০৬:৪৬ পি.এম
ময়মনসিংহে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট মাসের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় ১১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া, অন্তত ১১১ জন আহত হয়েছেন। শনিবার (৩ অক্টোবর) ময়মনসিংহ জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে আগস্ট মাসের মধ্যে ময়মনসিংহে মোট ১১৪টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে, যার ফলে এই হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।
এছাড়া, গত ২ অক্টোবর ময়মনসিংহ শহরতলির আকুয়া গদ্রপা এলাকায় একটি বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে একই পরিবারের চার জনসহ মোট সাত জন নিহত হন। নিহতদের সকলের বাড়ি জামালপুর জেলায়।
আরও পড়ুন: কুয়াকাটায় অনুমোদনহীন নির্মাণের অভিযোগে ইস্তানবুল হোটেলের কাজ বন্ধ
সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) ময়মনসিংহ মহানগর শাখার সম্পাদক আলী ইউসুফ মন্তব্য করেন, "এক দুর্ঘটনায় সাতজনের মৃত্যু যে কত বড় কষ্টের সেটা আমরা অনুধাবন করতে পারি।" তিনি বলেন, দুর্ঘটনা কমানোর জন্য চালকদের সচেতনতা অত্যন্ত জরুরি। এ বিষয়ে সরকারকে কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে হবে। পাশাপাশি, সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালকদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।
নিরাপদ সড়ক চাই-এর ময়মনসিংহ জেলা শাখার সভাপতি আব্দুল কাদের চৌধুরী মুন্না বলেন, "সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু একটি পরিবারের জন্য অনেক বেদনার।" তিনি উল্লেখ করেন, সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে রাজনৈতিক শক্তি ও প্রশাসনকে একযোগে কাজ করতে হবে। নাগরিক সংগঠনগুলোকেও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে।
ময়মনসিংহ জেলা পুলিশের দেওয়া তথ্যমতে, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে ২৩টি দুর্ঘটনায় ২১ জন নিহত হয়েছেন এবং ১৭ জন আহত হয়েছেন। ফেব্রুয়ারিতে ২৭টি দুর্ঘটনায় ২২ জন নিহত হন, আহত ৪৬ জন। মার্চে ১৬টি দুর্ঘটনায় ১৬ জন নিহত হয়েছেন। জুলাই মাসে ময়মনসিংহে সড়ক দুর্ঘটনায় সবচেয়ে কম চারজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন দুজন।
উপজেলাভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, আট মাসে ভালুকায় সর্বোচ্চ ৩০ জন সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৮ জন নিহত হয়েছেন ত্রিশালে। এই দুটি উপজেলায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবস্থিত। এ মহাসড়কে বিভিন্ন ধরনের যানবাহনের বেপরোয়া চলাচলের কারণে অধিক দুর্ঘটনা ঘটে।
আরও পড়ুন: শেরপুরে বাস-সিএনজির সংঘর্ষে জুয়েল মিয়া নিহত, আহত ৪
ময়মনসিংহ জেলা পুলিশের ভাষ্যমতে, সড়ক দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হচ্ছে, যানবাহনের বেপরোয়া ও অতিরিক্ত গতি, অসতর্কতা, ওভারটেকিং, চালকদের অদক্ষতা, ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন, সড়কের ত্রুটি এবং ট্রাফিক আইন না মানা। দুর্ঘটনা প্রতিরোধের জন্য পথচারী ও যাত্রীদের নিয়ম মেনে সতর্কতার সঙ্গে রাস্তা পারাপার ও যানবাহনে ভ্রমণ করতে হবে।
ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, সড়ক দুর্ঘটনার পেছনে একক কোনো কারণ নেই। বেপরোয়া গতি, অসতর্কতা, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং, চালকের অদক্ষতা এবং ট্রাফিক আইন না মানাসহ বিভিন্ন কারণ দায়ী। বিশেষ করে অতিরিক্ত গতি চালকের নিয়ন্ত্রণ এবং জরুরি পরিস্থিতিতে প্রতিক্রিয়ার সময় কমিয়ে দেয়। তাই দক্ষ ও প্রশিক্ষিত চালক এবং নির্ধারিত গতিসীমা মেনে চলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) ময়মনসিংহের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শরীফুল আলম বলেন, দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে গতিসীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু অনেক চালক সেই নির্দেশনা মানছেন না। সড়ক ভালো হওয়ায় চালকেরা অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালান। ফলে দুর্ঘটনা ঘটছে। দুর্ঘটনা কীভাবে কমানো যায়, সে বিষয়ে ভবিষ্যতে আরও কাজ করা হবে।
আরও পড়ুন: কেন্দুয়ায় পাচারের সময় ৩২ বস্তা সার জব্দ, চালক পালিয়েছে
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন