শনিবার, ৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৭:২৭ এম
রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে গিয়ে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহত জনপ্রশাসন ও খাদ্য প্রতিমন্ত্রী আবুল বারীকে দেখতে যান।
শুক্রবার রাত ১১টার সময় হাসপাতালে পৌঁছানোর পর তিনি প্রতিমন্ত্রীর শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং তার দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন। রিজভীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির বিশেষ সম্পাদক আসাদুজ্জামান রিপন (বা বেলায়েত হোসেন) এবং কেন্দ্রীয় সহ-অর্থবিষয়ক সম্পাদক মাহমুদুর রহমান সুমন।
হাসপাতালে রুহুল কবির রিজভী কিছু সময় প্রতিমন্ত্রী আবুল বারীর পাশে অবস্থান করেন। এরপর তিনি চিকিৎসক ও পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে প্রতিমন্ত্রীর শারীরিক অবস্থার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করেন।
এর আগে শুক্রবার সকালে ঢাকা থেকে জয়পুরহাটে তার নির্বাচনি এলাকায় যাওয়ার সময় সড়ক দুর্ঘটনায় পতিত হন প্রতিমন্ত্রী আবুল বারী। দুর্ঘটনার ফলে প্রতিমন্ত্রী এবং তার সহধর্মিণী নাজমা আরা বেগম আহত হন।
দুর্ঘটনার পর আহত প্রতিমন্ত্রীকে জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়। পরবর্তীতে তাকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. রাশেদ মোবারক জুয়েল জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় প্রতিমন্ত্রী আবুল বারীর ডান ও বাম পা এবং বুকে আঘাত লেগেছে। তার প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে।
এমই
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে মাদক ব্যবসায়ীদের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে শ্রাবণ গ্রুপ ও নবী গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ এবং অস্ত্রের মহড়ার ঘটনায় চারজন সন্ত্রাসীকে আটক করেছে পুলিশ, যাদের কাছে একটি গুলিভর্তি বিদেশি পিস্তল ছিল।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার তারাবো বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ ওই চারজনকে গ্রেফতার করে।
নবনিযুক্ত নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান রাত পৌনে ৯টায় রূপগঞ্জ থানায় এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন—নাজমুল হোসেন (৩০), নিহাল মিয়া (২১), সাজ্জাদ হোসেন (২০) ও শফিকুল ইসলাম (২৪)।
পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান জানান, দীর্ঘদিন ধরে তারাবো বাজার এলাকায় মাদক ব্যবসায়ীদের আধিপত্য নিয়ে শ্রাবণ গ্রুপ ও নবী গ্রুপের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলছিল। প্রায়ই তারা অস্ত্র নিয়ে মহড়া, ধাওয়া-পালটাধাওয়া এবং সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ত, যা এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করেছিল।
বৃহস্পতিবার গভীর রাতে এই দুই গ্রুপ অস্ত্রের মহড়া ও সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান এবং রূপগঞ্জ থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
শুক্রবার সন্ধ্যায় পুলিশ তারাবো বাজার এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় নবী গ্রুপের চারজনকে গুলিভর্তি বিদেশি পিস্তলসহ আটক করা হয়।
এ ঘটনায় রূপগঞ্জ থানায় অস্ত্র আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। পুলিশ সুপার জানান, শনিবার আসামিদের নারায়ণগঞ্জ আদালতে পাঠানো হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) সমাজবিজ্ঞান ও অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে মেসবাসার দরজার ছিটকিনি আটকানোকে কেন্দ্র করে লাঠিসোঁটা নিয়ে ধাওয়া-পালটাধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন নম্বর গেটের সামনে এই ঘটনা ঘটে। তবে, এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো পক্ষের আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। রাত সোয়া ১১টা পর্যন্ত দুই বিভাগের শিক্ষার্থীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে মুখোমুখি অবস্থান করছিলেন, পরে শিক্ষকরা এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ক্যাম্পাসের বাইরের একটি মেসবাসায় সমাজবিজ্ঞান ও অর্থনীতি বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থী বসবাস করেন। ওই মেসের দরজায় ছিটকিনি দেওয়া নিয়ে প্রথমে দুই বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থীর মধ্যে তর্ক-বিতর্ক ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
একপর্যায়ে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দুই বিভাগের অন্যান্য শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। পরে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন নম্বর গেটসংলগ্ন এলাকায় জড়ো হয়ে লাঠিসোঁটা নিয়ে অবস্থান নেন। এরপর দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পালটাধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
রাত সাড়ে ১১টা নাগাদ অর্থনীতি বিভাগের একদল শিক্ষার্থী লাঠিসোঁটা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি গেটের অপর পাশে ছাতিমতলা এলাকায় অবস্থান করছিলেন। অন্যদিকে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক নম্বর গেটসংলগ্ন ভোলার রোড এলাকায় অবস্থান নেন। এতে ফের সংঘর্ষের আশঙ্কায় ক্যাম্পাসে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর ড. গাজী সাখাওয়াত হোসেন বলেন, "ঘটনাস্থলে যাচ্ছি। পরে বিস্তারিত বলতে পারব।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
শনিবার ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের দিকে ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চ অনুষ্ঠিত হবে, যা জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা, রাষ্ট্রীয় সংস্কারের দাবি এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আয়োজন করা হয়েছে। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী জনগণের ব্যাপক অংশগ্রহণের জন্য আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে এই কর্মসূচি সফল হয়।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টার দিকে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে লংমার্চের সূচনা সমাবেশের জন্য নির্মাণাধীন মঞ্চ এবং সার্বিক প্রস্তুতি পরিদর্শনকালে তিনি এই আহ্বান জানান।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, "এ কর্মসূচির লক্ষ্য হলো জনগণের ন্যায্য অধিকার আদায় করা এবং একটি গণতান্ত্রিক, জবাবদিহিমূলক ও সংস্কারকৃত রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা।" তিনি লংমার্চকে শান্তিপূর্ণভাবে সফল করতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।
এ সময় এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব, যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক ইসহাক সরকারসহ দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। তারা সমাবেশস্থল পরিদর্শন করেন এবং মঞ্চ নির্মাণসহ সার্বিক প্রস্তুতির বিষয়ে আয়োজকদের সঙ্গে আলোচনা করেন।
আগামীকাল সকাল ৭টায় মতিঝিলের শাপলা চত্বর থেকে লংমার্চ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। পথে বিভিন্ন স্থানে পথসভা এবং জনগণের পক্ষ থেকে সংবর্ধনা ও অভিবাদন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে। কর্মসূচির শেষ পর্যায়ে বিকাল ৫টা ১৫ মিনিটে চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক লালদীঘি ময়দানে সমাবেশের মাধ্যমে লংমার্চ শেষ হবে।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, "ভোটাধিকারের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি, বিদ্যুৎ-গ্যাস-তেল ও সার সংকট নিরসন এবং দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণসহ বিভিন্ন দাবিতে এ লংমার্চের আয়োজন করা হয়েছে।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাশিয়ার আমুর অঞ্চলের একটি গ্যাস-রাসায়নিক কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আরও এক বাংলাদেশির মৃত্যু ঘটেছে।
মাহিন উদ্দিন নামে ওই বাংলাদেশি শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) ভোরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত বাংলাদেশির সংখ্যা এখন চারজনে পৌঁছেছে।
মস্কোতে বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রথম সচিব (শ্রম) মিজানুর রহমান এই তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন। নিহত মাহিন উদ্দিনের বাড়ি নরসিংদী জেলায়।
গত ২৫ আগস্ট রাশিয়ার আমুর অঞ্চলের সভোবোদনি শহরের কাছে আমুর গ্যাস কেমিক্যাল কমপ্লেক্সে (এজিসিসি) ভয়াবহ আগুনের সূত্রপাত ঘটে। পরদিন এক বিবৃতির মাধ্যমে চীনের ছয় নাগরিকসহ সাতজনের মৃত্যুর খবর জানায় এজিসিসি। পরে প্রতিষ্ঠানটি টেলিগ্রাম চ্যানেলে এক বার্তায় জানায়, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৫ জন হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ১৪ জন বিদেশি নাগরিক।
দ্য মস্কো টাইমসের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, রাশিয়ার পেট্রোকেমিক্যাল জায়ান্ট সিবু এবং চীনের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন তেল ও গ্যাস কোম্পানি সিনোপেকের যৌথ উদ্যোগে প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে এজিসিসি প্রকল্পটি নির্মাণ করা হচ্ছে। এটি বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ পলিমার উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী বছরের শুরুতে প্রকল্পটি চালুর কথা থাকায় সেখানে শেষ ধাপের পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছিল।
এজিসিসির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পাইরোলাইসিস ইউনিটের একটি সহায়ক অংশ থেকে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। পরে তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
অগ্নিকাণ্ডের দুই দিন পর, ২৭ আগস্ট এক বাংলাদেশির মৃত্যুর পাশাপাশি আরেক বাংলাদেশির নিখোঁজ থাকার তথ্য জানান দূতাবাসের কর্মকর্তা মিজানুর রহমান। পরে ওই দুজনের সঙ্গে আব্দুল কুদ্দুস নামের আরও এক বাংলাদেশির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
নিহত জাকির হোসেনের বাড়ি কিশোরগঞ্জের ভৈরবে এবং মো. আলাল হোসেন রাজুর বাড়ি মেহেরপুরের গাংনীতে। অপর নিহত আব্দুল কুদ্দুসের বাড়ি রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার হুগলবাড়ীয়ায়।
দূতাবাস কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, নিহত জাকির হোসেন ও আলাল হোসেন রাজুর লাশ ময়নাতদন্ত শেষে কফিনবন্দি করা হয়েছে। আগামী ৯ সেপ্টেম্বরের মধ্যে কার্গো বিমানে করে লাশ দুটি ঢাকায় পরিবারের কাছে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, অপরদিকে মস্কো হাসপাতালে আব্দুল কুদ্দুস ও মাহিন উদ্দিনের লাশের সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে আরও ছয় থেকে সাত দিন লাগতে পারে। এরপর তাদের লাশ বাংলাদেশে পাঠানো হবে।
অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মোট ৩৬ জন বাংলাদেশি আহত হয়েছিলেন। তাদের মধ্যে চারজন মারা গেছেন। গুরুতর আহত একজন এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অন্যরা চিকিৎসা শেষে বাসায় ফিরে গেছেন বলে জানিয়েছেন মিজানুর রহমান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ