বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৬:৫২ পি.এম
আগামী ৩১ অক্টোবরের ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চের সফল বাস্তবায়ন, শৃঙ্খলা রক্ষা এবং সার্বিক সহযোগিতার উদ্দেশ্যে গোপালগঞ্জ জেলা ও পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বাস্তবায়ন কমিটির নেতারা।
বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত বৈঠকে পুলিশ প্রশাসনের প্রতিনিধিদের মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও লংমার্চ শৃঙ্খলা বিভাগের প্রধান মোবারক হোসাইন, ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি ডা. মো. ফখরুদ্দিন মানিক, গোপালগঞ্জের পুলিশ সুপার হাবিবুল্লাহ, সহকারী পুলিশ সুপার হুমায়ুন কবির, জামায়াতের ফরিদপুর জেলা আমির মাওলানা বদর উদ্দিন, গোপালগঞ্জ জেলা সাবেক আমির অ্যাডভোকেট আজমল হোসাইন এবং বর্তমান আমির মাওলানা রেজাউল করিম উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে লংমার্চের সার্বিক ব্যবস্থাপনা, প্রশাসনিক সহযোগিতা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং কর্মসূচি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
একই সময়ে লংমার্চের সার্বিক সহযোগিতা ও বাস্তবায়ন সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে গোপালগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এস এম তারেক সুলতানের সঙ্গে নেতারা বৈঠক করেন।
এ সময় জামায়াতের ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি কামাল হোসেন এমপি, নড়াইল জেলা আমির আতাউর রহমান বাচ্চু এমপিসহ লংমার্চ বাস্তবায়ন কমিটির অন্যান্য নেতাগণও উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে লংমার্চের কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল এবং সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে প্রশাসন ও বাস্তবায়ন কমিটির মধ্যে সমন্বয় এবং পারস্পরিক সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
লালমনিরহাট, ২২ অক্টোবর, ২০২৬ : জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং বজ্রপাতের ঝুঁকি কমানোর উদ্দেশ্যে লালমনিরহাট জেলায় তালবীজ রোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু।
আজ বৃহস্পতিবার, লালমনিরহাট সদর উপজেলার চাঁদনী বাজারসংলগ্ন ডিসি পার্কে নিজ হাতে তালবীজ রোপণের মাধ্যমে তিনি এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।
‘বিশুদ্ধ পরিবেশ গড়বো, পৃথিবী সবুজে সাজাবো’ স্লোগানকে সামনে রেখে সবুজ সেবা যুব বিজ্ঞান সংঘের উদ্যোগে জেলার পাঁচটি উপজেলায় একযোগে এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। পরিবেশ সংরক্ষণ, সবুজায়ন সম্প্রসারণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ত্রাণমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশ অন্যতম সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশ। প্রাকৃতিক দুর্যোগের পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে নতুন নতুন দুর্যোগ এবং নানা ধরনের উপসর্গ দেখা দিচ্ছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের প্রবণতা এবং প্রাণহানির ঘটনা বেড়ে যাওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, একসময় ঘূর্ণিঝড় এবং জলোচ্ছ্বাসে ব্যাপক প্রাণহানি ঘটতো। সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের ফলে সেই প্রাণহানি অনেকটাই শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে। তবে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দেশের আবহাওয়ায় যে পরিবর্তন এসেছে, তাতে নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ দেখা দিচ্ছে।
লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক মুহা. রাশেদুল হক প্রধানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে জেলা পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান, সবুজ সেবা যুব বিজ্ঞান সংঘের প্রতিষ্ঠাতা মো. খাইরুল ইসলাম, সংগঠনটির স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যক্ষ এন্তাজুর রহমান এবং প্রধান শিক্ষক একরামুল হক সরকারসহ শতাধিক স্বেচ্ছাসেবী উপস্থিত ছিলেন।
আয়োজকরা জানান, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং সবুজায়নে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে সবুজ সেবা যুব বিজ্ঞান সংঘ। এর আগে সংগঠনটি লালমনিরহাটের তিস্তা থেকে বুড়িমারী পর্যন্ত রেলপথের দুই পাশে প্রায় ৪০ হাজার তালবীজ রোপণ করেছে। এছাড়া তারা বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি এবং পরিবেশবিষয়ক সচেতনতামূলক সেমিনার আয়োজন করছে।
জেলাব্যাপী লক্ষাধিক তালবীজ রোপণের এই কর্মসূচি পরিবেশ সংরক্ষণে জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সবুজ এবং বাসযোগ্য পরিবেশ গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখবে বলে আয়োজকদের আশা। রোপণ করা তালবীজ থেকে চারা উৎপাদন এবং সেগুলোর যথাযথ পরিচর্যা ও সংরক্ষণ নিশ্চিত করা গেলে এই উদ্যোগের দীর্ঘমেয়াদি সুফল পাওয়া সম্ভব হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার চাতলপাড় মেঘনা নদীতে গোসল করতে গিয়ে নিখোঁজ হওয়ার তিন দিন পর পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ফারিয়ার মরদেহ স্থানীয়রা উদ্ধার করেছে। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকালে চাতলপাড়ের মেঘনার তীরে শিশু ফারিয়ার মরদেহ ভেসে ওঠে।
গত মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে বাড়ির পাশের মেঘনা নদীতে গোসল করতে গিয়ে নিখোঁজ হয় শিশু ফারিয়া। সে চাতলপাড় ইউনিয়নের কাঁঠালকান্দি গ্রামের সাখাওয়াত মিয়ার মেয়ে। স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী হিসেবে তার পরিচিতি রয়েছে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার দুপুরে ফারিয়া তার চাচাতো ভাই-বোনদের সঙ্গে বাড়ির পাশের মেঘনা নদীতে গোসল করতে যায়। হঠাৎ করে সে স্রোতের পানিতে নদীতে তলিয়ে যায়। এ সময় তার সাথে থাকা শিশুরা তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করে। তবে তারা বয়সে ছোট হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে তাকে উদ্ধার করতে পারেনি।
একপর্যায়ে ফারিয়ার সঙ্গে থাকা শিশুরা তাদের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় লোকজনকে খবর দেয়। এরপর স্বজন ও এলাকাবাসী নদীতে নেমে শিশুটিকে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে ফায়ার সার্ভিসের একটি টিম সারাদিন চেষ্টা করে মরদেহ উদ্ধার করতে ব্যর্থ হয়। অবশেষে বৃহস্পতিবার সকালে চাতলপাড়রের ফকিরদিয়া নামক স্থানে তার মরদেহ ভেসে ওঠে।
নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহিনুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা মহানগর পশ্চিম শাখা ছাত্রদলের নতুন কমিটি নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে আলোচনা ও তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। নতুন নেতৃত্বে শীর্ষ পর্যায়ে নতুন মুখ আসবে কি না, অথবা সদ্য বিলুপ্ত কমিটির নেতাদের মধ্য থেকেই সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হবে—এ নিয়ে চলছে নানা হিসাব-নিকাশ। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে একাধিক নেতার নাম আলোচনায় রয়েছে। তবে নতুন কমিটি গঠনে আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা, কারাবরণের অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক দক্ষতা ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তিকে গুরুত্ব দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানাচ্ছে, রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে কমিটি বিলুপ্ত হলেও সাবেক নেতৃত্বের একাংশ আগের কমিটির নেতাদের মধ্য থেকেই নতুন নেতৃত্ব দেখতে চান। অন্যদিকে, নতুন কমিটিতে গ্রহণযোগ্য ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির নেতাদের মূল্যায়নের বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে। সব মিলিয়ে নতুন নেতৃত্বে কারা আসবেন, তা নিয়ে পদপ্রত্যাশীদের মধ্যে বেড়েছে দৌড়ঝাঁপ।
গত ৩০ সেপ্টেম্বর ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের দপ্তর সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ঢাকা মহানগর পশ্চিম শাখা ছাত্রদলের কমিটি বিলুপ্তির ঘোষণা দেওয়া হয়। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, কমিটিটি মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে শিগগিরই নতুন কমিটি ঘোষণা করা হবে বলেও উল্লেখ করা হয়। এরপর থেকেই সম্ভাব্য নেতৃত্ব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। নেতাকর্মীরা যেকোনো সময় নতুন কমিটি ঘোষণা হতে পারে—এমন প্রত্যাশা করছেন।
এর আগে ২০২৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর ঢাকা মহানগর পশ্চিম শাখা ছাত্রদলের নয় সদস্যের আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিল। ওই কমিটিতে মো. রবিন খানকে সভাপতি এবং আকরাম আহমেদকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছিল। পরে চলতি বছরের ৪ এপ্রিল ইউনিটটির পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়। পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার কয়েক মাসের মধ্যেই তা বিলুপ্ত হওয়ায় নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন নিয়ে সংগঠনের ভেতরে আলোচনা আরও জোরালো হয়েছে।
সভাপতি-সম্পাদক পদে একাধিক নাম
নতুন কমিটির সভাপতি পদে আলোচনায় রয়েছেন বিলুপ্ত কমিটির সদ্য সাবেক সাধারণ সম্পাদক আকরাম আহমেদ, সাবেক সহসভাপতি মোতহার হোসেন নিলয়, গোলাম মাওলা গোলাপ, কাউসার খান ও কাজী শাওন আলম।
অন্যদিকে, সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় রয়েছেন বিলুপ্ত কমিটির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া খান সিজার, মিরপুর কলেজ ছাত্রদলের সদস্যসচিব শরীফুল ইসলাম সুমন, সাবেক দপ্তর সম্পাদক শহীদুল আলম এবং সাবেক প্রচার সম্পাদক সাইফুল ইসলাম সজীব। তবে এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় সংসদের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কারও নাম ঘোষণা করা হয়নি।
পদপ্রত্যাশীদের মধ্যে কয়েকজনের দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড ও আন্দোলন-সংগ্রামে অংশগ্রহণের বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। বিশেষ করে সাবেক সাধারণ সম্পাদক আকরাম আহমেদের সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা এবং বিএনপির আন্দোলন-সংগ্রামে তার ভূমিকার কথা সামনে আনছেন সংশ্লিষ্টরা।
আকরাম আহমেদ ২০১৬ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি বাংলা কলেজ ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে ২০২১ সালের ১১ আগস্ট ঢাকা মহানগর পশ্চিম ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হন। ২০২৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর তাকে মহানগর পশ্চিম ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক করা হয়।
দলীয় আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকার কারণে ২০১৫ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সাতবার গ্রেপ্তার হয়ে কারাবরণ করেছেন বলে জানা গেছে। এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে ২৪টি রাজনৈতিক মামলা রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০১৫ সালে অবরোধ কর্মসূচি চলাকালে পুলিশের গুলিতে তার ডান পায়ের হাঁটুর জয়েন্টে গুলি লাগে। আহত অবস্থায় তাঁকে প্রায় সাত মাস কারাভোগ করতে হয়।
ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়নের দাবি
নতুন কমিটিতে দায়িত্ব পাওয়ার বিষয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরে পদপ্রত্যাশী মোতহার হোসেন নিলয় আমার দেশকে বলেন, “দল আমাকে যেখানে মূল্যায়ন করবে, সেখানে আমি দায়িত্ব পালন করব। দল যদি মনে করে, দলের দুর্দিনে আমার অবদান রয়েছে, তাহলে আমাকে যেখানে দায়িত্ব পালন করতে বলবে, সেখানেই দায়িত্ব পালন করব।”
অন্যদিকে, সাধারণ সম্পাদক পদপ্রত্যাশী শরীফুল ইসলাম সুমন আমার দেশকে বলেন, “দলের দুর্দিনে নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করতে হবে। বিশেষ করে যারা দলের আন্দোলন-সংগ্রামে ছিলেন, তাদের নিয়ে কমিটি গঠন করা হোক। অতীতে দলের প্রয়োজনে যেখানে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, সেখানে দায়িত্ব পালন করেছি। আগামীতেও দল যেখানে উপযুক্ত মনে করবে, সেখানে দায়িত্ব পালন করব।”
আরেক পদপ্রত্যাশী ছাত্রদল নেতা জাকারিয়া খান সিজার আমার দেশকে বলেন, “দলের আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়েছি, জেল-জুলুম ও নানা নির্যাতনের শিকার হয়েছি। দলের কঠিন সময়ে, যখন প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে বিএনপিকে যেতে হয়েছে, তখনও দলের পাশে ছিলাম। দলের দুঃসময়ে রাজপথে থেকে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছি, দলের আদর্শ ও লক্ষ্য বাস্তবায়নে কাজ করেছি। এখন দল রাষ্ট্রক্ষমতায়, দলের সুসময় চলছে। এই সময়ে আমার ব্যক্তিগত চাওয়া-পাওয়ার চেয়ে দলীয় সিদ্ধান্ত ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলা আমার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। দল আমাকে যেখানে যে দায়িত্ব পালনের জন্য উপযুক্ত মনে করবে, সেখানেই আমি দায়িত্ব পালন করতে প্রস্তুত। দলের প্রয়োজনে যেকোনো দায়িত্ব নিষ্ঠা, সততা ও আন্তরিকতার সঙ্গে পালন করতে চাই। ছাত্রদলের সাংগঠনিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করা এবং দলের আদর্শে নতুন প্রজন্মকে উদ্বুদ্ধ করাই আমার লক্ষ্য।”
আন্দোলন-সংগ্রামে পরীক্ষিতদের গুরুত্ব
নতুন কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় থাকা, হামলা-মামলার শিকার হওয়া এবং কারাবরণের অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দেওয়া হতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদ পেতে ছাত্রদলের একাধিক নেতা তৎপরতা চালাচ্ছেন। তাদের কেউ কেউ বিএনপির জাতীয় পর্যায়ের নেতা এবং ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। নিজেদের সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা, রাজনৈতিক ত্যাগ ও অতীত কর্মকাণ্ড তুলে ধরে নেতৃত্বের দৌড়ে এগিয়ে থাকার চেষ্টা করছেন তারা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য, পদপ্রত্যাশীদের কর্মকাণ্ড যাচাই-বাছাই করে নতুন নেতৃত্ব নির্ধারণ করা হবে। আন্দোলন-সংগ্রামে সামনের সারিতে থাকা এবং রাজনৈতিক নিপীড়ন, হামলা ও মামলার শিকার হওয়ার বিষয়গুলোও বিবেচনায় আসতে পারে। তবে শেষ পর্যন্ত কারা নেতৃত্বে আসছেন, তা নির্ভর করছে কেন্দ্রীয় সংসদের সিদ্ধান্তের ওপর।
নতুন কমিটি ঘোষণার সম্ভাব্য সময় ও নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রক্রিয়া সম্পর্কে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির আমার দেশকে বলেন, “শিগগিরই নতুন কমিটি ঘোষণার কাজ চলছে। নতুন কমিটিতে আন্দোলন-সংগ্রামে পরীক্ষিত নেতাদের মূল্যায়ন করা হবে। ইতোমধ্যে পদপ্রত্যাশীদের সঙ্গে আমরা যোগাযোগ করছি। তাঁদের বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
টাঙ্গাইলের মধুপুরে পাঁচ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি আব্দুল খালেককে (৭৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বিকেল পাঁচটার দিকে উপজেলার কাকরাইদ চৌরাস্তা মোড় থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত আব্দুল খালেক বোকারবাইদ নতুন বাজার এলাকার মৃত বসু চকদারের ছেলে।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার (১৯ অক্টোবর) বেলা আনুমানিক ৩টার দিকে প্রতিবেশী আব্দুল খালেক কলা দেওয়ার কথা বলে শিশুটিকে নিজের বাড়িতে ডেকে নিয়ে যান। পরে তাকে ঘরের ভেতরে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও শিশুটি বাড়িতে ফিরে না আসায় তার মা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। এর আগে শিশুটি মাকে জানিয়েছিল, দাদা খালেক তাকে কলা দেওয়ার কথা বলে ডাকছেন।
একপর্যায়ে শিশুটির মা খালেকের বাড়িতে গিয়ে ঘরের ভেতর থেকে শব্দ শুনতে পান। পরে টিনের দরজায় ধাক্কা দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে তিনি শিশুটির পোশাক খোলা অবস্থায় এবং খালেককে ধর্ষণচেষ্টারত অবস্থায় দেখতে পান বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। এ সময় শিশুটির মা চিৎকার করে দরজার ছিটকিনি আটকে দেওয়ার চেষ্টা করলে অভিযুক্ত খালেক জোরপূর্বক ছিটকিনি খুলে পালিয়ে যান বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।
এ ঘটনায় শিশুটির পরিবারের পক্ষ থেকে মধুপুর থানায় আব্দুল খালেককে আসামি করে মামলা করা হয়। মামলা দায়েরের পর থেকেই তিনি আত্মগোপনে ছিলেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মধুপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম ফজলুল হকের নির্দেশনায় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) রফিকের নেতৃত্বে পুলিশ অভিযান চালায়। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) উপজেলার কাকরাইদ চৌরাস্তা মোড় হতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মধুপুর থানার ওসি জানান, মামলা দায়েরের পর থেকেই আসামিকে গ্রেপ্তারে পুলিশ তৎপর ছিল। বৃহস্পতিবার বিকেলে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ