বৃহস্পতিবার, ৯ই জুলাই, ২০২৬ ইং
০৬:১২ পি.এম
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, দিল্লি, নিউইয়র্ক, লন্ডন, জেনেভাসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন মিশনে বড় ধরনের রদবদল সম্প্রতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম ব্যাখ্যা দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকরা সাম্প্রতিক রদবদল নিয়ে প্রশ্ন করেন।
জবাবে শামা ওবায়েদ বলেন, সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে চেঞ্জ হবে, রদবদল হবে, নতুন লোক আসবে। এটি তো চলমান প্রক্রিয়া। এটি তো কোনো নতুন বিষয় নয়। যখন সরকারের পক্ষ থেকে একটি স্টেটমেন্ট যাবে, সরকারের পক্ষ থেকে প্রকাশ হবে, তখনই আপনারা জানতে পারবেন কেন, কোথায়, কীভাবে এবং কোন কারণে রদবদল হচ্ছে। কিন্তু এটি চলছে।
এই রদবদলের পেছনে বিএনপি করা বা না করার কোনো বিষয় জড়িত কি না, এমন প্রশ্নের উত্তরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, না, না, বিএনপি করা অথবা কোনো বিষয় নয়। তবে বাংলাদেশ সরকার বর্তমানে, যদি আপনি প্রধানমন্ত্রীর কাজগুলো ফলো করেন, তার সিদ্ধান্তগুলো ফলো করেন— পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ প্রত্যেকটি মন্ত্রণালয়ে তিনি কাজের প্রতি গুরুত্বপূর্ণ হলে, দক্ষতাকে (এফিশিয়েন্সিকে) গুরুত্ব দেন। কে কতটুকু কাজে পারদর্শী, কে কতটুকু আন্তরিকভাবে দেশের জন্য কাজ করতে পারছে, দেশের প্রতি কার আন্তরিকতা আছে, সেটাই যেকোনো মন্ত্রণালয়ে বিবেচনার বিষয়।
তিনি আরও জানান, দেশের প্রতি ভালোবাসা, দেশের প্রতি আন্তরিকতা, কাজের প্রতি ডেডিকেশন (উৎসর্গ) এবং এফিসিয়েন্সি— এগুলোর বিচারেই যেকোনো মন্ত্রণালয়ে আমাদের রদবদল হয়। এটি চলমান প্রক্রিয়া; যখন ফাইনাল হবে, তখন সরকারের পক্ষ থেকে গ্যাজেট প্রকাশ হবে, তখন আপনারা জানতে পারবেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আগামী ৭ আগস্ট থেকে ঢাকা-রিয়াদ সরাসরি ফ্লাইট শুরু করতে যাচ্ছে সৌদি আরবের নতুন জাতীয় বিমান সংস্থা ‘রিয়াদ এয়ার’। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ঢাকা-রিয়াদ রুটে ফ্লাইটের টিকিট বিক্রি শুরুর ঘোষণা দিয়েছে বিমান সংস্থাটি।
সৌদি আরবকে বিশ্বের প্রধান শহরগুলোর সঙ্গে যুক্ত করা এবং যাত্রীদের জন্য বিশ্বমানের ভ্রমণ অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করাই রিয়াদ এয়ারের মূল লক্ষ্য।
রিয়াদ এয়ারের এই নতুন সার্ভিস ঢাকা ও রিয়াদের মধ্যে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করবে এবং দক্ষিণ এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে যোগাযোগ সহজ করবে।
বাণিজ্য ও অবকাশ, উভয় ক্ষেত্রেই ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে এই রুটটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
আগামী ৭ আগস্ট থেকে রিয়াদ এয়ারের নতুন বোয়িং ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং রিয়াদের কিং খালিদ ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট রুটে প্রতিদিন সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনা করবে।
রিয়াদ থেকে ঢাকা (স্থানীয় সময়ে)–রিয়াদ থেকে ছাড়বে রাত ৯টা ২০ মিনিটে এবং ঢাকা পৌঁছাবে পরদিন সকাল ৬টা ১০ মিনিটে। ঢাকা থেকে রিয়াদ (স্থানীয় সময়ে)–ঢাকা থেকে ছাড়বে সকাল ৭টা ৪০ মিনিটে এবং রিয়াদ পৌঁছাবে সকাল ১০টা ৫৫ মিনিটে।
বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক সম্পর্ক ও ক্রমবর্ধমান কৌশলগত সহযোগিতার একটি মজবুত ভিত্তি রয়েছে। এই শক্তিশালী অংশীদারি এখন ভ্রমণ ও অবকাশের এক নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করছে এবং ঢাকা-রিয়াদ রুটে এই প্রিমিয়াম সার্ভিস সেই যাত্রাকে আরো দৃঢ় করে তুলবে।
সৌদি আরবের রাজধানী ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে রিয়াদ বাংলাদেশি যাত্রীদের জন্য বাণিজ্যিক সুযোগ, আধুনিক অভিজ্ঞতা, বিনোদনকেন্দ্র এবং প্রগতিশীল অর্থনীতির এক নতুন দ্বার খুলে দিচ্ছে। সরাসরি যাতায়াত করতে পারলে বাংলাদেশি যাত্রীরা আন্তর্জাতিক মানের লাইফস্টাইল ইভেন্ট, বাণিজ্যিক কার্যক্রম, উচ্চশিক্ষার সুযোগ ইত্যাদি সহজেই উপভোগ করতে পারবে। এছাড়া রিয়াদ একটি গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট হাব হিসেবেও কাজ করবে। ফলে রিয়াদ এয়ারের নেটওয়ার্ক ও কোডশেয়ার পার্টনারশিপের মাধ্যমে ঢাকার যাত্রীরা বিশ্বের বিভিন্ন গন্তব্যে সহজেই পৌঁছাতে পারবে।
রিয়াদ এয়ার অ্যাপ, ওয়েবসাইট কিংবা পছন্দের ট্রাভেল এজেন্টের মাধ্যমে টিকিট কেনা যাবে।
যাত্রীরা রিয়াদ এয়ারের লয়্যালটি প্রোগ্রাম ‘স্ফিয়ার’ এর ‘ফাউন্ডিং মেম্বার’ হতে পারবেন এবং প্রথম ফ্লাইট থেকেই সেরা অফারের গ্যারান্টি, বিনামূল্যে ওয়াই-ফাই সুবিধাসহ বিভিন্ন পুরস্কার জেতার সুযোগ পেতে পারেন।
রিয়াদ এয়ারের ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনারে ‘বিজনেস এলিট, বিজনেস, প্রিমিয়াম ইকোনমি ও ইকোনমি’ এই চারটি ক্লাস রয়েছে, যেখানে যাত্রীরা আরামদায়ক ভ্রমণ অভিজ্ঞতা ও উন্নত প্রযুক্তির ছোঁয়া উপভোগ করতে পারবেন।
প্রতিটি ক্লাসে প্রতিটি সিটের সঙ্গেই আছে ব্লুটুথ অডিও ও হেডফোন জ্যাক। বিজনেস এলিট ও বিজনেস ক্লাসে আছে সম্পূর্ণ ফ্ল্যাটবেড আসন (১-২-১ বিন্যাস), এসি পাওয়ার, ইউএসবি-সি ও ইউএসবি-এ চার্জিং, হাই-ফিডেলিটি সাউন্ড সিস্টেম, যা সরাসরি হেডরেস্টে সাউন্ড পোঁছাবে।
প্রিমিয়াম ইকোনমি ক্লাসে আছে আরামদায়ক সিট (২-৩-২ বিন্যাস), প্রাইভেসি হেডরেস্ট উইং, বাড়তি স্টোরেজ, চারটি ইউএসবি-সি চার্জিং পয়েন্ট।
ইকোনমি ক্লাসে আছে আরামদায়ক সিট (৩-৩-৩ বিন্যাস), সিক্স-ওয়ে অ্যাডজাস্টেবল হেডরেস্ট, দুটি ইউএসবি-সি চার্জিং পয়েন্ট।
আরো আছে, প্যানাসোনিক অ্যাভিওনিক্সের অ্যাস্ট্রোভা সিস্টেম, যেখানে যাত্রীরা ৫০০ এরও বেশি মুভি, ৬০০ এরও বেশি টিভি সিরিজ এবং ১০০০টি অডিও অ্যালবাম ও প্লে-লিস্ট উপভোগ করতে পারবেন। এছাড়া সকল যাত্রীরা পাবেন সৌদি-নির্মিত কায়ানি ইন-ফ্লাইট প্রোডাক্টস। শিশুদেরদের জন্য থাকবে বেস্পোক ডিজনি অ্যামেনিটি কিটস।
এই রুটের অন্যতম আকর্ষণ ‘স্ফিয়ার’ লয়্যালটি প্রোগ্রাম। এই প্রোগ্রামের বিশেষ সুবিধাগুলো হল- পয়েন্টের মেয়াদ শেষ হওয়ার কোনো তারিখ থাকবে না, বন্ধু বা পরিবারের যে কারো সঙ্গে পয়েন্ট শেয়ার, ফ্লাইটে ফ্রি ওয়াই-ফাই, গেমিফাইড চ্যালেঞ্জ ও লিডারবোর্ড, নতুন রুটে দ্রুত অ্যাক্সেসসহ ‘দ্য ফাউন্ডার্স’ ক্লাবে যোগ দেওয়ার সুযোগ ইত্যাদি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
অনলাইন ট্রেডিং অ্যাপে বিনিয়োগ করলে অল্প সময়ে মোটা অঙ্কের লাভ হবে—এমন প্রলোভন দেখিয়ে এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে প্রায় ১১ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে প্রতারণা চক্রের মূলহোতাসহ দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) নারায়ণগঞ্জ।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিকেলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেন পিবিআই নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. মোস্তফা কামাল রাশেদ।
তিনি জানান, গত ৬ জুলাই রাতে পৃথক অভিযানে ঢাকার আফতাবনগর ও নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়া মোড় এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারদের তালিকায় রয়েছে—ঢাকার বাড্ডার আফতাবনগর এলাকার বাসিন্দা মো. নাজমুল হোসেন (৪১) এবং নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার ভোলাইল শান্তিনগর এলাকায় বসবাসরত মো. হাবিব মিয়া (৩০)। পরে আদালতে তাদের হাজির করা হলে এক দিনের পুলিশ রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বাদী মো. নুর কামাল আজাদ নারায়ণগঞ্জ শহরের টানবাজার এলাকায় ব্যবসা করেন।
গত ২ মে হোয়াটসঅ্যাপে 'কামাল খান' পরিচয়ে এক ব্যক্তি আন্তর্জাতিক ট্রেডিং প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি দাবি করে তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে একটি ভুয়া অনলাইন ট্রেডিং ওয়েবসাইটে অ্যাকাউন্ট খুলে বিনিয়োগ করলে উচ্চ মুনাফার প্রলোভন দেখানো হয়।
প্রথমে পরীক্ষামূলকভাবে ১০ হাজার টাকা বিনিয়োগের পর অ্যাকাউন্টে লাভ দেখানো হয়। এতে আস্থা তৈরি হলে ১০ মে থেকে ২৪ মে পর্যন্ত বিভিন্ন বিকাশ নম্বর ও ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে ধাপে ধাপে মোট ১০ লাখ ৭৯ হাজার ৭০০ টাকা প্রতারকদের কাছে পাঠান তিনি।
পরে কোনো অর্থ ফেরত না পেয়ে প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে থানায় মামলা করেন।
পিবিআই জানায়, চক্রটি ফেসবুক, এক্স (টুইটার), ইনস্টাগ্রাম, লিংকডইন, টেলিগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ, ইমো, মেসেঞ্জার ও ভাইবারসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে সহজ-সরল মানুষকে টার্গেট করত। ভুয়া ট্রেডিং অ্যাপে বিনিয়োগের প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার পর তা দ্রুত ক্রিপ্টোকারেন্সিতে রূপান্তর করে দেশ-বিদেশে থাকা সহযোগীদের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হতো।
অভিযানের সময় গ্রেপ্তারদের কাছ থেকে একাধিক স্মার্টফোন ও একটি পকেট রাউটার জব্দ করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা প্রতারণা চক্রের কার্যক্রম সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন।
তদন্তে কম্বোডিয়া, চীনসহ বিভিন্ন দেশে অবস্থানকারী সহযোগীদের সঙ্গে তাদের যোগাযোগের তথ্যও পাওয়া গেছে।
পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার মো. মোস্তফা কামাল রাশেদ বলেন, তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর তদন্তের মাধ্যমে প্রতারণা চক্রের সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অনলাইনে বিনিয়োগ বা ট্রেডিংয়ের নামে অপরিচিত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের প্রলোভনে অর্থ লেনদেন না করার জন্য তিনি সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
তিনি আরো জানান, এক দিনের রিমান্ড শেষে আসামিদের পুনরায় আদালতে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে প্রতারণা চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সরকার আক্রমণাত্মক সতর্কীকরণ ব্যবস্থা জোরদার করেছে, জরুরি সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা বৃদ্ধি করেছে এবং ত্রাণ নির্ভর ব্যবস্থাপনা থেকে সমন্বিত ঝুঁকি হ্রাস ভিত্তিক ব্যবস্থাপনায় রূপান্তরিত করেছে। জাতীয় সংসদে এই তথ্য জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু।
আজ বৃহস্পতিবার সংসদে জামালপুর-৩ আসনের সরকারি দলের সদস্য মো. মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবের কারণে ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, আকস্মিক বন্যা, নদীভাঙন, বজ্রপাত, তাপপ্রবাহ এবং পাহাড়ধস সহ নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকিতে রয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান সরকার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাকে ত্রাণনির্ভর পদ্ধতি থেকে সমন্বিত ঝুঁকি হ্রাস ভিত্তিক ব্যবস্থাপনায় রূপান্তর করেছে।’
তিনি জানান, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় আগাম সতর্কীকরণ ও পূর্বাভাস ব্যবস্থা আরো শক্তিশালী করেছে। জরুরি পরিস্থিতিতে ব্যবহারের জন্য বহুমুখী ঘূর্ণিঝড় ও বন্যা আশ্রয়কেন্দ্রগুলো সর্বদা প্রস্তুত রাখা হচ্ছে।
মন্ত্রী আরো বলেন, দুর্যোগ মোকাবিলার জন্য সাইক্লোন প্রিপেয়ার্ডনেস প্রোগ্রাম (সিপিপি), ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং স্বেচ্ছাসেবকদের সর্বদা প্রস্তুত রাখা হয়েছে, যাতে দুর্ঘটনার সময় দ্রুত সাড়া দেওয়া যায়।
আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, অনুসন্ধান ও উদ্ধার কার্যক্রমের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সংগ্রহ করা হয়েছে। জরুরি অপারেশন সেন্টার (ইওসি) সচল রয়েছে এবং জিআর খাদ্য সহায়তা, নগদ অর্থ, শুকনা খাবার, ঢেউটিনসহ অন্যান্য ত্রাণসামগ্রীর পর্যাপ্ত মজুত নিশ্চিত করা হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, সরকার ‘অ্যান্টিসিপেটরি অ্যাকশন’ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন-২০১২ ও স্ট্যান্ডিং অর্ডার অন ডিজাস্টার (এসওডি)-২০১৯ অনুযায়ী দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটিগুলো সক্রিয় রাখা এবং সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
মন্ত্রী বলেন, এসব উদ্যোগের ফলে দুর্যোগে প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে এবং জনগণের দুর্যোগ মোকাবিলার সক্ষমতা অনেক বেড়েছে।
জরুরি সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগ তুলে ধরে মন্ত্রী বলেছেন, ‘দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা শক্তিশালীকরণ প্রকল্প'-এর (কম্পোনেন্ট-২ ও ৩) আওতায় উপকূলীয় ১২ জেলার ৩৫টি উপজেলায় টেলিযোগাযোগ সরঞ্জাম, মেগাফোন, সাইরেন, স্ট্রেচার, লাইফ জ্যাকেট, রেডিও সেট এবং প্রাথমিক চিকিৎসা কিট সরবরাহ করা হয়েছে।
এছাড়া ১২টি উপকূলীয় জেলার প্রতিটিতে একটি করে উদ্ধার স্পিডবোট প্রদান করা হবে, অর্থাৎ মোট ১২টি উদ্ধার স্পিডবোট সরবরাহ করা হবে। একই সঙ্গে বন্যাপ্রবণ পাঁচ জেলায় জরুরি উদ্ধার কার্যক্রম আরও কার্যকর করতে ৪৩টি অগভীর পানিতে চলাচল উপযোগী উদ্ধার নৌকা সরবরাহ করা হবে বলে মন্ত্রী জানান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মৌসুমি ও নিম্নচাপের প্রভাবে মধ্যরাতের ভারি বর্ষণে খুলনা মহানগরীসহ আশপাশের এলাকা আবারও জলাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। বৃষ্টি থেমে গেলেও বৃহস্পতিবারও নগরীর বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতার সমস্যা দেখা গেছে।
সাধারণ মানুষরা বেশ ভোগান্তিতে পড়েছেন। বুধবার দুপুরে হালকা বৃষ্টি হলেও রাত দেড়টার পর তা মারাত্মক আকার ধারণ করেছিল। ঘণ্টা খানেকের বৃষ্টিতে সড়ক পেরিয়ে বৃষ্টির পানি এসে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বাণিজ্যিক কার্যালয়, প্রতিষ্ঠান, আবাসিক এলাকা ও বাসাবাড়িতে প্রবেশ করেছে। এভাবে বাসা থেকে বেরিয়ে পরীক্ষা দেওয়ার জন্য শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি বিড়ম্বনায় পড়েছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরেও নগরীর বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধ অবস্থার চিত্র দেখা গেছে। নগরীর বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে যে, বুধবার দুপুরের পর থেকে হালকা বৃষ্টি অব্যাহত থাকলেও রাত দেড়টার পর ঘণ্টাব্যাপী টানা বর্ষণ শুরু হয়। ফলস্বরূপ নগরীর টুটপাড়া, নিরালা আবাসিক হাজী মেহের আলী রোড, দোলখোলা, নতুনবাজার, বাস্তুহারা কলোনি, মুজগুন্নী, বয়রা, দৌলতপুর, খালিশপুরের নিম্নাঞ্চল, শিপইয়ার্ড, লবণচরা, বাগমারাসহ আরও বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টির পানি বাসাবাড়িতে প্রবেশ করে।
বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করা টুটপাড়া এলাকার বাসিন্দা শরিফুল ইসলাম জানান, ‘ঘুমিয়ে ছিলাম। হঠাৎ জেগে দেখি—বাসার মধ্যে পানি ঢুকে গেছে। ভারি বৃষ্টি হলে ভোগান্তির একটি নতুন মাত্রা শুরু হয়। অল্প সময়ে বৃষ্টিতেই এখন পানি জমে যাচ্ছে।’
নগরীর বয়রা বাজারের বাসিন্দা পলাশ দাস বলেন, 'মুজগুন্নি স্কুল, শিক্ষা অফিসসহ আশপাশের এলাকার তলিয়ে গেছে। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের দুর্ভোগের শেষ নেই। সিটি করপোরেশনের চেষ্টা কাজে আসছে না। নদী-খাল, ড্রেনগুলো দখলমুক্ত ও পরিকল্পিত কাজ করা জরুরি। নাহলে খুলনা শহরে বসবাস অব্যাহত রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।'
খুলনা আবহাওয়া অফিসের ইনচার্জ মো. মিজানুর রহমান বলেন, 'সর্বশেষ খুলনায় রেকর্ড ৭৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। এ মৌসুমে এটি সবচেয়ে বেশি। আরো কটি দিন বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।' উল্লেখ্য, গত ১১ জুন ভারি বর্ষণের ফলে খুলনা পুরো নগরীতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। ওইদিন গড় বৃষ্টিপাতের হার ছিল ৭৫ মিলিমিটার।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ