ঢাকা রবিবার, ০৮ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২৩শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৭শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ০৮ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২৩শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

মেসির বিদায়-পরবর্তী যুগ: কীভাবে ঘুরে দাঁড়াবে আর্জেন্টিনা?


মেসির বিদায়-পরবর্তী যুগ: কীভাবে ঘুরে দাঁড়াবে আর্জেন্টিনা?

আর্জেন্টিনার মহাতারকা লিওনেল মেসি অবসর নিয়েছেন মাসখানের হয়েছে। ২১ বছরের দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি আর্জেন্টিনার জাতীয় দলের জার্সিতে একের পর এক র্কীতি গড়েছেন। সোনালি ট্রফি উঁচিয়ে ধরা ছিল তার সবচেয়ে আরাধ্য স্বপ্ন। ৩৬ বছর বয়সে সেই শিরোপা খরা কাটিয়ে তিনি আনন্দে ভাসিয়েছেন বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি আর্জেন্টাইন ভক্তদের। তাই অবসরের পর মেসির পরবর্তী যুগ কেমন হবে, সেই নিয়ে আলোচনা চলবে অবশ্যম্ভাবীভাবে।

‘মেসির পরবর্তী যুগ : কীভাবে ঘুরে দাঁড়াবে আর্জেন্টিনা?’ শিরোনামে আর্জেন্টিনার জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম মুন্দো আলবিসেলেস্তেতে একটি নিবন্ধে এই মহাতারকাকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করা হয়েছে এবং পরবর্তী আর্জেন্টিনা কেমন হবে তা তুলে ধরা হয়েছে।

ভবিষ্যতে আমরা হয়তো এই গ্রীষ্মের দিনগুলোর দিকে ফিরে তাকাব এবং ভাবব—কী জাদুকরী সময় কেটেছে আর্জেন্টিনা দলের সাথে! লম্বা দিনগুলোর প্রহর গোনা শুরু হয়েছিল দুটি কারণে—প্রথমে বিশ্বকাপ শুরুর অপেক্ষায়, আর তারপর প্রিয় ‘আলবিসেলেস্তে’দের মাঠে দেখার তাড়নায়। আর্জেন্টিনার প্রতিটি ম্যাচে আমরা যেন এক আবেগের রোলার কোস্টারে চড়েছিলাম।

আরও পড়ুন: রোনালদোর অবসরের ঘোষণায় মরিনিয়োর প্রতিক্রিয়া: ‘এখনো অনেক লক্ষ্য বাকি’

উন্মাদনার মাঝে একটি নির্মম চিন্তা অনেকের মতো আমার মাথাতেও এসেছিল—এই বিশ্বকাপের যেকোনো ম্যাচই হয়তো আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের জার্সিতে মহাতারকা লিওনেল মেসির শেষ ম্যাচ হতে পারে। অথচ তিনি তখনো খেলছিলেন ঠিক বিশ বছর আগে জার্মানির গেলসেনকারখেনের সেই তপ্ত দুপুরের মতো—একেবারে স্বপ্নের মতো। জার্মানরা সেই গ্রীষ্মকে ‘সামার ফেয়ারিটেল’ বা গ্রীষ্মের রূপকথা বলে মনে রাখে, কারণ সেবার আকাশ সপ্তাহের পর সপ্তাহ অসম্ভব নীল ছিল।

আর্জেন্টাইন ভক্তরাও সেই গ্রীষ্মকে খুব ভালো করেই মনে রেখেছে এক হাতছাড়া হওয়া সুযোগের জন্য, কিন্তু তারা তখন জানত না যে একটা রূপকথা কেবল শুরু হতে যাচ্ছিল।

কাতার বিশ্বকাপ যদি আমাদের দীর্ঘদিনের জমে থাকা হতাশার বোতল খুলে দিয়ে ছোটবেলার স্বপ্ন পূরণ করে থাকে, তবে ২০২৬ বিশ্বকাপ আমাদের দিয়েছে গভীর আনন্দের কিছু মুহূর্ত—ফাইনালের ফলাফল যা-ই হোক না কেন।

এমন কিছু মুহূর্তে নিজেকে সত্যিই জীবন্ত মনে হয়, এমন এক তীব্র অনুভূতি যা সচরাচর পাওয়া যায় না। এর সঠিক শব্দ কি ‘ইউফোরিয়া’ বা পরম উল্লাস? শব্দটা জানার দরকার নেই, যখন মেসি ওভাবে খেলেন তখন শুধু সেই অনুভূতিটাই টের পাওয়া যায়। এখানে কোনো ব্যাখ্যার প্রয়োজন নেই।

আরও পড়ুন: মেসির টানা দ্বিতীয় গোল্ডেন বুট, এলএমএসে ইতিহাস রচনা

এখন, যে চিন্তাটার জন্য একসময় অপরাধবোধ হতো, সেটাই সত্যি হয়ে গেছে। ফুটবল ইতিহাসের সর্বকালের সেরা খেলোয়াড়টি ফিসফিস করে বলে দিয়েছেন—‘এবার থামার সময় হয়েছে।’

ফলে অনেকের জন্যই এক নতুন পথচলা শুরু হলো—মেসি-পরবর্তী আর্জেন্টিনার সাথে। আপনি হয়তো এখনো তাকে এমএলএস-এ খেলতে দেখবেন এবং আস্তে আস্তে মাঠের ঘাস থেকে দূরে, বহু দূরে হারিয়ে যেতে দেখবেন। কিন্তু এই নতুন পথে আমরা কীভাবে এগিয়ে যাব? সামনের দিনগুলো কেমন হবে? নিশ্চিত করে কেউ জানে না, তবে চেষ্টা তো করতেই হবে।

এমন ঘটনা অবশ্য আগেও ঘটেছে। আর্জেন্টিনা এর আগেও তাদের ইতিহাসের সেরা খেলোয়াড়টিকে বিদায় জানিয়েছিল, যতদিন না রোজারিও থেকে সেই ছোট ছেলেটি এসে অনেকের চোখেই ‘গোল্ডেন পিব’ বা ডিয়েগো ম্যারাডোনাকেও ছাড়িয়ে গেল।

মেসির মতোই ম্যারাডোনারও জাতীয় দল থেকে বিদায় ঘটেছিল উত্তর আমেরিকার এক বিশ্বকাপের পর। তবে ম্যারাডোনার জন্য তখন কোনো আনুষ্ঠানিক বিদায় ছিল না, সেটা এসেছিল অনেক পরে। কিন্তু তার বিদায়ের পর মাঠের সব সমস্যা সমাধান করার জন্য দলে ‘আরেকজন ম্যারাডোনা’র আসার এক তীব্র হাহাকার তৈরি হয়েছিল।

আরও পড়ুন: মালদ্বীপকে হারিয়ে সবার আগে সেমিফাইনালে পাকিস্তান

এভাবেই শুরু হয়েছিল এক ‘নতুন ম্যারাডোনা’র খোঁজ। রিকেলমে থেকে স্যাভিওলা, ওর্তেগা থেকে আইমার—সবাইকেই ম্যারাডোনার সেই ছায়ার মুখোমুখি হতে হয়েছিল, যা ড্রেসিংরুম থেকে কখনোই পুরোপুরি মুছে যায়নি। এই আচ্ছন্নতা বেশ কিছুদিন চলেছিল, যতদিন না মেসির আগমন ঘটে। অনেকের কাছে মনে হয়েছিল, ঈশ্বর যেন আবার জন্ম নিয়েছেন।

আর্জেন্টিনা সবসময়ই অসাধারণ সব ফুটবল প্রতিভা তৈরির দেশ এবং কোনো সন্দেহ নেই যে ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে। নিকো পাজ, মাস্তানতুওনো, প্রেস্তিয়ান্নি কিংবা ফ্লোরেসের মতো উদীয়মান তরুণেরা তার প্রমাণ।

সহজেই অনুমান করা যায় যে, আগামী বছরগুলোতে আর্জেন্টিনা আবার ‘আরেকজন মেসি’র জন্য হাহাকার করবে। এই শূন্যস্থান এত বড় যে তা অল্প সময়ে পূরণ করা অসম্ভব। যখনই দলের পারফরম্যান্স খারাপের দিকে যাবে, তখনই গ্যালারিতে তাদের ত্রাতা বা ‘মেসায়াহ’র ফেরার জন্য স্লোগান উঠবে। আবার নতুন তরুণদের এমন এক উচ্চতার সাথে তুলনা করে অন্যায় চাপ দেওয়া হবে, যা ছোঁয়া অসম্ভব এবং সম্ভবত ফুটবলের ইতিহাসে আর কখনো তা দেখা যাবে না।

তবে যাওয়ার আগে মেসি দলটিকে একটি দিকনির্দেশনা দিয়ে গেছেন। তিনি দেখিয়ে গেছেন, সাফল্যের ধারা বজায় রাখতে হলে বাকিদের কী করতে হবে।

আরও পড়ুন: ঢাকা ইউনাইটেড প্রিমিয়ার লিগে উন্নীত

আমরা মেসিকে বিদায় জানালেও ‘লা স্কালোনেতা’র (কোচ স্কালোনির দল) বিদায় বলার সময় এখনো আসেনি। খুব শিগগিরই আমরা হয়তো দেখতে পাব ‘লা স্কালোনেতা ২.০’।

এই স্কালোনেতা দলের সবচেয়ে বড় গুণ ছিল তাদের লড়াকু মানসিকতা। প্রকৃতপক্ষে, এই দলটিই প্রথম আর্জেন্টিনার ‘মেসি-নির্ভরতা’ ভেঙেছিল। যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে দলটির ফর্ম হয়তো খুব একটা ভালো ছিল না, কিন্তু তাদের মানসিক শক্তি ছিল তুঙ্গে। এই দলটি যেন এক ভাইদের দল, যারা সবসময় একে অপরের পাশে থাকে এবং যেকোনো মূল্যে জয় ছিনিয়ে আনতে পারে। এই লড়াকু মনোভাব ধরে রাখতে পারলে দল অবশ্যই লড়াই করবে।

কদিন আগে কোচ লিওনেল স্কালোনির বলা কথার সূত্র ধরে বলা যায়—এখন যেহেতু দলে সেই বিশেষ ব্যবধান গড়ে দেওয়ার মতো একা কেউ নেই, তাই দলটিকে আগের চেয়েও অনেক বেশি একক ইউনিট হিসেবে খেলতে হবে।

২০২৬ সালের ৬ অক্টোবর, এল মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামে নিজের শেষ ম্যাচেও মেসি একটি থ্রু পাসের পেছনে ছুটছিলেন। পাসটি একটু জোরে হওয়ায় রিভার প্লেটের হোম গ্রাউন্ডের মসৃণ ঘাসের ওপর দিয়ে দ্রুত সীমানার বাইরে চলে যাচ্ছিল।

আরও পড়ুন: মরিনহোর মন্তব্য: আতলেতিকো-বার্সেলোনা ম্যাচে দুই দলই হারুক

মেসি সেটির পেছনে দৌড়ালেন। সেই বয়সেও তিনি এমনভাবে ছুটলেন যেন বলটি মাঠের ভেতরে রাখাটাই তার জীবনের সবচেয়ে বড় কাজ, অথচ সেই ম্যাচে তার নতুন করে পাওয়ার কিছু ছিল না। তিনি জাস্ট আরো একটি গোল করতে চেয়েছিলেন, একটা সহজ সুযোগ হাতছাড়া করায় তার চোখেমুখে রাগ ছিল, তিনি দলকে দিকনির্দেশনা দিচ্ছিলেন—কী করতে হবে, কোথায় যেতে হবে…

একটু ভাবলেই অবাক হতে হয়। খেলোয়াড়ি জীবনের শেষ ম্যাচে এই মহাতারকার বাড়তি কিছু করার কোনো প্রয়োজন ছিল না, তাও তিনি করেছেন। কেন?

আপনি যদি বছরের পর বছর ধরে মেসিকে দেখে থাকেন, তবে উত্তরটা আপনার জানা। পেপ গার্দিওলা যেমনটা বলেছিলেন—মেসি হলো মাঠের এক ‘ক্ষুধার্ত সিংহ’। এটাই তার আসল রূপ। তিনি মানুষের মাঝে এক ফুটবল দেবতা, যার জেতার ক্ষুধা কখনো মেটে না। লড়াই করার এবং জেতার এই মানসিকতা বিরল ও অতুলনীয়।

তার টেকনিক্যাল স্কিল হয়তো নতুন করে তৈরি করা যাবে না, তার ফুটবল মেধা হয়তো কপি করা সম্ভব নয়। তবে আশা করা যায়, আর্জেন্টিনার তরুণ খেলোয়াড়েরা তার এই মাঠের মনোভাব খুব কাছ থেকে দেখেছে এবং শিক্ষা নিয়েছে।

আরও পড়ুন: ‘যোগাযোগ করলে তার কাছে শিখব’: বাবর আজমের ইউসুফের পরামর্শে আগ্রহ

যাকে সবসময় ‘সবটাই জন্মগত প্রতিভা, কঠোর পরিশ্রমের অবদান কম’ বলে প্রচার করা হতো, তিনিও রেখে গেছেন এক জ্বলন্ত উদাহরণ—যেখানে শুধু স্কিল নয়, জয়ের জন্য বুকের ভেতরের আগুনটাও কতটা জরুরি তা প্রমাণিত।

মেসি-পরবর্তী সময়ে আর্জেন্টিনা আরো মাঠে নামবে, তবে ফুটবলপ্রেমীদের মনে যে ছবিটা চিরকাল গেঁথে থাকবে, তা হলো ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে সেমিফাইনালের সেই দৃশ্য। ম্যাচের শেষ কয়েক মিনিটের খেলা বারবার দেখলেও বোঝা যায়, তিনি কীভাবে কখনোই হাল ছাড়েননি।

আশা করি, আর্জেন্টিনার ড্রেসিংরুমে এই আগুনটা সবসময় জ্বলবে। মেসি-পরবর্তী জীবনে খেলোয়াড় এবং ভক্তদের হৃদয়ে এই আগুন জ্বলতে থাকবে, যা শেখাবে কীভাবে মাঠে নিজের সবটুকু উজাড় করে দিতে হয় এবং ট্রফি ছাড়া অন্য কিছুতে সন্তুষ্ট না হতে হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সরকারি অর্থের অপচয় ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান : সংসদীয় কমিটি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৮ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:০৩ পি.এম


সরকারি অর্থের অপচয় ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান : সংসদীয় কমিটি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সরকারি প্রতিষ্ঠান সম্পর্কিত কমিটির বৈঠকে বিগত সরকারের সময়কালে আর্থিক অনিয়মে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

সরকারি অর্থের অপচয় ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না, এই কঠোর অবস্থান স্পষ্ট করে কমিটি একই সঙ্গে বর্তমান সরকারের আমলেও কোনো ধরনের দুর্নীতি বা অনিয়ম সহ্য করা হবে না বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সতর্ক করেছে।

আজ রবিবার জাতীয় সংসদ ভবনে কমিটির সভাপতি ও বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অষ্টম বৈঠকে এ সুপারিশ করা হয়েছে।

বৈঠকে কমিটির সদস্য ও হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, হুইপ মো. আখতারুজ্জামান মিয়া, সংসদ সদস্য মোছা. তাহসিনা রুশদীর, খোন্দকার আবু আশফাক এবং মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া অংশগ্রহণ করেন।

বৈঠকে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের ২০২০-২০২১ অর্থবছরের হিসাবসংক্রান্ত কমপ্লায়েন্স অডিট রিপোর্ট এবং মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের হিসাবসংক্রান্ত কমপ্লায়েন্স অডিট রিপোর্ট নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

এ ছাড়া নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অধীন চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের বিভিন্ন অডিট আপত্তির মধ্যে আদায়, সমন্বয়, অবলোপন, প্রমার্জন, নিয়মিতকরণ, ভূতাপেক্ষ অনুমোদনসহ প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণের মাধ্যমে নিষ্পত্তির জন্য অপেক্ষমাণ আপত্তিগুলো পর্যালোচনা করা হয়। পাশাপাশি মহাহিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে চূড়ান্ত নিষ্পত্তির অপেক্ষায় থাকা আপত্তি এবং কমিটির পূর্ববর্তী বৈঠকের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়।

আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে ওভার-ইনভয়েসিং ও আন্ডার-ইনভয়েসিং প্রতিরোধে আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। ই-বিলিং ও ই-পেমেন্ট ব্যবস্থার মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে শুল্ক পরিশোধ এবং দ্রুততম সময়ে পণ্য খালাসের ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ গ্রহণের সুপারিশ করা হয়। এর মাধ্যমে বন্দরসেবা আরও সহজ, স্বচ্ছ ও গতিশীল করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংকে, বিশেষ করে সমস্যাগ্রস্ত ও বেসরকারি ব্যাংকগুলোতে বন্দর কর্তৃপক্ষের এফডিআর বিনিয়োগ, মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার পরও অর্থ উত্তোলন না করা এবং নীতিমালা বহির্ভূতভাবে অতিরিক্ত অর্থ বিনিয়োগের বিষয়ে বৈঠকে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর সঙ্গে কার্যকর আলোচনা, প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ এবং দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে কমিটিকে অবহিত করার সুপারিশ করা হয়। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে বন্দর কর্তৃপক্ষের সব অর্থ সরকারি ব্যাংকে জমা রাখার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়।

বৈঠকে চট্টগ্রাম বন্দরে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা নিলামযোগ্য কনটেইনার ও যানবাহনসংক্রান্ত সমস্যা আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে নিষ্পত্তির সুপারিশ করা হয়। এ ছাড়া খালি কনটেইনারের নামে বন্দর থেকে মালবাহী কনটেইনার বের করে নেওয়া এবং বন্দর থেকে কনটেইনার চুরির ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে আগামী বৈঠকে কমিটিকে অবহিত করার সুপারিশ করা হয়।

মোংলা, পায়রা ও চট্টগ্রাম বন্দরের ড্রেজিং কার্যক্রম, নির্ধারিত ড্রাফট ও নাব্যতা অর্জন, কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণ এবং এসব প্রকল্পে ব্যয়িত অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করার বিষয়েও আলোচনা করা হয়। এ ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অনিয়ম চিহ্নিত করা এবং সংশ্লিষ্ট অডিট আপত্তি নিষ্পত্তির প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়।

অডিট আপত্তিতে উত্থাপিত বন্দর কর্তৃপক্ষের তহবিল থেকে নিয়মবহির্ভূতভাবে মন্ত্রণালয় ও বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিশেষ উৎসাহ বোনাস প্রদানের বিষয়টিও বৈঠকে আলোচনায় আসে। এ ধরনের আর্থিক অনিয়ম ও সরকারি অর্থের অপচয়ের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়।

বৈঠকে হিসাব মহানিয়ন্ত্রক (সিজিএ), নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান ও সচিব, বন্দরের চেয়ারম্যান ও কমিশনারসহ মন্ত্রণালয় ও জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ডেভিস কাপ খেলতে ভিয়েতনাম যাচ্ছেন রাজশাহীর রাকীন রহমান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

রবিবার, ৮ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:০৪ পি.এম


ডেভিস কাপ খেলতে ভিয়েতনাম যাচ্ছেন রাজশাহীর রাকীন রহমান

রাজশাহীর টেনিস খেলোয়াড় মো. রাকীন রহমান রাকীন, পুরুষদের টেনিসের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক দলীয় প্রতিযোগিতা ডেভিস কাপে অংশ নিতে ভিয়েতনাম যাচ্ছেন।

ভিয়েতনামের ফান থিয়েট শহরের তিয়েন থানহ এলাকায় অবস্থিত নোভাওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যাশনাল টেনিস কমপ্লেক্সে আগামী ১১ থেকে ১৪ নভেম্বর প্রতিযোগিতাটি অনুষ্ঠিত হবে।

বাংলাদেশ থেকে মোট চারজন খেলোয়াড় ও একজন কোচ আজ রবিবার দিবাগত রাত ১২টা ৩০ মিনিটে ভিয়েতনামের উদ্দেশে যাত্রা করবেন।

মো. রাকীন রহমান রাকীন বলেন, "আন্তর্জাতিক আসরে অংশ নিতে যাচ্ছি, এতে আমি অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত। সবার কাছে দোয়া চাই আমরা যেন এ প্রতিযোগিতায় ভালো ফলাফল অর্জন করে দেশের সম্মান বয়ে আনতে পারি।"

রাজশাহী টেনিস কমপ্লেক্সের এ্যাডহক কমিটির সদস্যসচিব ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহা. সবুর আলী মন্তব্য করেন, "রাজশাহীর কৃতি সন্তান মো. রাকীন রহমান রাকীনের ডেভিস কাপের মতো আন্তর্জাতিক মর্যাদাপূর্ণ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দ ও গর্বের বিষয়। তার এই অর্জন রাজশাহীর ক্রীড়াঙ্গনের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।"

রাকীন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মাহফুজুর রহমান রিটনের একমাত্র সন্তান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কুমিল্লার ধানক্ষেতে বৈদ্যুতিক ফাঁদে প্রাণ গেল ৯ বছরের শিশুর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৮ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:০৫ পি.এম


কুমিল্লার ধানক্ষেতে বৈদ্যুতিক ফাঁদে প্রাণ গেল ৯ বছরের শিশুর

কুমিল্লার মনোহরগঞ্জে ধানক্ষেতে স্থাপন করা বৈদ্যুতিক ফাঁদে মৃত্যু ঘটেছে ৯ বছর বয়সী রবিউল ইসলাম আহাদের। রবিবার (৮ নভেম্বর) সকাল ১১টার সময় উপজেলার বেতিয়াপাড়া গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

নিহত আহাদ ছিল সুমন মিয়ার একমাত্র সন্তান।

নিহতের বাবা সুমন মিয়া জানিয়েছেন, তিনি তার ছেলেকে বিভিন্ন স্থানে খোঁজার পরেও না পেয়ে বাড়ির আশপাশে খুঁজতে শুরু করেন। একপর্যায়ে তিনি বাড়ির পাশে একটি ধানক্ষেতে ছেলেকে পড়ে থাকতে দেখতে পান।

তিনি অভিযোগ করেন যে, ওই জমিতে বৈদ্যুতিক ফাঁদ স্থাপন করা হয়েছিল, যা সম্পর্কে কেউ জানানো হয়নি। তার দাবি, সেখানে আর্থিংয়ের তারও দেওয়া ছিল। এ ঘটনায় জমির মালিকপক্ষের বিরুদ্ধে তিনি অভিযোগ তুলেছেন।

সুমন মিয়া বলেন, ‘তারা আমাদের জমির ওপর দিয়ে চলাচল করতে দেন না। জমির ওপর বেড়া দিয়ে রেখেছেন, যেন আমরা চলাচল করতে না পারি। এ জন্যই তারা এমন কাজ করেছেন বলে আমাদের সন্দেহ। জমিতে কীসের বৈদ্যুতিক সংযোগ দিয়েছেন, তা কাউকে জানাননি।’

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শিশুটির মৃত্যু ঘটেছে ধানক্ষেতে স্থাপন করা বৈদ্যুতিক তারের সংস্পর্শে এসে। তবে কীভাবে এবং কেন সেখানে বৈদ্যুতিক সংযোগ দেওয়া হয়েছিল, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত শফিকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

মনোহরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাকসুদ আহম্মদ এ বিষয়ে বলেন, ‘আমরা মরদেহ থানায় এনে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করছি। এরপর ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হবে।’

নিহতের বাবার অভিযোগের বিষয়ে তিনি জানান, লিখিত অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নোয়াখালীর গ্যাসক্ষেত্র দেশের জ্বালানি সমস্যা সমাধান করবে: ফখরুল ইসলাম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৮ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:০৫ পি.এম


নোয়াখালীর গ্যাসক্ষেত্র দেশের জ্বালানি সমস্যা সমাধান করবে: ফখরুল ইসলাম

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে সদ্য আবিষ্কৃত 'সুন্দলপুর সাউথ-১' গ্যাসক্ষেত্রটি দেশের জ্বালানি সমস্যার সমাধানে সহায়ক হবে বলে মন্তব্য করেছেন মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম, যিনি নোয়াখালী-৫ আসনের সংসদ সদস্য। রোববার (৮ নভেম্বর) বিকেলে রামপুর ইউনিয়নে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেডের (বাপেক্স) গ্যাস ক্ষেত্রটি পরিদর্শনকালে তিনি এ কথা বলেন।

ফখরুল ইসলাম জানান, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ধারণা অনুযায়ী, প্রাথমিকভাবে কূপটি থেকে দৈনিক ১৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়া যাবে। এ ছাড়া, আগামী ২০ বছর ধরে এখান থেকে গ্যাস উত্তোলন সম্ভব হবে বলেও জানানো হয়েছে।

তিনি উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার চলতি বছরের ৮ জুলাই থেকে সুন্দলপুর সাউথ-১ নামে নতুন কূপের খননকাজ শুরু করে। পরে তিন হাজার ২৮৯ মিটার গভীর পর্যন্ত খননকাজ সম্পন্ন করে গ্যাসের সন্ধান পাওয়া যায়। কর্মকর্তাদের ধারণা, কূপটি থেকে ১০ হাজার কোটি ঘনফুটের বেশি গ্যাস পাওয়া যেতে পারে।

স্থানীয়দের দাবির প্রেক্ষিতে এমপি ফখরুল ইসলাম বলেন, উত্তোলনকৃত গ্যাসের স্থানীয় সরবরাহকে অগ্রাধিকার দেয়ার জন্য সরকারকে অনুরোধ জানানো হবে। এছাড়া, গ্যাস ক্ষেত্রের জন্য অধিগ্রহণকৃত ক্ষতিগ্রস্ত ভূমি মালিকদের যথাযথ পাওনা বুঝিয়ে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি, ইনশাল্লাহ।

এ সময় সুন্দলপুর সাউথ-১ গ্যাসক্ষেত্রের ইনচার্জ রাকিবুল হাসান, কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিবুর রহমান, বাপেক্সের কর্মকর্তারা এবং স্থানীয় বিএনপি নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৭শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫১
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪০
মাগরিব ০৫:১৬
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৮ সূর্যাস্ত : ০৫:১৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%