১১:১১ এম
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে কেন্দ্র করে ডাকাত চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে। এসব অপরাধে প্রভাবশালী মাফিয়ারা বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ভাড়াটে ডাকাতদের ব্যবহার করছে। যদিও অপরাধে জড়িত ভাড়াটেরা ধরা পড়ে, কিন্তু নেপথ্যে থাকা মাফিয়ারা ধরা পড়ছে না।
বিমানবন্দর ও উত্তরার বিভিন্ন এলাকায় অপরাধ সংঘটনের পর অপরাধীরা দ্রুত ঢাকার বাইরে চলে যায়। তাদের গ্রেফতার করা হলেও অল্প সময়ের মধ্যে জামিনে বের হয়ে আবারও অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে।
অপরাধীদের গ্রেফতারের পর জামিনে মুক্ত করার জন্য এক শ্রেণির আইনজীবীর সঙ্গে তাদের চুক্তি রয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। অনেক ক্ষেত্রে ওই আইনজীবীরা বাকিতে আইনি সহায়তা দেন। গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে পেশাদার ডাকাতদের ভাড়ায় ব্যবহার করা হচ্ছে। তাদের অনেকের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে।
আরও পড়ুন: পাবনার জয়কালী বাড়ি মন্দিরে দুর্গাপূজা উপলক্ষে শাড়ি বিতরণ
চাঁদপুরের দক্ষিণ বালিয়া থানার সামাদ গাজী বাড়ির মো. খোরশেদ ৬ জুলাই দুবাই প্রবাসী ভাইয়ের পাঠানো ১৭ ভরি স্বর্ণালংকার ও অন্যান্য মালামাল নিয়ে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। শাহবাগ পৌঁছাতেই ডিবি পুলিশ পরিচয়ে তাকে একটি কালো গাড়িতে তুলে নেয় ডাকাতের একটি দল। এরপর চোখ ও হাত-পা বেঁধে ৩৮ লাখ টাকার মালামাল লুট করে তাকে গাজীপুরের রাজেন্দ্রপুরে ফেলে দেয়।
শুধু খোরশেদ নয়, বিমানবন্দর ও এর আশপাশের সড়কগুলোতে প্রবাসফেরত যাত্রী ও ব্যবসায়ীদের নিয়মিত টার্গেট করছে সংঘবদ্ধ ডাকাত চক্র। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে এসব অপরাধে অংশ নিচ্ছে চুক্তিতে ভাড়ায় খাটা দুর্ধর্ষ ডাকাতরা। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আসা, এমনকি বিদেশ থেকে উড়ে আসা ব্যক্তিরা ডাকাতি শেষে ফের চলে যাচ্ছে। তাদের নিখুঁত ছকে ফেঁসে গিয়ে অনেকে সর্বস্ব হারাচ্ছেন। সম্প্রতি একাধিক চাঞ্চল্যকর ডাকাতির মামলার তদন্তে ভয়ংকর এসব চক্রের সন্ধান পেয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ।
সূত্র জানাচ্ছে, বেশির ভাগ ক্ষেত্রে মাফিয়া চক্র ভাড়াটে ডাকাতদের ব্যবহার করছে। কিন্তু ওই মাফিয়ারা বরাবরই অধরা থেকে যাচ্ছে। ডাকাত দল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে টার্গেট করা ব্যক্তিকে প্রকাশ্যে গাড়ি থেকে নামিয়ে হাতকড়া পরিয়ে তুলে নিয়ে যাচ্ছে। পরে সর্বস্ব ছিনিয়ে নিয়ে নির্জন স্থানে তাকে ফেলে দিচ্ছে। মালামাল ছিনিয়ে নিয়ে গন্তব্যে পৌঁছে দিলেই নগদে পাচ্ছে চুক্তির টাকা। ডাকাতির পর চক্রের সদস্যরা দ্রুত ঢাকা ছেড়ে চলে যায় প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে। গ্রেফতারের পর জামিনে বের করার জন্যও এক শ্রেণির আইনজীবীদের সঙ্গে তাদের চুক্তি রয়েছে। অনেক সময় বাকিতে কাজ করেন ওইসব আইনজীবী। গোয়েন্দারা বলছেন, পেশাদার ডাকাতরাই এখন ভাড়ায় খাটছে। তাদের অনেকের নামে রয়েছে একাধিক মামলা।
ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা উত্তরা বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মো. ইলিয়াস কবির বলেন, বিমানবন্দরসহ উত্তরা এলাকায় অপরাধ সংঘটিত করেই অপরাধীরা দ্রুত ঢাকার বাইরে চলে যায়। অনেক কষ্টে তাদের গ্রেফতার করলে অল্প সময়ে তারা জামিনে বের হয়ে ফের অপরাধে জড়াচ্ছে। তবে আমাদের তৎপরতা অব্যাহত থাকায় ডাকাতি অনেকাংশে কমেছে।
আরও পড়ুন: সন্দ্বীপে রোকেয়া মুজিবুল স্মৃতি বৃত্তি পরীক্ষা ও পুরস্কার বিতরণ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন