ঢাকা শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ৩১শে আশ্বিন, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ০৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ৩১শে আশ্বিন, ১৪৩২বাং

চীনের চিপ প্রযুক্তিতে অগ্রগতির খবরে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার শেয়ারবাজারে বড় পতন


চীনের চিপ প্রযুক্তিতে অগ্রগতির খবরে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার শেয়ারবাজারে বড় পতন

ঢাকা, ২৮ জুলাই, ২০২৬ : চীনের সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে প্রযুক্তিগত অগ্রগতির খবরের কারণে মঙ্গলবার দিনের শুরুতেই জাপান এবং দক্ষিণ কোরিয়ার শেয়ারবাজারে বড় ধরনের পতন দেখা গেছে। এর আগে একই কারণে যুক্তরাষ্ট্রের সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের শেয়ারও ব্যাপকভাবে দাম হারিয়েছে।

সংবাদটি এএফপি বার্তা সংস্থার।

লেনদেনের সূচনা মুহূর্তে, জাপানের নিক্কেই-২২৫ সূচক ৪ দশমিক ১ শতাংশ কমে ৬২ হাজার ২৪৮ দশমিক ৭৮ পয়েন্টে নেমে এসেছে। অন্যদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার কসপি সূচক ৭ দশমিক ৯ শতাংশ কমে ৬ হাজার ২২১ দশমিক ৮১ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।

আরও পড়ুন: ইন্দোনেশিয়ায় দাবানল নেভাতে গিয়ে প্রাণ গেল ৪ জনের

এ সময়ে, দক্ষিণ কোরিয়ার প্রযুক্তি জায়ান্ট স্যামসাং ইলেকট্রনিকসের শেয়ারের মূল্য ৭ শতাংশেরও বেশি কমে যায়। বিশ্বের অন্যতম মেমোরি চিপ নির্মাতা এসকে হাইনিক্সের শেয়ারের দাম ৭ দশমিক ৫ শতাংশ কমেছে।

প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদমাধ্যম ‘ইনফরমেশন’-এর রিপোর্টে বলা হয়েছে, চীনের সাংহাই ইউলিয়াংশেং অত্যাধুনিক এক্সট্রিম আল্ট্রাভায়োলেট (ইইউভি) লিথোগ্রাফি যন্ত্রের বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করেছে।

এ প্রযুক্তি এতদিন শুধুমাত্র ডাচ কোম্পানি এএসএমএল-এর নিয়ন্ত্রণে ছিল। তাই, চীনের এই অগ্রগতি আন্তর্জাতিক সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে প্রতিযোগিতার নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে, এ নিয়ে শেয়ারবাজারে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।

আরও পড়ুন: হিন্দু সম্প্রদায় কোনো দলের দাসত্ব করে না: মীর শাহে আলম

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জাপানে মসজিদ নির্মাণ ঘিরে বিতর্ক, বাড়ছে অভিবাসন ও ধর্মীয় বৈচিত্র্য নিয়ে আলোচনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৮শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:৫৩ এম


জাপানে মসজিদ নির্মাণ ঘিরে বিতর্ক, বাড়ছে অভিবাসন ও ধর্মীয় বৈচিত্র্য নিয়ে আলোচনা

জাপানের কানাগাওয়া প্রিফেকচারের উপকূলীয় শহর ফুজিসাওয়ায় প্রথম মসজিদ নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

টোকিও থেকে প্রায় এক ঘণ্টার দূরত্বে অবস্থিত এই শহরে কিছু লোক মসজিদ নির্মাণকে স্বাগত জানাচ্ছেন, আবার কিছু লোক সামাজিক পরিবর্তন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন।

প্রস্তাবিত মসজিদটি একটি খোলা মাঠে নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। দীর্ঘদিনের বাসিন্দা নরিকা ইজুমিজাওয়া বলেন, নতুন এই পরিবর্তনের ফলে এলাকার সামাজিক পরিবেশ কীভাবে পরিবর্তিত হবে, তা নিয়ে তিনি চিন্তিত। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে অভিবাসন নিয়ে চলমান বিতর্কও তার উদ্বেগের একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ।

জাপানে জন্মহার কমে যাওয়া, জনসংখ্যার বার্ধক্য এবং শ্রমিক সংকটের কারণে বিভিন্ন খাতে বিদেশি শ্রমিকের সংখ্যা বাড়ছে।

এই কারণে দেশটিতে বিভিন্ন ভাষা, সংস্কৃতি ও ধর্মের মানুষের উপস্থিতি বেড়ে যাচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, ফুজিসাওয়ার মসজিদের বিতর্ক আসলে জাপানে অভিবাসন, ধর্মীয় বৈচিত্র্য ও সামাজিক পরিবর্তন নিয়ে চলা বৃহত্তর আলোচনারই প্রতিফলন।

চলতি বছরের শুরুতে স্থানীয় রেলস্টেশনের সামনে প্রস্তাবিত মসজিদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ হয়। বিক্ষোভকারীদের একাংশের অভিযোগ, কাছের একটি শিন্তো মন্দিরের তুলনায় বড় আকারের মসজিদ স্থানীয় ঐতিহ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মসজিদকে কেন্দ্র করে বিদ্বেষমূলক মন্তব্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, কয়েকটি মসজিদে আপত্তিকর ফোনকল ও ই-মেইল পাঠানো হয়েছে। এর প্রতিবাদ হিসেবে বিদ্বেষবিরোধী সংগঠনগুলো ‘বিদ্বেষ নয়’ স্লোগানে পাল্টা কর্মসূচি পালন করেছে। তবে এটা উল্লেখযোগ্য যে, সবাই মসজিদ নির্মাণের বিরোধিতা করছেন না।

প্রস্তাবিত মসজিদের বিপরীতে একটি কফি শপের মালিক হিরোকি সুজুকা বলেন, সমর্থন বা বিরোধিতার আগে ইসলাম ও মুসলিমদের সম্পর্কে জানার চেষ্টা করা উচিত।

তার ভাষায়, ‘আমি মসজিদের কট্টর সমর্থক বা বিরোধী নই। তবে ইসলাম, মুসলিমদের জীবনধারা ও তাদের মূল্যবোধ সম্পর্কে জানলে পারস্পরিক বোঝাপড়া বাড়বে। খোলা মন নিয়ে একে অপরকে বোঝার মধ্য দিয়েই শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান সম্ভব।’

ওসাকায় প্রায় ৩৯ বছর ধরে বসবাস করছেন শ্রীলঙ্কা থেকে আসা ব্যবসায়ী মোহাম্মদ মহিউদ্দিন। তিনি ১৯৮৭ সালে অর্থনৈতিক সুযোগের খোঁজে জাপানে এসেছিলেন। প্রথমে রত্নপাথরের ব্যবসা এবং পরে ব্যবহৃত গাড়ি রপ্তানির ব্যবসায় যুক্ত হন।

মহিউদ্দিন জানান, তিনি যখন জাপানে আসেন, তখন বিদেশি বাসিন্দার সংখ্যা কম ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কিছু মানুষের নেতিবাচক মনোভাব বেড়েছে মুসলিমদের প্রতি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায়ই ‘জাপান ছেড়ে চলে যাও’ বা ‘নিজের দেশে ফিরে যাও’ ধরনের মন্তব্য দেখা যায়। এমনকি, কিছু মানুষ মসজিদে এসে মুসল্লিদের অপমানও করেন।

তিনি আরও জানান, ব্যক্তিগতভাবে নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা অনুভব না করলেও মুসলিমদের প্রতি মানুষের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন তিনি লক্ষ্য করেছেন। তার মতে, মুসলিমদেরকে ‘সন্ত্রাসী’ বলা, বোমা তৈরির অভিযোগ তোলা বা দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার মতো মন্তব্য আগের তুলনায় বেড়েছে।

মহিউদ্দিন বলেন, এসব পরিস্থিতিতে তারা ধৈর্য ধরে শান্ত আচরণ করার চেষ্টা করেন। তার মতে, অনেক জাপানির ইসলাম সম্পর্কে পর্যাপ্ত ধারণা না থাকায় ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়। তবে মুসলিম সম্প্রদায়ও স্থানীয় সমাজের সঙ্গে আরো বেশি যোগাযোগ ও নিজেদের পরিচয় তুলে ধরতে পারলে এই দূরত্ব কমে যাবে।

অন্যদিকে সাইতামা প্রিফেকচারের ইয়াশিও মসজিদের প্রতিনিধি শাকিল মোহাম্মদ বলেন, জাপানে বসবাসকারী বিদেশিদের অবশ্যই দেশটির আইন ও সামাজিক নিয়ম মেনে চলা উচিত। তিনি বলেন, আবর্জনা নির্ধারিত নিয়মে আলাদা করা, পার্কিং আইন মানা, সাইকেল চালানোর সময় হেলমেট ব্যবহার এবং দৈনন্দিন সৌজন্যবোধের মতো বিষয়গুলো মুসলিম সম্প্রদায় গুরুত্ব দিয়ে অনুসরণ করে।

তিনি জানান, ইয়াশিও এলাকায় পাকিস্তানি সম্প্রদায়ের সংখ্যা বেশি হওয়ায় অনেকে এলাকাটিকে রসিকতার ছলে ‘ইয়াশিও-স্তান’ বলে ডাকেন। তার মতে, কিছু মানুষের খারাপ আচরণের জন্য পুরো একটি সম্প্রদায়কে দোষারোপ করা উচিত নয়।

জনসংখ্যা সংকট ও শ্রমিকের অভাব মোকাবিলায় জাপান ক্রমেই বিদেশি কর্মীদের ওপর নির্ভরশীল হয়ে উঠছে। এই কারণে দেশজুড়ে অভিবাসন, জাতীয় পরিচয় এবং সামাজিক সংহতি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।

জাপানে মুসলিম সম্প্রদায় নিয়ে গবেষণা করা ওয়াসেদা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক হিরোফুমি তানাদার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের শেষ নাগাদ দেশটিতে বিদেশি বাসিন্দা ও ইসলাম গ্রহণকারী জাপানিসহ মুসলিমের সংখ্যা প্রায় ৪ লাখ ২০ হাজারে পৌঁছাবে। ২০১৯ সালে এই সংখ্যা ছিল প্রায় ২ লাখ ৩০ হাজার।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে জাপানে বিদেশি বাসিন্দার সংখ্যা ৪০ লাখ অতিক্রম করবে। তাদের বেশিরভাগই চীন, ভিয়েতনাম, দক্ষিণ কোরিয়া ও ফিলিপাইন থেকে এসেছেন। একই সময়ে বিদেশি শ্রমিকের সংখ্যা রেকর্ড ২৫ লাখ ৭০ হাজারে পৌঁছায়। অন্যদিকে, ওই বছর জাপানের মোট জনসংখ্যা প্রায় ১০ লাখ কমে যায়।

দীর্ঘদিন ধরে, জাপান সরকার দেশটিকে অভিবাসীনির্ভর রাষ্ট্র হিসেবে উল্লেখ না করে অস্থায়ী কর্মসংস্থানভিত্তিক ভিসা ব্যবস্থার ওপর জোর দিয়েছে। তবে সমালোচকদের মতে, এই নীতিই কার্যত একটি ‘গোপন অভিবাসন ব্যবস্থা’ তৈরি করেছে।

এদিকে, প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সরকার অভিবাসন নীতিতে আরো কঠোর অবস্থান নিয়েছে। ২০২৬ সালের জুনে বিদেশি নাগরিকদের ভিসা ফি প্রায় পাঁচ গুণ বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি, ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবৈধভাবে অবস্থানকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা জোরদারে ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস এজেন্সিতে অতিরিক্ত প্রায় ২৩০ জন কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বিদেশি বাসিন্দার সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সীমা নির্ধারণের বিষয়টিও সরকার বিবেচনা করছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বিদেশি জনগোষ্ঠীর সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জাপান বর্তমানে এমন এক বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছে, যেখানে জাতীয় পরিচয় ও সামাজিক সংহতি বজায় রেখে কতটা বৈচিত্র্যকে গ্রহণ করা সম্ভব, সেটিই বড় প্রশ্ন হয়ে উঠেছে।

তবে ফুজিসাওয়ার বাসিন্দা নরিকা ইজুমিজাওয়া শেষ পর্যন্ত স্বীকার করেছেন, তার কোনো মুসলিম প্রতিবেশীর সঙ্গে কখনও ব্যক্তিগতভাবে নেতিবাচক অভিজ্ঞতা হয়নি। তিনি বলেন, ‘সত্যি বলতে, হয়তো আমি শুধু অজানাকেই ভয় পাই।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

স্বৈরাচার বিদায় হয়েছে, এবার রাষ্ট্র গড়ার দায়িত্ব আমাদের: নাহিদ ইসলাম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৮শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:৫৭ এম


স্বৈরাচার বিদায় হয়েছে, এবার রাষ্ট্র গড়ার দায়িত্ব আমাদের: নাহিদ ইসলাম

জুলাই মাসের অভ্যুত্থানের মাধ্যমে স্বৈরাচারকে বিদায় করা সম্ভব হয়েছে। এখন দেশের রাষ্ট্র, বিশ্ববিদ্যালয় এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো নতুন করে গড়ে তোলার দায়িত্ব সবার—এমন মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক এবং বিরোধীদলীয় প্রধান হুইপ নাহিদ ইসলাম।

সোমবার (২৭ জুলাই) জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের জহির রায়হান মিলনায়তনে জুলাই মাসের অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত ‘জুলাই: রক্তঋণের উত্তরাধিকার’ শিরোনামের আলোচনা সভা, রচনা প্রতিযোগিতা এবং পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে গণতান্ত্রিক ছাত্রশক্তি, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা। এতে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসান।

বক্তব্যের শুরুতে জুলাই মাসের অভ্যুত্থানে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, তাদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়েই দেশ স্বৈরাচারমুক্ত হয়েছে। আন্দোলনে আহত, গ্রেপ্তার এবং নির্যাতনের শিকার জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের প্রতিও তিনি শ্রদ্ধা জানান।

তিনি আরও বলেন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে শুরু করে জুলাই মাসের অভ্যুত্থান—প্রতিটি বড় আন্দোলনে এই বিশ্ববিদ্যালয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

নাহিদ ইসলাম মন্তব্য করেন, সাভার-আশুলিয়া এলাকায় শ্রমিক, শিক্ষার্থী এবং সাধারণ মানুষের ঐক্যবদ্ধ অংশগ্রহণ আন্দোলনকে গণঅভ্যুত্থানে রূপ দেয়। এই সময় বহু মানুষ নিহত ও আহত হন।

তিনি আরও বলেন, কারফিউ চলাকালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের প্রতিবাদ মিছিল এবং ‘এই মৃত্যু উপত্যকা আমার দেশ নয়’ কবিতা আবৃত্তি আন্দোলনের প্রতি সারা দেশের মানুষের সমর্থন বাড়িয়ে দেয়।

বর্তমান শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের গণতান্ত্রিক ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে হবে। একই সঙ্গে একজন দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে দেশের প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ থাকতে হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে নাহিদ ইসলাম কথা বলেন। তিনি উল্লেখ করেন, উপাচার্য ও শিক্ষক নিয়োগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে শিক্ষার্থীদের সচেতন থাকতে হবে।

দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, গণভোটের মাধ্যমে জনগণ রাষ্ট্র সংস্কারের পক্ষে মত দিলেও সরকার এখনো প্রত্যাশিত সংস্কার কার্যকর করতে পারেনি।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে নিজের দীর্ঘদিনের সম্পর্কের কথাও তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক ছাত্রশক্তি গঠনের সময় এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থীর সঙ্গে তিনি কাজ করেছেন। তার মতে, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ বুদ্ধিবৃত্তিক এবং সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।

জুলাই মাসের অভ্যুত্থান ব্যর্থ হয়েছে—এমন ধারণাকে প্রত্যাখ্যান করে নাহিদ ইসলাম বলেন, রক্ত দিয়ে লেখা ইতিহাস কখনো মুছে যায় না। জুলাইয়ের রক্তঋণের উত্তরাধিকার জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় বহন করে যাবে, আর নতুন প্রজন্ম সেই চেতনাকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চোখে আলো ফিরিয়ে ৩১ রোগীকে ঘরে ফেরাল দীঘিনালা জোন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মোঃ লোকমান হোসেন, খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি

মঙ্গলবার, ২৮শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:৫৯ এম


চোখে আলো ফিরিয়ে ৩১ রোগীকে ঘরে ফেরাল দীঘিনালা জোন

খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর দীঘিনালা জোনের মানবিক উদ্যোগে বিনামূল্যে ছানি অপারেশন শেষে নতুন আলো নিয়ে নিজ বাড়িতে ফিরেছেন ৩১ জন পাহাড়ি ও বাঙালি রোগী। দীর্ঘদিন দৃষ্টিশক্তি সমস্যায় ভোগা এসব মানুষের চোখে আবারও আলো ফিরিয়ে দেওয়ায় জোন প্রাঙ্গণে সৃষ্টি হয় আবেগঘন পরিবেশ।

সোমবার (২৭ জুলাই) দুপুরে চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতাল থেকে সফল অস্ত্রোপচার শেষে রোগীদের নিয়ে দীঘিনালা জোনে পৌঁছায় সেনাবাহিনীর ব্যবস্থাপনায় থাকা পরিবহন। সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটে তারা জোনে পৌঁছালে অপেক্ষমাণ স্বজনদের আনন্দ-অশ্রু ও উচ্ছ্বাসে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।

জানা যায়, এর আগে দীঘিনালা জোনের উদ্যোগে আয়োজিত বিশেষ মেডিকেল ক্যাম্পে চোখে ছানি আক্রান্ত রোগীদের শনাক্ত করা হয়। পরে নির্বাচিত ৩১ জন পাহাড়ি ও বাঙালি রোগীর চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতালে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে অস্ত্রোপচারের ব্যবস্থা করে সেনাবাহিনী। চিকিৎসা, যাতায়াত ও সার্বিক তত্ত্বাবধানের দায়িত্বও পালন করে দীঘিনালা জোন।

ফিরে আসা রোগীরা বলেন, দীর্ঘদিন ঝাপসা দৃষ্টির কারণে স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হচ্ছিল। সেনাবাহিনীর এই উদ্যোগে তারা আবারও স্পষ্টভাবে পৃথিবী দেখতে পারছেন। এজন্য তারা দীঘিনালা জোনের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

দীঘিনালা জোনের জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আল-আমিন, এসইউপি, পিএসসি বলেন, মানুষের পাশে দাঁড়ানো বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অন্যতম দায়িত্ব। চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত অসহায় মানুষের চোখে আলো ফিরিয়ে দিতে পেরে আমরা আনন্দিত। ভবিষ্যতেও দীঘিনালা জোনের পক্ষ থেকে এ ধরনের জনকল্যাণমূলক ও মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

স্থানীয়রা জানান, দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলের দরিদ্র মানুষের জন্য এ ধরনের উদ্যোগ শুধু চিকিৎসাসেবা নয়, তাদের জীবনে নতুন আশা ও আত্মবিশ্বাসেরও সঞ্চার করেছে। দীঘিনালা জোনের এই মানবিক কার্যক্রম এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইউরোপে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি পর্যালোচনা শুরু যুক্তরাষ্ট্রের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৮শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১২:০১ পি.এম


ইউরোপে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি পর্যালোচনা শুরু যুক্তরাষ্ট্রের

ইউরোপে মোতায়েন থাকা মার্কিন সেনা ও সামরিক সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে মূল্যায়ন শুরু করেছে ওয়াশিংটন।

মার্কিন কর্মকর্তারা সোমবার এ তথ্য জানিয়েছেন।

গত মাসে ন্যাটোর সদস্য দেশগুলোর প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠকে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ জানিয়েছিলেন, ইউরোপে মোতায়েন থাকা মার্কিন সামরিক শক্তির বিষয়ে একটি মূল্যায়ন করা হবে।

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

মার্কিন প্রতিরক্ষা উপমন্ত্রী এলব্রিজ কলবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, ‘মন্ত্রী হেগসেথ আগেই জানিয়েছেন, এটি হবে একটি পূর্ণাঙ্গ পর্যালোচনা। এর উদ্দেশ্য হলো নিশ্চিত করা যে, ন্যাটো দ্রুত এবং স্থায়ীভাবে এমন এক পথে এগিয়ে যাচ্ছে, যেখানে ইউরোপ তার নিজস্ব প্রতিরক্ষার প্রধান দায়িত্ব গ্রহণ করবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই পর্যালোচনার ফলে ন্যাটো আরও শক্তিশালী, আরও সমান দায়িত্বশীল এবং দীর্ঘমেয়াদে টেকসই একটি জোটে পরিণত হবে।’

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর আগে ইউরোপীয় মিত্রদের সমালোচনা করেছেন। বিশেষ করে ইরান যুদ্ধের সময় তাদের অবস্থান নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন তিনি। ট্রাম্পের অভিযোগ, সংঘাতের শুরুতে ইউরোপীয় দেশগুলো মার্কিন বাহিনীকে তাদের সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল।

এদিকে প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথও সতর্ক করে বলেছেন, ন্যাটোর সদস্য দেশগুলো যদি নির্ধারিত প্রতিরক্ষা ব্যয়ের লক্ষ্য পূরণ না করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র জোটে নিজের অর্থায়ন কমিয়ে দিতে পারে।

ওয়াশিংটন দীর্ঘদিন ধরে ইউরোপকে জানিয়ে আসছে যে, ইউরোপীয় দেশগুলোকেই তাদের নিজস্ব প্রচলিত প্রতিরক্ষার মূল দায়িত্ব নিতে হবে। কারণ, যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে চীনের দিকে কৌশলগত মনোযোগ বাড়াতে চায়।

এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে পেন্টাগন ইতোমধ্যে ন্যাটো মিত্রদের জানিয়েছে যে, বিশ্বজুড়ে ন্যাটো অভিযানের জন্য যে পরিমাণ সামরিক সক্ষমতা বা সম্পদ যুক্তরাষ্ট্র সরবরাহ করে, তার পরিমাণ কমানো হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৪
মাগরিব ০৫:৩২
ইশা ০৬:৪৩
সূর্যোদয় : ০৫:৫৬ সূর্যাস্ত : ০৫:৩২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%