মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৪:১৫ এম
বাংলাদেশ একটি অসাম্প্রদায়িক ও সম্প্রীতির দেশ। নোয়াখালী জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সদস্যসচিব হারুনুর রশিদ আজাদ মন্তব্য করেছেন, "এখানে হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টানসহ সব ধর্মের মানুষের সমান অধিকার রয়েছে।"
সোমবার দুপুরে নোয়াখালী জেলা পরিষদ কার্যালয়ে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ২৩টি পূজামণ্ডপে জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
চেক বিতরণকালে হারুনুর রশিদ আজাদ বলেন, "সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা।" তিনি উল্লেখ করেন, হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ যেন নির্বিঘ্নে এবং আনন্দমুখর পরিবেশে এই উৎসব উদযাপন করতে পারে, সেই জন্য প্রশাসনের পাশাপাশি জেলা ও স্থানীয় নেতাকর্মীদের সর্বাত্মক সহযোগিতার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিএনপি ও এর অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীরা পূজা নির্বিঘ্ন করতে মাঠে থেকে কাজ করছেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে নোয়াখালী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মাহবুব আলমগীর আলো বলেন, "বাংলাদেশ দীর্ঘকাল ধরে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির দেশ হিসেবে পরিচিত।" তিনি আরও বলেন, এখানে সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও উগ্রবাদের কোনো স্থান নেই। বিএনপি এই দেশকে একটি অহিংস ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন নোয়াখালী জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক ও পৌরসভার প্রশাসক ডা. মো. শেখ ছাদেক। এতে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি নেতা আবদুল করিম মুক্তা, প্রকৌশলী মিনহাজুল আবেদীন, জেলা পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা শেখ মো. শফিকুর রহমানসহ স্থানীয় সাংবাদিক ও কর্মকর্তারা।
সভা শেষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রতিনিধি বাবুল পাল ও গৌতম ভট্টসহ মোট ২৩টি পূজামণ্ডপের প্রতিনিধিদের হাতে জেলা পরিষদের অর্থ সহায়তার চেক তুলে দেওয়া হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার নলকুড়া ইউনিয়নের পাঁচ গ্রামের মানুষের চলাচলের জন্য প্রায় দুই কিলোমিটার দীর্ঘ কাঁচা সড়কটি পাকা করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না। সড়কটির সংস্কার, প্রশস্তকরণ ও পাকাকরণের কোন কার্যক্রম না থাকায় হাজারো মানুষ প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ ভোগ করছেন। স্বাধীনতার পর থেকে সড়কটি সংস্কার ও উন্নয়নের দাবিতে ওই ইউনিয়নের বাসিন্দারা আওয়াজ তুলছেন। কিন্তু আজও তাদের সেই দাবি পূরণ হয়নি।
এটি জানা গেছে যে, ঝিনাইগাতী উপজেলার নলকুড়া ইউনিয়নের ডেফলাই, গান্ধীগাঁও, বাকাকুড়া, ভালুকা ও ফুলহাড়ি গ্রামের মানুষ এই সড়কটি ব্যবহার করে প্রতিদিন যাতায়াত করেন। এই সড়কে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, কৃষক, শ্রমিকসহ বিভিন্ন শ্রেণির হাজারো মানুষ চলাচল করেন। দীর্ঘ সময় ধরে সংস্কার না হওয়ায় সরু কাঁচা সড়কটির বিভিন্ন স্থানে খানাখন্দ সৃষ্টি হয়েছে। ফলে সড়কটি স্বাভাবিক চলাচলের জন্য অনেকটাই অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, বর্ষাকাল আসলে সড়কটির অবস্থা আরো খারাপ হয়ে যায়। কাদা-পানিতে সড়কটি তলিয়ে যাওয়ায় যানবাহন চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। এমনকি হেঁটে চলাচল করাও কঠিন হয়ে পড়ে। শিক্ষার্থীদের কাদামাটি পেরিয়ে নিয়মিত স্কুল-কলেজে যেতে হয়। সড়কটির বিভিন্ন অংশে বড় বড় গর্ত তৈরি হওয়ায় কৃষিপণ্য পরিবহন ও সময়মতো বাজারজাত করতে নানা সমস্যায় পড়তে হয়। শুষ্ক মৌসুমে কোনোরকম চলাচল করা গেলেও বর্ষাকালে ভোগান্তি কয়েক গুণ বেড়ে যায়।
নলকুড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রুকুনুজ্জামান জানিয়েছেন, সড়কটি সংস্কার ও প্রশস্তকরণের বিষয়ে উন্নয়ন ও সমন্বয় কমিটির সভায় আবেদন করা হয়েছে।
উপজেলা প্রকৌশলী অন্তো বলছেন, সড়কটির বর্তমান অবস্থা বিবেচনায় প্রয়োজনীয় উন্নয়নকাজের জন্য ইতোমধ্যে একাধিক প্রকল্পে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রকল্প থেকে অর্থ বরাদ্দ পাওয়া সাপেক্ষে পর্যায়ক্রমে সড়কটির সংস্কার, সম্প্রসারণ ও পাকাকরণের কাজ করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় সমাজে পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা যাতে মাথা উঁচু করে জীবনযাপন করতে পারেন এবং সমান অধিকার ভোগের নিশ্চয়তা পেতে পারেন, সে লক্ষ্যে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। দুর্গাপূজা উপলক্ষে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের তেলেগু ও কানপুরী ভাষাভাষী পরিচ্ছন্নতাকর্মী পরিবারের মাঝে আর্থিক সহায়তা প্রদানের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এসব কথা বলেন।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) বিকালে দয়াগঞ্জ পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিবাসে অনুষ্ঠিত দুটি পৃথক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে এই অনুদান বিতরণ করা হয়।
এ সময় প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের আবাসন সংকট দূর করতে আধুনিক ফ্ল্যাট বা অ্যাপার্টমেন্ট নির্মাণের প্রস্তাব দ্রুত বাস্তবায়নের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি স্থানীয় পরিচ্ছন্নতাকর্মী পরিবারের শিক্ষিত বেকার যুবক-যুবতীদের চাকরির সংস্থানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দেন।
তিনি আরও জানান, শারদীয় দুর্গোৎসবের আনন্দ সকলের সঙ্গে ভাগাভাগি করার উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ মানবিক নির্দেশনায় তেলেগু ও কানপুরী ভাষাভাষী ৬৮০টি পরিচ্ছন্নতাকর্মী পরিবারের জন্য ২ হাজার টাকা করে এবং তাদের স্থানীয় দুটি মন্দিরে বিশেষ অনুদান প্রদান করা হয়েছে। তাদের আবাসন সংকট সমাধানে দয়াগঞ্জে নতুন দুইটি ভবনসহ ঢাকা দক্ষিণে আরও ১৭টি ভবন নির্মাণের পরিকল্পনার কথা জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি আরও জানান, সরকার পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের বিনা খরচে চিকিৎসা এবং কর্মীর মৃত্যুতে এককালীন চার লাখ টাকা অনুদানের ব্যবস্থা করেছে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মোহা. আবদুস সালামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে ডিএসসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা, সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা, স্থানীয় নেতৃবৃন্দ এবং তেলেগু ও কানপুরী সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সভাপতির বক্তব্যে মোহা. আবদুস সালাম পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের কল্যাণে সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন এবং সকলকে শারদীয় দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা জানান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কাজী একতা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান কাজী জাহিদ হাসান অভির বিরুদ্ধে অভিযোগ, চিকিৎসার সহায়তা চেয়ে পরিবারের আকুতি; বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন করেও সাড়া মেলেনি
ক্যান্সারে আক্রান্ত একজন মসজিদের ইমাম ও পবিত্র কোরআনের হাফেজের চিকিৎসায় আর্থিক সহায়তার আশ্বাস দিয়েও তা বাস্তবায়ন না করার অভিযোগ উঠেছে ‘কাজী একতা ফাউন্ডেশন’-এর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান কাজী জাহিদ হাসান অভির বিরুদ্ধে। অসুস্থ হাফেজ জাকির হোসেন বর্তমানে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। দরিদ্র পরিবারের এই ধর্মীয় ব্যক্তির চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে পরিবার হিমশিম খাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
অন্যদিকে, সম্প্রতি শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন ও আর্থিক অনুদান প্রদানের বিষয়টি সামনে আসার পর অসুস্থ হাফেজের চিকিৎসায় সহায়তার আশ্বাস পূরণ না করার অভিযোগ নিয়ে এলাকায় আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয় সমালোচকদের একাংশ প্রশ্ন তুলেছেন, সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অনুদান দেওয়ার উদ্যোগ থাকলেও জীবনসংকটে থাকা একজন অসহায় মানুষের চিকিৎসার প্রয়োজন কেন যথাযথ গুরুত্ব পেল না?
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় সমালোচকদের কেউ কেউ কাজী জাহিদ হাসান অভির মতো ব্যক্তিদের ‘বসন্তের কোকিল’ বলে আখ্যায়িত করছেন। তাঁদের অভিযোগ, নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে এলে কিছু ব্যক্তি এলাকায় সক্রিয় হয়ে ওঠেন, বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশ নেন এবং অনুদান দেওয়ার মাধ্যমে নিজেদের জনদরদি হিসেবে তুলে ধরেন।
ক্যান্সারে আক্রান্ত হাফেজ জাকির, চিকিৎসার ব্যয় নিয়ে দুশ্চিন্তায় পরিবার
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার সাপলেজা ইউনিয়নের বাসিন্দা জাকির হোসেন। তাঁর পিতা জলিল ব্যাপারী। পেশায় তিনি একজন মসজিদের ইমাম এবং পবিত্র কোরআনের হাফেজ। ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে বর্তমানে তিনি বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
একজন ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে সমাজে মানুষের কাছে পরিচিত জাকির হোসেন এখন নিজেই কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। পরিবারের আর্থিক সামর্থ্য সীমিত হওয়ায় তাঁর চিকিৎসার ব্যয় বহন করা কঠিন হয়ে পড়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি। এ অবস্থায় তাঁর চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তা চেয়ে বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠনের কাছে যোগাযোগ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
অসুস্থ এই হাফেজের চিকিৎসায় সহযোগিতা পাওয়ার প্রত্যাশায় পরিবারের পক্ষ থেকে সহায়তার আবেদন জানানো হয়েছে। তাঁদের আশা, সমাজের সামর্থ্যবান ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা, সামাজিক সংগঠন ও দাতব্য প্রতিষ্ঠানগুলো তাঁর পাশে দাঁড়াবে।
সহায়তার আশ্বাস দিয়েও বাস্তবায়ন হয়নি—কাজী জাহিদ অভির বিরুদ্ধে অভিযোগ
অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, কাজী একতা ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান কাজী জাহিদ হাসান অভির সঙ্গে অসুস্থ হাফেজ জাকির হোসেনের চিকিৎসায় আর্থিক সহায়তার বিষয়ে একাধিকবার কথা হয়। এ সময় সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস পাওয়া গেলেও পরবর্তী সময়ে প্রতিশ্রুত অর্থ পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগকারীদের মতে, চিকিৎসার মতো জরুরি বিষয়ে আশ্বাস পাওয়ার পর পরিবার স্বাভাবিকভাবেই সহযোগিতার প্রত্যাশা করে। কিন্তু সেই সহায়তা বাস্তবায়িত না হলে অসুস্থ ব্যক্তি ও তাঁর স্বজনদের দুশ্চিন্তা আরও বেড়ে যায়।
তবে কী পরিমাণ অর্থ সহায়তার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল, কখন এবং কীভাবে সেই প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রমাণ কাজী জাহিদ হাসান অভির বক্তব্যও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর বক্তব্য প্রয়োজন।
পূজামণ্ডপে অনুদান নিয়ে প্রশ্ন, মানবিক দায়িত্ববোধের আলোচনা
সম্প্রতি শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে কাজী জাহিদ হাসান অভিকে বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করে আর্থিক অনুদান দিতে দেখা গেছে বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, বিভিন্ন মণ্ডপে অনুদান প্রদানের উদ্যোগ থাকলেও ক্যান্সারে আক্রান্ত হাফেজ জাকির হোসেনের চিকিৎসায় প্রতিশ্রুত সহায়তা না পাওয়ার বিষয়টি তাঁদের হতাশ করেছে।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের একাংশের মধ্যে মানবিক দায়িত্ববোধ ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের অগ্রাধিকার নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তাঁদের মতে, সামাজিক বা ধর্মীয় আয়োজনে অনুদান দেওয়ার পাশাপাশি অসুস্থ, দরিদ্র ও বিপদগ্রস্ত মানুষের জরুরি প্রয়োজনেও সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতা করা উচিত।
তবে ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে অনুদান দেওয়া এবং একজন অসুস্থ ব্যক্তির চিকিৎসায় সহযোগিতা করা—দুটিই স্বতন্ত্র মানবিক উদ্যোগ। কোনো একটি উদ্যোগকে অন্যটির বিরোধী হিসেবে দেখার পরিবর্তে সব ক্ষেত্রেই সহায়তার স্বচ্ছতা, প্রতিশ্রুতি রক্ষা এবং মানুষের প্রয়োজনকে গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি সামনে আনা প্রয়োজন।
স্থানীয় সমালোচকদের মূল বক্তব্য, একজন অসহায় মানুষের চিকিৎসায় সহায়তার আশ্বাস দেওয়া হলে তা বাস্তবায়নের বিষয়ে দায়িত্বশীল আচরণ প্রত্যাশিত। আর্থিক সহায়তা দেওয়ার সামর্থ্য না থাকলে সেটিও স্পষ্টভাবে জানানো উচিত, যাতে বিপদগ্রস্ত পরিবার বিকল্প সহযোগিতার ব্যবস্থা করতে পারে।
নির্বাচন ঘনিয়ে এলে কিছু ব্যক্তির এলাকায় আনাগোনা বেড়ে যায়—এমন অভিযোগ স্থানীয়দের একাংশের। তাঁদের ভাষ্য, এ সময় বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠান, ধর্মীয় উৎসব, জনসমাগম ও অনুদান বিতরণের মাধ্যমে কিছু ব্যক্তি নিজেদের পরিচিতি বাড়ানোর চেষ্টা করেন।
এ ধরনের ব্যক্তিদের উদ্দেশে সমালোচকেরা ‘বসন্তের কোকিল’ উপমাটি ব্যবহার করেন। তাঁদের বক্তব্য, জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড যদি মানুষের পাশে দাঁড়ানোর প্রকৃত মানসিকতা থেকে পরিচালিত হয়, তবে তা শুধু নির্বাচনকেন্দ্রিক সময়েই সীমাবদ্ধ থাকার কথা নয়; বরং বছরের অন্যান্য সময়েও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো প্রয়োজন।
কাজী জাহিদ হাসান অভিকে ঘিরে ওঠা অভিযোগের বিষয় এলাকার একজন বয়স্ক মানুষ জানান কাজী জাহিদ হাসান অভি একটা বাটপার সে রাজধানীর ঢাকায় বসে অবৈধ ইনকাম করে এখন দেশে আসছি নির্বাচনের সময় জনগণের সেবা করতে আসলে এদের উদ্দেশ্য ভন্ডামি।
জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের প্রকৃত মূল্যায়ন হওয়া উচিত সংশ্লিষ্ট কাজের বাস্তব ফলাফল, সহায়তা পাওয়ার ব্যক্তিদের অভিজ্ঞতা এবং প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের তথ্যের ভিত্তিতে। তাই এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ব্যাখ্যা ও যাচাইযোগ্য তথ্য প্রকাশ্যে আসা জরুরি।
ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান
বাংলাদেশের সমাজে ধর্মীয় উৎসব, সামাজিক অনুষ্ঠান এবং মানবিক সহায়তার মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসবে অনুদান দেওয়া যেমন সামাজিক সম্প্রীতির প্রকাশ হতে পারে, তেমনি অসুস্থ ও দরিদ্র মানুষের চিকিৎসায় সহযোগিতা করাও মানবিক দায়িত্বের অংশ।
স্থানীয়দের একাংশের বক্তব্য, জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে ধর্মীয় পরিচয়, রাজনৈতিক পরিচিতি কিংবা সামাজিক অবস্থানের ভিত্তিতে মানুষের প্রয়োজনকে আলাদা করে দেখা উচিত নয়। যে ব্যক্তি চিকিৎসার অভাবে সংকটে পড়েছেন, তাঁর প্রয়োজনকে গুরুত্ব দিয়ে সহযোগিতার ব্যবস্থা করা জরুরি।
হাফেজ জাকির হোসেনের চিকিৎসার জন্য সহায়তার আবেদনও এ মানবিক বিবেচনা থেকেই সামনে এসেছে। তাঁর পরিবার ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রত্যাশা, সামর্থ্যবান ব্যক্তিরা এগিয়ে এসে চিকিৎসার ব্যয় বহনে সহযোগিতা করবেন। একই সঙ্গে যাঁরা আর্থিক সহায়তার আশ্বাস দেন, তাঁরা যেন নিজেদের সামর্থ্য ও বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনা করে দায়িত্বশীলভাবে প্রতিশ্রুতি দেন।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগ
কাজী একতা ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান কাজী জাহিদ হাসানের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানতে ব্যক্তিগত মুঠোফোন নম্বর ০১৭৪৪৯৭০২৯৪-এ একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছে বলে প্রতিবেদকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। তবে তিনি ফোন রিসিভ না করায় এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথভাবে প্রকাশ করা হবে। পাশাপাশি আর্থিক সহায়তার আশ্বাসসংক্রান্ত কোনো নথি, বার্তা বা অন্য প্রাসঙ্গিক তথ্য পাওয়া গেলে তা যাচাই করে প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন।
চিকিৎসায় সহযোগিতাই এখন সবচেয়ে জরুরি
ক্যান্সারে আক্রান্ত হাফেজ জাকির হোসেনের চিকিৎসা ও সুস্থতার জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতা নিশ্চিত করাই এখন পরিবারের প্রধান প্রত্যাশা। সমাজের সামর্থ্যবান ব্যক্তি, মানবিক সংগঠন ও দাতব্য প্রতিষ্ঠানগুলো তাঁর চিকিৎসায় সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিলে পরিবারটি উপকৃত হতে পারে।
একই সঙ্গে কাজী জাহিদ হাসান অভির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য এবং সংশ্লিষ্ট তথ্য যাচাইয়ের মাধ্যমে বিষয়টির স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে জনগণের সামবে এ-সব ভন্ডদের মুখোশ খুলে দেয়া উচিত।
মাছুদুর রহমান আসলাম
সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার, তালাশ বিডি
ফোন নম্বর : নগদ এন্ড বিকাশ ০১৭১১৪৩৩৫৪৯
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলায় সংঘটিত একটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় আরপি পরিবহন নামের একটি যাত্রীবাহী বাস এবং বালু বোঝাই ট্রাকের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষের ফলে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় অন্তত ১৫ জন যাত্রী আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে নাটোর-পাবনা মহাসড়কের সরকারপাড়া এলাকায় এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।
দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় জনগণ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা একত্রে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করেছেন। দুর্ঘটনাকবলিত দুটি গাড়ি সড়কের উপর থাকায় নাটোর-পাবনা মহাসড়কে যান চলাচলে সাময়িকভাবে বিঘ্ন ঘটছে।
নাটোর ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক আক্তার হামিদ জানান, ‘ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে। আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতাল ও রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ