সোমবার, ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০১:১১ পি.এম
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাতিসংঘ সফরটি কোনো ধরনের আড়ম্বর অনুষ্ঠান বা ক্ষমতা প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে নয়, বরং এটি মানুষের কল্যাণে কাজ করার এবং বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষার লক্ষ্যে পরিচালিত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। তিনি আরো জানান, প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে ৩৫ জন ব্যক্তি রয়েছেন। তাদের মধ্যে ১৫ জন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারী অন্তর্ভুক্ত আছেন। নিরাপত্তা, মিডিয়া এবং ব্যক্তিগত দায়িত্ব পালনে নিয়োজিত অত্যাবশ্যকীয় ব্যক্তিরাও সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে, মাহদী আমিন নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি পোস্টের মাধ্যমে এসব তথ্য তুলে ধরেন। এদিন সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে অংশগ্রহণের উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের জন্য ঢাকা ত্যাগ করেন।
মাহদী আমিন বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার জন্য এক দিন এবং ফিরতে এক দিন লাগবে। এর মধ্যে মাত্র চার দিন রয়েছে। এই চার দিনকে কোনো মুহূর্তও নষ্ট না করে, একের পর এক দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় বৈঠক, জাতিসংঘের উচ্চ পর্যায়ের কর্মসূচি এবং বাংলাদেশের স্বার্থে কূটনৈতিক কার্যক্রম সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। সব মিলিয়ে, এটি একটি ছয় দিনের সফর।
ফেসবুক পোস্টে মাহদী আমিন আরো উল্লেখ করেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পর, তাদের সন্তান এবং জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘের বিশ্বমঞ্চে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের মানুষের কথা বলবেন। তিনি দেশের স্বার্থ, সরকারের নীতি এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বিষয়েও কথা বলবেন।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী যখন বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন, ঠিক সেই সময়ে জাতিসংঘ অধিবেশনের সভাপতির আসনে তার সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী উপস্থিত থাকবেন।
ফেসবুক পোস্টে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র উল্লেখ করেন, দীর্ঘ দুই দশকের অনিঃশেষ ত্যাগ-সংগ্রাম ও আন্দোলন-গণঅভ্যুত্থান পেরিয়ে, গণতান্ত্রিক সরকার আজ রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে। বিশাল ম্যান্ডেট নিয়ে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের মানুষের কণ্ঠ নিয়ে বিশ্ব দরবারে যাচ্ছেন।
মাহদী আমিন বলেন, এটি কেবল জাতিসংঘে দেশের প্রতিনিধিত্ব নয়। এটি জনগণের আকাঙ্ক্ষার আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিত্ব। এটি আবেগ, অনভূতি ও আদর্শের ঐতিহ্য। এটি বাংলাদেশের স্বার্থ, মর্যাদা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে বিশ্বমঞ্চে নতুন ইতিহাসের সূচনা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের আত্মহত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় পুলিশ গাজী নজরুল ইসলাম, যিনি সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য, এবং তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগমকে গ্রেপ্তার করেছে। একই মামলায় শ্যালক ওবায়দুল্লাহকেও আসামি করা হয়েছে।
তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. ইবনে মিজান রোববার দিবাগত রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, শেরেবাংলা নগর থানায় আত্মহত্যার প্ররোচনা সংক্রান্ত মামলায় গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশের সূত্র অনুযায়ী, মরিয়ম খাতুনের বাবা মো. মাসুম বিল্লাহ শেরেবাংলা নগর থানায় আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় গাজী নজরুল ইসলাম, তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগম এবং শ্যালক ওবায়দুল্লাহকে আসামি করা হয়েছে।
এর আগে রোববার সন্ধ্যায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানাধীন ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর ভবনের তৃতীয় তলার ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাট থেকে গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মোছা. মরিয়ম খাতুনের (১৯) ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তারা সিআইডির ফরেনসিক দলকে ডাকে। সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর মরিয়মের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। পরে রাতে গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেয় শেরেবাংলা নগর থানার পুলিশ। তাদের পরে মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
মরিয়ম খাতুনের সঙ্গে গাজী নজরুল ইসলামের ‘ব্যক্তিগত মুহূর্তের’ কয়েকটি ভিডিও গত জুলাইয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এর ফলে তাকে ঘিরে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ২২ জুলাই বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করে। দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, সাংগঠনিক তদন্তে তার নৈতিক স্খলন প্রমাণিত হয়েছে। এ কারণে দলটির গঠনতন্ত্রের ৬২ নম্বর ধারা অনুযায়ী তাকে বহিষ্কার করা হয়। একই সঙ্গে বিষয়টি নির্বাচন কমিশনকে জানানো হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার সরকারি কলেজ সংলগ্ন এলাকা থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় অজ্ঞাতনামা এক যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে থানা পুলিশ।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকেলের দিকে স্থানীয় এক ব্যবসায়ী তার গুদামে কর্মরত কারিগরদের কাজ শেষে বিদায় দেওয়ার পর প্রস্রাব করতে গেলে সেখানে মুখে টেপ ও হাত-পা বাঁধা অবস্থায় অজ্ঞাতনামা যুবকের লাশটি দেখতে পান। এরপর তিনি স্থানীয় এক বাসিন্দাকে খবর দেন এবং পরে থানায় বিষয়টি জানানো হয়।
খবর পেয়ে নাসিরনগর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিদর্শন করে। প্রাথমিক তদন্তের প্রয়োজনে অতিরিক্ত সিআইডি পুলিশকেও খবর দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা পুলিশের একজন কর্মকর্তা।
নিহত যুবকের পরিচয় শনাক্তে পুলিশের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় বিস্তারিত জানতে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধারের ঘটনায় মামা ওবায়দুর রহমান হত্যাকাণ্ডের সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। তিনি গাজী নজরুল ইসলামের গাড়িচালক ও ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে কাজ করেছেন একসময়।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাতে রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানাধীন ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর ভবনের তৃতীয় তলার ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাট থেকে মরিয়ম খাতুনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
লাশ উদ্ধারের পর এক জাতীয় গণমাধ্যমকে ফোনে ওবায়দুর রহমান বলেন, "মরিয়ম তার কাছে মেয়ের মতো ছিলেন। তার লেখাপড়ার খরচও তিনি বহন করতেন। এ ঘটনায় তিনি গভীরভাবে মর্মাহত বলেও জানান।"
শেষ কয়েক দিনে মরিয়মের সঙ্গে কী ঘটেছিল, সামাজিক মাধ্যমে ব্যক্তিগত ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার কারণে তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন কিনা কিংবা পারিবারিক কোনো বিরোধ ছিল কিনা, এসব বিষয়ে জানতে চাইলে ওবায়দুর রহমান বলেন, "ওই ঘটনার পর তিনি তাদের সঙ্গে আর যোগাযোগ রাখেননি।"
তবে তিনি দাবি করেন, মরিয়মের সঙ্গে গাজী নজরুল ইসলামের বিয়ে জোর করে হয়েছিল। গাজী নজরুলের কিছু কর্মকাণ্ড তিনি মেনে নিতে পারেননি বলেও জানান।
এদিকে মরিয়মের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক মাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে নানা আলোচনা চলছে। কেউ কেউ দাবি করছেন, এর আগে ছড়িয়ে পড়া একটি ব্যক্তিগত ভিডিওকে কেন্দ্র করে মরিয়ম মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন। তবে এসব দাবির সত্যতা এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হয়নি।
উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনয়নে সাতক্ষীরা-৪ আসন থেকে তৃতীয়বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন গাজী নজরুল ইসলাম। চলতি বছর তার একটি ব্যক্তিগত ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে এক তরুণীর সঙ্গে তাকে দেখা যায়। পরে গাজী নজরুল ইসলাম জানান, ওই তরুণী তার দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুন।
মরিয়ম খাতুনের লাশ উদ্ধারের পর গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
তবে মরিয়মের মৃত্যু হত্যাকাণ্ড, আত্মহত্যা নাকি অন্য কোনো কারণে হয়েছে, এ বিষয়ে এখনো পুলিশের পক্ষ থেকে চূড়ান্ত কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। মৃত্যুর পেছনে কারও প্ররোচনা ছিল কিনা, সেটিও তদন্তের বিষয় বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ মোঃ আরিফ হোসেন (৪০) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, এলাকায় তিনি ‘মাদক সম্রাট আরিফ’ নামে পরিচিত। তাঁর বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে আগের ১৩টি মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার ৩ নম্বর কবাখালী ইউনিয়নের শান্তিপুর চার রাস্তার মোড়ের পাকা সড়কে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানায়, রোববার রাত ১১টা ৫৫ মিনিটের দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খবর পাওয়া যায়, শান্তিপুর চার রাস্তার মোড়ে এক ব্যক্তি গাঁজা বিক্রির উদ্দেশ্যে অবস্থান করছেন। পরে এসআই মোহাম্মদ ইব্রাহিম খলিলউল্লাহর নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল রাত ১২টা ১৫ মিনিটের দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।
পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ওই ব্যক্তি দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। এ সময় স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ সদস্যদের সহায়তায় তাঁকে আটক করা হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদে তাঁর নাম আরিফ হোসেন বলে জানা যায়।
পুলিশের ভাষ্য, উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে আরিফের দেহ তল্লাশি করে তাঁর ডান হাতে থাকা সাদা রঙের বাজারের ব্যাগ থেকে পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় ৪০০ গ্রাম কথিত গাঁজা উদ্ধার করা হয়। পরে জব্দ তালিকার মাধ্যমে মাদকটি জব্দ করা হয়।
গ্রেপ্তার আরিফ হোসেন দীঘিনালা উপজেলার ৩ নম্বর কবাখালী ইউনিয়নের দক্ষিণ মিলনপুর-পাবলাখালী এলাকার বাসিন্দা। তাঁর বাবার নাম মোঃ আব্দুর রশিদ মিয়া এবং মায়ের নাম মোছাঃ জনু বিবি।
এ ঘটনায় এসআই মোহাম্মদ ইব্রাহিম খলিলউল্লাহ বাদী হয়ে দীঘিনালা থানায় মামলা করেছেন। থানার এফআইআর নং-০২, তারিখ ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬। মামলাটি ২০১৮ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ৩৬(১) ধারার টেবিল ১৯(ক) অনুযায়ী রুজু করা হয়েছে।
দীঘিনালা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইকবাল বাহার চৌধুরী বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে দীঘিনালা থানা পুলিশের অভিযান নিয়মিতভাবে চলছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মাদক ব্যবসা ও সেবনের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে পুলিশের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের সহযোগিতাও প্রয়োজন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ