ঢাকা শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ৩১শে আশ্বিন, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ০৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ৩১শে আশ্বিন, ১৪৩২বাং

গ্রামবাংলার ঐতিহ্য হাডুডু হারিয়ে যাচ্ছে


গ্রামবাংলার ঐতিহ্য হাডুডু হারিয়ে যাচ্ছে

একসময় বিকেল হলেই গ্রামাঞ্চলের মাঠে হাডুডুর আসর জমে উঠত। খেলোয়াড়রা মাঠের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছুটে যেত। প্রতিপক্ষের সীমানায় গিয়ে ‘হাডুডু’ বলার সময় উত্তেজনায় চারপাশ কাঁপত। খেলোয়াড়দের সঙ্গে মাঠের চারপাশে নারী, পুরুষ, শিশু-কিশোর ও প্রবীণরাও ভিড় করতেন। একটি খেলার মাধ্যমে পুরো গ্রামের উৎসবের আবহ তৈরি হতো। কিন্তু সময়ের সঙ্গে বিনোদনের ধরন বদলে গেছে। এখন মাঠের সেই জায়গা দখল করে নিয়েছে মোবাইল ফোন, অনলাইন গেম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। কিছু জায়গায় খেলার মাঠ সংকুচিত হয়েছে, আবার কিছু জায়গায় মাঠ হারিয়ে গেছে বসতবাড়ি বা অন্য ব্যবহারে। নিয়মিত প্রতিযোগিতা, প্রশিক্ষণ ও পৃষ্ঠপোষকতার অভাবও যোগ হয়েছে। এর ফলে একসময় জনপ্রিয় হাডুডু এখন হারিয়ে যেতে বসেছে।

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার ৩ নম্বর সিংড়া ইউনিয়নের ভার্ণাপাড়া গ্রামে গিয়ে এমন দৃশ্য দেখা গেছে। স্থানীয়দের মতে, একসময় এ এলাকায় নিয়মিত হাডুডু খেলা হতো। দূর-দূরান্ত থেকে দল আসত। বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মাঠে মানুষের ভিড় থাকত। বর্তমানে সেই মাঠে খেলোয়াড়ের সংখ্যা অনেক কমে গেছে। তরুণদের একটি বড় অংশ মাঠের বদলে মোবাইল ফোন ও অনলাইন বিনোদনে সময় কাটাচ্ছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. ফয়েজ উদ্দিন বলেন, ‘আগে হাডুডু ছিল গ্রামের সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা। বিকেল হলেই ছেলেরা মাঠে চলে যেত। এখন মাঠে খেলোয়াড়ের চেয়ে মোবাইল হাতে তরুণের সংখ্যা বেশি।’ প্রবীণ হাডুডু খেলোয়াড় মোহাম্মদ মোকসেদ আলী বলেন, ‘খেলার প্রতি আগ্রহ এখনো আছে। কিন্তু নিয়মিত মাঠ, প্রশিক্ষণ, সরঞ্জাম ও প্রতিযোগিতা না থাকায় অনেকেই আর ধরে রাখতে পারছে না।’ আরেক প্রবীণ খেলোয়াড় মোহাম্মদ আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, ‘একসময় বিকেল হলেই আমরা মাঠে ছুটে যেতাম। হাডুডুর প্রতি সবার আলাদা ঝোঁক ও উদ্যম ছিল। খেলোয়াড়দের সামাজিকভাবেও সম্মান ছিল। এখন সেই পরিবেশ নেই। তরুণদের মধ্যে এ খেলার ভবিষ্যৎ নিয়ে আগ্রহ তৈরি হচ্ছে না।’

আরও পড়ুন: পাবনায় সাঁথিয়ায় অনুষ্ঠিত হলো ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ, উপভোগ করলেন লক্ষাধিক মানুষ

শুধু খেলা নয়, সামাজিক বন্ধনও হারাচ্ছে। হাডুডু শুধুমাত্র শরীরচর্চার একটি খেলা নয়, এটি গ্রামীণ সমাজের সামাজিক বন্ধন ও লোকজ সংস্কৃতির অংশ। একটি ম্যাচের মাধ্যমে এক গ্রামের সঙ্গে অন্য গ্রামের মানুষের যোগাযোগ তৈরি হতো। খেলাকে ঘিরে বাড়ত পরিচয়, বন্ধুত্ব ও সৌহার্দ্য। স্থানীয় শিক্ষক আফতাব উদ্দিন সরকার বলেন, ‘আমি হাডুডুর প্রতি আগ্রহী ছিলাম এবং বিভিন্ন গ্রামের মাঠে খেলোয়াড় ও সংগঠক হিসেবে যুক্ত ছিলাম। শিশু-কিশোরদের শুধু পড়াশোনা ও প্রযুক্তিনির্ভর জীবনে আটকে রাখলে তাদের শারীরিক ও সামাজিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হতে পারে। ঐতিহ্যবাহী খেলাগুলো ফিরিয়ে আনতে বিদ্যালয় ও স্থানীয় পর্যায়ে উদ্যোগ প্রয়োজন।’

প্রয়োজন নিয়মিত আয়োজন। স্থানীয় ক্রীড়া সংগঠক মো. জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘বছরে একবার কোনো অনুষ্ঠান করলেই ঐতিহ্যবাহী খেলা বাঁচবে না। নিয়মিত প্রতিযোগিতা ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। খেলোয়াড়দের উৎসাহ দিতে পুরস্কার ও পৃষ্ঠপোষকতাও প্রয়োজন।’

উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক বলেন, হাডুডুসহ গ্রামীণ খেলাগুলো ধরে রাখতে পরিকল্পিতভাবে প্রতিযোগিতার আয়োজন এবং মাঠ ব্যবহারের সুযোগ বাড়ানো প্রয়োজন। স্থানীয় পর্যায়ে উদ্যোগ নেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।

ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজ রুবানা তানজিন বলেন, ‘ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলা আমাদের গ্রামীণ সংস্কৃতির অংশ। হাডুডু যাতে হারিয়ে না যায়, সে জন্য স্থানীয় ক্রীড়া সংগঠন ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।’

আরও পড়ুন: রাজশাহীতে জমি ও দোকানঘর দখলচেষ্টার অভিযোগ, প্রতিকার চেয়ে ভুক্তভোগীর সংবাদ সম্মেলন

স্থানীয়দের মতে, হাডুডুকে টিকিয়ে রাখতে শুধু খেলোয়াড় তৈরি করলেই হবে না, প্রয়োজন খেলার মাঠ সংরক্ষণ, নিয়মিত টুর্নামেন্ট, প্রশিক্ষণ এবং সরকারি-বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা। বিদ্যালয় পর্যায়েও এ ধরনের খেলাকে উৎসাহিত করা যেতে পারে। নইলে একসময় গ্রামবাংলার মাঠ থেকে হারিয়ে যাবে ‘হাডুডু’ নামের সেই চিরচেনা হাঁক। নতুন প্রজন্ম হয়তো জানবেই না, একসময় একটি খেলা ঘিরে কীভাবে পুরো গ্রামের মানুষ একসঙ্গে মাঠে জড়ো হতো, কীভাবে খেলোয়াড়ের প্রতিটি দৌড় আর প্রতিপক্ষের সীমানা ছোঁয়ার মুহূর্তে উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ত চারপাশ। ঐতিহ্য হারিয়ে যাওয়ার আগে তাই হাডুডুর মাঠে আবারও ফিরিয়ে আনতে হবে সেই প্রাণের হাঁক-‘হাডুডু... হাডুডু...’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাজিবপুরে ২ পুরিয়া গাঁজাসহ আটক ১, ৭ দিনের কারাদণ্ড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:১৭ পি.এম


রাজিবপুরে ২ পুরিয়া গাঁজাসহ আটক ১, ৭ দিনের কারাদণ্ড

কুড়িগ্রামের চর রাজিবপুরে ২ পুরিয়া গাঁজাসহ মোঃ নাসির (৩৪) নামের একজনকে পুলিশ আটক করেছে। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে ৭ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫০০ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করে।

সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে চর রাজিবপুর থানাধীন ধুলাউরি এলাকায় জনৈক সোহেল রানার দোকানের সামনে থেকে তাকে আটক করা হয়। তিনি ধুলাউরি এলাকার মৃত আব্দুল জলিলের পুত্র।

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নাসিরের কাছ থেকে ২ পুরিয়া গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে। মাদক সেবনের অপরাধে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে ৫০০ টাকা জরিমানা এবং ৭ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করে।

পরে দণ্ডপ্রাপ্ত নাসিরকে কুড়িগ্রাম জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে সহকারী পুলিশ সুপার, রৌমারী সার্কেল মোঃ রাসেল কবির মন্তব্য করেন, “মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান ও নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।

মাদক সেবন, বিক্রয় ও সরবরাহের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে পুলিশের পাশাপাশি সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সৈয়দপুর প্লাজায় চুরির ঘটনায় ক্ষতিপূরণের দাবিতে ব্যবসায়ীদের সড়ক অবরোধ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:১৭ পি.এম


সৈয়দপুর প্লাজায় চুরির ঘটনায় ক্ষতিপূরণের দাবিতে ব্যবসায়ীদের সড়ক অবরোধ

এফএনএস (ওবায়দুল ইসলাম; সৈয়দপুর, নীলফামারী) : সৈয়দপুর প্লাজা সুপার মার্কেটে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া একটি স্বর্ণ ও মোবাইল ফোনের দোকানে চুরির ঘটনায় ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। দোকানে পাহারাদার থাকা সত্ত্বেও কীভাবে এই চুরির ঘটনা ঘটল, তা নিয়ে ব্যবসায়ীরা প্রশ্ন তুলেছেন। চুরির ঘটনায় থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে এবং সিসি ক্যামেরার ফুটেজও সংগ্রহ করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। প্লাজার প্রকল্প পরিচালক আলহাজ্ব গুলজার আহমেদকে বিষয়টি অবহিত করা হলেও, এ বিষয়ে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি বলে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেছেন। প্রকল্প পরিচালকের বক্তব্য এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে, চুরির ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে আন্দোলন করে আসছেন প্লাজার ব্যবসায়ীরা। একই সঙ্গে, চুরি যাওয়া মালামালের ক্ষতিপূরণও দাবি করছেন ক্ষতিগ্রস্ত দোকান মালিকরা।

ক্ষতিপূরণের দাবিতে ৫ অক্টোবর সৈয়দপুর প্লাজার সামনে শেরে বাংলা সড়ক অবরোধ করেন ব্যবসায়ীরা। এই অবরোধের ফলে ব্যস্ততম সড়কটিতে যান চলাচল সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে ছোট যানবাহনের চালকসহ সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তির সম্মুখীন হতে হয়।

ব্যবসায়ীরা কয়েক ঘণ্টা ধরে সড়ক অবরোধ করে তাদের দাবি আদায়ের জন্য অবস্থান করেন। পরে তারা ৭২ ঘণ্টার সময়সীমা বা আল্টিমেটাম দিয়ে অবরোধ তুলে নেন। এ সময় সৈয়দপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রেজাউল করিম রেজা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস প্রদান করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রংপুরে ৫০ লাখ টাকার ৫০ কেজি কষ্টিপাথর উদ্ধার, দুইজন আটক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:১৮ পি.এম


রংপুরে ৫০ লাখ টাকার ৫০ কেজি কষ্টিপাথর উদ্ধার, দুইজন আটক

রংপুরে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন-১৩ (এসআরবি-১৩)-এর যৌথ অভিযানের মাধ্যমে ৫০ কেজি ওজনের দুটি দুষ্প্রাপ্য কষ্টিপাথরসহ দুইজনকে আটক করা হয়েছে। রংপুর ব্যাটালিয়ন (৫১ বিজিবি) জানায়, উদ্ধার করা কষ্টিপাথরের আনুমানিক মূল্য ৫০ লাখ টাকা।

সোমবার (৫ অক্টোবর) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত রংপুরের মিঠাপুকুর, রংপুর শহর এবং পীরগাছা এলাকায় পৃথক অভিযান পরিচালনা করা হয়। আরআইবি, এসআইপি এবং সিভিল গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত এই অভিযানের নেতৃত্ব দেন রংপুর ব্যাটালিয়ন (৫১ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. নাজিউর রহমান। আটককৃত ব্যক্তিরা হলেন রংপুরের তাজহাট থানার কারণগুটলা গ্রামের মো. মজিবর রহমান (৫৭) এবং কোতোয়ালি থানার পূর্ব বোতলা এলাকার মো. এনামুল হোসেন (৫৫)।

বিজিবি সূত্রে জানা যায়, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বিশেষ টহলদল রংপুরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানের এক পর্যায়ে আটককৃত দুই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের হেফাজত থেকে দুটি কষ্টিপাথর উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত পাথরের মোট ওজন ৫০ কেজি এবং আনুমানিক জব্দমূল্য ৫০ লাখ টাকা। আটককৃতদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে মামলা দায়েরসহ পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য রংপুর কোতোয়ালি থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। রংপুর ব্যাটালিয়ন (৫১ বিজিবি) জানায়, চোরাচালান, মাদকদ্রব্যের অবৈধ প্রবাহ প্রতিরোধ এবং সীমান্ত এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত টহলের পাশাপাশি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাজার তৈরি করতে বেসরকারি খাতকেও এগিয়ে আসতে হবে: মাহবুবুর রহমান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:১৮ পি.এম


বাজার তৈরি করতে বেসরকারি খাতকেও এগিয়ে আসতে হবে: মাহবুবুর রহমান

রংপুরে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও ক্ষুদ্র-মাঝারি উদ্যোক্তাদের ব্যবসায়িক দক্ষতা বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার উদ্দেশ্যে ‘ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তা সমাবেশ’ আয়োজন করা হয়েছে। শিল্প ও বাণিজ্য খাতের অগ্রযাত্রাকে ত্বরান্বিত করার লক্ষ্য নিয়ে ইন্ডাস্ট্রিয়ালিস্টস অ্যান্ড বিজনেসম্যান ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন (ওইডঋ) রংপুর জোনের উদ্যোগে সোমবার (৫ অক্টোবর) বিকেলে নগরীর কলেজ রোডের পানশী মিলনায়তনে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রংপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. মাহবুবুর রহমান (বেলাল)। প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন ওইডঋ-এর কেন্দ্রীয় সভাপতি মুহাম্মদ শহিদুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ওইডঋ-এর উপদেষ্টা এটিএম আজম খান, রংপুর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রেসিডেন্ট মো. এমদাদ হোসাইন, ওইডঋ-এর সহ-সভাপতি আনোয়ারুল ইসলাম রাজু এবং রংপুর জোনের সভাপতি মো. আনোয়ারুল ইসলাম। প্রধান অতিথি মো. মাহবুবুর রহমান (বেলাল) বলেন, "দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) খাতের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।" তিনি উল্লেখ করেন, "স্থানীয় উদ্যোক্তাদের মাধ্যমে টেকসই কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং নতুন বাজার তৈরি করতে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি খাতকেও এগিয়ে আসতে হবে।" তরুণ ও সম্ভাবনাময় উদ্যোক্তাদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাসও দেন তিনি।

প্রধান আলোচক মুহাম্মদ শহিদুল ইসলাম বলেন, "আধুনিক প্রতিযোগিতামূলক বাজারে টিকে থাকতে ব্যবসার গুণগত মান উন্নয়নের পাশাপাশি সঠিক বিপণন কৌশল গ্রহণ জরুরি।" তিনি আরও বলেন, "ডিজিটাল মাধ্যম ও প্রচলিত বিপণন ব্যবস্থার সমন্বিত ব্যবহারের মাধ্যমে উদ্যোক্তারা তাদের পণ্য ও সেবার বাজার সম্প্রসারণ করতে পারেন।" তিনি উল্লেখ করেন, "সঠিক কর্মপরিকল্পনা ও নিষ্ঠা থাকলে একটি ক্ষুদ্র উদ্যোগও ধীরে ধীরে বড় শিল্পে রূপ নিতে পারে।"

সমাবেশে বক্তারা রংপুরের স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্ভাবনা, উদ্যোক্তাদের বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা এবং তা উত্তরণের উপায় নিয়ে আলোচনা করেন। একই সঙ্গে নতুন উদ্যোক্তা তৈরি, ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসার সম্প্রসারণ এবং স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। অনুষ্ঠানে উদ্যোক্তাদের জন্য ‘মার্কেটিং অ্যান্ড সেলস স্ট্র্যাটেজি ফর এসএমইস’ শীর্ষক বিশেষ প্রশিক্ষণ সেশন অনুষ্ঠিত হয়। এতে ব্যবসা পরিচালনায় আধুনিক বিপণন কৌশল, ক্রেতার মনস্তত্ত্ব, পণ্যের ব্র্যান্ডিং, বিক্রয় ব্যবস্থাপনা এবং বাজার সম্প্রসারণের বিভিন্ন কৌশল নিয়ে আলোচনা করা হয়। প্রশিক্ষণ পরিচালনা করেন ওইডঋ-এর উদ্যোক্তা উন্নয়ন প্রশিক্ষক মো. আল-মামুন জমাদ্দার।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ওইডঋ-এর রংপুর জোনের সেক্রেটারি অধ্যাপক মো. জিল্লুর রহমান মুন্সি, কারমাইকেল কলেজের সাবেক জিএস আবুল কালাম আযাদ এবং সংগঠনের সংশ্লিষ্ট নেতৃবৃন্দ। অনুষ্ঠানটির সভাপতিত্ব করেন রংপুর মহানগর সভাপতি প্রকৌশলী মো. আরিফুর রহমান।

সমাবেশে রংপুরের বিভিন্ন এলাকা থেকে বিপুলসংখ্যক ক্ষুদ্র, মাঝারি ও নতুন উদ্যোক্তা অংশ নেন। উদ্যোক্তারা ব্যবসায়িক দক্ষতা উন্নয়ন ও আধুনিক বিপণন কৌশল বিষয়ে এ ধরনের আয়োজনকে সময়োপযোগী বলে উল্লেখ করেন। তারা বলেন, প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে স্থানীয় উদ্যোক্তারা নিজেদের ব্যবসা আরও সুসংগঠিত ও সম্প্রসারণ করতে পারবেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৪
মাগরিব ০৫:৩২
ইশা ০৬:৪৩
সূর্যোদয় : ০৫:৫৬ সূর্যাস্ত : ০৫:৩২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%