ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

আজ সোনার ভরি মূল্য নির্ধারণ করেছে বাজুস


আজ সোনার ভরি মূল্য নির্ধারণ করেছে বাজুস

গত ২৫ অক্টোবর সোনার দাম সমন্বয় করেছিল বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। সেই সময় ৩ হাজার ৩২৪ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেট সোনার দাম নির্ধারণ করা হয় ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা।

নতুন কোনো ঘোষণা না আসায় বুধবার (২৮ অক্টোবর) আগের নির্ধারিত দামে বিক্রি হবে সোনা।

সবশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বর্তমানে সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার গহনা ভ্যাটসহ বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা। ২১ ক্যারেটের এক ভরি সোনার গহনা বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ১০ হাজার ৯৪৩ টাকা। এছাড়া ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার গহনা বিক্রি হচ্ছে ১ লাখ ৮১ হাজার ২০০ টাকা। আর সনাতন পদ্ধতির এক ভরি সোনা বিক্রি হচ্ছে ১ লাখ ৪৮ হাজার ১৬ টাকা।

আরও পড়ুন: ঋণ গ্রহণের ব্যয় বৃদ্ধিতে সীমিত পরিসরের বাজেটের পথে যুক্তরাজ্য

অন্যদিকে, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার গহনার দাম রাখা হচ্ছে ৩ হাজার ৮৪৯ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের রুপা প্রতি ভরি ৩ হাজার ৬৭৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের রুপা ৩ হাজার ১৪৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপা প্রতি ভরি ২ হাজার ৩৯১ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বাজুসের স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিংয়ের বৈঠকে সোনার দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে কমিটির চেয়ারম্যান ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীনের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, আন্তর্জাতিক বাজারে পিওর গোল্ড বা তেজাবি সোনার দাম কমে যাওয়ায় দেশের বাজারে সোনার বিক্রয়মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে। ঘোষিত নতুন দাম ২৫ অক্টোবর সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়।

সংস্থাটির নির্দেশনা অনুযায়ী, মজুরি ও পাথরের মূল্য বাদ দিয়ে অলংকারের ক্ষেত্রে ১২ শতাংশ এবং পারচেজের ক্ষেত্রে ১৮ শতাংশ বাদ দিতে হবে। অলংকার ও পারচেজের ক্ষেত্রে আলাদাভাবে ভ্যাট বাদ দেওয়ার সুযোগ নেই। পরবর্তী সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে বাজুসের নির্ধারিত বিক্রয়মূল্য কার্যকর থাকবে।

আরও পড়ুন: ভোজ্য তেলের দাম লিটারে ১৪ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ডা. জুবাইদা রহমানের উদ্যোগে অপসারিত হলো ইমাম হোসেনের পিঠের দুই কেজির টিউমার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:৩২ এম


ডা. জুবাইদা রহমানের উদ্যোগে অপসারিত হলো ইমাম হোসেনের পিঠের দুই কেজির টিউমার

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্ত্রী এবং জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমানের উদ্যোগে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ার শারীরিক প্রতিবন্ধী ইমাম হোসেনের পিঠ থেকে প্রায় দুই কেজি ওজনের টিউমার অপসারণ করা হয়েছে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) ইমাম হোসেনের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিতে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে যান জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের পরিচালক (প্রোগ্রাম) অধ্যাপক ডা. শাহ মুহাম্মদ আমান উল্লাহ। তিনি রোগীর চিকিৎসার অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন এবং রোগীর পাশে থাকার আশ্বাস প্রদান করেন।

ইমাম হোসেন জন্মগতভাবে স্নায়ুর টিউমারজনিত জটিলতায় আক্রান্ত। দীর্ঘদিন ধরে তিনি অসহনীয় শারীরিক কষ্টের মধ্যে জীবনযাপন করছেন। দিনমজুর বাবার আট সন্তানের মধ্যে সপ্তম ইমাম হোসেন প্রায় ১৭ বছর আগে সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হন। পরবর্তী সময়ে প্রয়োজনীয় চিকিৎসার অভাবে তার চলাচলের সক্ষমতা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। জন্মগত প্লেক্সিফর্ম নিউরোফাইব্রোমা রোগের কারণে তার পিঠের টিউমার ক্রমেই বড় হতে থাকে। টিউমারের কারণে গত প্রায় ১০ বছর ধরে তিনি ঠিকমতো ঘুমাতে পারছিলেন না। শারীরিক অক্ষমতার কারণে উপার্জন করতে না পারায় নিজের দৈনন্দিন খাবারের সংস্থান করাও তার জন্য কঠিন হয়ে পড়ে। এই অবস্থায় ব্যয়বহুল চিকিৎসার ব্যবস্থা করা ছিল প্রায় অসম্ভব।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইমাম হোসেনের দুর্দশার একটি ভিডিও ডা. জুবাইদা রহমানের দৃষ্টিগোচর হলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সংযুক্তিতে কর্মরত চিকিৎসক ও জেডআরএফের পরিচালক (প্রোগ্রাম) অর্থোপেডিক সার্জন অধ্যাপক ডা. শাহ মুহাম্মদ আমান উল্লাহকে নির্দেশনা দেন ইমাম হোসেনের চিকিৎসার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য।

এরপর অধ্যাপক ডা. আমান উল্লাহর নির্দেশনায় ডা. এম আর হাসান ইমাম হোসেনের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং তাকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করার ব্যবস্থা করেন। ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসির উদ্দিন আহমেদের অধীনে তার চিকিৎসা শুরু হয়।

ইমাম হোসেনের জটিল শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়। বোর্ডে ভাস্কুলার সার্জন, অর্থোপেডিক সার্জন, অ্যানেসথেসিওলজিস্টসহ সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তাদের তত্ত্বাবধানে ২৫ অক্টোবর প্রাথমিক অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তার পিঠ থেকে প্রায় দুই কেজি ওজনের টিউমার অপসারণ করা হয়।

ডা. আমান উল্লাহ বলেন, "জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন অতীতেও দলমত ও ধর্মনির্বিশেষে অসহায়, নিরীহ মানুষের কল্যাণে কাজ করে এসেছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।"

ইমাম হোসেনের চিকিৎসায় সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক ডা. অভিজিত সরকার, সহকারী অধ্যাপক ডা. শাওন বিন রহমান, সহকারী অধ্যাপক ডা. শাহীন, অ্যানেসথেসিয়া বিভাগের ডা. তাজিন আহসান, সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. ফজলে রাব্বি, রেজিস্ট্রার ডা. সুলতান মাহমুদ সিকদার এবং আবাসিক সার্জন ডা. মো. শফিকুল আলম সুমন, নিউরোসার্জন ডা. রবার্ট আহমেদ খান, ডা. দেওয়ান সামসুল আসিফসহ আরও অনেকে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মরক্কোর সাত শতাব্দীর প্রাচীন বু ইনানিয়া মাদ্রাসা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:৩৪ এম


মরক্কোর সাত শতাব্দীর প্রাচীন বু ইনানিয়া মাদ্রাসা

মরক্কোর প্রাচীন নগরী ফেজের আঁকাবাঁকা অলিগলি পেরিয়ে তালাআ কাবিরা সড়কে পৌঁছালে দর্শকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এক অসাধারণ স্থাপত্যের প্রবেশদ্বার। ঘোড়ার নালের আকৃতির খিলান, দেয়ালে সূক্ষ্ম স্টাকোর কারুকাজ, সিডার কাঠে খোদাই করা নান্দনিক নকশা এবং জ্যামিতিক নকশার মোজাইক—এসব দেখে মনে হয়, যেন কোনো রাজপ্রাসাদের দরজায় এসে দাঁড়িয়েছেন দর্শনার্থী। কিন্তু এটি কোনো রাজপ্রাসাদ নয়; বরং ইসলামী শিক্ষা, ধর্মীয় জ্ঞানচর্চা ও মরক্কোর ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্যকলার এক অনন্য নিদর্শন—ঐতিহাসিক বু ইনানিয়া মাদরাসা।

বু ইনানিয়া মাদরাসার ইতিহাস মরক্কোর মারিনিদ রাজবংশের রাজনৈতিক উত্থান-পতনের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে। চতুর্দশ শতকে এই রাজবংশ উত্তর আফ্রিকার অন্যতম প্রভাবশালী শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়। তাদের শাসনামলে ফেজ শহর ধর্মীয় শিক্ষা, সাহিত্য, শিল্পকলা ও বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত হয়। বিশেষত মাদরাসা নির্মাণের মাধ্যমে শাসকরা ধর্মীয় জ্ঞানচর্চার প্রসার ঘটানোর পাশাপাশি নিজেদের রাজনৈতিক কর্তৃত্ব ও ধর্মীয় বৈধতাও সুদৃঢ় করতে চেয়েছিলেন।

এই ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটেই উঠে আসে সুলতান আবু ইনান ফারিসের নাম। তিনি মারিনিদ শাসক আবুল হাসানের পুত্র ছিলেন। ১৩৪৮ সালে পিতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে তিনি ক্ষমতা দখল করেন এবং নিজেকে সুলতান ঘোষণা করেন। তাঁর শাসনামলে রাজ্য পরিচালনা, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর পৃষ্ঠপোষকতা এবং ফেজের মর্যাদা বৃদ্ধির নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়। বু ইনানিয়া মাদরাসা নির্মাণও ছিল সেই বৃহত্তর প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

বু ইনানিয়া মাদরাসার নির্মাণকাজ শুরু হয় ৭৫১ হিজরির ২৮ রমজান, আনুমানিক ১৩৫০ খ্রিস্টাব্দে। নির্মাণকাজ শেষ হয় ৭৫৬ হিজরিতে, অর্থাৎ ১৩৫৫ খ্রিস্টাব্দের কাছাকাছি সময়ে। প্রায় পাঁচ বছরের এই নির্মাণযজ্ঞে তৎকালীন মরক্কোর দক্ষ কারিগর ও স্থপতিরা অসাধারণ নৈপুণ্যের পরিচয় দেন। মাদরাসাটির নির্মাণে বিপুল অর্থ ব্যয় হয়েছিল। কথিত আছে, নির্মাণকাজ শেষে ব্যয়ের হিসাব দেখে সুলতানের সামনে তা পেশ করা হলে তিনি হিসাবের খাতা ছিঁড়ে ফেলে মন্তব্য করেন, ‘যা সুন্দর, তা কখনো বেশি দামি নয়; খরচ যত বেশিই হোক।’

বু ইনানিয়া মাদরাসার ভেতরে প্রবেশ করলে প্রথমেই চোখে পড়ে একটি আয়তাকার উন্মুক্ত প্রাঙ্গণ। মার্বেল পাথরে সজ্জিত এই উঠানের মাঝখানে রয়েছে ফোয়ারা। প্রাঙ্গণকে ঘিরে থাকা গ্যালারি, ওপরের তলায় শিক্ষার্থীদের আবাসিক কক্ষ এবং দুই পাশে অবস্থিত বড় বড় পাঠকক্ষ মাদরাসাটির পরিকল্পিত স্থাপত্যের পরিচয় বহন করে। প্রাঙ্গণের দেয়ালে রয়েছে একাধিক স্তরের অলংকরণ। নিচের দিকে জেলিজ নামে পরিচিত রঙিন জ্যামিতিক নকশার মোজাইক টাইলস, তার ওপরে আরবি ক্যালিগ্রাফির শৈল্পিক বিন্যাস এবং আরো ওপরে খোদাই করা স্টাকোর নকশা। কোথাও আরাবেস্ক অলংকরণ, কোথাও মুকারনাসের সূক্ষ্ম কারুকাজ, আবার কোথাও কোরআনিক বাণী ও শৈল্পিক লিপির সমন্বয়। সবশেষে সিডার কাঠের ছাদে খোদাই করা নকশা পুরো স্থাপত্যকে দিয়েছে এক অনন্য মাত্রা।

এখানে প্রতিটি উপাদান যেন আলাদা আলাদা শিল্পকর্ম, অথচ সব মিলিয়ে তৈরি হয়েছে এক সুসংহত নান্দনিক পরিবেশ। পাথর, কাঠ, প্লাস্টার ও রঙিন টাইলসের সমন্বয়ে নির্মিত এই স্থাপত্য মরক্কোর ঐতিহ্যবাহী শিল্পকলার উচ্চমানের সাক্ষ্য বহন করে। মাদ্রাসাটির পাঠকক্ষগুলোর আকার ও বিন্যাসও উল্লেখযোগ্য। কিছু গবেষক এর স্থাপত্য পরিকল্পনার সঙ্গে কায়রোর সুলতান হাসান মাদরাসার ইওয়ানভিত্তিক স্থাপত্যের তুলনা করেছেন।

মাদরাসার ঠিক বিপরীতে অবস্থিত দার আল-মাগানা বা ‘ঘড়ির ঘর’ ফেজের আরেকটি ঐতিহাসিক বিস্ময়। একসময় ভবনটির সম্মুখভাগে একটি জটিল যান্ত্রিক ঘড়ি স্থাপন করা হয়েছিল বলে জানা যায়। কথিত আছে, ঘড়িটির নির্দিষ্ট সময়ে ধাতব গোলক পিতলের পাত্রে পড়ে শব্দ সৃষ্টি করত এবং একই সঙ্গে জানালার মতো কিছু অংশ খুলে যেত।

বু ইনানিয়া মাদরাসার পাঠ্যক্রমের কেন্দ্রে ছিল ইসলামী জ্ঞানচর্চা। মারিনিদ শাসকদের অনুসৃত মালেকি মাজহাবের ফিকহ ছিল এর শিক্ষার অন্যতম ভিত্তি। কোরআন, ইসলামী আইনশাস্ত্র এবং ধর্মীয় বিষয়াবলির পাশাপাশি ভাষা, ব্যাকরণ, অলংকারশাস্ত্র, যুক্তিবিদ্যা ও অন্যান্য জ্ঞানশাখার চর্চাও মধ্যযুগীয় ফেজের শিক্ষাব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ স্থান অধিকার করেছিল।

সাত শতকেরও বেশি সময় ধরে নানা রাজনৈতিক পরিবর্তন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও নগরজীবনের রূপান্তরের মধ্য দিয়ে বু ইনানিয়া মাদরাসা টিকে আছে। বিভিন্ন সময়ে ভবনটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং একাধিকবার সংস্কার করা হয়েছে। বিশেষ করে ভূমিকম্প ও দীর্ঘদিনের ক্ষয়ক্ষতির কারণে এর বিভিন্ন অংশে মেরামত ও পুনরুদ্ধারের প্রয়োজন দেখা দেয়।

পরবর্তী শতকগুলোতে পরিচালিত সংস্কারকাজের লক্ষ্য ছিল ভবনের মূল স্থাপত্যরীতি ও কারুকাজ যথাসম্ভব সংরক্ষণ করা। আধুনিক সংরক্ষণ কার্যক্রমের ফলে এর জেলিজ মোজাইক, কাঠের অলংকরণ, স্টাকোর নকশা ও অন্যান্য স্থাপত্য উপাদানের উল্লেখযোগ্য অংশ আজও দর্শনার্থীদের সামনে উন্মুক্ত রয়েছে। ১৯৮১ সালে ফেজের প্রাচীন মদিনা ইউনেসকোর বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়।

মরক্কোর বু ইনানিয়া মাদরাসা এমন একটি ঐতিহাসিক স্থাপনা, যেখানে শিক্ষা, ধর্মীয় জীবন, রাজনীতি ও শিল্পকলার ইতিহাস একসূত্রে গাঁথা। এর নির্মাণের পেছনে যেমন ছিল মারিনিদ শাসকদের রাজনৈতিক ও ধর্মীয় আকাঙ্ক্ষা, তেমনি এর প্রতিটি খিলান, মোজাইক, কাঠের খোদাই ও ক্যালিগ্রাফিতে ফুটে উঠেছে তৎকালীন মুসলিম কারিগরদের অসাধারণ সৃজনশীলতা। কিংবদন্তি ও ঐতিহাসিক তথ্যের পার্থক্য বিবেচনায় রেখেও বলা যায়, এই মাদরাসা মধ্যযুগীয় ফেজের জ্ঞানচর্চা ও স্থাপত্য ঐতিহ্যের এক অনন্য সাক্ষী।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে প্রথমবার ভিএআর প্রযুক্তির ব্যবহার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:৩৪ এম


সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে প্রথমবার ভিএআর প্রযুক্তির ব্যবহার

প্রথমবারের মতো সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে ভিডিও অ্যাসিসটেন্স রেফারি (ভিএআর) প্রযুক্তি যুক্ত করা হচ্ছে। সাউথ এশিয়ান ফুটবলের (সাফ) সাধারণ সম্পাদক পুরুষোত্তম কাট্টেল জানিয়েছেন, টুর্নামেন্টের শুরুতে সম্ভব না হলেও সেমিফাইনাল এবং ফাইনালে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। ভারত সাফে অংশগ্রহণ নিয়ে যে অনিশ্চয়তা ছিল, তা কাট্টেল উড়িয়ে দিয়ে বলেন, নির্ধারিত সময়েই আসবে টিম ইন্ডিয়া।

আধুনিক ফুটবলের কোনো টুর্নামেন্টে ভিএআর ছাড়া চিন্তা করাও কঠিন। মাঠে ঘটে যাওয়া ভুল ত্রুটি-সংশোধন এবং অনাকাঙ্খিত ঘটনার যথাযথ সমাধানে ভিএআর অপরিহার্য। যদিও কিছু ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে বিতর্ক রয়েছে, তবে এবার সাউথ এশিয়ার ফুটবল ভিএআর প্রযুক্তির সাক্ষী হতে যাচ্ছে।

এখন পর্যন্ত ভিএআর সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সব কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে সাফ। আনুষ্ঠানিক চুক্তি দু এক দিনের মধ্যে সম্পন্ন হবে। টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচ থেকেই পরীক্ষামূলকভাবে ভার প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে সেমিফাইনাল এবং ফাইনালে ভিডিও অ্যাসিসটেন্স রেফারির মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেবেন ম্যাচ অফিসিয়ালরা।

সাফের সাধারণ সম্পাদক পুরুষোত্তম কাট্টেল বলেন, "আমরা সব কার্যক্রম গুছিয়ে এনেছি। দুই এক দিনের মধ্যেই ভিএআর সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক চুক্তি হবে। এটা ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত হতে চলেছে। প্রথমবারের মতো সাফে দেখা যাবে ভিডিও অ্যাসিসটেন্স রেফারি। তবে আমরা সবগুলো ম্যাচে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারবো না। সেমিফাইনাল এবং ফাইনালে ভার ব্যবহার করা হবে তা নিশ্চিত।"

এদিকে, গত কয়েকদিন ধরে গুঞ্জন উঠেছে যে আসন্ন সাফ থেকে ভারত নাম প্রত্যাহার করে নিতে পারে। টুর্নামেন্ট চলাকালীন ফিফা উইন্ডোতে টিম ইন্ডিয়া নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ম্যাচ খেলতে যাবে। বাংলাদেশে পাঠানো হতে পারে অনূর্ধ্ব-২৩ দল। তবে ফলাফল বিপর্যয়ের আশঙ্কা থেকেই অল ইন্ডিয়া ফুটবল সাফে না খেলার পক্ষে। কিন্তু সেই গুঞ্জন উড়িয়ে দিয়ে সাফ সাধারণ সম্পাদক দাবি করেছেন, ভারত নির্ধারিত সময়েই আসবে।

কাট্টেল বলেন, "আমি আসলে বুঝতে পারছি না এই খবর কারা ছড়ালো। কারণ এর কোন ভিত্তি নেই। অল ইন্ডিয়া ফুটবল ফেডারেশনের সঙ্গে আমার প্রতিনিয়ত যোগাযোগ হচ্ছে। তারা কখনোই বলেনি ভারত সাফ খেলতে আসবে না। তবে এটা ঠিক ফিফা উইন্ডোতে তাদের মূল দল নিউজিল্যান্ড খেলতে যাবে। সাফের জন্য তারা বিকল্প দলও তৈরি রেখেছে। সুতরাং ভারত আসছে এবং তা নির্ধারিত সময়েই।"

আগামী ২৯ অক্টোবর থেকে সাফের টিকিট বিক্রি কার্যক্রম শুরু হবে। তবে সরাসরি সাউথ এশিয়ান ফুটবল টিকিট বিক্রি না করে একটি অনলাইন প্লাটফর্মের কাছে ছেড়ে দিয়েছে। সাফের ম্যাচ দেখতে গুনতে হবে সর্বনিম্ন ১ হাজার টাকা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পূর্বাচলে ডিআইজির ভাড়া বাসায় অভিযান, ৮৫ জনের সাজা নিয়ে বিতর্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:৩৬ এম


পূর্বাচলে ডিআইজির ভাড়া বাসায় অভিযান, ৮৫ জনের সাজা নিয়ে বিতর্ক

ঢাকার পূর্বাচলে পুলিশের এক অতিরিক্ত ডিআইজির ভাড়া দেওয়া বাসায় অভিযান চালিয়ে ৮৫ জনকে কারাদণ্ড দেওয়ার ঘটনায় নানা প্রশ্ন সৃষ্টি হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের মাদক গ্রহণের পরীক্ষা ছাড়াই সাজা দেওয়া, অভিযানের ভিডিও ছড়িয়ে পড়া এবং সিসিটিভি ক্যামেরার মেমোরি কার্ড জব্দ তালিকায় না রাখাসহ একাধিক বিষয় নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

১৯ অক্টোবর দিবাগত রাতে ভাটারার পুলিশ অফিসার্স হাউজিং সোসাইটি-১ এলাকার ‘গোল্ডেন সানরাইজ’ নামের তিনতলা বাড়িতে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) অভিযান চালায়। অভিযানে আটক ৮৫ জনের মধ্যে ২৬ জন নারী ছিলেন। নারীদের ১৫ দিন এবং পুরুষদের এক মাস করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। একই সঙ্গে নারীদের ৫০০ ও পুরুষদের এক হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।

সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের মধ্যে একজন বাদ্যযন্ত্রশিল্পী রয়েছেন। তার বাবার দাবি, অনুষ্ঠানে বাদ্যযন্ত্র বাজানোর কাজ পেয়ে ছেলে সেখানে গিয়েছিলেন। মাদক গ্রহণের পরীক্ষা ছাড়াই তাকে সাজা দেওয়া হয়েছে। কয়েকজন সাজাপ্রাপ্তের স্বজনের অভিযোগ, মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়ার কথা বলে তাদের কাছ থেকে কাগজে সই নেওয়া হয়েছিল।

পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, রাত সাড়ে ১২টার দিকে ডিবির ৪০ থেকে ৫০ সদস্যের একটি দল বাড়িটিতে প্রবেশ করে। পরে উপস্থিত ৮৫ জনকে দুটি কক্ষে আটকে রাখা হয়। তল্লাশির সময় প্রথম দফায় কোনো মাদক পাওয়া যায়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি। দ্বিতীয় দফায় দুটি খালি মদের বোতল উদ্ধার করা হয়।

তবে ডিবির জব্দ তালিকায় চারটি মদের বোতল— একটি খালি, একটি পূর্ণ ও দুটি আংশিক পূর্ণ উদ্ধারের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি একটি ইয়াবা বড়ি, ইয়াবা সেবনের সরঞ্জাম ও সামান্য পরিমাণ কুশ উদ্ধারের তথ্যও রয়েছে।

অভিযানের সময় বাড়ির ছয়টি সিসিটিভি ক্যামেরার মধ্যে চারটি খুলে নেওয়া হয় এবং বাকি দুটির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে মেমোরি কার্ড নেওয়া হয় বলে সূত্রের দাবি। তবে এসব কার্ড জব্দ তালিকায় উল্লেখ না থাকার বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

ডিএমপির উত্তরা বিভাগের স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আসাদুজ্জামান আটক ব্যক্তিদের সাজা দেন। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(৫) ধারায় মাদক গ্রহণ করে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় জনশান্তি বিঘ্নিত করা, বিরক্তিকর আচরণ কিংবা গাড়ি চালানোর জন্য শাস্তির বিধান রয়েছে।

ম্যাজিস্ট্রেট আসাদুজ্জামান বলেন, আসামিরা দোষ স্বীকার করায় তাদের সাজা দেওয়া হয়েছে। তবে সাজা দেওয়ার আগে মাদক গ্রহণের পরীক্ষা করা হয়নি বলে তিনিও উল্লেখ করেন।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী জ্যোতির্ময় বড়ুয়া বলেন, শুধু দোষ স্বীকারের ভিত্তিতে মাদক গ্রহণের দায়ে সাজা দেওয়া যথেষ্ট নয়। মাদক পরীক্ষার মাধ্যমে অভিযোগ প্রমাণের সুযোগ ছিল।

অভিযানে আটক ব্যক্তিদের ভিডিও পুলিশ সদস্যরা ধারণ করেন। পরে ভিডিওগুলো ছড়িয়ে পড়লে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও আইনগত সীমাবদ্ধতা নিয়ে বিতর্ক দেখা দেয়।

সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এহসানুল হক সমাজী বলেন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে এসব ভিডিও ছড়িয়ে থাকলে তা আইনগত সীমা লঙ্ঘন করেছে কি না, খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

বাড়িটির মালিক অতিরিক্ত ডিআইজি আবদুল্লাহ আল জহির। অভিযান ও তা নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে পুলিশ সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে।

পুলিশের সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, বদলি ও পদায়ন নিয়ে পুলিশের প্রভাবশালী একটি পক্ষের সঙ্গে তার বিরোধ ছিল। তবে এ বিরোধের সঙ্গে অভিযানের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না সেটি নিশ্চিত হয়নি।

ডিবির উত্তরা বিভাগের উপকমিশনার ইলিয়াস কবীরের দাবি, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে অভিযান চালানো হয়েছে। বাড়িটিতে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ মাদক সেবন ও ডিজে পার্টি চলছিল। অন্যদিকে আবদুল্লাহ আল জহির বলেন, তার বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে সেটি যাচাই করা যেত।

এ ঘটনায় স্বাধীন তদন্তের দাবি জানিয়েছেন ১০১ জন নাগরিক। ব্লাস্ট, হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি, নারীপক্ষ ও সপ্রাণ যৌথভাবে দেওয়া বিবৃতিতে বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%