মীদের স্বজনরা বাদ পড়েছেন, এমনকি আমার ছেলের নামও তালিকায় রাখা হয়নি।”
স্বজনপ্রীতি ও জালিয়াতির অভিযোগ অস্বীকার করে ঝিনাইদহ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনা বলেন, “আমার শ্যালক নিজে জেলা বিএনপির দায়িত্বশীল পদে রয়েছে, তাই সে আওয়ামী পরিবারের সদস্য—এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। আর পুরো জেলার তালিকা কীভাবে বা কার মাধ্যমে হয়েছে, সে সম্পর্কে আমার কিছু জানা নেই।”
অভিযোগের তির হরিণাকুণ্ডু উপজেলা কৃষি অফিসার শরীফ মোহাম্মদ তিতুমীরের দিকে উঠলেও হরিণাকুণ্ডু উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) প্রদীপ্ত রায় দীপন জানান, “আমার কাছে কোনো সার ডিলারের চূড়ান্ত তদন্ত রিপোর্ট পৌঁছায়নি। বিষয়টি নিয়ে আমি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার সাথে কথা বলে বিস্তারিত জেনে জানাচ্ছি।”
এদিকে সার ডিলার তালিকায় নজিরবিহীন এই অনিয়ম, জালিয়াতি ও ক্ষোভের বিষয়ে বক্তব্য জানতে ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক ও জেলা সার-বীজ মনিটরিং কমিটির সভাপতি নোমান হোসেনের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে কথা বলতে রাজি হননি। এছাড়া তালিকা প্রকাশের পর থেকেই বিএনপির নেতাকর্মীরা ফোন রিসিভ করা বন্ধ করে দেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ