ঢাকা শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

কলকাতা হাইকোর্টে সোহমের আগাম জামিন খারিজ, ১৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ


কলকাতা হাইকোর্টে সোহমের আগাম জামিন খারিজ, ১৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

পশ্চিমবঙ্গের জনপ্রিয় অভিনেতা ও তৃণমূল কংগ্রেসের সাবেক বিধায়ক সোহম চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে ১৫ লাখ টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগে আইনি জটিলতায় পড়েছেন তিনি। কলকাতা হাইকোর্ট তার আগাম জামিনের আবেদন খারিজ করে দিয়েছে মামলাটির প্রেক্ষিতে।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) হাইকোর্টের বিচারপতি দেবাংশু বসাকের ডিভিশন বেঞ্চে মামলাটির শুনানি শেষে জামিন আবেদনটি সরাসরি খারিজ করা হয়। আইনি বিশেষজ্ঞদের মতে, এর ফলে সোহমের গ্রেফতার এড়ানোর পথ কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। এর আগে, গত জুন মাসে বালুরঘাট জেলা আদালতও এই একই মামলায় তার আগাম জামিনের আবেদন খারিজ করেছিলেন।

আইনজীবীদের বক্তব্য অনুযায়ী, কলকাতা হাইকোর্ট থেকে কোনো ধরনের অন্তর্বর্তীকালীন সুরক্ষা না পাওয়ায় সোহম চক্রবর্তীর আইনি লড়াই এখন আরও কঠিন হয়ে উঠেছে এবং অনিশ্চয়তার মুখোমুখি হয়েছে।

আরও পড়ুন: এআই দিয়ে তৈরি বাংলা ওয়েব সিরিজ ‘শান্তি নিবাস’, নির্মাতার ভাবনায় যেমনটা ছিল

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পোরশায় ৬৪০ গ্রাম হেরোইনসহ যুবক মনিরুল ইসলাম আটক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মোঃ তোফাজ্জল হোসেন, পোরশা (নওগাঁ) প্রতিনিধিঃ

বৃহস্পতিবার, ১৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:২৩ এম


পোরশায় ৬৪০ গ্রাম হেরোইনসহ যুবক মনিরুল ইসলাম আটক

নওগাঁর পোরশা উপজেলায় একটি অভিযান পরিচালনা করে ৬৪০ গ্রাম হেরোইনসহ মনিরুল ইসলাম (২৮) নামের এক যুবককে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বুধবার (১৪ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার নিতপুর বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় কাপালির মোড়ে এই অভিযানটি পরিচালিত হয়। বিজিবি সূত্রে জানা যায়, নওগাঁ ব্যাটালিয়ন (১৬ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম মাসুম, পিএসসি-এর সার্বিক দিকনির্দেশনায় ভারপ্রাপ্ত অ্যাডজুট্যান্ট সহকারী পরিচালক মো. দেলোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে বিজিবির একটি বিশেষ টহলদল ওই এলাকায় অবস্থান নেয়।

এ সময় ঢাকাগামী ‘সোনারতরী’ নামের একটি যাত্রীবাহী বাসে তল্লাশি চালিয়ে ৬৪০ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার করা হয়। একই সাথে মাদক বহনের অভিযোগে মনিরুল ইসলামকে আটক করা হয়। আটক মনিরুল ইসলাম নওগাঁর সাপাহার উপজেলার ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের মৃত আফসার আলীর ছেলে।

১৬ বিজিবি জানায়, আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে পোরশা থানায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। উদ্ধার করা হেরোইনসহ তাঁকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তরের কার্যক্রমও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এ বিষয়ে নওগাঁ ব্যাটালিয়ন (১৬ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম মাসুম, পিএসসি জানান, নওগাঁ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে অবৈধ সীমান্ত পারাপার, গরু ও মাদক পাচার এবং চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবির সর্বাত্মক অভিযান অব্যাহত থাকবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মুক্তচিন্তার প্রজ্ঞাবান ব্যক্তিত্ব অধ্যক্ষ শহীদ খান, সুসং দুর্গাপুরের গর্ব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মোঃ উজ্জ্বল মিয়া,নেত্রকোনা জেলা প্রতিনিধি:

বৃহস্পতিবার, ১৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:২৬ এম


মুক্তচিন্তার প্রজ্ঞাবান ব্যক্তিত্ব অধ্যক্ষ শহীদ খান, সুসং দুর্গাপুরের গর্ব

শিক্ষকতা, নাট্যচর্চা, মুকাভিনয়, আবৃত্তি, উপস্থাপনা ও সমাজসেবায় বহুমাত্রিক অবদান রেখে নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন অধ্যক্ষ মো. শহীদুল্লাহ খান, যিনি শহীদ খান নামে পরিচিত। মুক্তচিন্তা, সৃজনশীলতা ও মানবিক মূল্যবোধে সমৃদ্ধ এই ব্যক্তিত্ব সুসং দুর্গাপুর তথা বৃহত্তর ময়মনসিংহের সাংস্কৃতিক ও সামাজিক অঙ্গনের এক পরিচিত নাম।

দীর্ঘ কর্মজীবনে শিক্ষক হিসেবে অসংখ্য শিক্ষার্থীকে পথ দেখানোর পাশাপাশি শিল্প-সাহিত্য ও সংস্কৃতিচর্চার মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনের চেষ্টা করেছেন তিনি। সংগঠন গড়ে তোলা, নাটক রচনা ও নির্দেশনা, মুকাভিনয়, সামাজিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার মতো নানা ক্ষেত্রে তাঁর অবদান রয়েছে। তাঁর জীবন ও কর্ম নতুন প্রজন্মের কাছে অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠতে পারে।

নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার ঝাঞ্জাইল গ্রামের সন্তান শহীদ খানের বাবা আব্দুস সাত্তার খান কাকৈরগড়া ইউনিয়ন পরিষদের দুবার নির্বাচিত চেয়ারম্যান ছিলেন। তাঁর মা জোবেদা আক্তার খাতুন খোর্শেদা। স্ত্রী রওশন আরা বেগম একজন অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ। তাঁদের তিন সন্তান—কন্যা লাইলা আঞ্জুমান খান স্বর্ণা, কন্যা আসমা আঞ্জুমান খান তুলি এবং ছেলে অমিত খান অমিত। ছেলে অমিত খান ৪৫তম বিসিএসে সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালনের সঙ্গে যুক্ত।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা, শিক্ষকতায় দীর্ঘ পথচলা

শহীদ খান ১৯৭২ সালে এন জারিয়া ঝাঞ্জাইল হাইস্কুল থেকে এসএসসি এবং ১৯৭৬ সালে গৌরীপুর কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট থেকে ১৯৮০ সালে সমাজকল্যাণ বিষয়ে স্নাতক (সম্মান) এবং একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।

১৯৮৩ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া কলেজে সমাজকল্যাণ বিষয়ে অধ্যাপনা করেন তিনি। এরপর ২০০৮ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত পূর্বধলা কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। শিক্ষকতার পাশাপাশি শিক্ষা, সমাজকল্যাণ ও সাংস্কৃতিক উন্নয়ন নিয়ে বিভিন্ন উদ্যোগে সম্পৃক্ত ছিলেন তিনি। শিক্ষা ও সমাজসেবাবিষয়ক বিভিন্ন সেমিনার ও সিম্পোজিয়ামেও অংশ নিয়েছেন।

বাংলাদেশ টেলিভিশনে উপস্থাপনা, অভিনয় ও মুকাভিনয়

শহীদ খানের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সূচনা ছাত্রজীবনেই। ১৯৭৮ সাল থেকে বাংলাদেশ টেলিভিশনের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে উপস্থাপনা, অভিনয় ও গ্রন্থনার সঙ্গে যুক্ত হন তিনি। ‘নবকল্লোল’, ‘জন পরিক্রমা’ ও ‘ইউনিভার্সিটি ম্যাগাজিন পরিচয়’সহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তাঁর সম্পৃক্ততার কথা জানা যায়। ১৯৮৮ সালে বাংলাদেশ টেলিভিশনের ‘প্রকৃতি ও প্রত্যয়’ অনুষ্ঠানের গ্রন্থনা ও উপস্থাপনাতেও ভূমিকা রাখেন তিনি।

মুকাভিনয় শিল্পী হিসেবেও তাঁর পরিচিতি রয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি থেকে শুরু করে ময়মনসিংহ টাউন হল, গৌরীপুর পাবলিক হল, শম্ভুগঞ্জ হাইস্কুল মাঠ, জারিয়া টি অ্যান্ড টি মাঠ এবং ঝাঞ্জাইল ইউনিয়ন পরিষদ মাঠে একক মুকাভিনয় পরিবেশন করেছেন তিনি। ১৯৭৯ সালে ময়মনসিংহ টাউন হলে যাত্রিক নাট্যগোষ্ঠীর প্রযোজনায় মুকাভিনয় পরিবেশন তাঁর সাংস্কৃতিক জীবনের উল্লেখযোগ্য অধ্যায়।

নাট্যনির্দেশনা, মঞ্চসজ্জা, আলোকসম্পাদনা, আবৃত্তি ও অভিনয়েও তাঁর দক্ষতার পরিচয় পাওয়া যায়। জাতীয় শিল্পকলা একাডেমি প্রযোজিত ‘যদি আর বাঁশি না বাজে’ গীতিনাট্যে নেপথ্য কণ্ঠ দিয়েছেন। এ ছাড়া বিভিন্ন টেলিভিশন অনুষ্ঠান, গীতিনাট্য ও বিজ্ঞাপনে নেপথ্য কণ্ঠদান করেছেন তিনি।

‘কোন এক কুদ্দুস’ নাটকে বিশেষ পরিচিতি

নাটক রচনা ও মঞ্চায়নে শহীদ খানের রয়েছে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা। তাঁর রচিত নাটকের মধ্যে রয়েছে ‘ন্যায় ন্যায্য’, ‘চেয়ারম্যান সাবের আপ্যায়ন’, ‘ডাকু মনসুর’, ‘ন্যায়ের পরিণাম’, ‘নিঃস্ব যারা’, ‘অপারেশন কাকনপুর’, ‘ফুলবাড়িয়ার বাসযাত্রী’, ‘ফুলবাড়িয়ার ফুলবানু’, ‘খাদ্যবিতরণের ক্যারিকেচার’ ও ‘কোন এক কুদ্দুস’।

১৯৯৫ সালে রচিত ‘কোন এক কুদ্দুস’ নাটকটি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল কুদ্দুসকে কেন্দ্র করে নির্মিত প্যাকেজ নাটক হিসেবে উল্লেখযোগ্য। বৃহত্তর ময়মনসিংহের নাট্যচর্চার ইতিহাসে নাটকটিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

এ ছাড়া রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘সমাপ্তি’ ও ‘মুসলমানীর গল্প’ এবং কাজী নজরুল ইসলামের ‘জিনের বাদশা’ অবলম্বনে নাট্যরূপ ও মঞ্চায়নের কাজেও যুক্ত ছিলেন তিনি। সত্তর, আশি ও নব্বইয়ের দশকে বিভিন্ন নাট্যসংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে নির্দেশনা, মঞ্চসজ্জা ও আলোকসম্পাদনায় অবদান রাখেন।

সংগঠন গঠন ও সমাজসেবায় ভূমিকা

শহীদ খানের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের শুরু ১৯৭২ সালে ঝাঞ্জাইলের মালঞ্চ সংসদের মাধ্যমে। ১৯৮৫ সাল পর্যন্ত এই সংগঠনের কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে এলাকার তরুণ ও কিশোরদের দেশপ্রেম, খেলাধুলা এবং সাংস্কৃতিক চর্চায় উদ্বুদ্ধ করার উদ্যোগ নেন তিনি। পাশাপাশি হাটবাজার পরিচ্ছন্ন রাখা, চুরি-রাহাজানি প্রতিরোধ এবং সামাজিক ঐক্য প্রতিষ্ঠায় কাজ করেন।

নাট্যসংগঠন সন্ধ্যানী, মালঞ্চ, বহুরূপী নাট্য সংস্থা, গৌরীপুর কলেজ নাট্য সংসদ, বহুবচন, নাট্যচক্র, যাত্রিক নাট্যগোষ্ঠী ও অক্ষর নাট্য সংস্থাসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততা ছিল। এসব সংগঠনের মাধ্যমে নাট্যচর্চা ও সাংস্কৃতিক বিকাশে ভূমিকা রাখেন তিনি।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নৈতিকতা, শিল্প-সাহিত্য ও সংস্কৃতিচর্চার পাশাপাশি ধর্মীয় শিক্ষার গুরুত্ব নিয়েও কাজ করেছেন। ময়মনসিংহের সানকিপাড়ায় রিকশাচালকদের সংগঠিত ও উদ্বুদ্ধ করার উদ্যোগেও তাঁর ভূমিকার কথা উল্লেখ করা হয়।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠায় অবদান

নিজ এলাকার শিক্ষা বিস্তারে শহীদ খানের উদ্যোগ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তাঁর একক প্রচেষ্টায় ঝাঞ্জাইল টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয় বলে উল্লেখ রয়েছে। ঝাঞ্জাইল হাইস্কুল প্রতিষ্ঠায়ও তিনি অন্যতম উদ্যোক্তা ছিলেন। এ ছাড়া চেয়ারম্যান বাড়ি জামে মসজিদের জন্য জমিদান ও প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখেন। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার উদ্যোগেও তিনি যুক্ত ছিলেন।

শিক্ষা, সংস্কৃতি ও সমাজসেবাকে একসূত্রে গেঁথে কাজ করার মধ্য দিয়ে শহীদ খান নিজের কর্মপরিধিকে বিস্তৃত করেছেন। তাঁর জীবন ও কর্মের নানা দিক নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরা গেলে স্থানীয় ইতিহাস, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও সমাজ গঠনে নিবেদিত মানুষের অবদান সম্পর্কে জানার সুযোগ তৈরি হবে।

মুক্তচিন্তা, সৃজনশীলতা, অধ্যবসায় ও সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতাকে ধারণ করে চলা এই ব্যক্তিত্বের কর্মজীবন তাই শুধু ব্যক্তিগত সাফল্যের গল্প নয়; বরং শিক্ষা, সংস্কৃতি ও মানবিক সমাজ বিনির্মাণে দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টারও এক অনন্য দৃষ্টান্ত।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হুথিরা চীনা যন্ত্রাংশে মিসাইল তৈরি করছে, লক্ষ্য সৌদি ও ইসরাইল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:২৮ এম


হুথিরা চীনা যন্ত্রাংশে মিসাইল তৈরি করছে, লক্ষ্য সৌদি ও ইসরাইল

ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা বর্তমানে আরও শক্তিশালী এবং দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক মিসাইল তৈরির কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’-এর একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, চীন থেকে আমদানি করা বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ব্যবহার করে এমন মিসাইল তৈরির চেষ্টা চলছে, যা সরাসরি সৌদি আরব ও ইসরাইলে হামলা চালানোর সক্ষমতা রাখে।

যুদ্ধক্ষেত্রের অস্ত্রশস্ত্র এবং সরবরাহ চেইন নিয়ে কাজ করা গবেষণা সংস্থা ‘কনফ্লিক্ট আর্মামেন্ট রিসার্চ’ (সিএআর)-এর একটি অনুসন্ধানে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।

তথ্য অনুযায়ী, এই অস্ত্রগুলো মূলত ইরানের তৈরি ‘খাইবার শেকান’ মিসাইলের আদলে তৈরি হচ্ছে। এটি একটি অত্যন্ত নিখুঁত নিশানাভেদী ব্যালিস্টিক মিসাইল, যা শত্রুর আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ফাঁকি দিতে সক্ষম এবং সহজেই দিক পরিবর্তন করতে পারে।

এই ইরানি ডিজাইনের ওপর ভিত্তি করে তৈরি মিসাইলগুলো প্রায় ১ হাজার ২০০ মাইল পর্যন্ত পথ পাড়ি দিতে সক্ষম। এর ফলে পুরো সৌদি আরব এবং ইসরাইল এই মিসাইলের আওতার মধ্যে চলে আসবে।

এই প্রযুক্তির বিস্তার ঘটেছে এমন এক সময়ে, যখন গত কয়েক সপ্তাহ ধরে সৌদি আরবের ওপর হুথিদের হামলার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে। পাশাপাশি, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর ইরানের লাগাতার হামলা বিশ্ববাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি করেছে। এই পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সোশ্যাল ট্রুথ প্ল্যাটফর্মে হুথিদের আচরণকে ‘খুবই বাজে’ বলে তীব্র সমালোচনা করেছেন।

চীনা যন্ত্রাংশ যেভাবে হুথিদের শক্তি বাড়াচ্ছে

গত বছর দুটি চালান আটকের পর ইয়েমেনি কর্তৃপক্ষ চলতি বছরের জুলাই মাসে সিএআর-এর কাছে কিছু তথ্য প্রদান করে। সেই তথ্যের ভিত্তিতে এই প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে। ওই সময় অন্যান্য পণ্যের আড়ালে সুকৌশলে মিসাইল তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম পাচার করা হচ্ছিল।

আটককৃত সামগ্রীর মধ্যে ছিল মিসাইলের মোটর এবং এয়ারফ্রেমের জন্য বিশেষভাবে তৈরি ধাতব যন্ত্রাংশ এবং ফ্লাইট চলাকালীন মিসাইলকে স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করা লেজ বা ফিন। গবেষকরা ‘খাইবার শেকান’ মিসাইল সিরিজের সলিড-প্রপেল্লান্ট রকেট মোটরের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন যন্ত্রাংশও শনাক্ত করেছেন।

সিএআর-কে প্রদর্শিত শিপিং নথিপত্র অনুযায়ী, এই যন্ত্রাংশগুলো সরবরাহ করেছে চীনের একটি নির্ভুল ধাতু প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান, যারা নিজেদের কাস্টম অ্যারোস্পেস যন্ত্রাংশ তৈরির বিশেষজ্ঞ হিসেবে দাবি করে। তবে প্রতিবেদনে সেই কোম্পানির নাম উল্লেখ করা হয়নি।

আমদানিকৃত যন্ত্রাংশগুলোর কিছু অংশ সাধারণ বেসামরিক কাজে ব্যবহৃত হতে পারে। তবে বেশ কিছু যন্ত্রাংশ বিশেষভাবে কেবল মিসাইলের জন্য তৈরি করা হয়েছে। এতে প্রশ্ন উঠেছে যে, এই সরঞ্জামগুলো কীভাবে এবং কোন উৎস থেকে সরবরাহ করা হলো।

‘খাইবার শেকান’ কেন এত বিপজ্জনক অস্ত্র?

২০২২ সালে তেহরানে প্রথম প্রকাশ্যে আসা খাইবার শেকান একটি তুলনামূলকভাবে কম খরচে তৈরি অস্ত্র। এর চলার পথ বদলানোর অদ্ভুত ক্ষমতার কারণে প্রচলিত ব্যালিস্টিক মিসাইলের তুলনায় একে আটকে দেওয়া এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমগুলোর জন্য বেশ কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।

জাতিসংঘের ইয়েমেন নিষেধাজ্ঞা প্যানেলের সাবেক বিশেষজ্ঞ হেনরি থম্পসন জানান, প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে যে, হুথিরা অন্তত গত দুই বছর ধরে চীন থেকে সলিড-ফ্যুল ব্যালিস্টিক মিসাইলের যন্ত্রাংশ আমদানি করে আসছে।

তিনি আরও বলেন, মাঝারি পাল্লার এই ব্যালিস্টিক মিসাইলগুলোর মাধ্যমে ক্রুজ মিসাইল বা ড্রোনের চেয়ে অনেক বড় পে-লোড বা বিস্ফোরক নিয়ে হুথিরা সৌদি আরবের গভীরে আঘাত হানতে সক্ষম হবে। ফলে তারা এক আরও বড় ও মারাত্মক হুমকিতে পরিণত হতে চলেছে।

হুথিদের অস্ত্র সরবরাহে চীনের ভূমিকা

হুথিদের অস্ত্র কর্মসূচিকে টিকিয়ে রাখতে বিদেশি সরবরাহকারীদের একটি বিশাল নেটওয়ার্ক কাজ করে যাচ্ছে। জাতিসংঘের প্রতিবেদন এবং অস্ত্র বিশেষজ্ঞদের সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী, বিদ্রোহী এই গোষ্ঠীর কাছে যাওয়া আটককৃত পণ্যের সবচেয়ে বড় উৎস হয়ে উঠেছে চীনা কোম্পানিগুলো। তথ্যে আরও দেখা যায়, হুথিদের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়া ড্রোন যন্ত্রাংশের বেশিরভাগ সরবরাহকারীই চীনের মাটিতে অবস্থিত।

হুথিরা গত কয়েক বছরে চীন এবং অন্যান্য সরবরাহকারীদের সঙ্গে তাদের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও জোরদার করেছে।

গত বছর যুক্তরাষ্ট্র লোহিত সাগরে মার্কিন জাহাজে হামলা চালাতে সাহায্য করার অভিযোগে একটি চীনা কোম্পানির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ এনেছিল।

অন্যদিকে বেইজিং সবসময়ই দাবি করে আসছে যে, ইয়েমেনি এই গোষ্ঠীর কাছে অস্ত্র বিক্রির ওপর জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা তারা পুরোপুরি মেনে চলে। তবে বেসামরিক ও সামরিক ব্যবহারের মধ্যে সীমারেখাটি বেশ সূক্ষ্ম, কারণ হুথিদের আমদানি করা কিছু পণ্য উভয় কাজেই ব্যবহার করা যেতে পারে, আবার কিছু পণ্য সরাসরি কেবল অস্ত্র সিস্টেমে ব্যবহারের জন্য তৈরি।

হুথিরা যে বিদেশ থেকে বিশেষায়িত মিসাইল যন্ত্রাংশ সংগ্রহ করে আসছে, সাম্প্রতিক এই আটক কেবল তারই প্রথম ইঙ্গিত নয়।

২০২৪ সালের শেষের দিকে সিএআর-এর বিশেষজ্ঞরা তুলনামূলক কম পাল্লার ‘সদর’ মিসাইলের সঙ্গে সম্পর্কিত একই ধরনের কাস্টম-মেশিনযুক্ত যন্ত্রাংশের আমদানি নথিপত্রও নথিভুক্ত করেছিলেন। যদিও সেই যন্ত্রাংশগুলোর সরবরাহকারী কে ছিল, তা আজও অজানা রয়ে গেছে।

তবে নতুন এই আবিষ্কারগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, এই গোষ্ঠীর অস্ত্র সংগ্রহের প্রচেষ্টা এখন আরও উন্নত মিসাইল সিস্টেমের সরঞ্জাম সংগ্রহের পর্যায়ে পৌঁছে গেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

তিন বিভাগে বৃষ্টির আভাস, তাপমাত্রা কমতে পারে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:২৮ এম


তিন বিভাগে বৃষ্টির আভাস, তাপমাত্রা কমতে পারে

দেশের তিনটি বিভাগে বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে, দেশের অন্যান্য অঞ্চলে আকাশ আংশিক মেঘলা থাকার পরেও আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়া অফিস।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এই তথ্য প্রকাশ করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

এতে উল্লেখ করা হয়েছে, চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু স্থানে এবং খুলনা ও বরিশাল বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়ার সঙ্গে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। অন্যদিকে, দেশের অন্যান্য স্থানে আকাশ আংশিক মেঘলা থাকলেও আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে।

এ সময় সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে বলে জানানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়ার সঙ্গে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। দেশের অন্যান্য অঞ্চলে আকাশ আংশিক মেঘলা থাকলেও আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। এ সময় সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

আবহাওয়া অধিদফতর জানায়, লঘুচাপের বর্ধিতাংশ উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩১
ইশা ০৬:৪২
সূর্যোদয় : ০৫:৫৬ সূর্যাস্ত : ০৫:৩১
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%