০৫:২০ পি.এম
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডে ৪৫ বছর পর মেজর (অব.) মোজাফ্ফর হোসেন গ্রেপ্তার হওয়ার ফলে নানা প্রশ্ন তুলেছিলেন প্রধানমন্ত্রী রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।
তিনি জানতে চেয়েছেন, এত বছর মেজর মোজাফ্ফর কোথায় ছিলেন এবং দেশের ভেতরে বা বিদেশে কাদের দ্বারা তাকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রাজধানীর নয়াপল্টনের আনন্দ ভবনে যুবদলের সাবেক সহসভাপতি মরহুম জাকির হোসেন নান্নুর স্মরণে আয়োজিত দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব বলেন।
আরও পড়ুন: মহানগর ছাত্রদলের নতুন কমিটি শিগগিরই ঘোষণা, আলোচনা চলছে সাবেক ও নতুনদের মধ্যে
রিজভী বলেন, জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একজন অভিযুক্তকে চার দশকেরও বেশি সময় পর গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাই এই দীর্ঘ সময়ে তিনি কোথায় অবস্থান করেছেন, কারা তাকে নিরাপত্তা দিয়েছে এবং কীভাবে আইনের আওতার বাইরে ছিলেন, এসব বিষয়ে জাতির সামনে পরিষ্কার ব্যাখ্যা আসা প্রয়োজন।
তিনি একই প্রসঙ্গে কাদের সিদ্দিকীর অতীত ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। রিজভীর দাবি, সে সময় তিনি বিদেশে আশ্রয় নিয়েছিলেন এবং অস্ত্রও পেয়েছিলেন। দেশের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে তাকে কারা ব্যবহার করেছিল, সেটিও এখন আলোচনায় আসা উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সাম্প্রতিক জুলাই-আগস্টের ছাত্র আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে বিএনপির এই নেতা বলেন, আন্দোলনের সময় মুগ্ধ, ওয়াসিফ, আবু সাঈদসহ বহু শিক্ষার্থী ও তরুণের ওপর হামলা ও গুলির ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় জড়িত আওয়ামী লীগের যেসব নেতাকর্মী পরে ভারতে পালিয়ে গেছেন, তাদের কারা আশ্রয় দিয়েছে, সেই প্রশ্নেরও জবাব চায় দেশের মানুষ।
দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে রিজভী বলেন, কোনোভাবেই হতাশ হওয়ার সুযোগ নেই। দীর্ঘ সংগ্রাম, ত্যাগ ও ধৈর্যের ফল একদিন অবশ্যই আসে।
আরও পড়ুন: গোপালগঞ্জে লংমার্চ সফল করতে প্রশাসনের সাথে জামায়াত নেতাদের বৈঠক
তিনি বলেন, ১৭ বছরের স্বৈরশাসনের অবসান, নানা প্রতিকূলতা অতিক্রম করে দলের শীর্ষ নেতার দেশে ফিরে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ, এগুলো প্রমাণ করে যে আত্মত্যাগ কখনও বিফলে যায় না।
প্রধানমন্ত্রী রাজনৈতিক উপদেষ্টা বলেছেন, ন্যায়ের পথে যারা অবিচল থাকে, শেষ পর্যন্ত তারাই সফল হয়। তাই দলের আদর্শ ধারণ করে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ চালিয়ে যেতে নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
বর্তমান সরকারের বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির প্রশংসা করে রিজভী বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের আওতা সম্প্রসারণ এবং কৃষক কার্ড চালুর মতো উদ্যোগ সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। এসব কর্মসূচির সুফল মানুষের কাছে পৌঁছালে মরহুম জাকির হোসেন নান্নুর মতো ত্যাগী নেতাদের আত্মদান আরও অর্থবহ হয়ে উঠবে।
দীর্ঘ প্রবাসজীবন ও নির্যাতনের পর দলের চেয়ারম্যানের দেশে ফিরে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নেওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এ কারণে নেতাকর্মীদের তার নেতৃত্বের ওপর পূর্ণ আস্থা রাখার আহ্বান জানান তিনি।
আরও পড়ুন: ২ ঘণ্টা গুলি বিনিময়ের পর উজোবাজারের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে: পুলিশ সুপার
৭ নভেম্বরের সিপাহী-জনতার বিপ্লবের কথা স্মরণ করে রিজভী বলেন, বিএনপি এবং এর অঙ্গসংগঠনগুলো সেই চেতনার ধারক। বহুদলীয় গণতন্ত্র, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়েই দলটির জন্ম। এরশাদবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে বিগত ১৭ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামে বিএনপি কোনো আপস করেনি বলেও দাবি করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, যুবদলের সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না, সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়নসহ দলটির কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন