ঢাকা সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

নেপাল-শ্রীলঙ্কা বাংলাদেশ মডেলের পোস্টাল ভোটিংয়ের প্রতি আগ্রহী


নেপাল-শ্রীলঙ্কা বাংলাদেশ মডেলের পোস্টাল ভোটিংয়ের প্রতি আগ্রহী

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো প্রবাসী এবং দেশের অভ্যন্তরে নির্বাচনি দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পোস্টাল ভোটিংয়ের আওতায় এনেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

বাংলাদেশে সম্পূর্ণরূপে তৈরি প্রযুক্তিভিত্তিক ‘আইটি সাপোর্টেড পোস্টাল ভোটিং সিস্টেম’ বিশ্বের কাছে একটি নতুন উদ্ভাবন হিসেবে সফলভাবে বাস্তবায়িত হয়েছে। এই প্রযুক্তি ও অভিজ্ঞতা গ্রহণে আগ্রহ প্রকাশ করেছে দক্ষিণ এশিয়ার দেশ নেপাল ও শ্রীলঙ্কা।

ইসির কর্মকর্তাদের মতে, অন্য কোনো দেশ যদি এ প্রযুক্তি গ্রহণ করে, তাহলে কারিগরি ত্রুটি-বিচ্যুতির টেকসই সমাধান সহজ হবে। এতে দেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হবে এবং প্রযুক্তিটির গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি পাবে।

আরও পড়ুন: সুন্দর বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে একত্রিত হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

ইসির ‘আউট অব কান্ট্রি ভোটিং সিস্টেম অ্যান্ড ইমপ্লিমেন্টেশন’ (ওসিভি-এসডিআই) প্রকল্পের টিম লিডার সালীম আহমাদ খান মন্তব্য করেন, ‘পোস্টাল ভোটিং ব্যবস্থা বিশ্বজুড়ে এক অনন্য উদ্ভাবন। পুরোপুরি বাংলাদেশে তৈরি এই ব্যবস্থার বৈশ্বিক গুরুত্ব অনেক। নেপালের প্রতিনিধিদল স্বউদ্যোগে এসেছে এবং তারা এ বিষয়ে অত্যন্ত ইতিবাচক। শুধু নেপাল নয়, গত সেপ্টেম্বরে শ্রীলঙ্কা সফরকালেও আমরা তাদের আগ্রহ দেখেছি। দেশের তৈরি এমন একটি প্রযুক্তি বিদেশে সমাদৃত হওয়া প্রতিটি বাংলাদেশির জন্য গর্বের।’

সালীম আহমাদ খান আরও বলেন, ‘জাতীয় নির্বাচন ও উপ-নির্বাচনে প্রাপ্ত অভিজ্ঞতার আলোকে বিদ্যমান সমস্যাগুলোর সমাধান করে আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে। এটি নির্বাচন কমিশনের একটি বড় সম্পদ, যা ভবিষ্যতে আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে হবে।’

নেপালের নির্বাচন কমিশনার ড. রাজিব সুব্বা বাংলাদেশে অভিজ্ঞতা নিতে এসে বলেন, ‘গ্লোবাল সাউথ’ বা উন্নয়নশীল বিশ্বের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের এই মডেল অত্যন্ত সফল। বাংলাদেশ ও নেপালের মতো দেশ প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে অনেক দূর এগিয়ে যেতে পারে। বাংলাদেশ থেকে কারিগরি সহায়তা পেলে আমরা সম্মানিত বোধ করব।

ড. রাজিব সুব্বা নেপালের আগামী প্রাদেশিক নির্বাচনে প্রবাসীদের জন্য পোস্টাল ভোটিং চালু করার পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘বাংলাদেশের বিপুলসংখ্যক নাগরিক প্রবাসে থেকে রেমিট্যান্সের মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখেন। নেপালের প্রেক্ষাপটও একই রকম। তাই দেশের বাইরে থাকা নাগরিকদের ভোটদান নিশ্চিত করতে আমরা ‘বাংলাদেশ মডেল’ গভীরভাবে বোঝার চেষ্টা করছি।’

আরও পড়ুন: দেশ গড়তে ধর্মীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ আগে এই প্রযুক্তি পরীক্ষা করেছে বলে নেপাল ভুলগুলো এড়িয়ে দ্রুত কাজ এগিয়ে নিতে পারবে।

নেপালি শ্রমিকদের ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহারে অভ্যস্ত করতে ভোটার শিক্ষার ওপর জোর দেওয়ার কথা জানান তিনি। এছাড়া ডাকযোগে কাগজপত্র আদান-প্রদানে বিলম্বের ঝুঁকি, কাঠমান্ডুতে পৌঁছাতে সময়ের অনিশ্চয়তা এবং সাইবার নিরাপত্তার ঝুঁকির বিষয়টিও তাদের বিবেচনায় রয়েছে।

ড. রাজিব সুব্বা সফরের মূল উদ্দেশ্য সম্পর্কে বলেন, ‘বাংলাদেশে আসার মূল লক্ষ্য হলো প্রযুক্তিভিত্তিক পোস্টাল ভোটিং প্রক্রিয়া সরাসরি দেখা ও জানা। বাংলাদেশ দলের সঙ্গে এটি আমাদের তৃতীয় দফা আলোচনা। আমরা পরবর্তী দেড় বছরের মধ্যে যেকোনো একটি প্রাদেশিক নির্বাচনে এ ব্যবস্থা চালু করতে চাই।’

তবে, বাংলাদেশের মডেলটি হুবহু গ্রহণ করা হবে কিনা, তা গবেষণার পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে তিনি জানান। সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দল ও সরকারি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার পরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন: দুই সন্তানকে হত্যার পর মায়ের আত্মহত্যা, ওড়না পেঁচিয়ে

বাংলাদেশের মডেলটির প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘ভবিষ্যতে এটি সম্পূর্ণ অনলাইন ভোটিং ব্যবস্থায় রূপ নিতে পারে। সবচেয়ে বড় দিক হলো, এই প্রযুক্তির সফটওয়্যার, কোড ও নিয়ন্ত্রণ বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের নিজের হাতে থাকে। প্রযুক্তি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভর করতে হয় না, যা অন্যান্য ব্যবস্থার চেয়ে আলাদা।’

ইসি সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচন কমিশনের কারিগরি সহায়তা ও অভিজ্ঞতা নিতে নেপাল নির্বাচন কমিশনের ৬ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল বুধবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বে অন্য চারজন নির্বাচন কমিশনার ও ইসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় দিনের নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ-এর নেতৃত্বে ইসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে নেপালের প্রতিনিধিদল পোস্টাল ভোটিংয়ের অপারেশনাল ও টেকনিক্যাল বিষয়গুলোর ওপর অভিজ্ঞতা অর্জন করেন।

প্রতিনিধিদলের অন্য সদস্যরা হলেন- নেপালের নির্বাচন কমিশনার ড. জানকী কুমারী তুলাধর, সচিব কৃষ্ণ প্রসাদ কাপরী, সিনিয়র কম্পিউটার অফিসার অনুপ নৌপানে, ডেপুটি অ্যাটর্নি কমলা কাফলে এবং ইউএনডিপির প্রতিনিধি প্রভাত কুমার।

আরও পড়ুন: ককরোচদের মোকাবিলায় এবার ‘লাল হিট’

ইসির দেওয়া তথ্যানুযায়ী, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধনকারী ১৫ লাখ ২৮ হাজার ১৩১ জন অনুমোদিত ভোটারের মধ্যে ১২ লাখ ২৪ হাজার ১৮৮ জন ভোট দিয়েছেন (৮০.১১ শতাংশ)। রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পৌঁছেছে ১১ লাখ ৬৫ হাজার ৫৯২টি ভোট (৭৬.২৮ শতাংশ), যার মধ্যে বৈধ ভোটের সংখ্যা ছিল ১০ লাখ ৭৩ হাজার ৪৯৭টি (৭০.২৫ শতাংশ)।

এর মধ্যে প্রবাসীদের পাঠানো ৪ লাখ ৯৮ হাজার ২৬৬টি ব্যালটের মধ্যে ৪ লাখ ৯৮ হাজার ২০৫টি রিটার্নিং কর্মকর্তা গ্রহণ করেন। অন্যদিকে, দেশের অভ্যন্তরে (আইসিপিভি) অবস্থানরত ভোটারদের কাছ থেকে রিটার্নিং কর্মকর্তা ৬ লাখ ৬৭ হাজার ৩৮৮টি ভোট গ্রহণ করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গাজায় ইসরাইলি হামলায় প্রাণ গেল আরও ৭ ফিলিস্তিনির

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:১৩ এম


গাজায় ইসরাইলি হামলায় প্রাণ গেল আরও ৭ ফিলিস্তিনির

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরাইলি বাহিনীর হামলায় অন্তত সাতজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে একজন নারী অন্তর্ভুক্ত আছেন। হামলার ফলে ১২ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার গাজা সিটির বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের আল-সুদানিয়া, রাফাহর উত্তর-পশ্চিমে আল-মাওয়াসি এবং খান ইউনিসের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ইসরাইলি বাহিনী হামলা চালায়। এসব অভিযানে যুদ্ধবিমান, ড্রোন ও গোলাবারুদ ব্যবহার করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে গাজা সিটির বিভিন্ন এলাকায় ছয়জন প্রাণ হারিয়েছেন। খবরটি আনাদোলু এজেন্সির মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।

চিকিৎসক সূত্রে জানা গেছে, গাজা সিটির উত্তর-পশ্চিমে আল-তাওয়াম এলাকার মিসরীয় ক্যাম্পে বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের আশ্রয় নেওয়া একটি তাঁবুতে হামলা চালায় ইসরায়েল। ওই হামলায় আহত মোহাম্মদ রাজাব ওয়ারশ আগা পরে মারা যান।

এদিকে, গাজা সিটির একটি আবাসিক ভবনে ইসরাইলি বিমান হামলায় এক নারী ও এক শিশু নিহত হয়েছেন। ফিলিস্তিনের বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগ জানিয়েছে, এ ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন। এর আগে, ফিলিস্তিন রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির উত্তরাঞ্চলীয় মাঠ হাসপাতালের এক চিকিৎসক জানিয়েছিলেন, হামলায় দুজন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

শহরটির দক্ষিণাঞ্চলের তাল আল-হাওয়া এলাকায় একটি বেসামরিক গাড়ি লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানো হলে আরও দুজন নিহত হন। আহত হন তিনজন, যাদের একজনের অবস্থা গুরুতর। আহতদের আল-শিফা হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন এক চিকিৎসক।

গাজা সিটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের আমের প্রজেক্ট এলাকায় একটি তাঁবুতে ইসরাইলি গোলাবর্ষণে প্রাণ হারিয়েছেন আহলাম মুবারক (৩০) নামের এক ফিলিস্তিনি নারী। আল-শিফা হাসপাতালের এক চিকিৎসক তার মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এ ঘটনায় তার স্বামী ও দুই সন্তান আহত হয়েছেন। স্বামীর অবস্থা গুরুতর।

এ ছাড়া, প্রায় এক সপ্তাহ আগে গাজা সিটিতে একটি গাড়িতে ইসরাইলি বিমান হামলায় আহত আহমেদ খামিস আবু নাজা চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।

গাজা সিটির উপকূলীয় এলাকায় ফিলিস্তিনি নৌযান ও উপকূল লক্ষ্য করে ইসরাইলি নৌবাহিনী গুলি এবং গোলাবর্ষণ করেছে বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। একইভাবে উত্তর-পশ্চিম গাজার আল-সুদানিয়া এলাকাতেও গোলাবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে।

দক্ষিণ গাজার রাফাহর উত্তর-পশ্চিমে আল-মাওয়াসি এলাকায় একটি বাড়িতে ইসরাইলি গোলাবর্ষণে সাতজন আহত হয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রের দাবি, খান ইউনিসের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে ইসরাইলি বাহিনীর অবস্থান করা এলাকাগুলোতে আবাসিক ভবনসহ বিভিন্ন স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা আরও জানিয়েছেন, বানি সুহেইলা গোলচত্বরের কাছে ইসরাইলি সেনাদের ছোড়া ধোঁয়া বোমা থেকে বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের কয়েকটি তাঁবুতে আগুন ধরে যায়।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, বুধবার পর্যন্ত সম্মত যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের ঘটনায় ইসরাইলি হামলায় এক হাজার ৪৬৭ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও পাঁচ হাজার ১৬১ জন।

২০০৭ সাল থেকে গাজা উপত্যকায় স্থল, আকাশ ও সমুদ্রপথে কঠোর অবরোধ বজায় রেখেছে ইসরাইল। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের ইসরাইলে হামলার পেছনে এই অবরোধকে অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

ফিলিস্তিনি ও জাতিসংঘের পরিসংখ্যান অনুসারে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর থেকে গাজায় ইসরাইলি হামলায় ৭৪ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে এক লাখ ৭৫ হাজার। এসব পরিসংখ্যানে আরও বলা হয়েছে, উপত্যকাটির প্রায় ৯০ শতাংশ অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে গেছে। গাজার প্রায় ৬০ শতাংশ এলাকা এখনো ইসরাইলি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

গাজায় যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং দেশটির সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত। পাশাপাশি, গাজায় ইসরাইলের সামরিক অভিযানকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে গণহত্যার অভিযোগে মামলা চলছে।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে যুদ্ধবিরতির কাঠামো ও আঞ্চলিক শান্তি পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হলেও তা কার্যকর অগ্রগতিতে পৌঁছায়নি। নিরস্ত্রীকরণ এবং ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহারের শর্ত নিয়ে মতবিরোধের কারণে আলোচনা কার্যত অচল হয়ে রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে প্রায় প্রতিদিনই ইসরাইলের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কক্সবাজারে শিশুর সামনে মাকে গলাকেটে হত্যা, রোহিঙ্গা অভিযুক্ত গ্রেফতার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:১৩ এম


কক্সবাজারে শিশুর সামনে মাকে গলাকেটে হত্যা, রোহিঙ্গা অভিযুক্ত গ্রেফতার

কক্সবাজার শহরের একটি আবাসিক হোটেলের কক্ষে কুলসুমা আক্তার (২২) হত্যার ঘটনায় মামলার সাতদিন পরে অভিযুক্ত মো. ইরফানকে (২৫) গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিকালে উখিয়ার কুতুপালং মধুরছড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে এপিবিএনের সহায়তায় তাকে গ্রেফতার করা হয়।

ইরফান কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প-৪-এর মৃত লেদু হোসেন ও জরিনা খাতুনের ছেলে।

এর আগে ৩০ সেপ্টেম্বর কক্সবাজার সদর মডেল থানার কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকার স্ট্যান্ড পার্ক রিসোর্টের তৃতীয় তলার ৩০২ নম্বর কক্ষের ওয়াশরুম থেকে কুলসুমার গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

হোটেল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ইরফান ও কুলসুমা স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে দুই বছরের একটি শিশুসহ ওই কক্ষে উঠেছিলেন। হোটেলের পরিচ্ছন্নতাকর্মী মমতাজ বেগম শিশুর কান্নার শব্দ শুনে কক্ষে প্রবেশ করেন। এ সময় ওয়াশরুমে কুলসুমার রক্তাক্ত লাশ দেখতে পেয়ে তিনি হোটেল কর্তৃপক্ষকে জানান। পরে পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে।

পুলিশ জানায়, ঘটনার পর ইরফানকে গ্রেফতারে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হয়। এর মধ্যে ১ অক্টোবর ইরফানকে প্রধান আসামি করে হত্যা মামলা করেন নিহতের পরিবারের সদস্যরা। মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় আরও দুই থেকে তিনজনকে আসামি করা হয়েছে। গোপন তথ্য ও প্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে বৃহস্পতিবার তাকে গ্রেফতার করা হয়।

কুলসুমা কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলার পূর্ব চান্দেরঘোনা এলাকার মোহাম্মদ আলমের মেয়ে। পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে ঈদগাঁও চাক্কার দোকান এলাকার হারুনের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। দাম্পত্য জীবনে বনিবনা না হওয়ায় স্বামীর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছিলেন কুলসুমা। গত ৩০ সেপ্টেম্বর ওই মামলার শুনানির তারিখ থাকায় তিনি ঈদগাঁও থেকে কক্সবাজার শহরে আসেন।

স্থানীয় একটি সূত্রের দাবি, স্বামীর সঙ্গে বিরোধের পর ইরফানের সঙ্গে কুলসুমার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে অন্য এক যুবকের সঙ্গে কুলসুমার সম্পর্কের বিষয়টি জানতে পেরে ক্ষুব্ধ ছিলেন ইরফান। ঘটনার দিন হোটেলে দুজনের মধ্যে মোবাইল ফোনে আসা একটি কল নিয়ে বাগবিতণ্ডা হয় বলেও সূত্রটির দাবি। তবে হত্যার প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি শেখ মোহাম্মদ আলী গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ইরফানকে আদালতে তোলার পর জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্তের মাধ্যমে হত্যার কারণ জানার চেষ্টা করা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভারত শ্রীলঙ্কাকে ২ কোটি টাকার যক্ষ্মার ওষুধ দিল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:৫৫ এম


ভারত শ্রীলঙ্কাকে ২ কোটি টাকার যক্ষ্মার ওষুধ দিল

ভারত শ্রীলঙ্কাকে প্রয়োজনীয় ওষুধ প্রদান করেছে, যা যক্ষ্মা রোগীদের চিকিৎসা অব্যাহত রাখতে এবং ওষুধের ঘাটতি রোধে সহায়ক হবে। ডেইলি মিরর জানাচ্ছে, মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) কলম্বোয় শ্রীলঙ্কার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে এই ওষুধগুলো হস্তান্তর করা হয়।

ভারতের হাইকমিশনার সন্তোষ ঝা শ্রীলঙ্কার স্বাস্থ্য ও গণমাধ্যমমন্ত্রী ডা. নালিন্দা জয়তিসার কাছে ওষুধগুলো তুলে দেন। অনুষ্ঠানে শ্রীলঙ্কার স্বাস্থ্য ও গণমাধ্যম উপমন্ত্রী ডা. হানসাকা উইজেমুনিও উপস্থিত ছিলেন।

ভারত শ্রীলঙ্কা সরকারের অনুরোধে এই সহায়তা প্রদান করেছে। দেশটির স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সহায়তায় ওষুধ পাঠানোর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। ভারতের পাঠানো চালানে প্রায় তিন টন যক্ষ্মার ওষুধ রয়েছে, যার মধ্যে ১৫ লাখের বেশি ট্যাবলেট রয়েছে। এই ট্যাবলেটগুলোর আনুমানিক মূল্য ৫ কোটি ২০ লাখ শ্রীলঙ্কান রুপি, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১ কোটি ৯৩ লাখ ৮৯ হাজার টাকার সমান।

এই ওষুধগুলো যক্ষ্মার প্রাথমিক পর্যায়ের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হবে। আশা করা হচ্ছে, এগুলো শ্রীলঙ্কার রোগীদের চিকিৎসা চালু রাখতে এবং সরবরাহের ঘাটতি মোকাবেলায় সহায়তা করবে। চলতি বছরের আগস্ট মাসে, ভারত শ্রীলঙ্কাকে ৫০০ লিটার ম্যালাথিয়ন কীটনাশক দিয়েছিল, যা ডেঙ্গু মোকাবেলায় সহায়ক ছিল। এই সহায়তাও শ্রীলঙ্কা সরকারের অনুরোধে দেওয়া হয়েছিল।

ভারত ও শ্রীলঙ্কার মধ্যে স্বাস্থ্য খাতে দীর্ঘদিনের সহযোগিতা বিদ্যমান রয়েছে। হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্র নির্মাণ, ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা বৃদ্ধির মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভারত সহায়তা প্রদান করে আসছে।

এছাড়া, জরুরি পরিস্থিতি ও দ্রুত চিকিৎসাসহায়তার প্রয়োজন হলে ভারত শ্রীলঙ্কার পাশে দাঁড়িয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রিয়াদ বিমানবন্দরে সউদিয়া এয়ারলাইন্সের উড়োজাহাজে আগুন, হামলার দাবি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:৫৬ এম


রিয়াদ বিমানবন্দরে সউদিয়া এয়ারলাইন্সের উড়োজাহাজে আগুন, হামলার দাবি

ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের হামলার দাবি সামনে রেখে, সউদী আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আগুনে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সউদী আরবের রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থা সউদিয়া এয়ারলাইন্সের একটি যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিমানবন্দরের টার্মিনালে দাঁড়িয়ে থাকা উড়োজাহাজটিতে আগুন লেগেছিল। তবে আগুনের সঠিক কারণ এখনো নিশ্চিত করা হয়নি। হামলার ফলে রিয়াদ বিমানবন্দর থেকে নির্ধারিত প্রায় অর্ধেক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।

রয়টার্সের কাছে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত তিন ব্যক্তি জানিয়েছেন, উড়োজাহাজটি ক্ষেপণাস্ত্রের সরাসরি আঘাত অথবা প্রতিহত করা ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। আগুনের কারণে বিমানটি ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। তাঁদের ধারণা, ঘটনার সময় উড়োজাহাজটিতে কোনো যাত্রী ছিলেন না। তবে আহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা যায়নি। রিয়াদ বিমানবন্দর থেকে ঘন কালো ধোঁয়া ও আগুনের শিখা ওঠার ভিডিও যাচাই করেছে রয়টার্স।

হুথি সামরিক মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া সারি দাবি করেছেন, তাঁদের বাহিনী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। একই সঙ্গে, সউদী আরবের জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে হামলার হুমকি দিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের সেসব এলাকা থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়েছে গোষ্ঠীটি। তবে সউদী কর্তৃপক্ষ উড়োজাহাজে আগুন লাগার ঘটনা বা হুথিদের দাবির বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত মন্তব্য করেনি।

অন্যদিকে, সউদী নেতৃত্বাধীন ইয়েমেন যুদ্ধরত জোট জানিয়েছে, রিয়াদ লক্ষ্য করে ছোড়া হুথিদের দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং খামিস মুশাইত শহরের দিকে ছোড়া আরেকটি ক্ষেপণাস্ত্র আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে ধ্বংস করা হয়েছে। সউদী কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিহত করা একটি ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ রিয়াদের একটি কিন্ডারগার্টেন ও চিকিৎসাকেন্দ্রে আঘাত হানে।

বিমান চলাচল বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান সিরিয়ামের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার গ্রিনিচ মান সময় বিকেল ৩টা পর্যন্ত রিয়াদ বিমানবন্দর থেকে নির্ধারিত ফ্লাইটের ৪৯ দশমিক ৭ শতাংশ বাতিল করা হয়েছিল। শুক্রবার সউদী আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দর থেকে আরও ৩১টি ফ্লাইট বাতিল হওয়ার কথা ছিল। ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্যেও রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একাধিক ফ্লাইটের বিলম্ব ও বাতিলের চিত্র উঠে এসেছে।

হামলার পর লুফথানসা গ্রুপের উড়োজাহাজ সংস্থাগুলো ১৬ অক্টোবর পর্যন্ত রিয়াদগামী ফ্লাইট স্থগিত রাখার কথা জানিয়েছে। এয়ার ইন্ডিয়া ১০ অক্টোবর পর্যন্ত রিয়াদগামী ও রিয়াদ থেকে ছেড়ে যাওয়া ফ্লাইট বাতিল করেছে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের যাত্রার আগে সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করে ফ্লাইটের অবস্থা যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছে।

সউদী আরবের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, চলতি সপ্তাহে রিয়াদ ও আভা বিমানবন্দরে হামলায় তিনজন নিহত এবং অন্তত ৩৬ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে রিয়াদে একজন এবং আভায় দুই বিদেশি বাসিন্দা রয়েছেন। আহতদের কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানানো হয়েছে। তবে বৃহস্পতিবার উড়োজাহাজে আগুন লাগার ঘটনায় হতাহতের বিষয়টি নিশ্চিত নয়।

হুথিরা বলছে, ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের প্রতি সউদী আরবের সমর্থনের কারণেই তারা দেশটির বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালাচ্ছে। অন্যদিকে, সউদী আরব সরকারপন্থি বাহিনীকে সমর্থন দিয়ে হুথিদের নিয়ন্ত্রণে থাকা এলাকাগুলো পুনর্দখলের অভিযানে সহায়তা করছে। ২০২২ সালের যুদ্ধবিরতির পর স্থবির হয়ে থাকা ইয়েমেনের সংঘাত সাম্প্রতিক সময়ে আবার তীব্র হয়ে উঠেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%