০৭:৩৪ পি.এম
জয়পুরহাটের কালাই উপজেলা অঞ্চলে, একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির নির্বাচন নিয়ে দুই প্যানেলের কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই সংঘর্ষের ফলে অন্তত ৯ জন আহত হয়েছেন, এর মধ্যে একজন প্রার্থী রয়েছেন।
সোমবার (৮ জুন) দুপুর আড়াইটার দিকে, উপজেলার জিন্দারপুর ইউনিয়নের করিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভোটকেন্দ্রের ভিতরে এ ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
আহতদের মধ্যে রয়েছে প্রার্থী শেখ শাহাঙ্গীর আলম এবং তাঁর সমর্থক শেখ হাবিবুর রহমান, মিথন মণ্ডল এবং ইউসুফ আলী। অপর প্যানেলের আহতদের তালিকায় আছেন সাদিক হোসেন, মুনছুর রহমান, জুয়েল রানা, রশিদুল ইসলাম ও রানা মিয়া।
আরও পড়ুন: ৩নং বড়দল দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে আলোচনায় মোঃ নাসির মিয়া
আহতদের চিকিৎসার জন্য স্থানীয় হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, করিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটি গঠনের জন্য চারজন অভিভাবক সদস্য নির্বাচনের উদ্দেশ্যে ভোটগ্রহণ চালানো হচ্ছিল। নির্বাচনে আনিছুর রহমান ও শেখ শাহাঙ্গীর আলমের নেতৃত্বাধীন মোট দুইটি প্যানেলের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এই নির্বাচনে মোট ৯ জন প্রার্থী অংশগ্রহণ করেন। সকাল ৯টা থেকে ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণভাবে চললেও শেষ পর্যায়ে এসে পরিস্থিতি উত্তেজনার মধ্যে চলে আসে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ভোটকেন্দ্রে লাইনে থাকা এক ভোটারের সঙ্গে কথোপকথনের সূত্রে দুই পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে ঘটনা সংঘর্ষে পদার্পণ করে। এতে উভয় পক্ষের কিছু মানুষ আহত হন এবং ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়।
আহত প্রার্থী শেখ শাহাঙ্গীর আলম অভিযোগ করেছেন যে, নির্বাচনে পরাজয়ের সম্ভাবনার কারণে প্রতিপক্ষের লোকজন পরিকল্পিতভাবে তাঁর ও সমর্থকদের ওপর হামলা চালিয়েছে।
আরও পড়ুন: বাকেরগঞ্জে জাতীয় যুব দিবসে র্যালি, আলোচনা সভা ও যুব ঋণের চেক বিতরণ
এদিকে, প্রতিপক্ষ প্যানেলের প্রার্থী আনিছুর রহমান এসব অভিযোগ অস্বীকার করে জানান যে, সংঘর্ষে তাঁদের পক্ষের সদস্যরাও আহত হয়েছেন। তিনি আরও বলেন, প্রকৃত ঘটনা তদন্ত করলে সত্য বেরিয়ে আসবে।
নির্বাচনের প্রিজাইডিং কর্মকর্তা ও উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘সংঘর্ষের ঘটনাটি ভোটকেন্দ্রের বাইরে ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার পর নির্ধারিত সময় পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চালিয়ে ফলাফল ঘোষণা করা হয়।’
কালাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এই ঘটনায় এখনও কোনো লিখিত অভিযোগ কর্তৃপক্ষে পৌঁছায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কালাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীম আরা বলেন, ‘বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা প্রশাসনের নজরে এসেছে। পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করায় বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। যদি কোনো পক্ষ অভিযোগ করে, তবে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
আরও পড়ুন: স্কুলছাত্রীকে অপহরণ ও ধর্ষণের দায়ে যুবককে যাবজ্জীবন
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন