ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

সীমান্তে কুঁড়িয়ে পাওয়া মর্টারশেল বিস্ফোরণে প্রাণ গেল বাংলাদেশি শিশুর


সীমান্তে কুঁড়িয়ে পাওয়া মর্টারশেল বিস্ফোরণে প্রাণ গেল বাংলাদেশি শিশুর

বান্দরবান জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি ঘুমধুম সীমান্তে পরিত্যক্ত মর্টারশেল বিস্ফোরণের ঘটনায় সুমিনাইং তঞ্চঙ্গা (৯) নামের একজন বাংলাদেশি শিশু নিহত হয়েছেন।

এটি ঘটেছে মঙ্গলবার (২ জুন) দুপুর দেড়টার আশেপাশে, যখন ঠাসবাঁধা বাইশফাঁড়ি সীমান্তবর্তী ৩৯ ও ৪০ পিলার মাঝামাঝি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত সুমিনাইং তঞ্চঙ্গা বাইশফাঁড়ি তংচঙ্গ্যা গ্রামের কিংহলা তঞ্চঙ্গার সন্তান ছিলেন।

আরও পড়ুন: কক্সবাজারের টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে নিহত মুক্তার দাফন সম্পন্ন

রামু বিজিবির সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মহিউদ্দিন আহমেদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ঘুমধুম সীমান্তে পরিত্যক্ত মর্টারশেল বিস্ফোরণের ফলে বাংলাদেশি এক শিশু নিহত হয়েছে। বিজিবির সদস্যরা স্থানীয়দের সহযোগিতায় তার মরদেহ উদ্ধার করেছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা ও জনপ্রতিনিধিরা জানান, সকালে শিশুটি তার মায়ের সাথে জুমের কাজ করতে গিয়েছিল। তখন দুপুরের দিকে জুমের বাগানের নিচে কাঁটাতারের পাশে শিশুটি একটি পরিত্যক্ত মর্টারশেল কুঁড়িয়ে পায়। পরে সে মর্টারশেলটি জুম ঘরে নিয়ে খেলতে থাকে। একটি পর্যায়ে, মর্টারশেলটি হঠাৎ করে বিস্ফোরিত হয়। এই বিস্ফোরণের ফলে ঘটনাস্থলেই শিশুটি প্রাণ হারায়। পরে বিজিবি এবং পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করে।

ঘুমধুম ইউপি সদস্য বাবুল চাকমা জানান, দুপুরের দিকে মর্টারশেল নিয়ে খেলতে গিয়ে শিশুটি নিহত হয়েছে। তার মরদেহ উদ্ধার করে সড়কের পাশে আনা হয়েছে।

নাইক্ষ্যংছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাম্মেল হক জানান, মিয়ানমার সীমান্তে জুমের কাজ করতে গিয়ে শিশুটি নিহত হয়েছে। তবে কিভাবে তার মৃত্যু হয়েছে সে সম্পর্কে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। মরদেহ উদ্ধার করে আনা হয়েছে এবং বিস্তারিত পরে জানানো হবে।

আরও পড়ুন: ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন: সকাল হলে ভাগ্য নির্ধানের পালা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইবোলা কেন্দ্র স্থাপন ঘিরে উত্তেজনা, কেনিয়ায় পুলিশের গুলিতে নিহত দুই

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২ই জুন, ২০২৬ ইং

০৮:০৪ পি.এম


ইবোলা কেন্দ্র স্থাপন ঘিরে উত্তেজনা, কেনিয়ায় পুলিশের গুলিতে নিহত দুই

কেনিয়ার মধ্যাঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের একটি পরিকল্পনার বিরুদ্ধে ইবোলা কোয়ারেন্টিন কেন্দ্র স্থাপনের জন্য বিক্ষোভ চলাকালীন পুলিশ গুলিতে অন্তত দুইজন নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (২ জুন) একটি নিরাপত্তা কর্মকর্তার মাধ্যমে বার্তা সংস্থা রয়টার্সে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়।

যুক্তরাষ্ট্র কেনিয়ার নানয়ুকি শহরের লাইকিপিয়া বিমান ঘাঁটির কাছে ৫০ শয্যার এই কোয়ারেন্টিন কেন্দ্র স্থাপন করতে পরিকল্পনা করেছে যা কঙ্গো এবং উগান্ডায় ইবোলা ভাইরাস দ্বারা সংক্রমিত মার্কিন নাগরিকদের রাখার জন্য। তবে স্থানীয় বাসিন্দারা এতে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে এবং তারা প্রতিবাদ জানিয়েছে যে, এই কেন্দ্রের কারণে নিজেদের দেশের জনগণ ইবোলার ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

তারা অভিযোগ করেছে যে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের নাগরিকদের স্বাস্থ্য সংক্রান্ত ঝুঁকি জোর করে কেনিয়ার ওপর চাপিয়ে দিচ্ছে। সোমবার (১ জুন) নানয়ুকি শহরে শত শত মানুষ এই কেন্দ্রটি নির্মাণের বিরুদ্ধে রাস্তায় বিক্ষোভে নামে। তারা টায়ার পুড়িয়ে এবং রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করে। পুলিশ কাঁদানে গ্যাস এবং গুলি ছুড়ে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে।

বিক্ষোভের প্রধান সংগঠক প্যাট্রিক ওয়াহোমে বলেছেন, পুলিশের গুলিতে দুইজন নিহত হয়েছে। এক নিরাপত্তা কর্মকর্তা এ মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন, তবে মৃত্যুর কারণ সুনির্দিষ্টভাবে জানাননি। পুলিশ মুখপাত্র মাইকেল মুচিরি এই মৃত্যুর বিষয়টি সম্পর্কে কিছু জানা নেই বলে দাবি করেছেন।

গত সপ্তাহে কেনিয়ার একটি আদালত মানবাধিকার গোষ্ঠীর করা মামলার পরিপ্রেক্ষিতে এই কোয়ারেন্টিন কেন্দ্র নির্মাণের কাজ সাময়িকভাবে স্থগিত করেছিল। কিন্তু আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকার পরও গত কয়েক দিনে মার্কিন সামরিক বিমানগুলো সেখানে কর্মী ও যন্ত্রপাতি আনা-নেওয়া অব্যাহত রেখেছে, যার ফলে জনরোষ আরও বেড়ে গেছে।

মঙ্গলবার আদালত কোয়ারেন্টিন কেন্দ্র নির্মাণের নিষেধাজ্ঞা আরও তিন সপ্তাহ বাড়িয়েছে এবং কেনিয়া সরকারকে ওয়াশিংটনের সঙ্গে এই কেন্দ্রটি স্থাপন সংক্রান্ত চুক্তি ৭ দিনের মধ্যে প্রকাশ করার নির্দেশ দিয়েছে। মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে ২৩ জুন। বিক্ষোভ ও আদালতের নিষেধাজ্ঞার পরেও ইবোলা কোয়ারেন্টিন কেন্দ্র স্থাপনের পক্ষে কেনিয়ার প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম রুটো সাফাই গেয়েছেন। সোমবার রাতে এই বিতর্কিত বিষয়ে প্রথমবারের মতো তিনি মুখ খুলেছেন।

কেন্দ্রটির সমালোচনা প্রত্যাখ্যান করে রুটো বলেন, এই কেন্দ্র কেনিয়ার জাতীয় মহামারী প্রস্তুতি পরিকল্পনার অংশ এবং এটি ওয়াশিংটনের সঙ্গে দীর্ঘকালীন স্বাস্থ্য অংশীদারিত্বের একটি নিদর্শন। তবে তিনি বক্তব্য দেওয়ার সময় এই কেন্দ্র স্থাপনে আদালতের স্থগিতাদেশের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।

বর্তমানে পূর্ব কঙ্গো এবং প্রতিবেশী উগান্ডাতে ইবোলা ভাইরাসের বিরল ‘বুন্দিবুগিও’ স্ট্রেনের প্রাদুর্ভাব চলছে। এই অঞ্চলে ৯০০-এর বেশি সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত হয়েছে এবং ২২০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভাইরাসটি দীর্ঘ সময় ধরে শনাক্ত না হওয়ায় প্রকৃত পরিস্থিতি সরকারি হিসাবের চেয়ে অনেক বেশি ভয়াবহ। অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে, তারা কোনো ইবোলা আক্রান্ত রোগীকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে দেবে না এবং দিতে পারে না।

২০১৪-২০১৬ সালের পশ্চিম আফ্রিকায় ইবোলা প্রাদুর্ভাবের সময় বেশ কয়েকজন মার্কিন নাগরিককে চিকিৎসার জন্য দেশে ফিরিয়ে নেওয়া হলেও এবার সেই পথ মাড়াচ্ছে না ওয়াশিংটন। গত মাসে কঙ্গোতে আক্রান্ত হওয়া এক মার্কিন ধর্মপ্রচারক ও তার সংস্পর্শে আসা আরও পাঁচজনকে চিকিৎসার জন্য জার্মানিতে এবং অন্য একজনকে চেক প্রজাতন্ত্রে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

নানয়ুকির ইবোলা কোয়ারেন্টিন কেন্দ্রটি মূলত মার্কিন স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের কর্মীরা পরিচালনা করবেন। যারা ভাইরাসের সংস্পর্শে এসেছেন কিন্তু এখনো কোনো উপসর্গ দেখা দেয়নি, তাদের সাময়িকভাবে সেখানে রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। রোগীদের শরীরে লক্ষণ প্রকাশ পেলে তাদের চিকিৎসার জন্য অন্য দেশে স্থানান্তর করা হবে।

কেনিয়ার প্রেসিডেন্ট রুটো জানান, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্বয়ং কেনিয়াকে এই বিষয়ে সহযোগিতার জন্য অনুরোধ করার পর তিনি এই কেন্দ্র স্থাপনের অনুমোদন দেন। এটি কেনিয়ান এবং বিদেশী উভয় নাগরিকের জন্য সেবা প্রদান করবে বলে তিনি দাবি করেন, যদিও মার্কিন কর্মকর্তারা এই দাবির বিষয়ে এখনও কোনো নিশ্চয়তা দেননি। সমালোচকদের উদ্দেশ্যে রুটো বলেন, আমরা একটি দায়িত্বশীল সরকার। আমরা জানি আমরা কী করছি।

তথ্য সূত্র- রয়টার্স।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিগ ব্যাশে একীভূত হচ্ছে দুই মেলবোর্ন দল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২ই জুন, ২০২৬ ইং

০৮:০৬ পি.এম


বিগ ব্যাশে একীভূত হচ্ছে দুই মেলবোর্ন দল

অস্ট্রেলিয়ার বিগ ব্যাশ লিগে (বিবিএল) বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস পাওয়া গেছে। দীর্ঘ সময় ধরে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করা মেলবোর্ন স্টার্স এবং মেলবোর্ন রেনেগেডসকে একীভূত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ক্রিকেট ভিক্টোরিয়া। একসাথে, তাদের একটি লাইসেন্স বেসরকারি বিনিয়োগকারীর কাছে বিক্রি করার পরিকল্পনাও করা হয়েছে।

অস্ট্রেলিয়ার সংবাদমাধ্যম 'দ্য এজ'-এর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, মঙ্গলবার (২ জুন) ক্রিকেট ভিক্টোরিয়ার প্রধান নির্বাহী নিক কামিন্স কর্মীদের কাছে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।

এটি মূলত, ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া ধাপে ধাপে এমন একটি মডেল চালু করছে, যার মাধ্যমে রাজ্য ক্রিকেট সংস্থাগুলো নিজেদের বিবিএল ফ্র্যাঞ্চাইজির অংশীদারিত্ব বিক্রি করতে পারবে। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তবে স্টার্স এবং রেনেগেডসের একীভূতকরণের কার্যকরী সময়সূচি আগামী মৌসুমের আগেই হবে কি না, সে ব্যাপারে এখনও নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। পরবর্তী বিবিএল মৌসুম চলতি বছরের শেষের দিকে শুরু হওয়ার কথা।

প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়েছে, খেলোয়াড়দের বর্তমান চুক্তি এবং স্কোয়াডে কোনো তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা নেই। নতুন ভিক্টোরিয়ান দলটি ‘মেলবোর্ন’ নামেই পরিচিত হবে এবং তাদের জার্সির প্রধান রং নেভি ব্লু হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে দলের নতুন লোগো কিংবা ডাকনাম এখনও চূড়ান্ত হয়নি।

এটি উল্লেখযোগ্য যে, মেলবোর্ন স্টার্স এবং মেলবোর্ন রেনেগেডস—দুইটি দলই বিবিএলের শুরু থেকে টানা ১৫টি মৌসুমে অংশগ্রহণ করে আসছে। সম্ভাব্য এই একীভূতকরণ বাস্তবায়িত হলে, অস্ট্রেলিয়ার ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে এটি অন্যতম বড় সাংগঠনিক পরিবর্তন হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ব্রিটিশ আমলে তৈরি হাসপাতাল দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত, পুনরায় চালুর দাবি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২ই জুন, ২০২৬ ইং

০৮:০৬ পি.এম


ব্রিটিশ আমলে তৈরি হাসপাতাল দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত, পুনরায় চালুর দাবি

 

সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলার সাচনা বাজারে ব্রিটিশ আমলে নির্মিত একটি হাসপাতাল দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি সময় ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। একসময় হাওরাঞ্চলের আশপাশের কয়েকটি থানার মানুষের চিকিৎসাকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত হাসপাতালটি বর্তমানে জরাজীর্ণ ও অবহেলিত অবস্থায় রয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, যদি হাসপাতালটি পুনরায় চালু করা হয় তাহলে সুরমা নদীর উত্তরপাড়ের তিনটি ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত হবে।

স্থানীয় প্রবীণদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ব্রিটিশ শাসনামলে সাচনা বাজারে প্রতিষ্ঠিত হয় হাসপাতালটি। সে সময় এর নাম ছিল ‘সাচনা থানা ডিসপেনসারি’। ১৯৪০ সালে জামালগঞ্জ থানা প্রতিষ্ঠার আগেই হাসপাতালটি এ অঞ্চলের মানুষের চিকিৎসাসেবার প্রধান ভরসা হয়ে উঠেছিল।

তৎকালীন আসাম প্রাদেশিক সরকারের উদ্যোগে যে হাসপাতালটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, সেটি জামালগঞ্জ ছাড়াও তাহিরপুর, ধর্মপাশা, বিশ্বম্ভরপুরসহ হাওরাঞ্চলের বিভিন্ন থানার মানুষ চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করতেন।

পরবর্তীতে ১৯৭৭ সালে হাসপাতালটির কার্যক্রম সুরমা নদীর দক্ষিণপাড়ে স্থানান্তর করা হয়, যা বর্তমানে উপজেলা সদর। পরে ১৯৮২ সালে সেখানেই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রতিষ্ঠা হলে ব্রিটিশদের নির্মিত এই হাসপাতালটির কার্যক্রম স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যায়। এরপর থেকে হাসপাতালটি পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে।

বর্তমানে হাসপাতালটির ভবন জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। ওয়ান-ইলেভেন সরকারের সময় অবৈধ দখলমুক্ত করে সেখানে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করা হয়। হাসপাতালের আশপাশে বাজারের বর্জ্য ফেলার কারণে অনেক জায়গা ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। হাসপাতালটির পাশেই রয়েছে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত শহীদ মিনার এবং বীর বিক্রম শহীদ সিরাজুল ইসলামের স্মৃতিফলক।

হাসপাতালটি সংস্কার ও পুনরায় চালুর দাবিতে গত বছরের জুলাই মাসে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক ও সিভিল সার্জন এবং জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন জানান সাচনা বাজার বণিক কল্যাণ সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক ও উপজেলা শ্রমিক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. খুরশিদ আলম।

তিনি বলেন, জামালগঞ্জ উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের মধ্যে জামালগঞ্জ সদরসহ তিনটি ইউনিয়ন সুরমা নদীর দক্ষিণ পাড়ে এবং বাকি তিনটি ইউনিয়ন সুরমা নদীর উত্তর পাড়ে অবস্থিত। উত্তরপাড়ের তিন ইউনিয়নের মানুষকে চিকিৎসাসেবা নিতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যেতে নদী পার হতে হয়। বিশেষ করে রাতের বেলা জরুরি রোগী, প্রসূতি নারী কিংবা মুমূর্ষু রোগীদের হাসপাতালে নিতে গিয়ে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয় স্বজনদের। অনেক সময় সময়মতো নদী পারাপার সম্ভব না হওয়ায় জটিল পরিস্থিতিরও সৃষ্টি হয়। তাই সাচনা বাজারের পুরোনো হাসপাতালটি পুনরায় চালু হলে উত্তরপাড়ের লক্ষাধিক মানুষ প্রাথমিক ও জরুরি স্বাস্থ্যসেবা সহজেই পাবে। এ কারণে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ওপর চাপও কমবে।

জামালগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ছোটবেলায় আমরা এই হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা দিতে দেখেছি। কিন্তু সময়ের সঙ্গে হাসপাতালটি তার কার্যক্রম ও জৌলুস হারিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে আমরা এটি পুনরায় চালুর দাবি জানিয়ে আসছি। দ্রুত হাসপাতালটি চালু করা প্রয়োজন।’

জামালগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মঈন উদ্দিন আলমগীর বলেন, ‘চিকিৎসাসেবার সুবিধার্থে পুরোনো এই হাসপাতালটি চালুর বিষয়ে আমরা প্রস্তাবনা পাঠিয়েছি।’

এ বিষয়ে জামালগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মিনহাজুল ইসলাম বলেন, ‘আমি আপনার কাছে জানতে পারলাম এ ব্যাপারটি। সদ্য বিদায়ী ইউএনও স্যার এ বিষয়ে কতটুকু কাজ অগ্রগতি করেছেন তার ব্যাপারে আমি খোঁজ খবর নেব। এবং স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হাসপাতালটি পুনরায় চালুর ব্যাপারে আমরা দ্রুত কাজ করব।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নবীনগরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত অন্তত ১০ জন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২ই জুন, ২০২৬ ইং

০৮:০৬ পি.এম


নবীনগরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত অন্তত ১০ জন

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলায় আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ববিরোধের জের ধরে সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল থেকে বিটঘর ইউনিয়নের টিয়ারা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে যে, টিয়ারা গ্রামে আধিপাত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আতিকুর রহমান ওরফে শিশু মিয়া এবং সাবেক চেয়ারম্যান আবুল হোসেনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এই বিরোধের কারণে দুই পক্ষের মধ্যে কয়েকদিন ধরে উত্তেজনা বিরাজ করছিল।

পূর্ববিরোধের জেরে এক পক্ষের হামালাকে কেন্দ্র করে সোমবার রাতে স্থানীয় ইউপি সদস্য বাছির মিয়ার বাড়িতে দুই পক্ষের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পূর্বের বিরোধ ও গত রাতের সংঘর্ষের জেরে সকালে উভয়পক্ষের লোকজন দা, ছুরি, টেঁটা ও বল্লমসহ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে টিয়ারা বাজারে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষ সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত চলতে থাকে। সংঘর্ষ চলাকালে বাজারজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে, এসময়ে টিয়ারা বাজারে বেশ কয়টি দোকানপাটের ওপর হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনাও ঘটে।

সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছায় এবং সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের ১০ জন আহত হয়েছে।

আবুল হোসেনের পক্ষের আহমেদ হোসেন অভিযোগ করেন যে, বাজারে তাদের লোকজনের ওপর আতিকুর রহমান ওরফে শিশু মিয়ার পক্ষের লোকজন অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে প্রথমে হামলা চালায়। তারা নিজেদের প্রতিরোধের চেষ্টা করলে প্রতিপক্ষের লোকজন বাজারের কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট শুরু করে।

আতিকুর রহমান জানান, হোসেনের পক্ষের লোকজনই প্রথমে তার ওপর হামলা চালায়। তারা তাদের পক্ষের একজনকে হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে, এতে তাদের পক্ষের একজন গুরুতর আহত হন। তারা শুধু আত্মরক্ষার চেষ্টা করেছেন।

নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোরশেদ আলম চৌধুরী বলেন, গ্রামের আধিপাত্য বিস্তার নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে বিরোধে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ পুলিশের নিয়ন্ত্রণে ও শান্ত রয়েছে এবং এলাকাতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%