রবিবার, ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১১:১৬ পি.এম
কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলা ও পৌর যুবদলের দুই নেতাকে সভাপতি হিসেবে ঘোষণা করেছেন কুমিল্লা-১০ আসনের সংসদ সদস্য মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া। কেন্দ্রীয় যুবদলের পক্ষ থেকে তাদের বহিষ্কার করার কয়েক দিনের মধ্যেই এই ঘোষণা আসে।
এ বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় বিএনপি ও তার অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে আলোচনা, সমালোচনা এবং ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়াকে নাঙ্গলকোট উপজেলা যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুল মমিনকে উপজেলা যুবদলের সভাপতি এবং পৌর যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক নুর আহমদকে পৌর যুবদলের সভাপতি হিসেবে ঘোষণা করতে দেখা যায়।
এর আগে, ১৩ সেপ্টেম্বর কেন্দ্রীয় যুবদলের নির্বাহী কমিটি আবদুল মমিন ও নুর আহমদকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ দল থেকে বহিষ্কার করে। তাদের বিরুদ্ধে পেশিশক্তি প্রদর্শন, সংগঠনের সহযোদ্ধাকে অন্যায়ভাবে রক্তাক্ত করা এবং বিভিন্ন অনাচারে জড়িত থাকার অভিযোগ ছিল।
কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের প্রায় এক সপ্তাহ পর, ১৮ সেপ্টেম্বর, সংসদ সদস্য মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া নাঙ্গলকোটের বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌরসভার বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেন। ওই সভার একটি ভিডিও সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে তাকে আবদুল মমিন ও নুর আহমদকে যথাক্রমে উপজেলা ও পৌর যুবদলের সভাপতি হিসেবে ঘোষণা করতে দেখা যায়।
এ ঘটনার পর স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের একাংশ প্রশ্ন তুলেছেন, কেন্দ্রীয় যুবদলের সিদ্ধান্তে বহিষ্কৃত দুই নেতাকে কীভাবে আবার সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানোর ঘোষণা দেওয়া হলো। তাদের দাবি, যুবদলের কমিটি গঠন কিংবা কাউকে সাংগঠনিক পদ দেওয়ার নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া রয়েছে।
কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা যুবদলের সদস্য সচিব ফরিদ উদ্দিন শিবলু বলেন, "জাতীয় নির্বাচনের আগেই যুবদলের সব কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছিল। ওই বিলুপ্ত কমিটির দুই সদস্যকে কেন্দ্র থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।"
তিনি আরও জানান, "স্থানীয় এমপির বহিষ্কৃত দুই নেতাকে নিয়ে সভাপতি ঘোষণা দেওয়ার ভিডিওটি দেখেছি। এ বিষয়ে আমাদের কাছে কয়েকটি স্ক্রিনশটও আছে। তারা তো বর্তমানে কোনো কমিটিতেই নেই।"
অভিযোগের বিষয়ে সংসদ সদস্য মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া বলেন, "তারা আমার সংগঠনের একনিষ্ঠ কর্মী। তারা দলের জন্য সব সময় কাজ করেছে। আমি তাদের এই বহিষ্কার মানি না। তাই তাদেরকে সভাপতি ঘোষণা করেছি।"
তিনি আরও বলেন, "আমি ক্লিয়ার করে দিয়েছি—যেখানে বহিষ্কার, সেখানেই আবিষ্কার।"
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নাঙ্গলকোটের ঢালুয়া হাইস্কুল গেট এলাকায় বিএনপি, ছাত্রদল ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের একটি প্রতিবাদ মিছিলে হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিরোধ প্রকাশ্যে আসে।
গত ১৩ আগস্টের ওই ঘটনায় অন্তত ২০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। আহত নেতাকর্মীদের অভিযোগ, হামলাকারীরা সংসদ সদস্য মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার অনুসারী। অন্যদিকে আহতরা স্থানীয়ভাবে সাবেক সংসদ সদস্য আবদুল গফুর ভূঁইয়ার অনুসারী হিসেবে পরিচিত।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় নেতাকর্মীদের অভিযোগ, ওই দিন ছাত্রদল নেতা মাহফুজুর রহমানের নেতৃত্বে একটি মিছিলে আবদুল মমিন ও তার অনুসারীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা করেন। এ ঘটনার পর কেন্দ্রীয় যুবদল আবদুল মমিন ও নুর আহমদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়।
কেন্দ্রীয় বহিষ্কারাদেশের পরও দুই নেতাকে নিয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্যের এমন বক্তব্যে নাঙ্গলকোটের বিএনপির রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আলোচনা ও সমালোচনা চলছে।
তবে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার কিংবা দুই নেতাকে নতুন করে সাংগঠনিক পদ দেওয়ার বিষয়ে কেন্দ্রীয় যুবদলের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো নতুন সিদ্ধান্ত বা আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে জানানো হয়েছে যে, নারীদের স্কুল, কলেজ এবং কর্মক্ষেত্রে যাওয়ার জন্য চলমান ১৪টি পিংক বাসের সংখ্যা অপ্রতুল। এ কারণে আরও ১০০টি বাস দ্রুত সময়ের মধ্যে চালু করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
এছাড়াও, সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধের লক্ষ্যে ঝুঁকিপূর্ণ মোড় এবং দুর্ঘটনা প্রবণ এলাকা চিহ্নিত করে সেগুলোকে সোজা ও প্রশস্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন প্রকল্পগুলোর জন্য স্ট্রেইট লাইন করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও বৈঠকে উল্লেখ করা হয়।
আজ রোববার জাতীয় সংসদ ভবনে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। কমিটির সভাপতি ও জাতীয় সংসদের হুইপ রকিবুল ইসলামের সভাপতিত্বে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, লুৎফর রহমান, মো. রুহুল আমীন দুলাল, মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান, নেওয়াজ হালিমা আরলী, মো. রফিকুল ইসলাম খান এবং মো. মতিয়ার রহমান অংশগ্রহণ করেন। বিশেষ আমন্ত্রণে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান বৈঠকে যোগদান করেন।
বৈঠকের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করা হয় এবং স্থায়ী কমিটির সকল সদস্যবৃন্দের সাথে মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও দপ্তরসমূহের কর্মকর্তাবৃন্দের পরিচিতি পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় এবং এর অধীনস্থ বিভাগ ও দপ্তরসমূহের সার্বিক কার্যক্রম সম্পর্কে স্থায়ী কমিটির সদস্যবৃন্দকে অবহিত করা হয়। সড়ক ও মহাসড়কে শৃঙ্খলা আনয়নে মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা ও গৃহীত কার্যক্রম সম্পর্কেও আলোচনা করা হয়।
কমিটি কর্ণফুলী টানেলের সার্ভিস এলাকায় ৭২ একর জমির উপর নির্মিত অত্যাধুনিক বিলাসবহুল রিসোর্টের বর্তমান অবস্থা সংসদীয় স্থায়ী কমিটি কর্তৃক সরেজমিন পরিদর্শনের জন্য মন্ত্রণালয়কে উদ্যোগ গ্রহণের সুপারিশ করে।
বৈঠকে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব, সেতু বিভাগের সচিব, মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও দপ্তর সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় পরিচালিত অভিযান ও সামারি ট্রায়ালের মাধ্যমে নিরাপদ খাদ্য আইনে গত এক সপ্তাহে ১০টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ২০ লাখ টাকা জরিমানা এবং ৬টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের (বিএফএসএ) চলমান আইন প্রয়োগ ও মনিটরিং কার্যক্রমের অংশ হিসেবে গত ২০ থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এক সপ্তাহে এসব জরিমানা ও মামলা করা হয়।
বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আজ জানানো হয়, নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩ বাস্তবায়নে উল্লিখিত সময়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় মোট ৬টি প্রতিষ্ঠানে অভিযান পরিচালনা করা হয়। বাধ্যতামূলক নিবন্ধন না করে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে খাবার তৈরি, রেফ্রিজারেটরে লেবেলবিহীন মাছ-মাংস ও অন্যান্য খাদ্যসামগ্রী সংরক্ষণ এবং ট্রেড লাইসেন্স, খাদ্যকর্মীদের স্বাস্থ্যসনদ ও পেস্ট কন্ট্রোলের প্রমাণক প্রদর্শনে ব্যর্থতার মতো অপরাধে ২টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৩ লাখ টাকা জরিমানা করা হয় এবং ২টি মামলা দায়ের করা হয়।
এ ছাড়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নরসিংদী ও সিরাজগঞ্জ জেলায় মোট ৩টি প্রতিষ্ঠানে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। পোড়া তেল ব্যবহার, অননুমোদিত রাসায়নিক রং ব্যবহার, উৎপাদনস্থলে তেলাপোকা ও ছারপোকার বিচরণ, পণ্যের গায়ে লেবেল না থাকা এবং নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য উৎপাদনের মতো অপরাধে প্রতিষ্ঠানগুলোকে মোট ৪ লাখ টাকা জরিমানা করা হয় এবং ৩টি মামলা দায়ের করা হয়।
এ সময়ে লক্ষ্মীপুর ও কিশোরগঞ্জে পৃথকভাবে নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩ অনুযায়ী সামারি ট্রায়াল পরিচালনা করা হয়। লক্ষ্মীপুরে বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে এবং নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তার উপস্থিতিতে পরিচালিত অভিযানে খাদ্য প্রস্তুত, সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা বিভিন্ন অনিয়ম পাওয়ায় ২টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৩ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
অন্যদিকে, কিশোরগঞ্জে ৩টি খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানকে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য উৎপাদন ও সংরক্ষণ এবং মোড়কে বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়ার দায়ে মোট ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন খাদ্যস্থাপনা পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় সংশোধনের নির্দেশ দেওয়া হয়।
আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সারা দেশে খাদ্যস্থাপনা মনিটরিং কার্যক্রমও জোরদার করা হয়েছে। গত এক সপ্তাহে বাজার, হোটেল-রেস্তোরাঁ, বেকারি, মিষ্টির দোকান এবং খাদ্য উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠানসহ মোট ২৮৮টি খাদ্য প্রতিষ্ঠান মনিটরিং করা হয়। এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে খাদ্য উৎপাদন, সংরক্ষণ, পরিবেশন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বিপণনে নিরাপদ খাদ্যবিধি অনুসরণের বিষয়টি তদারকি করা হচ্ছে। প্রয়োজন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশনা দেওয়ার পাশাপাশি আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে, নিরাপদ খাদ্য বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতেও বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের বহুমুখী প্রচার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। নিরাপদ খাদ্য গ্রহণ, স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্য উৎপাদন ও বিপণন এবং ভোক্তার করণীয় সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করতে বাংলাদেশ টেলিভিশনে টিভিসি ও স্ক্রলবার্তা এবং বাংলাদেশ বেতারে নিরাপদ খাদ্যবিষয়ক বিভিন্ন অডিওবার্তা প্রচার করা হয়েছে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি, রিলস ও ভিডিওর মাধ্যমে নিয়মিত সচেতনতামূলক বার্তা প্রচার করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, জনগণের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত খাদ্য নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষ বহুমুখী কার্যক্রম পরিচালনা করছে। খাদ্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত তদারকি, আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ, মোবাইল কোর্ট, খাদ্য নমুনা পরীক্ষা ও গবেষণার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরিতেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, খাদ্য উৎপাদন থেকে শুরু করে ভোক্তার কাছে পৌঁছানো পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার এই কার্যক্রম আরও গতিশীল ও বিস্তৃত করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, কন্টেন্ট ক্রিয়েটর ও ইনফ্লুয়েন্সার সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে ভাঙচুরের ঘটনায় তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, জমির বিরোধের কারণে এই হামলা সংঘটিত হয়েছে। আজ রোববার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী এসব তথ্য দেন।
মন্ত্রী জানান, ক্যান্টনমেন্ট থানার অন্তর্ভুক্ত মানিকদি নামাপুরা এলাকায় এই ঘটনার সূত্রপাত ঘটে। সেখানে ৩৫ কাঠা জমি নিয়ে দুটি পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল। সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওটি বিরোধপূর্ণ জমির ওপর অবস্থিত।
তিনি আরও জানান, এক পক্ষের সঙ্গে ‘নিউ গিনি প্রপার্টিজ’ নামের একটি ডেভেলপার কোম্পানির সম্পর্ক রয়েছে। অন্য পক্ষের সঙ্গে একজন অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তার যোগসূত্র রয়েছে।
প্রাথমিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, রাতে একদল লোক জমিটি দখলের উদ্দেশ্যে সেখানে প্রবেশ করে এবং বিভিন্ন স্থাপনায় ভাঙচুর চালায়।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলোর মধ্যে সালমান মুক্তাদিরের টিনশেডের স্টুডিওও অন্তর্ভুক্ত ছিল, যেখানে কন্টেন্ট তৈরির কার্যক্রম চলছিল।
তিনি জানান, জাতীয় জরুরি সেবা-৯৯৯-এ ফোন পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে। এ পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তাজা কার্তুজের খোসা ও দেশীয় অস্ত্রসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করেছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত চলছে এবং এ বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।
চাঁদাবাজির সঙ্গে হামলার সম্পর্ক রয়েছে কিনা এমন অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগের ভিত্তিতে এই তথ্যের সত্যতা পাওয়া যায়নি।
মন্ত্রী আরও বলেন, মুক্তাদির এই ভাঙচুরের শিকার হয়েছেন। তবে তিনি নিজে স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে কেউ তার কাছে চাঁদা দাবি করেনি; ফলে এ ঘটনায় এখনও তার পক্ষ থেকে কোনো মামলা দায়ের করা হয়নি। যদি তিনি সুনির্দিষ্ট কোনো মামলা দায়ের করেন, তবে আমরা বিষয়টি তদন্ত করতে পারব।
তিনি জানান, স্টুডিওতে হামলার ঘটনায় প্রাথমিক তদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। তবে পুরো পরিস্থিতি উদঘাটনের জন্য আরও বিস্তারিত তদন্তের প্রয়োজন হবে। তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়ার বিস্তারিত তথ্য ভবিষ্যতে জানানো হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বান্দরবান, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী সাচিং প্রু মন্তব্য করেছেন যে, বান্দরবান শহরটি ছোট হলেও এটি অপরূপ সৌন্দর্যের অধিকারী। স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, ব্যবসায়ী, সরকারি ও বেসরকারি কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে শহরটিকে পরিচ্ছন্ন ও পর্যটনবান্ধব হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, "সবার স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ থাকলে বান্দরবানের সৌন্দর্য ও পরিচ্ছন্নতা রক্ষা করা মোটেও কঠিন কোনো কাজ নয়।"
আজ বান্দরবান জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত ‘বিশ্ব পর্যটন দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে বান্দরবান পার্বত্য জেলায় পর্যটন শিল্পের সার্বিক উন্নয়ন, শহরের শৃঙ্খলা রক্ষা এবং সাঙ্গু নদীকে কেন্দ্র করে পরিবেশ, প্রতিবেশ ও জনজীবনের মানোন্নয়ন বিষয়ে অংশীজনদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি এসব কথা বলেন।
এ সময়, পার্বত্য অঞ্চলের প্রাকৃতিক ভারসাম্য ও জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন মন্ত্রী।
মন্ত্রী নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার, শহরের যানজট নিরসন এবং স্থানীয় জনগণকে পর্যটকদের সঙ্গে মানবিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ করার আহ্বান জানান, যাতে পর্যটন মৌসুমে পার্বত্য চট্টগ্রামে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আগমন নির্বিঘ্ন হয়।
মন্ত্রী ব্যক্তিগত পর্যায় থেকে শুরু করে পুরো শহরের পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, প্রত্যেকের বাসাবাড়ির পরিচ্ছন্নতা থেকে শুরু করে সব কাজে স্পষ্ট জবাবদিহিতা এবং পারস্পরিক সমন্বয় থাকা উচিত।
মন্ত্রী সাচিং প্রু পার্বত্য অঞ্চলের কৃষিতে আধুনিক প্রযুক্তির সংযোজন এবং পতিত জমিতে চাষাবাদের বিশেষ করে বান্দরবানের মাটিতে কফি ও কাজুবাদাম চাষের ব্যাপক সম্ভাবনা উল্লেখ করে কৃষকদের উৎসাহিত করার নির্দেশ দেন।
তিনি পানির তীব্র সংকটের টেকসই সমাধানের জন্য বৃষ্টি, ঝিরি, নদী ও লেকের পানি সংরক্ষণের পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপরও জোর দেন। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সার্বিক কল্যাণে দেশি-বিদেশি উন্নয়ন সংস্থাগুলোকে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখার অনুরোধ জানান মন্ত্রী সাচিং প্রু।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বান্দরবান জেলা প্রশাসক মো. সানিউল ফেরদৌস। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা পুলিশ সুপার মো. ওহাবুল ইসলাম খন্দকার, বান্দরবান প্রেস ক্লাবের সভাপতি মো. আমিনুল ইসলাম বাচ্চু।
এ ছাড়া সভায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মী এবং পর্যটন খাতের অংশীজনরা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ